আমার প্রিয় পোস্ট
- মণিপুরি নাকি আঞ্চলিক ভাষা!!! - চীংখেই
- নামকাহন: সন্তানের নাম মণিপুরি ভাষায় রাখা না রাখা - চীংখেই
- ভিন্ন ভাবনা : বাংলাদেশে বাংলা ভিন্ন অপরাপর ভাষা সমূহের প্রতি উদাসীনতা বজায় রেখে কী ভাষা শহীদদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব? - জুয়েল বিন জহির
- আদিবাসীদের ভাষা কেও সমান মর্যাদা দেওয়া... - হমপগ্র
- কেবলমাত্র মাতৃভাষার চর্চাই ভাষা বিলুপ্তি রোধ করতে পারে। - মুকুল
- আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে? - বিপ্লব রহমান
- পল্লবের পরীরা (শেষ) - বিপ্লব রহমান
- দায় এবং দায়িত্ববোধ... - মিট্ঠু
- আদিবাসী সম্পর্কে ভুলে ভরা বাংলাপিডিয়া (এক) - বিপ্লব রহমান
প্রান্তিক জনগোষ্ঠিগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমমর্যাদা দাবী করছি

এবার নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ্যবইতে আদিবাসীদের জীবনধারা নিয়ে মশকরা!
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
পঞ্চম শ্রেনীর সমাজ বিজ্ঞানের পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুষ্তক বোর্ড এবার নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মনোরঞ্জনের মহান উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। 'উপজাতি' হলেই যথাসম্ভব বিচিত্র ও কিম্ভূত হতে হবে এরূপ স্বতঃস্বিদ্ধ ধারনার আলোকে নবম ও দশম শ্রেণীর ‘English for Today’ পাঠ্যবইটির ১৭৮ ও ১৭৯ নং পৃষ্ঠায় মণিপুরীদের বিবাহ অনুষ্ঠান নিয়ে সম্পুর্ণ কল্পিত ও মনগড়া কেচ্ছা সংযোজন করা হয়েছে যার সাথে বাস্তবের শতকরা একভাগও মিল নেই। উল্লেখিত পাঠ্যবইয়ের একটি কমপোজিশনে মণিপুরীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে - The Monipuris want to … future by the sign and … marraige, they …. predict the future by interpreteing the … of the cock... is a Monipuri proverb: En Khang Tam Nau Bau, meaning all wisdom … cocks's foot... যার সারমর্ম হলো মনিপুরীদের বিয়ের অনুষ্ঠানটি বড়ই অদ্ভূত... বিয়ের আগে মণিপুরী বরকনের উঠানে মুরগীর পা রশি দিয়ে বেঁধে বিভিন্ন ধরনের খেলা দেখানো হয়... এবং এভাবে বিবাহের শুভাশুভ নির্ণয় করা হয়। সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো বইটিতে এই বিষয় নিয়ে রীতিমতো একটি প্রবচন রচনা করে তা মণিপুরীদের বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রথমত: মণিপুরীদের বিবাহের মধ্যে ‘মুরগীর পায়ে রশি বাঁধা’ জাতীয় ব্যাপার নেই। এ ধরনের ঘটনার কোন বিবরন বা অস্তিত্ত্ব মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া বা মণিপুরী মৈতৈদের প্রাচীন কোন লোকাচার, লোকসাহিত্য বা মিথলজিতেও পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত: মণিপুরীদের মধ্যে হাঁস, মুরগী বা ছাগল পালনের প্রচলন নেই। গৃহপালিত জীবজন্তুর মধ্যে মণিপুরীরা প্রধানত গরু বা মহিষ পোষে থাকে কৃষিকাজের জন্যে।
তৃতীয়ত: একমাত্র মণিপুরী পাঙনদের মধ্যে হাঁস, মুরগী বা ছাগল পালনের প্রচলন রয়েছে কিন্ত তারা ইসলাম ধর্মাবালম্বী হওয়ায় তাদের বিবাহ মুসলিম শরীয়ত অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, যেখানে মুরগী বা কোন জীবজন্তু নিয়ে এরকম হাস্যকর ক্রিয়ানুষ্ঠানের স্থান নেই।
চতুর্থত: মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া বা মণিপুরী মৈতৈ ভাষায় “এন খঙ তাম নাউ বাউ” নামে কোন প্রবাদ/প্রবচন নেই, এমনকি মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া বা মণিপুরী মৈতৈ ভাষায় শব্দকোষে ‘এন’, ‘খঙ’, ‘তাম’, ‘নাউ’ বা ‘বাউ’ বলে কোন শব্দ নেই।
মণিপুরীদের বিবাহানুষ্ঠান সম্বন্ধে ধারনার জন্য নীচের ভিডিওগুলো দেখতে পারেন -
http://www.youtube.com/watch?v=7U-8Y3KjKHI
http://www.youtube.com/watch?v=hEnrdBnLSGU
http://www.youtube.com/watch?v=GqtCJg7RegA
http://www.youtube.com/watch?v=4shMBuGIJYw
http://www.youtube.com/watch?v=rnMkoFkJz8Q
নবম ও দশম শ্রেণীর ‘English for Today’ পাঠ্যবইটিতে ‘মণিপুরী’ বানানটি ভুলভাবে ‘Monipuri’ লেখা হয়েছে যার প্রচলিত এবং সঠিক ইংরেজী বানান হবে ‘Manipuri’। এরা ‘Manipuri’ বানানটিও ঠিকমতো লিখতে পারেনি। পাঠ্যবইটির রচয়িতা হিসাবে নায়না শাহজাদী, ফজলে রাব্বানী ও শামীমা তাসমিন এবং সম্পাদক হিসাবে জনাব এম. এস. হক এর নাম রয়েছে। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে এরকম হাস্যকর ও বানোয়াট কাহিনী পাঠ্যবইতে অন্তর্ভূক্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের মনে বিভ্রান্তিকর ধারনার সৃষ্টি করে এইসব লেখক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুষ্তক বোর্ড কার স্বার্থ রক্ষা করলেন জানিনা, তবে এগুলি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রের প্রতারনা, বঞ্চনা, উপেক্ষা ও অবহেলার প্রামান্য দলিল হয়ে থাকলো।
আরো পড়ুন: পঞ্চম শ্রেনীর বইতে মণিপুরীদের সম্বন্ধে ফালতু তথ্য
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলাদেশের শিক্ষা, পাঠ্যবই, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, মৈতৈ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: এপেই যেসাদে আসু বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: প্রথমবার কারো রাগ দেখে ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ব্লগে আসার জন্য এবং দু:খপ্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ।
কৌশিক বলেছেন:
এম. এস. হক, নায়না শাহজাদী, ফজলে রাব্বানী ও শামীমা তাসমিন - এই চারটা আবালসহ শিক্ষাসচিব, শিক্ষা উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা করে দেন। যারা নিজের রাষ্ট্র সন্বন্ধে প্রতারণা করে তাদের যাবজ্জীবন দন্ড বাঞ্ছনীয়।
লেখক বলেছেন: পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার ধারনা মামলা করলে সবার আগে জেলে ঢুকাইব যে মামলা করব তারে।
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
ব্যাপারটা গুরুতর, উপযুক্ত মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানানো দরকার, যাতে পরেরবার সঠিক তথ্য দেয়া হয়। এছাড়া যারা ন্যাশনাল কারিকুলামের বইতে এরকম ভুল তথ্য দিচ্ছেন, তাদের আর বোর্ডের বইয়ের রচনা/সম্পাদনায় রাখা কোন ভাবেই উচিত না।
লেখক বলেছেন: পাঠ্যবইতে সঠিক তথ্য থাকবে না এটাই মনে হয় নিয়ম।
লেখক বলেছেন: আসা করি এই ব্লগে নিয়মিত আসবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আহমাদ মুজতবা বলেছেন:
বাজে সিস্টেম চালু করেছে
লেখক বলেছেন: হ্যা,পাঠ্যবই লেখা এখন কঠিন কাজ না। ঢাকায় চেয়ার টেবিলে বসেই যাবতীয় ফিল্ডওয়ার্ক এবং তথ্যসংগ্রহ করা যায়।
অনিশ্চিত বলেছেন:
এটি হতে পারে দুটো কারণে। প্রথমটি অজ্ঞানতা। এটা মাপ করে দেয়া যায়। কারণ না জেনে কেউ ভুল করলে সেটা ধরিয়ে দিলে পরবর্তী সময়ে শুধরে নেয়া যায়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে তাচ্ছিল্য-উপেক্ষা কিংবা অশ্রদ্ধা। আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কে আমাদের অনেকের মনোভাবই দ্বিতীয় পর্যায়ের। যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসীদের 'উপজাতি' বলা হয়, সেখানে এই ভুলটি অজ্ঞানতার কারণে হয়েছে বলে মনে হয় না। বরং এটা এক ধরনের অশ্রদ্ধা প্রকাশ।
লেখক বলেছেন: অজ্ঞানতা বলা বোধহয় ঠিক হবেনা কারণ এর আগে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যবই নিয়েও অনুরূপ ব্যাপার ঘটেছিল। আট বছর ধরে ব্যাপক লেখালেখি,স্মারকলিপি, প্রতিবাদ করেও এনসিটিবি কে টলানো যায়নি। বইটার তৃতীয় মুদ্রনেও ভুলগুলো শুধরানো হয়নি।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
খুবই ন্যাক্কারজনক কাজ হয়েছে। ব্যাপারটা নিয়ে সংবাদপত্রেও লিখুন। ব্লগে কিছু সাংবাদিক ব্লগার আছেন, তাদের সাহায্য নিন। টিভি মিডিয়াতে যান। সেই সাথে কিছু বুদ্ধিজীবিদের কাছেও ব্যাপারটা জানান ও তাদের দিয়ে পেপারে লেখানোর ব্যবস্থা নিন। এত কিছু বলছি এই কারনে যে, এ দেশে হুলস্থুল না করলে কিছু হয় না। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ভালো পরামর্শ কিন্তু আমি তো কাউরে চিনি বা বা আমারে কেউ চিনেনা।
রাশেদ বলেছেন:
জঘন্য একটা কাজ। শাস্তি হওয়া উচিত।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ
দস্যু বনহুর বলেছেন:
মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল...
লেখক বলেছেন: মেজাজ খারাপ করে দেয়ার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।
কানা বাবা বলেছেন:
NCTB তো আর মারিজুয়ানা-ফ্রি জোন না....
প্রতিষ্ঠানটি বরঞ্চ গেঁজেলকুলচূড়ামণিদের "আধিভৌতিক হস্তশিল্পের" প্রকাশ এবং প্রসারের মতোন মহান দায়িত্বে উৎসর্গীকৃত...
এইসব এলেমদার গাঁজারুদের হস্তশিল্পের "পোর্শংশা" কৈরা তৈলাক্ত লেখা দেন পার্লে... অ্যানার্কিস্টগো মতোন হাউকাউ কৈরেন না...

নাইলে বইয়ের নেক্সট এডিশনে হ্যারা কৈয়া ফালাইতে পারে যে, আদিবাসী বলিয়া বঙ্গদেশে কিছু নাই। যদিও কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে হরপ্পা-মাহেঞ্জোদারোর যুগে কিছু কিছু "উপজাতি" বঙ্গদেশে বিরাজ করিতো...
কথিত আছে, তাহাদের সতেরটি করিয়া মস্তক এবং উনিশটি করিয়া হস্ত থাকিতো...
(পিলাচ; বরাবরের মতোই...)
লেখক বলেছেন:
"কথিত আছে, তাহাদের সতেরটি করিয়া মস্তক এবং উনিশটি করিয়া হস্ত থাকিতো..."
মন্তব্যে বিপ্লব
![]()
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। এনসিটিবির হর্তাকর্তারা যদি বিষয়গুলোকে ১% হলেও গুরুত্ত্ব দিতেন ![]()
দস্যু বনহুর বলেছেন:
কানা বাবা বলেছেন: বইয়ের নেক্সট এডিশনে হ্যারা কৈয়া ফালাইতে পারে যে, আদিবাসী বলিয়া বঙ্গদেশে কিছু নাই। যদিও কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে হরপ্পা-মাহেঞ্জোদারোর যুগে কিছু কিছু "উপজাতি" বঙ্গদেশে বিরাজ করিতো...কথিত আছে, তাহাদের সতেরটি করিয়া মস্তক এবং উনিশটি করিয়া হস্ত থাকিতো...
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
প্রতিবাদ জানাই।
. . . এখনো খুঁজি বলেছেন:
.ক্ষোভ খুব-ই সঙ্গত।
একবার তাদের জানিয়ে দেখতে পারেন কি হয় ।
শিক্ষা মন্ত্রনালয়
ময়ুরবাহন বলেছেন:
প্রতিবাদ জানাই।


















প্রতিবাদ জানাচ্ছি