প্রথমত: মণিপুরীদের বিবাহের মধ্যে ‘মুরগীর পায়ে রশি বাঁধা’ জাতীয় ব্যাপার নেই। এ ধরনের ঘটনার কোন বিবরন বা অস্তিত্ত্ব মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া বা মণিপুরী মৈতৈদের প্রাচীন কোন লোকাচার, লোকসাহিত্য বা মিথলজিতেও পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত: মণিপুরীদের মধ্যে হাঁস, মুরগী বা ছাগল পালনের প্রচলন নেই। গৃহপালিত জীবজন্তুর মধ্যে মণিপুরীরা প্রধানত গরু বা মহিষ পোষে থাকে কৃষিকাজের জন্যে।
তৃতীয়ত: একমাত্র মণিপুরী পাঙনদের মধ্যে হাঁস, মুরগী বা ছাগল পালনের প্রচলন রয়েছে কিন্ত তারা ইসলাম ধর্মাবালম্বী হওয়ায় তাদের বিবাহ মুসলিম শরীয়ত অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, যেখানে মুরগী বা কোন জীবজন্তু নিয়ে এরকম হাস্যকর ক্রিয়ানুষ্ঠানের স্থান নেই।
চতুর্থত: মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া বা মণিপুরী মৈতৈ ভাষায় “এন খঙ তাম নাউ বাউ” নামে কোন প্রবাদ/প্রবচন নেই, এমনকি মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া বা মণিপুরী মৈতৈ ভাষায় শব্দকোষে ‘এন’, ‘খঙ’, ‘তাম’, ‘নাউ’ বা ‘বাউ’ বলে কোন শব্দ নেই।
মণিপুরীদের বিবাহানুষ্ঠান সম্বন্ধে ধারনার জন্য নীচের ভিডিওগুলো দেখতে পারেন -
http://www.youtube.com/watch?v=7U-8Y3KjKHI
http://www.youtube.com/watch?v=hEnrdBnLSGU
http://www.youtube.com/watch?v=GqtCJg7RegA
http://www.youtube.com/watch?v=4shMBuGIJYw
http://www.youtube.com/watch?v=rnMkoFkJz8Q
নবম ও দশম শ্রেণীর ‘English for Today’ পাঠ্যবইটিতে ‘মণিপুরী’ বানানটি ভুলভাবে ‘Monipuri’ লেখা হয়েছে যার প্রচলিত এবং সঠিক ইংরেজী বানান হবে ‘Manipuri’। এরা ‘Manipuri’ বানানটিও ঠিকমতো লিখতে পারেনি। পাঠ্যবইটির রচয়িতা হিসাবে নায়না শাহজাদী, ফজলে রাব্বানী ও শামীমা তাসমিন এবং সম্পাদক হিসাবে জনাব এম. এস. হক এর নাম রয়েছে। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে এরকম হাস্যকর ও বানোয়াট কাহিনী পাঠ্যবইতে অন্তর্ভূক্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের মনে বিভ্রান্তিকর ধারনার সৃষ্টি করে এইসব লেখক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুষ্তক বোর্ড কার স্বার্থ রক্ষা করলেন জানিনা, তবে এগুলি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রের প্রতারনা, বঞ্চনা, উপেক্ষা ও অবহেলার প্রামান্য দলিল হয়ে থাকলো।
আরো পড়ুন: পঞ্চম শ্রেনীর বইতে মণিপুরীদের সম্বন্ধে ফালতু তথ্য

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

