রাষ্ট্রশক্তির অবহেলা, প্রবঞ্চনা ও দমননীতির কারণে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর প্রভাবে ক্রমশ তাদের ভাষা এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে চলেছে। ভারত ও বাংলাদেশে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সুদীর্ঘ সংগ্রাম , রক্তপাত এবং জীবন আত্মত্যাগের বিনিময়ে ভারত সরকার ভাষাটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার কোন সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই, পাঠ্যপুস্তক এবং বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ বলে প্রচারিত বাংলাপিডিয়ায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের কোন উল্লেখই নেই। সেকারণে মাতৃভাষার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং বিলুপ্তি থেকে মাতৃভাষাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী উইকিপিডিয়া'র যাত্রা এবং তারপর আজকের অবস্থানে পৌঁছানো বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের জন্য একটি বিরাট অর্জন।
বর্তমানে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী উইকির নিবন্ধ সংখ্যা ২৩,৩৯৩ টি (প্রতি নিবন্ধে গড়ে ৪৭৪০টি অক্ষর) এবং নিবন্ধসংখ্যার বিচারে এর অবস্থান বিশ্বের ২৬৪টি দেশের মধ্যে ৫০তম । অন্যদিকে বাংলা উইকির নিবন্ধ সংখ্যা ১৮,০৬২টি (প্রতি নিবন্ধে গড়ে ৩৯৫৭টি অক্ষর) এবং এর অবস্থান ৬২তম।
আমাদের লোকবল খুবই কম কারণ বাংলাদেশ বা ভারতের যে সব অঞ্চলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা বসবাস করেন সেসব এলাকায় টেলিযোগাযোগ বা ইন্টারনেট প্রযুক্তি এখনো পৌঁছায়নি। সংখ্যায় বেশী হওয়া সত্ত্বেও ভারতের ব্যবহারীরা ইউনিকোডতো দুরের কথা, বিজয় বা মুনীর কীবোর্ডের সাথে পরিচিত নয়। সেখানে ডিটিপির জন্য আসামীজ কীবোর্ড ব্যবহৃত হয় যা আমাদেরগুলি থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। অল্প সংখ্যক ব্যবহারকারির উৎসাহ ও পরিশ্রমের ফলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী উইকি আজ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে। বিশেষ করে উদ্যোক্তা উত্তম সিংহ এর পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি ডাটাবেজ ও বটস্ক্রীপ্টের সফল ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর একাই কয়েক হাজার ভূক্তি যোগ করেছেন। বর্তমানে এ প্রজেক্টের জন্য কোয়ালিটি গবেষক, অনুবাদক ও ভলান্টিয়ার যোগাড় করা হচ্ছে যারা BPY উইকির নিজস্ব নিবন্ধ (যেমন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি বিষয়ক) লেখার পাশাপাশি রোবট স্ক্রিপ্ট দিয়ে করা প্রাথমিক মডেল বা খসড়াগুলোতে কাজ করতে পারেন।
সকল মাতৃভাষা বেঁচে থাকুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

