আমার প্রিয় পোস্ট
- সংখ্যাগুরু -vs- সংখ্যালঘুঃ স্বাধীন বাঙালি যখন শাসক...সংখ্যালঘু পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসীরা যখন শোষিত...আর দেশের ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়ার চিন্তায় উন্মাদপ্রায় আমরা ! - আইরিন সুলতানা
- মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা বুদ্ধ আর শস্যপোড়া ছাই হতে উত্থিত হোক বিদ্রোহী মধুপূর্ণিমা। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- মীরাবাঈ: আরেক পাগলিনী রাই - ইমন জুবায়ের
- আদিবাসী নারী মুক্তিযোদ্ধা: যাঁদের ত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হল - অচেনা সৈকত
- মি: আকন্দ এবং সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী জোশ (উৎসর্গ : কল্পণা চাকমা) - মেজভাবী
- তারকাঁটার ঐ পাশে আরশি নগর (উৎসর্গ কুঙ্গ থাঙ) - অন্যমনস্ক শরৎ
- আদিবাসীদের মাতৃভাষাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারসহ সকলের আন্তরিকতা প্রয়োজন - জেনন
- রতন থিয়ামের কবিতা - হামোম প্রমোদ
- রাংলাই ম্রো-শেকলে বন্দী ক্ষুব্ধ পাহাড়। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- বাবা বলেছিলেন বড় হও- - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- ভিন্ন ভাবনা : বাংলাদেশে বাংলা ভিন্ন অপরাপর ভাষা সমূহের প্রতি উদাসীনতা বজায় রেখে কী ভাষা শহীদদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব? - জুয়েল বিন জহির
- আদিবাসীদের ভাষা কেও সমান মর্যাদা দেওয়া... - হমপগ্র
- আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে? - বিপ্লব রহমান
- পল্লবের পরীরা (শেষ) - বিপ্লব রহমান
- দায় এবং দায়িত্ববোধ... - মিট্ঠু
- আদিবাসী সম্পর্কে ভুলে ভরা বাংলাপিডিয়া (এক) - বিপ্লব রহমান
প্রান্তিক জনগোষ্ঠিগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমমর্যাদা দাবী করছি

সত্তর দশকের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতা
০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০৯
ধনঞ্জয় রাজকুমার
আ মা র ক বি তা
এক.
নিজেদের নিষ্ঠুর যন্ত্রনার অস্তিত্ব আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। এবার তাহলে আমাদের হৃৎপিন্ড ফালি করা ফোটা ফোটা রক্ত দিয়ে কবিতা লিখবো। গভীর রাতে দুঃস্বপ্নের ভেতরে আমরা চিৎকার করে উঠি। কবিতা তুমি বিশুদ্ধ, তুমি পবিত্র, তুমি আমার ঘৃণা - মৃত্যু - পাপ - ঈশ্বর। ঈশ্বরের সাথে তুলনা করতে যেয়ে দেখি আমি কতখানি নিম্নজ, কতখানি অসহায়। আমাকে অংহকারী কর। আমি লিখি কবিতা, আমার জন্যে চাঁদের জোৎস্নার মতো সহস্র রমনী দরকার। তাদের নিয়ে থাকার বিলাসভুমি - প্রেম, পবিত্রতা, আমার নবতর পুণর্জন্ম। হ্যালো - হ্যালো - হ্যালো - লাইন আউট অব অর্ডার...
দুই.
ট্রেনের হুইশেল, মোটরের হর্ণ, প্লেনের শব্দ, ঘড়ির এলার্ম, তিনশ এগারো টাইপ রাইটারের খটখটখটখটখট, হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়া কাপ, রেডিওর ষ্টেশন খুঁজার শব্দ, আত্মহত্যার আগের নিঃশব্দতা, রক্তের কণায় অসহ্য চিৎকার মুক্তি মুক্তি, উত্তরন উত্তরন, হাজার হাজার বছরের কবিদের কবিতা পড়া আমার বুকে লাবডাব - লাবডাব - লাবডাব -
তিন.
ঈশ্বরের সাথে তুলনা করে দেখি আমি এখনো নিম্নজ। লাবডাব - লাবডাব - লাবডাব। সিস্টার দয়া করে আমার মুখে থার্মোমিটার দিন, আমার বুকে একবার কান পেতে শুনুন, হাতের নাড়ী দেখুন, কতখানি কষ্ট পেয়েছি আমি, কতখানি যন্ত্রনার মৃত্যুর হাতে ধরে আমি কবিতার কাছে আত্মসমর্পন করেছি - সব লিখে রাখুন। আমার নিঃসঙ্গতার কবিতায় কার কঠিন নিয়তির মতোন স্থির নিস্তব্ধ মুখ, নিরুত্তাপ হাত? কি করলে - কি করলে আমার যন্ত্রনা এবং নারী এবং ঈশ্বরের সাথে তাবৎ কথোপকথন কবিতায় বিকশিত হবে? হে ঘড়ির কাঁটা, তুমি তো টিকটিকটিকটিকটিক - একটু জিরোও - আমাকে একটু সময় দাও, আমি কবিতার সাথে একটু সময় ঘুমোবো...
চার.
হে আমার নিঃসঙ্গতা! আমার আত্মা! আমার পবিত্রতা! আমার পূণ্য! আমার পাপ! আমার ঈশ্বর! আমার কবিতা।
|| ধনঞ্জয় রাজকুমার আধুনিক বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার জনক। লেখালেখি করছেন ষাটের দশক থেকে। আশির দশক এবং তৎপরবর্তী কবিদের অধিকাংশ অনুসরন করেছেন তার পদাংক। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : "হপনর বাবুয়ানি", "ডিগল হাতহানল মোরে", "ভিক্ষা দেনে এর আহিগিতৌ", "হমাজি গাটর পানি", "বিরহী যক্ষর এলা" ইত্যাদি। এই কবিতাটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত "ডিগল হাতহানল মোরে" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া ||
_____________________________________________
মদনমোহন মুখোপাধ্যায়
অ নু রো ধ
ফুলের বসন্ত এলে তোমার দুয়ারে
নিমন্ত্রন দিয়ো না আমাকে।
আজকের ভ্রমরটি সেদিন অবধি
সেদিনের গান করতে গিয়ে
তাল-ছন্দ চমৎকার কিছু গীতিকায়
যদি তার ভুল হয়ে যায়
ক্ষমা করে দিয়ো ভালবেসে
ভালবেসে তার গান শুদ্ধ করে দিয়ো
ফুলের বসন্ত এলে তোমার দুয়ারে
নিমন্ত্রন দিয়ো না আমাকে।
তোমার ঐ বসন্তের কালে
আমার সম্মানে রাখা আসনখানির কথা ভাবতেই
অন্য এক ভয় ঢুকে গোপনে শরীরে
তবুও তোমার কাছে আকুল প্রার্থনা
ঘৃণার ওপারে গিয়ে তবুও ভোলো না
ফুলের বসন্ত এলে তোমার দুয়ারে
নিমন্ত্রন দিয়ো না আমাকে।
|| কবি মদনমোহন মুখোপাধ্যায়ের জন্ম আসামের শিংলায়। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে লেখালেখি শুরু । উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: রঙ ফিরক, তেন্না ককক্ , ঠইগ। কবিতাটি অক্টোবর, ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত 'ঠইগ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া ||
_____________________________________________
সেনারূপ সিংহ
ফো টা র তৃ ষ্ণা য়
তোমার উদ্যানে আমি ফোটে উঠবো সখী
শেফালি ও বকুলের মতোন
আলো কিবা অন্ধকারে দেখো অন্তহীন
ডালি ভরে ঝরবো অবিরত।
তোমারই আলোয় আমি আলোকিত মালা
গলায় শরীরে বেঁধে রেখে
মোহিত করে তুলবো তোমাকে ধীরে ধীরে
ঘ্রান মেখে হৃদয়পদ্মের ।
|| সেনারূপ সিংহ বিষ্ণুপ্রিয়া ষাটের দশকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কাব্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। জন্ম কাছাড়ের মোহনপুর। কবিতার পাশাপাশি গানও লিখেছেন প্রচুর। প্রকাশিত কাব্যগন্থ: চিরবিরি বৌ খা, শাতনির তৌরাঙ, আনৌপী। এই কবিতাটি জুন, ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত 'শাতনির খৌরাঙ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া ||
_____________________________________________
ছবিঃ শক্তিকুমার সিংহের স্কেচে মণিপুরী রাসের শ্রীরাধিকা
আরো কিছু বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার অনুবাদ
* সাতজন সমকালীন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবির কবিতা
* ধনঞ্জয় রাজকুমারের তিনটি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার অনুবাদ
* তিনটি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার অনুবাদ
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অনুবাদ কবিতা, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
শয়তান বলেছেন:
ধনঞ্জয় রাজকুমারের আগের দেয়া কবিতাগুলোর চেয়ে এবারকারগুলো বলিষ্ঠ মনে হচ্ছে । আমি অবশ্য তেমন ক্রিটিক নই । তবু যা মনে হল সেটাই বললাম ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এটা তুলনামুলক ভাবে তরুন বয়সে লেখা কবিতা। এ সময়কার কবিতাগুলো আমারো ভালো লাগে। মুল কবিতাটি যখন পড়ি তখন আরো ভালো লাগে। অনুবাদে মনে হয় কবিতার অর্ধেকটা হারিয়ে যায়।
শয়তান বলেছেন:
অটঃআজকে ঠিক করলাম এ মাসেই হয়ত আগরতলা বেড়াতে যাবো ।
লেখক বলেছেন: আগরতলা ভ্রমন শুভ হোক।
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:
অপূর্ব......................................................................+
ভালো থাকুন।
শুভ রাত্রি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় ভাস্কর চৌধুরী।
গায়ত্রী সান্যাল বলেছেন:
হে আমার নিঃসঙ্গতা! আমার আত্মা! আমার পবিত্রতা! আমার পূণ্য! আমার পাপ! আমার ঈশ্বর! আমার কবিতা। ..........................
অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর কিছু কবিতা পড়ানোর জন্যে।
......................
প্যাস্টেলে আঁকা পরীটি কে গো?
...................
লেখক বলেছেন: শক্তিকুমার সিংহের স্কেচে মণিপুরী রাসের শ্রীরাধিকা। শক্তিকুমার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের একজন নামকরা চিত্রকর।
গায়ত্রী সান্যাল বলেছেন:
++ এবং প্রিয়পোস্ট
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আবারো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এটি শক্তিকুমার সিংহের করা একটি স্কেচ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। প্রথম আলোতে পড়েছিলাম পড়েছিলাম কিছু, এখন বই আকারে বের হয়েছে শুনেছি। আপাতত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য নিয়ে কাজ করছি তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য ভাষার সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। কেমনাছেন?
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
আপনার অনেকগুলো পোষ্ট জমেছে......সময় পাচ্ছি না।
লেখক বলেছেন: ঠিকাসে, সময় পেলে পড়বেন।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
এইগুলি তো স্যারের আগের কবিতা হে।
চার নম্বরটায় তাকে পেলাম। তিনটাতেও আংশিক।
চারটা আগে পড়েছি কিনা মনে পড়ছে না ।
যাইহোক, স্যাররে পিলাচ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনুবাদ যুইতের হয়নি নিজেও বুঝতে পেরেছি। মুল কবিতার সাথে দিনরাত্রি ব্যবধান!
উনার সাথে কি আপনার দেখা হয়? উনি এখন কেমন আছেন থাকেন জানতে খুব ইচ্ছা হয়।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
আমার সাথে দেখা হয় না, কারন আমি আর উনি --------------------অনেক দূরে -------------ফোনে কথা হয়।
এইরকম আছেন
লেখক বলেছেন: উত্তরের জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, কাকশালিখচড়াইগাঙচিল।
আকাশ অম্বর বলেছেন:
চমৎকার !
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














