আমার প্রিয় পোস্ট

প্রান্তিক জনগোষ্ঠিগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমমর্যাদা দাবী করছি

সত্তর দশকের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতা

০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০৯

শেয়ারঃ
0 13 0

ধনঞ্জয় রাজকুমার
আ মা র ক বি তা

এক.
নিজেদের নিষ্ঠুর যন্ত্রনার অস্তিত্ব আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। এবার তাহলে আমাদের হৃৎপিন্ড ফালি করা ফোটা ফোটা রক্ত দিয়ে কবিতা লিখবো। গভীর রাতে দুঃস্বপ্নের ভেতরে আমরা চিৎকার করে উঠি। কবিতা তুমি বিশুদ্ধ, তুমি পবিত্র, তুমি আমার ঘৃণা - মৃত্যু - পাপ - ঈশ্বর। ঈশ্বরের সাথে তুলনা করতে যেয়ে দেখি আমি কতখানি নিম্নজ, কতখানি অসহায়। আমাকে অংহকারী কর। আমি লিখি কবিতা, আমার জন্যে চাঁদের জোৎস্নার মতো সহস্র রমনী দরকার। তাদের নিয়ে থাকার বিলাসভুমি - প্রেম, পবিত্রতা, আমার নবতর পুণর্জন্ম। হ্যালো - হ্যালো - হ্যালো - লাইন আউট অব অর্ডার...

দুই.
ট্রেনের হুইশেল, মোটরের হর্ণ, প্লেনের শব্দ, ঘড়ির এলার্ম, তিনশ এগারো টাইপ রাইটারের খটখটখটখটখট, হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়া কাপ, রেডিওর ষ্টেশন খুঁজার শব্দ, আত্মহত্যার আগের নিঃশব্দতা, রক্তের কণায় অসহ্য চিৎকার মুক্তি মুক্তি, উত্তরন উত্তরন, হাজার হাজার বছরের কবিদের কবিতা পড়া আমার বুকে লাবডাব - লাবডাব - লাবডাব -

তিন.
ঈশ্বরের সাথে তুলনা করে দেখি আমি এখনো নিম্নজ। লাবডাব - লাবডাব - লাবডাব। সিস্টার দয়া করে আমার মুখে থার্মোমিটার দিন, আমার বুকে একবার কান পেতে শুনুন, হাতের নাড়ী দেখুন, কতখানি কষ্ট পেয়েছি আমি, কতখানি যন্ত্রনার মৃত্যুর হাতে ধরে আমি কবিতার কাছে আত্মসমর্পন করেছি - সব লিখে রাখুন। আমার নিঃসঙ্গতার কবিতায় কার কঠিন নিয়তির মতোন স্থির নিস্তব্ধ মুখ, নিরুত্তাপ হাত? কি করলে - কি করলে আমার যন্ত্রনা এবং নারী এবং ঈশ্বরের সাথে তাবৎ কথোপকথন কবিতায় বিকশিত হবে? হে ঘড়ির কাঁটা, তুমি তো টিকটিকটিকটিকটিক - একটু জিরোও - আমাকে একটু সময় দাও, আমি কবিতার সাথে একটু সময় ঘুমোবো...

চার.
হে আমার নিঃসঙ্গতা! আমার আত্মা! আমার পবিত্রতা! আমার পূণ্য! আমার পাপ! আমার ঈশ্বর! আমার কবিতা।

|| ধনঞ্জয় রাজকুমার আধুনিক বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার জনক। লেখালেখি করছেন ষাটের দশক থেকে। আশির দশক এবং তৎপরবর্তী কবিদের অধিকাংশ অনুসরন করেছেন তার পদাংক। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : "হপনর বাবুয়ানি", "ডিগল হাতহানল মোরে", "ভিক্ষা দেনে এর আহিগিতৌ", "হমাজি গাটর পানি", "বিরহী যক্ষর এলা" ইত্যাদি। এই কবিতাটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত "ডিগল হাতহানল মোরে" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া ||
_____________________________________________

মদনমোহন মুখোপাধ্যায়
অ নু রো ধ

ফুলের বসন্ত এলে তোমার দুয়ারে
নিমন্ত্রন দিয়ো না আমাকে।

আজকের ভ্রমরটি সেদিন অবধি
সেদিনের গান করতে গিয়ে
তাল-ছন্দ চমৎকার কিছু গীতিকায়
যদি তার ভুল হয়ে যায়
ক্ষমা করে দিয়ো ভালবেসে
ভালবেসে তার গান শুদ্ধ করে দিয়ো

ফুলের বসন্ত এলে তোমার দুয়ারে
নিমন্ত্রন দিয়ো না আমাকে।
তোমার ঐ বসন্তের কালে
আমার সম্মানে রাখা আসনখানির কথা ভাবতেই
অন্য এক ভয় ঢুকে গোপনে শরীরে
তবুও তোমার কাছে আকুল প্রার্থনা
ঘৃণার ওপারে গিয়ে তবুও ভোলো না

ফুলের বসন্ত এলে তোমার দুয়ারে
নিমন্ত্রন দিয়ো না আমাকে।

|| কবি মদনমোহন মুখোপাধ্যায়ের জন্ম আসামের শিংলায়। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে লেখালেখি শুরু । উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: রঙ ফিরক, তেন্না ককক্ , ঠইগ। কবিতাটি অক্টোবর, ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত 'ঠইগ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া ||
_____________________________________________

সেনারূপ সিংহ
ফো টা র তৃ ষ্ণা য়

তোমার উদ্যানে আমি ফোটে উঠবো সখী
শেফালি ও বকুলের মতোন
আলো কিবা অন্ধকারে দেখো অন্তহীন
ডালি ভরে ঝরবো অবিরত।

তোমারই আলোয় আমি আলোকিত মালা
গলায় শরীরে বেঁধে রেখে
মোহিত করে তুলবো তোমাকে ধীরে ধীরে
ঘ্রান মেখে হৃদয়পদ্মের ।

|| সেনারূপ সিংহ বিষ্ণুপ্রিয়া ষাটের দশকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কাব্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। জন্ম কাছাড়ের মোহনপুর। কবিতার পাশাপাশি গানও লিখেছেন প্রচুর। প্রকাশিত কাব্যগন্থ: চিরবিরি বৌ খা, শাতনির তৌরাঙ, আনৌপী। এই কবিতাটি জুন, ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত 'শাতনির খৌরাঙ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া ||
_____________________________________________

ছবিঃ শক্তিকুমার সিংহের স্কেচে মণিপুরী রাসের শ্রীরাধিকা

আরো কিছু বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার অনুবাদ
* সাতজন সমকালীন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবির কবিতা
* ধনঞ্জয় রাজকুমারের তিনটি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার অনুবাদ
* তিনটি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতার অনুবাদ

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অনুবাদ কবিতাবিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:২৪
শয়তান বলেছেন: ধনঞ্জয় রাজকুমারের আগের দেয়া কবিতাগুলোর চেয়ে এবারকারগুলো বলিষ্ঠ মনে হচ্ছে । আমি অবশ্য তেমন ক্রিটিক নই । তবু যা মনে হল সেটাই বললাম ।
০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এটা তুলনামুলক ভাবে তরুন বয়সে লেখা কবিতা। এ সময়কার কবিতাগুলো আমারো ভালো লাগে। মুল কবিতাটি যখন পড়ি তখন আরো ভালো লাগে। অনুবাদে মনে হয় কবিতার অর্ধেকটা হারিয়ে যায়।

২. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:২৫
শয়তান বলেছেন: অটঃআজকে ঠিক করলাম এ মাসেই হয়ত আগরতলা বেড়াতে যাবো ।
০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: আগরতলা ভ্রমন শুভ হোক।

৩. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:২৫
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:


অপূর্ব......................................................................+




ভালো থাকুন।
শুভ রাত্রি।
০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় ভাস্কর চৌধুরী।

৪. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৩১
গায়ত্রী সান্যাল বলেছেন: হে আমার নিঃসঙ্গতা! আমার আত্মা! আমার পবিত্রতা! আমার পূণ্য! আমার পাপ! আমার ঈশ্বর! আমার কবিতা।
..........................

অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর কিছু কবিতা পড়ানোর জন্যে।
......................

প‌্যাস্টেলে আঁকা পরীটি কে গো?
...................
০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২৫

লেখক বলেছেন: শক্তিকুমার সিংহের স্কেচে মণিপুরী রাসের শ্রীরাধিকা। শক্তিকুমার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের একজন নামকরা চিত্রকর।

০৬ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আবারো।

৬. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:১০
সোজা কথা বলেছেন:
কবিতাগুলো সংগ্রহে থাকবে। ছবিটা কোথা থেকে পেয়েছেন , বেশ সুন্দর।
০৬ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এটি শক্তিকুমার সিংহের করা একটি স্কেচ।

৭. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:১৫
মিলটনরহমান বলেছেন: অনেক ভালো লেগেছে। হাফিজ রশীদ খান-এর বেশ কিছু উপজাতী অনুবাদ কবিতা আছে। সংগ্রহ করা যায় কি?
০৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০২

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। প্রথম আলোতে পড়েছিলাম পড়েছিলাম কিছু, এখন বই আকারে বের হয়েছে শুনেছি। আপাতত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য নিয়ে কাজ করছি তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য ভাষার সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আছে।

০৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। কেমনাছেন?

৯. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:০১
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আপনার অনেকগুলো পোষ্ট জমেছে......সময় পাচ্ছি না।
০৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:১৬

লেখক বলেছেন: ঠিকাসে, সময় পেলে পড়বেন।

১০. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২৬
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
এইগুলি তো স্যারের আগের কবিতা হে।

চার নম্বরটায় তাকে পেলাম। তিনটাতেও আংশিক।

চারটা আগে পড়েছি কিনা মনে পড়ছে না ।

যাইহোক, স্যাররে পিলাচ।
০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনুবাদ যুইতের হয়নি নিজেও বুঝতে পেরেছি। মুল কবিতার সাথে দিনরাত্রি ব্যবধান!


উনার সাথে কি আপনার দেখা হয়? উনি এখন কেমন আছেন থাকেন জানতে খুব ইচ্ছা হয়।

১১. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
এখন দেখলাম লেখাইতো আছে সত্তর দশক। হা হা হা ।
১২. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০৩
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
আমার সাথে দেখা হয় না, কারন আমি আর উনি --------------------অনেক দূরে -------------ফোনে কথা হয়।
এইরকম আছেন
০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: উত্তরের জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, কাকশালিখচড়াইগাঙচিল।

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৫১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৫২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবী করছি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ