
ইউসুফ আলমগীর
কুড়িগ্রামে কয়েক শত বছরের একটি পুরোনো মন্দিরের পাশে মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রত্ন নিদর্শন ও নতুন করে একটি ঘরের দেয়াল, দরজা বের হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শতশত লোক দেখার জন্য ভিড় করছে। স্থানীয় লোকজনেরা মাটি খুঁড়ে ও দেয়াল ভেঙে মাটির নিচের ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। বের করে আনছে মূল্যবান সব নিদর্শন-টেরোকোটা সম্বলিত ইট। ফলে অজ্ঞানতা ও অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন নষ্ট হবার আশংকা করছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার সরেজমিন জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের চতুর্ভূজ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ১৫/২০ জন স্থানীয় লোকজন শিব মন্দির সংলগ্ন ঢিবি থেকে মাটি সরাচ্ছেন। তারা এরই মাঝে প্রায় ১৫ ফিট বাই ২০ ফিটের মতো একটি ঘরের দেয়ালের পাশের প্রায় ২ফিট মাটি সরিয়ে ফেলেছেন। সম্ভবত ঘরটির ছাদটাও তারা ভেঙে ফেলেছেন। পাশে কয়েক হাজার টেরাকোটা সম্বলিত ইট তুলে স্তুপ করেছেন।

সেখানে কাজ করা লোকজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কয়েকদিন আগে আবাদ করার পরিকল্পনা নিয়ে গ্রামের লোকজন মন্দিরের পতিত জমির জঙ্গল ঝাড় কেটে ঠিক করতে থাকে। এসময় তারা ইটের টুকরো পান। কয়েক ফিট খুড়ে তারা আবিস্কার করেন একটি ঘরের দেয়াল। আরও খুড়তে থাকলে পাওয়া যায় দরজার সন্ধান।
মন্দিরের দেওরিয়া (পরিচর্যাকারী) আশির্দ্ধো অনিল কুমার জানান, আমরা ঠাকুর দাদার কাছে শুনেছি এই মন্দির সত্যযুগে নির্মিত। কথিত আছে এক রাতের মধ্যেই দেবতা বিষ্ণু পাশের একটি পুকুর থেকে মাটি নিয়ে ইট তৈরি করে মন্দির ও মন্দির পরিচর্যাকারীর আবাসস্থান তৈরি করেছেন। এক সময় সত্য যুগ শেষ হলে মন্দিরটি দেবে যায়। সেই সাথে এই মন্দিরের আশে পাশে আর কি কি নির্দশন ছিল তা স্থানীয় কেউই বলতে পারেন না।

মন্দির দেখতে আসা লালমনিরহাটের স্নিগ্ধা রায়, কুড়িগ্রাম শহরের লিমন, রশিদ, বিপ্লব তরফদার বলেন, লোকমুখে এই আবিস্কারের কথা শুনে দেখতে এসেছি। কিন্তু সাধারণ শ্রমিক দিয়ে খোড়ার কারণে এতো পুরোনো একটি নির্দশন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। অভিজ্ঞ ও প্রত্নতত্ববিদদের দিয়ে খুড়তে পারলে এর নিদর্শনগুলো অত থাকতো। সেই সাথে প্রকৃত ইতিহাস বের হয়ে আসতো।
ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল হক নুরু জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মন্দিরটি বহু পুরোনো হওয়ায় প্রত্ন নিদর্শন থাকা খুবই স্বাভাবিক। প্রত্ন নিদর্শনগুলো বিশেষজ্ঞদ্বারা খনন ও গবেষণা করলে এ অঞ্চলের ইতিহাস পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

