বরের ঘরে মাসি আর কনের ঘরে পিসি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামেলীগ ও বিএনপি’র সম্পর্ক হল ঠিক এই রকম। বিষয়টা যদি এরকম না হতো তাহলে এই দুই দল নিশ্চিন্তে দেশ শাসন করতে পারত না।
সেই যাই হোক, খালেদা জিয়ার ভারতীয় ঋণ চুক্তির বিরোধিতাতে নাকি নয়া দিল্লি নাখোশ। দিল্লি নাকি খালেদার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। সে লক্ষ্যে তারা নাকি তারেক জিয়ার সাথে আইএসআই এর সাথে যোগাযোগ,বিখ্যাত ভারতীয় মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহীম সাথে বৈঠক, সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদ কে হত্যার ষড়যন্ত্র ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট তারেক জিয়া এ রকমটা দাবি নাকি দিল্লির। এসব তথ্য প্রমাণ হাসিনার হাতে তুলে দেবে দিল্লি। আনন্দবাজার পত্রিকার রেফারেন্স দিয়ে দৈনিক আমাদের সময় কাল ১৩ আগস্ট শুক্রবার এমন সংবাদ পরিবেশন করে।
দাউদ অস্ত্রটা এতদিন দিল্লি ব্যবহার করত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ।এখন এই অস্ত্র ব্যবহার করার সুপ্ত ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছে দিল্লির বাংলাদেশের খালেদা পুত্র তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে। তারেক জিয়া কিংবা তার দলের হয়ে কেউ যদি এই দাউদ ইব্রাহীমের সাথে কোনো বৈঠক করে থাকেন তবে তিনি ফেঁসে গেছেন নিশ্চিত। কারণ এই দাউদ ইব্রাহিম হলো দক্ষিণ এশিয়ার ভারতীয় চোরাকারবারী, মুম্বাই চলচ্চিত্রের অর্থ লগ্নীকারী, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার র’ এর খাস এজেন্ট। এই দাঊদ ইব্রাহীম ভারতে আত্মগোপন করে থাকলেও পাকিস্তান ও দুবাইতে সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। তার আত্মীয় সজ্জন এখনো ভারতের মুম্বাইতে দাপটে অবস্থান করছে। তার হয়ে তার আত্মীয় সজ্জন মুম্বাইয়ের কালো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ১০-১২ বছর আগে মুম্বাই শেয়ার মার্কেটে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনার অভিযোগে দাউদের বিরুদ্ধে ভারত সরকার লোক দেখানো একটি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। এরপর থেকে তিনি সপরিবারে করাচিতে চলে যান। রেখে যান তার অন্যান্য আত্মীয় সজ্জন। দাউদের কালো ব্যবসার অর্জিত অর্থের সবচেয়ে বড়ো অংশের বিনিয়োগ দুবাইতে এমনটা মনে করা হয়।
ভারত সরকার তার সাথে এক গোপন সমঝোতা করে আরেক কুখ্যাত মাফিয়া ডন আবু সালেমকে পুর্তগাল পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হোন। এবং তাকে ভারতে নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে মামলা এখনো চলছে।
সে যাই হোক ভারত সরকারের সাথে দাউদ ইব্রাহীমের গোপন সম্পর্ক ফাঁস হয়ে পড়ে তখন যখন মনমোহন সরকার থেকে ভারতের কমিউনিসম্ট পার্টি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় ইন্দো-মার্কিন পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে। মনমোহন সরকার লোকসভায় সংখ্যালঘু হয়েপড়ে। এমতাঅবস্থায় সরকার বাঁচানো দায়িত্ব এসে পড়ে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টির গুরু ও প্রভু দাউদ ইব্রাহিমের। তিনি এসে উত্তর প্রদেশের অন্য রাজনৈতিক দলে থাকা মুসলিম সংসদ সদস্যদের টাকা দিয়ে কিনে কংগ্রেসের পক্ষে সমর্থন দেয়ার কাজে লেগে পড়েন।
অবিশ্বাস্য ভাবে কাংগ্রেস সরকার সেই সব মুসলিম সদস্যদের সমর্থন পায় এবং কংগ্রেস সরকার বেঁচে যায়। এসব নিয়ে তৎকালীন সময়ে বহু রিপোর্ট ছাপানো হয়েছিল ভারতীয় প্রধান দৈনিকগুলোতে।
এখন দেখুন দিল্লি এই সব অস্ত্র নিয়ে বিএনপি বিরোধী(উপর দিয়ে) অবস্থান নিতে যাচ্ছে। যেকোনো প্রকারে দিল্লি হাসিনা সরকারকে ও তার ভোদাই সমর্থন কারীদের এটা বোঝাতে চাচ্ছেন যে তারা সত্যি সত্যি খালেদা বিরোধী (ভিতর দিয়ে নয়)। এদিকে বিএনপিও এমনটা চাইছে তাদেরকে ভারত বিরোধী একটা ইমেজ বজায় থাকুক(ভিতর দিয়ে একেবারেই নয়)।
সত্যি যদি দিল্লি খালেদা বিরোধী অবস্থান নিয়ে থাকে তাহলে তারা এসব না করে বিগত দশ বছর খালেদার শাসন আমলে ঢাকার সাথে দিল্লির দেশ বিরোধী তথা দেশের স্বার্থ বিরোধী যেসব চুক্তি হয়েছে তা দেশ বাসীর নজরে আনত। কিন্তু সে পথে যায়নি দিল্লি। কারণ এতে তথাকথিত দিল্লির হাসিনা প্রেম যে উবিয়া যাইবে। অন্যদিকে খালেদার ভারত বিরোধিতার রাজনীতি যে মাঠে মারা যাবে ।
এমতা অবস্থায় দিল্লি গুরু ও প্রভু দাউদ ইব্রাহিমের শরণাপন্ন হওয়াকে উচিত মনে করিল।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



