somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ব্লগার নয়, সাইবার ক্রিমিনাল সাবধান! কেস স্টাডি-১:

জনপ্রিয় অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস আইনি অভিযোগ আনেন, তার নামে একটি ওয়েব সাইট চালু করেছেন জনৈক রাসেল বয়েড।মোকাদ্দমায় জিগাষাবাদে জানা যায়, রাসেলআরো বেশ কিছু সেলিব্রিটির নামে এমন ওয়েব সাইট করেছেন যেগুলোর সাথে উক্ত ব্যক্তিরা কোনভাবেই সম্পৃক্ত নন। অভিযুক্ত ব্যক্তি জুলিয়া রবার্টস –এর নামে করা ডোমেইন ই-কমার্স সাইট ই-বে’তে নিলামের জন্যও তুলেছিলেন। আদালত অভিযুক্তের এই আচরণকে ’ব্যাড ফেইথ’ হিসেবে চিন্হিত করেন এবং জুলিয়া বরার্টসকে ডোমেইনটি হস্তান্তর করা হয়।

কেস স্টাডি-২:

২০০৩ সালে ব্রিটিশ পুলিশের একটি বিশেষ দল জানিয়েছিল, তারা মাত্র ৪ সপ্তাহে ১০০ জনকে শিশু পর্নগ্রাফি ডাউডলোড কালে গ্রেপ্তার করেছে।
মুম্বাইতে এক সুইস দম্পতি পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়, যারা বস্তির ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে বাধ্য করতো। এ সব ছবি বিশেষত পেডোফিলিয়ায় (যারা শিশুদের সাথে যৌনাচারে আগ্রহী) আক্রান্তদের জন্য তৈরী পর্নসাইটগুলোতে প্রকাশিত হতো।

কেস স্টাডি-৩:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুরের ব্যক্তিগত ই-মেইল হিসেবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হলো একটি ইমেইজ ফাইল। প্রথমত, ইমেইল হ্যাক হয়ে থাকলে তা একটি অপরাধ।দ্বিতীয়ত, ইমেইল গ্রাফিক্সটি ভূয়া প্রমানিত হলে (ইতিমধ্যে ব্লগে বিভিন্ন ক্রসচেকিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে ইমেইল গ্রাফিক্সটির ভূয়া হবার সম্ভাবনা ), ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ইন্টারনেটে এ ধরনের অপপ্রচারনা আরেকটি অপরাধ। এমনকি যারা সত্য বাছবিচার না করে ইংরেজিতে লিখিত ইমেইলের বাংলা অনুবাদ করে তা ব্লগে ব্লগে প্রচার করছিলেন, তাদেরকেও অপরাধী সাব্যস্ত করা যায়।

কেস স্টাডি-৪:

গণমাধ্যমগুলোতে ফারজানা কর্তৃক হীরনকে তালাক দেয়ার ঘটনা যখন বেশ আলোচিত তখন নারী হিসেবে ফারজানাকে সহজেই বিতর্কিত করার আপত্তিকর প্রচেষ্টা দেখা গেল ইন্টারনেটে । হীরনের ফেসবুক ওয়ালে আপত্তিকর বক্তব্যসহ ফারজানার ছবি, মোবাইল ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়, যা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কেস স্টাডি-৫:

শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, লেখক জাফর ইকবালকে অপদস্থ করতে একটি বিশেষ চক্র এক কাঠি সরেস থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলের কোন অনুষ্ঠানে নিজের স্ত্রী-কন্যার উপস্থিতিতে ও সাথে গানের তালে তাল মেলানোর ভিডিও অসৎ উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেয়া হলো ফেসবুক আর বাংলা ব্লগগুলোতে।সাম্প্রতিককালে জাফর ইকবালের কন্যার প্রবাস জীবনের বিভিন্ন ছবি আচমকাই ছড়িয়ে দেয়া হলো ইন্টারনেটে, বাংলা ব্লগগুলোতে। যদিও সচেতন ব্লগারদের প্রতিবাদের কারণে এরূপ অপপ্রচার থিতু হয়ে এসেছিল, তবে যারা এভাবে ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে ব্যক্তি আক্রমনে উদ্যত হয়েছিলেন, এদের আচরণকে ক্রাইম হিসেবে গন্য করতেই হবে।

কেস স্টাডি-৬:

’আমার ব্লগ’ এর কপিরাইট সংরক্ষণে সচেতনতা লক্ষনীয় বটে। ব্লগটিতে মোটা হরফের সতর্কবার্তায় লেখা আছে- ”এই ব্লগের কোন লেখা, কমেন্ট বা কন্টেন্টের স্বত্ব সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্লগারের। লেখক, মন্তব্যকারী বা ব্লগের অনুমতি ছাড়া ব্লগ পোস্ট ও মন্তব্যের সম্পূর্ণ বা আংশিক অন্য কোথাও প্রকাশ, সংকলন, গ্রন্থনা করা বেআইনি।” প্রশ্ন করা যেতে পারে, কোন ’আইনের’ প্রেক্ষিতে এমন আচরণ ’বেআইনি’ হবে? অর্থ্যাৎ ইন্টারনেটে ইন্টেলেকচুয়্যাল প্রপার্টি নিশ্চিত করা হবে কোন আইনে? উত্তর- সাইবার আইন।

কেস স্টাডি-৭:

'জেনারেল’’আইজুদ্দিন’ এর নাম জানেননা এমন ব্লগার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে বিরল। এদের পরিচয় বস্তুনিষ্ঠ ব্লগিংয়ের কারণে নয়। বরং বাংলা ব্লগের শুরু থেকে আজ অব্দি ক্রমাগত অশ্লীলতাকেই লালন করে যাচ্ছেন তারা। বিশেষত নারী ব্লগারদের নিয়ে এদের চরম বিকৃত যৌনআক্রমনাত্মক মন্তব্য বাংলা ব্লগগুলোতে একটু খুঁজলেই পাওয়া যাবে। ব্লগার ’জেনারেল’, যিনি ’ক্যামিকেল আলী’ নামেও লিখেন, -এর প্রকৃত নাম-পরিচয় (প্রকৃত নাম সেলিম হোসেন - M. Selim Hossain, তার ইমেইল এড্রেস -
এবং , তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে এইচএসসি পাস করার পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাষ্টার্স করেন জৈব রসায়নে। ২০০৬ সালে লেকহেড ইউনিভারসিটি থেকে জৈব রসায়নে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন) এবং প্রবাসের যে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউনিভার্সিটি অফ গুয়েল্ফ, টরোন্টো, কানাডা, ) আইপি ব্যবহার করে তিনি ব্লগে ব্লগে নোংরামি করে যাচ্ছেন, তা জানা গেছে। ব্লগ কর্তৃপক্ষরা এ ধরনের বিস্তারিত তথ্য দিতে সক্ষম। বাংলা ব্লগে এমন অশ্লীল ভাবে ব্যক্তি আক্রমন ও যৌন আক্রমনাত্মক আচরণকে সাইবার ক্রাইম হিসেবে গণ্য করে বাংলা ব্লগগুলোর পরিচালনাকারীরা ও ব্লগাররা যদি আইনি পথে এগোন তবে ”জেনারেল” এর বিশ্ববিদ্যালয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামা প্রেরণ সম্ভব।

কেস স্টাডি-৮:

একজন জনপ্রিয় নারী ব্লগারের নামে ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ খোলা হয়েছে। নারী ব্লগারের ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে সাইটটি সাবস্ক্রাইব করা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেসের সেই পাতা নিশ্চয়ই কোন যৌন বিকৃত ও মানসিক ব্যধিগ্রস্থ ব্যক্তিরা মিলেই করেছেন, যেখানে দু’টি বাংলা ব্লগের কর্তৃপক্ষ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর শিরোনাম জুড়ে দেয়া হয়েছে, তাদের নাম ট্যাগ করে পর্নগল্প (চটি) লেখা হয়েছে। বাংলা ব্লগের যে কোন ব্লগারের পক্ষে এই পাতাটি দেখার পর বুঝতে বেগ পেতে হবে না, কারা কারা এই চটি লেখনীতে জড়িত। (আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১১, রাত ৯টার দিকে জানা গেল সাইটটির লিংক এক্সেস করতে গেলে ”… is no longer available” দেখাচ্ছে। উল্লেখ্য, ওয়ার্ডপ্রেস কর্তৃপক্ষ বরাবর ইমেইল করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল)

কেস স্টাডি-৯:

এই কেস স্টাডিটি বেশ অভিনব। এ জাতীয় ক্রাইম বিশ্বে বিরলও। যে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় গৌরব, সে মুক্তিযুদ্ধকে মিশিয়ে ফেলা হলো একটি পর্নসাইটের সাথে। তাতে সমর্থন যোগালেন জনা কয়েক, যারা আবার ব্লগার হিসেবেও পরিচিত। এডাল্ট পর্নগ্রাফি আর মুক্তিযুদ্ধ একই ওয়েবসাইটে চলে এল রাতারাতি। রসাল চটি পড়া শেষ করে, নারীর গোপন ভিডিও/ছবি দেখা শেষ করে একই সাইটে মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো নারীদের নিয়ে পর্নসাইট ভিজিটরদের মাতম শোনা গেল। আমরা পর্ন দেখি, পর্ন সবাই দেখে – এসব সাবলীল আলাপ হয়ে গেলে ইন্টারনেট কমিউনিটির একটা বড় অংশে। চটি শেয়ারও স্বাভাবিক হয়ে গেল। ’আশ্রম’ ছদ্মনামে একজন রগরগে চটিলেখক পর্নসাইটে নিজেকে ’এন্টারটেইনার’ হিসেবে পরিচিত করান, তিনিই আবার স্বনামে বাংলা ব্লগে ভার্চুয়্যাল মুক্তিযুদ্ধ ঘোষনা ও ভার্চুয়্যাল মুক্তিযোদ্ধা হবার মত ফ্যান্টাসি করেন।

বিপ্লব-ফ্যান্টাসিতে ভোগা তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক আবেগকে সুকৌশলে ব্যবহার করে কতিপয় ব্লগার নামধারী ব্যক্তিরা মুক্তিযুদ্ধের নামে নিজেদের পর্নগ্রাফি সাইট সম্পৃক্ততাকে স্বীকৃত করে নেয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে। অত্যন্ত দু:খজনক হলো, এ গোষ্ঠির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু সংখ্যক তরুণ ব্লগারদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয় সুস্থ-স্বাভাবিক চিন্তাশক্তির বিলুপ্তি ঘটেও ছিল। তবুও, সংখ্যাগরিষ্ঠ, সচেতন ব্লগারদের মধ্য থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল সে সময় এবং তা জারি আছে আজো। মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার এরূপ খেলো উপস্থাপনা যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠির ইতিহাস বিকৃতি প্রচেষ্টার মতই অবমাননাকর। যেখানে ফেসবুকে পর্নলিংক স্পামিং হলেই ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিব্রতবোধ করেন, সেখানে পর্নগ্রাফি সাইটে মুক্তিযুদ্ধকে সম্পৃক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা নারী-পুরুষদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত চেতনার সাথে তামাশা করার মত ধৃষ্টতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ন্যাক্কারজনক কাজে জড়িতদের সাইবার জগতে একটাই পরিচয় হতে পারে – এরা ঘৃণিত সাইবার ক্রিমিনাল!

সাইবার আইনের সার-সংক্ষেপ:

সাধারণত ইন্টারনেটে তথ্য-অর্থ-ব্যক্তি-জাতীয় নিরাপত্তা কোনভাবে বিঘ্নিত হলে তা সাইবার ক্রাইম হিসেবে বিবেচিত হয়।সাইবার আইন ইন্টারনেট আইন হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে সাইবার ক্রাইম পরিচিত সাইবার টেরোরিজম বা সাইবার সন্ত্রাস হিসেবে। দুটি পর্যায়ে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ভাগ করা সম্ভব – (১)ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক অবকাঠামোকে সরাসরি আক্রমন, (২) ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তায় ব্যতয় ঘটানো। এই দুই অংশে সাইবার অপরাধ রূপে যা যা ঘটে বা ঘটতে পারে –
(১) ভাইরাস আক্রমন
(২) ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রিয় ওয়েব সাইট হ্যাকিং
(৩) স্প্যামিং, ম্যালওয়্যার
(৪) সাইবারস্টকিং বা সাইবার হয়রানি – ইমেইল বা ব্লগ বা ওয়েব সাইট ব্যবহার করে হুমকি প্রদান, ব্যক্তির নামে মিথ্যাচার/অপপ্রচার, নারী অবমাননা, যৌনাক্রমণ
(৫) ফিশিং – লগইন/এক্সেস তথ্যচুরি, বিশেষত ই-কমার্স, ই-ব্যাংকিং সাইটগুলো ফিশারদের লক্ষবস্তু হয়ে থাকে। র্যা পিডশেয়ার সাইটের প্রিমিয়াম এ্যাকাউন্ট এক্সেস তথ্য চুরির মত ফিশিং ঘটেছে। ফিশারদের দ্বারা মাইস্পেসের লগইন তথ্যও চুরি হয়েছিল।
(৬) অর্থ আত্মসাৎ - ইন্টারনেট থেকে তথ্য চুরি করে ব্যাংকের এক এ্যাকাউন্ট থেকে অন্য এ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর একটি উদাহরণ। ইন্টারনেটে ব্লগ/ইমেইল/ফেসবুক ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অথবা প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটে। কিছুদিন আগে ব্লগার হাসনা হেনা ও রোজলীনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি বাংলা ব্লগ থেকে অর্থ জোচ্চুরির অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
(৭)সাইবার মাদক ব্যবসা – পুলিশের চোখ এড়াতে ইদানীং কালে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মাদক চালানের ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে
(৮) পাইরেসি – সদ্য প্রকাশিত গান ও সিনেমার এমপিথ্রি বা মুভি ফাইল ইন্টারনেটে শেয়ার হয়ে যাচ্ছে পলকে
(৯) ইন্টেলেকচুয়্যাল প্রোপার্টি – ব্লগ ও ওয়েব সাইট থেকে কোন লেখা, ফটোগ্রাফ সহজেই কপি-পেস্ট করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে সাইবার কমিউনিটিতে
(১০) পর্নগ্রাফি – শিশু পর্নগ্রাফি ইন্টারনেটে ভয়ংকরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।এডাল্ট পর্নগ্রাফিতে গোপনে ধারনকৃত, অনুমতি বিহীন ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও প্রকাশ বৃদ্ধি পেয়েছে
(১১) ব্যক্তিগত তথ্য-পরিচয়-ছবি চুরি ও ইন্টারনেটে এর অপ্যব্যবহার

যারা নিয়মিতভাবে ইন্টারনেটে বিচরণ করেন, তাদের উপরের যে কোনটি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থেকে যায়।

বাংলাদেশে সাইবার আইন:

ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরী করে ’কম্পিউটার মিসইউজ এ্যাক্ট ১৯৯০’। ই-ক্রাইম প্রতিরোধে ২০০৮ সালে জাতীয় ই-ক্রাইম ইউনিটও গঠন করা হয়েছিল।ভারতে তৈরী হয়েছিল ’তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০’। বাংলাদেশে সাইবার আইন প্রণয়ণে মিশ্র-অবিমিশ্র আলোচনা জারি থাকলেও, একটা তথ্য অনেকেরই কাছেই অস্পষ্ট রয়ে গেছে- বাংলাদেশে ২০০৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইন তৈরী করা হয় এবং ২০০৯ সালে এই আইনে কিছু পরিমার্জনা করা হয়। ধরে নেয়া যাক, এই তথ্যপ্রযুক্তি আইনই আমাদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োগ হবে।

সমস্যা হলো, আমাদের দেশে আইন থাকলেও আইনি অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণের ক্ষোভ হরহামেশাই দেখা গেছে । নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকারই যেখানে নিশ্চিত নয়, সেখানে ইন্টারনেটে ব্যক্তি নিরাপত্তা দাবি করা বাতুলতাই।তদুপরি, রাষ্ট্রীয় প্রচারণার অভাবে নাগরিকদের আইনি অধিকার দিতে কোন আইনে কী প্রতিকার লাভ সম্ভব, তা নাগরিকদের কাছে অজ্ঞাতই থেকে যায়।

অবশ্য ঘোষিত তথ্যপ্রযুক্তি আইন সাইবার অপরাধ সনাক্তকরণ ও বিচারকার্য পরিচালনায় কতটা যুগপযোগী তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাছাড়া প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, তাতে অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে। এজন্য সাইবার আইন একটি চলন্ত গবেষণার দাবি রাখে।

সাইবার আইন কেবলমাত্র রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন প্রযুক্তি অবকাঠামোতে সংগঠিত সাইবার অপরাধের জন্য প্রযোজ্য হবে তা নয়। একজন বাংলাদেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রবাস থেকেও বাংলাদেশে অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করতে পারেন। তাই সাইবার অপরাধিকে সনাক্তকরণে, প্রয়োজনীয় সাইবার তথ্য বিনিময়ে ও সর্বপরি অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে দু’টি দেশের মধ্যে বিশেষ সাইবার নীতিমালা থাকতে হবে । সাইবার অপরাধ মনিটরিং ও অভিযোগ দায়ের করার জন্য ’জাতীয় সাইবার সেল‘ গঠন করা জরুরী। এই সেলের প্রযুক্তিগত সুবিধা উন্নততর হতে হবে যেন কোন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তের ইন্টারনেট গতিবিধি ট্র্যাকিং/ট্রেসিং করে অকাট্য তথ্য দ্রুততার সাথে আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়।

সাইবার আইন ডিসকোর্স:

তৃতীয় বাংলা ব্লগ দিবসে প্রথমবারের মত প্রতিপাদ্য সংযোজিত হয়েছিল, গণজাগরণে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার আইন। সোশ্যাল মিডিয়ার গনজাগরণ নিয়ে আমাদের সম্যক ধারনা আছে কিন্তু সাইবার আইন নিয়ে আমাদের মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষ ও প্রতিপক্ষ অবস্থান তৈরী হয়েছে ইতিমধ্যে। দেখা যাচ্ছে, একটি বিস্তৃত পরিসরের আলোচনা কেবল এবং কেবলমাত্র দু’টো বিষয়ে আবদ্ধ হয়ে আছে –(১) ব্লগ নিয়ন্ত্রন (২) বাক স্বাধীনতা হরণ।

এখন পর্যন্ত সাইবার আইন প্রসঙ্গে আমরা কেবল মাত্র ব্লগ নিয়েই প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছি। অথচ ’সাইবার’ যদি সৌরজগৎ হয় তো ব্লগ এর একটি গ্রহ মাত্র। কারো কারো ক্ষেত্রে অবশ্য এরূপ আশংকায় স্বাভাবিক অধিকার নিশ্চিতকরণের চাহিদা আছে, তবে কারো কারো ক্ষেত্রে রয়েছে উদ্দেশ্যমূলক উস্কানি। বাক স্বাধীনতার মত দ্বায়িত্বপূর্ণ আচরণ নিয়ে এমন অনেকেই উচ্চবাচ্য করছেন, যারা মূলত ’গালি স্বাধীনতা‘ চর্চা করেন। এরূপ গোষ্ঠির উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণায় প্রভাবিত হলে সাইবার আইন সংক্রান্ত সার্বিক সচেতনতা বিঘ্নিত হবে।

সরকার ব্লগ নিয়ন্ত্রন করতে চাচ্ছেন- এমন আশংকায় নেটিজেনরা আশংকিত হতেই পারেন। তবে রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে, ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্বের কোন রাষ্ট্রযন্ত্রের ঘটা করে সাইবার আইন প্রণয়ন জরুরী হয়ে ওঠে না। রাষ্ট্র গনতান্ত্রিক আলাপের বিরুদ্ধে যেয়ে একনায়কতন্ত্রে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে সাইবার আইন ছাড়াই। বরং বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিজেদের স্বার্থে সাইবার আইনে বাক স্বাধীনতা বান্ধব বিধি যোগে সচেষ্ট হতে হবে নেটিজেনদেরই।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যখন প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়, তখন একই সাথে প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যবেক্ষণ বিধিমালা নীতিনির্ধারণী চিত্রে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। অন্যথা তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও সাইবার আইন ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা প্রণয়ন একটি অপূর্নাঙ্গ রোডম্যাপ হতে বাধ্য।


(ব্লক ডায়াগ্রাম বড় করে দেখতে ক্লিক করুন )

সরকার ও সুশীল সমাজের ব্লগ বৈরাগ্য এবং ব্লগারদের বাক স্বাধীনতা:

আসিফ নজরুল, আব্দুর নূর তুষার, মেহেরজান চলচ্চিত্রের পরিচালক রুবাইয়্যাত সহ হালে এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে ব্লগ নিয়ে বিরূপ হতে দেখা গেছে। আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্লগকে বৈশ্বিকভাবে সকল প্রশাসনই একটু বাঁকা চোখে দেখেন। এ বস্তুত মূল ব্লগিং চর্চা সম্পর্কে তাদের জানাশোনার সীমাবদ্ধতা; ক্ষেত্র বিশেষে নাগরিক সমালোচনা গ্রহণে উদারতার অভাবও। তাই বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীনদের এরূপ মন্তব্যে ব্লগ ও ব্লগারদের উপর খড়গ হস্তের একটি আশংকা স্বাভাবিকভাবেই ব্লগারদের মধ্যে বিস্তারিত হতে দেখা যায়। প্রসঙ্গত বলতেই হয়, আসিফ নজরুল নিজেই একজন কড়া সমালোচক। আব্দুর নূর তুষারও লেখনীতে ধারাল হয়ে উঠতে পারেন। রাজনীতিবিদেরা একে অন্যকে দোষারোপ করে প্রায়শই এটা-ওটা উক্তি করে বসেন। তাহলে ব্লগাররা সমালোচনা করলে তা দোষনীয় হয়ে উঠছে কেন? দেশে ছিনতাই-খুন-ধর্ষন বৃদ্ধিতে জনগণ যদি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে সরকারকে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ আখ্যায়িত করে তবে সরকার কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে দোষারোপকরণ অনুচিৎ বলে মনে করেন। সেক্ষেত্রে, গুটিকয়েক ব্লগারদের অশ্লীলতার দায় পুরো বাংলা ব্লগ কমিউনিটির উপর চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক হতে পারে?

ব্লগাররা বিভিন্ন কারণেই রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠেন। প্রশ্ন হতেই পারে, ব্লগারদের সমালোচনা করা হলে, তারা এতো প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠেন কেন? মন্ত্রী আশরাফ সাহেব যখন ব্লগ বলতে পর্নগ্রাফি বুঝে থাকেন, তখন বুঝতে হবে, তিনি তথ্যগত দিক দিয়ে অন্ধকারে আছেন এবং যেটুকু তার সম্মুখে এসেছে, সেটুকু জুড়ে আপত্তিকর কিছু থাকতেই পারে। ব্লগারদের বরং এই সুবাদে পর্নগ্রাফি সাইটগুলোকে চিন্হিত করে ও বিশেষ কোন ব্লগে যদি প্রতিনিয়ত অশ্লীলতাকেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কী কী করণীয় রয়েছে তা জানতে মন্ত্রী সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিৎ।

ব্লগারদের সমালোচনা হলেই বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে এমন গোষ্ঠিবদ্ধ হুজুগ প্রকারান্তরে কোন ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে না। ব্লগাররা সমালোচনার উর্ধ্বে থাকা কেউ নন। ইন্টারনেটবাসীরা তিউনিশিয়ায় বিপ্লব করেছিল বলে, আরব বসন্ত এনেছিল বলে তাবৎ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিপ্লবী হয়ে যান না। আজকাল মাউসের ক্লিকে ক্লিকে বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে বিশ্বে। তাহলে এ যুগের বিপ্লব কি জলবৎ তরলম হয়ে যায়নি? খুদিরাম, ভগৎ সিং, মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতা আর আমাদের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধারাও বিপ্লবী ছিলেন। তাদের মত ধৈর্য, আত্মত্যাগ, দূরদর্শীতা, দ্বায়িত্ববোধ, প্রজ্ঞা আদৌ কতটুকু রয়েছে আমাদের মাঝে?

একটা ছোট প্রতীক খুঁজে নেই আলোচনার এই অংশে – ছুরি! সুস্থ মানসিকতার কেউ ছুরি ব্যবহার করে সবজি-ফল কাটতে পারেন, দড়ির প্যাঁচ কাটতে পারেন, আর বেসামাল হলে আঙ্গুল কেটে ফেলতে পারেন। অন্যদিকে অসুস্থ মানসিকতার কেউ ছুরি দিয়ে অপরকে আহত-নিহত করতে পারেন। ব্যবহারকারীর কারণে প্রযুক্তি-ইন্টারনেট ছুরির মত কার্যকরী হতে পারে, আত্মঘাতি হতে পারে, আবার হতে পারে ভয়ংকরও!

দ্বায়িত্বশীলতার কথাটা এখানেই বারবার উত্থাপিত হয়। দ্বায়িত্বশীলতার প্রত্যাশা পারস্পারিকও বটে। ব্লগার-নেটিজেনরা সরকারের কাছে দ্বায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করবে, বিপরীতে সরকার ব্লগার-নেটিজেনদের কাছেও দ্বায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া চাইবে। কোন ধরনের অচলাবস্থা এড়াতে দু’পক্ষের মুখোমুখি মুক্তালোচনাকে স্বাগত জানানোর পরিসর রাখাটা মত প্রকাশের গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে দেবে নিশ্চিত।

সাইবার আইন- নিরাপত্তা না খড়গের আশংকা?

এটা স্পষ্ট, সাইবার আইন নিয়ে আমাদের চিন্তা ধারা সম্পূর্ণ সার্বজনীন হয়নি এখনো। যদি শুরু থেকে শুরু করি, তাহলে এভাবে বলতে হয়, সমাজ গঠিত হলে সেখানে কিছু সামাজিক আরোপ হয়। আদালত যেখানে পৌঁছতো না, সেখানে পঞ্চায়েত বসে যেত। যদিও সরকার-আইন ও মানুষের সম্পর্ক মানব-মানবীর সম্পর্কের চেয়েও জটিল ও কুটিল হতে পারে। কিভাবে?

মানুষের একাংশ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, একাংশ শৃঙ্খলা মুখী। আইন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। আবার আইন মানুষের অধিকারের উপর খড়গের আশংকাও। সরকার কাঠামো গঠনে জনগণের ভূমিকা আছে। জনগণ তাদের প্রয়োজনেই সরকার ব্যবস্থা সমর্থন করে। উল্টো পিঠে, সরকার ও জনগণ – দু’পক্ষই একে অন্যকে নিয়ে আশংকিত থাকে। একে অন্যের আচরণে আগ্রাসী প্রবণতাকে সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে। তবু, জনগণ সরকার কাঠামোমুখী, আইনি ব্যবস্থাপনামুখী। কারণ রাষ্ট্র সামাজিক বিশৃংখলা নিয়ন্ত্রন করবে, এটা সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

প্রকৃতপক্ষে, ইন্টারনেটে বাক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি সাইবার আইনের আওতাধীন হলেও সাইবার আইনকে কেবল এবং কেবল মাত্র বাক স্বাধীনতা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করলে সেটা আমাদের পুরো ভার্চুয়্যাল জগতের বহুবিধ (’সু’ এবং ’কু’) এ্যাকটিভিকে তুলে ধরতে ও বুঝে উঠতে না পারার ব্যর্থতা হতে পারে। সাইবার আইনের আওতায় কী কী থাকতে পারে, তা না জানার ঘাটতিতে সাইবার আইন নিয়ে আমাদের মধ্যে যে দ্বিধাবোধ জেগেছে, তাতে আমাদের সাইবার আইন কেন্দ্রিক প্রত্যাশা ও আশংকা পুরোটাই বাক স্বাধীনতা কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।

অবশ্য প্রত্যাশা ও আশংকা দু’টোরই সহাবস্থান এ পর্যায়ে থাকা ভাল। কেবল এর পরিসর একমুখী না করে বহুমুখীকরণ হওয়া চাই। নয়তো আমরা পুরো ইস্যুটিকে আমাদের মাঝেই ’মিস লিড’ করার সুযোগ করে দিতে পারি। ইন্টারনেট ইউজার মাত্রই যে ব্লগার হবেন এমন কিছু নয়।তাই ইন্টারনেট ব্যবহার মানেই যে ব্লগিং হতে হবে এমনও কারণ নেই। ফলে সাইবার আইন কেবল ও কেবল মাত্র ব্লগ ও ব্লগারদের জন্য নয়।

একথা অনস্বীকার্য যে, সাইবার আইন নিয়ে আমাদের অজ্ঞতার, ইতস্ততার সবচেয়ে বড় ফায়দা নেবেন তারাই যারা ইন্টারনেটে সুস্থ ধারায় মত প্রকাশে বিশ্বাস রাখেন না, যারা ইন্টারনেটে অশ্লীলতাকে ছড়িয়ে দিতে সংঘবদ্ধ। প্রথাগত আইনি ধারনা এড়িয়ে, উন্নত বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাইবার আইন মুক্তমত চর্চাকারী নেটিজেন, ব্লগারদের জন্য বান্ধব হয়ে উঠবে আর কাল হয়ে উঠবে স্রেফ সাইবার ক্রিমিনালদের জন্য।


***
সাইবার আইন সংক্রান্ত আরো কিছু লেখা/মতামত-

১। দেশে দেশে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা, ব্লগার নাজনীন১

২। গণজাগরণে সোশ্যাল মিডিয়া ও সাইবার আইন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

৩। তরুণ প্রজন্মের হ্যাকিং প্রীতি ও সাইবার আইন, http://www.dw-world.de

৪। প্রাইভেসি রক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি আইন চায় হাইকোর্ট, বিডিনিউজ২৪.কম

৫। পর্নোগ্রাফি রোধে আইসিটি আইন , দৈনিক সংবাদ (লেখক: মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রোগ্রামার, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ঢাকা। )

৬। সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে, বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, দৈনিক কালের কণ্ঠ

৭। সাইবার ক্রাইম : নতুন আইনের প্রয়োজন নেই, ড. শাহ্দীন মালিক, দৈনিক কালের কণ্ঠ

৮। সাইবার ক্রাইম বেড়েই চলেছে, দৈনিক আমার দেশ, ০৩ মে ২০১১

৯। সাইবার ক্রাইম রোধে আইন আছে, ইমদাদুল হক, দৈনিক কালের কণ্ঠ

১০। ওয়েবসাইট হ্যাকিং, সাইবার আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই, ড. জুলফিকার আহম্মদ, http://taiyabs.wordpress.com

১১। ব্লগার নয়, অপরাধীদের জন্যই সাইবার আইন, বাংলানিউজ২৪.কম
১২। সাইবার অপরাধবলয়, একরামুল হক শামীম , দৈনিক সমকাল ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29511451 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29511451 2011-12-28 12:46:04
পরকীয়া পত্র: দি ”আনটাইটেলড ডকুমেন্ট” পাবলিক রিয়্যাকশন :

ছি! ছি! ছি! রুমানা মঞ্জুর এত খারাপ!

পরকীয়ার মত বিশ্বাসঘাতকতা করার অপরাধে রুমানার চোখ খুবলে নিয়ে সাঈদ বাপের বেটার মত কাজ করেছে!

***********************************************
কাজের কথায় আসা যাক: [/sb

মাত্র একটা ইমেইল প্রকাশ পেল কেন?

ওই বিদেশি-ইরানি ছোকড়াটাকে লেখা শেষ মেইলটাই প্রকাশ হলো কেন?

৮ই মার্চের আগের ইমেইলগুলো কই?

জনস্বার্থে সর্বপ্রথম ইমেইল কপি প্রকাশ হলো কার মাধ্যমে???

যে প্রকাশ করছে, তার নাম-ধাম কী? তার তথ্যসূত্র কী?

ইমেইলের যে ইমেইজ ফরম্যাট পাওয়া যাচ্ছে, সেটা 'আনটাইেটল্ড ডকুমেন্ট' কেন?

ইমেইজ ফাইল দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটা মূল ইমেইলের স্ক্রিনশট নয়। ওয়ার্ড জাতীয় ফাইলে ইমেইল প্রিন্ট আউট নেয়া হয়েছে। তারপর স্ক্যান করে ইন্টারনেটে ছাড়া হয়েছে।

আপনার ইয়াহু ইমেইল খুলে একটা প্রিন্ট আউট ভিউ করুন এবং দু'টো ই-মেইলের ইনফো অর্ডার দেখুন।


(নিজের ইমেইলের প্রিন্ট আউট ভিউ দেখে নিন )



(রুমানার ইমেইল হিসেবে প্রচারিত ইমেইল )


- ইমেইল ”সাবজেক্ট” নীচে নামলো কেন?

- Tuesday কেবল Tue হলো কেন? ( ইয়াহু মেইল সেটিংসে ডেট ফরম্যাটিং করা যায় কি?)

- টাইম ফরম্যাট মিলছে না; রুমানার মেইল হিসেবে যে ইমেইজ আছে তাতে সেকেন্ড সহ আছে। ( ইয়াহু মেইল সেটিংসে টাইম ফরম্যাটিং করা যায় কি?)

- সিসি তো কাউকে দেয়া হয়নি। তবুও ’সিসি’ টাইটেল আসলো কেন?

রোমানা মঞ্জুরের ইমেইল আইডি কী? এখানে রোমানার ইমেইল আইডি অংশে নামের মাঝে ”গ্যাপ” কেন?


আপনি যদি ইয়াহু’র আজকালকার যে আউটলুক তাতে কোন একটা ইমেইল ওপেন করে, সেটাই সরাসরি কপি করে ওয়ার্ড ফাইলে পেস্ট করুন। পেস্ট করার পর যে ফরম্যাট টা পাবেন - সেটা হলো এরকম -



যদি ইমেইল এর প্রিন্ট ভিউ (একেবারে প্রথম স্ক্রিনশট যেটা দেয়া হয়েছে, ইয়াহু প্রিন্ট ভিউ এর) থেকে ইমেইল কপি করে ওয়ার্ডে পেস্ট করেন - তাহলে ফরম্যাটটা এরকম আসবে -



কপি-পেস্ট করায় HTML টেবিল ফরম্যাটও চলে আসে। রুমানার ইমেলের স্ক্যানড কপিতে এরকম কিছু মিলছে না কেন???

স্ক্যানড কপির কোয়ালিটি এত খারাপ কেন??? এটা দেখে মনে হচ্ছে যেন ১৯৫৩ সালের পুরনো, অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া নথিপত্র!

মোবাইলে তোলা হলেও ইমেইজ কোয়ালিটি অ-নে-ক ভাল হওয়া কথা।

যে ইমেইজটা প্রচারিত হচ্ছে, সেটা নেয়ার জন্য ইমেইল এক্সেস করা হয়েছে কবে???? ইদানীংকালে????

যদি আগেই করা হয়ে থাকে তো, আগে প্রকাশ করা হয়নি কেন???


রোমানা মঞ্জুরের ইমেইল ইনবক্সের স্ক্রিনশট চাই!

প্রকাশিত ইমেইলের স্ক্যানড কপি নয়, সরাসরি স্ক্রিনশট চাই।


৮ই মার্চ তারিখের আগের এবং পরের ইমেইল কপি চাই! স্ক্রিনশট।

ইরানি ছেলে নিশ্চয়ই কোন রিপ্লাই দিয়েছিল, যেহেতু ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল রোমানার সাথে। ইরানি ছেলের ই-মেইলের ”রিপ্লাই” কপি চাই!!!

>>>>>>>>> এখানে যেহেতু রুমানার ইয়াহু আইডি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ইমেইল সেটিংস মেলানো হচ্ছে, ইয়াহুর ইমেইলর সাথে। আপনার xyz.com, abc.com এর ইমেল এ্যাকাউেন্টর সাথে ইয়াহু'র ফরম্যাট মেলালে কিন্তু হবে না।


যিনি ওয়ার্ড ফাইলে ইমেইল বসিয়েছেন, তিনি যে নিজে নিজে কোন কিছু "এডিট" করেননি, তার নিশ্চয়তা দিতে কে কে আগ্রহী???

>>> ফেসবুকের ছবি নিয়ে কথা বলার আগে প্রত্যেকে নিজের এবং অন্যের ফেসবুক এ্যালবামগুলো দেখুন। সেখান ছেলে অথবা মেয়ে সহপাঠি/ক্লাসমেট-বন্ধু ইত্যাদির সাথে আপনার কত রকমের ছবি আছে, দেখে নিন।

>>> সমাজে যে সব পুরুষ প্রায় হরেদরে স্টাইল/ফ্রি-স্টাইলে পরকীয়ায় আসক্ত, তাদের চোখ খুবলে নেয়া হোক!

>>> যারা চরিত্র নিয়ে কথা বলতে বিশেষ আগ্রহী, তাদের সুবিধার জন্যই বলছি, ইমেইল বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিন। তারপর কত নারীতে, কত পুরুষে পরকীয়া হয়, কত স্ত্রী'র পরকীয়ায় স্বামীর জানোয়ার হয়ে ওঠা ফরজ হয়ে যায়, আর কত স্বামীর পরকীয়ায় আপনার মুখে কুলুপ এঁটে যায় সেটার পরিসংখ্যান দেখে নেয়া যাবে ক্ষণ!


>>> সাঈদের মৃত্যু নিয়ে যারা ব্যথিত, নাক-মুখের মাংস খুবলে নেয়া চেহারা দেখে তাদের মানবতা কোথায় লুকিয়েছিল?

>>> সাঈদের মানসিক রোগী সাজার শুরু প্রচেষ্টা মনে আছে নিশ্চয়ই সবার। তার কৃতকর্ম অবশ্য সে বিকৃতিকে প্রমাণও করে।

>>> সাঈদের মৃত্যুর তদন্তের দাবি তুলতে গিয়ে রুমানাকে চরিত্রহীন প্রমাণ করা জরুরী হলো কেন? পুলিশ কাস্টডিতে আসামির মৃত্যু পুলিশের জন্য শুভ নয়।

>>> বারবার রুমানার চোখের কিছু হয়নি বলে, সাঈদের বাবা যে সহানুভূমি আদায় করছেন, সেটা উল্লেখযোগ্য। রুমানার চোখ ঠিক থাকলে, দুনিয়াতে রুমানার চেয়েও বেশি লাভ হবে সাঈদ ও তার পরিবারের।

>>> যারা গালি দিচ্ছেন, তারা পোস্টের প্রশ্নের উত্তর দেন,আপনি আপনার পক্ষে প্রমাণ করতে পারলে আপনারই সুবিধা।


>>> লক্ষ্য করুন, এই ই-মেইল ভুয়া প্রমানিত হলে, এটা খুব সুস্পস্ট ভাবে “সাইবার ক্রাইম” -এর আওতায় পড়বে

*************************************************
>>>> যে কাগজ থেকে স্ক্যান করা হলো, সেই কাগজটা কই???

>>>> ”আনটাইটেলড ডকুমেন্ট” যদি সেভ করা হয়ে থাকে, সেই ওয়ার্ড ফাইলের সফট কপি কই????

>>>> যারা রিজিওন বেসিসে ই-মেইল সেটিংস খুঁজছেন, তারা রোমানা মঞ্জুরের ইমেইল হিসেবে ব্যবহৃত/প্রচারিত ই-মেইল যে ”প্রবাস” থেকে এক্সেস/ ”হ্যাক” হয়েছে, এমন ”নিশ্চয়তা” দিচ্ছেন???? রোমানা মঞ্জুরের এ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড কে কে জানতেন???

*************************************************
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29500378 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29500378 2011-12-10 23:57:25
আমরা কী রকমভাবে মরে যাচ্ছি! লাশশুমারি জানতে চান? গড়ে প্রতিদিন ৫০, আর বছরে ৪,০০০-১২,০০০ প্রাণহানি ঘটে। গত ১৫ বছরে ২ লাখেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। নিখিলেশ, তুই একে কী বলবি? নিছক দুর্ঘটনা? না হত্যা? আমরা জানি ‘কারণ’ আছে। ভাঙা রাস্তা। জলাবদ্ধ রাস্তা। সরু রাস্তায় যেখানে ওয়ানওয়ে হওয়া নিরাপদ, সেখানে টু-ওয়েতে যানবাহন চলাচল। রোড ডিভাইডার না থাকা। সব রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকা। থাকলেও তা না মানা। ফিটনেসবিহীন গাড়ি। দূরপাল্লার গাড়িগুলোর তুফানি গতি। ছুটন্ত গাড়ির গতি প্রতিযোগিতা। টার্নিং পয়েন্টে গতিরোধক না থাকা। গতি নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা না থাকা। হেলপার কর্তৃক বাস চালনা। অদক্ষ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান। এত অনিয়ম! কে নেবে এর দায়? কেবল শোকবাণী কি স্বজন হারানোর আহাজারি মেটায়? প্রশ্নেরা ভিড় করেছে অতঃপর। অশ্রু শুকিয়ে জমেছে ক্ষোভ। আমাদের দাবি, সড়ক-মৃত্যু বন্ধ হোক। সব অনুভূতি খুইয়ে আমাদের আর ‘সহানুভূতি’ জাগে না তাদের প্রতি, যারা জনসেবার প্রতিশ্রুতি ভুলে যান অবলীলায়। কেননা, সময় নেই আর সেসব মিথ্যে আশ্বাসে ভোলার। সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে তাই সড়কেই জমায়েত হয়েছি আমরা। এ যূথবদ্ধতা বাঁচার জন্য। নিজেকে। প্রিয়জনকে।

সড়ক কার্পেটিং করার যে চিত্র টিভির খবরে দেখা গেছে, তাতে পথচারী, গাড়িচালকরাও অসন্তুষ্ট। একে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করার প্রচেষ্টায় আইওয়াশ মানছেন কেউ কেউ। পথচারীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, বলাই হয়_ ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আসলে ২৩ হাজারও খরচ হয় কি-না সন্দেহ! বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে গণহারে লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েও। টিভি সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চালকেরা নির্দেশনা বইতে থাকা চিহ্নের ইচ্ছেমতো অর্থ দাঁড় করাচ্ছেন। বিপরীতে জনসেবকরা লাশের ভার নিজ কাঁধে নিতে চান না। তাই এক মন্ত্রণালয় আরেক মন্ত্রণালয়কে দুষছে। দায় চাপাচ্ছে। জড়াচ্ছে বিতণ্ডায়। কিন্তু রাষ্ট্র তো একক কোনো মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। সড়ক ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আছে প্রত্যক্ষ পরিচালনায়। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় তো এ ব্যবস্থাপনার বাইরে নয়। বাদ যাবেন না নগরপিতার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিও। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও বাদ রাখা যাবে না। আমরা জানতে চাই, শিক্ষার হার কত হলো? কেন গরু-ছাগল চেনাকে যোগ্যতা বিবেচনা করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাই আমরা? ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম এসএসসি করতে পারি না কেন এখনও?

যেহেতু যথাযথ নীতিনির্ধারকরা সমাধান দিতে পারছেন না তাই মতবিনিময় জরুরি। ইতিমধ্যে নাগরিক সমাজ থেকে বিকল্প প্রস্তাব উঠেছে, রেলপথ ও নৌপথকে কার্যকর করতে হবে। চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রতি জোর দিয়েছেন অনেকে। রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কাজে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব বরাবর পরিলক্ষিত হয়। দেখা যায়, রাস্তার উন্নয়ন হয় না। আর উন্নয়নের নামে একবার খোঁড়া শুরু হলে তা শেষ হয় না। ফলে বাড়ে কেবল জনদুর্ভোগ। ডিজিটাল বাংলাদেশে অব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত অভিযোগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগ পদ্ধতির প্রচলন জরুরি।



উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া সড়ক ব্যবস্থাপনাতেও চাই। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ পরিস্থিতিতে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। যেসব রাস্তায় দুর্ঘটনার প্রকোপ বেশি, সেসব পয়েন্ট চিহ্নিত করে সিসি ক্যামেরা বসানো হোক। অনেকটা ট্রাফিক সিগন্যাল পোলের মতো ‘স্পিড ক্যামেরা’ পোল দেখা যায় বিদেশে। বিদেশে ট্রাফিক পুলিশের কাছে থাকে যানবাহনের গতিমাপক যন্ত্র। এতে শনাক্ত করা যায় বেঁধে দেওয়া গতির বাইরে কোনো গাড়ি পার হয়ে গেল কি-না। আমরা কেন সড়ক খাতকে এমন আধুনিকীকরণ করছি না? আর কতগুলো মানুষ মরলে কিছুটা দায়িত্বশীল আচরণ দেখাবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা?

দ্য পেশেন্ট হ্যাড ডায়েড বিফোর দ্য ডক্টর কেম! জনগণ সব হারানোর মাতমকালে দায়িত্বশীলদের নড়াচড়া দেখতে চায় না। প্রিকশন ইজ বেটার দ্যান কিওর। প্রিয় মুখ হারিয়ে প্রেস ক্লাবে কালো ব্যানার হাতে কতবার দাঁড়াব? শহীদ মিনারের পাদদেশে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে আর কতবার দেব স্লোগান? কতগুলো মানববন্ধনে নিশ্চিত হবে নিরাপদ জীবন? নিখিলেশ, আমরা এ রকমভাবে মরে যাচ্ছি! তাই এই শেষবার একটা আন্দোলন হয়ে যাক বাঁচার জন্য। আমাদের প্রত্যাশা তো বেশি কিছু নয় রে নিখিলেশ! আমরা সন্তাপ বন্ধক দিয়ে একটা দাবিই তুলেছি-সড়ক নিরাপত্তা, যেন অক্লেশে জীবনকে জীবন বলে ভাবতে পারি।

***
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল: ২৮ আগস্ট ২০১১, দৈনিক সমকাল ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29440715 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29440715 2011-08-29 23:57:18
মেঘজাল প্রযুক্তিঃ জানা কথা অজানা কথা হোয়াট দ্য হেল ইজ ক্লাউড কম্পিউটিং’ তখন তা প্রযুক্তির গড় ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে পেশাদার প্রযুক্তিবিদদের যেমন কৌতুহলী করে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার সেরা ’ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিব্রতও করে। ইউটিউবে ল্যারি’র বক্তব্যের প্রতিটি ভিডিও’র হিট লাখ ছাড়িয়ে যায় বা ছুঁই ছুঁই করে। এমনটা হবে নাই বা কেন? ল্যারি ইলিসন তথ্যপ্রযুক্তি অভাজন কেউ তো নন। বরং ডাটাবেজ সল্যুউশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ’ওরাকল’ এর সিইও। ল্যারির মত কৌতুক করে না হলেও একই প্রশ্ন কিন্তু আমরাও করতে পারি। কী এই মেঘজাল বা ক্লাউড কম্পিউটিং?





ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে আমরা সফটওয়্যার, ফাইল, কম্পিউটারের অন্যান্য তথ্য ব্যবহার ও শেয়ার করতে পারি। একটু সহজ দৃষ্টিকোণ থেকে মেঘজাল বা ক্লাউড হলো আন্তর্জাল বা ইন্টারনেটের ব্যবসা সফল নয়া নামকরণ। তথ্যপ্রযুক্তির অনেক রথীমহারথীরাও বলছেন যে, ক্লাউড কম্পিউটিং অনেকটা নতুন বোতলে পুরনো সুরা গেলানোর প্রচেষ্টা মাত্র। বিপনন কৌশলের কারণেই এই প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে। যারা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর বিবর্তন সম্পর্কে ধারনা রাখেন, তারা বলছেন ডিস্ট্রিবিউটেড, গ্রিড, ইউটিলিটি কম্পিউটিং, ওয়েব ২·০, ক্লায়েন্ট/সার্ভার এরই সমন্বয় হলো ক্লাউড কম্পিউটিং।



ক্লাউড এর ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সার্ভিসগুলোর রিমোট এক্সেস সুবিধা প্রদান করে একটি ইন্টারফেসের মাধ্যমে। সেই অর্থে আমরা বহু আগে থেকেই ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধাভোগী। হটমেইল, ইয়াহু, জিমেইলের মত ওয়েবভিত্তিক ইমেইল ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ এ্যাকাউন্ট এক্সেস করতে রিমোট লগইন করতে হয়। ই-মেইলের তথ্য কিন্তু ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে জমা(স্টোর) থাকেনা, থাকে ই-মেইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে । এটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়েরই একটি বৈশিষ্ট্য। ক্লাউড কম্পিউটিং রিমোট এক্সেসকে জনপ্রিয় করতে বেশ ভূমিকা রাখছে। লেনোভো প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী, যাদের গ্রাহকের সাথে সম্মুখ সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তা নেই, তারা এখন বাসা (অথবা অফ-সাইট) থেকেই অফিসের কাজ সারতে পারছে রিমোট এক্সেস এর ফলে।

নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা পাওয়া না গেলেও এটা বোধগম্য যে, ক্লাউড টেকনোলজি এবং ক্লাউড সার্ভিস মিলিয়েই ক্লাউড কম্পিউটিং। ক্লাউড টেকনোলজি পিসি, সার্ভার, স্টোরেজ সিসটেম এর সমন্বয়ে একটি বড় আকারের নেটওয়ার্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি ক্লাউডের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ক্লাউড সুবিধা প্রদানকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর শত শত থেকে শুরম্ন করে মিলিয়ন মিলিয়ন সার্ভার থেকে থাকে। ক্লাউড একজন গ্রাহকের গতিশীল অবস্থাতেও সেবা প্রদানে সক্ষম যদি ইন্টারনেট সুবিধাপ্রাপ্ত নেটবুক, স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ক্লাউড এক্সেস করা হয়। অর্থ্যাৎ তারহীন নেটওয়ার্কে ক্লাউড এক্সেস করা সম্ভব।


[ছবি: মেঘজাল স্তর]

ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানিগুলো গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ি ক্লাউড সেবা দিয়ে থাকে। ক্লাউড তাৎক্ষণিক (ইন্সট্যান্ট) ব্যাকআপ, রোল-ব্যাক সুবিধা প্রদান করে ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণে কোন এরর এড়াতে, যা ক্লাউড ব্যবহারের নির্ভরযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলে। ক্লাউড সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে নিজ ব্যবসা কেন্দ্রে প্রযুক্তিগত ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুলতে শ্রম, সময় এবং সর্বোপরি অর্থ ব্যয় করতে হয় না বলে নিজ ব্যবসায় তথ্যপ্রযুক্তিখাতে আর্থিক বিনিয়োগে বিশাল সাশ্রয় ঘটে। এমনকি ব্যবসায়িক স্থান পরিবর্তনে আইটি বিভাগ বা সার্ভার বা ডাটা সেন্টার স্থানান্তরের আর্থিক ঝক্কিও পোহাতে হয় না।



ক্লাউড সার্ভিসগুলো লিনাক্স, ম্যাক ও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে সক্ষম। সাধারণত যে সকল ক্লাউড সেবাগুলো প্রদান করা হয় তা হলো – সফটওয়্যার এ্যাজ এ সার্ভিস (SaaS), পস্নাটফর্ম এ্যাজ এ সার্ভিস(PaaS), ইনফ্রাস্ট্রাকচার এ্যাজ এ সার্ভিস(IaaS)। মেঘজালকেও অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন মেঘে ভাগ করা হয়েছে- পাবলিক ক্লাউড, কম্যুনিটি ক্লাউড, হাইব্রিড ক্লাউড ও প্রাইভেট ক্লাউড। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা চাহিদার মিল ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারের পরিকল্পনা কম্যুনিটি ক্লাউডের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব। প্রাইভেট ক্লাউড অবশ্য গ্রাহকের চাহিদার নিজস্বতা যেমন- সিকিউরিটি, সার্ভিস কোয়ালিটি, মাথায় রেখে করা হয়। হাইব্রিড ক্লাউড সাধারণত পাবলিক আর প্রাইভেট ক্লাউডের সমন্বয়ে তৈরী হয়, যেখানে পাবলিক ক্লাউড সার্ভিসগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যবহারকারী বা বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত।

জনপ্রিয় ক্লাউড সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে, (১) ওয়েব এপ্লিকেশন এক্সেস। ইয়াহু, জিমেইল, হটমেইল এই সার্ভিসের উদাহরণ। (২) ভার্চুয়াল ডাটা সেন্টার। আইবিএম এর ব্লু ক্লাউড কমপিউটিং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডাটা সেন্টার এক্সেস সুবিধা দিয়ে থাকে। (৩) রিমোট কমপিউটিং। আমাজনের ইলাস্টিক ক্লাউড কমপিউটিং (ইসিটু) সর্বপ্রথম রিমোট ক্লাউড কমপিউটিং সেবা প্রদান করে। (৪) ই-গভর্নেন্স। ক্লাউড কমপিউটিং নির্ভর ই-গভর্নেন্স পদ্ধতি রিসোর্স শেয়ারিংকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ’পেপার লেস’ কাজের চর্চাকেও বাড়িয়ে তোলা যায়। (৫) ই-লার্নিং। দূরশিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্লাউড পদ্ধতি শিক্ষার্থী ও বিদ্যাপিঠকে প্রযুক্তির আধুনিক রূপে সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম।

এখন পর্যন্ত ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকায় আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফট বেশ জনপ্রিয়। অপর দিকে ল্যারি যত যাই বলুক না কেন মেঘের রাজ্যে ওরাকলের পদচারণা কিন্তু বেশ জোরেশোরেই। হালেই তারা প্রকাশ করেছে ওরাকল সার্টিফায়েড প্রাইভেট ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

যেহেতু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে তার সকল গোপন তথ্য অবলীলায় তুলে দিতে হচ্ছে ক্লাউড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের হাতে, তাই ক্লাউড সেবা প্রদান ও গ্রহণকারীর মধ্যে ব্যবসায়িক ’বিশ্বাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। সাধারণত এই দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে এই টেন্যান্সি এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করে থাকে। টেন্যান্সি এগ্রিমেন্ট যে কেবল গ্রাহক বা ব্যবহারকারীকেই আধিপত্য দেয় তা নয়, বরং ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও এই চুক্তি দেখিয়ে প্রয়োজনে সেবা প্রদান স্থগিত ও বাতিল করতে পারে। সাম্প্রতিককালে উইকিলিকস ও আমাজনের ঘটনাটি থেকে উদাহরণ টানা যায়। যদিও সবাই দাবি করে থাকে আমাজন মূলত আমেরিকার চাপে ইউকিলিকস এর আমাজন সার্ভার ব্যবহার সুবিধা বাতিল করেছে, আমাজন ওয়েব সার্ভিস (এডব্লিউএস) অবশ্য নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল উইকিলিকস এর বিরুদ্ধে।

ক্লাউডকে কেউ কেউ ’ননসেন্স’ বললেও ইন্টারনেট ব্যবহার ও ইন্টারনেট নির্ভরতায় ভিন্নতা এনেছে ক্লাউড। ক্লাউডের জনপ্রিয়তা বোধকরি ইন্টারনেটকেও ছাপিয়ে উঠেছে। যদি অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেট শব্দটি অপ্রচলিত হয়ে ক্লাউড শব্দের অহরহ প্রচলন শোনা যায়, তো অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না অন্তত!

***
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল: সি-নিউজ, জুলাই ২০১১ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29438073 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29438073 2011-08-24 23:25:18
চিনি কম হ্যায়! চিনি কম হ্যায়!

সাম্প্রতিক জনগণমন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ আবারো উপস্থিত।

চিনি-বাজারের সর্বশেষ চিনচিনে পরিস্থিতি নিয়ে সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ এর বিশেষ সংবাদদাতা জানিয়েছেন, চিনির মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে চকলেট কোম্পানি। জানা যায়, চকলেটে-ক্যান্ডিতে মিষ্টি স্বাদ কম থাকায় শিশুরা ক্যাডবেরি-ক্লাব সম্মুখে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়।

অন্যদিকে ডায়াবেটিক রোগীরা চিনির মূল্য বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডায়াবেটিক রোগীদের নগরীতে খণ্ড খণ্ড বিজয় মিছিলও করতে দেখা গেছে।

দীর্ঘদিন রবি ঠাকুরের ”আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনি, তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে..“ নিয়ে গবেষণা করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারনা করছেন, সিন্ধু পাড়ে চিনির গভীর খনি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন বিদেশিনি কোম্পানীর সাথে সম্ভাব্য চিনি-চুক্তির তীব্র বিরোধীতা করেছেন জাতীয় চিনি-গুড় রক্ষা কমিটি। এর প্রেক্ষিতে কমিটি তালমিসরি কর্মসূচী ঘোষনা করেছে।

অন্যদিকে চিনি-চ্যানেল শুরু করতে যাচ্ছে গেম-শো ”চিনি নিয়ে ছিনিমিনি”। গেম-শোটির স্পন্সর হিসেবে রয়েছে চিনিটেল।

বরাবরের মতই সাবেক মন্ত্রী কাজী জাফরের উপস্থাপনায় ”কে হতে চায় চিনি চোর?” কুইজ শোটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাড়ে বার কেজি চিনি হাতিয়ে নিয়েছেন চিনিখালী জেলার গুড় আলি।


এদিকে চিনি ইস্যুতে বিশিষ্ট গুড়বিদ তার নিগূঢ় মত প্রকাশ করেছেন সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ এর সংবাদ প্রতিনিধির সাথে। গুড়বিদ বলেন, চিনির 'মিষ্টতার' উপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারন না করাটা সরকারের একটি চিনিচিত্তঘাতি সিদ্ধান্ত!

সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ আজকের মত এখানেই শেষ।

ওয়ালাইকুম আসসালাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29420245 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29420245 2011-07-26 16:22:46
অবলা নারী সবলা হলো না

গত বছরের নভেম্বরে টাঙ্গাইলের এক কলেজে নারী শিক্ষার্থীদের কারাতে অনুশীলনের ছবি দেখেছিলাম পত্রিকায়। ছবিটিকে দুর্লভ মনে করি। এমন খবরচিত্র হরেদরে তো নয়ই, দু’তিনটিও চোখে পড়ছে না ২০১১-এর মধ্যভাগে দাঁড়িয়ে। বরং অপ্রত্যাশিতভাবে নজরে আসছে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি, তরুণী হত্যা, গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর। গাইবান্ধা, কালীগঞ্জ, মাগুরা, বরগুনা, দিনাজপুর, চাঁদপুর- দেশের এ-মাথা থেকে ও-মাথার নারীরা খবরের শিরোনামে জানাচ্ছে, তারা মারা যাচ্ছে। সবাই মৃত নয়, কিন্তু প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন বেঁচে থাকাও কি কোনো জীবন! নারী অবরোধবাসিনী হয়ে মরছে। চৌকাঠ ডিঙিয়েও মরছে। সমাজ নারীর জন্য নিষ্ঠুর। আবার সমাজই সমব্যথী হয়ে নারীর প্রতি ন্যায়ে উদ্যোগী। সমাজে বহুকালের চর্চিত পুরুষতন্ত্র রুখতে নারীবাদের জন্ম। যেহেতু সমাজ নারী ও পুরুষ মিলেই, তাই পুরুষতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণে যেমন নারীকে পাওয়া গেল, তেমনি নারীবাদের জাগরণেও পাওয়া গেল পুরুষকে। নারী-পুরুষের এই পাশাপাশি ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান তাদের কতটা এগিয়েছে? কতটা পিছিয়েছে? এই অসমতা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কতটা? উত্তর যদি হতাশাব্যঞ্জক হয়, তবে এর দ্বায়ভার পুরোটাই সমাজের। ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’ – এই দীক্ষা পালনে সমাজের ব্যর্থতা পদে পদে প্রমাণিত। অধুনা নারী-পুরুষ পোশাকে, ইংরেজিতে, ঠাটবাটে এগোলেও প্রাপ্তমনস্কতায় এগোয়নি একরত্তি। নয়তো একের সঙ্গে অন্যের অধিকারের, দায়িত্বের, কর্তব্যের, কর্তৃত্বের ফারাক বহাল থাকে কি?

প্রত্যেকের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় সমতা রক্ষার দায়িত্ব সমাজের। রাষ্ট্র সেই নিরাপত্তা প্রদানে আইন প্রণয়ন করে। আইন অন্যায়কারীকে শাস্তি দেবে, ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার। অন্যায়কারী পুরুষও হতে পারে, হতে পারে নারীও। ভুক্তভোগী পুরুষও হতে পারে, নারীও। যদি সমাজ প্রকৃত অর্থে সাম্যের গান গাইত, তবে নারীর জন্য বিশেষ নারী নীতিমালা তৈরি হতো না। অথবা সমাজ যদি নারীর প্রতি প্রকৃত অর্থে শ্রদ্ধাশীল হতো তবে নারী নীতিমালা প্রণয়নে বিতর্ক হতো না। সমাজ নারীকে দেবীর মর্যাদা দিয়ে বেদিতে তুলে দিয়েছে। সঙ্গে শর্ত, মর্যাদা ততক্ষণই যতক্ষণ বেদিতে থাকা। বেদি-স্খলন হলেই নারীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত। বিষয়টি নারীর জন্য দ্বিধাকর। অকর্মণ্য দেবী হয়ে শ্রদ্ধার আরশে কাঁহাতক বসে থাকা যায়? আবার মানুষরূপে ধরণীতে বিচরণ করলে অপবাদের ঝক্কি! সমাজ নারীর জন্য যেন শাঁখের করাত। আসতে কাটে, যেতেও কাটে। নির্যাতিত রুমানা মঞ্জুরের কথাই ধরা যাক। স্বামী হাসান সাইদ বহুল চর্চিত চালে রুমানার চরিত্রে কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছে, তাতে সে সাড়াও পেয়েছে। সমাজ রাতারাতি ‘অসচ্চরিত্র’ রুমানার নাক কামড়ে দেওয়া, চোখ খুবলে নেওয়াকে হালাল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। রুমানাকে অসচ্চরিত্র বলেছে মাত্র একজন ব্যক্তি – হাসান সাইদ। বিপরীতে দশ জন রুমানাকে সচ্চরিত্র বললেও লাভ হচ্ছে না। দেশে ফিরেই অন্ধ রুমানাকে প্রেস কনফারেন্সে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হচ্ছে। কী অমানবিক আমরা! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যদি ঘুণাক্ষরেও প্রমাণিত হয় রুমানা দুশ্চরিত্রা, তবে সমাজ সাইদের কৃতকর্মকে যথার্থ মেনে নিয়ে রুমানাকে সমাজ পরিত্যক্ত করতে দেরি করবে না!

অন্যদিকে বিবেকসম্পন্ন অনেকে বলেছেন, শিক্ষিত নারী হয়েও সাইদের মতো ব্যক্তির সঙ্গে কেন সংসার করে যাচ্ছিলেন রুমানা? কেন রুমানা আরও আগে সাইদের সঙ্গে সম্পর্কছেদ করলেন না? যারা এমন বলেন, তারা কি জানেন না, দেশের অসংখ্য শিক্ষিত, স্বনির্ভর মেয়ে সামাজিক, পারিবারিক রীতি রক্ষার চাপে এভাবেই সংসার করে যাচ্ছে? নারী এমন সম্পর্ক থেকে মুক্তির ইচ্ছা মনে-মুখে পোষণ করলেও সমাজ ও পরিবার নারীকে ধৈর্যশীলা হওয়ার সবক দিয়ে বরাবর নির্যাতন সহ্য করা শিখিয়ে যায়। এরপর হাসপাতালের বিছানায় কাতরাতে থাকা স্বামী দ্বারা নির্যাতিত নারীকে ধৈর্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করে সমাজ। এরও ব্যতিক্রম আছে। সবাই মেনে নেয় না। কেউ কেউ প্রতিবাদ করে; জগদ্দল পাথরটাকে নামিয়ে দেয় ঠেলে। এদের নারীবাদী বলে সমাজে; আধুনিকা বলে। কেউ কেউ বলে স্বেচ্ছাচারী। তবে সমাজ শক্তের ভক্ত। নারী দৃঢ়চেতা হলে সমাজের উদ্ধত আঙুল মিইয়ে যায় ক্রমশ। কিন্তু ব্যতিক্রম তো দৃষ্টান্ত নয়। গড়ে নারীরা এভাবে শৃঙ্খল ভাঙতে পারে না। শৃঙ্খল ভাঙার জন্য গড়ে তোলা হয় না নারীদের।

হাসান সাইদের নির্যাতনের বর্ণনাকালে রুমানা বলছিলেন, ‘আমি তো শক্তিতে পারি না!’ রুমানা শারীরিকভাবে দুর্বল কেউ ছিলেন না। দু’জন পূর্ণবয়স্ক, সমর্থ মানুষের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে কেবল এক পক্ষই আক্রান্ত হলে আর অন্য পক্ষ আক্রমণ করে গেলে, আক্রান্ত ব্যক্তির যে আত্মরক্ষার নূন্যতম কৌশল জানা নেই তা বুঝতে হবে। পেশিই তো জয় নিশ্চিত করে না লড়াইয়ে; কৌশল আনে বিজয়। নারী অবশ্য কৌশলী হবে তখনই, যখন তার মনোবল গড়ে উঠবে। নিরাপত্তার কথা বলে পরিবার নারীকে আগলে রাখে বিধিনিষেধে; একা চলা নিষেধ, পুরুষ ছাড়া নড়া নিষেধ। রাষ্ট্রও নারীকে নিরাপত্তা দিতে আগ্রহী। তাই নারীর জন্য আইন। অথচ নারীর প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন ঠেকাতে পারেনি পরিবার; পারেনি রাষ্ট্রও। বস্তুত এক ব্যক্তি নিজে যদি মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে প্রতিরোধে সমর্থ না হয়, তবে কতক্ষণ আর কীভাবে তাকে বিপদমুক্ত রাখবে সমাজ ও রাষ্ট্র? দুঃখজনক হলো, নারীকে আত্মরক্ষায় স্বাবলম্বী হতে বলে না কেউ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মনোবল জাগানো হয় না নারীতে। মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ নারী এভাবেই শারীরিকভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন দুর্বল থেকে যায়। সহমর্মিতা দিয়ে নারীকে বাঁচানো যাবে না, আইন দিয়েও রক্ষা করা যাবে না নারীকে। পরিবার যদি মনে করে বাহির নারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তবে মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখায় না কেন? পরিসংখ্যানে নারী নির্যাতনের অসংখ্য চিত্র থাকার পরও নারীকে আত্মরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে টাঙ্গাইলের ওই কলেজের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার প্রজ্ঞা দেখায়নি কেন রাষ্ট্র?
বাংলা সিনেমায় ভিলেন যদি নায়িকার গলা চেপে ধরে, তবে নায়িকা শ্বাসরোধ না হওয়া অবধি দু’হাত দিয়ে কেবল ভিলেনের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে যায়। প্যাঁচ কষে উল্টো ভিলেনকেও যে আক্রমণ করা যায়, সে দৃশ্য সিনেমায় দেখানো হয় না। নারীকে এভাবে অবলা বানিয়ে রাখা দৃশ্যের পরিবর্তন চাই আশু। আত্মরক্ষায় নারীকে চাই সবলারূপে।

***
ছবি সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ০৮-১১-২০১০

***
লেখাটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে: দৈনিক সমকাল, ২৬ জুন ২০১১

_______________________________________
সাম্প্রতিক খবর:
১. মৃত্যুকেই বরণ করলো লাকী, জুন ২৫ ২০১১
২. ৩য় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, জুন ২৬ ২০১১
৩. স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগ, জুন ২৭ ২০১১
৪. সুনামগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যা, জুন ২৭ ২০১১
৫. আমি বাঁচতে চাই…, গৃহবধূ তানজিনা আক্তার রেখা (২২) -কে নিয়ে ম, সাহিদ এর ব্লগ পোস্ট
________________________________________]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29412118 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29412118 2011-07-13 11:28:02
কনোকো-ফিলিপস এর 'পেটে' চলেছে স্বদেশ!
একটা সময় জোতদাররা নিজেরা জমি কর্ষন না করে বর্গা দিত কৃষকদের। সে সময় শ্রম বিকিয়ে দিত গরিব বর্গা চাষীরা, আর রক্ত শুষে নিত শোষক জমিদাররা। আজ উল্টোচিত্র চোখে পড়ছে! জমিদারদের (রাষ্ট্র) দুর্দিন বড়! সরকার রাষ্ট্রকে বিকিয়ে দিচ্ছে! বর্গা চাষীরাই (কনকো-ফিলিপস) বুঝি হর্তাকর্তা!

রূপকের আড়ালে কনকো-ফিলিপসকে নিয়ে এতো মাথা ঘামানো হচ্ছে কেন?

পিএসসি চুক্তি সম্পাদিত হয়ে রাষ্ট্র ও কনকো-ফিলিপস (যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক তেল প্রতিষ্ঠান) এর মধ্যে, তাই।

কনকো-ফিলিপস আমাদের কাছে বিতর্কিত কেন?

আমরা কেন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে প্রস্তুত?

এর কারণ –

প্রথমত, পিএসসি চুক্তি দেশিয় স্বার্থ বিরোধী
দ্বিতীয়ত, চুক্তির শর্তাবলিতে প্রাপ্ত অসংগতি
তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজের মতামতকে ক্রমাগত উপেক্ষার রাজনীতি

পিএসসি চুক্তি কী করে দেশিয় স্বার্থ বিরোধী?

আন্দোলনকারী ও বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করছেন,

- এই চুক্তি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলবে
- এই চুক্তি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিনষ্ট করবে
- রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে অর্থনৈতিক দিকে দিয়ে লাভবান হবে না
- বিদেশি বণিকদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দিয়ে দেশিয় বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও দক্ষ কর্মী তৈরীতে উদ্যোগহীনতা ও অব্যবস্থাপনা জিইয়ে রাখা হবে
- দেশিয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স, পেট্রোবাংলাকে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে, হবে

চুক্তির শর্তাবলিতে প্রাপ্ত অসংগতিগুলো কী কী?

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় আসা ধারাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,

চুক্তির ১৫.১, ১৫.২ ও ১৫.৩ ধারা: এই ধারা অনুযায়ী, ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যদি এই পরিমাণ তেল/গ্যাস আবিস্কার করে যা বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক তবে তা পেট্রোবাংলাকে বিনা মূল্যে প্রস্তাব করা হবে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলা নিজ খরচে তেল-গ্যাস নিজ খরচে উত্তোলন ও ব্যবহারোপযোগী করবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কি পরিমাণ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রাপ্ত হলে তা ইজারাপ্রাপ্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য অলাভজনক হয় সে রকম কোন ধারনা চুক্তিতে রাখা আছে কি?

যেহেতু সরকার বলছে, আমরা ’সামর্থ্যহীন’ তাহলে এই পরিস্থিতিতে অর্থ্যাৎ ইজারা লাভকারীদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এই অলাভজনক তেল-গ্যাসকে উত্তোলন-পরিবহন আমাদের জন্য অলাভজনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে কি? যদি থাকে সেক্ষেত্রে কি কনোকো-ফিলিপসকেই এই গ্যাস উপঢৌকন হিসেবে দেয়া হবে?

চুক্তির ১৫.৪ ধারা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার মূল বক্তব্যটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। এখানে ইজারাদার জন্য প্রতিটি গ্যাস ক্ষেত্রে প্রাপ্ত গ্যাসের ৭.৫% উত্তোলন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের যুক্তি হচ্ছে, যত কম করে গ্যাস উত্তোলিত হবে, তত বেশিদিন গ্যাস ক্ষেত্রটি রাখা যাবে। এখানে আশংকার অংশটি হচ্ছে, যদি ২৫% বা এর বেশি গ্যাস উত্তোলিত হতো তবে চার বছরেই মজুদ শেষ হয়ে যাবে। অথবা উত্তোলিত গ্যাস দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে ৭.৫% সমর্থনযোগ্য। কিন্তু চুক্তির এই ধারাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে এর সাথে তৃতীয় বন্ধনীতে জুড়ে দেয়া আরেকটি শর্ত, যেখানে বলা আছে,

‘বি : দ্র : অফসোর ব্লকের ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার সম্মতিক্রমে শতকরা সাড়ে সাত ভাগের চেয়েও বেশী গ্যাস উত্তোলন করা যাবে’

আশংকা করা যায়, এই শিথিলতা গ্যাস রপ্তানিকে প্রশ্রয় দেবে। একই সাথে প্রশ্ন করা যেতে পারে, ঘোলাটে এই অংশে সাড়ে সাত ভাগের চেয়েও বেশি বলতে সর্ব্বোচ্চ কত বেশি গ্যাস উত্তোলন করার অনুমতি দিচ্ছে এই চুক্তি?

চুক্তির ১০.২৭ ধারা: জানা গেছে চুক্তির এই ধারায় ক্ষতিপূরণের কথা উল্লেখ ছিল। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ''অদক্ষতা, অযত্ন ও অবহেলা''র কারণে ঘটা দুর্ঘটনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এই ধারা থেকে 'অদক্ষতা' শব্দটি সুকৌশলে বাদ রাখা হয়েছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারি উদ্যোগহীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে চুক্তি বিরোধী আন্দোলনকারীরা বারবার প্রতিবাদ করে আসছিল।
অবশেষে নাইকোর স্বীকারোক্তিতে তৎকালীন মন্ত্রী মোশাররফের ঘুষ গ্রহণ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খোদ নাইকোকে বিব্রত করছে। এর প্রেক্ষিতে কনোকো-ফিলিপস কোন দুর্ঘটনা ঘটালে চুক্তি মোতাবেক ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারের তৎপরতার ইচ্ছা ও চুক্তি অনুযায়ি সুযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বিশেষজ্ঞরা।

চুক্তির ১৫.৫.৪ ধারা: এই ধারা থেকে দেখা যায় বাংলাদেশ মোট প্রাপ্ত গ্যাসের ২০% (এর বেশি নয় কোনমতেই) এর মালিকানা পাবে, ৮০% নিশ্চিতভাবেই কনকো-ফিলিপস এর জন্য। বাংলাদেশেকে ১৭৫ মাইল দূরের গ্যাসক্ষেত্র পর্যন্ত পাইপলাইন বসিয়ে গ্যাস পরিবহনের দ্বায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা এখানে চুক্তির অসাড়তা খুঁজে পেয়েছেন। হিসেব মতে, ২০% গ্যাস পরিবহনের জন্য পাইপলাইন তৈরীতে সম্ভাব্য খরচ হবে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার, যা কনকো-ফিলিপস এর প্রারম্ভিক বিনিয়োগ ১১০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে তিনগুণ বেশি।
আশংকা হচ্ছে, এই ২০% গ্যাসও দেশে আসবে না, বরং কনকো-ফিলিপসই একে বিক্রি/রপ্তানি করবে। ফলশ্রুতিতে এই চুক্তি ১০০% গ্যাসই কনকো-ফিলিপস এর হাতে তুলে দিচ্ছে।

নাগরিক সমাজের মতামতকে ক্রমাগত উপেক্ষার রাজনীতি

পিএসসি-২০০৮ বাতিল করণে ২০১০ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে। এর মধ্যে কয়লানীতি বিষয়ক মতামতও সরকারের কাছে পেশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পরেও বড় পুকুরিয়াতে সরকারি বিভিন্ন তৎপরতা ও পিএসপি-২০০৮ চুক্তি নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ কেবল দেশেই হয়নি, ২০০৯ সালে পূর্ব লন্ডনেও কনকো-ফিলিপসের সাথে তেল-গ্যাস ইজারা চুক্তি বিরোধী সমাবেশ হয়েছিল।

বিভিন্ন কর্মসূচী প্রদানের মাধ্যে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদেশিদের হাতে উন্মুক্ত ও রপ্তানি করার বিপক্ষে ক্রমাগতভাবে সচেতন নাগরিক শ্রেনী একজোট হয়ে আসলেও, বরাবরই তাদের বক্তব্য সরকারি মহলে উপেক্ষিত থেকে গেছে এমনকি তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকারও হয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারই নয় বিগত জামাত-বিএনপি সরকারও জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কয়লা ক্ষেত্র এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানীর হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।

সরকারের গদিকে যে কোন ইস্যুতে টলায়মান করতে বদ্ধপরিকর বিরোধীদল চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পরও এমন জাতীয় একটি ইস্যু নিয়ে বিশেষ কোন উচ্চবাচ্য তো করেইনি বরং সাম্প্রতিককালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,

“সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তা যদি দেশের স্বার্থবিরোধী হয় বিএনপি অবশ্যই এর প্রতিবাদ করবে।”

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের ’যদি’র উপস্থিতিতে সচেতন নাগরিক মহলের উপলব্ধি- প্রকাশ্যে বলা-কাওয়া না হলেও তেল ও গ্যাস বিক্রিতে দুই দলই বস্তুত একমত!

ব্লগার নাহুয়াল মিথ এর একটি মন্তব্য থেকে জানা যায়,

গত ২১ ডিসেম্বর ২০১০ উইকিলিকসের মার্কিন তথ্য ফাঁসে জানা যায় বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদুত জেমস মরিয়ার্টি দেশপ্রেমিক মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহীর সাথে একান্ত সাক্ষাতে এদেশের তেল-গ্যাস বিষয়ে সরকারের মনোভাব জানতে চান এবং দ্রুত চুক্তি করার পরামর্শ দেন । মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন অনুষ্টানে তারা দু’জনই উপস্থিত ছিলেন (!)

দূর্ঘটনা ও পরিবেশ বিপর্যয়: কনোকো-ফিলিপসকে নিয়ে অভিযোগ ও আশংকার প্রেক্ষাপট

যদিও বর্তমান চুক্তি মোতাবেক, কনকো ব্লক-১০ ও ১১-এর অবিতর্কিত এলাকায় অনুসন্ধান চালাবে, কিন্তু প্রথম দফা আলোচনায় কনকো ২২টি অফসোর ব্লকের আটটি চেয়েছিল।অবশ্য শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের এই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি।

তেল উত্তোলনের যৌথ প্রজেক্টে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ ও কনকো-ফিলিপস এর আলোচনা ব্যর্থ হলে ২০০৭ সালে ভেনিজুয়েলা কনকো-ফিলিপস এর সাথে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বাতিল করে অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে। এই সময় নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে কনকো-ফিলিপস পড়তির দিকে ছিল।

চলতি বছরের মার্চ মাসে কনকো-ফিলিপস লিবিয়া থেকে তাদের পুরো কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। লিবিয়ায় বিরাজমান অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষিতে গাদ্দাফির সিদ্ধান্ত নির্দেশ/সিদ্ধান্ত মোতাবেক তেল উৎপাদন স্থগিত করে।

হুগো শ্যাভেজকে চুক্তিতে রাষ্ট্রিয় পক্ষকে প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে, অপরদিকে জনরোষের মুখে পতিত গাদ্দাফিকে দেখা গেছে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাধান্য দিতে। ফলশ্রুতিতে তেল উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত।

অথচ অত্যন্ত দু:খজনক, আমাদের সরকার রাষ্ট্রিয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে একটি নতজানু চুক্তি রক্ষার্থে ব্যতিব্যস্ত!

এছাড়াও ২০১০ সালে আবুধাবি শাহ -এর মত বিশাল বাজেটের প্রজেক্ট থেকেও নাটকীয়ভাবে সরে এসেছিল কনকো-ফিলিপস, যার কারণ তারা খোলাসা করেনি।

২০০২ সালের পূর্বে কনকো ও ফিলিপস দু’টি পৃথক প্রতিষ্ঠান ছিল, এবং আলাদাভাবে এ দু’টি প্রতিষ্ঠানেরই দুর্ঘটনা ঘটানোর ইতিহাস পাওয়া গেছে।

১৯৭৭ সালে নর্থ সি'র একোফিসক ব্রাভো প্লাটফর্মে ব্লো আউট ঘটেছিল। এই প্রজেক্টটি ছিল ফিলিপস পেট্রোলিয়াম এর দ্বায়িত্বে। এই দুর্ঘটনাকে এখন পর্যন্ত নর্থ সি’র সর্ব বৃহৎ ব্লো আউট গন্য করা হয়।

অপরদিকে ১৯৯৩ সালে কনকো প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট লুইজিয়ানাতেও ব্লো আউট ঘটে।

এছাড়াও ২০০৪, ২০০৬, ২০০৮ বছরগুলোর বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আলাস্কায় বিভিন্ন পরিবেশ বিপর্যয়কারী আচরণ করে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অকুপেশনাল সেফটি এন্ড হেলথ এডমিনিষ্ট্রেশান (ওএসএইচএ ) প্রেরিত ১১৮টি নোটিশ প্রাপ্ত হয় কনকো-ফিলিপস, যার কারণ ছিল পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ভঙ্গ করা।

এসব কারণে কনকো-ফিলিপসকে ’দুর্ঘটনার রাজা’ বলে আখ্যায়িত করছে দেশিয় বিশেষজ্ঞরা।

আমাদের ঘাটতি

আন্দোলনকারীরা যে পেট্রোবাংলাকে গ্যাস উত্তোলনের সাথে যুক্ত রাখতে সরকারের প্রতি বারংবার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, চুক্তির আসরে বসে সেই পেট্রোবাংলা বিরস বদনে বলছে?

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন,

আমাদের সেই মানের উন্নত প্রযুক্তি বা অর্থ সংগতি নেই যে নিজেরাই অনুসন্ধান চালাবো। কাজেই একটি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাটাই সব দিক থেকে সুবিধাজনক।

তাহলে আমাদের দিক থেকে কমতি হচ্ছে,

১. উন্নত প্রযুক্তি ২. অর্থ সংগতি

যে গুরুত্বপূর্ণ কমতিটি উহ্য রাখা হচ্ছে, তা হলো,

১. সদিচ্ছা ২. স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা

উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি এবং বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনার জন্য আরো একটা আবশ্যিক চাহিদা রয়েছে,

দক্ষ জনবল

পরিকল্পনায় যেমন দক্ষ লোকবল দরকার, তেমনি পরিকল্পনাকারীরা দক্ষ লোকবল তথা শ্রমশক্তি গড়ে তোলার কাজই করবেন।

তাহলে প্রশ্ন,

১. চাহিদানুযায়ী শ্রমশক্তি গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? হচ্ছে না কেন? হবে কি?

২. উন্নত প্রযুক্তি, লোকবল ইত্যাদিতে আর্থিক বিনিয়োগ অব্শ্যই জরুরী। সেটা কী রকম? সরকার কতটা অসমর্থ? কতটা ঘাটতি পড়ে এইখানে?

৩. যদি সেতু, সড়ক, কনভেনশন সেন্টার ঋণ নিয়ে করা যায়, যৌথ উদ্যোগে করা যায় সেক্ষেত্রে তেল-গ্যান অনুসন্ধান, উত্তোলন, উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য আর্থিক সহায়তা নিয়েও তো কাজ করা যায়। সেটা করা হচ্ছে না কেন?

৪. বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বড় জোর কনসালটেন্ট.সুপারভাইজার রাখা যায়, এই উদ্দেশ্যে যে মূল কাজ আমরাই করবো, বিদেশিরা আমাদের প্রয়োজনিয় প্রশিক্ষণ দেবে দক্ষতা অর্জনে। এরকম পদক্ষেপ কেন নেয়া হচ্ছে না?

একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই গ্যাস পরিবহন করা আর্থিকভাবে আমাদের জন্য লাভজনক নয়, ফলে রপ্তানি করার সুযোগ করে দেয়া হবে।

এই অংশটুকু নিয়ে বিস্তারিত জানার অবকাশ থাকে।

১. নিজ দেশে নিয়ে আসলে লাভজনক হচ্ছে না, কিন্তু বিদেশে রপ্তানি তাহলে লাভ হয় কি করে?

২. যে গ্যাস ব্লক থেকে নিজ দেশে গ্যাস নিয়ে আসলে লাভ করা সম্ভব নয়, সেই গ্যাস ব্লক চুক্তি করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার কী দরকার?

৩. আগামীতে আমরা যদি আরো তেল-গ্যাস খনিজ সন্ধান লাভ করি দেশের অভ্যন্তরে, সেগুলোও কি চুক্তি করেই ছেড়ে দেব, নাকি নিজেরা তদারকি করার মত প্রযুক্তিগত ও দক্ষ লোকবল গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেয়া শুরু করব এখন থেকেই?

আমাদের করণীয়

তেল-গ্যাস-কয়লা খনিজ সম্পদে আমরা সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছি এই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল বহু বছর আগে। একজন বিচক্ষণ সরকারের তখন থেকেই খনিজ অনুসন্ধান-উত্তোলন-পরিবহন-বিপণন/বিতরণের জন্য অভ্যন্তরীণ কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ ছিল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যর্থতার জন্য কোন আফসোস করতে দেখা যায়নি সরকারকে, বরং এই ব্যর্থতাকেই ব্যবহার করে চুক্তি হয়েছে। চুক্তির সপক্ষে বলতে গিয়ে বারবার বলা হয়েছে, আমাদের দক্ষতা নেই! আমাদের বিনিয়োগ সামর্থ নেই! অথচ আমাদের যেটুকু ঘাটতি তা আসলে রাজনৈতিক দোষে দুষ্ট। আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবেই পঙ্গু করে রাখা হয়েছে।

স্পষ্টভাবে মনে না পড়লেও, খেয়াল হচ্ছে টিভি খবরে কোন এক বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরণের কর্মী গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা কারিকুলাম নেই।

তার মানে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও ভঙ্গুর হয়ে আছে আজো! সহকর্মীর সাথে হালকা আলাপ হচ্ছিল, কি ধরণের কারিকুলাম, ডিগ্রী প্রয়োজন এর জন্য? আন্দাজ করা গেল কারিগরি দিকের জন্য কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং মুখ্য এই সেক্টরে । বুয়েট, রুয়েট, চুয়েটের মত বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরণের অনুষদ রয়েছে। চুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ডিপার্টমেন্ট দেখা গেছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে আমরা আদতে ততটা ফাঁপা নই। তেল-গ্যাস-কয়লা খনিজ সম্পদ যে দেশে একটি বিশাল কর্মক্ষেত্র সৃস্টি করেছে তা প্রচার গত দিক দিয়ে বরাবর নীরব ছিল। এই কর্মক্ষেত্র পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বানের অভাব ছিল। যার ফলশ্রুতিতে এখন ’নাই নাই’ রব।

দুর্বল করে রাখা শিক্ষা ক্ষেত্রের এই অংশটির প্রতি বিশেষজ্ঞদের নজর দিতে হবে এবং একে সরব করার আন্দোলনও একই সাথে শুরু করতে হবে। তা না হলে আগামীর জন্য কোন প্রস্তুতিই থাকবে না আমাদের!


গুঞ্জরিত আন্দোলন; ফুঁসে ওঠা আন্দোলন

আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত হয় ১৯৯৮ সালে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় তেল গ্যাস সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

এখন পর্যন্ত এ কমিটি বহুমুখী জাতীয় স্বার্থে বহুমুখী কর্মসূচী পালন করেছে। লং মার্চ, পুস্তিকা প্রকাশ, মত বিনিময়, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা, হরতাল পালন উল্লেখযোগ্য।

তারপরও সাধারণ পর্যায়ের মানুষের সাথে এমন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে বুঝে ওঠার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা কাজ করছে। এই প্রেক্ষিতে কমিটি থেকে অথবা সচেতন নাগরিক মহলের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কার্যক্রম চালালে বিষয়টি নাগরিকদের কাছে আরো সহজে পৌঁছে যেতে পারতো।

অধুনা ইন্টারনেট বিপ্লবের একটি অন্যতম হাতিয়ার। ইন্টারনেটে তেল-গ্যাস নিয়ে নাগরিক যুথবদ্ধ সচেতনতা ইতিপূর্বে কম দেখা গেলেও হালেও প্রচার-প্রচারণায় ফেসবুক ও ব্লগ এখন সরব!

ফেসবুকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির একটি পাতা রয়েছে। প্রচার তৎপরতার অভাবে ২০শে জুন পর্যন্তও এতে মাত্র ১১০টি লাইক দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পাতায় দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর থেকে লাইকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন তা ৫০০+! কিন্তু এই সংখ্যাটি খুব কি আশাব্যঞ্জক?

২৩শে জুন গ্লোবাল ভয়েসেস এর খবরে প্রকাশ, মালয়শিয়ায় পর্যটন মন্ত্রনালয় পর্যটনের প্রচারণার জন্য ফেসবুকের ছয়টি পাতা তৈরিতে ১.৮ মিলিয়ন মালয়েশীয় রিঙ্গিত ( ৫৯৪, ০০০ মার্কিন ডলার) খরচ করেছে।এর প্রতিবাদে ফেসবুকে পাতা খোলা হয় ক্ষুদ্ধ নাগরিকদের পক্ষ থেকে। জানিয়ে রাখি এই পাতাটির লাইক সংখ্যা ১২৯,৪০১+ !!!

আমরা তো আজকাল কথায় কথায় আলাপ করি তিউনিসিয়া-মিশরের ফেসবুক-টুইটার বিপ্লব নিয়ে, কিন্তু আমরা নিজেরা তেমন একটা বিপ্লব করতে পারছিনা কেন?

>>> ফেসবুকে ফেসবুকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পাতাটিতে লাইক সংখ্যা হাজার না পেরোনো কে কি আমাদের ব্যর্থতা বলবো?

কনকো-ফিলিপস এরও একটি ফেসবুক পাতা আছে। এই পাতাটি আমরা ক’জন দেখেছি?

>>> একটা প্রস্তাব থাকলো নেটিজেনদের জন্য, এই পাতায় কনকো-ফিলিপস এর পক্ষ থেকে চুক্তির ধারা তৈরীতে আবদার, প্রস্তাব ইত্যাদি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকুন। আপনি বাংলায় প্রশ্ন করতে পারেন অথবা ইংরেজিতেও। তবে বাংলা ভাষাকে আরেকবার প্রতিবাদের রূপ দিতে পারেন আপনি চাইলেই।

এই পাতায় আপনার একেকটি মন্তব্য কনকো-ফিলিপসকে বিব্রত করবে। তাতে সরকারও বিব্রত হবে। এবং এতে চুক্তিও বিব্রত হবে। এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চুক্তি নিয়ে জনগণের নাখোশ মনোভাব সহজেই আলোচিত হবে।

>>> বাংলায় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এই বিপ্লব সাধন করতে পারবেন না?

নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

আন্দোলন, কমিটির সিদ্ধান্ত, সরকারি মনোভাব ইত্যাদি নিয়ে আন্তর্জাল জুড়ে বিভিন্ন মতামত দেখা গেছে।

হারুন বলেছেন:
রাত্রি ১১.৪৮ মিনিট , রবিবার ১৯ জুন ২০১১
হরতাল দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হয়না। এদেশের একমাত্র গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানী বাপেক্সকে কোন সরকার শক্তিশালী করার উদ্দোগ নেয়নি। অথচ দুর্নিতির কারনে উন্নয়ন বাজেটের কোটি কোটি টাকা অপব্যয় হচ্ছে। রাজনীতিবিদ ও আমলারা কখোনো চায়না বাপেক্স শক্তিশালী হোক। রাজনীতিবিদদের চেয়ে আমলারা বেশি দায়ী কারন তারা সবকিছু বোঝে কিন্তু রাজনীতিবিদদের ভুল বোঝায়। মার্চে রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্র থ্রীডি সাইসমিক সার্ভে সফল ভাবে করে এদেশের প্রকৌশলীরা প্রমান করেছে যে যথাযথ প্রশিক্ষন এবং সুযোগসুবিধা পেলে তারা অনেককিছু করতে পারে। প্রয়োজন দেশপ্রেম আর দৃষ্ঠিভঙ্গীর পরিবর্তন। এদেশের অনেক মেধাবী পেশাজীবি দেশের বাইরে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে। জ্বালানী সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকট আকার ধারন করেছে। গভীর সমুদ্রে তৈল, গ্যাস অনুসন্ধানের মত প্রযুক্তি ও জনবল কোনটায় আমাদের নেই এমতাবস্থায় সমস্যার সমাধান কি তা ভাবা প্রয়োজন। শুধু গ্যাসের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে দৃষ্ঠি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি।

তানজীব বলেছেন:
রাত্রি ১০.০৬ মিনিট , রবিবার ১৯ জুন ২০১১
>>> আমি একটা প্রস্তাব রাখি। সেটা হল সর্বপ্রথমে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গনসংযোগ করা। সেখানে হরতাল না করি কমপক্ষে একটা বিক্ষোভ মিছিল তো করতে পারি। আর ব্যাপারে ছাত্ররা অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে পারে তার জন্য বলছিলাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গনসংযোগ করতে। আর একভাবে একটা শুরু করুন আশা রাখি সফলতা আসবে। আজকে পেপারে দেখলাম স্থানীয় জনগনের বিক্ষোভের মুখে তামাবিলে ভারতকে জমি দেয়া থেকে সরে এসেছে প্রশাসন।

সত্যভাষী বলেছেন:
রাত্রি ৮.৪৬ মিনিট , বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০১১
আমি এ হরতালকে সমর্থন করি। কিন্তু এর সাথে সাথে বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে ভাল হত। কারন আদালত এ ব্যাপারে ষ্টে অর্ডার দিতে পারে। পরে অবশ্যই চুক্তির বিষয়গুলো পূর্নাঙ্গভাবে বিশ্লেষন করার পথ তৈরী হত। আমার মাথায় আসেনা কেন মিঃ আনু মোহাম্মদ আদালতে যাচ্ছেন না ? এখানে কি রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা হচ্ছেনা তো ? বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোন চুক্তিকেই আমি সমর্থন করিনা বা করব না। তাই আপত দৃষ্টিতে হরতালকে সমর্থন করছি।

অন্যদিকে ফরহাদ মজহার আন্দোলন ও চুক্তি বিষয়ে জাতীয় কমিটির পদক্ষেপ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন ও পরামর্শ উত্থাপন করেছেন,

দুই একটি প্রশ্ন রেখে লেখা শেষ করা যাক। গরিব ও খেটে খাওয়া শ্রেণীর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যারা এই আন্দোলনে সক্রিয় তাদের কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখতে বলি। প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, তেল-গ্যাস রক্ষার লড়াই যদি ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষার লড়াই হয়ে থাকে তাহলে এতো দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামের পরেও এই আন্দোলন ‘জাতীয় চরিত্র” অর্জন করতে পারছে না কেন? এই আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতা এই প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে বের হয়ে আসবে বলে আমার ধারণা। দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম না হলেও এটা মনে করার কোন কারণ নাই যে বাংলাদেশের ধনী ও উচ্চবিত্ত শ্রেণী বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে তাদের শ্রেণিস্বার্থ নিহিত রয়েছে– এই সত্য বুঝতে একদমই অক্ষম। এই তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী চরিত্র আছে, কিন্তু সে চরিত্র বাংলাদেশে গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার স্বার্থে। যদি আসলেই এই আন্দোলন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন হয়ে থাকে তাহলে এই শ্রেণীর কাছ থেকে সমর্থন আদায়ের কৌশল কী হবে? তৃতীয়ত, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তার উপকার সরাসরি শ্রমিক, কৃষক ও গরিব জনগোষ্ঠি ভোগ করবে না। বরং সরাসরি ভোগ করবে শিল্প-কলকারখানার মালিক, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের মালিক, যানবাহনের মালিকসহ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপরের অংশ। বলাবাহুল্য এর পরোক্ষ ফল ভোগ করবে নিম্নবিত্ত, শ্রমিক, কৃষক ও অন্যান্য খেটে খাওয়া মানুষ। এই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং যারা মাঠে সক্রিয় তারা মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে আসা। তারা নিজেদের ‘বাম” বা ‘প্রগতিশীল” ভাবতে ভালবাসেন। তাহলে তাদের প্রশ্ন করতে হবে শ্রেণিস্বার্থ এবং জাতীয় স্বার্থের মধ্যে মিল এবং দ্বন্দ্বগুলো কী? প্রশ্নগুলো খোলা মনে তাদের বিচার করার দরকার আছে।

মতামতে দৃষ্টিভঙ্গিতে যার যার বিশ্লেষণী স্বতন্ত্রতা থাকলেও একটি বিষয়ে সবাই এক বাক্যে একমত, এই চুক্তি প্রত্যাহার করা জরুরী। তেল-গ্যাস-কয়লা বিদেশি বণিকদের হাতে তুলে দিতে রাজি নয় দেশের জনগণ। তাই আন্দোলন চলছে। আন্দোলন চলবে। সবাই তাই সমস্বরে বলছে, আন্দোলন সফল হোক।

জনগণের যূথবদ্ধতা জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটানোর আগেই নিশ্চয়ই সরকারের টনক নড়বে! তবেই তো প্রকৃত দেশপ্রেমীর পরিচয় মিলবে!

পরিশিষ্টতে শামসুর রহমানের একটি কবিতা সকলের জন্য উৎসর্গ করা হলো-

নিজের ব্যাপারে বলা যায়, ভালোবাসি ভালোবাসি বলে আমি ফাটাইনি গলা, দিইনি শ্লোগান পৌরপথে কোনদিন। … যেদিন তোমার বস্ত্রহরণের পালা শুরু হলো, তোমার চুলের মুঠি ধরে পৈশাচিক উল্লাসে উঠলো মেতে মদমত্ত বর্বরেরা, সেদিন যাদের চোখ ক্রোধে রক্তজবা হয়ে উঠেছিল লহমায়, তোমার গ্লানির কালি মুছে দিতে যারা হলো শস্ত্রপাণি, আমি তাদের করেছি সমর্থন সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে। … তোমার দুর্দিনে যারা শত্রুদের হাতে হাত রেখে খেলেছে করোটি নিয়ে ভূতূড়ে জ্যোৎস্নায়, এবং তোমাকে চড়িয়েছে সোৎসাহে নীলামে,… এই উল্টোরথ দেখে, শপথ তোমার প্রেমের, আমার আজ বড় বেশি দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে।


**** *** ***
তথ্য সূত্র:

১. তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও জাতীয় বিদ্যুৎ বন্দর-রক্ষা জাতীয় কমিটির ওয়েব সাইট
২. ‘আমরা পারব না’—এই হীনম্মন্যতাই বড় বাধা, আনু মহম্মদ, দৈনিক প্রথম আলো
৩. দুটি ব্লকের ইজারা পেল কনকো-ফিলিপস, বিডিনিউজ২৪.কম
৪.৩ জুলাই ঢাকায় আধাবেলা হরতাল, নাহুয়াল মিথ এর ব্লগ
৫. কনকো ফিলিপস- এর সাথে তেল-গ্যাস চুক্তি কেন জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি ?- এম এম আকাশ , নাহুয়াল মিথ এর ব্লগ থেকে
৬. কিছু বিদেশী অনলাইন পত্রিকা
৭. জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কর্মসূচী সফল হোক, ফরহাদ মজহার
৮. প্রফেসর মোঃ নুরুল ইসলাম : সমুদ্রাঞ্চলে ৩টি গ্যাস ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে অনুমতির ফলে বাংলাদেশের অবস্থা নাইজেরিয়ার ন্যায় হতে পারে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29404118 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29404118 2011-06-29 01:14:29
কৃষ্ণচূড়া আড্ডা: রঙে রঙে রাঙায়িত, প্রাণে প্রাণে প্রাণায়িত "কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিখ রেজিয়া (Delonix regia)। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুন লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফাবাসিয়ি পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা গুলমোহর নামেও পরিচিত।"

এভাবে উইকিপিডিয়া দিয়ে শুরু করলে আপনার নিশ্চয়ই মনে হবে, ব্লগের বদলে ভুল করে বোটানি ক্লাসে লগ-ইন করে ফেলেছেন। ব্লগার রাজামশাই কৃষ্ণচূড়াকে ছ্যাঁকা ফুল নামকরণ করেছেন । আমরা মোটেও শুরুটা এভাবে করবো না।

"আমি ঠিক করেছি যদি একদিনের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি তবে দেশে কৃষ্ণচূড়ার বিপ্লব ঘটিয়ে দিব!!"

আমরা বরং শুরুটা ব্লগার তমা‘র “~~এবং কৃষ্ণচূড়া~~ ” পোস্টের শেষটার মত করে করতে পারি।

বেরসিকের মত উইকিপিডিয়া বলছে,

"কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়।"

অথচ আমাদের চোখ প্রতিদিন পুড়ে যাচ্ছে পথেঘাটে কৃষ্ণচূড়ার বাহারি রক্তাভ বর্ণে! উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড, টিএসসি অথবা সংসদ ভবন সংলগ্ন লেকের পাড়ে সারি সারি আগুন দূর থেকেও চোখে পড়ে। বনানী-গুলশানের মত ইট-পাথরের নিষ্প্রাণ এলাকায় কোন এক ফাঁকে গ্রীবা তুলে আগুন ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৃষ্ণচূড়া গাছ। মিরপুরের ধুন্ধুমার বৃক্ষ কর্তন উৎসবের পরও চোখে পড়ছে একটা-দুটো কৃষ্ণচূড়ার গাছ। মিরপুরবাসীর মন পোড়াতে বদ্ধ পরিকর ওরা।

আপনার চোখে কৃষ্ণচূড়া কিভাবে ধরা পড়ে বলুন তো?

এমন রাধাচূড়ার পাশাপাশি?

[শিরোনাম: এটা বোধহয় সেই কৃষ্ণচূড়া যেটা তোমায় দিতে চেয়েছিলাম/ ফটোগ্রাফি by noprayer4dying (neaz ahmed)]

সাজানো অবসরের বুকে টুপ করে নেমে আসে কি কৃষ্ণচূড়ার ফুল?

[ফটোগ্রাফি By Megher_desher_meye]

ব্যস্ত যাত্রায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের ময়ূরী ভঙ্গিমা আপনার অফিসমুখী যাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দেয় নাকি?

[ফটোগ্রাফি By Brishti Bilashini]

পথের উপর এভাবে কৃষ্ণচুড়া পড়ে থাকলে টুপ করে তুলে নিয়ে পকেটে অথবা হাতের ব্যাগে পুড়ে নেন কি?

[ফটোগ্রাফি By asad_29]

আচ্ছা, এমন এক ছরা ডালে কতগুলো কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে থাকে জানেন কি?

[ফটোগ্রাফি By shanto sumon (Md. Jahangir Alam Sumon)]

আসুন, গুনে নেয়া যাক।

বিবর্ণ শহরটা হঠাৎ রঙিন ক্যানভাস হয়ে উঠেছে; দেখে নেয়া যাক।

নগরবাসীরা মৃত নয় আর। একটা চিৎকার দিয়ে জানান দেয়া যাক।

তো একটা আড্ডা হয়ে যাক? কৃষ্ণচুড়া ফুলের শোভায়, পাতার ছায়ায় আমরা জমায়েত হয়ে মাতিয়ে রাখি কিছুটা সময়।

প্রস্তাবিত দিন-ক্ষণ-স্থান:

শুক্রবার, ৬ই মে ২০১১ বিকেল ৪:০০ টা জমায়েত স্থল: সংসদ ভবন সংলগ্ন লেক-সেতু

আড্ডায় আসার প্রথম, প্রধান এবং একমাত্র শর্ত হলো আপনাকে নির্মল আড্ডাবাজ হতে হবে।

আর প্রতিটি ব্লগ আড্ডায় ব্লগারদের কাণ্ডকীর্তি ক্যামেরার ফ্রেমে যেমন প্রাণবন্ত সাবজেক্ট, তেমনি কৃষ্ণচূড়াও যে দূর্ধর্ষ ফটোগ্রাফি সাবজেক্ট, তা নিশ্চয়ই বাঘা বাঘা ফটোগ্রাফাররাও মানবেন।

তাহলে ফটোগ্রাফারদের জন্য কৃষ্ণচূড়া প্রত্যাহ্বান আর আড্ডাবাজদের জন্য আড্ডাহ্বান!

আমরা জেনে নেব আপনার এলাকায় ক’টা কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে।

কৃষ্ণচূড়া আড্ডায় মেতে উঠি সবাই!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ওখানে ঝালমুড়ি, বাদাম, ডাবের পানি, তালের রস, আইসক্রিম, কুলফি, চা-কফি যথেষ্ট পরিমাণে সুলভে আশেপাশে পাওয়া যাবে।

***
কৃষ্ণচূড়া নিয়ে …

১.ব্লগার সাদিক মোহাম্মদ আলম এর ফটো ব্লগ: ফটোব্লগ। বৃষ্টি বিকেলের কৃষ্ণচূড়া
২. ব্লগার মীর এর গল্প: গল্প: আমি তো দিয়েছিলাম তোমায় কৃষ্ণচূড়া ফুল ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29372635 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29372635 2011-04-30 20:44:04
গ্রাম ও শহরের প্রেক্ষিতে আমাদের প্রযুক্তিবান্ধবতা আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় রয়েছে জনসংখ্যার মাত্র ০.৪ শতাংশ। অন্যদিকে মিসরের বেলায় এই পরিসংখ্যান দেখা যায় ২১.২ শতাংশ। তিউনিসিয়ার বেলায় ৩৪ শতাংশ। ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৫১৭.৩ শতাংশ, মিসরে ৩৬৯১.১ শতাংশ আর তিউনিসিয়ায় ৩৫০০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় কেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে মিসর ও তিউনিসিয়ার সাধারণ জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটছিল। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ধারার সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোর তুলনা হয়তো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সে ক্ষেত্রে বলতে হয়, আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তান থেকেও পিছিয়ে আছি। মালয়েশিয়ায় ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় রয়েছে ৬৪.৬ শতাংশ জনগণ। আফগানিস্তানের নাম শুনলে আমাদের অনেকের চোখের সামনে পপি চাষের জমি এবং অস্ত্র হাতে যুদ্ধবাজদের ঘোরাফেরার দৃশ্য ফুটে উঠবে। অথচ আফগানিস্তানের ৩.৪ শতাংশ জনগণ ইন্টারনেট সুবিধাপ্রাপ্ত। চমকপ্রদ তথ্য হলো, ২০০০ সালে সেখানে মাত্র এক হাজার জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল, যা ২০১১ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ। একে একভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্ফোরণ বলা যায়, যে বিস্ফোরণটা আমাদেরও প্রয়োজন।

আমাদের ইন্টারনেট সেবার ভোক্তারা মূলত শহরকেন্দ্রিক। মোবাইল অপারেটরগুলোর মোবাইল এবং কম্পিউটারে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুলভ ও সহজলভ্য যে প্রযুক্তিটি শহর-গ্রামের মানুষের হাতে হাতে দেখা যায় তা মুঠোফোন। শহরের বাইরে জীবনযাপন পদ্ধতির কারণে কম্পিউটারের ব্যবহার সীমিত। ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যস্ততাও কম। যদিও শহরের বাইরে বাস করে ৭৬.৫ শতাংশ লোক। লক্ষণীয়, টেলিকমগুলো মোবাইল ইন্টারনেট সেবার প্রচারে টিভি বিজ্ঞাপনগুলোতে গ্রাম্য পটভূমি, গ্রাম্য জীবনযাত্রাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ইন্টারনেট প্যাকেজ সুবিধাজনক মূল্যেও পাওয়া যাচ্ছে। এরপরও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার হার একটি বিশেষ অন্তরায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে। মোবাইল ফোন মূলত কথাযন্ত্র হিসেবেই বহুল ব্যবহৃত হয় গ্রামাঞ্চলে। ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ইংরেজিভিত্তিক বলে গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষ তাতে অনাগ্রহী থাকে। তাই সরকারিভাবে ও বেসরকারিভাবে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর মোবাইলের মাধ্যমে সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার পদ্ধতির কর্মশালা আয়োজন করা প্রয়োজন। অনলাইন সংবাদপত্র, চাকরি বিজ্ঞপ্তির ওয়েবসাইট, সরকারি ওয়েবসাইট ইত্যাদি এখন বাংলায় পড়া যায়। গ্রামের 'টার্গেট অডিয়েন্স'কে (যেমন_ শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, গ্রামের বড়-মাঝারি আড়তদার, কৃষক, কর্মজীবী গ্রাম্য নারী) এই ফিচারগুলোর ব্যবহার শিখিয়ে এর সুবিধার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব।

সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব বসানো হলেও অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ল্যাবের অবস্থা বেহাল। এর কারণ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও নিয়মমাফিক বণ্টনের অভাব। যদিও সরকার প্রযুক্তি খাত উন্নয়নে ১২ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই বাজেটকে প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট অপ্রতুল মানছেন। সরকারি বাজেটের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কম্পিউটার, ইন্টারনেটকে আরও স্বল্পমূল্য সেবার আওতায় আনা জরুরি। মালয়েশিয়ার সঙ্গে টেশিসের যৌথ উদ্যোগে বিশেষত স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে দশ হাজার টাকায় ল্যাপটপ (নেটবুক) বিতরণের জোর প্রস্তুতির কথা শোনা যাচ্ছে অনেকদিন হলো। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে এই নেটবুক বিতরণের কথা জানিয়েছিলেন। নেটবুকের কনফিগারেশন গ্রাফিক্সের কাজের জন্য খুব বেশি যুতসই না হলেও ইন্টারনেট ও পড়ালেখার কাজে এই নেটবুক সহায়ক হবে বলে জানান। জানা যায়, প্রতি মাসে ১০ হাজার নেটবুক সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে এই উদ্যোগ গ্রামের স্কুল-কলেজগুলোর শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে কম্পিউটার চর্চা বাড়িয়ে তুলবে নিঃসন্দেহে। পাশাপাশি সুলভে ল্যাপটপ বাজারজাত করলে গ্রাম ও শহরতলিতে বেশিসংখ্যক কম্পিউটারভিত্তিক ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

স্বল্প খরচে দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদান করতে পারলে সামগ্রিকভাবে আমাদের প্রযুক্তি-নির্ভরশীলতাকে বাড়িয়ে ই-যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব সাধন সম্ভব। তবে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেমন- ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্য, বিদ্যুৎ সমস্যা, গ্রামে-প্রত্যন্ত এলাকায় ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানে বিলম্ব, অভ্যন্তরীণ ফাইবার অপটিক অবকাঠামো তৈরিতে দীর্ঘসূত্রতা ইত্যাদি।

নেপালের একটি পাহাড়ি গ্রামে নিজ উদ্যোগে একজন শিক্ষক একশ'টি গ্রামের অধিবাসীকে ওয়াইফাই সুবিধার মধ্যে আনেন। মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উচ্চগতিসম্পন্ন তারবিহীন তথা ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সেবা গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অনেক দেশ। এর বড় সুবিধা হলো, ইন্সটলেশন খরচ তার অথবা ফাইবারের চেয়ে অনেক কম। একই সঙ্গে উচ্চগতিসম্পন্ন। নদীভিত্তিক ও পাহাড়ি এলাকায় মাইক্রোওয়েভ একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি। আমাদের প্রযুক্তি এখন ধীরগতিতে থ্রিজি থেকে ফোরজির দিকে ধাবিত। হাই ও লো ফ্রিকোয়েন্সির মাইক্রোওয়েভ ফোরজিতে ব্যবহার করা যায়। দুটি টাওয়ারের মধ্যবর্তী ৩০ কিমি দূরত্ব পর্যন্ত মাইক্রোওয়েভ অনেক শক্তিশালী। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাছাকাছি দূরত্বে টাওয়ার স্থাপন সম্ভব না হওয়ার কারণে ব্যবহৃত রিসিভার ও ট্রান্সমিটার মাধ্যমেও লো ফ্রিকোয়েন্সির মাইক্রোওয়েভ যথেস্ট শক্তিশালী।

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহারকারীর মধ্যে যে মোবিলিটি তৈরি করে তা বস্তুত আমাদের প্রযুক্তিবান্ধবতা বাড়িয়ে তোলে। সামগ্রিকভাবে আমরা প্রযুক্তিবান্ধব হয়ে উঠলে স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদাগুলোয় ই-সেবার আদান-প্রদান বেড়ে যাবে। বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স পদ্ধতি প্রয়োগ করতে সরকারকে তিনটি ক্ষেত্রে যোগাযোগে যে প্রযুক্তিবান্ধব সুবিধাগুলো দিতে হবে - ১. জনগণ এবং সরকারের মধ্যে ই-ফিডব্যাক বিনিময়; ২. ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনায় ই-ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি গ্রহণ; ৩. সরকারের অভ্যন্তরীণ দাফতরিক কাজের জন্য সেন্ট্রাল ডাটাবেজ এবং প্রশাসনিক কাজে ই-সার্ভিস প্রদান।

কর্মক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব 'পেপারলেস' কাজের চর্চা বাড়াতে বলছেন পরিবেশবিদরা। রাজধানীর ওপর জনসংখ্যা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আবাসনের চাপ কমাতে সরকারের প্রতি নগর বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। প্রযুক্তিনির্ভরশীলতা সময়ের এই চাহিদা পূরণে সক্ষম। রাজধানীর বাইরে ও গ্রামাঞ্চলে প্রযুক্তির ব্যাপ্তিতে ব্যবসায়িক, প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ দ্রুততর হবে। এতে রাজধানীর বাইরেও আইটি আউটসোর্সিং ও অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করা যাবে। তাই শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সেবাকে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

***
লেখাটি ১৭ই এপ্রিল ২০১১ তারিখে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29364564 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29364564 2011-04-17 22:52:08
নির্বাচন ২০১১: বিশেষ বুলেটিন সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ বার্তাকক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম।

জমে উঠেছে নির্বাচন। বিভিন্ন ব্লগ প্রার্থীদের প্রচারনায় ব্যানার-ফেস্টুনে সজ্জিত। চলতি আন্তর-জাল-ঈ-য় নির্বাচন ২০১১ নিয়ে আমাদের বিশেষ বুলেটিনে থাকছে নির্বাচন সংক্রান্ত চটজলদি চটুল খবরাখবর।

কতিপয় ব্লগারদের অপপ্রচারের জবাব দিয়ে ব্লগার আল্লামা সাঈদী বলেছেন, সকল খাঁটি মুমিনগণের সমর্থনের কারণেই আসমানী ভোট নাযিল সম্ভবপর হয়েছে। তিনি দাবি করেন ১৬ কোটি ব্লগার তার সাথে রয়েছে! ।

অপরদিকে ব্লগার শেখ হাসিনা, ব্লগার খালেদা এবং ব্লগার এরশাদ – প্রত্যেকেই দাবি করেন দেশের ১৬ কোটি ব্লগার তাঁদের (চন্দ্রবিন্দুর উপর জোর দিয়ে পড়তে হবে) সাথে রয়েছে।

উক্ত চার প্রার্থী ব্লগারদের এই বক্তব্যকে ভিত্তি করে ব্লগারশুমারি অধিদপ্তর একটি প্রেস রিলিজ জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে দেশে বর্তমানে ব্লগারসংখ্যা ৪x১৬ = ৬৪ কোটি। ব্লগারসংখ্যার এই বিস্ফোরণ ঠেকাতে সকল ব্লগ পরিবারকে আইডি-জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পালনে ব্যবস্থা নিতে সচেতন হতে বলা হয়েছে প্রেস রিলিজটিতে । তবে তারা (চন্দ্রবিন্দু দেই নাই!) ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রার্থী ব্লগারদের কাছে। কারণ প্রার্থীদের বক্তব্যের কারণে এখন ব্লগারশুমারী অনেক সহজসাধ্য হয়ে গেছে। ব্লগে ব্লগে গিয়ে গগনা করার প্রয়োজন দেখা দেয়নি।

এদিকে ব্লগার জয় ওয়াজেদ সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ বরাবর প্রেরিত একটি ই-মেইলে দাবি করেন, ব্লগার তারেক জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বর্তমানে শূণ্যের কোঠায়। ব্লগার জয় দাবি করেন এই নির্বাচনে ব্লগার তারেক প্রযুক্তিকে সূক্ষভাবে ব্যবহার করে স্হূল ডিজিটাল কারচুপি করছেন। ইমেইলের সাথে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে ব্লগার জয় বিভিন্ন এনিমেটেড স্লাইড শো –এর মাধ্যমে ব্লগার তারেকের ডিজিটালভোট পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ভোট কেন্দ্র ঘুরে এসে সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ নির্বাচন প্রতিনিধি জানান, ভোট প্রার্থীরা শুরুতে যথেস্ট উৎসাহ নিয়ে প্রকাশ্যে-আড়ালে ভোট প্রার্থনা করলেও ইদানীং তাঁরা ঘাপটি মেরে গেছেন। কোন কোন প্রার্থীর ভোট গতিবিধি দেখে আন্দাজ করা যায়, তাঁরা (চন্দ্রবিন্দুর উপর জোর দিয়ে পড়তে হবে) একিলিস এবং কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতা দ্বারা প্রভাবিত এবং সেই মোতাবেক নির্দিষ্ট ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন।

দেখা গেছে ডিজিটাল ব্যালটবাক্সে গত কয়েকদিন ধরে ভোটের ব্যারোমিটার খুব সন্তর্পনে ওঠানামা করছে। জালভোট নিয়ে ব্লগারদের মধ্যে জোর আলোচনার কারণে প্রার্থীরা তাদের কৌশলগত অবস্থান পাল্টেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। ব্লগারদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে নানা মতামত দেখা যাচ্ছে। অনেকেই স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যালট বাক্সের দাবি তুলেছেন।

বিদেশী নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা গভীর মনোযোগে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা (...ditto...) ধারনা করছেন, কোন দুই প্রার্থীর ঐক্যমত সরকার গঠিত হলে অপরপক্ষকে প্রতিহত করা সম্ভব।

নির্বাচনী ভবিষ্যৎ বাণীতে, ব্লগার অক্টোপাস পল ব্লগার হাসিনাকে সতর্ক করে বলেন, ব্লগার এরশাদের উপর কোনভাবেই ভরসা করা যায় না। অবসর গ্রহণের পূর্বে এই নির্বাচনে জিততে তিনি যে কোন সময় যে কোন পন্থা অবলম্বন করতে পারেন।
ব্লগার হাসিনা তাঁর নির্বাচনী ওয়াদায় জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আগামীতে অসংখ্য পোস্ট লিখবেন।

এদিকে নারী ব্লগারদের পোস্টে কেন বেশী মন্তব্য এবং হিট হবে, তার প্রতিবাদে ব্লগার আমিনী আজ হরতাল ডেকেছেন।

আন্তর-জাল-ঈ-অ নির্বাচন ২০১১ নিয়ে সামহোয়্যারইনপ্রথমনিউজ৩৬৫ এর বিশেষ বুলেটিন এখনকার মত সমাপ্ত।

ওয়ালাইকুম আসসালাম! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29357068 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29357068 2011-04-04 22:38:37
নির্বাচন ২০১১: ভোট রঙ্গ ব্লগারস ভোট যুদ্ধ

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জীবনে প্রথমবারের মত ভোট দিয়ে এসে একটা পোস্ট লিখেছিলাম নির্বাচন ২০০৮ : ভোট-রঙ্গ । নির্বাচন-২০১১ তার বরাবরের ভোটরঙ্গ নিয়ে উপস্থিত। আমরা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের নির্বাচনে ইঁদুর-বিড়াল দৌড় দেখেছি। আমরা তাদের কারো পক্ষে থেকেছি। কারো বিপক্ষে থেকেছি। কারো সাফাই গেয়েছি। কারো হার কামনা করেছি। নেতাদের কৌশলী হতে দেখেছি। সূক্ষ এবং স্থুল কারচুপি হতে দেখেছি। এরপর আমরা সচেতন নাগরিকরা দূর্নীতির ঢালাও সমালোচনা করেছি। পছন্দের প্রার্থীর বিজয়ে আনন্দ মিছিল করেছি। ২০১১ সালে এসে আমরা আবার নির্বাচনের মুখোমুখি। ২০১১ সালের এই ভোট কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট না। কারণ বিরোধী দল এখনো সরকার বিরোধী আন্দোলন জমাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ জনগনের আস্থা ও অনাস্থা, অন্ধভক্তি ও বিরক্তি- সবটাই পুঁজি করে এখনো ক্ষমতায় টিকে আছে। আমি এই লেখায় যে ভোটরঙ্গের কথা বয়ান করতে চাই, সেটা নিয়ে সবাই জানেন। এই ভোট-জ্বরে আক্রান্ত সবাই। এই ভোট উৎসবে মুখর নেটিজেনরা। সবার নেটিজেন আইডি হলো ফেসবুক এবং টুইটার। ভোট। ভোট। ভোট ফর ওমুক ভাই। ভোট ফর তুমুক আপা। অথবা যদি আমার ব্লগটি আপনার ভাল লাগে তাহলে প্লিজ প্লিজ আমাকে ভোট করুন!

ডয়চে ভেলের ভোট প্রদানের সাইটের ট্রাফিক বেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। সবার কম্পিউটারে যোগ হয়েছে বাড়তি একটি ব্রাউজার-উইন্ডো। প্রতিযোগিদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা। ভীষণ রূদ্ধশ্বাস নিয়ে একেকটি ”%” বাড়ছে আর কমছে। লিংকে গেলেই বোঝা যায় কে কতটা সিরিয়াসলি ভোটে মেতেছেন। কে কার কতটা প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন। কে নির্বাচন থেকে বলতে গেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। জোর প্রচার-প্রচারণা। যার যার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং পরিচিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন প্রার্থী ব্লগাররা। যে যার মত কৌশলী হয়েছে।

যার যার ব্লগের ব্লগারকে সমর্থন দিয়ে জিতিয়ে আনতে ব্লগাধিপতিদেরও কৌশলী হতে হয়েছে। প্রচার-প্রচারনার বিষয়টা অনেক ’প্রফেশনাল’ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পেশাদারিত্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে নিজ ব্লগের ব্লগারকে সমর্থন প্রদানে একজন ব্লগাধিপতি মন্তব্য করেছেন, তার ব্লগের প্রার্থী ছাড়া বাকি ব্লগগুলো একবার চোখ বুলালেই বোঝা যায় অন্যরা কতটা যোগ্য। অথচ, মজার বিষয় হলো অন্য প্রার্থীদের মধ্যে এমনও কেউ আছে যিনি তারই ব্লগের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অনেকবার আন্তরিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, নেতা-নেত্রীদের যত যাই বলি না কেন, আমরা বাঙালিরা নির্বাচনের সময় ঠিকই পাকা রাজনীতিবিদদের পথ ধরতে পারি।

এই নির্বাচন আমাকেও রাজনীতিবিদ করে তুলেছে। কারণ আমিও এই নির্বাচনের প্রার্থী এবং রাজনীতিবিদদের মত আমিও নির্বাচন প্রচারনায় ’বড় বড় ওয়াদা’ করেছি। আমার নির্বাচনী ওয়াদা - ঘরে ঘরে ব্লগ গড়ে তোলা হবে। “2012” সালে মধ্যে সবার জন্য ব্লগ। ভোট দিন, আপনার ব্লগটি বুঝে নিন। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং উপলব্ধি

এই বেস্ট ব্লগ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল গত বছর। এবং প্রশ্নের বহুমুখিতা বেড়েছে এবছরও। যেমন আমাকে একজন ব্লগার এক বুক কষ্ট নিয়ে বলেছে, যদিও আপনি আমার ভোটটা পাবেন, কিন্তু আপনি সামু থেকে কেন নমিনেটেড না! আমি এই ব্লগারের আবেগটা বুঝি। কারণ আমার ব্লগার হয়ে ওঠা তো সামহোয়্যার ইন ব্লগ থেকেই। তবে এই আবেগের পরও বরাবর আমার নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল- ব্লগাররা হলো প্রথমত এবং প্রধানত সার্বজনীন। কারণ, কোন ব্লগই তো ব্লগারদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়না যে, তাকে কেবল সেই ব্লগেই লিখতে হবে। বেশির ভাগ ব্লগেই একই লেখা প্রকাশ করা যায়। ব্লগার হিসেবে আমার সার্বজনীনতায় বিশ্বাসের কারণে, সামহোয়্যারে যেমন লিখেছি, তেমনি লিখেছি প্রথম আলো ব্লগে। লিখেছি আমরা বন্ধুতে। লিখেছি চতুর্মাত্রিক ব্লগেও। অনেক সময় একই লেখা প্রকাশ করেছি। অনেক সময় বিষয়বস্তু বুঝে, ব্লগের নিজস্ব ঢং বুঝে ভিন্ন ব্লগে ভিন্ন লেখা দিয়েছি। কিছু কিছু ব্লগ হয় আদতেই বিষয় ভিত্তিক এবং সেখানে সব ধরনের লেখা দেয়া যায় না। এক্ষেত্রে আমার সাম্প্রতিক আগ্রহ সিটিজেন জার্নালিজম নিয়ে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ব্লগে আমি কিছু লেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

দ্বিতীয় একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন উত্থাপিত করেছে ব্লগার ডাকপিয়নবিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ব্লগের একটি পোস্টে তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন,

ডাকপিয়ন বলেছেন:
সন্ধ্যা ৫.১৫ মিনিট , মঙ্গলবার ২৯ মার্চ ২০১১
এ ধরনের ভোট এবং মনোনয়নের পুরো প্রক্রিয়া খুবই হাস্যকর। ১ মাসের একটি ব্লগ কিভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় মনোনয়ন পায়?

আমি তাৎক্ষনিকভাবে রেগেমেগে বোম হয়ে তাকে আমার ৪ বছরের ব্লগিং প্রোফাইল ধরিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু তা করা থেকে বিরত থেকেছি। একজন সহ-ব্লগার জানালেন, এই ক্যাটাগরি তো বেস্ট ব্লগ ক্যাটাগরি নয়, বেস্ট ব্লগার ক্যাটাগরি। এখানে একজন ব্লগারই মূখ্য। যৌক্তিক বক্তব্য। তারপরও আমি সেই প্রশ্নের ’জবাব’ ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেয়নি। কারণ আমি মনে করি, এই প্রশ্নে উত্তর দেবে ডয়চে ভেলে কর্তৃপক্ষ অর্থ্যাৎ প্রতিযোগিতার আয়োজকরা। তাই আমি মন্তব্যটি (লিংক সহ) সহকারে আয়োজকদের একটি ইমেইল প্রদান করেছি। এবং জবাবে আয়োজকদের ইমেইল থেকে যা বুঝতে পারলাম তা হলো,

১. বেস্ট বাংলা ব্লগ ক্যাটাগরিতে একজন ব্লগারকে নির্বাচিত করে সেই ব্লগারের ব্লগ লেখনী এবং বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে তার অবদানকে বিবেচনা করে (bloggers according to the content and their contribution in the Bangla blogosphere all together)।

২. অনেক ব্লগারই একাধিক ব্লগ প্লাটফর্মে লিখে থাকেন। টেকনিক্যাল কারণে একাধিক ব্লগের লিংক প্রদর্শন করার জায়গা রাখা হয়নি। তাই একটি ব্লগ লিংককেই তারা বেছে নিয়েছেন। (There are many bloggers who are contributing in multiple platforms and simultaneously in their own blogs. For technical reasons there was no field for displaying multiple URLs of a blogger.)

৩. এখানে উল্লেখ্য হলো, বেস্ট ব্লগ বাংলা ক্যাটাগরিতে আয়োজকরা ব্লগ প্লাটফর্মটিকে গুরুত্ব দেননি বরং ব্লগারের ব্যক্তিগত ব্লগে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপনা এবং বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে তার গুরুত্ব ও প্রভাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অর্থ্যাৎ এখানে একজন ব্লগার হলো মূখ্য, ব্লগ গৌণ্য। (Kindly note that we have not emphasized on the platform but the blogger in person and his/her presence and impact in the Bangla blogosphere.)

নির্বাচনী কৌশল এবং সম্ভাব্য দূর্নীতি

আগেই বলেছি, এই ভোট যুদ্ধে প্রার্থীরা যথেষ্ট কৌশলী হয়ে গেছেন এর মধ্যে। এমনকি অনেক ব্লগ কর্তৃপক্ষও। ভোট সংগ্রহে অর্থ্যাৎ প্রার্থির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ব্লগারদের কাছে কোন কোন ক্ষেত্রে অনুরোধের চেয়ে একভাবে উর্ধ্বমুখী’ এবং নিম্নমুখী ’চাপ’ প্রয়োগেরও কৌশল নেয়া হয়েছে। ব্লগারের উচ্চমার্গীয় প্রশংসা করে চাপ পূর্বক পোস্ট দেয়ানো হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অন্য এক প্রার্থির সহকর্মীকে অনুরোধের ’চাপ’ গিলিয়ে নিজ প্রার্থীর সপক্ষে ক্যাম্পেইনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ ব্লগ প্রতিযোগিতাটি চুড়ান্তরূপে ’সিরিয়াস’ চেহারা নিয়েছে ইতিমধ্যে। বলা চলে এখানে ’প্রফেশনালিজম’ বোধ কাজ করছে কোন কোন ক্ষেত্রে নগ্ন ভাবেই।

সবচেয়ে মজার (এবং আসলে ভয়ংকর হলো) হলো ভোট উন্মাদনা ব্যবসায়িক দিকে মোড় নিয়েছে। আমার সহকর্মীর কাছে ফোন এসেছে, দু’হাজার টাকায় ৫০০ আইডি দিয়ে আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেয়া হবে। আমার সততার (মতান্তরে হাড় কিপটে, কঞ্জুস, মাক্ষিচুস স্বভাব) কারণে এই প্রস্তাব আর গ্রহণ করা হলো না। এখানে আমরা আশংকা করতে পারি, অন্য কেউ তো এই প্রস্তাবকে লুফে নিতে পারে!

এমনও শোনা গেছে (গুজবও হতে পারে) নিজ ব্লগের ব্লগারকে জিতিয়ে নিতে কোন বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হতে পারে কারো। বিষয়টা সরাসরি আর্থিক লেনদেনের মধ্যে হয়ত যাবে না। তবে এখানে ব্যবসায়িক স্বার্থ-সুসম্পর্ক বিনিময় হওয়ার সুযোগ আছে।

অর্থনৈতিক লেনদেনের কারণে সহজেই এইসব কর্মকান্ডকে সূক্ষ এবং স্থুল ভোট কারচুপি বলা যেতে পারে। কিন্তু এই অনলাইন ভোটিং পদ্ধতিতে যেখানে ফেসবুক-টুইটার আইডি দিয়েই ভোট প্রদান করা যায়, সেখানে যে কেউ একাধিক আইডি ব্যবহার করে ভোটিং ”%” ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে যেতে পারে। এবং এটা হয়ত ভোটিং নীতিমালা বিরোধীও নয় সরাসরিভাবে। তাই আন্তর্জালে একাধিক আইডি/নিক ব্যবহারকারী একজনের জন্য একাধিক ভোট প্রদান অসম্ভব কিছু নয়। যদি অধিক সংখ্যক আইডি নাও থাকে, তবে ক্রমানুসারে আইডি (যেমন আমারআইডি১, আমারআইডি২, আমারআইডি৩... ... ... আমারআইডি১০০....আমারআইডি 'N' সংখ্যক) খোলা দু:সাধ্য কিছু নয়। শুধু দরকার ’ডেডিকেটেড‘ একজনকে ।

ভোট প্রচারনায় এমন অনেকে পরিচিত নেটওয়ার্কের আওতায় আছেন বলেই ভোট করছেন। এমনও অনেকে ভোট করেছেন, যিনি ব্লগ বিষয়টা এখনো ঠিকমত জানেনই না। তাহলে এখানে বেস্ট ব্লগ/ব্লগার এর শ্রেষ্ঠত্ব আসলে কি করে যাচাই হচ্ছে? কতটুকুই যা যাচাই হচ্ছে? ফলে প্রতিযোগিতা বা এর ভোটগ্রহণ পদ্ধতিটি কতটা স্বচ্ছতা বহনের সুযোগ দেয় সেটা একটি নির্মোহ ভাবনার খোরাক যোগায়।

বিভিন্ন অনলাইন ভোটিং পদ্ধতিতে নিয়ে আমার এখনো বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে আয়োজকরা মনে হয় এখনও ভীষন ব্যতিক্রমী কিছু ভেবে বার করতে পারেননি। এক্ষেত্রে আমরা ব্লগাররা একটি ’ব্রেইন স্টোর্মিং’ আলোচনার সূত্রপাত করতে পারি। এবং এটা যদি বছরখানেক ধরে চালাতে পারি তবে আগামী বছরের প্রতিযোগিতার পদ্ধতিতে নিশ্চয়ই এর প্রভাব পড়বে।

আমাদের টুইটার বিমুখতা

ব্লগ প্রতিযোগিতায় ভোট দেয়া যায় ফেসবুক এবং টুইটার দিয়ে। অনেকের সাথে কথা বলে দেখা গেল, তাদের ফেসবুক আইডি থাকলেও আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া জাগানো মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্ম টুইটারের এ্যাকাউন্ট নেই আমাদের অনেকেরই! আবার অনেকের এ্যাকাউন্ট থাকলে লগ-ইন করেন না তারা। বা সেখানে কোন এ্যাকটিভিটি নেই তাদের!

বাংলা ব্লগ/ব্লগারের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ে বিদেশি আয়োজক

এখানে ব্লগার কৌশিক এর একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরা যায়,

এমন একটা প্রতিযোগিতা কেনো বিদেশী একটা সংস্থা আয়োজন করবে? আমাদের দেশে কি কেউ নেই এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করার? ... ... ... সবার এ বিষয়ে ভাবার সময় হয়েছে নিশ্চয়। দেশের ভেতরে আয়োজিত হোক এমন একটা প্রতিযোগিতা - হয়তো সেটা মানে ও কলেবরে ছাপিয়ে যাবে আর সকল প্রতিযোগিতা।

ভোট ফর সাবরিনার ব্লগ

বেস্ট ব্লগ ক্যাটাগরিতে সাবরিনাকে ভোট দিন। সবগুলো বাংলা ব্লগকমিউনিটির ভোট এক হলেই সাবরিনা বাঁধ ভাঙা ভোট পাবে নিশ্চিত।

শেষ কথা

কৌশলগত কারণে এটা বলার মতো সময় আসেনি এখনো। <img src=" style="border:0;" />কারণ ভোট গ্রহণ এখানো চলছে। <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29354366 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29354366 2011-03-31 15:49:39
দ্বিতীয়বারের মত মারা গেলাম আমি আমার শ্বাসযন্ত্র ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে আসছিল
বিষাক্ত সীসার উপস্থিতি টের পেতাম সেকেন্ডে সেকেন্ডে, নিঃশ্বাসে
হৃদযন্ত্রের রক্তিম আভা ঢাকা পড়েছিল কার্বনের পুরু প্রলেপে
আমার ত্বকের স্বর্ণ রঙ পুড়িয়ে দিয়েছিল গনগনে রোদ
ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃত্যু ক্রমাগত গ্রাস করছিল আমাকে।

আমার শ্বাসটান বেড়ে যেতো
যখন দ্বীপ রক্ষকেরা যন্ত্রদানব হাঁকিয়ে পিষে দিতো
একেকটা সবুজ শরীর
আমার চৌদ্দ পুরুষের ভূখণ্ড কেঁপে কেঁপে উঠতো দানবের চলাচলে
সবুজের আর্তনাদে বাতাসে উঠেছিল হাহাকার ঘূর্ণি
আমার নিঃশ্বাস পড়েছিল চাপা নিঃষ্প্রাণ সবুজের মৃত শেকড়ের তলে
শাখা থেকে শেষ পাতাটাও ছিঁড়ে ফেলা হলে,
মাত্র দু’দিন বেঁচে ছিলাম আমি
পাতাটার শুকনো খড়খড়ে হয়ে যাওয়া অব্দি
নগর পরিচর্যাকররা ওটাকে সরিয়ে ফেলেছিল দ্রুত
ঠিক যেমন করে ওরা আমার মৃতদেহের উপর ধূলোমাটি বর্ষণ করতে হয়ে উঠেছিল ব্যতিব্যস্ত
আমি খুশিই হয়েছিলাম ওদের ধুলো ওড়ানো শেষকৃত্যে
আমার সন্মানে দু’ফোটা অশ্রু যদি পড়ে ধূলোর বিছানায়
তবে সেখানে জন্মাবে মখমলি সবুজ
মৃত্যুর পর আমি নিঃশ্বাস নেবো সবুজের তলদেশে
সোঁদা শেকড়ের নির্যাসে
সিক্ত জমিন চুঁইয়ে পরিশোধিত আলো এসে পড়বে আমার শরীরে
আমি দ্বিতীয় জীবন লাভ করবো আমার প্রথম মৃত্যুর পর।

আমার ধারণা সঠিক হয়নি এতটুকু
এ দ্বীপের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান বড় বর্ণাঢ্য
ওরা আমার মৃত আবাসকে ঢেকে দিল দামি মর্মরে
পিচ্ছিল মর্মর ভেদ করে, সে সাধ্য হয় না মাটির সবুজের
কী দুর্যোগ!
আমি হাঁসফাঁস করতে থাকি
দু’দিন পর আমার পুনর্মৃত্যু ঘটে।

(উৎসর্গঃ মানব সভ্যতার ভয়ংকর আগ্রাসনে মৃতপ্রায় সবুজরাজিকে)

---------------------------------------------------
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29348733 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29348733 2011-03-21 18:47:09
১০০ !!! সামহোয়্যার ইন ব্লগে ১০০তম নারী দিবস নিয়ে পোস্ট দিলাম ক্যামনে !

অফিসে পৌঁছেই দিলাম গুগল সার্চ । দৈনিকগুলোর অনলাইন লিংকে হানা দিলাম। দেখি এরাও আমার মত তালগোল পাকায় ফেলেছে। দি ডেইলি স্টারের আজকের সম্পাদকীয় শুরু করেছে এভাবে,

It is exactly a hundred years to the month that the very first International Women's Day (IWD) was launched after Clara Zetkin, Leader of the 'Women's Office' for the Social Democratic Party in Germany, proposed the idea of an International Women's Day.

জার্মানীর সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলের ’ওমেন’র অফিস’ এর নেত্রী ক্লারা জেটকিনের বিশ্ব নারী দিবস প্রস্তাবনার পর প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের ১০০ বছর হলো এই মাসে।

দি ডেইলি স্টারের ঠিক গত বছরের মানে ৮ই মার্চ ২০১০ এর সম্পাদকীয়’র শুরুতে বলা হয়েছিল,

On the eve of 100th International Women's Day celebration, a group of men yesterday vowed to fight against acid violence, which makes many women's lives a misery. ১০০তম আন্তর্জাতিক নারী দিবসের উদযাপনে, গতকাল পুরুষেরা শপথ নিল নারীর জীবন বিপরযস্ত করে দেয়া এসিড সন্ত্রাস দমনের।

তারমানে দাঁড়ালো পর দু’বছরের সম্পাদকীয়তে ১০০তম নারী দিবস পালন করার কথা লেখা হয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলোর আজকের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে,

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ১০০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতন্ত্রীদের দ্বারা সূচিত এই দিবস পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীনসহ পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়েছে। আজও রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশে এই দিনটিতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সমাজতান্ত্রিক দুনিয়া আজ আর নেই, কিন্তু আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই। কারণ, বিশ্বজুড়ে নারীর অগ্রগতি ও মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে অনেক পথ পাড়ি দেওয়া এখনো বাকি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থানির্বিশেষে মানুষ হিসেবে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি তাই সর্বজনীন।

কোন এক অজ্ঞাত কারণে তিন পরিচ্ছেদের এই সম্পাদকীয়তে ক্লারা জেটকিন এবং ২০১০ সালেল উল্লেখ সম্পূর্ণ ভাবে অনুপস্থিত ছিল।

(প্রথম আলো পত্রিকার অনলাইনে আর্কাইভ বিভাগ আজকে কাজ করছে না বলে গত বছরের নারী দিবসের তাদের বক্তব্য দেখতে পারলাম না।)
বিডিনিউজ২৪.কম অবশ্য ১০১তম নারী দিবস পালনের কথাই লিখেছে ,

আন্তর্জাতিক নারী দিবস মঙ্গলবার। 'শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে নারীর কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন'-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ১০১তম নারী দিবস পালিত হবে এদিন।

গত বছর দি হাফিংটোন পোস্ট -এ বলা হয়েছিল ,

International Women's Day 2010 marks the 100th such day in world history, and it is being celebrated today, March 8, 2010. আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মত একটি দিবস ১০০ ছুঁয়ে গেল বিশ্বের ইতিহাসে, এবং এই দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ ৮ই মার্চ ২০১০ এ।

এবারের নার্রী দিবসে হিলারি ক্লিনটন অবশ্য নারী দিবসের শতবার্ষিকী নিয়ে লিখেছেন

গ্লোবাল রিসার্চ.সিএ –তে গত বছর একটি পোস্টের শিরোনাম ছিল , ১০০ বছর পূর্বে: নারী দিবস (১৯১০-২০১০) [100 Years Ago: Women's Day (1910-2010)] ।

গত বছর মেরিনিউজ.কম –এ আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ ৮ই মার্চ ২০১০; ১০০ বছর পূর্তি ([nternational Women's Day - 8 March 2010; 100th year of celebration) শিরোনামের আর্টিকেলটিতে বলা হয়েছিল,

THE INTERNATIONAL Women’s Day is annually held on March 8 to celebrate women’s achievements throughout history and across nations. It is also known as the United Nations (UN) Day for Women’s Rights and International Peace. March 8, 2010 will mark 100 years of International Women’s Day ইতিহাস এবং জাতিগতভাবে নারীর অর্জনকে উদযাপন করতে প্রতি বছর ৮ই মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি জাতিসংঘের নারী অধিকার এবং আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস হিসেবেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক নারী দিবস তার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ৮ই মার্চ ২০১০ এ।

ফলে বিষয়টা আমার কাছে গোলমেলে রয়ে যাচ্ছে। ১৯১০ থেকে ধরলে তো এবার আমাদের ১০১তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হওয়ার কথা। নাকি ১০১তম নারী দিবসে এসে শতবাষিকী উযযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাবে?

বিষয়টা কেউ আমাকে একটু খোলসা করে বুঝায় দিবেন কি? আছেন কোন সহৃদয় জ্ঞানী ব্যক্তি....?

------------------------------------------
গত বছর নারী দিবস উপলক্ষ্যে আমার পোস্টঃ

শততম আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ দশম মহিলা যাত্রীটি বাসের কোন আসনে বসার অধিকার রাখেন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29340488 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29340488 2011-03-08 14:07:29
একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি আমি নেই।
আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না কিছুতেই।
শেষবার যখন দেখা গিয়েছিল তখন আমার হাতে ছিল নীল প্রজাপতি
পায়ে চাপ চাপ কাদা, মেঠো পথের
বয়স হরিণ চপল
গায়ে রংধনু বর্ণ
তারপর উবে গেছি
গুম হয়ে গেছি
বলা নেই কওয়া নেই।
আমি নেই
আমাকে যাচ্ছে না পাওয়া কিছুতেই।

খোঁজকেরা দেখে নেয় পেঁজা মেঘ সরিয়ে
যদি ছেলেখেলা করে আড়ালে থাকি লুকিয়ে!
আমাকে গেল না পাওয়া ঘাসের গোড়াতেও
কৃষ্ণচূড়ার ডালে,
সাম্পানের পালে,
ঝিনুকের খোলে,
আমি নেই!
আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না কিছুতেই।

আর কোথায় কিভাবে হারায় কেউ?
জানে না ওরা।
অভয় ঘোষনায় জোর প্রলোভন চলে। বলে,
পৃথিবী কে মুড়ে শব্দ খাতার মলাট করে দেবে সত্যি সত্যি ···

আমি ফিরি না তবু ।

আমি বামপন্থী আলাপে নেই
ডানপন্থী মেজাজে নেই
ওরা আমাকে পেল না খুঁজে কোনভাবেই।

অবশেষে,
খোঁজ থেমে আসে।
স্বজনের অশ্রু মুছে গেছে ওই গণ্ডদেশে।
নোনা জলে জোয়ারের পর ভাটা তো আসবেই।

আমি নেই।
ওরা আমাকে পায়নি খুঁজে কোনভাবেই।
আমি আমাতে আর নেই বলে
আমি আর কোত্থাও নেই।
আমাকে যায়নি পাওয়া কিছুতেই।

আমি আর ফিরিনি কোনদিন।
যেন ছিলাম না কোনকালে।


-------------------------
[২১ জানুয়ারী ২০১১]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29331975 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29331975 2011-02-22 14:23:12
যদি 'কবি' নির্মলেন্দু গুণ 'ব্লগার' নির্মলেন্দু গুণ হতেন!!!
আমি বলছি না চুপচাপ ব্লগ পড়ে গেলেই চলবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার পোস্টে মন্তব্য দিক
শুধু পোস্টের হিট বাড়াবার জন্য
বার বার রিফ্রেশ করতে করতে মাউস প্যাডটা নষ্ট
আমি বলছি না কেবল মন্তব্য দিলেই হবে, আমি চাই
কেউ একটা প্লাস দিক। আমি সিঙ্গেল নিকে
কাউকে মন্তব্য করার জন্য বলছি না।
আমি জানি এই ইন্টারনেটের যুগ
ব্লগারদের মুক্তি দিয়েছে মাত্র একটি নিকে ব্লগানোর দায় থেকে
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক, আমার কাউকে ’ট্যাগিং’ করা লাগবে কিনা
ক্যাচাল পোস্টকে উস্কে দিতে আরো একটা
রিভার্স গেম লাগবে কিনা
ছোটখাট খোঁচাখুঁচি, লাল বাটনে টিপ আমি নিজেও করে নিতে পারি
আমি বলছি না আমাকেই লগইন করতে হবে, আমি চাই
কেউ একজন কমন নিকের পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্লগে
লগইন করুক, কেউ আমাকে তাদের ’মালটি নিক’ -টাও দিক
আস্তিক-নাস্তিক সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুক, ”তোমার ব্লগ এত হিট কেন?

---------------------------------------------------
উৎসর্গঃ প্রিয় প্লাস এবং মাইনাস বাটনকে।
---------------------------------------------------

<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29323672 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29323672 2011-02-10 10:58:19
জিতবে এবার জিতবে ক্রিকেট

মানেন আর না মানেন বিশ্বাকাপ ক্রিকেট নিয়ে আসলেই কিন্তু ব্যাপক আয়োজন চলছে। রোজ আসতে-যেতে দেখি। যে সে প্রস্তুতি নয়। ওলোট-পালট ধুন্ধুমার ব্যাপার এবং স্যাপার। কী হচ্ছে? কিভাবে হচ্ছে? দেখার বড় লোভ হয়। ’উধার কি ক্যামেরা‘ নিয়ে সকালের অফিসের সময়কে চুরি করে নেমে পড়ি এলাকায়। কুয়াশা তখনও জড়িয়ে ধরে রেখেছে সূর্যকে। ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশার ভিড়ে, আমি পায়ে পায়ে স্টেডিয়াম চত্বর দেখি ঘুরেফিরে। সাথে চলছে ক্লিক। ক্লিক। ক্লিক। আপনারা যারা শীতের সকালে স্টেডিয়ামের শিশির ভেজা সবুজ মাঠে খালি পায়ে এসে দাঁড়াতে অপারগ তাদের আফসোসকে বাড়িতে দিতে ইচ্ছে করছে। আর যারা সরকারী বক্তব্যে শুনছেন যে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে নগরীতে সৌন্দর্য বর্ধন শুরু হয়েছে, তাদেরকে এই প্রক্রিয়ার স্বরূপটা দেখাতে ইচ্ছে করছে।


বিশ্বকাপ আসরের আগমন ধ্বনিতে সৌন্দর্য দেবীকে তুষ্ঠ করতে রোজ বলি হচ্ছে মিরপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বৃক্ষরাজি। কাটার পর ডিগার দিয়ে সমূলে উৎপাটিত হবে এই বৃক্ষটিও। সম্প্রসারিত রাস্তায় পিচ ঢালাই হবে এর উপর দিয়ে। নয়তো থান ইট চাপিয়ে পাশঘেঁষে তৈরী হবে একটা সরু ফুটপাত। হেঁটে চলার সময় আপনি ভুলে যাবেন এখানে কোন একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়িযে ছিল প্রকাণ্ড একটা অশ্বত্থ।


মূল স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে চলছে জাল-অনুশীলন


প্র্যাকটিস মেকস এ টিম পারফেক্ট


বোলিং প্রস্তুতি


মার ঘুরিয়ে..উড়িয়ে…ঘুরিয়ে..উড়িয়ে…মার ঘুরিয়ে


পরের বোলারের আগমন


মাঠ থেকে চোখ ফেরানো যাক আশেপাশে। উৎসুক দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে সিঁড়িতে। স্টেডিয়াম উন্নয়নের কাজ চলছে। কেউ গায়ে একটু রোদ লাগিয়ে নিচ্ছে। সেই সাথে সকালের তাজা তাজা খবরের শিরোনামে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন একজন পাঠক


আপনি নিশ্চয়ই প্রায়ই অফিসে পৌঁছে সকালের নাস্তাটা সেরে নেন? স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজে নিয়োগকৃত শ্রমিকেরাও নাস্তা করে নিচ্ছে। এরপর শুরু হবে তাদের কাজ।


সময় কম। কাজ অনেক বাকি। আর মাত্র __দিন __ঘণ্টা __মিনিট __সেকেণ্ড


এদিকসেদিক করতে করতে অতঃপর স্টেডিয়ামের ভেতর!!! বিনা টিকেটে !!!


বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন – দেয়ালে লাগছে উৎসবের রঙ


এই গ্যালারী ভরে উঠবে ক্রিকেটপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে


আপনার আসন কোনটি ?


নীল যে আসন = নীলাসন


মাঠের দিকে তাকানো যাক। কাজ চলছে


কাজ চলছে …।


ডিজিটাল স্কোর বোর্ড


সাইট স্ক্রিন


স্পন্সর


উড ইউ লাইক টু ক্রস দ্য বাউন্ডারি? আপনার ভাবনা শেষ হয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনের আগেই এই বাউন্ডারি পেরিয়ে যাবে অসংখ্য চারের মার


সাত সকাল নয়, এগারো সকাল বেজে গেছে ততক্ষণে


হয়ত এই দরজা দিয়ে সদলবলে বেরিয়ে আসবে আপনার প্রিয় দল। হয়ত এই দরজা দিয়ে অপরিনামদর্শী ব্যাটিংয়ে আউট হওয়া খেলোয়াড় ফিরে যাবেন সাজ ঘরে।

আমিও ফিরে আসছিলাম। এক মাঠ কর্মী কাছাকাছি এসে শেষ মুহূর্তে বেরসিকের মত বাগড়া দিলেন। বললেন, অনুমতি ছাড়া মাঠ পর্যন্ত চলে এসেছেন। ছবি তুলতেছেন। এইটা করা যাবে না। আমি বললাম, সব তো খোলা ছিল। কেউ বাধা দিল না তো ভেতরে প্রবেশে!

তাই তো! আসলেই কেউ কিছু বলেনি। প্রহরী আছে স্টেডিয়ামের ভেতরে। সে বাধা দেয়নি কেন ?? ছবিতেই দেখুন …





_______________________________________
ছবিগুলো তোলা হয়েছে শনিবার ১৫ জানুয়ারি ২০১১
_______________________________________
এই পোস্টটি প্রথম ছাপা হয়েছিল বিডিনিউজ২৪.কম ব্লগে
_______________________________________
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29313391 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29313391 2011-01-24 14:29:33
খণ্ড-বিখণ্ড কাব্যঃ আমি আর ঈশ্বর পর্ব [১]
ঈশ্বর খেলার আদ্যোপান্ত জানতেন। কলকাঠি নির্দেশনা তার।
তাই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ দায়ের করে রণে ভঙ্গ দিলাম।
তুচ্ছ মানবেরও আত্মাভিমান রয়েছে পরমেশ্বর বুঝুক এবার।

[২]
সে বহুকাল হলো, মুখ দেখাদেখি স্থগিত রেখেছি আমি আর ঈশ্বর।
যার যার ’ইজম’ সামলাতে দু’জনেই তৎপর।

[৩]
ঈশ্বরে রেখে বিশ্বাস আমি হই যতটা ধন্য,
ঈশ্বরও কি ভক্তি পোষেণ ততটা আমার জন্য?




[রচনাকালঃ ১৩ ডিসেম্বর ২০১০|২৬ ডিসেম্বর ২০১০|২৯ ডিসেম্বর ২০১০]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29305738 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29305738 2011-01-11 16:00:11
১৯ ডিসেম্বর ২০১০, দ্বিতীয় বাংলা ব্লগ দিবসঃ যা হলো, যা হলো না, যা হতে পারতো আন্তর্জালিক ডায়েরী। তারপর এর ব্যবহার, প্রচার একে বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে ভাবতে শিখিয়েছে। ক্রমাগত ব্লগ এমন একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠলো যেখানে একই সাথে বিদ্যমান পাওয়া গেল তত্ত্ব, তথ্য এবং সাহিত্য। বাঙলা ব্লগাররা ব্লগের সংজ্ঞায়নের বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছে প্রতি বছর। বাংলা ব্লগিংয়ের পাঁচ বছর বয়সে একে আর বিকল্প গণমাধ্যম নয় বরং নাগরিক সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে দ্বিতীয় বাংলা ব্লগ দিবসে আড্ডাচ্ছলে করা উদযাপন অনুষ্ঠানে এই বিশেষ সংজ্ঞাটির উপর জোর দেয়াটা লক্ষণীয় ছিল।

বাংলা ব্লগ দিবস এর উদযাপন নিয়ে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ না থাকলেও এই দিবসটি কারা উদযাপন করবে, কবে উদযাপিত হবে তা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ দলগত অবস্থান সুষ্পষ্ট। কেউ কেউ অবশ্য নীরব অবস্থানে আছেন। মৌন্যতা সম্মতির লক্ষণ। তবে এই সম্মতি পক্ষে নাকি বিপক্ষে তা বুঝতে বিভিন্ন ব্লগ ও ব্লগারদের ব্লগাতিহাস বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। পক্ষের সাবলীলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা, প্রচারণা অনেক প্রাণবন্ত। কিন্তু বিপক্ষের অপপ্রচার ও খেদ-প্রচারের চেষ্টাও আন্তর্জালে এখনো অল্পবিস্তর দেখা যায়। ধরে নেয়া যায়, কারো কারো নীরব অবস্থানের পেছনের কারণ এই ব্লগ রাজনীতি। কেউ কেউ এই রাজনীতি এড়াতে, কাউকে সরাসরি সমর্থন জানাতে বিরত থাকেন, কারো বিরোধীতা করা থেকেও বিরত থাকেন। তাতে পক্ষ-বিপক্ষ দু’পক্ষের সাথে সহজ-স্বাভাবিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা যায়।

এই নাতিদীর্ঘ গৌরচন্দ্রিকার কারণ হলো কিছুদিন আগে উদযাপিত হয়ে যাওয়া বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে দু’টো কথা বলার সুযোগ-সুবিধা খোঁজা। এরমধ্যে ব্লগাররা তাদের বহুমাত্রিক অনুভূতি ব্যক্ত করে ফেলেছেন। কেউ কেউ চেনা-অচেনা ব্লগার-মুখ দেখে আনন্দে উদ্বেলিত। ফুচকা-জিলাপী’র কথা স্বরণ করে কারো কারো জিভে জল আসছে এখনো। কেউ কেউ আয়োজন নিয়ে মৃদু মনোক্ষুন্ন। কেউ কেউ কারো কারো বক্তব্য নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। আয়োজনে স্বশরীরে অংশগ্রহণ, অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ, আলোচনা শ্রবণ এবং পরবর্তীতে ব্লগে বেশ কিছু ব্লগালোচনা পঠন এর পর আমিও উচ্চমাত্রায় অনূভূতিপ্রবণ হয়ে আমার দু’চারটে বা তারও বেশী মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করলাম ।

*********************************************************
বাংলা ব্লগ দিবস বনাম সামহোয়্যার ইন ব্লগ দিবস
*********************************************************
বাংলা ব্লগ দিবস সংক্রান্ত প্রস্তাবনার জন্ম যেহেতু সামহোয়্যার ইন ব্লগ থেকেই তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্লগটিকেই উদ্যোগী হয়ে বাংলা ব্লগ দিবস আয়োজনে তৎপর হতে দেখা যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। কেউ কেউ সামহোয়্যার ইন এর এই তৎপরতাকে ভিন্ন অর্থ দিতে পুরো দিবসটির নয়া নামকরণ করেছেন, সামহোয়্যার ইন ব্লগ দিবস। এটা অবশ্যই হিংসাত্মক প্রচারণা । তবে ভষ্মখনি থেকে হীরকখণ্ড খুঁজে পাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এই অপপ্রচারের ভেতর থেকে শিক্ষণীয় অংশটুকু ছেঁকে নিতে হবে। যেহেতু বাংলা ব্লগ দিবস একটি সার্বজনীন দিবস। একে অন্তত সামহোয়্যার ইনের প্রাতিষ্ঠানিক উঠোন ডিঙ্গিয়ে বাইরের কাদা-মাটি-হাওয়া-পানি-ভিড়ভাট্টার মাঝে গড়াগড়ি খেতে দেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

সুযোগ কে করে দেবে? সুযোগ কিভাবে করে দেবে? পথিকৃৎ হিসেবে সামহোয়্যার ইন ব্লগকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সম্ভবত সে কারণেই সামহোয়্যারের মঞ্চে বাংলা ব্লগ দিবসের আয়োজন হয়েছে দু’বার। কিন্তু সামহোয়্যার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষের এখন জায়গা করে দিতে হবে, ছেড়ে দিতে হবে অথবা গড়ে দিতে হবে অন্যান্য ব্লগের পরিচালনা কমিটিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম পরিমাণ উদ্যোমী ভূমিকা রাখার জন্য। কেবল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সৌজন্য যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ব্লগের এ্যাডমিন/মডারেটরদের নিমন্ত্রণপত্র হিসেবে একটি ইমেইল নয়, বরং বিভিন্ন ব্লগের কর্তৃপক্ষের সাথে ব্লগ দিবসের বহুপূর্বেই এই নিয়ে মুখোমুখি মত বিনিময় আলোচনা করা যেতে পারে। সামহোয়্যার ইন ব্লগ বড়জোর এখানে প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চিত করতে পারে ব্লগ দিবস আয়োজনে কেবল নিজ ব্লগের পরিচিত মুখ নয়, বরং অন্য ব্লগের পরিচালকদের, ব্লগারদের আন্তরিক পদচারণা। এই সমন্বয় সাধন সফল হলে বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপন আর কোথায় কোথায় এবং আর কিভাবে পালন করা যেতে পারে, সবাই সে পরামর্শের ফুলঝুড়ি বইয়ে দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আশা করছি, বাংলা ব্লগ দিবসে এককভাবে কোন আয়োজক, আয়োজন নয়, যুগ্ম আয়োজক, আয়োজন দেখাটা অনেক বেশী সুখকর হবে যে কোন ব্লগ ও ব্লগারের কাছে।

****************************
ব্লগ এ্যাকশন ডে
****************************
গতবছর ব্লগ দিবসে আমার ব্যক্তিগত একটি অনুসন্ধিৎসা ছিল, কেন একটি দিবসের প্রয়োজন পড়ে। অথবা কেন বাংলা ব্লগ দিবসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। আমি এখন পর্যন্ত কোন দিবস বিরোধী নই। আমার জানার ও জানানোর উদ্দেশ্য ছিল দিবস আয়োজক এবং পালনকারীদের মাঝে দিবসের উদ্দেশ্য-বিধেয় পরিস্কার কিনা। ধরে নেই প্রাথমিক ভাবে বাংলা ভাষার চর্চাকে স্বীকৃতি দিতে বাংলা ব্লগ দিবস পালন। কিন্তু এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। অথবা প্রতি বছর বাংলা ব্লগ দিবসকে কেবল ব্লগারদের মিলনমেলাতেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্লগ দিবস পালিত হয়। এখানে উল্লেখ করা যায়, ব্লগ এ্যাকশন ডে' কথা। যা পালিত হয় প্রতি বছর ১৫ই অক্টোবর। যতদূর জানা যায়, ব্লগ এ্যাকশন ডে’তে একই দিনে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ব্লগে পোস্ট দিতে উৎসাহিত করা হয়। বিষয় হিসেবে বেছে নেয়া হয়, জনসচেতনামূলক কোন ইস্যুকে। এর মধ্যে ব্লগ এ্যাকশন ডে'র টাইটেলের সাথে সাব-টাইটেল হিসেবে এসেছে, সুপেয় পানি সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি। বাংলা ব্লগ দিবস পালনে প্রতি বছর আমরা ব্লগাররাও একেকটি জনগুরুত্বপূর্ণ, সচেতনতামূলক বিষয়কে তুলে ধরতে পারি।
বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে লোগো করা যেতে পারে প্রতি বছর। যেখানে সচেতনতামূলক ইস্যুটিরও উল্লেখ থাকতে পারে স্লোগান আকারে। বিভিন্ন ব্লগে সেই ইস্যুতে আসা পোস্টগুলোর একটি বিশেষ সংকলন লিংক প্রদর্শিত হতে পারে প্রতিটি ব্লগে। লোগো, স্লোগান নিয়ে যে কোন ব্লগ উদ্যোগী হতে পারে।

**************************************
ব্লগ দিবস অনুষ্ঠান পরিচালনা
**************************************
ব্লগার কৌশিক বাকপটু। চৌকষ ও সাবলীল। অনেক সিনিয়র ব্লগার হওয়ায় ব্লগ সংক্রান্ত আলোচনা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে পারেন। বিভিন্ন ব্লগ আড্ডায় হৈচৈ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একে একে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেয়ার মত দক্ষ উপস্থাপক তিনি। গতবারের বাংলা ব্লগ দিবসের অনুষ্ঠানে মঞ্চ পরিচালনায় তিনি ছিলেন। ছিলেন এবারও। গতবারের চেয়ে এবারের উপস্থাপনা আরো বেশী প্রাণবন্ত ছিল। কিন্তু ব্লগার কৌশিক এখনো সামহোয়্যার ইন ব্লগের ব্লগার বলে অধিক পরিচিত ব্লগারদের কাছে। তাই বাংলা ব্লগ দিবস অনুষ্ঠানে অন্য কোন ব্লগের ব্লগার পরিচয়ে পরিচিত কাউকে অন্তত সহযোগী উপস্থাপক হিসেবে পেলে সেই ’মিশ্র-রসায়ন’ অনুষ্ঠানটিকে আরো বৈচিত্র্যময় করতে পারতো। আগামীতে বিভিন্ন ব্লগের সমন্বয়ে এধরনের বিশাল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন উপস্থাপক দিয়েও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা যেতে পারে।

***************************************************
অন্যান্য ব্লগের কর্তৃপক্ষ ও ব্লগার পরিচিতি
***************************************************
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, বুঝি সামহোয়্যার ইন ব্লগের ব্লগাররা মিলেই বাংলা ব্লগ দিবস পালন করেছে। অথচ অন্য ব্লগের ব্লগারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। একে একে এসেছিলেন অন্যান্য ব্লগ পরিচালনায় জড়িত ব্যক্তিরাও। অন্যান্য ব্লগের ব্লগার ও কর্তৃপক্ষকে সম্মুখ মঞ্চে বেশী বেশী ফ্লোর দেয়া জরুরী ছিল। তাতে অবশ্যই দুটো ভিন্ন ব্লগ পরিবেশের ’ভিউ এক্সচেঞ্জ’ এর বিশাল সুযোগ তৈরী হয়। এবং কেবল ব্লগ নয়, ব্লগাররাও সার্বজনীন হওয়ার সুযোগ পায়।

উদাহরণ হিসেব বলা যায়, এবার অর্ফিয়াস নিকে একজন ব্লগার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ব্লগ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছেন। ব্লগার অর্ফিয়াস প্রথম আলো ব্লগে স্বনামে ব্লগিং করতেন/করেন। এখন সম্ভবত তিনি সদ্যজাত মুক্তব্লগের পরিচালনা/পরামর্শক কমিটিতে আছেন। অথবা স্বনামে কেবল ব্লগার হিসেবে আছেন। সামহোয়্যার ইন এর অনেক ব্লগার এটা নাও জানতে পারে। উনাকে পুরস্কার বিতরনী পর্বের পর মঞ্চে ডেকে কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ দিলে সম্ভবত অন্য ব্লগে উনার পদচারণার বিষয়টি উপস্থিত ব্লগাররা জানতে পারতেন। বিশেষত যেহেতু পুরস্কারপ্রাপ্তদের অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন তাই উনার কাছে অভিব্যক্তি জানতে চাওয়ার পর কিছু বাড়তি প্রশ্ন জানতে চাওয়া যেতো। যেমন, উনি অন্য কোন ব্লগে লেখেন কিনা। বা কী নিকে লিখেন। প্রশ্ন করা যেতে পারতো, অন্য ব্লগে স্বনামে লেখার পরও সামহোয়্যারে উনি ছদ্মনামে লেখেন কেন? অথবা উনার কাছে জানতে চাওয়া যেতো, যেহেতু এই প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল সবার জন্য, তাই উনি স্বনামে এবং অন্য ব্লগের হয়েও পাঠাতে পারতেন। এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগ টিম অন্য ব্লগের একটি পোস্টকে পুরস্কৃত করে প্রতিযোগিতাটিকে সার্বজনীন করে তোলার সুযোগ পেতো। ব্লগার ইলিয়াছ চৌধুরী ছিলেন অনুষ্ঠানে। উনি অবশ্য বক্তব্যও দিয়েছেন। কিন্তু যে বিষয়টা অনেকের কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি , ইদানীং সামহোয়্যার ইন ব্লগে বেশী দেখা গেলেও উনাকে সাধারণত প্রথম আলো ব্লগে বেশী সরব দেখা যায়। প্রথম আলো ব্লগের ব্লগারদের মাঝেই উনি পরিচিত বেশী।

এই উদাহরণ দেয়ার কারণ হলো, যেহেতু আঙ্গিনাটা সামহোয়্যার ইন এর, তাই সেখানে অন্যান্য ব্লগের কারা কারা পা রেখেছেন, সেটাই হাইলাইট করা প্রয়োজন খুব গুরুত্বের সাথে। অথবা একাধিক ব্লগে লেখেন কারা কারা তা জানতে চাওয়া যেতো সবার কাছে একে একে। অথবা যারা একাধিক ব্লগে লেখেন তারা কি একই পোস্ট কপি-পেস্ট করেন নাকি ভিন্ন ভিন্ন ব্লগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট দেন এমন প্রশ্ন করা যেতো সুযোগ বুঝে। অথবা জানতে চাওয়া যেতো কোন ব্লগের ফিচার ইউজার ফ্রেণ্ডলি বেশী? কোন ব্লগের ইন্টারফেস আকর্ষণীয় বেশী? যারা একাধিক ব্লগে ব্লগিং করেন, তাদের কাছে জানতে চাওয়া যেতো সবকিছু মিলিয়ে কোন ব্লগে ব্লগিং করতে স্বাচ্ছন্দ পান তারা?

সামহোয়্যার ইন ব্লগের মঞ্চে সামহোয়্যার ইন ব্লগের ব্লগাররা ঘরের মানুষ হিসেবে সামান্য কম ফ্লোর নিয়ে অতিথি বিবেচনা করে অন্যান্য ব্লগের ব্লগারদের বেশী বেশী বলতে উৎসাহিত করার সুযোগ নিতে পারতেন।

*********************************************
ব্লগারদের নিয়ে আরো আরো খুনসুঁটি
*********************************************
তেমন কোন লিখিত স্ক্রিপ্ট মেনে এরকম অনুষ্ঠান চালনা করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ তাতে আয়োজনটা প্রাণ হারায়। ব্লগারদের মিলন সভায় কথার অভাব নেই। তারপরও এমন একটি অনুষ্ঠানে ব্লগার পরিচিতি ছাড়াও আর কী কী করা যেতে পারে তার একটি খসড়া পরিকল্পনা আগে থেকে ভেবে রাখা যেতে পারে। ধরে নিচ্ছি এবারও তেমন কিছু ছিল। তবে তাতে বৈচিত্র্যতা কম কম ছিল অথবা সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখতে গেলে, প্রত্যাশা মাফিক ছিল না। পরবর্তীতে ব্লগ দিবস আরো সুসংগঠিত ভাবে পালিত হলে তখন হয়ত অনুষ্ঠানের পূর্বে রিহার্সেলেরও প্রয়োজন পড়তে পারে।

একটা মজার ইভেন্ট ছিল; সবাইকে বিশাল একটি বৃত্তাকার মানববন্ধন(ব্লগার বন্ধন) করে দাঁড়াতে হলো। সেখান থেকে একে একে ডানপন্থী দিকে মাইক্রোফোন ঘুরতে থাকে ব্লগারদের হাত থেকে হাতে। এতে অনেকে অনেক কথা বলার সুযোগ পান। তবে সামহোয়্যার ইন এর ব্লগার ছাড়া অন্যান্য ব্লগারদের এই বৃত্তের আওতায় আনার প্রতি খুব সচেতনভাবে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। এই খেলায় একেবারে প্রাচীন ব্লগারদের একবার আলাদা করা হয়। আবার আলাদা করা হয় নতুন ব্লগারদের। এটাও বেশ মজার। কিন্তু আরো মজার অবকাশ ছিল। ব্লগ এবং ব্লগের বাইরে ব্লগাড্ডাগুলোতে এখন তরুণ ব্লগারদের আগমণ খুব বেশী। তাই এখনকার তরুণ প্রজন্ম ব্লগ থেকে কী প্রত্যাশা করে তা জানার সুযোগ নেয়া যেতো। আরো জানার সুযোগ ছিল ব্লগার হিসেবে যারা প্রাচীন তারা তাদের ব্লগিং ধারার বিপরীতে নব্য ব্লগারদের ব্লগিংয়ের ধারাকে কেমন চোখে দেখেন? ঠিক এর উল্টোটা চানতে চাওয়ার অবকাশ ছিল নতুন ব্লগারদের কাছ থেকে। ব্লগে নবীণ অথচ বয়সে প্রবীণ, এবং ব্লগে প্রবীণ অথচ বয়সে নবীণ ব্লগারদেরও আলাদা ভাগে ভাগ করা যেতো। শোনা যেতে পারতো এই ’জেনারেশন গ্যাপ’গত ব্লগিং ভাবনা।

************************************
গণমাধ্যমে বাংলা ব্লগ দিবস
************************************
যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন চ্যানেল থেকে ক্যামেরা এসেছিল তাই এই অনুষ্ঠান ভাল ভাবে কাভারেজ পায় টিভিতে। পত্রিকাগুলোর বেলায় নিশ্চিত নই যে সবক’টি প্রধান প্রধান পত্রিকায় খবর এসেছে কিনা। তবে কিছু কিছু পত্রপত্রিকাতে খবর ছাপা হয়েছে বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপন নিয়ে । বাংলা ব্লগ দিবসকে প্রতিষ্ঠা দিতে গণমাধ্যমে এই প্রচার আরো নিয়মিত ও নিশ্চিত করতে হবে। তাতে এর সার্বজনীনতা দ্রুততর হবে। সামহোয়্যার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ নোটিশ বোর্ড নিক থেকে বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রচারিত সকল খবরের লিংক, পেপার কাটিং ইমেজ ও টিভি ফুটেজগুলো নিয়ে একটি পোস্ট দিতে পারে। ডয়চে ভেলে তাদের খবরে জানিয়েছে এবার প্রথমবারের মত বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হলো। সামহোয়্যার ইন ব্লগ টিম এর কোন সংশোধনী পাঠিয়েছে কিনা জানিনা। না পাঠালে এটা অবশ্যই সংবাদদাতাকে পরিস্কার করে জানানো উচিৎ, এ বছর দ্বিতীয়বারের মত বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হয়েছে।

*********************************
মডু’র সাথে পরিচিতি
*********************************
বসে বসে অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষা করছি। ব্লগার জিশান শাহ ইকরাম ফোনে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত একজন ব্লগারের সাথে আলাপরত। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কে কে আসছে? এপাশ থেকে উনাকে বলতে শুনলাম, সব মডু’রা চলে আসছে। আমি তাকিয়ে দেখলাম এবং বুঝলাম, যেহেতু সবার মাঝে উনিও আছেন, তাহলে উনিও একজন মডু!!!!!

************************
অন টাইম শো
************************
বাঙালির অনুষ্ঠান কোনকালেই যথাসময়ে শুরু হয়না, এমন সব জল্পনাকল্পনার মুখে চুনকালি লেপে কথা মত ঠিক ঠিক পাঁচটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পুরো কৃতীত্ব আয়োজকদের অবশ্য অবশ্যই দিতে হবে।

**********************************************
স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ও ঠেলাগাড়িওয়ালা
**********************************************
আমার ধারনা স্ট্যাচু অফ লিবার্টিও মাঝে মাঝে মশাল নামিয়ে হাত ঝাড়া দিয়ে নেয়। অথচ লাভলু’দা পুরো অনুষ্ঠানে নির্বিকার ভঙ্গিতে ওয়েব ক্যাম উঁচিয়ে ধরে রেখেছিলেন এক হাতে। স্ট্যাচু অফ ব্লগার, মূর্তিমান লাভলু’দাকে পুরো মঞ্চে ঠেলা সহায়তা দিয়েছেন ব্লগার জীবনানন্দ দাশের ছায়া। আমি জানিনা উনি ইতিপূর্বে ট্রলি ঠেলার কোন পেশায় জড়িত ছিলেন কিনা। অনেক সময় কোন কোন পোস্টে ব্লগাররা ’দিলাম ঠেলা’ টাইপ মন্তব্য করে। হয়ত এখান থেকেই উনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। আগামীতে যে কোন ঠেলাঠেলিতে তাকে অগ্রগামি ভূমিকায় দেখা যাবে নিশ্চিত।

**************************
খাইদাই
**************************
ফুচকা ঝাল ঝাল মজাদার ছিল। কুড়মুড়ে, মচমচে মজাদার ছিল জিলাপি। এইরকম পাতলা, মচমচে জিলাপি আমার ব্যাপক পছন্দ। এতোক্ষণ এতো এতো জিলাপির প্যাঁচ দিলাম কেবল এই একটা কথা জানার জন্য, অনুষ্ঠানে যে জিলাপি খাওয়ানো হলো, আমার ধারণা সেটা গুলশান-১ এর ফকরুদ্দিন রেস্টুরেন্ট থেকে আনানো। কর্তৃপক্ষ অনুগ্রহ করে এইটা জানিয়ে যান, কোন দোকানের জিলাপি খাইলাম?



পুনশ্চঃ আমি অনুষ্ঠানের মধ্যে দুই দফা গায়েব ছিলাম। কারণ টিটি খেলায় বিজি ছিলাম। কোথাও গিয়ে বছর খানেক পর টেবিল, ব্যাট-বল দেখে না খেলে থাকা গেল না। খেলতে দেয়ার জন্য সামু’র ডেভু’দের ধইন্যা। কিন্তু কেউ যেন না ভাবে টিটি খেলতে গিয়ে আলোচনায় ফাঁকি দিয়েছি আমি। আমার চউক্ষে যে কিছু এড়ায় নাই এই পোস্ট তারই প্রমাণ হয়ে রইল। হুমমমম!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29295439 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29295439 2010-12-24 20:20:53
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের 'লা ম্যারিওনেটা' : বিদায়ভাষ্য ছিল না আদৌ

২০১০-এ মারিও ভার্গাস য়োসার সাহিত্যে নোবেল প্রাপ্তিতে প্রতিক্রিয়া হিসেবে লাতিন আমেরিকার আরেক নোবেল জয়ী গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের (Gabriel Garcia Marquez) টুইটার বার্তা ছিল ’এবার আমরা সমকক্ষ’ ("Cuentas iguales ", অর্থ "Now we're even") । গণমাধ্যমগুলোর অবশ্য এ মন্তব্যের পেছনের কারণটুকু বুঝে নিতে বেগ পেতে হয়নি একেবারেই।

পেরুর মারিও ভার্গাস য়োসা এবং কলম্বিয়ার গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের মধ্যে একসময় যেমন তুমুল বন্ধুত্ব ছিল, তেমনি ঘটনাচক্রে তারা পরস্পর মুখদর্শন পর্যন্ত স্থগিত রাখেন। যদিও নিজমুখে এরা কেউই একে অন্যের বিরুদ্ধে সুষ্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত করেননি, তথাপি অনেকেই ধারণা করে থাকেন য়োসার স্ত্রী’র প্রতি নজর দেয়াই ছিল মার্কেজের চোখে কালো দাগ বসিয়ে দেয়া য়োসার ঘুষির কারণ। সম্পর্কের ইতি বস্তুত সেদিন থেকেই এবং তা জারি রয়েছে আজ অব্দি। এরকম একটি মুখরোচক ঘটনার কারণেই মারিও ভার্গাস য়োসার নোবেল প্রাপ্তির পরপরই গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের নামও উঠে এসেছে গণমাধ্যমগুলোতে।

সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এটি অবশ্য বাড়তি পাওয়া। সমসাময়িক আলোচনা থেকে দু’জন নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের কালজয়ী লেখনীর কথা তারা জানতে পারছেন। ‘একশত বছরের নির্জনতা’ (One Hundred Years of Solitude) -এর মতো একটি ধ্রুপদী উপন্যাসই হয়ত লেখক মার্কেজকে নোবেল এনে দিয়েছিল। তাঁর আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস 'লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা' (১৯৮৫ সালে প্রকাশিত)। ১৯৯৯ সালে লেখক যখন লিমফেটিক ক্যান্সারে ভুগছিলেন তখন তার শারীরিক ক্রমাবনতির গুজব বেশ জোরেসোরেই চালু ছিল। এই গুজবটিকে আরো নিশ্চয়তা দিলো ২০০০ সালের ২৯ মে পেরুর দৈনিক লা রিপাবলিকা’তে প্রকাশিত একটি কবিতা। 'লা ম্যারিওনেটা' (La Marioneta) শিরোনামের কবিতাটির লেখক হিসেবে মার্কেজের নাম এই অর্থ বহন করছিল যে, নিজের শোচনীয় অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কবিতাটি বন্ধুদের উদ্দেশ্যে লিখিত একটি বিদায়ী বার্তা। রাতারাতি এই কবিতাটি অন্যান্য দৈনিকগুলোতেও ছাপা হতে থাকে। এমনকি রেডিও চ্যানেলেও বহুবার এর আবৃত্তি প্রচারিত হয়। আন্তর্জালের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তেও সময় লাগেনি কবিতাটির।

'লা ম্যারিওনেটা' অত্যধিত কল্পনাপ্রবণ ভাবাবেগ ও ক্লিশের মিশেল ছিল যা একজন বড় মাপের লেখকের কাছ থেকে হয়ত অনেকেই স্বাভাবিক অর্থে প্রত্যাশা করেন না। ফলে অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা জন্মে এই কবিতা নিশ্চিতরূপেই লেখকের অন্তিম বাণী। মার্কেজের বন্ধু, ভারতীয় চিত্রনির্মাতা মৃণাল সেন হিন্দুস্থান টাইমস’কে বলেন, এই কবিতা পাঠ করে মার্কোজের সাথে বিশ বছরের বন্ধুত্বের স্মৃতি প্রবাহে ভেসে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও এরপর অতিদ্রুতই পরিষ্কার হয় যে, মার্কেজের শারীরিক অবস্থা আদতে ততটা শোচনীয় নয়। এ পর্যায়ে যে চমকপ্রদ তথ্যটি জানা যায় তা হলো, মার্কেজ আদৌ এই কবিতাটির প্রকৃত লেখক নন। কবিতাটির প্রকৃত লেখকের নাম জনি ওয়েলচ (Johnny Welch), যিনি মেক্সিকোর একজন অখ্যাত অন্তর্বচনকারী (ventriloquist; ভেন্ট্রিলকুয়িস্ট- যে ব্যক্তি দূরাগত স্বরের অনুকরণে কথা বলে। কথা দূর হতে অপরের নিকট আসছে বলে মনে হয়। পাপেট শো’তে পাপেট পরিচালনাকারী যেমন করে মুখ না নেড়ে কথা ধ্বনিত করেন)। ওয়েলচ কবিতাটি লিখেছিলেন তার সঙ্গী পুতুল মোফলস (Mofles) -কে নিয়ে। ঘটনাচক্রে তার নামের বদলে নোবেল বিজয়ী লেখক মার্কেজের নাম ছাপা হয়। মেক্সিকোর ইনফোরেড রেডিও চ্যানেলের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওয়েলচ স্বীকার করেন তিনি যদিও কোন বড় মাপের লেখক নন, তথাপি তিনি নিরুৎসাহিতবোধ করেন যখন কেউ কিছু রচনা করে অথচ তার কৃতিত্ব লাভ করে না ("feeling the disappointment of someone who has written something and is not getting credit.")।

কোন কোন ওয়েবসাইট বলছে, মার্কেজ কখনই প্রকাশ্যে এই কবিতাটি নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। আবার কোথাও বলা আছে, মার্কোজ যথেষ্ট কড়া প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছিলেন এই বলে, এখন লজ্জা ছাড়া আর কী-ই বা আমাকে হত্যা করতে পারে যখন এমন একটি বস্তাপঁচা লেখাকে আমার রচিত বলে অনেকেই বিশ্বাস করছে।

বিখ্যাতদের নাম জড়িত থাকলেই যে কোন ’সাধারণ’ মানের সৃষ্টিকেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করি তার উদাহরণ এই ঘটনাটি অথবা বিপরীতে অখ্যাতদের নামজড়িত কোন ’অসাধারণ’ সৃষ্টি আমাদের কাছে খুব সহজে তাৎপর্য বহন করে না। একারণেই হয়ত বিভিন্ন ইংরেজি ওয়েবসাইটে কবিতাটি এখনও গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বলেই উল্লেখিত হয়ে আসছে।

কী বক্তব্য ছিল ছিল সেই তুমুল আলোচিত কবিতাটিতে যা এতোটাই আপ্লুত করলো বিশ্ববাসীকে? পাঠকের সুবিধার্থে কবিতাটির একটি বাংলা অনুবাদ দাঁড় করিয়েছি।

***********************************************
''নাচের পুতুল”
**********************************************

ঈশ্বর যদি ক্ষণিকের জন্য ভুলে যেতেন আমার পুত্তলিকা পরিচয় এবং
আমাকে দিতেন এক খণ্ড জীবন,
যথাসম্ভব আমার ভাবনার সবটুকু থাকতো অব্যক্তই,
তবে যেটুকু বলতাম তার পুরোটা ভাবতাম নিশ্চয়ই।
আমি তো জৌলুসে মজে বস্তুর মূল্য ধার্য করি না
ওগুলো কতটা অর্থবহ আমার কাছে বিবেচ্য তাই।
আমি বরং ঘুমুবো অল্পস্বল্প, স্বপ্ন দেখবো বেশী।
আমি তো জানি প্রতিবার পলক বুঁজলেই
আমরা হারিয়ে ফেলি আলোকের ষাটটি সেকেণ্ড।
যখন অন্যেরা প্রতীক্ষারত, আমি হেঁটে যাবো সেইক্ষণে;
আমি হেঁটে বেড়াবো অন্যেরা যখন অচেতন গভীর ঘুমে।
সবার কথার শ্রোতা হবো আমি,
আর কি করেই বা আমি একটি সুস্বাদু চকলেট আইসক্রিমের আস্বাদ নিতে পারি।

যদি ঈশ্বর এক টুকরো জীবন ছুঁড়ে দিতেন আমার দিকে,
নিতান্তই সাধারণ হতো আমার পরিধেয়,
নিজেকে নিক্ষেপ করতাম সূর্যতলে,
শুধু দেহই তো নয়, উন্মুক্ত করতাম আমার আত্মাকে-ও।
ওহ! আমার ঈশ্বর, যদি হৃদয়াধিকারী হতাম,
তবে লিখে রাখতাম বরফের চাঁইয়ে ঘৃণা যত,
প্রহর যেতাম গুনে কখন সূর্য হবে আবির্ভূত।
আমি ভ্যানগগের স্বপ্নকে লালন করে
তারায় তারায় এঁকে দিতাম বেনেদেত্তি’র কাব্য,
আর সেররাতের সংগীত হতো চাঁদের প্রতি আমার অর্ঘ্য।
আমার অশ্রুজলে গোলাপেরা সিক্ত হতো রোজ,
আমি অনুভব করতাম ওদের কাঁটার যন্ত্রণা,
আর তাদের পাপড়ির শরীরী চুম্বন…
ওহ! ঈশ্বর, যদি পেতাম কেবল এক মুঠো জীবন…
ভালবাসি। প্রিয়জনদের এ কথা না বলে
গত হতে দিতাম না একটিও দিন।
নারী-পুরুষ জনে জনে আমি বোঝাতামই
তারা আমার ভীষণ রকম প্রিয়,
আর আমি বাস করতাম প্রেমে, প্রেমময় সংস্বর্গে।
আমি প্রমাণ করে দিতাম মানুষের কাছে,
কত ভ্রান্তই না তারা ভাবে,
বলে পরিণত বয়সে প্রেমে মজবেনা আদৌ
-ওরা জানেই না প্রেমে না জড়ালেই তো মানুষ বয়সী হয়ে যায়।
আমি শিশুকে দিতাম ডানা, শেখাতাম কী করে উড়তে হয় নিজে নিজে।
বুড়োদের শেখাতাম জরাজীর্ণ বয়সকে সাথী করে মৃত্যু আসে না, আসে বিস্মৃতি থেকে।
মানুষ, আমি শিখেছি অনেক তোমাদের কাছ থেকে।
আমি শিখেছি সবাই যে চায় পর্বত শিখরে নিবাস,
অথচ এতটুকু উপলব্ধি জাগেনি ওদের
ঢাল বেয়ে চড়াতেই সত্যি-সুখের আবাস।
আমি শিখে গেছি, সদ্য ভুমিষ্ঠ শিশুর ছোট্ট বন্ধ মুঠো
পিতার আঙ্গুল নিয়ে যখন প্রথম মন্থনরত,
সে তাকে আটকে ফেলে চিরদিনের মতো ।
আমি শিখেছি, নিচে তাকিয়ে একজন মানুষের অন্য মানুষকে দেখার যে অধিকার
তা কেবল তখনই যখন উঠে দাঁড়াতে সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে অন্য জনার ।
আমি তো শিখেছি অনেক কিছুই তোমাদের কাছ থেকে,
যার অধিকাংশই অকেজো পরিশেষে।
কারণ যখন ওরা আমাকে স্যুটকেসবন্দি করবে,
দুর্ভাগ্যবশত আমি তখন মৃত্যুপথযাত্রী।

'লা ম্যারিনেটা' বা 'দ্য পাপেট' এর ইংরেজি অনুবাদ করেন ম্যাথিউ টেইলর ও রোসা এ্যারেলিস টেইলর (Matthew Taylor and Rosa Arelis Taylor)। ওপরের অনুবাদটি ইংরেজী অনুবাদের ওপর ভিত্তি করেই রচিত। পাঠকের সুবিধার্থে ইংরেজি অনুবাদটি দেয়া হলো।

******************************
''The Puppet
******************************

If for a moment God would forget that
I am a rag doll and give me a scrap of
life, possibly I would not say
everything that I think, but I would
definitely think everything that I say.
I would value things not for how
much they are worth but rather for
what they mean.
I would sleep little, dream more. I
know that for each minute that we
close our eyes we lose sixty seconds
of light.
I would walk when the others loiter; I
would awaken when the others sleep.
I would listen when the others speak,
and how I would enjoy a good
chocolate ice cream.
If God would bestow on me a scrap of
life, I would dress simply, I would
throw myself flat under the sun,
exposing not only my body but also
my soul.
My God, if I had a heart, I would write
my hatred on ice and wait for the sun
to come out. With a dream of Van
Gogh I would paint on the stars a
poem by Benedetti, and a song by
Serrat would be my serenade to the
moon.
With my tears I would water the roses,
to feel the pain of their thorns and the
incarnated kiss of their petals...My
God, if I only had a scrap of life...
I wouldn't let a single day go by
without saying to people I love, that I
love them.
I would convince each woman or man
that they are my favourites and I
would live in love with love.
I would prove to the men how
mistaken they are in thinking that they
no longer fall in love when they grow
old--not knowing that they grow old
when they stop falling in love. To a
child I would give wings, but I would
let him learn how to fly by himself. To
the old I would teach that death
comes not with old age but with
forgetting. I have learned so much
from you men....
I have learned that everybody wants
to live at the top of the mountain
without realizing that true happiness
lies in the way we climb the slope.
I have learned that when a newborn
first squeezes his father's finger in his
tiny fist, he has caught him forever.
I have learned that a man only has the
right to look down on another man
when it is to help him to stand up. I
have learned so many things from
you, but in the end most of it will be
no use because when they put me
inside that suitcase, unfortunately I
will be dying.

---------------------------------
তথ্যসূত্রঃ
http://www.museumofhoaxes.com/marquez.html
Click This Link
Click This Link
---------------------------------
লেখাটি প্রথম প্রকাশিত (২৯শে নভেম্বর ২০১০) হয়েছিল সাময়িকী'তে।
- http://www.samowiki.com/details.php?id=282
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29293260 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29293260 2010-12-20 23:14:35
শ্রদ্ধার্ঘ্যঃ আন্তর্জালে বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে তথ্য বিভ্রাট নিরসন করতে পারে ’ডিজিটাল-বান্ধব’ সরকার ও প্রজন্ম
একজন বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ থাকবেই। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ প্রেক্ষাপটই আমাদের মূল প্রতিপ্রাদ্য জুড়ে থাকে। ১৯৭১ সালে তথ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি এখনকার মত অত্যাধুনিক ছিলনা নিঃসন্দেহে। তাই পরবর্তীতে সেসময়ের যোগাড় করা ছবি, দলিল, পত্রিকা ইত্যাদিকে সহজলভ্য করতে আন্তর্জালে এগুলো একে একে ডিজিটাল ফরম্যাটে যুক্ত হতে থাকে বিভিন্ন উদ্যোগে। তথ্য যোগ হতে থাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। ব্যক্তিগতভাবেও। । স্বাধীনতার বিরোধীশক্তিদের ইচ্ছাকৃত তথ্যবিকৃতি একটি সতর্ক পর্যবেক্ষণমূলক বিষয় কিন্তু এর বাইরেও আমাদেরই বেখেয়ালে তথ্যবিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

অভিজ্ঞতাটি ব্যক্তিগতই। বছর খানেক আগে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদের আটত্রিশতম শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁর স্বরণে আমার লেখা ব্লগে এই সূর্যসন্তানের কিছ দূর্লভ ছবি সংযুক্ত করার ইচ্ছে পোষণ করি। সেরকম কিছু না পেয়ে অবশেষে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে তাঁর নামে পাওয়া একটি ছবিকেই ব্লগে ব্যবহার করি । আসলে একটি চলমান ভুলকেই অনুসরণ করেছিলাম। অনলাইন থেকে প্রাপ্ত সেই ছবিটি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ছিলনা । ছিল বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন -এর। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদকে নিয়ে লেখা ব্লগে পাঠক-ব্লগাররা তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেও ছবি বিভ্রাটটুকু কারোরই নজরে আসেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্লগার ’মলিকিউল’ ছবিটি নিয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেন। ব্লগার ’মলিকিউল’ তার সংশয়ের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাল ঘেঁটে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি নিয়ে আরো বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পান। বিষয়টি সবার নজরে আনার নিমিত্তে নাম ও ছবি সঠিকভাবে তুলে ধরেন তার ব্লগে ।

এরপর বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অথচ ওয়েব সাইটে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ও ছবি বিভ্রাট তেমনই রয়ে গেছে। বলা ভালো, অজান্তেই এই ছবি বিভ্রাটের শিকার হয়ে আমরাই বিভ্রান্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলেছি। আরো ছড়িয়ে দিয়েছি ইতিমধ্যে। অনলাইনে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম দিয়ে ছবি খুঁজতে গেলে ’সার্চ রেজাল্ট’ থেকে প্রাপ্ত ওয়েব লিংকগুলোতে ছবি বিভ্রান্তি চোখে পড়ছে । বীরশ্রেষ্ঠ রূহুল আমিন -এর ক্ষেত্রে তাঁর সঠিক ছবির পাশাপাশি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান -এর ছবিকেও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নামকরণে দেখা যায়। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন -এর ছবির নামকরণ অনেক ওয়েব সাইটে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ হিসেবে দেখা যায়। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ছবি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আন্তর্জালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ছবির বদলে অনেক ক্ষেত্রেই বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ছবি ব্যবহার হচ্ছে। কেবলমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. এম মতিউর রহমান এবং বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ছবি নিয়ে এই বিভ্রান্তি চোখে পড়েনা। সম্ভবত পেশাগত উচ্চপদবী সহায়ক ছিল এঁদের সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রাপ্তিতে।


(মূল গ্রাফিক্সটি ব্লগার মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরী'র পোস্ট থেকে নেয়া- Click This Link)

ছবি বিভ্রান্তির সূত্রপাত কোথা থেকে তা বলা মুশকিল। এক সময় মূর্চ্ছনা.কম ওয়েব সাইটটিতে বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে এই ছবি বিভ্রাট দেখা গিয়েছিল। ২০০৯ সালের ২৪শে মার্চ বিডিনিউজ২৪.কম -এর ’কিডজ’পাতায় সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের সংক্ষিপ্ত সচিত্র বিবরণী দেয়া হয়। এখানে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সম্পর্কিত তথ্যের সাথে ছবি ব্যবহার করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের । বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ছবি । বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মুনশী আবদুর রউফের ছবি। অর্থ্যাৎ সেই গতানুগতিক ছবি বিভ্রাটে বিভ্রান্ত একটি সন্দর্ভ। এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্মসাল লেখা হয়েছে ১৯৪৫। অথচ বাঙলা উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্লগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম তারিখ ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ উল্লেখ করা আছে। উল্লেখ্য যে, রচনাটির শেষে তথ্যসূত্র হিসেবে বাঙলা একাডেমী চরিতাবিধান এবং সম্পাদনায় সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলামের নাম ছিল। তবে ব্যবহৃত ছবিগুলো দেখে বোঝা যায় তা আন্তর্জাল থেকে সংগ্রহিত।


(বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্মসাল ১৯৪৫ নাকি ১৯৫৩? দু'রকম তথ্যই পাওয়া যাবে বিভিন্ন লেখনীতে)

তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে উইকিপিডিয়া যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য সবার কাছে । তথাপি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল এর মৃত্যু তারিখ নিয়ে এই সাইটে স্পষ্ট অসংগতি চোখে পড়ে। বর্ণনায় মৃত্যুর তারিখ হিসেবে ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ উল্লেখ থাকলেও পাশাপাশি এই বীর সিপাহীর সমাধি শিলালিপির ছবি দেয়া আছে, যেখানে স্পষ্ট করে মৃত্যু তারিখ হিসেবে খোদিত রয়েছে ১৮ই এপ্রিল ১৯৭১। আন্তর্জালে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মসাল কোথাও ১৯৩৪ আবার কোথাও ১৯৩৫ পাওয়া যায়। নামের বানানেও ভিন্নতা লক্ষ্য করার মত। বাঙলা ব্লগের ব্লগাররাও অজান্তে এধরণের বিভ্রান্তির পরিসর বৃদ্ধি করছেন। কমিউনিটি ব্লগগুলোতে বেশ কিছু ব্লগারের লেখায় বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ও ছবি অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়বে। ওয়ার্ডপ্রেসে অনেকের ব্যক্তিগত ব্লগগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই তথ্য বিভ্রান্তি। বাঙলা উইকিপিডিয়াতে পৃথক পৃথক লিংকে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের সংক্ষিপ্ত জীবনি পাওয়া গেলেও সাথে ছবি না থাকায় এই বিভ্রাট নিরসনে আপাতত নির্ভরযোগ্য কোন ওয়েব সাইট তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না ।



মুক্তিযুদ্ধ যেহেতু ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাই এর যে কোন তথ্যের ভুল প্রচার কাম্য নয় কোনভাবেই। কাম্য নয় মুক্তিযুদ্ধের সূর্যসেনাদের নিয়ে কোন প্রকার তথ্য বিভ্রান্তি। এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় এবং তথ্য মন্ত্রনালয় কতটুকু অবগত তা বোধগম্য নয়। যদি বিষয়টি তাদের জানার বাইরে থাকে তাহলে বুঝতে হবে এখনও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার মত উপযোগী হয়ে ওঠেনি এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়। এই দুই মন্ত্রনালয়ের সমন্বয়ে একটি ’মনিটরিং সেল’ গঠন করা উচিৎ যেখানে আন্তর্জালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যে কোন তথ্যবিভ্রান্তি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এবং তা নিরসনে উপযুক্ত উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি সঠিক তথ্য প্রচারে অনলাইন পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকগণের এবং কমিউনিটি ব্লগের ব্লগারগণের সামান্য পড়াশোনা ও সতর্কতা এই বিভ্রান্তির আশু অবসান ঘটাতে পারে।


(বীরশ্রেষ্ঠ "রুহুল আমিন" নাকি বীরশ্রেষ্ঠ "রূহুল আমিন"? এবং জন্মসাল ১৯৩৪ নাকি ১৯৩৫? নামের বানান ও জন্মসালের দু'রকম প্রচলনই পাওয়া যায় আন্তর্জালে। )

সঠিক তথ্য একজন অনুসন্ধিৎসুকে সঠিকভাবে জ্ঞানবান করতে পারে। তথ্য আদান-প্রদান, প্রচার ও ব্যবহারে দ্বায়িত্ববান হওয়াটা তাই জরুরী এবং তা নিজেদের স্বার্থেই। আন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ুক সাত বীরশ্রেষ্ঠদের সঠিক তথ্য । বিজয়ের মাসে বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি এই হোক আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

-------------------------------
লেখাটির পরিমার্জিতরূপ প্রকাশিত হয়েছে আজকের (১২ই ডিসেম্বর ২০১০) দৈনিক সমকালে। - Click This Link
--------------------------------
বছর খানেক আগে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদকে নিয়ে লেখা ব্লগ পোস্ট-
Click This Link
--------------------------------
সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে লেখা একটি কবিতা- Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29288494 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29288494 2010-12-12 22:52:42
উৎসর্গঃ ডারলিং তেরে লিয়ে …
আমি এলাইভ আর আয়োজন চলতেসে লাইভ! আজ আমি আর বৈশাখী দু’জনে দু’জনার ।

বেগুনী উপস্থাপিকার কাছে জানতে পারলাম “বিজয়ের মাসে” এটি বাঙালির জন্য একটি বৃহৎ আনন্দের আয়োজন। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ”গিয়ানগর্ভ” আলোচনা থেকে জানতে পারলাম ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দিয়েছিল। তাই ভারতীয় শিল্পীর আগমনে আমরা গর্বিত। আরো দেখতে পেলাম, এক অতি আপ্লুত নারী আলোচকের বড় ভাই লাগেন তাবৎ দুনিয়ার ডন শাহরুখ খান!

দর্শকদের দাবি ছিল এই অনুষ্ঠান থেকে যেন আমরা কিছু শিখতে পারি। সেই মতে গায়ে কাঁটা লাগলে কী করতে হয় তা এবার শিখলাম আমরা।

কাঁটা লাগাআআআ'র প্রতিষেধক শেখার প্রতি আমাদের যে নিরন্তর আগ্রহ তা উপস্থিত দর্শকের চোখেমুখে ঝলকাইয়া উঠছে বারবার।

আমরা আরো জানলাম, সাতটি ধর্মের পর অষ্টম ধর্ম হ্‌ইল শাহরুখ-ইজম! তখনই বুঝতে পারলাম ব্লগে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কে আরো একটা মশলা যোগ হইল।

যারা শাহরুখের পক্ষে পোস্ট দিতেসেন তারা শাখরুখ-আস্তিক। যারা বিপক্ষে দিতেসেন তারা শাহরুখ-নাস্তিক! হক মাওলা ! থুক্কুহ ! say শাবা শাবা!

আপনি যদি এই মহাযজ্ঞের সাক্ষী এখনো না হয়ে থাকেন তাইলে আপকা কা কেয়া হোগা জানাবে আলী?

(আমি যে সাক্ষী এইটার একটা পরমাণ তো থাকা দরকার। তাই এই ফরমান জারি পুস্ট)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29287173 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29287173 2010-12-10 20:48:11
ফলবাজারের তাজা খবর মালটার আগ্রাসনে।
বহুবর্ষের কোয়া কোয়া রাজত্ব মালটার প্রকোষ্ঠে মুখ থুবড়ে পড়েছে আজ।
উন্নত মেরুর সুডৌল মালটা
পাশে চিমসে যাওয়া আদি কমলার ইতস্তত পড়ে থাকা
সেয়ানা দোকানীরা খদ্দেরের সম্মুখে ঠেলে দেয়
রূপ। রঙ। রস।
লালায়িত কর্পোরেট জিহ্ববা মজে যায় মালটার উজ্জ্বল গাত্রবর্ণচ্ছটায়
মালটার ফালি বেয়ে বুঁদ বুঁদ অহং গড়ায়
পরাস্ত কমলা পড়ে থাকে একদা-এক সময়ের ঝুড়িতে
উৎসুক চোখে সদ্য আগত ক্রেতাটি দেখে
ফলবাজারের ছত্রে ছত্রে মালটার জয় জয়কার।

পত্রিকার কাটতি বেড়ে আকাশচুম্বী
শিরোনামে স্বনামধন্য ফলবিদের উক্তি-
”মালটা একটি আগ্রাসী ফল”।


--------------------------
১০ নভেম্বর ২০১০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29276542 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29276542 2010-11-23 17:05:30
নারী উত্ত্যক্তকারীদের (ইভ টিজার) বেপরোয়া আগ্রাসন এবং পরিনামে নারীর আত্মহননঃ দায়ভার পরিবার-সমাজ-সরকারের উপরও বর্তায় ’বাঁচার জন্য’ নারীর কেবল আত্মহননের পথই খোলা থাকে? নাকি এই আত্মহনন সমাজে নারীর কোনঠাসা অবস্থানের যে মর্মান্তিক পরিসংখ্যান তারই একটি সচিত্র বহিঃপ্রকাশ?

সত্যটা যদি এমনটাই হয় যে, কিছু উশৃংখল যুবকের ক্রমাগত নোংরা আক্রমণেই উঠতি বয়সী নারী অপমান আর লজ্জায় প্রথমত আত্মহননকেই বেছে নিচ্ছে তাহলে নরকীটদের বদলে এইসব 'দূর্বলচিত্তের’ নারীদের নিয়ে ভাবাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দূর্বলতা পুরুষ অপেক্ষা নারীর আপাত শারীরিক অবকাঠামোগত, সামর্থগত দূর্বলতা নয় বরং ’মানসিক দূর্বলতা’। এবার একধাপ গভীরে গেলে নারীর মানসিকভাবে দূর্বলতম হয়ে বেড়ে ওঠার উৎস হিসেবে উশৃংখল বখাটেদের নয়, বরং মূর্তিমান ’সমাজ ব্যবস্থাকেই’ পাওয়া যাবে। যেখানে কোন নারীকে নিয়ে অশ্লীল কেচ্ছাকাহিনী রটলে রটনাকারীর নয়, বরং সমাজ কর্তৃক খোদ ঘটনার শিকার নারীটির জীবন অতিষ্ট হয়ে ওঠার বহু ইতিহাস পাওয়া যায়। আর তখন ’বেচারী’ নারী মুখ লুকাতে চোখের সামনে একটি পথই উন্মুক্ত পায়- গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা। বিষ পানে আত্মহত্যা। এইসব জীবনের ’অপচয়’ যে সমাজের কিছু ভ্রান্ত দৃষ্টিকোণের কারণে উদ্ভূত সামাজিক অসহযোগীতার ফলাফল, সে কথা সমাজকে বোঝাবে কে? ২০ জন নারীর আত্মহত্যার কারণ দর্শিয়ে প্রত্যক্ষ ইন্ধনদাতা হিসেবে বখাটেদের আদলতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটা যেমন জরুরী, তেমনই প্রয়োজনীয় পরোক্ষ ইন্ধনদাতা হিসেবে একতরফা সমাজ ব্যবস্থাকে বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটা।

আদালত বলতেই মনে পড়বে রাষ্ট্রের আইনব্যবস্থার কথা। নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা। ঠিক কতগুলো জীবন বিসর্জিত হলে রাষ্ট্র তার সামাজিক অবক্ষয় সম্পর্কে অবগত হয়ে বিশৃংখলা কায়েমকারীদের নিয়ন্ত্রণে নিতে শাস্তির বিধান করে আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হয়? যতদূর মনে পড়ে নব্বই দশকে এসিড সন্ত্রাস মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে কোক-পেপসির মত এসিড কেনাবেচা হতো সেসময়। আর প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী নারীর ’পোড়া মুখের’ কাতরতা গুঞ্জরিত হতো পত্রিকার পাতায়। ঝলসে যাওয়া মুখের নারীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে সরকার ২০০২ সালে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করে। কিন্তু সেই আইন সয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং এসিড সন্ত্রাসরোধে যথেষ্টও নয়। পরিসংখ্যানে দেখা ২০০৬ সালে নারী-পুরুষ-শিশু মিলিয়ে ৪৭ জন এসিড সন্ত্রাসের স্বীকার হয়। ২০০৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৮। ১৯৯৯ সালে মে থেকে ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত কেবল মাত্র সিরাজগঞ্জেই ১১৪ জন এসিড আক্রান্ত হয় । এসিড সন্ত্রাস ঘটনাগুলোর পেছনেও ছিল নারীকে উত্ত্যক্তকরণ । স্কুল-কলেজে উৎপাত, প্রেম অথবা বিয়ের প্রস্তাব এবং প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি। এবং প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে এসিড নিক্ষেপ। অতএব, নারীকে শারীরিক-মানসিকভাবে হেনস্তা করার নানারূপের উশৃংখলতা নতুন কিছু নয়।

উশৃংখলতার বর্তমান যে শিরোনামটি বহুলচর্চিত তা হচ্ছে ইভ টিজিং। দূর্ভাগ্যজনক হলো একটা লম্বা সময় পর্যন্ত ইভ টিজিং অনেকটা হাসিঠাট্টার বিষয় হয়েছিল। অনেকটা যেন ছেলেরা তো দু’চারটে ’টুকরো কথা’ বলবেই সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে। কিন্তু এই টুকরো কথাগুলো নারী এবং তার পরিবারের জীবনে ছন্দপতন ঘটাচ্ছে অনেক বেশীই। ইভ টিজিং কি শুধুই টুকরো কথাতেই সীমিত? বেখেয়ালে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই একজন পুরুষ একজন নারীকে ধাক্কা দিলেন। ভিড়ের মধ্যে গায়ে হাত দিলেন। এখানে মুখে কোন টুকরো টুকরো অশ্লীল বুলি নেই, কিন্তু শারীরিক অঙ্গভঙ্গিতে অশ্লীল ইঙ্গিত/আচরণ তো ঠেকিয়ে রাখা গেল না। এই অশ্লীলতাও তো নারীকে ’শারীরিকভাবে বিব্রত’ করার ভাষা।

ইভ টিজিং কারা করে? ঠোঁটের আগায় উত্তর রয়েছে সবার। বখাটেরা। উশৃংখল ছেলেরা। বিশ্ববিদ্যালয়প্রাঙ্গনেও ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটে। ওরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুনের দল নাকি বখাটেরা? দু’চার বছর আগে বইমেলাতে নারী দর্শনার্থীদের বিব্রত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে বেশ কিছু খবর দেখানো-ছাপানো হয়েছিল গণমাধ্যমগুলোতে। এই ইভ টিজাররা কারা? কোন শ্রেনীর বখাটে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের ঘুরঘুররত এসব নারী উত্ত্যক্তকারী আর নিঝুরি গ্রামের ইভ টিজার সুশীল চন্দ্র ম-লের মধ্যে পার্থক্য কী কী? 'কোন ইভ টিজাররা বখাটে গোত্রভূক্ত’ সে সংজ্ঞা নিরুপনের সময়টা এখনই।

এতো গেল ইভ টিজিং এর ’কাল-পাত্র’ নিয়ে কথা। ইভ টিজিংয়ের স্থানগুলো নিয়ে জানা যাক। মেয়ে অথবা নারী কোথায় কোথায় বখাটেদের উপদ্রবের স্বীকার হচ্ছে?

- স্কুল-কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও। স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে কি গ্রাম কি শহর বিশেষত ’বালিকা বিদ্যালয়/উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর’ বাইরে অগনতি ছেলেদের দাঁড়িয়ে থাকার চিত্রটি সবখানেই একই। বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের চিত্রটিও যে খুব সুস্থ নয় তারও বহু নজির রয়েছে। আর তাই শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী লাঞ্ছিনার বিচার চাইতে গণ আন্দোলনে নামতে হয় আমাদের।

-যে কোন মেলায়। সেটা বইমেলা হোক অথবা বাণিজ্যমেলা। ’বিশেষ সুযোগলাভে’ ভিড়ভাট্টাই বড় কথা বখাটেদের জন্য।

- পাবলিক বাস। সেই ভিড়ভাট্টার মধ্যে সুযোগ বুঝে পুরুষ তার হাতের ’কাম’ মিটিয়ে নিচ্ছে। এখানে সেইসব ’কামোদ্দীপ্ত বাসযাত্রীরা’ বিভিন্ন বয়সী। বিভিন্ন পেশাজীবি এবং শ্রেণীর। এদেরকে তথাকথিত বখাটে সংজ্ঞাতে ফেলা যায়না। তাহলে নারী উত্ত্যক্তকারীদের কেবলমাত্র ’বখাটে’ উপাধি দিলে বিষয়টা অনেক হালকা হয়ে যায়।

- কর্পোরেট হাউজ। পেশাগত জীবনে সহকর্মী অথবা বসদের দ্বারাও ’ইঙ্গিতপূর্ণ আহ্বানের’ মুখোমুখি হতে হয় অসংখ্য নারীকে। এই উদাহরণের পর ’বখাটেদের’ সংজ্ঞা নিয়ে আমাদের ভাবনার পরিধির আরো প্রসারণ ঘটানো জরুরী হয়ে পড়ে।

- আন্তর্জাল। এটিকে ’ডিজিটাল ইভ টিজিং’ বলা যেতে পারে। ওয়েব সাইট, ব্লগ এগুলোতে নারী যে কারো দ্বারা, যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারেন। অশ্লীল উক্তি, ইঙ্গিতপূর্ণ কথা এবং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্যাদি নিয়ে বহুমাত্রিক স্যাবোটাজের স্বীকার হতে পারেন নারী আন্তর্জালে। নারীর অসম্মতি সত্ত্বেও ইনিয়েবিনিয়ে নারীকে প্রেমের প্রস্তাব এবং প্রত্যাখানে সুকৌশলে হেনস্তা করার কিছু নজিরও ব্লগগুলোতে দেখা যায়। কমিউনিটি ব্লগ ও অজস্র ’ফ্রি’ সাইট খোলার সুযোগ থাকার কারণে এইসব তথ্যাদি চোখের পলকে নামে-বেনামে, ইচ্ছেমত ছড়িয়ে দেয়া যায় । কমিউনিটি ব্লগে আক্রান্ত নারী ব্লগাররা যখন কিছু সহব্লগার কর্তৃক আক্রান্ত হন, তখন ’বখাটেদের’ নিয়ে সংজ্ঞা নিয়ে আরো একবার ভাবনার অবকাশ একটি অবশ্যম্ভাবি বিষয়।
ইভ টিজিংয়ে আক্রান্ত নারীর পরিবার কী প্রতিকার নিচ্ছেন? এই ২০১০ সালে এসেও দেখা যাচ্ছে মেয়ে সন্তানের মঙ্গলার্থে তার পরিবার মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে দিচ্ছে এবং তারপর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তড়িঘড়ি করে মেয়েটির বিয়ে দেয়ার। ইভ টিজিংয়ের সূদূর প্রসারী কূফল কি টের পাচ্ছেন?

- একটি মেয়ে তার শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

- স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে।

- শারীরিক/মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই বিয়ে করে সংসার জীবনে দ্বায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

- সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রতি এই মেয়েটিও যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতো এই ব্যাপারে সে অজ্ঞই থেকে যাচ্ছে।

- যে মেয়েটিকে তার পরিবার থেকে ইভ টিজিংয়ের মত ঘটনায় সাহসী কোন সমাধান পায়নি সে ভবিষ্যতে তার মেয়ে সন্তানকে কতটা সাহসী সহযোগীতা দিতে সক্ষম হবে?

- নতুন জীবনে স্বামীটি যদি মেয়েটিকে পূর্ণ সহযোগীতা না করে তবে কী হতে পারে স্বল্প শিক্ষিত এই মেয়েটির ভবিষ্যৎ জীবন?

তাহলে প্রকৃত প্রতিকার কী হতে পারে? আইন প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এক্ষেত্রে। এবং ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনের কার্যকরণ। আইন প্রণয়ণের পূর্বে জরিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নয়তো সে আইন অদূর ভবিষ্যতেই তার বাস্তবিক কার্যকারিতায় দূর্বল প্রমাণিত হবে। এবং প্রতিবার কারো না কারো জীবনাবসানের পর সেই আইনের সংস্কারে অথবা নতুন আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হবে সরকার। এটা অদূরদর্শীতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এধরনের আইন প্রণয়নের পূর্বে প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে জরিপ চালিয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করা যেতে পারে। আইন কার্যকরণের ক্ষেত্রে পরিবেশ আরো গুরুত্বপূর্ণ । মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এমনিতেই আমজনতা এড়িয়ে চলে। তারওপর যদি তা নারী সংক্রান্ত হয়। এটা একরকম প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, নির্যাতীত নারী যদি বিচারের আর্জি নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হন, তবে বিচার প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদকালীন সময়ে ’নানারকম’ প্রশ্নবানের সম্মুখীন হতে হয়। যার উত্তর দিতে অধিকাংশ সময়ই নারী এবং তার পরিবার স্বভাবতই বিব্রত-কুণ্ঠিত থাকেন। এই বিড়ম্বনা এড়াতে অন্তত মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা মুখ বুঁজে অনেক অনাচার সয়ে যান। এবং সন্মান রক্ষার্থে পরিবারের সদস্যরাও নারীটির জন্য আইনের সরনাপন্ন হতে নিরুৎসাহিত বোধ করেন।

ইভ টিজিং অথবা নারী উত্ত্যক্তকরণ কিংবা নারী নির্যাতন বা নারীর প্রতি যৌন সন্ত্রাস রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি জোড়ালে আহ্বান উঠেছে রাজপথ, মূলধারার গণমাধ্যম এবং বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে আন্তর্জালের কমিউনিটি ব্লগগুলোতে। সামাজিক প্রতিরোধের পূর্বশর্ত হলো প্রতিটি পরিবারগুলোর নিজস্ব সচেতনতা, সাহসীকতা এবং সহযোগীতা। একেকটি পরিবার যদি তার মেয়ে সন্তানটির পাশে বলিষ্ঠতা নিয়ে দাঁড়ায় তাহলে অন্তত মেয়ে সন্তানটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে না। এবং ’সমাজে মুখ দেখাবে কী করে’ সেই আড়ষ্ঠতায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেনা। ”ক্ষমা করে দিয়ো বোন আমাদের। বখাটেদের হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না তোমাদের” - বোনের মৃত্যুতে ভাইয়ের কাতর অভিব্যক্তির প্রতি যথাযথ সন্মান রেখেই বলতে ইচ্ছে করে, বোনটিকে আত্মরক্ষার্থে লড়াই করার যোগ্য করে গড়ে তুলিনা কেন আমরা ?

সঠিক শিক্ষা নারীকে শিশুকাল থেকেই আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলবে। সব সমস্যা একা মোকাবেলা করা হয়ত যায়না, কিন্তু যে কোন অঘটনকে মোকাবেলার ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরী। ছোটকালে পড়েছিলাম চীন-জাপানের বাচ্চারা ছোটবেলা থেকেই নাকি কুংফু-কারাতে পারদর্শী। ভারতে বেশ কয়েক বছর ধরে স্কুটি বলে পরিচিত ভেসপা মোটর সাইকেলগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নারীদের কাছে। এতে বাসের পেছনে ছোটা এবং বাসের ভিড় এড়াতে পারছে তারা সহজেই। মালয়শিয়াতে মুসলিম নারীরা বাস এড়াতে মোটর সাইকেল ব্যবহার করেন নিজস্ব পর্দাপ্রথা মেনে চলেই। আমরা বোনের লাশ নিয়ে মাতম করতে পারি কিন্তু আত্মরক্ষার্থে বোনকে কুংফু-কারাতে শেখার সুযোগ করে দেয়ার কথা আমাদের মস্তিস্কে একবারও আসে না। আর আমাদের বোনেরা/ নারীরা ভেসপা চালালে তো জাতই চলে যাবে আমাদের।

ইভ টিজিংয়ের কারণ কী? অথবা ইভ টিজিং বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? কেউ কেউ অনেক সাহসী হয়ে বলেন, আজকালকার মেয়েরা এমন ’হট’ চলাফেরা করে, ফলে ইভ টিজিং, নারী ধর্ষণ তো বাড়বেই। তাহলে ধরে নিচ্ছি ইভ টিজিংয়ের শিকার ’স্কুল-ইউনিফর্মধারী’ প্রতিটি মেয়েই অনেক ’হট’ । নিঝুরী গ্রামের রুপালী রানী বরাতিও অনেক ’হট’ ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমদেশগুলোতে একরকম বাধ্যগত পর্দাপ্রথা মেনে চলা যে সকল নারীগণ অহরহ নির্যাতীত হচ্ছেন তারাও নিঃসন্দেহে ’হট’। এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার মেয়েশিশুরাও তাহলে ’হট’। এখানে অনেকেই বলেন ধর্মীয় অনুসাশন মোতাবেক চললে এধরণের ঘটনা ঘটবেনা। ধর্মীয় অনুশাসন কারা মেনে চলবে? ইভ টিজার বখাটে ছেলেটি? নাকি ইভ টিজিংয়ে বিব্রত মেয়েটি? অনেক বক্তাই এক্ষেত্রে বিষয়টি ঘোলাটে রাখেন। কেউ খুব পরিস্কায় বাংলায় (অথবা ইংরেজীতে) বলেন না যে, প্রতিটি পুরুষের জন্য তার শিশুকাল থেকে ধর্মকর্ম, নীতিবোধের চর্চা করা ফরজ যাতে যে বাড়ন্ত থেকে ঢলে পড়া বয়স পর্যন্ত রিপুর তাড়না থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চাকে দায়ী করা যায়। বাবা-মায়ে’র মধ্যকার বিরাজমান টানাপোড়েন, সংসারিক ঝগড়া সন্তানদেরও মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরী করে। সন্তান এক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়, প্রতিশ্রুতিহীন হয়। সাংসারিক এইসকল জটিলতায় ছেলে এবং মেয়ে সন্তান উভয়েই বিপথগামী হতে পারে। তবে সমাজ যেহেতু বরাবরই পুরুষকে অনেক ছাড় দিয়ে রাখে তাই পুরুষের নেতিবাচক কীর্তিগুলো প্রকাশিত হওয়ার সুযোগও থাকে বেশী। অপরদিকে রাষ্ট্র সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা এবং পরিবেশ পালনে ব্যর্থ হলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ঝুঁকে পাড়ে নিষিদ্ধ বিনোদনের দিকে ।

ইদানীংকালে বখাটেদের দৌরাত্বে যে স্কুল শিক্ষককে হারালাম, যে মা’কে হারালাম তাদের হত্যার বিচার না হলে এরপর কেউ প্রতিবাদী হতে সাহস করবেনা। প্রশাসন বলছে, এরা স্থানীয় বখাটে। এই সকল স্থানীয় বখাটেদের এতোটা সাহস কী করে হয় যদি না তারা কোন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় থাকে? এই বখাটেদের কী কোন রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে প্রশাসনকে।

’শক্তের ভক্ত নরমের যম’ বলে একটি প্রচলিত প্রবচন রয়েছে। এ প্রবচনটি আমাদের দূর্বল সমাজ কাঠামোর জন্য প্রযোজ্য। নারীর তা সে সত্যিকার অর্থে দোষী হোক বা নির্দোষী একবার অপবাদ জুটলে তার প্রতি সমাজের তর্জনী উঠতে সময় লাগেনা। অথচ সেই সমাজই চুপটি মেরে, অসহায়ের মত চাঁপা রাণীর বুকের উপর মোটর সাইকেলের উঠে যাওয়ার দৃশ্য নীরব দর্শকের মত অবলোকন করে ।

বর্তমানে ইভ টিজিং প্রতিরোধে আন্দোলনের যে জোয়ার বইছে, এই জোয়ার যেন পূর্ণ কার্যকারিতা আনে। এমন যেন না হয়, আমরা রাজপথ কাঁপিয়ে তুলছি সুসজ্জিত ব্যানারে আর ওদিকে ইভ টিজারদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে! কোন এক কলেজের ছাত্রী ইভ টিজিং এর শিকার হয়ে আত্মহত্যা করছে! এমন যেন না হয় আমি-আপনি ব্লগে ব্লগে ইভ টিজিং বিরোধী পোস্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলছি আর ওদিকে কোন এক নির্বোধ প্রতিবাদী প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইভ টিজারদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29265728 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29265728 2010-11-02 18:23:32
চন্দ্রগ্রস্ত এক পশলা বৃষ্টি শেষে
টলটলে আকাশে
কি আশায়?
কে তাকায়?
তোমাকে দেখে
তোমাকে দেখায়
কোন সে জোড়া চোখ?
তোমাকে চেনে
তোমাকে চেনায়
কোন সে গাঢ় শোক?

কোজাগরী চাঁদ, বুকেতে তোমার কার মুখশ্রীর ছাপ
মেঘের আড়ে
ঢাকা পড়ে
লজ্জায়।
নীল বেদনায়।
প্রেমিক মন এখনও কি তোমাকে দেখে
প্রেমিকার চোখে?

কোজাগরী চাঁদ, কি জ্বল জ্বলে আগুন তোমার বুকে!
কমলাটে। হলদেটে।
পোড়াবে কাকে?
জানোই যখন পুড়বে নিজে!
গলে গলে ঝড়ে যাবে অপার নিঃসঙ্গতায়
মুগ্ধ হবে কোনো কবি সেই জোছনায়
সাদা খাতার শরীর জুড়ে
আরো একটা টাটকা কাব্য
উঠবে ভরে
কে ভাঁজবে সুর?
হৃদ মাঝারে উঁকি দেয়ার
দায় পড়লো কার!

কোজাগরী চাঁদ, কেন ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাও তিথিতে তিথিতে?
কি অভিমানে গুটিসুঁটি থাকা?
ছলনা শেখোনি এখনও বোকা!
কবি থাকুক দূরেই
ইচ্ছে হলে আসবে কাছে নয়তো যাবে সরেই
সেই নীল জলে বিষম ভরা কাটাল
কবিও বোঝেনি
বোঝেনি প্রেমিক
তোমার স্মৃতি কার হৃদয়ে খোঁজো
আজও।

কোজাগরী চাঁদ, কোনো কবি জানেনি এখনও
তুমি কাশ-রেণুতে প্রহর গোনো;
প্রতীক্ষার।
ফেরার।

...সম্পূর্নতায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29244651 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29244651 2010-09-24 22:02:06
বেলা-অবেলায় গোয়েন্দাবেলা

পাতা উল্টেপাল্টে প্রায়ই দেখতাম। একটা কিশোর ছেলে কোথায় না কোথায় যাবার জন্য, কি না কি রহস্যের জট খোলার জন্য ডাকাডাকি করছে। আমি শৈশবে মাথার দীঘল চুলের জট ছাড়াতেই ব্যস্ত থাকতাম বেশী। ওই ছেলেদের দলে যাবো কেন?



একদিন স্কুলে দু'বান্ধবীকে ওদের নিয়ে অনেক আলাপ করতে শুনলাম। ওরা ওই ছেলেদের দলে যোগ দিয়েছে! একটু হিংসে হলো। বাসায় ফিরে একটু উঁকি দিলাম ওদের রাজ্যে। ইত:স্তত করে হাত ধরে ফেললাম কিশোর নামের ছেলিটির ...বন্ধুত্বের শুরুটা সেই থেকে ...



সাগরসৈকত, রক্তচক্ষু, প্রেতসাধনা দিয়ে তিন গোয়েন্দার সাথে যোগাযোগ। এরপর রীতিমত লোভী হয়ে গেলাম ওদের সাথে উটকো এ্যাডভেঞ্চারে যাওয়ার। এলাকায় তখন 'হাবিব বুক হাউজ' -ই এই খোরাক মেটাতে সক্ষম। নতুন-পুরনো বইয়ের খোঁজ-দি সার্চ শুরু হয়।


তৃষ্ণা এতেও মিটলো না। বই মেলে ধরলেই চোখে পড়ে পুরনো নামের তালিকা। কেমন ছিল ওরা শুরুতে? কেমন করে একত্র হলো? কেন হলো? কি করে এই ভুত চাপলো? কত আগ্রহ। হাবিব বুক হাউজের আর্কাইভে এতো পুরনো কাসুন্দি নেই। শেষ পর্যন্ত বাড়ির বড়দের দিয়ে নীলক্ষেত থেকে পুরনো বইয়ের ছোটখাট লট কেনা হলো। বেশীর ভাগ বইয়ের ভেতরে পাতায় পাতায় পূর্ববর্তী মালিকের নাম লেখা - ইশারাত নাজনীন সিদ্দিকী। কেটে, মুছে, আঠা দিয়ে নতুন কাগজ বসিয়ে নতুন নিজের অস্তিত্ব ঘোষনা দেই।


অত:পর জানা গেল তিন গোয়েন্দার শুরুর গল্পটা।


এরপর তো তিন গোয়েন্দার ইন্দ্রজালে আটকা পড়লাম একে একে।


মনের ভেতর কিশোর, মুসা, রবিনের বিভিন্ন ছবি আঁকাআঁকি শুরু হয়ে গেছে সেই প্রথম দিন থেকেই। তারপরও খুব শখ, কেমন ওরা? 'হারানো উপত্যকা' তে ষ্পষ্ট দেখলাম ওদের। এমনিতে কিশোরের জন্য পাগল। কিন্তু সেদিন রবিন মিলফোর্ড -সেই আইরিশ ছেলেটাকে অনেক বেশী পছন্দ হলো। ওদের সাথে জিনাও ছিল। জিনাকে দেখে ওদের থেকে একটু বয়স্ক মনে হওয়াতে কোথাও যেন একটু হালকা বোধ করছিলাম। তবে রাফিয়ানকে দেখে দারুণ মজা পেয়েছিলাম।


যতই হালকা বোধ করি না কেন, জিনাকে নিয়ে অস্বস্তি কিন্তু একদম কাটেনি। গোলাপীমুক্তো হাতে পেয়ে প্রচ্ছদে জিনাকে দেখে একেবারে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গেলাম।


অবশ্য এতো হিংসার পরও অভিমান করে তিন গোয়েন্দার সাথে সম্পর্কহীন হয়নি। বরং কোন এক খোঁড়া গোয়েন্দা'র বুদ্ধির ঝিলিক দেখে আরো মজে যেতাম।


কেবল যে গোয়েন্দাবন্ধুদের দেখতে মন চাইতো তা তো নয়। ওদের শক্ররাই বা কেমন তা দেখার জন্যও ঠিক ঠিক চোখ রাখতাম। বিশেষত টেরিয়াল ডয়েল ওরফে শুটকি টেরি দু'চোখের বিষ ছিল বলে চিন্তার সাথে ওরা চেহারা মিলিয়ে নেয়ার অনেক আগ্রহ ছিল। কিন্তু যুতসই কোন কিছু মেলাতে পারিনি।


বিদেশবিভূঁইয়ে ছেলেমেয়েগুলো পড়ে আছে । ছুটে বেড়াচ্ছে। ওদের একটু দেশে ঘুরিয়ে নিলে কি হয়? কত অনুযোগ সেবা প্রকাশনীর কাছে পৌঁছলো আনাচেকানাচে থাকা বন্ধুদের কাছ থেকে। অত:পর ঢাকায় তিন গোয়েন্দা এলো । শীতকালে। সেই ভ্রমনটা খুব বেশী রোমাঞ্চকর হয়নি যদিও তবে খুশীর কমতি ছিল না।


কিশোরের প্রতি প্রথম থেকেই আগ্রহের কথা তো আগেই বলেছি। ওর ছবি এবারের কোন বইয়ের প্রচ্ছদে এলো কি এলোনা তাই থাকতো গবেষনায়। ঈশ্বরের অশ্রু'র প্রচ্ছদে ওকি কিশোর না কে? কিশোর হলে এখানে ভাল লাগছে না! ধুর! মন খারাপ। অন্য কোন ছবি দিতে পারতো। এই ছবিটাই কেন!


কিশোরের প্রেমে ডুবে আছি। রবিনের প্রতি অন্যরকম ভাললাগা। মুসার সাথে দারুণ বন্ধুত্ব। জিনাকে হিংসে। অথচ ওদের থেকে বয়সে একটু বড়ই হবে, রেজা মুরাদ আর সুজা মুরাদ। এই দুই ভাই যখন হুট করে উদয় হলো একটু ড্যাশিং ভাব নিয়ে, তখন মন ক্ষণিক সময় ওদের জন্যই নেচে উঠেছিল।


আরো কিছু বন্ধু পেয়ে গেলাম। গোয়েন্দা রাজু। দস্যি। অস্থির, চঞ্চল বালক-বালিকার দল। ওদের মধ্যে রাজু ছেলেটা যে কি সুইট! গোয়েন্দা রাজু'র বইগুলো প্রথম দিকে বেশ পাতলা পাতলা ছিল। পড়তে সময় লাগতো না বেশী। কিন্তু মজা ছিল অনেক।


উহু! তিন গোয়েন্দাকে এতো বন্ধুদের ভিড়ে মোটেও ভুলে যাইনি। তবে কাছের বন্ধুরাও মাঝে মাঝে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। ওরাও মাঝে মাঝে কি সব ভুয়া ভুয়া রহস্য নিয়ে মেতে উঠতো। খুব রাগ হতো তখন!


একটা সময় ইত্তেফাকে সাধারণত এক ইঞ্চি কলামে সেবার নতুন বইগুলোর বিজ্ঞাপন আসতো। তারপরই হাবিব বুক হাউজে দৌড়। এখন আর সে সময় সেই। একটু নস্টালজিক হওয়ার বাসনায় বইমেলাতে গেলে এখন বড়জোর সেবা প্রকাশনীর স্টলের সামনে একটু দাঁড়াই। অনেক ভিড় দেখা যায়। এটা দেখতে ভাল লাগে। এই হাইটেক যুগেও ছেলেমেয়েরা আমাদের মত বোকা বোকা ভাললাগায় তিন গোয়েন্দা পড়ে তাহলে? যদিও অনেকেই বলছে, এখন আর সেই তিন গোয়েন্দা একেবারেই নেই। লেখক বদল হয়েছে। লেখার ধারা বদল হয়েছে। হাবিব বুক হাউজে আগের মত বিশাল তাক জুড়ে সেবার বই থাকে না এখন। দোকানে কলম-পেন্সিল-খাতা কিনতে গেলে ছোট হয়ে আসা তাকটার দিকে উৎসুক চোখ তারপরও ছুটে যায়। নতুন কি বই বেরুল? কি নাম ? কেনা হয় না। কি করে হবে! এখন তো মোটা মোটা, ভারী ভারী বই পড়তে হয়!

তারপরও অবেলায়, অকাজে ধুলো ঝাড়তে গিয়ে বইগুলো নাড়াচাড়া করতে করতে শৈশব জেগে উঠল। কাছের বন্ধুদের মনে পড়ে গেল।কি আশ্চর্য না? শৈশবের একটা অংশ জুড়ে গোয়েন্দা বাহিনী জাঁকিয়ে বসে আছে!

গ্রেট কিশোরিয়োসো। গ্রেট মুসাইয়োসো। গ্রেট রবিনিয়োসো। ওরাই আমার থমতম কৈশরের রডোডেনড্রন।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29238904 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29238904 2010-09-12 17:02:22
কতটা গভীরে...? কতটা ভেতরে...? ভাবনার ...।
বিষয়বস্তুর নিরিখে এই যে উল্টেপাল্টে নিরীক্ষণ
সে কি কেবল খোলসের বাইরেই পাক খায়?
যা দেখেন, যা শোনেন, যা আপাত বোঝেন
তাতেই কি সিদ্ধহস্ত সিদ্ধান্ত ঘোষনা দেন?
নাকি আপনি মূলে প্রবেশ করেন-
ঘটনার? রটনার? যন্ত্রনার?
মন্ত্রণার? কিংবা তাড়নার?
আচ্ছা! এতোটা মূলে পৌঁছলে কি
সমূলে আমূল গল্পটা থেকে সরে আসা হয়?
হয়ত ...!
কারণ একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য গল্পের ভেতরে যে পুঞ্জীভূত গল্পগুচ্ছ,
তারও ভেতরে কতক ছায়া-শরীর ঘুরঘুর করে।
শরীরি পরিচিতিমূলক করমর্দনে আরেক গল্পের দরজায়
অশরীরি টোকা পড়ে যায়।
কিছুটা জ্ঞাতসারে। কিছুটা অজান্তেই ।
গল্পের শাখারা প্রশাখায় বিস্তৃত হয়। কলেবরে বর্ধিত হয়।
এবার আপনি এর কতটা গভীরে যাবেন!
কতটাই বা যেতে পারেন! আর কতটা যেতে চান?
জানি, গন্তব্য-ভ্রষ্ট হয়ে পড়ার ভয় তো আছেই !
তবুও..., আপনি কতটা ভেতরে যেতে ইচ্ছুক বলুন তো?
মস্তিষ্কের ...।
যেখানে রন্ধ্রজালে নিয়তই তন্ত্রমন্ত্রের প্রলাপ-
সমাজতন্ত্র! পুরুষতন্ত্র! রাজতন্ত্র!
আর সামান্য ভেতরেই দুঃসহ বিলাপ - আহ ! গণতন্ত্র!
নারীবাদ, পুঁজিবাদ বাদানুবাদে
বাদি-বিবাদির পরস্পর বিরোধী যুক্তিবাদ যখন তুমুল তুঙ্গে
ততক্ষণে কি অঙ্গাঅঙ্গি দূরত্বের বাড়ন্ত গভীরতা মেপে নিতে
ভেতরে ঢুকে যেতে চান?
কতটা গভীরতার কতটুকু অতলে গেলে তলের নাগাল পাওয়া যায় জানা আছে কি !
ভ্রুকুটি বলে দেয়, গন্তব্য সুনিশ্চিত নয়
যাত্রাপথ বন্ধুর বোধগম্য হয়
নিছক কৌতুহলেই গভীরতার ভেতরে যাওয়ার যে প্রস্তুতি ছিল
তা পরিশেষে আগুপিছুরত
আপনি কিঞ্চিত ইতস্তত
তিন আঙ্গুলের এক চিমটি সংযত
পুরো চিত্রনাট্যের ঠিক কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আত্ম-আবিস্কৃত
এতোক্ষণে জড়োসড়ো কলাকুশলীদের গা ঝাড়া প্রত্যাহ্বান
আরো গভীরে! আরো ভেতরে যেতে চান?
গল্পের ...।
চেতনার ...।
ঘৃণার ...।
হৃদয়ের ...।
অস্তিত্বের ...।

----------------------------
(১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০১০)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29236651 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29236651 2010-09-07 19:23:15
অসংলগ্ন ফিরতি যানে ঠেসে ঠেসে
দীর্ঘ সময় আটকে পড়া
মুঠোফোনে ঘরের তাড়া
নিজের জন্য এখন কি আর
বাড়তি সময় আছে চাওয়ার
বুক ভরিয়ে ভেজাল শ্বাসে
ঘাটতি সবার উল্লাসে
জীবন নাকি এমনই হয়
শুধুই গতি, থামার তো নয়
ছুটছি যেতে সারির আগে
সত্যি বলছি, দিনের শেষে
ভীষণ রকম ক্লান্তি জাগে ।

এখন-তখন নিশ্চয়তা
হারিয়ে গেছে সেই বার্তা
আৎকে ওঠা ঘুমের ঘোরে
ঘুমও গেছে পালিয়ে দূরে
চোখে নীচে কালির ছায়া
মলিন সেই চোখের মায়া
ক্রমাগতই রাতটা বাড়ে
সূর্য ঘুমে মেঘের আড়ে
এখন নাকি সব নাগরিক
ঘুমের বড়ির ভক্ত অধিক
রাত ফুরোলেই তন্দ্রা লাগে
সত্যি বলছি, রাতের শেষে
ভীষণ রকম ভ্রান্তি জাগে।

যোগসংযোগ নিত্য নিত্য
টেকনোলজি উন্নত
হাতের মুঠোয় বিশ্ব ভরে
বিশ্ববাসী যাচ্ছে লড়ে
মুখের পাশের মুখ সরে যায়
মুখোমুখী সবাই দাঁড়ায়
কে যে কাকে হারিয়ে দেবে
মরণ খেলায় কে জিতবে
বন্ধু কোথায়? ভেক বেশী
সুহৃদ কই? মাংসাশী
জমিন কোথায় আইল-ভাগে?
সত্যি বলছি, হাঁটতে গেলে
বিষম কাঁটায় ক্ষত জাগে।

দরিদ্রতা হতচ্ছড়া
ছেঁড়া কাঁথায় শতেক জোড়া
তোমার আছে, আমার যে নেই
বৈষম্য বলে একেই
রাজ-আদরে উচ্চ বংশ
দলিত জীবন পথেই ধ্বংস
সিডর গেলে আইলা আসে
ত্রাণের হিস্যা নেতায় কষে
রাজনীতিতে আজব চাল
এ নিরাপদ ও বেসামাল
ব্যস্ত নগর সম্ভোগে
সত্যি বলছি, লিখতে গেলে
ভীষণ রকম খেদ জাগে।

--------------------------------------------------
২৮শে জুলাই ২০১০/৬ই অগাস্ট ২০১০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29216353 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29216353 2010-08-06 16:26:59
সূর্য চুড়ি ::১::
সূর্য ছটা করেছি চুরি আজ।
ছুঁতেই,
তপ্ত গোলক রেশমী হলো মুহূর্তেই,
কোমল আভায় আধো আধো লাজ।

::২::
পরত পরত সড়কে গিয়ে ভাঁজ খুললো আলো
মায়ার রোদন,
আলোর নাচন,
রিনিক ঝিনিক ছন্দ তালে তাল মেলাতে হাত বাড়ালো।



::৩::
রংধনুতে সাজিয়ে রাখা ডালি
ঠমক দেখায়,
গমক শেখায়,
বিকিকিনির পসার জমায় সূর্যালোকের মালি।

::৪::
তোর জন্য হয়ে হণ্য
অবশেষেই সূর্যটাকেই
নিই গলিয়ে,
ছাঁচে ঢেলে,
নকশী খাঁজে,
মন লোভানো কারুকাজে
দেখনা কেমন মাতাল করা
রিনিকঝিনিক নাড়াচাড়া
পেলব আলোয় হাত পেতে ধর ছুঁড়ি!
তপ্ত গোলক করে চুরি
তোর জন্যই গড়িয়েছি
হাত মেলে ধর পরিয়ে দেই -
দুঃখ-সুখের চুড়ি।

-------------------------
১২ই মার্চ ২০১০
-------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29183620 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29183620 2010-06-23 20:50:37
দ্য কিউরিয়াস কেইস অফ বাংলা কী-বোর্ড কিন্তু অভ্র এখানে আইনের মুখোমুখি কেন? অভ্র ইউনিজয়কে যুক্ত করেছে বলে মোস্তফা জব্বারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা এখন জবাবদিহিতার মুখোমুখি। অভ্র আসলে কী? অভ্র মূলত একটি সফটওয়্যার। একটি ইন্টারফেস। যেখানে ইউনিজয় ছাড়াও রয়েছে ফোনেটিক, অভ্র ইজি, বর্ণনা এবং জাতীয় কী-বোর্ড নামক প্রতিটি আলাদা আলাদা কী-বোর্ড লে-আউট। একুশে প্রজেক্ট অন্যান্য কী-বোর্ড লে-আউটের (যেমন- মুনীর ইউনিকোড, প্রভাত, রূপালী) পাশাপাশি ইউনিজয় লে-আউট বিতরণ করেছিল। প্রথম ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা কী-বোর্ড ইন্টারফেসের দাবিদার সৃষ্টি প্রজেক্ট বিজয় কী-বোর্ড লে-আউটকে ব্যবহার করেছিল। বিজয়ের ৯৫% অনুরূপ লে-আউটে করা ইউনিকোড ভিত্তিক কী-বোর্ড যুক্ত বলে সৃষ্টি ইন্টারফেসের বৈশিষ্ট্যের তালিকা থেকে জানা যায়। একুশে ও অমিক্রনল্যাবের সাইটে ইউনিজয়ের লে-আউটের ব্যাপারে বিজয়ের সাথে ৯৯% সাদৃশ্যতার কথা জানানো হয়।

জব্বার বিদ্মেষীরা কিংবা অভ্র-সমর্থনকারীরা ত্যাক্ত, বিরক্ত এবং চিন্তিন্ত এই ভেবে যে, কেবল জব্বার সাহেবের পক্ষ থেকে বিশেষ কোন প্রভাব বিস্তারের কারণে যদি অভ্র এই আইনি লড়াইয়ে হেরে যায় তাহলে আন্তর্জাল থেকে বুঝি অভ্র বিলুপ্ত হয়ে গেলো। নন-টেকি কেউ এভাবে ভাবলে খুব একটা অবাক হওয়ার জো নেই, তবে সামান্য হলেও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন কেউ এই ভাবনার জোয়ারে গা ভাসালে তা তথ্যপ্রযুক্তির কী-বোর্ডগত গবেষণা, উদ্ভাবনকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করার সামিল হয়। উল্লেখ্য ’অভ্র ইজি’ লে-আউট নিয়ে মোস্তফা জব্বারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ ওঠেনি। অভ্র সফটওয়্যারে ইউনিজয় কী-বোর্ড সংযুক্তকরণে অভ্রটিমকে আত্মপক্ষ সমর্থনে ইউনিজয় এবং বিজয়ের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরতে হবে। লে-আউটের সাদৃশ্যতার কারণে বিজয়ের পেটেন্ট ভঙ্গ হয়েছে কি হয়নি তা নিয়ে তাদের যুক্তি দিতে হবে। সিদ্ধান্ত অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আইন দেবে। তবে হেরে যাওয়া বা জিতে যাওয়া নিয়ে কথা বলার সুযোগ থেকে যায়।

১. ধরা যাক, ৯৯% মিল থাকার কারণে যদি পেটেন্ট ভঙ্গ হয়, এবং তা কোন রকম প্রভাব বিস্তার ছাড়াই সম্ভাব্য হারের কারণ হয়, তাহলে ইউনিজয় লে-আউট থেকে অভ্র ইন্টারফেস যদি মুক্ত হয়ে যায় তো আর কোন আইনি ঝামেলার সুযোগ থাকে না। ইউনিজয়মুক্ত অভ্র সফটওয়্যার সেই আগের মতই আমরা ব্যবহার করতে পারবো সফটওয়্যারটির অন্যান্য কী-বোর্ড লে-আউটগুলো দিয়ে।

২. যদি ৯৯% মিল থাকার কারণে ইউনিজয় অবৈধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে কি ইন্টারনেটে বাংলা টাইপিংয়ে বিশাল কোন ক্ষতি হয়? এর উত্তর না হতে পারে, আবার হ্যা -ও হতে পারে। ’না’ কিভাবে? ইউনিজয় হলো ইউনিকোড ভিত্তিক একটি কী-বোর্ড লে-আউট। ইউনিজয় কী-বোর্ড লে-আউট নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে কিন্তু ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা টাইপিং সুবিধা নিয়ে কোন প্রকার বিরোধ নেই। তাই ইউনিজয় না থাকলেও ভিন্ন একটি কী-বোর্ড লে-আউটকে ইউনিকোড-বান্ধব করলেই বিশেষত আন্তর্জালে বাংলা মুদ্রাকরদের সুবিধা বঞ্চিত হতে হয়না। আর ’হ্যা’ কিভাবে? যদি ব্যবহারকারীরা বিজয় কী-বোর্ড লে-আউটে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, কেবল তাহলেই ইউনিকোড ভিত্তিক হলেও একটি নতুন কী-বোর্ড লে-আউটে স্বাচ্ছন্দ আনতে আমাদের অসুবিধা হবে।

কাগজে মুদ্রন জগতে বিজয় এখনও বেশ জাঁকিয়ে থাকলেও সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের কারণে আন্তর্জালে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বাংলা লিখতে ইউনিকোড পদ্ধতি প্রয়োজনীয়। আমরা যারা অভ্র সফটওয়্যারটি ব্যবহার করি সেই অভ্রপ্রেমীদের মধ্যে বলতে গেলে সবাই ফোনেটিক অথবা ইউনিজয় নির্ভর। অনেকেই জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউটকে বাহবা দিলেও, অভ্রের মত একটি জনপ্রিয় সফটওয়্যারে এর সংযুক্তিস্বত্বেও জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউটের সাথে আমরা অভ্যস্ত হয়নি। এমনকি অভ্র ইজি লে-আউটটির সাথেও আমরা অভ্যস্ত না। বর্ণনা লে-আউটের কথা তো বাদই দিলাম। তাহলে দু’টি বিষয় দেখা যাচ্ছে; এক-ওয়েবে লেখার জন্য আমাদের ইউনিকোড পদ্ধতি প্রয়োজন এবং দুই- কী-বোর্ড লে-আউটের জন্য আমাদের বিজয় লে-আউট অনুরূপ কিছু প্রয়োজন।

১৯৮৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশী কী-বোর্ড সফটওয়্যার আবিষ্কৃত হয়েছে। লে-আউট এসেছে বিভিন্ন রকম। প্রশ্ন হলো-
১. আমরা কি এখনো নতুন নতুন কী-বোর্ড লে-আউট আবিস্কার করেই যাবো?
২. প্রচলিত কী-বোর্ড লে-আউটগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে কতটা মান সম্মত তা নিয়ে কী কোন গবেষণা হয়েছে?
৩. ওয়েবে ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা টাইপিং সুবিধা থাকলেও মুদ্রণ মাধ্যমকে ইউনিকোড বান্ধব করা হচ্ছে না কেন?

কী-বোর্ড সফটওয়্যারের ফিচার আর কী-বোর্ড লে-আউটের মান যাচাই দুটো খানিকটা ভিন্ন বিষয়। একটি কী-বোর্ড ডিজাইন করতে যে রীতিমত আকণ্ঠ গবেষণা করতে হয়, তা হয়ত আমরা সাধারণ ব্যবহারকারীরা, এমনকি হয়ত যারা ইতিপূর্বে, এখন ও আগামীতে বাংলা কী-বোর্ড নিয়ে কাজ করতে চান তারাও মনে হয় ক্ষেত্রবিশেষে গুরুত্বসহকারে বুঝতে চাননা। এই যেমন অভ্র-টিম বা সমর্থকরা বলছেন, পেটেন্ট এড়ানোর জন্য কিছু কী-স্ট্রোকের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। আমাদের খুব স্পষ্ট করে জানা উচিৎ, একজন কী-বোর্ড নকশাকারী গবেষক কী-স্ট্রোকের অবস্থান নির্ণয় করবেন ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য চিন্তা করে এবং টাইপিং গতিকে আরামদায়ক, তরান্বিত করার জন্য। যদি গানিতিক সংখ্যা ৭ চিহ্নিত কী-স্ট্রোকে থাকা চন্দ্রবিন্দুকে গানিতিক সংখ্যা ২ চিহ্নিত কী-স্ট্রোকে বসানোর কারণ কেবল মাত্র যদি পেটেন্ট/কপিরাইট আইন ঝামেলা এড়ানোর জন্য হয় তবে এরকম উদ্বাবন হয়ত তথ্যপ্রযুক্তিগত মান বাড়ানোর চেয়ে মান কমিয়ে দিতে পারে।

আরো বিষদে যাওয়ার আগে জেনে নেই কী-বোর্ড লে-আউটের কারিগরি পর্ব। কী-বোর্ড লে-আউট দর্শনে তিনটি পর্যায় রয়েছে- মেকানিক্যাল লে-আউট, ভিজ্যুয়াল লে-আউট, ফাংশনাল লে-আউট।

মেকানিক্যাল লে-আউটঃ আমরা ’এ’ কী-স্ট্রোকে চাপ দিলে কী-বোর্ড বার্তা পাঠায়। তাতে ব্যবহারকারী কর্তৃক ’এ’ চাপ দেয়া হয়েছে বলা থাকেনা, বরং বলা থাকে হোম-রো এর সর্ববামের প্রধান কী-স্ট্রোকে চাপ দেয়া হয়েছে। এটা সাধারণভাবে বোঝার জন্য একটা উদাহরণ। মূলত প্রতিটি কী এর জন্য একটি আভ্যন্তরীণ রেফারেন্স নাম্বার থাকে এবং সেই নাম্বারটিই গনকযন্ত্রকে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়।

ভিজ্যুয়াল লে-আউটঃ আমরা কী-বোর্ডে যেভাবে বর্ণমালা ও বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক চিহ্ন আঁকা দেখি তাই হলো ভিজ্যুয়াল লে-আউট। এটি ভাষা, দেশ এবং ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন হতে পারে। কম্পিউটার বা অপারেটিং সিস্টেম ভিজ্যুয়াল লে-আউট পড়তে পারেনা। মেকানিক্যাল লে-আউট বুঝতে পারে। একই মেকানিক্যাল লে-আউটে ভিন্ন ভিন্ন ভিজ্যুয়াল লে-আউট হতে পারে।

ফাংশনাল লে-আউটঃ এটি সফটওয়ার অংশ যেখানে মূলত কী-ম্যাপ থাকে। ভিজ্যুয়াল লে-আউটের চিহ্নগুলোকে ফুটিয়ে তোলা হয় ফাংশনাল লে-আউটে। তাই ’এ’ চাপ দিলে ’এ’ পাই আমরা।

আগের কথার খেই ধরি আবার- নতুন নতুন, অজস্র কী-বোর্ড লে-আউটের প্রয়োজনীয়তা/অপ্রয়োজনীয়তা এবং কী-বোর্ড লে-আউটের মান যাচাই করা। ইংরেজী কী-বোর্ডে যে ক’টি নাম শোনা যায় সেগুলো হলো- QWERTY, QWERTZ, AZERTY, QZERTY এবং Non-QWERTY কী-বোর্ডের তালিকায় পাওয়া যাবে Dvorak, Colemak, Neo। QWERTY ইউএস প্রধান এবং পরবর্তীতে সার্বজনীন লে-আউট হলেও এই সারির অন্যান্য লে-আউটগুলো দেশ ভিত্তিকভাবে প্রচলিত ছিল বা আছে। যেমন, জার্মানী ও মধ্য ইউরোপে QWERTZ বেশ প্রচলিত। ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং আফ্রিকার কিছু দেশে AZERTY প্রচলিত। ইতালীতে কমপিউটার কী-বোর্ডে QWERTY ব্যবহৃত হলেও, টাইরাইটারে QZERTY লে-আউট প্রচলিত। মূলত টাইপরাইটারের কী-জ্যাম এড়াতে বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবিত QWERTY লে-আউট জনপ্রিয় হলেও Non-QWERTY হিসেবে Dvorak লে-আউট পরিচিত ছিল এর টাইপিং দ্রুততার জন্য।

কী-বোর্ড ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে জনাব ডিভোরাকের বক্তব্য ছিল, একটি অর্ধেক পৃষ্ঠার অফিসিয়াল চিঠি টাইপ করতে আমাদের আঙ্গুল কতটা পথ হাঁটে তা আমরা কল্পনাও করিনা! কিছু সাধারণ কিন্তু চমকপ্রদ পরীক্ষা ভেতর দিয়ে আমরা ডিভোরাক এবং কোয়ের্টি কী-বোর্ডের তুলনা দেখি বরং।

১. ৬২ শব্দের একটি প্যারাগ্রাফ এবং একটি অফিসিয়াল চিঠি টাইপ করতে কোয়ার্টি কী-বোর্ডের তুলনায় ডিভোরাক কী-বোর্ডে ৩৫-২০% কম আঙ্গুল চালনা করতে হয়, যা আঙ্গুলকে অন্তত ৬ ফুটের মত দূরত্ব অতিক্রম থেকে বাঁচিয়ে দেয়, যেখানে কোয়ের্টি কী-বোর্ডে প্রায় ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। কম দূরত্ব অতিক্রম শুধু সময়ই বাঁচিয়ে দেয় না বরং আরামদায়ক টাইপিংয়ের কারণে কার্পাল টানেল (Carpal Tunnel, এই রোগের লক্ষণ সমূহ হলো বৃদ্ধাঙ্গুল, মধ্যমা, তর্জনী অথবা হাতের কব্জিতে অবশ অনুভব, তীব্র স্নায়ুবিক যাতনা অথবা দূর্বল অনুভব করা, ক্রণিক কার্পেল টানেলের ক্ষেত্রে নার্ভ ড্যামেজের আশংকা থাকে) বা আরএসআই ইনজুরি(Repetitive strain injury, পুনরাবৃত্তি কাজের চাপে বাহু অথবা হাতের পেশী, অপেক্ষাকৃত নরম টিস্যুতে অতিরিক্ত ব্যাথ্যা অনুভব করা) জাতীয় স্বাস্থগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।

২. একটি পরীক্ষামূলক প্যারাগ্রাফের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডিভোরাক কী-বোর্ডে বাম হাতের অনামিকা যখন ৭ ১/৪ ইঞ্চি অতিক্রম করে, তখন ১৫ ৩/৮ ইঞ্চি অতিক্রম করতে হয় কোয়ের্টি কী-বোর্ডে।

৩. দি, অফ, এন্ড, টু, এ, ইন, দ্যাট, ইজ, আই, ইট, ফর, এ্যাজ (The, of, and, to, a, in, that, is, I, it, for, as) গিনিজ বুক রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত এমন বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় ১২টি শব্দাবলী দিয়ে একটি চার্ট তৈরী করা হয়। চার্টে কোয়ের্টি এবং ডিভোরাক কী-বোর্ডে আঙ্গুলের দূরত্ব অতিক্রমের তুলনা দেখানো হয় বরাবরের মতই। নন-হোমরো'তে আঙ্গুল চালনার জন্য স্কোর ধরা হয় ১, এবং স্কোর ১/২ ধরা হয় কেন্দ্রের কী-স্ট্রোকে (জি, এইচ হলো কোয়ের্টি কী-বোর্ডের জন্য, আই, ডি ডিভোরাক কী-বোর্ডেও জন্য) তর্জনী চালনা করার জন্য। এভাবে ’দি’ লিখতে গেলে কোয়ার্টি কী-বোর্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২ ১/২ এবং ডিভোরাকের ক্ষেত্রে ০। ইজ লিখতে গেল কোয়ের্টি কী-বোর্ডের স্কোর যখন ১, তখন ডিভোরাকের স্কোর ১/২ । এভাবে কোয়ের্টি কী-বোর্ডের স্কোর দাঁড়ায় মোট ১৭ এবং ডিভোরাকের মোট ৫ ১/২ । এর অর্থ এই ১২টি শব্দের ক্ষেত্রে ডিভোরাকের তুলনায় কোয়ের্টিতে প্রায় ৩ গুণ বেশী আঙ্গুল চালনা করতে হয় বিভিন্ন দূরত্বে।

অগাস্ট ডিভোরাক মনস্তত্ববিদ ছিলেন বলেই বোধহয়, কী-বোর্ডের লে-আউট নকশা নিয়ে তার বিশ্লেষণ এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে বিভিন্ন পরীক্ষা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে একটি কী-বোর্ডের মান যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে সফলভাবেই তুলে ধরেছেন। মূলত একারণেই ডিভোরাক কী-বোর্ড QWERTY কী-বোর্ডের অভ্যস্ততার কাছে হেরে গেলেও এখনও সবাই এক বাক্যে ডিভোরাক কী-বোর্ড লে-আউটকে মান সম্মত বলতে দ্বিধা করেনা।

প্রশ্ন হলো, এই রকম বৈজ্ঞানিক তুলনামূলক পরীক্ষা কি আমরা পরিচালনা করেছি আমাদের দেশে উদ্ভাবিত জনপ্রিয়, অজনপ্রিয়, প্রচলিত কী-বোর্ডগুলোর মধ্যে?
তুর্কী কী-বোর্ডের উদ্বাবন কাহিনীতে একটা দূর্দান্ত গবেষণার গন্ধ পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায়, টার্কিশ ল্যাংগুয়েজ এ্যাসোসিয়েশনের সাহায্যে তুর্কী বর্ণমালার অক্ষর ফ্রিকোয়েন্সি নির্নয় করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যগুলো কাজে লাগানো হয় অস্থি এবং পেশী এ্যানাটমি গবেষণায়। অতঃপর ১৯৫৫ সালে তুর্কী জাতীয় কী-বোর্ড, টার্কিশ এফ কী-বোর্ড, উদ্ভাবিত হয়। এই কী-বোর্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো টাইপিংয়ে দুই হাতের ভারসাম্য রক্ষা। ৪৯% কী-স্ট্রোক বাম হাতের জন্য এবং ৫১% কী-স্ট্রোক ডান হাতের জন্য। এই রকম একটি বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্টতার কারণেই বোধহয় টার্কিশ কী-বোর্ড ১৯৫৭ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত টাইপিং প্রতিযোগীতায় মোট ১৪ বার বিশ্ব রেকর্ড ভঙ্গ করে!

টার্কিশ ল্যাংগুয়েজ এ্যাসোসিয়েশনের ন্যায় আমারদেরও ভাষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে- বাংলা একাডেমী। আমরাও আমাদের এনাটমিস্টদের কাজে লাগাতে পারি। এমনকি আমাদের দেশীয় মনস্তত্ববিদদের কাজে লাগাতে পারি। এবং তাতে বোধকরি একটি স্বীকৃত, মানসম্মত কী-বোর্ড দিয়ে আমরা টাইপ করতে পারি আরামে। প্রশ্ন হলো,
১. কোন বাংলা কী-বোর্ড লে-আউটের নকশা নিয়ে এখন পর্যন্ত এই পর্যায়ের গবেষণা হয়েছে কি?
২. এখন পর্যন্ত প্রচলিত জনপ্রিয় কী-বোর্ডগুলো (যেমন, বিজয়, অভ্র ইজি, এমনকি ৮টি কী স্ট্রোকের পার্থক্যে তৈরী ইউনিজয়) কি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোন টাইপিং প্রতিযোগীতায় দারুণভাবে টক্কর দেয়ার যোগ্যতা রাখে?
৩. তুর্কীতে নিজস্ব কী-বোর্ড লে-আউটের পাশাপাশি কোয়ের্টির পরিমার্জিত সংস্করণ ব্যবহৃত হয় । আমরা বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট নকশা করলেও মূলত কোয়ের্টি কী-বোর্ডের ভিজ্যুয়াল লে-আউটের নির্দিস্ট ছকেই আমাদের বাংলা বর্ণমালাগুলোকে বসাই। আমাদের কি একেবারেই নিজস্ব বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট প্রয়োজন টার্কিশ কী-বোর্ডে মত নাকি কোয়ের্র্টি কী-বোর্ডের উপরেই বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট ডিজাইনই আমাদের জন্য সুবিধাজনক?

বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট এবং লে-আউটের ভিন্নতা, অভিন্নতা নিয়ে কথা যখন হচ্ছেই তখন এক নজর প্রচলিত কিছু লে-আউটের দিকে নজর বুলিয়ে দেখা যায়।


প্রভাত লে-আউট-সাধারণ ভিউ

অভ্র ইজি লে-আউট-সাধারণ ভিউ

জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউট-সাধারণ ভিউ

বিজয় লে-আউট-সাধারণ ভিউ

মুনীর লে-আউট-সাধারণ ভিউ

মুনীর লে-আউট-শিফট ভিউ

ইউনিজয় লে-আউট- সাধারণ ভিউ

ইউনিজয় লে-আউট -AltGrl ভিউ

১. প্রভাত কী-বোর্ড লে-আউট বহুলব্যবহৃত না হলেও এখনও অনেকে এই লে-আউটে কাজ করেন। অভ্র সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তা থাকা স্বত্বেও অভ্র ইজি কিন্তু ব্যবহারকারীদের মধ্যে তেমন প্রচলিত নয়। কেবল মাত্র ঠ+ট, ফ+প, ঝ+জ, খ+ক, ভ+ব, ণ+ন কীস্ট্রোকগুলো ছাড়া এই দুই কী-বোর্ডের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে ষ্পষ্টতই তেমন মিল পাওয়া যাবেনা।
২. অভ্র-ইজি আর বিজয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া বেশ দুস্কর। ঠ+ট ছাড়া অন্য কোন কী-স্ট্রোকের মিল দেখা যায় না। প্রভাত আর বিজয়ের মাঝেও কেবলমাত্র ঠ+ট কী-স্ট্রোকের মিলটিই চোখে পড়ে।
৩. অনেকেই বলেন জাতীয় কী-বোর্ড ভাল ছিল। কিসের ভিত্তিতে বলেন সেটা খুব পরিস্কার না হলেও, জাতীয় কী-বোর্ড আর বিজয়ের লে-আউট অনেকাংশে কাছাকাছি। কিউ থেকে পি(Q-P) সারিটি দুই কী-বোর্ডের বেলাতেই এক। এ থেকে এল (A-L) সারিটিতে ৯টির মধ্যে ৬টি কী-স্ট্রোকে মিল দেখা যায়। জেড থেকে এম(Z-M) সারিতে ৭টির মধ্যে ৪টিতে মিল দেখা যায়।
৪. মুনীর কী-বোর্ডকে পথিকৃৎ বলা যায়। টাইপরাইটারের জন্য নকশাকৃত মুনীর কী-বোর্ডের লে-আউট সাথে পরবর্তীতে উদ্ভাবিত বিজয়ের মিল খুঁজে বার করা খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মত হতে পারে।
৫. প্রথম দর্শনেই বিজয় এবং ইউনিজয়ের সাদৃশ্য ধরা পড়বে বৈকি। কিউ থেকে পি সারি একই রকম। এ থেকে এল সারি একই। জেড থেকে এম সারিতে একটি কী-স্ট্রোকে আপাত পার্থক্য চোখে পড়বে- ও ’এর জায়গায় ’ে া’ । বিজয়ে AltGrl এর সুযোগ নেই। যেটা অভ্র-ইউনিজয়ে রাখা হয়েছে। এই মুডে ইউনিজয়ে এ থেকে এফ সারিতে ঋ, উ+ঊ, ঈ+ই, অ+আ এবং এর নীচের সারিতে ঔ+ও, ঐ+এ সরাসরি লেখার সুবিধা আছে। বিজয়ে চন্দ্রবিন্দু ১ থেকে ০ সারিতে ৭ কী’তে, কিন্তু ইউনিজয়ে চন্দ্রবিন্দু ২ কী’তে রাখা হয়েছে। বিজয়ে খণ্ড-ত’কে ব্যাক-স্ল্যাশ কী’তে রাখা হয়েছিল, ইউনিজয়ে তা ৭ কী’তে রাখা হয়েছে।
৬. ’ও’ অক্ষরের অবস্থান মূলত বিজয়-ইউনিজয়ে একই থাকলেও ইউনিজয় AltGrl মুডে ’ও’কে লে-আউটে প্রদর্শন করে।
৭. অভ্র-ইজি, ইউনিজয় (এবং বর্ণনা) কী-বোর্ডে ব্যাক-স্ল্যাশের কী’তে পেট-কাটা ব এবং র রাখা হয়েছে, বর্তমান বাংলা চর্চাতে আমাদের দেশে এই দুটি অক্ষরের সংযোজন কতটা তাৎপর্যপূর্ণ তা ঠিক বোধগম্য হয়না।

লে-আউট নিয়ে গবেষণা, বাদানুবাদ এর পাশাপাশি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে আমাদের সবার দৃষ্টিপাত করা উচিৎ। আন্তর্জালে আমরা যখন ইউনিকোড নির্ভর হয়ে উঠেছি, তখন মুদ্রনমাধ্যম এখনো ASCII কোড নির্ভর। আমরা যখন ফেসবুকে বাংলায় স্ট্যাটাস লিখতে পেরে অভ্র নিয়ে তুষ্ট হয়ে যাই, তখন মুদ্রণমাধ্যমকে প্রকাশনার কাজে বিজয় নির্ভর হতেই হয়। অথচ বিজয় এবং অভ্রের চেয়ে মূলত আমাদের ইউনিকোড নির্ভর হতে হবে সার্বজনীন ভাবে - মুদ্রণ এবং আন্তর্জাল মাধ্যমে।
পুরনো লেখাগুলোকে ইউনিকোডে রূপান্তর করা নিয়েও অনেক সমস্যা হয়েছিল। বিজয় কনর্ভাটার তৈরী হলেও বিনামূল্যে ছিলনা, অন্যদিকে অভ্র কনভার্টার থাকলেও তা বেশ ধীরগতিসম্পন্ন ছিল। এই প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে নিকস (nikosh) কনভার্টার প্রকাশ করা হয়। ইউনিকোড নির্ভর ৫টি ফন্টও প্রকাশ করা হয় যেগুলো ওপেন সোর্স ও ফ্রিওয়্যার ছিল।

মুদ্রণ মাধ্যমে ইউনিকোড পদ্ধতি চালু করতে প্রধান সমস্যা বোধকরি ফন্ট এবং ইউনিকোডবান্ধব ফন্টগুলোর জন্য যথাযথ মুদ্রণযন্ত্র। মুদ্রণে বিজয় যতটা প্রফেশনাল লুক দেয়, অভ্র কিন্তু তা দেয় না এটা অনেকেরই অভিমত। বর্তমানে অভ্র-ইউনিজয় ছাড়াও আনন্দ কমপিউটার্সের বিজয়ও এখন ইউনিকোডবান্ধব। বিজয় ৫২ সফটওয়্যারে বিজয় ইউনিকোড সংযোজিত হয়েছে। কিন্তু আনন্দ কমপিউটার্স এবং ওমিক্রণল্যাব মুদ্রণমাধ্যমে আধুনিকতার ছাপ রাখতে উদ্যোগী হয়নি। কেউ কেউ বলেন, ফন্ট তৈরীতে শ্রম এবং অর্থ বিনিয়োগের অভাবে কাজটি শুরু বা এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। নিকস ফন্টগুলো যেহেতু ওপেন সোর্স তাই একে নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় গবেষণা করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় আমাদের ডেভেলপারদের। আর আইটিখাতে সরকার থেকে যে বাজেট বরাদ্দ হয়, তা কি আমাদের মুদ্রণমাধ্যমকে উন্নত করতে ব্যবহৃত হতে পারেনা?

আইনগত দিক থেকে "৯৯%" বিতর্কে যেই জিতুক তাতে আসলে কী-বোর্ড ব্যবহারকারীদের কি লাভ হবে? আমাদের প্রয়োজন-
১. একটি সার্বজনীন, বৈজ্ঞানিক মান সম্মত কী-বোর্ড লে-আউটের প্রচলন
২. মুদ্রণ মাধ্যমকে ইউনিকোড বান্ধব করে তোলা
৩. মুদ্রণ মাধ্যমের জন্য ইউনিকোড নির্ভর মান সম্মত ফন্ট
আর তাই পক্ষপাতিত্বে কালক্ষেপন না করে, দু’পক্ষকেই চাপে রাখতে পারি আমরা বাংলা কী-বোর্ড ব্যবহারকারীরা। এবং যারা সরাসরি আইটি ডেভেলপিংয়ে আছেন, আইটি ব্যবসায় আছেন, মুদ্রণমাধ্যমে জড়িত আছেন তারা চাপে রাখতে পারেন সরকারকে।

বাংলা কমপিউটিংয়ের জয়জয়কার হোক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29159813 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29159813 2010-05-21 21:05:41
বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড
মজার ব্যাপার হলো, অনেকেই এভাবে বলছিলেন, আমরা অভ্র ইউজার, তাই অভ্রের পাশে দাঁড়াবো। প্রথমত, মোস্তফা জব্বারের বক্তব্যের বিরোধীতা করার জন্য অভ্র ইউজার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। দ্বিতীয়ত, মোস্তফা জব্বারের বালখিল্য বক্তব্যের বিপরীতে বিজয় এবং অভ্রকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে একটিকে বিলুপ্ত প্রায় করার এবং অপরটিকে সিংহাসনে বসিয়ে দেয়ার মত আরেকটি উদ্ভট প্রচারণার সূত্রপাত ঘটলো ব্যাপক আকারে। তৃতীয়ত, মোস্তফা জব্বার যে অভিযোগ করেছেন, সেটিকে ভীত্তিহীন বলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো নিয়ে আলোচনার শূণ্যতা ছিল আমাদের মধ্যে।

জল অনেকটা গড়ানোর পর ওমনিক্রনল্যাবের পক্ষ থেকে মোস্তফা জব্বারের ৮ই এপ্রিলের বক্তব্যের প্রথম প্রতিবাদ পাওয়া যায় ২০শে এপ্রিল। (অবশ্য মাঝের এই বিরতীর একটি ব্যাখ্যা সম্ভবত তাঁরা দিয়েছেন বলে শুনেছি) অভ্রটিমের বক্তব্য প্রকাশিত হয় সচলায়ন ব্লগে। এরপর গ্লোবাল ভয়েসে (অনলাইন) বেশ দীর্ঘ আরেকটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়, যেখানে কিছু ব্লগারদের অভ্রের প্রতি ভালবাসাময় সমর্থনও উল্লেখ ছিল। প্রযুক্তিগত বিষয় হওয়া স্বত্বেও, যতদূর মনে হয় টেকি-ব্লগ বলে পরিচিত টেকটিউনস এবং কম্পিউটার জগত ব্লগে তারা, অভ্র-টিম, কোন প্রতিবাদ-বক্তব্য-পোস্ট প্রদান করেননি। হতে পারে এ দু’টি ব্লগ তুলনামূলকভাবে ততটা সরব নয় বলেই। আবার এই দু’টি ব্লগের কোনটিই তাদের ব্যানারে অভ্রকে ধারণ করেনি। টেকটিউনসব্লগে কিছু আলোচনা দেখা গেলেও কম্পিউটার জগৎ ব্লগে ৮ই এপ্রিল পরবর্তী পোস্টগুলোতে বিজয়-অভ্র পুরোপুরিই অনুপস্থিত ছিল। তারপরও ব্যাপক প্রচারণার কারণে অভ্র-টিম যখন যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে, তখন মোস্তফা জব্বার রীতিমত তোপের মুখে।

২৩শে এপ্রিল প্রথম আলো পত্রিকাতে দু’পক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি স্থান পায়। টেকি-জগতে বিচরণের পরও মোস্তফা জব্বার এমন সব অসম্পূর্ণ বক্তব্য রাখেন যা দ্রুতই একরকম টেকি-জোক্সে রুপান্তরিত হয়। অন্যদিকে তার বক্তব্যে তিনি যে হারে আইনি উমুক-তমুক ধারা গড়গড়িয়ে বলে যান তাতে বোঝা যায় তিনি বরং একটু বেশী আইনি-বিশেষজ্ঞ। হবেন নাই বা কেন? বিজয়কে নিয়ে তার রক্ষণশীলতা সন্তানের প্রতি কোন পিতামাতার পজেসিভনেসকেও ছাড়িয়ে যাবে। ২০০৮ সালে এক আইনি লড়াই জিতে গর্বভরে বিজয়কে আগলে রাখার প্রমাণ দেখালেন। এ ছিল তার দু’দশকের পরিশ্রম। বিজয় তার এবং তারই থাকবে, এই বোধ থেকেই বোধহয় তিনি ১৯৮৮ সালে বিজয় পেটেন্ট করিয়ে রাখেন। এবং যেহেতু এটি তার পেটেন্টকৃত সফটওয়্যার ফলে তার পক্ষে পাইরেসিজনিত অভিযোগ তোলা সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। তারই ফলাফলস্বরূপ অভ্রকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। নিজের বক্তব্যকে আরো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি নিজেই পরিস্কার করেন যে, তার আসল খেদ রয়েছে ইউনিজয়ের প্রতি, কারণ তার মতে, ইউনিজয় বিজয়ের নকল এবং অভ্র একে অনুসরণ করে বলেই তিনি অভ্রকে পাইরেটেড বলেছেন। উল্লেখ করে নেয়া দরকার, আমরা যারা দাবি করি মোস্তফা জব্বার মিথ্যাচার করেছেন, তারা কেবল অভ্র-কেন্দ্রীক হৈ-চৈ করছি, ইউনিজয়কে নিয়ে নয়। জনকন্ঠে প্রকাশিত মিথ্যাচারে উনি অভ্র ছাড়াও ইউএনডিপি, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি তার খেদ ২০০৮ সালেও প্রকাশ করেছিলেন। তখন তার অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশন তাদের ১০ হাজার ল্যাপটপে তার অনুমতি ব্যাতীত বিজয় ব্যবহার করছে। এ প্রসংগে তখন তিনি বলেছিলেন, "I don't seek any royalty from the election commission. I just want to get official acknowledgment from the government" । কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাঁর কথা শুনলো না, শুনলো অভ্রের কথা। সে যাই হোক, মিথ্যাচারের প্রতিবাদে অভ্রের পাশে দাঁড়ানোর হিসেব মোতাবেক আমাদের উচিৎ ছিল ইউএনডিপি ও নির্বাচন কমিশনের পাশেও দাঁড়ানো। এমনকি যেহেতু মোস্তফা জব্বার মূলত ইউনিজয়কে নিয়েই তার আপত্তি রাখেন, তাহলে আমাদের উচিৎ ছিল ইউনিজয়ের পাশেই দাঁড়ানো। কিন্তু আমরা যেন গল্পটাকে অভ্রমুখী রাখতেই আগ্রহী বেশী ।

মোস্তফা জব্বারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওমনিক্রনল্যাব অর্থ্যাৎ অভ্র-টিম কী বলছে? একটি ভূমিকা- যেখানে আবেগ ও জনপ্রিয়তার কথা আছে, অনুমতি বিষয়ক মোস্তফা জব্বারের সাথে অতীতে কিছু ব্যক্তিগত আলাপাচারিতার প্রয়োজনীয় বর্ননা, এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- একটি মাত্র কী -এর পার্থক্যই জন্ম দেয় নতুন একটি কীবোর্ড লে-আউটের। এই অন্তত্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিয়ে খুব বেশী বিস্তারিত না থাকলেও, মূলত এখানেই কিন্তু প্রচুর আলোচনার সুযোগ আছে। এখানেই অভ্র, ইউনিজয়, বিজয়ের পার্থক্য বা সাদৃশ্যের হার নির্ণিত হবে, মোস্তফা জব্বার কতটা ভুলে বাস করেন এবং অভ্র পাইরেটেড নয় বিষয়গুলো দিবালোকের মত পরিস্কার হবে।
ওমনিক্রনল্যাব সাইটে পরিস্কার বলা আছে, ”eyboard layouts those are added with the current release are - UniBjoy (99% match with popular Bijoy keyboard layout)” , তার অর্থ হলো ১% বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওমনিক্রনল্যাব তাদের বক্তব্যে বলছে, ইউনিজয় অন্তত আটটি কী’তে বিজয় থেকে আলাদা। তাহলে ধরে নেই ওই ১% -ই সেই ৮টি কী-স্ট্রোক। এখন যেহেতু ইউনিজয়ের মিল-অমিলের অংক কষা হচ্ছে, তাই এই আলোচনায় ইউনিজয়-টিমের নিজেদের বক্তব্য আসাটাই যুক্তিযুক্ত ছিল। অভ্র-টিম, ইউনিজয়-টিম সহকারেই বক্তব্য দিতে পারতো, কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিজয়-টিম অনুপস্থিত। ইউনিজয় তাদের সাইটে অবশ্য একটি ডিসক্লেইমার জাতীয় নোটে বহু আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছে যে, মোস্তাফা জব্বারের এইধরনের প্রোপাইটরশীপ পদক্ষেপে তারা সমর্থন করেনা এবং তারা এও জানিয়েছে, We have no affiliation with Mr. Jabbar or with Ananda Computers।

এদিকে আমরা মঞ্চে এখনো অভ্রকেই দেখছি, আর বিজয়কে ক্রমেই ঝেড়ে ফেলা হচ্ছে। বারবার বিজয় আর অভ্রের তুলনা উঠে আসছে। কোনটা বেশী ব্যবহার-বান্ধব ইত্যাদি ইত্যাদি। কথা হলো, অভ্র যদি আজকে ব্যবহার-বান্ধব না হতো তাহলে কী মোস্তফা জব্বারের এই মিথ্যাচার সঠিক হয়ে যেতো? বলা হচ্ছে যে, এখন কেউ বিজয় দিয়ে লেখেনা। আমরা যারা এই কথা বলছি,সেই আমাদের অধিকাংশই ভার্চুয়াল জগতে বাংলা টাইপ করি। মুদ্রণজগতের পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। তবে কেউ কেউ যখন বললেন, অভ্র এখনো মুদ্রন মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য নয়, তখন হঠাৎ করেই অভ্রের ডিটিপি বিষয়ক ফিচারগুলোর উপর আলোকপাত করা হলো। আশ্চর্য এই যে, ঠিক এই মূহূর্তেই আমাদের হুশ হলো আমাদের মুদ্রণে জগতে একটু পরিবর্তনের, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানো জরুরী। মানে বিজয়ের নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসা জরুরী। কারণ এখন আমাদের কেবলি অভ্রের পাশে দাঁড়াতে হবে!

অতি আবেগে কেউ কেউ বলছেন, কেবল অভ্রেরই রয়েছে বাংলা ভাষার প্রতি অশেষ-বিশেষ অবদান। এবং বিজয়ের ভয়ের চোটে কেউ টাইপই করতো না। অথচ অভ্র প্রথম কী-বোর্ড নয়। ২০০৩ সালে অভ্র’র আবির্ভাব। ভার্চুয়াল জগতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পায় মূলত বাংলা ব্লগ এবং এরও পরে আমাদের ফেসবুক নির্ভরশীলতার কারণে। ধরে নেই ২০০৫ এর পরবর্তী আমাদের এই অভ্র-নির্ভনশীলতা। বাংলা ভাষা কি এর আগে বিস্তার লাভ করেনি- মুদ্রণে বা ওয়েবে? ১৯৮৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত প্রায় ২০টির মত বাংলা কী-বোর্ড সফটওয়্যার ছিল। এবং এক্ষেত্রে সমসামায়িক অন্যান্য কী-বোর্ডের চেয়ে বিজয় এগিয়ে ছিল। অবশ্য তাই বলে পুরো অবদান বিজয়ের একার নয়। বিজয়ের আগে-সমসাময়িককালে-পরে আমরা পেয়েছি মুনীর কী-বোর্ড (প্রফেসর মুনীর চৌধুরী একটি আধুনিক বাংলা টাইপ রাইটার ডেভেলপড করেন), রূপালী কী-বোর্ড, প্রভাত কী-বোর্ড, একুশে কী-বোর্ড। একুশে কী-বোর্ড শুরু থেকেই বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং একে ওপেন সোর্সও রাখা হয়। একুশে কী-বোর্ডের জনক Dr. Robin Upton নিজ উদ্যোগে ইমেইল করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তার বাংলা টাইপ করার এই কী-বোর্ডটি ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। একজন ফিরিঙ্গির এই অবদানটাও তো কম ছিল না। প্রতিটি কী-বোর্ড লে-আউট প্রযুক্তির জগতে বাংলাকে ছড়িয়ে দিতে একেকটি ধাপ হিসেবে কাজ করেছে। দুই-তিন ধাপের পর আমরা বিজয় পেয়েছিলাম, তারপর আরো অনেক ধাপ পার হয়ে আমরা অভ্র পেয়েছি। এবং আগামীতেও নতুন কিছু পাবো। ভাষাকে উন্মুক্তকরণে প্রতিটা ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। এটা উন্নয়নের ধাপ। তাই অবদান সবার, একার নয় ।

আবারো বিজয়-অভ্রতে কিংবা আসলে বিজয়-ইউনিজয়ে ফিরে আসি। ইউনিজয় বিজয়ের ৯৯% অনুরূপ, ১% ফাড়াক, অর্থ্যাৎ ৮টি কী লে-আউট ভিন্ন। কিছু বৈসাদৃশ্যগুলো দেখা যাক-

১. বাংলা স্বরবর্ণগুলো একটিভেট করতে AltGr (alternate graphic; ইংরেজীছাড়া অন্য ভাষা টাইপ করতে ব্যবহৃত কী-স্ট্রোক। সাধারণত নন-ইউএস মার্কেটে বেশী প্রচলিত। উইনডোজে Ctrl+Alt থেকে একই সুবিধা পাওয়া যায়) চাপতে হবে
২. AltGr ব্যবহার করে "\" এবং "।" টাইপ করা যায়
৩. সাধারণ লেআউটে ~ (tilde sign) ও ` (single quotation mark) পাওয়া যায়। AltGr লে-আউটে এগুলো ZWNJ (zero-width non-joiner) ও ZWJ (zero-width joiner) রূপে কাজ করে।
৪. যুগল দাঁড়ি নেই
৫. গতানুগতিক বিজয়ে এরকম ব্যতিক্রমী AltGr পদ্ধতি একেবারেই নেই

মোস্তফা জব্বার আপাতভাবে দুটো কী-বোর্ড লে-আউটের মিল-অমিলের কথা যতই বলুন না কেন। একটু বিশ্লেষণ করলে তার গাত্রদাহের মূল কারণস্বরূপ দেখা যাবে সফটওয়্যারের ফ্রিওয়্যার, ওপেনসোর্স পদ্ধতি। ঠিক এই মূহূর্তে হুজুগে না মেতে আমরা প্রয়োজনীয় কিছু টপিক তুলে এই দ্বন্দের সুরাহা করে আগামীর ডেভেলপারদের উৎসাহিত করতে পারতাম, ফলে আইটি ইউজার হিসেবে লাভবান হতাম আমরাই।

১. একটি কী এর পার্থক্য থেকে একটি নতুন লেআউট
QWERTY এবং QWERTZ এর সামান্য পার্থক্য তাদের নাম থেকেই বোঝা যায়। Dvorak কী-বোর্ড লে-আউটে অবশ্য বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। আগেই বলেছি, অভ্র-টিমের প্রদত্ত তত্ত্ব, একটি কী এর পার্থক্য একটি নতুন লে-আউটে জন্ম দেয়, তা কতটা গ্রহণযোগ্য এ ব্যাপারে তাদের আরো বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নিতে হবে এবং করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের মত সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে বিভিন্ন ডেভেলপারদের মন্তব্য অত্যন্ত জরুরী। এই বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা মূলত কেবল অভ্রকে বৈধতা দেয়ার জন্য নয়। এই মতবাদের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে নতুন কী-বোর্ড লে-আউট নিয়ে গবেষণারত ডেভেলপারগণ সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে পারবেন।

২. সফটওয়্যার পেটেন্ট কতটা জরুরী
যেহেতু মোস্তফা জব্বার বিজয়ের পেটেন্ট করিয়েই নিয়েছেন, তাই উনার অনুমতি ব্যতিরেকে কিছু হলেই আইনগতভাবে উনি যখন-তখন হাইকোর্ট দেখানোর অধিকার রাখেন। আমাদের মত দেশে এরকম প্রপাইটরশীপ দেখে আমরা অভ্যস্ত নই বলে আমরা অতি দ্রুতই ক্ষেপে যাই। "I hope that if I can continue my success the example will encourage many local software developers to get patent rights and earn royalty from their products", নিজের পেটেন্ট বিষয়ক পদক্ষেপে এমনই আস্থা প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার। QWERTY, Dvorak এর মত বিশ্বজনিন ব্যবহৃত কী-বোর্ডের পেটেন্ট জরুরী হতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশে বিশেষত বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট পেটেন্ট করানো কতটা জরুরী? বা কতটা লাভজনক? এতে কী পরবর্তী গবেষণা বাধাগ্রস্থ হয়? আইসিটি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী ভাবে?

৩. ফ্রি-ওয়্যার যখন লাভজনক এবং ফ্রিওয়্যার যখন অলাভজনক
আইটি-ইউজার হিসেবে আপনি যে ফ্রি -তে যে কোন সফটওয়্যার পেতে আগ্রহী হবেন এতে কোনরকম সন্দেহ নেই। কিন্তু যিনি পরিশ্রম করে কিছু উৎপাদন (আবিস্কার) করছেন, তিনি তার শ্রমের, মেধার মূল্য চাইলে তাকে বেনিয়া বলে আখ্যায়িত করাটা কতটা ন্যায্য? যত যাই বলেন, মূলে কিন্তু অর্থই। আপনার (আইটি ইউজার) গাঁটের পয়সা বাঁচানোর জন্যই আপনি উচ্চবাচ্য করবেন এবং অন্যজনও (আইটি ডেভেলপার/ব্যবসায়ী) গাঁটে পয়সা ভরার জন্যই ব্যতিব্যস্ত থাকবেন। বাংলাভাষার প্রসারে অথবা যে কোন ক্ষেত্রেই একটি ফ্রি-ওয়্যার সফটওয়্যার নিঃসন্দেহে শুভ উদ্যোগ। কিন্তু সব কিছু তো ফ্রি তে দেয়া যায় না। তাহলে কী ধরনের এপ্লিকেশন ফ্রি-তে দেয়া যায়? অথবা কী ধরনের এপ্লিকেশনে কত মূল্য ধার্য হওয়া উচিৎ? অথবা সাধারণত মূল্য ধার্য থাকলেও ব্যবহারের ক্ষেত্র বুঝে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে কেবল ফ্রিতে দেয়া যায় কিনা? যেমন স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি।

৪. ওপেন সোর্স যখন প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা সহায়ক
প্রযুক্তিগত গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ওপেন সোর্স কার্যকরী পদক্ষেপ। বিজয় এবং অভ্র দুটোই কিন্তু ক্লোজড-সোর্স। মোস্তফা জব্বার যে বিজয়কে ওপেন সোর্স করবেন না তা নিশ্চিত, তবে হালের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বারবার শোনা যাচ্ছে যে অভ্র শীঘ্রই ওপেন সোর্স হতে যাচ্ছে। এটা ভবিষ্যৎ ডেভেলপারদের জন্য সহায়ক হবে । এবং এতে পরিশেষে আইটি ইউজাররা লাভবান হবে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব আবিস্কারগুলোকে ওপেন সোর্স রাখতে আমরা কতটা আগ্রহী ? কোন ধরনের সফটওয়্যারগুলো ওপেন সোর্স হয় ও হওয়া উচিৎ? বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ওপেন সোর্স সফটওয়্যারগুলোর কত ভাগ জনপ্রিয়, ব্যবহার বান্ধব, মানসম্মত?

৫. কী-বোর্ড লে-আউটের ক্ষেত্রে কী কী মনে রাখা জরুরী
Dvorak কী-বোর্ডের জনক August Dvorak একজন শিক্ষাবিদ ও মনস্তাত্তিক ছিলেন। তিনি QWERTY কী-বোর্ডের বেশ কিছু অসুবিধা নির্ণয় করেন। যেমন- QWERTY কী-বোর্ডে ৩০% লেখা টাইপ করতে হয় নীচের সারিতে, যা অপেক্ষাকৃত কষ্টকর এবং এতে টাইপিং গতি ধীর হয়ে যায়। ৫২% কী-স্ট্রোকগুলো উপরের সারিতে থাকায় আঙ্গুলকে উপরের দিকে চালনা করতে দূরত্ব পার করতে হয়।বেশীর ভাগ টাইপিং বাম হাত নির্ভর, যেখানে অনেকেই খানিকটা দূর্বল হয়ে থাকে। এগুলো লক্ষ্য করে জনাব Dvorak তার কী-বোর্ডের যে লে-আউট করেন তাতে ৭০% কী-স্ট্রোকগুলো হোম-সারিতে রাখেন। এতে সর্বোচ্চ টাইপিং গতি পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহৃত অক্ষরগুলোকে নীচের সারিতে রাখা হয়। ডান হাতকে বেশী গতিশীল রাখা হয়। ইংরেজী বর্ণমালা আমাদের বাংলার চেয়ে সরল। তারপরও যদি ইংরেজী কী-বোর্ড নিয়ে এতো গবেষণা হয়ে থাকে, তো আমাদের স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জণবর্ণ, যুক্তাক্ষর, এবং ’কার’ নিয়ে কী পরিমাণ গবেষণা করা দরকার এবার বুঝুন। এবং এখন পর্যন্ত যতগুলো কী-বোর্ড এসেছে, তা কতটা চাহিদা মোতাবেক তা ভাবুন।

৬. বর্তমানে প্রচলিত কী-বোর্ডগুলোর সুবিধা-অসুবিধা কী কী
অসুবিধা নিয়ে অবগত না হলে পরবর্তী বিকাশ ঘটেনা। তাই এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত, প্রচলিত, কম জনপ্রিয় এবং অধিক জনপ্রিয় কী-বোর্ডে যে লে-আউট অনুসরণ করা হয়, এর বাইরে আর কত রকম করে কী-বোর্ডে বাংলা বর্ণমালাকে সাজানো যায় যা বাংলা টাইপিং গতিকে আরো তরান্বিত, আরো সহজায়িত করবে। আব্দুস সাত্তার, মুক্তাদির খান পাঠান, আমীর আলী’র DEVELOPMENT OF AN OPTIMAL BANGLA KEYBOARD LAYOUT BASED ON CHARACTER AND FINGERING FREQUENCY নামক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, আমাদের বাংলা কী-বোর্ডের অনেক লে-আউটই ব্যবহারকারীর টাইপিং গতি এবং একেকটি অক্ষরের ফ্রিকোয়েন্সি বুঝে নকশাকৃত নয়। বেশী ফ্রিকোয়েন্সির ক্যারাক্টারকে কম ফিক্রোয়েন্সির ক্যারেক্টারের জায়গায় বসানো হয়েছে। এতে ইউজাররের টাইপিং গতি ও সাচ্ছন্দ্য যথেষ্টই হ্রাস পায়। তাদের টিমের একটি জরিপে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে জানা যায়- Shift + Char ইউজারকে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ দেয়না টাইপিংয়ে।

৭. ফোনেটিক কী-বোর্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ
"amar" লিখলে যখন ’আমার’ হয়, এর চেয়ে সোজা আর কি হতে পারে বাংলা টাইপিংয়ের বেলায়! ফোনেটিক কী-বোর্ড দিয়ে বাংলা টাইপ করার ভয় কাটিয়ে উঠেছেন অসংখ্য ইউজার। কিন্তু ফোনেটিকে কী আর কোন পরিবর্তন আনা যেতে পারে? ফোনেটিক শিক্ষানবিশ পর্যায়ে স্বাগত হতে পারে কিন্তু পরিণত ক্ষেত্রে একে কি গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়? অথবা ফোনেটিক নির্ভরশীলতা কি আমাদের সম্ভাব্য হরেকরকম বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করেনা?

মোস্তফা জব্বার যখন মৌচাকে ঢিল মেরেই বসলেন, সে সুযোগে আমরা মধুচাকের গড়ন দেখতে পারতাম, মধুচাক ভেঙ্গে মধু সংগ্রহ কিভাবে হয় তা জানতে পারতাম, মধু চেখেও দেখতে পারতাম। কিন্তু মৌমাছিরা তাকে কামড়ালো কিনা এটা দেখতেই আমরা উৎসুক ছিলাম বেশী। বিজয়কে অচ্ছুৎ করে দিতে আমরা মনপ্রাণ সঁপে একরকম অভ্রের প্রচারণায় নেমে গেলাম। অথচ এ কাজটি আমাদের (আইটি ইউজারদের) নয় একেবারেই। ভোক্তা এভাবে পণ্যের ক্যাম্পেইন করেনা, এ কাজটি শেষ পর্যন্ত পণ্য উৎপাদনকারীরই।

ফলে যে গল্পটা দূর্দান্ত সাই-ফাই হতে পারতো, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ একটা রূপকথা হয়ে গেল...!!!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29141261 http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/29141261 2010-04-24 17:10:09