somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেউতো পড়ে না!

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার যতো লেখালেখি সব রিশানের জন্য। আজ কদিন যাবৎ ও খুব অসুস্থ নেটে বসতে পারছে না। ওর চাপাচাপিতেই একটু আধটু লিখি।ওর অসুখটা কি বুঝি না, দুদিন পরপরই শুধু জ্বর হয়। খুকখুক কাশে আর হাসে আর বলে ধুরোমিয়া তোমার জন্য লেপের ভিতর থেকে হাতটা বের করতে হলো!
আবার কাশি?
আরে কাশি কি আর একলা আসে? সাঙ্গপাঙ্গ লইয়াই আসে। জ্বরও হইছে। আরে জ্বরকি শুধু তোর একার জন্যই নাকি? দুদিন না যাইতেই আবার?
কই? গতবার জ্বর হইছে.. কখন? ও হিসেবটিসেব করেদেখে সে প্রায় তিনমাস আগের কথা।
আমি বলি তিনমাস অন্তর অন্তর জ্বর কিন্তু কম খারাপ না, ভালো ডাক্তার দেখানো উচিৎ!
ভালো ডাক্তার কই পাবা? ডাক্তারের কাহিনী শোনোনাই। ভূয়া সার্টিফিকেট দিতে গিয়া নিজের ছেলের খুনীকে বাঁচিয়ে দিল এক ডাক্তার?
ডাক্তাররা ভূয়া সার্টিফিকেট দেয় এটা নতুন কিছু না। আমার ভাই মাসে অন্তত ৫দিন মেডিকেল লিভ নেয়। সে দিনগুলো শ্বশুর বাড়িতে কাটায়। অফিসকে ফোনে জানায় আমি খুবই অসুস্থ। এইচআরএডমিন বলে ডাক্তারের সার্টিফিকেট আইনেন। ভাইয়া সার্টিফিকেট একটা ১০০টাকা দিয়ে কিনে অফিসে জমা দেয়। মেডিকেল লিভ অ্যাপ্রুভ হয়ে যায়। সাড়ে তিনশটাকা করে বেতন আর কাটা হয় না। অবশ্য প্রতিবার সার্টিফিকেট কিনতে শুধু শুধু একশ টাকা দিতে খারাপও লাগে তার। সে জন্য একবার বুদ্ধি বের করলো। সে এখন আর সার্টিফিকেট কেনে না। লিখিত অংশটুকুতে নতুন ওষুধ লিখিত কাগজ বসিয়ে ফটোকপি জমা দেয়। ফটোকপি জমা দেওয়াই নিয়ম। মেইন কপিতো রোগীর জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ!
অতএব ডাক্তারদের কথা আর বলে লাভ নাই। তবেএটাও সত্য যে এই ডাক্তাররাই আবার চিকিৎসাসেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে আমাদের। আমার কাছে কজন ডাক্তার আছেন যারা নিজেদের পেশায় অত্যন্ত সৎ এবং সফল। আমার একটা সফল অপারেশন করেছিল ইবনেসিনার ডাক্তার ইদ্রিস আলী.এফ.আর.সি.এস। তাকে দেখলেই যেন সব রোগীর অসুখ ভালো হয়ে যায়। এমন অমায়িক ব্যবহার! আর কাজেও তিনি ভীষণ পটু। আমি হাসপাতালে বসেও বিভিন্ন পত্রিকায় তার সাফল্যজনক সংবাদ পড়েছি। আমার পাশের কেবিনে এক রোগী এলা সে কথা বলতে পারে না। দুবৃত্তরা মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। এমনকি মারতে মারতে মাথার মগজপর্যন্ত আউট হয়ে গেছে। মেরে অনেক খুনী হাসপাতালেও পাঠায় শুনেছি কিন্তু এরা লোকটিকে ফেলে দিল ড্রেনে। আর ড্রেন থেকে অজ্ঞানবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার খুলির একটা খণ্ড পড়ে থাকলো ড্রেনে। চিকিৎসার সময় খুলিটা আর খুঁজে পাওয়া গেলো না। বাধ্য হয়ে প্লাস্টিক অর্থেসিস লাগানো হলো, কিন্তু সেটা প্রায়ই ডিস্টার্ব করে। এবং তাতে লোকটি বেঁচে থাকলেও হারিয়ে ফেললো বাকশক্তি। ডা. ইদ্রিস আলী একটা চ্যালেঞ্জ নিলেন। অপারেশনের দিন লোকটি সারাদিন না খেয়ে আর ইদ্রস আলী জায়নামাজে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন তার মেডিকেল সাইন্সের পক্ষে যা সম্ভব নয় তা সম্ভব তার আল্লাহর পক্ষে।
লোকটি আমাদের সামনেই সুস্থ হয়ে উটলেন, বিবরণ দিলেন। হাসপাতালে ভর্তির সময় যে কথা তিনি আমার সঙ্গে ইশারায় বললেন সে কথাই আবার তিনি মুখে বললেন। সেকি আনন্দ তার! সবাই বলছে আপনি াসুস্থ এখন এতো কথা বলা ঠিক না, তবু লোকটা কথা বলেই চলেছে, সে বলে এতো বছর পর কথা বলার শক্তি পেলাম আর কথা বলবো না?
আরেকটা রোগী এসেছিল ইন্ডিয়া থেকে- ইন্ডয়াই নাকি রেফার করেছে ডা. ইদ্রিস আলীর কাছে, এক হিন্দু। তার সঙ্গে চুক্তি হলো যদি সে সুস্থ হয় তাহলে অপারেশনের বিল যা খুশি দেবে আর যদি সুস্থ না হয় কোনও বিল দেবে না। সুযোগটা ইদ্রিস আলী নিজেই দিলেন, কারণ লোকটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে বিভিন্নডাক্তারের কাছে গিয়ে বহু টাকা খুইয়েছেন, কেউ তাকে ভালো করতে পারেনি।
সেই লোকটিও দিব্যি সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলেন!
আমার পাশের আরেকটা কেবিনে এলো কারিমুল নামের একটা ছেলে কেমন গুজা হয়ে এসেছিল! সেও সোজা হয়ে বাড়ি গেলো! এ এক যাদুর কারখানা! এও তো ডাক্তার, তাই না?
আমার স্কিনগ্রাফ্ট করেছিল ডা. মোর্শেদ।সেও ইবনেসিনায় পার্ট টাইম করতো। সে ছিল বারডেমের স্কিন স্পেশালিস্ট। তার ব্যবহারটাও ছিল দারুণ। কোনও ইনফেকশন ছাড়াই সম্পন্ন হলো গ্রাফটিং এতে সে কী ভীষণ খুশি! তারও ধারণা কাজটি করার দায়িত্ব তাদের বাট সাফল্য দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
অতএব কোন ডাক্তার কী ভুল ওষুধ দিল মিসবিহ্যাব করল দুর্নীতি করলো এসব ভাবলে বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে। আমি রিশানকে বললাম ডাক্তারের কাছে যা। অবহেলা করিস না।
ওবলে- যাবো. তবে ডাক্তারের কাছে না, ফার্মেসীতে। ১০টাকার ওষুধ খেলেই সব ওকে! শুধু শুধু ৩০০টাকা ভিজটের ডাক্তারে দরকার আছে?
আমি তবু দুঃশ্চিনায় থাকি ওকে নিয়ে... কারণ অবহেলায় আমার এক বোন.. থাক আরেকদিন ব্লগের লোকজন বলেছে ছোটলেখা দিতে । তাইতো চাই কিন্তু পেরে উঠিনা্ কিছু বলতে গেলেই সবকথা হুড়মুড়করে একসঙ্গে বের হয়।(চলবে?)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×