somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্ম উন্নয়ন প্রক্রিয়া (পর্ব - ৪/ শেষ)

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এর আগে আমি আত্ম উন্নয়ন প্রক্রিয়া পর্ব-১ পর্ব- ২ এবং পর্ব -৩ লেখার নিরন্তর চেষ্টা করেছি। এখন পর্ব -৪/ শেষ পর্ব লিখেছি। জানিনা কি লিখতে চেষ্টা করেছিলাম আর কি লিখলাম .... এ বিচারের ভার আপনাদের উপর)

লাইফ টাইম
সুইসাইড : আমরা ভাবি মানুষ শুধু যখন নিজেকে অর্থাৎ নিজের জীবনকে শেষ করে ফেলে বা মরে যায় তখনই তাকে সুইসাইড বলে। কিন্তু মানুষ বেঁচে থেকেও তার বিবেকবোধ এবং মনুষত্বকে যখন মেরে ফেলে তখন তা আত্মহননের সামিল । নিম্নোক্ত ভাবে একজন মানুষ সুইসাইড করতে পারে-

১. উইথড্র: শারিরীক ভাবে উপস্থিত ,কিন্তু মানসিক ভাবে উপস্থিত নয়। ফলে আমরা ভাল কাজ হতে নিজেকে বঞ্চিত করছি
রিচুয়াল: সমাজ আমাদের উপর সনাতন অনেক প্রথা চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা অনেক ধর্মীয় বিষয় অন্ধের মত অনুসরণ করছি এবং এখানেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখছি ।
২. এ্যাকটিভিটি: আমরা নির্দিষ্ট কাজ সময়মত না করে অন্য কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখছি । আমরা বৈষয়িক কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখছি ,অন্যেকে খুচিয়ে সমালোচনা করছি,আরাম আয়েস ,ভোগবিলাসে নিজেকে ব্যাস্ত রাখছি। সংসারের ঝামেলা এড়াতে নিজেকে অন্যান্য কাজে ব্যাস্ত রাখছি ।
৩. পাস টাইম: আমরা সময় কাটানোর জন্য অহেতুক অন্যের বিষয় নিয়ে কথা বলি ।
৪. গেম: এটা এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা । একজনের সমালোচনা করে অন্যের কাছে অসম্মান করা করা হয় । যিনি এই কাজটা করলেন তিনি ভাবেন ,খুব ভাল একটা কাজ করা হয়েছে । কিন্তু সে কোন সময়ে অন্যের গেম এর শিকার হতে পারেন । ‌'অপরের জন্য কোন গর্ত খোঁড়া হলে সেই গর্তে নিজেকেও পরতে হয়'।
৫. ইনটিমিসি : ঘনিষ্টতার ভাব দেখায়ে, ধোকা দিয়ে অন্যের তি করার চেষ্টা করা হয় । এটাও এক ধরনের গেম। এই ধরনের লোক খুব ভয়ংকর হয়ে থাকে ।
পরিবর্তন:
আমরা নিম্নোক্ত ভাবে সুইসাইডের হাত হতে নিজেদেরকে এবং অপরকে রা করতে পারি। (পাঠক আপনাদের কিছু যোগ করার থাকলে তা করতে পারেন)
- এ্যাডাল্ট আচরণ করা
- নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া ,যে আমি খারাপ কাজ হতে বিরত থাকব
- ভাল কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা
- কেউ ভাল কোন কাজ করলে উৎসাহ দেয়া এবং প্রশংসা করা
- যে কোন বিষয় ইমপ্লিমেন্টেশনের আগে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা
- সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন নতুন চিন্তা করা
- ' কে, কোথায়, কেন, কি, কারা এবং কিভাবে' এই ফাইভ ডব্লিউ এবং ওয়ান এইচ নিয়োমিত ফলো করা
- স্মার্ট এর আলোকে (এস - স্পেসিফিক, এম - মেজারেবল, এ - এটেইনেবল, আর - রিয়ালিস্টিক, টি - টাইম ফ্রেম) কাজ করা
- অন্যকে সহযোগীতা করা
- ইগোসহ সকল প্রকার বাউন্ডারী হতে বের হয়ে আসা
- অন্যের নেগিভিট সমালোচনা হতে নিজেকে কৌশলে দুরে সরিয়ে রাখা কারণ যে আপনার সামনে অন্যের নেগেনিভ সমালোচনা করছে, সে আপনার পিছনে আপনারও সমালোচনা করতে পারে। তাই তাকে সহযোগীতা করা যে এটি ঠিক নয়।
- রাগকে দমন করা । ভয়, অভিমান ইত্যাদির সাথে কোপ করা। এক্ষেত্রে নিজের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। নিজের না বলা কথাগুলি নিজের আপনজনকে বলা - যে আপনার খুব হিতাকাংখী।
- সকল প্রকার নেগেনিভ ইমোশন হতে নিজেকে সংযত করা।
- ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া
- যে কোন বিষয়ে রিজিট না হয়ে সমঝোতার মাধ্যমে একমতে আসা
- আমার ভুল হতেই পারে, তা পজিটিভলি স্বীকার করা
- সকল প্রকার তথ্য জানা এবং অন্যকে তা জানানো
- চ্যারিটিমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকার চেষ্টা করা
- পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া এবং তাদের সাথে বন্ধুসলভ আচরণ করা
- সকলের প্রতি ইমপ্যাথীমূলক মনোভাব প্রকাশ করা
- জেনে ,বুঝে,চিন্তা করে কাজ করা
- নিজের সুখকে বড় করে না দেখা
- অপরের সাথে গেম ও কৃত্রিম ঘনিষ্টতা না করে সমাজের ভালোর জন্য কাজ করা
- নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করা / নিজেকে জানা

- লাইফ স্কিলের ১১টি উপাদান নিজের আয়ত্মে আনার চেষ্টা করা ( লাইফ স্কীল বা জীবন দতা হচ্ছে সেই সব বুদ্ধি এবং আচরণগত দতা যা মানুষকে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে ও বিভিন্ন পরিস্থিতি ভালভাবে মোকাবেলা করতে এবং নিজেকে বিভিন্ন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। .... জীবন দতার উপাদান মোট ১১টি, যথা: ১. সিদ্ধান্ত গ্রহণ ২. সমস্যা সমাধান ৩. গভীরভাবে চিন্তা করা ৪. নতুন নতুন চিন্তা করা, ৫. সঠিক যোগাযোগ ৬. অন্যের সাথে সম্পর্ক ৭. অন্যের জায়গায় নিজেকে ভাবা বা সমানুভূতি ৮. সমঝোতা বা একমতে আসা ৯. নিজেকে জানা ১০. আবেগের চাপে টিকে থাকা ১১. মানসিক চাপে টিকে থাকা )

- শুধুমাত্র ধর্মীয় চিন্তার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত না রেখে চিন্তার ত্রেকে প্রসারিত করা
- গৗতম বুদ্ধ বলেছেন আমাদের বিষয় এবং ব্যক্তির এর সাথে সব কিছু সম্পর্কিত করতে হবে । আমরা প্রকৃতির মাঝেই বসবাস করি ,তাই এর মাঝেই আমাদের প্রকৃত সত্যকে খুঁজে বের করতে হবে ।
- মানুষ যখন সত্যকে জানতে পারে তখন অন্যরা হাসি ঠাট্টা করে , মারমুখী আচরণ করে ।এক সময় এটা থেমে যায় এবং অনেকে অনুসরণ করে ।যেমনটি গৌতম বুদ্ধের বেলায় ঘটেছিল।আমরা যখন কোন নতুন কমিউনিটিতে করতে যাব তখন অনেকে নানা ধরনের কথা বলতে পারে ,কিন্তু আমাদের থেমে গেলে চলবে না ,এগিয়ে যেতে হবে।দেখা যাবে কমিউনিটির অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে । এমনটি আমাদের ব্যক্তি জীবনে ,পারিবারিক জীবনে এবং কর্মস্থলেও হতে পারে ।
' জমিদারের ইচ্ছামত দেইনা জমিচাষ তাইতো ফসল ফলে নারে দু:খ বারো মাস'। এখানে দু:খ বারো মাস হলো - স্বরুপ, ফসল ফলে না হচ্ছে - কারন। ইচ্ছামত দেইনা জমিচাষ হচ্ছে প্রক্রিয়া। মহেশ গল্পে দেখা গিয়েছে ,একদিকে ছিল প্রচন্ড দারিদ্রতা, অপর দিকে ছিল প্রচন্ড জুলুম ,অভাব ও অশান্তি। কিছু লোক সম্পদকে কুগিত করেছে জমিদারী প্রথার মাধ্যমে। কৃত্রিম দারিদ্রতা তৈরী করেছে। এখানে মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখার অভাব ছিল। সবচেয়ে বড় অভাবটি ছিল মূল্যবোধ।
আমাদেরকে লালসা, ইগো মতার দাপট ইত্যাদি খোলসগুলি ত্যাগ করতে হবে। আমি যদি আমার উন্নয়ন করতে পারি তবে অন্যের উন্নয়ন তথা সমাজের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট হতে পারবো। জীবন দতার প্রতিটি উপাদান শুধুমাত্র কথায় নয় কাজে প্রমান করতে হবে। একটি আলোকিত প্রজন্ম তৈরির জন্য আমাকে এখনই নিজেকে আলোকিত পথে আসতে হবে এবং এর জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। আমি যা জানি তা অন্যকে বিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। ভুলকে আকড়ে ধরে নয়- বরং ভুল হতে আমাদের শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে। কাউকে অহেতুক কষ্ট দিয়ে, অপমান করে, অসম্মান করে, সন্দেহ করে নয় - বরং তার আসল সমস্যাগুলি বুঝতে হবে এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ নিতে হবে । মানুষকে (নারী, পুরুষ, শিশু, আদিবাসী, সকল ধর্ম- বর্ণ) ভালবাসতে হবে স্বার্থহীনভাবে। আমার সম্পদ হতে সামান্য কিছু হলেও দরিদ্রদের মাঝে বিতরন করার চেষ্টা করতে হবে। আমার যাকাতের অংশ আমার দরিদ্র আত্মীয় স্বজন, পাড়া-পড়সীদেরকে আগে দিতে হবে যাতে সে আগামী বছর সে আর যাকাতের দারস্থ্য না হয়। কাউকেই নির্ভরশীল করবো না--- সকলকেই আত্মনির্ভরশীল হতে দীক্ষা দিতে হবে। জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সমান চোখে দেখতে হবে (সকলেই আমরা সকলের তরে, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে.......)। আর তাহলে আমরা যে স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের কথা বলি তা বাস্তবেই সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্রঃ
আমি 'আত্ম উন্নয়ন প্রক্রিয়া' লেখাটি তৈরি করার আগে যাদের নিকট হতে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ, তথ্য ও মতামত পেয়েছিলাম - তা আমি একীভূত করে লেখার চেষ্টা করেছি। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ - তাদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি:

১. ডা: ইকবাল আমীনুল কবীর - কনসালটেন্ট, চা বাগান, ইকো ফার্মিং - পঞ্চগড়, মিনা বাজার
২. সুভাষ চন্দ্র সাহা - কোঅর্ডিনেটর - ভার্ক
৩. আসাদুর রহমান আসাদ - ভার্ক
যে সকল ত্রে হতে আরো বিভিন্ন তথ্য/উদাহরণ পেয়েছি তা নিম্নে দেওয়া হলো:
১. প্রার্থনা সভা - জি বাংলা
২. লিটল বুদ্ধ ছবি
৩. ছোট গল্প 'মহেষ' - শরৎচন্দ্র চট্টপাদ্ধায়
৪. বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পেপার
৫. লালন গীতি






সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৭
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×