somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিলা আমার প্রথম পাঁচ

২১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিলার হাতে অনেক পাঁচ
সকল পোষ্টে পাবেন আঁচ।
করতে তর্ক চায়না শিলা
কেয়ই যদি খায়গো বিলা!
শিলার হাতে অনেক পাঁচ
বিলায় যায় ঘ্যাচাং ঘ্যাচ।

এই দেশে(ব্লগে) নতুন আমি। ম্যাক ব্যাবহারের কারনে বাংলা ব্লগিং এর দুনিয়া থেকে অনেক দূরে ছিলাম। অতিসম্প্রতি সালিম সামাদের বিড়াল বিষয়ক একটি লেখার সুত্র ধরে এই ঠিকানায় এসে দেখি গত এক বছর যাবত এখানে অসাধারণ সব লেখালিখি হচ্ছে দেরী না করে সাথে সাথে যুক্ত হয়ে পড়ি।
দিনক্ষন গুনলে আমার ব্লগ বয়স হবে হপ্তা তিনেকের।
এই অল্পদিনে অনেক কিছ্ই দেখা হলো। নিজের একটা বদ অভ্যেসের কারনে যখন যেটার পেছনে লাগি লেগেই থাকি রাত দিন। যতক্ষন না ওই কর্মটায় ক্লান্ত হই, অ-রুচী ধরে। এখানকার ইতিহাস তেমন জানি না কিন্তু প্রায়শঃ ইতস্ত বোধ করি যখন অকারন কোন শিশুতোষ অথবা কান্ডজ্ঞ্যানহীন ঝগরাঝাটির 'ক্রস ফায়ারে' পড়ে যাই। আজ এক ব্লগ পড়শী'র একটি কমেন্ট পড়ে ও'র নামটায় ক্লিক করতেই সেরকম একটা পরিস্থিরি মধ্যে পড়ে যাই। একবার বেরিয়েও চলে গিয়ে ছিলাম, কি কারনে যেনো স্বস্থি পাচ্ছিলাম না তাই আবার ফিরে যাই শিলা'র লেখা নতুন পোষ্ট বাবার বিয়ে দেখানো এ। রেকর্ড সংখ্যক পাঁচ শতাধিক হিট, জ্বালাময়ী সব কথামালার পাল্টা পাল্টি ছোড়াছুরির 'এক সেঞ্চুরি' মন্তব্য। যুদ্ধের ডামাডোলে যৌক্তিক-অযৌক্তি কাদা ছোড়াছুরিতে কখন যে সুস্থ আলোচনা সমালোচনা পথ হারিয়ে ফেলেছে বোধকরি সে জ্ঞ্যান ও অনেকের ততক্ষনে লুপ্ত হয়ে গিয়ে ছিল। শিলাকে দেখলাম প্রায় একাকি একটা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আমার কেমন যেন কষ্ট লেগে ওঠে। বলে রাখি, ইতমধ্যে শিলা'র ক'টি লেখা এবং লেখার শিরোনাম গুলো আমার কাছে ভালোলাগতে শুরু করেছিল। শিলা'র এক এক লেখার এক একটা পোষ্ট মানেই ও'র ব্লগে পাঠকের হুমরি খেয়ে পড়া। বেশীর ভাগ পাঠক মন্তব্যেই প্রশংসা সূচক দু-দশ শব্দের। কিছু কিছু নিটোল দুষ্টুমি ও যে ওকে সইতে হচ্ছিল বুঝতে পারছিলাম। এই খাট্টা-মিঠা মন্তব্য লেখকের লিখন শৈলীতে বরং ব্যঞ্জনই যুক্ত করে বলেই আমি ধরে নেই। এর মাঝে শিলার খাতায় মন্তব্য লিখতে যেয়ে একটি মজার গদ্য কার্টুন লিখবার উপাদান পেয়ে যাই। সাথে সাথে লিখেও ফেলে ছিলাম যা এখন পর্য্যন্ত এ ব্লগে আমার লেখার মধ্যে সর্বাধিক পঠিত এবং আলোচিত একটি লেখা হবার ভাগ্য লাভ করেছে "ধুর এমন করলে আর খেলুম না, যামুগা"। এই লেখার সুত্র ধরে শিলা'র এক মন্তব্য'র উওরে শিলাকে উদ্দেশ্য করে উপরে উদৃত প্যারডি খানা লিখে দেই। নিষ্কলুষ বিনোদনের উদ্দেশ্যে রচিত প্যরডিটিতে শিলা সম্ভবত কষ্টই পেয়ে ছিল ক্ষানিক। যার আঁচ আমার ব্লগে করা ওর পরবর্তী মন্তব্যে লেগে ছিল। আজ শিলা'র ব্লগে ঢুকেই যখন হৈ হট্টগোলে হোচট খেতে হলো তখন তাতক্ষনিক ভাবে একটি নাতিদীর্ঘ্য রচনা লিখে ও'র মন্তব্য খাতায় রেখে আসি।
আমার এই অল্প ব্লগ জীবনে, শিলাকে সব সময় দেখেছি বেশ হন্যে হয়ে এ ব্লগ ও ব্লগ ছোটাছুটি করে। বেশী কিছু না সবার ব্লগে ঢুমেরেই বলে চল্লাম। যাবার আগে আদর করে রেখে যায় একটা বাংলা '৫'। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এই পাঁচ-ফাচের ধার ধারি না। আমার কাছে লেখকের লেখাকে ৪,৫ দিয়ে বিচার করার কিছু নাই। লেখা আর ইনফর্মেশন দেয়া-নেয়াকে আমি এক করে দেখছিনা, দু'টো দুই ব্যাপার। যেহেতু লেখালিখিতে আমার আগ্রহ সে কারনে লেখালিখির ব্যাপারেই বলি। শিলা প্রসঙ্গে বলতে যেয়ে বলছিলাম লেখালিখির রেটিং এর কথা। বললাম যে আমি এই রেটিং এর ধার ধারি না। কিন্তু স্বীকার করতে লজ্জা নেই কেউ যখন আমার কোন লেখা পড়ে বলে লেখা ভালো হয়েছে, আপনাকে ৫ দিলাম। তখন সত্যি সত্যি মনের ভেতর একটা শিশুসুলভ ভালো লাগা এসে ঝিলিক দেয়। একে আমার সতর্ক মন রুখতে পারে না কোন মতেই। শিলাকে দেখি এক ব্লগ থেকে ছুটে অন্য ব্লগে যেয়ে এই ভালো লাগাটি মানুষকে বিলায় অকাতরে। এই ৫ প্রদান কর্মসূচীতে নিশ্চই শিলার মুখটা সবসময় হাসি হাসি থাকে; এই স্বার্থে ভরা দুনিয়ায় মানুষ হয়ে মানুষের জন্য এটুকু করতে পারাকে আমি অনেক বড়ো মনে করি।
শিলার সাথে কার কি ইতিহাস, ওর কি ভাবনাচিন্তা ও কেমন লিখে সর্বপরি কে আদম আর কে ইভ সে হয়তো ব্লগে যদি আগ্রহ ধরে রাখতে পারি এক দিন সব জানা যাবে। তবে আমার ব্লগ বাড়ীতে যেচে এসে পরিচয় করে শিলাই আমাকে প্রথম বাংলায় এক খান ৫ দিয়ে বলে ছিল, 'আমি ই প্রথম'। আমি সেটা মনে রেখেছি। আজ ঘুমুতে যাবার আগে আমি অনেক ভেবেছি, ভেবেচিন্তে আমার এই একান্ত কিছু ভাবনা এখানে পোষ্ট করে গেলাম। যানি না কেন করলাম! লগ অফ করার আগে সবাইকে শুধু বলে যেতে চাই, শিলা আমার প্রথম ছিল প্রথমই রবে; যেমন আছে অনেকের। শিলার এই গুনটিকে আমি এপ্রিশিয়েট করি, শ্রদ্ধ্যা করি।
ধন্যবাদ সবাই। ধন্যবাদ শিলা আপনাকে। সকল ব্লগারের স্বাস্থ্য ও চিন্তার সুস্থতা এবং এই ব্লগটির রোগ মুক্ত দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

* ছবি পরিচিতি: বাংলাদেশী গ্রাফিক আর্টিষ্ট বন্ধু রবি খান এর ডিজিটাল পেইন্টং In search of feedom
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
৪২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×