মদ শুটকি দুই পদ
কোনডা খাইবেন লাল না সাদা?
কি কইবেন আমারে বিলাই না গাধা!
নিজ জীবনের মদ্য পানের মজার দুইখান স্মৃতি আছে। যে দেশে এক ক্যান বিয়ার রাখার অজুহাতে বাঙালিকে বিশেষ ক্ষমতার হাইকোর্ট দেখানো হয় সেখনে এই পোষ্টটি বিদগ্ধ জনেরা কিভাবে নেবেন কে জানে! ব্লগ লিখবার কারনে না আবার আইনের ফোকড়ে পড়ে যাই!
প্রিয় ব্লগার নির্বাসিত'র পোষ্টে হ্যানিক্যন পানের ইতিকথা পড়ে একটু স্মৃতিকাতর হয়ে এই পোষ্টটি দিলাম দয়া করে লেখাটি একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে পড়বেন।
আমার প্রথম বিয়ার: জীবনে প্রথম বিয়ার আমি আর ভাইগনা মুন্নি দু'জনে এক জগ ডাবের পানি এক পাউন্ড কোহিনুর চানাচুড় আর পেয়াজ মরিচ মিলিয়ে খেয়ে ছিলাম। যে কারনে মমু ভাইগনা'র এ নিষিদ্ধ অভিযান বিয়ার পানে সে নেশা'র লাটিম না ঘুরায় মুন্নি বলে উঠল, মামু কিছুইত হইল না তোমারে কইছিলাম না চানাচুরে মরিচ কয়টা কম দেও। ঝালের ঠেলায় নেশাটা হইল না!
আমার প্রথম ওয়াইন: তখন বিয়ার/ হুইস্কি সবই আমার কাছে মদ, মানে ওয়াইন। কেউ মদ খেয়ে উড়ে বেড়ায় আর কেউ উড়ে উড়ে মদ খায়। জীবনে প্রথম প্লেনে চড়ে আমি ও একটু মদ মানে ওয়াইন খেতে চেয়ে ছিলাম বেরসিক এয়ার হোষ্টেজ এর কাছে। ইচ্ছে ছিল ক্যনে'র ভেতর থেকে ফুস করে ফেনা বার হওয়া এক ক্যন বিয়ার পানের কিন্তু গোল বাধাল বেরসিক আকাশ বুয়া(এয়ার হোষ্টেজ)। বল্লাম না মদে'র ইংরেজী ত আমার বিশ্বকোষে 'ওয়াইন'। আর মদ ত মদ-ই। আমি যখন কষ্টমষ্ট করে বিমানবালাকে বললাম আমি ওয়াইন চাই তখন সঙ্গত কারনেই তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন 'লাল' না 'সাদা'? আমি আবারও কষ্টমষ্ট করে বলতে চেষ্টা করলাম যে আমি ওয়াইন খেতে চাই 'ওয়াইন'। ধৈয্য সহকারে মহিলা আমার কথা শুনে আবারো যখন বলল্লেন, 'রেড' অর 'হোয়াইট'? তখন ইতস্তত আমি ভড়কে গিয়ে আমার মদ পানের ইচ্ছা নিবৃত করে বলে ছিলাম থাক মদ আর খাব না।
মদ্য সংস্কৃতি: পরে জেনেছি সব মদ মদ নয়, আরো মদ আছে। ওয়াইন 'রেড' ও আছে, 'হোয়াইট' ও আছে। বিয়ার আর হইস্কি, টুমাচ রিস্কি! রাম এন্ড কোক, ভদকা আর অরেঞ্জ জুস। ব্লাডি সিজার, ব্লাডি মেরী, স্ক্র ড্রাইভার, স্লিপারি নিপল কত শত নাম! সব মদ মদ হলেও, সব মদ ওয়াইন নয়।
সেদিন এক পার্টিতে আমার এক ব্যাঙ্কার আর এক গায়ক বন্ধু টাল হয়ে উল্টাপাল্টা করে গেল। আমাদের শিল্পী এক বন্ধু আমাকে উপদেশ দিয়ে বলল, বন্ধু মদ খালি গিললেই হয় না মদ খাওয়ার একটা কালচার আছে সেটা না জানলে এই দশাই হয়! যারা জানে তারা মদ খাওয়ার অগে কামনা করে সুস্বাস্থ্য, আর আমরা মূর্খ্যরা মদ খেয়ে হই হেগে মূতে একাকার!
অতঃপর আমাদের গন্ধ বিলাস: ডিডিটি আর ফরমালিন দেয়া চেপা শুটকির গন্ধ শুকে আমার বউ তিন থাল ভাত খেয়ে ফেলতে পারেন, অথছ শুটকী'র গন্ধে আমার পেট উল্টে বমি আসে। রান্নার খোলায় শুটকী টালা শুরু করলে আমি বাড়ী থেকে বেড়িয়ে যাই। অবার বিয়ারের স্বাদ আর গন্ধ দুটিই আমার অসম্ভব ভালো লাগে কিন্তু বিয়ার খেলে আমার বৌএর কাছে ধারেও আমি ঘেষতে পারি না। বিয়ারের গন্ধে উনারও বমন উদ্রেগ হয়!
আথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, ৬ ক্যান হ্যানিক্যান পানের পর আমি বনে যাই বিশ্বের সর্ব শ্রেষ্ঠ প্রেমীক। অন্তরের অন্তস্থল থেকে উত্সরিত হতে থাকে প্রেমের ফল্গু ধারা। কত দূর্ভাগ্য আমাদের, মদের গন্ধ/ শুটকীর গন্ধ কি বিপরিত মানুষের ঘ্রান বোধ ঘ্রানান্দ্রিয় ঘ্রান দর্শন!
সব গন্ধ গন্ধ নয় আরো গন্ধ আছে, এই গন্ধরে নিব আমি সেই গন্ধের ও কাছে
পুনশ্চঃ এ লেখাটি প্রিয় ব্লগার নির্বাসিত'র একটি লেখা পড়ে কিছু মন্তব্য করতে যেয়ে তৈরী। আমি ওয়ান ফিঙাগারের কীবোডিষ্ট লিখতে আনন্দ লাগে সময়ও নষ্ট হয় অনেক, লেখাটি শেষ করে ইচ্ছে হলোনা কেবল মন্তব্য হিসেবে লেখাটি ছেড়ে আসতে কপি করে রাখলাম। ফিরে এসে দেখি রাগ ইমন এক খান রিকোয়েষ্ট করে রেখেছেন, আমার মন্তব্যটিকে পোষ্টের মর্যাদা দানের অন্তরিক রিকোয়েষ্ট। ব্যাস যেই ভাবা সেই কাজ। শয্যাশায়ী রাগ ইমনের জন্য এক তোড়া ফুলের বদলে এ পোষ্টখানা উত্সর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েফেললাম। চীয়ার্স!!! গেট ওয়েল সুন রাগ ইমন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

