বারো ঘন্টা পর ব্লগে এসে দেখি এলাহি কান্ড ঘটে যাচ্ছে! বিষয়ঃ বাংলার মাটি থেকে আউল বাউলের চিহ্ন উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে ব্লগে চলছে পোষ্ট পাল্টা পোষ্টের খেলা। এ দিকে মেসবাহ য়াযাদ ও দেখলাম একটা টেক্সক্ট মেসেজ পাঠিয়েছে। ব্লগ হাতরে যে কটা পোষ্ট পারলাম চোখ বুলিয়ে নিলাম। বরাবরের মতো পরিচিত ব্লগারদের পরিচিত মন্তব্য পাল্টা মন্তব্য গুলো চোখে পড়ল। আমারও কিছু কথা আছে ভেবে কীবোর্ড তুলে নিলাম।
লিখতে গিয়ে একবার মনে হল এই ছাইপাশ লিখে কি আর হবে, খামোখা অকাজ। বর্তমানে আমি একটা প্রামান্যচিত্র নির্মান করছি। বিষয় অপরাজেয় বাংলা। এয়ার্পোর্ট ক্রস করে এই কালকেও উত্তরায় গিয়ে ছিলাম শুটিং করতে। আমার কালকের সাবজেক্ট ছিলেন অপরাজেয় বাংলা'র* মাঝ খানের কৃষক ফিগার শিল্পি আবদুল্লাহ খালিদের অন্যতম প্রধান সহযোগী শিল্পী বদরুল আলম বেনু। তাঁর সাথে কাল দীর্ঘক্ষন কাটিয়ে এসেছি শুনেছি অপরাজেয় বাংলা নির্মানের কতকথা। হাত দিয়ে ছুঁয়ে এসেছি শিল্পীর কাছে গচ্ছিত অমূল্য সকল ঐতিহাসিক দলিল দস্তাবেজ। সে কারনে আজকের বিষয়টিকে এক্কেবারে পাশ কাটিয়ে যেতে পারছি না। পাশ কাটানোর কথা বলছি এ কারনে, আমার ধারনা এয়ার্পোর্টের এই ভাষ্কর্য্য ঝামেলাটি একটি উদ্দেশ্যমুলক এটেম্পট। এর মধ্যে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখানো জাতিয় কোন পরিকল্পনা আছেই আছে। একজন আইনের ভাষায় পলাতক ব্যাক্তি যখন রাষ্ট্রীয় খাতির পায় তখন আমরা যদি আকলমন্দ হই তবে আমাদের ইশারাটা বুঝতে হবেতো!
দেখলাম ভাষ্কর্য্য উপড়ানো নিয়ে আউটসাইডারের একটা পোষ্ট ষ্টিকি করে রাখা হয়েছে বল্গ সচেতনতার সার্থে। সেখানে চলছে এখন হা/না ভোটের মত একটা ভোটাভুটি। এই ব্লগটি যখন লিখছি তখন ঐ পোষ্টটির রেটিং +৫৫/-৩৮ ছিল মন্তব্যও সেই পরিমাপেই পক্ষে বিপক্ষে লিপিবদ্ধ করছে। এখন কেউ যদি গনতন্ত্রে বিশ্বাসী হন এই ভোটাভুটি'র ফলাফল দেখে তিনি কিন্তু বলতে পারবেন না, বাংলাদেশের মানুষ আসলে খুব উদার মাইডিয়ার টাইপের লোক, তারা পরমত সহিষ্ণু পরধর্ম ব্লা ব্লা ব্লা...
টিভিতে দেখলাম আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। সরকারী এক অনুষ্ঠানে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সব গোড়া চামড়ার অতিথিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মেহমানদের মনোরঞ্জনের জন্য উত্তর বঙ্গ থেকে ধরে আনা হয়েছে এক দল নানা নাতিকে তারা অতিথিদের কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে গম্ভীরা নাচ দেখাচ্ছেন। আমাদের সরকার মুখে স্মার্ট হসি হেসে আংরেজীতে বলবেন, ইউ সি দিস ইজ আওয়ার কালচার আওয়ার হেরিটেজ! অতিথিরা রেড ওয়াইন দিয়ে ডিনার খেয়ে গোফের তলের ঠোট মুছতে মুছতে বলবেন, হাউ ওয়ান্ডার ফুল ইওর বাংলা কালচার! এক সময় এয়ার্পোর্টের রানওয়ে ছেড়ে বাংলার অতিথিরা উড়াল পারবেন পশ্চিমে। পড়ে থাকবে পেছনে পুবের এক পশ্চাদপদ বিমান বন্দর আর তার সামনে উপড়ে ফেলা সে জনপদের সংস্কৃতি!
আফগানিস্তানে তালিবানরা যখন বুদ্ধ মুর্তী ভাঙ্গে তখন এক টেলিভিশন স্বাক্ষাতকারে এক তালেবান নেতাকে বলতে শুনে ছিলাম, আমাদের দেশের মানুষ না খেয়ে আছে মানবেতর ভাবে বেঁচে আছে তোমদের সেই দিকে ভ্রুক্ষেপ নাই তোমরা এসেছ পাথরের মূর্তি বাচাঁতে! এই মূর্তি ভেঙ্গে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম... এই টাইপের কিছু কথাবার্তা। হবাহু মনে নেই, তবে মুল সুরটা এমনই ছিল। যুক্তি বটে! ঠিক সেই সুরে এখানেও কিছু ভাস্কর্য্য বিরোধী যুক্তিবাদীকে বলতে দেখলাম গরীব দেশে এইসব ভার্র্ষ্ক্য্য ফাষ্কর্য্যর কি দরকার! স্পষ্টতই বোঝাযায় এনারা কোন সুরের সাধনা কর্ছেন এবং চান্স পাইলে কোন গান গাইবেন!
যারা হজ্ব যাত্রীদের সন্মানের কথা স্মরন করে এরুপ জিহাদি আওয়াজ করছেন তারা কি জানেন আমরা আমাদের যে প্রিয় হাজী ভাই/বোনদের মোনাজাত করে উড়া জাহাজে তুলেদি সৌদি এয়ার্পোর্টে সৌদি মুসলিম ভাইয়েরা আমাদের সেই প্রিয় হাজী ভাই/বোনদের কিরুপ মিসকিনিয় সোয়াগাত করে থাকেন সেখানে! আর আমেরিকা/ইয়োরোপের নাসারাদের ঐ একই এয়ার্পোর্টে কিরুপ লাল গালিচা সোয়াগাত করা হয়?
আফছোস লাগে যখন ভাবি আমরা কেবল অর্থনৈতিক ভাবেই দৈন্য বা মিসকিন নই আমরা ঈমানের দিক দিয়েও মিসকিন। কি সব তুচ্ছ কারনে আমাদের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়! এ সমস্ত মানুষ তাদের ঈমান কোথায় রাখেন কলবের ভেতর নাকি কচুপাতার উপর? আল্লাহ আপনি মঙ্গলময়, আপনি সকলের মঙ্গল করুন।
![]()
* বেনু ভাইর কাছে পাওয়া ১৯৭৭ সালের দৈনিক ইত্তেফাকের এই পেপার কাটিংটি এখানে যুক্ত করে দিলাম। সে সময় ধর্মান্ধরা অপরাজেয় বাংলা ভেঙ্গে ফেলার একটা চেষ্টা চালিয়ে ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা সেই সব অকালকুষ্মন্ডদের মাথা মুড়িয়ে সেদিন ঘোল ঢেলে দিয়ে ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


