আহত বলাকার সামনে দাড়িয়ে ছিলেন অসহায় এক শিল্পী নাম তার মৃনাল হক
১ ডিসেম্বর, ২০০৮। সন্ধ্যা নামার এই একটু আগে মতিঝিলে বিমান অফিসটার সামনে ভাঙ্গা ঠ্যাঙ্গের বক গুলো দাড়িয়ে ছিল আসমানের দিকে চেয়ে। আমি ছবি তুলছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম কি অকাট মূর্খ্য আর উদাসীন জাতী আমরা! লজ্জা লাগছিল, ইচ্ছে করছিল না ছবি তুলতে। কিন্তু কি করবো ঐ একটি কাজই পারি আমি, ছবি নিয়ে কাজ করা। এখনো ঝুলে আছে বলাকার গলায় ফাঁসির দড়িটি!
কানে আসছিল উৎসুক কথামালা। পাখীটার বুকে যারা তীর মেরে ছিল তাদের শাপান্ত করছে কেউ কেউ, কোন হুজুরে নাকি স্বপ্নে দেখে ছিল এই সমস্ত মূর্তির কারনে নাকি দেশে কোন রহমত নাজেল হচ্ছে না তাই উপ্ড়ে ফেলতে হবে স্! আমার কেমন যে লাগছিল! ফোকাস ঠিক করি, ক্লোজ আপ নি। গ্লানীর রজ্জু আমার গালাটা পেচিয়ে ধরে। তিন তিনটা দিন অতিবাহিত হল, অথচ কেউ এখনো ঐ দড়িটা এখনো খুলে ফেলে দিতে পারল না!
আমরা কি নির্বিকার পার করে দিলাম তিন তিনটি দিন, কারো নিঃশ্বাস এতটুকুও আটকে এল না? অথচ যারা দড়ি লাগাবার তারা ঠিকই পারে সব কিছু নিমিষেই, আমরা কেবল অপেক্ষা করি আমরা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখি, আমরা করি না কিছুই! কি আশ্চর্য্য, কারো কি এতটুকুও বোধ হয় না!
মৃনাল হককে দেখলাম উসকু খুসকু দাড়িয়ে আছেন। সিগারেট হাতে তার ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি। আমি বলি, মৃনাল'দা দড়িটা যে ঝুলছে? মৃনাল'দা বলেন, বিমান অলারাও না প্রশাসনের ও না কেউ এ দিকে ভ্রুক্ষেপও করছে না! ঐ দিন রাতেই আমি খবর পেয়ে ছুটে আসি। সাধারণ মানুষই প্রথম প্রতিরোধ করেছে। আইন শৃঙ্খলার কেউ প্রথম রুখতে আসেনি। দড়িটা ঝুলছে, এদের কারো কোন ভ্রুক্ষেপও নেই! দড়িটা একক ভাবে ঐ বলাকার গলায় নয় ওটা ঝুলছে বাংলাদেশের গলায়!
আমি বলি, মৃনাল'দা এখন কি করবেন? উনি বলেন, কি আর করবো প্রতি দিন এখানে এসে দাড়িয়ে থাকি...
প্রিয় পাঠক, মৃনাল হকের সাথে দীর্ঘ্যক্ষন কথা হল এর পর। সন্ধ্যা নামছিল চারপাশ কালো করে। আমি ছবি তুলছিলাম। ফ্রেমের এক পাশে বলাকারা। দূরের আকাশে দেখলাম এক ঝাক পাখী উড়ছে। ভিউফাইন্ডারের এক কোনায় তাকিয়ে দেখি এক দল আহত পাখি খোদার আরশের পানে চেয়ে আছে অসহায়। আমাদের শহরে অন্ধকার নামছে। আলো কমে আসছে খুব দ্রুত। আমি আর কোন ছবি তুলতে পারলাম না!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



