আমার প্রিয় পোস্ট

দিলের দরজা ২৪/৭ খুইলা রাখি মাছি বসে মানুষ বসে না। মানুষ খালি উড়াল পারে! এক দিন আমি ও দিমু উড়াল, নিজের পায়ে নিজে মাইরা কুড়াল...

প্রথম আলো যা "ছাপে" আর যা "চাপে" !!!

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩২

শেয়ারঃ
0 17 0

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহিন দিল রিয়াজ এর ফেইস বুকে থেকে এই সাক্ষাৎকারটি পেয়েছি, ভাবলাম ব্লগে শেয়ার করি। নীচে শাহিনেরে বক্তব্য সহ সাক্ষাৎকারটি কপি করে এনে এই ব্লগে হুবহু পেস্ট করা হলো। - লাল দরজা


ক'দিন আগে দৈনিক 'প্রথম আলো' পত্রিকা থেকে আমাকে যোগাযোগ করে আমার 'লোহাখোর' ছবিটি নিযে় একটি স্বাক্ষাৎকার দেযা়র জন্য অনুরোধ করা হয়। তাঁরা শনিবারে প্রকাশিতব্য "ছুটিরদিনে"(১৬ই জানুযা়রী ২০১০) স্বাক্ষাৎকারটি ছাপতে চান। আমি রাজি হওযা়য় ই-মেইলের মাধ্যমে আমাকে কিছু প্রশ্ন পাঠানো হয় যার উত্তর আমি লিখে পাঠাই। দু'দির পর আমার এক বন্ধু পত্রিকার অংশবিশেষ আমাকে স্কান-করে পাঠালেন। আমি তাতে যা দেখলাম তাতে হাঁসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। প্রথমত আমার নামটাই তারা বিকৃত করে ছাপলেন। আর তার নিচে যা চাপা হযে়ছে তাতে আমার বক্তব্যের আশি ভাগ অংশই নেই। আমি নিচে (( ))-চিহ্নের ভেতর সেঅংশগুলো উল্লেখ করলাম। 'প্রথম আলো' এসব কথা ছাপবে এটা আশাকরাটাই বোধহয় আমার ভুল হযে়ছে। লখ্য করে দেখুন কোন কোন অংশগুলো "প্রথম আলো" ছাপেনি। এই নোটটি দাযা়করে আপনাদের প্রোফাইলে পোস্ট করবেন। আমি সবাইকে বাপারটা জানাতে চাই।
________________________ :

প্রশ্নঃ 'লোহাখোর' ছবিটি তৈরীর ধারনাটা আপনার প্রথম মনে আসে কিভাবে?

আমি যখন খুব ছোট ছিলাম আমার বাবা তখন সিতাকুন্ডের কাছে কাশেম জুটমিল-এ সিভিল ইন্জিনিযা়র হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের কথা জানতাম। ঐ এলাকায় বাইরের কারো প্রবেশাধিকার ছিলনা কিন্তু ভেতরে কী ঘটছে না ঘটছে তার অনেক খবরই বাইরে বেরিযে় আসত। তার বহুদিন পর আমি যখন আমার প্রথম পূর্নদৈর্ঘ ছবি "জীবন জলেবেলে" তৈরী শুরু করি তখন উত্তরবঙের অনেক কৃষকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয় যারা চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙ্গার কাজ করতেন। তারাই আমাকে এই কঠিন কর্মক্ষেত্রের অনেক লোহর্শক গল্প শোনান। ঐ গল্পগুলো শুনতে শুনতে আমি ভাবছিলাম এই সহজ-সরল মানুষগুলো, যারা কযে়কশ বছর ধরে ব্রম্মপুত্র নদীর অববাহীকার নরম মাটিতে ফসল ফলিযে় জীবন কাটিযে়ছে তারা কীভাবে কঠিন লোহালক্কড় আর আগুনের ভেতর মাসের পর মাস বেচে থাকে। মূলত এই কৌতুহল থেকেই "লোহাখোর" ছবিটির যাত্রা শুরু। সেটা ছিলো ১৯৯৯ সালের কথা। তার পর অনেক চডা়ই-উত্রাই পেরিযে় দেশে বিদেশে অসংক্ষ মানুষের স্বকৃয় সহযোগীতার ফলে ২০০৫ সালের জানুযা়রী মাসে এ ছবির কাজ আমরা শুরু করি এবং ২০০৭ এ এসে এর সম্পাদনার কাজ শেষ হয়।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জাহাজ-ভাংঙ্গা শিল্পকে আপনি নিজে কীভাবে দেখেন?

আমরা যখন শুটিংএর কাজ শুরু করি। এক ইযা়র্ডের মালিক আমাকে বলেছিলেন।"এটা হচ্ছে ভাই আকটা নর্দমা। নর্দমার কাজ খুব নোংরা কাজ। কিন্তু আমরা স্বেচ্ছায় এর দ্বায় দাযী়ত্ব নিযে়ছি যাতে পয়সা কামানো যায়। কিন্তু যারা আমাদেরকে দিযে় এই কাজটা করান এবং বিশাল অঙ্কের টাকা আয় করেন তাদেরও কিছু দায়-দাযী়ত্ব আছে। তবে তাদের কাউকে আপনি খুজে পাবেন না। আমাকে খুব সহজে খুজে পাবেন।" (( ভদ্রলোক খুব সংক্ষেপে বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের অবস্থা এবং প্রেক্ষাপটের বর্ননা দিলেন। এই শিল্পের শুরু হযে়ছিলো পাশ্চাত্তে, কিন্তু খরচ বাচিযে় সস্তায় কাজটি করিযে় অধিক মুনাফা লাভ করার উদ্দেশ্যেই তথাকথিত উন্নত পশ্চিমা বিশ্বের ব্যবসাযী়রা শিল্পটি এই উপহাদেশে রপ্তানি করেন। একই কারণে তৈরীপোষাক শিল্প, ঔষধ শীল্প অন্যান্য শীল্পও এদেশে এসেছে। যতদিন পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের দিযে় এই কাজগুলো ন্যাজ্জমূল্য না দিযে় করিযে় নেবেন ততদিন এদেশের শিল্পাঙ্গনে শ্রমিকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবেনা। )) "লোহাখোর" ছবিটি আমরা ব্রাসেল্সে ইউরোপিযা়ন পার্লামেন্টেও দেখিযে়ছি। European Commission-এর Environmental Commissioner Stavros Dimas ২০ মিনিট দেখতে এসে পুরো ৯০ মিনিটের ছবিটিই দেখলেন আর শেষে আবেগাপ্লুত কন্ঠে বক্তব্য রাখলেন। কিন্তু পরে আমি অনেক NGO-প্রতিনিধীর সাথে কথা বলে জানতে পেলাম যে এরকম বক্তব্য তারা গত কুডি় বছর ধরেই শুনছেন। (( এই সাহায্যসংস্থাগুলোর দাবি ছিলো, ই ইউ যাতে শিপিং ব্যাবসার সাথে জডি়ত আন্তর্জাতিক ব্যাবসাযি়ক প্রতিষ্ঠান, বিশেষকরে IMO (International Maritime Organization)-এর , যারা মুলত জাহাজভাঙ্গা শিল্পটি পরোক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রন করে, ওপর চাপ দেয়. কিন্তু EU সেটা করতে নারাজ। আমার ধারনা World Bank আর IMF যেকারণে প্রায়শই তাদের বিভিন্ন চুক্তিপত্রে আমাদের দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেননা, IMO ঠিক একই কারণে আমাদের দেশের জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পের অবস্থার কোন পরিবর্তন চাননা। এই ইন্ডাস্ট্রির মধ্য দিযে় পশ্চিমা ব্যবসাযী়রা যে বিশাল মুনাফা লাভ করেন তাতে টান পড়উক এটা IMO কখনই চাইবেনা। কারণ এই ব্যবসাযী়দে স্বার্থ দেখাটাই IMO-র মূল কাজ। ই ইউ কেন এই ব্যাপারে নাক গলাতে চায়না সেটা বোঝাও খুব কঠিন নয়। বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প যদি নর্দমা হয় তাহলে যে মানুষগুলো সেখানে কাজ করেন তারা হলেন এই নর্দমার কীট। দু'একটা কীটের মরা-বাচায় কারো বিচলিত হাবার কথা নয়। পরিবেশ দুষনের দিক থেকে বলুন আর শ্রমিকের অধিকার হরনের দিক থেকে বলুন আমাদের দেশের পুঁজীপতিদের আচরন সব শিল্পেই একরকম। তেলের জাহাজ-ভাঙ্গতে গিযে় পুডে় মরা আর রেংস-ভবন ভাংতে গিযে় লাশ হযে় ঝুলে থাকার মধ্যে আমি কোন পার্থক্য দেখিনা। এর মূল কারণ শ্রমিকের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এবং এই আচরনের কথা পশ্চিমা বিশ্ব খুব ভালো করেই জানেন। পশ্চিমা ব্যবসাযী়রা যেহেতু আমাদের শ্রমিকদের দিযে় জাহাজ-ভাঙ্গার কাজটা কারান সেহেতু এরা তাদেরও শ্রমিক। ))

প্রশ্নঃ ইযা়র্ডে শ্রমিকদের সাথে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

(( পি. এইচ. পি - ইযা়র্ডে শ্রমিকরা এবং একই সাথে মালিকপক্ষও এই ছবির কাজে আমাদের প্রত্যাশার বাইরে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের এই আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এ ছবি এভাবে নির্মান করা কখনোই সম্ভব হতনা। কাজের সময়, খাবার সময়, ঘুমের সময়, মোটকথা দিনের এমন কোন সময় ছিলোনা যখন আমরা ক্যমেরা নিযে় শ্রমিকদের সাথে ছিলাম না। কিন্তু তারা কোনদিন এর জন্যে বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ করেননি। এই গাঙ্গেয়-দ্বীপের মানুষ যে মূলত মাযা়-মমতা দিযে় গডা় এই সত্যটা কাজ করতে গিযে় আরেকবার গভীর ভাবে উপলব্ধি করলাম। ))

প্রশ্নঃ এ ছবি'র চিত্রগ্রহনের সময়কার এমন কোন ঘটনার কথা কী মনে পডে় যা আপনার স্মৃতিতে রেখাপাত করেছে?

(( একবার এক তেলের ট্যাংকারে শুটিং করতে গিযে় ভেতরে আগুন ধরে যায়। আমরা কোন রকমে শেষ মুহূর্তে প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু আমারা যখন প্রাণ ভযে় পালাচ্ছিলাম, গ্যাস-কাটাররা তখন এমন অট্টহাঁসিতে ফেটে পড়ল যে আমারা ছবির দলের সবাই একটু ভ্যাবা-চেকা খেযে় গেলাম। যখন জানতে চাইলাম হটাৎ এত হাঁসির কী হল, তার উত্তরে তারা জানালেনঃ কোন মানুষকে এতটা ভয় পেতে তাঁরা নাকি এর আগে কোনদিন দেখেননি। আমাদের আস্বস্ত করার জন্য একজন বললেন, দূর্ঘটনা আর আগের মত হয় না। তারা এখন অনেক সাবধানে কাজ করেন।আগুন লাগলেও জান-মালের তেমন একটা ক্ষতি হয় না। আমি তখন প্রশ্ন করলামঃ "তাহলে এখানে কিছুদিন পর পর মানুষ মারা যায় কেন?" মুখে হাঁসি ফুটিযে় সে তরুন তখন জবাব দিলেনঃ "আমরা যে এইহানে অহনো বহুত মানুষ বাইচা আছি এইডা যাতে আপনারা টের পান এর লাইগা মাইজে-মইদ্দে আমরা দুই-এক জন মইরা যাই। আপানারা সাম্বাদিক-ভাইরাতো আমরা না মরলে আমাগো খবর লননা। আমরা কেমনে মরলাম এইডাই খালি আপনেরা জানবার চান, কিন্তু আমরা যে কেমনে বাইচা আছি এইডার খবর কি আপনেরা কোনদিন নিছেন?" নিরক্ষর এই মানুষটি নিজের অজান্তেই রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করেছিলেন। সেদিনের সেই দুর্ঘটনা আর তাঁর কথাগুলো আমার আজীবন মনে থাকবে। আজ আমাদের সবার কাম্য হওযা় উচিত যাতে এই মানুষগুলোকে বার বার মরে প্রমাণ করতে না হয় যে তাঁরা এখনো বেঁচে আছেন।))

 

প্রকাশ করা হয়েছে: বিষয় চলচ্চিত্র  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১২
অনার্য তাপস বলেছেন: ধন্যবাদ লাল দরজা। খণ্ডিত সাক্ষাৎক্নাট পড়ে মনে হয়েছিল আরো আছে। এবার পাওয়া গেল। ধন্যবাদ আপনাকে।
২. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২৩
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
প্রশ্ন হইলো, ব্রাকেট বন্ধী কথাগুলোই যদি প্রথম আলো না ছেপে তবে আর ছাপলোটা কি?

এ-ই হচ্ছে প্রথম আলোর চরিত্র । এই আপাদমস্তক ভন্ড পত্রিকাটির মুখোশ চায়লে অনেকেই এভাবে খুলে দিতে পারে বলে বিশ্বাস করি /

পোস্টদাতার কাছে প্রশ্ন, আপনার কি মনে হয়, চেপে যাওয়া কথাগুলো ছেপে দিলে প্রথম আলো কি ক্ষতির সম্মুখিন হতো ?
৪. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১১
মইন বলেছেন: "আমরা কেমনে মরলাম এইডাই খালি আপনেরা জানবার চান, কিন্তু আমরা যে কেমনে বাইচা আছি এইডার খবর কি আপনেরা কোনদিন নিছেন?"

চোখের কোণে জল এসে গেলো।
৫. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:২২
পি মুন্সী বলেছেন: কুখ্যাত ১/১১ তে প্রথম আলোর সরসরি ভুমিকার কথা না হয় বাদ রাখলাম, অনেকেই প্রথম আলোর সম্পর্কে আজীব ভালোমানুষী একধরণের আকাঙ্খা জিইয়ে রাখে, মনে করে প্রথম আলো ও মতিউর রহমান এক "প্রগতিশীল" কাজের প্রতীক।
বাংলাদেশে যতগুলো দৈনিক পত্রিকা আছে এর মধ্যে মালিকানার কম্বিনেশনে প্রথম আলো ইউনিক। কোন বহুজাতিক কোম্পানী যে দেশ থেকে চুষে সেদেশের কোন মিডিয়ার মালিকানা হাতের নাগালে পাওয়া একটা দূর্লভ ঘটনা। বাংলাদেশের প্রথম আলো সেই দূর্লভ ঘটনার উদাহরণ। তেমনি আর একটা দুর্লভ ঘটনাতেও বাংলাদেশ উদাহরণ। কোন বহুজাতিক কোম্পানীর সাবসিডারী স্হানীয় কোম্পানীর চেয়ারম্যান স্হানীয় কোন লোক হতে পারে না, তা সে যতই টাকায়ালা হোক। বহুজাতিক নেসলের বাংলাদেশ সাবসিডারী, নেসলে বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান হলেন লতিফুর রহমান, তিনি প্রথম আলোরও মালিক।

বহুজাতিক কোম্পানীর ক্ষমতা র‌্যাকেট ও তৎপরতা এবং আমাদের মত দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিতে এর স্বার্থ, প্রভাব সম্পর্কে আমাদের সমাজের "প্রগতিশীলতা কাতর" মধ্যবিত্ত খবর রাখেন না। আগে কমিউনিষ্ট চিন্তার হেজিমনির সময় মোটামিটি ৮০ দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত -ঐ জমানায় "প্রগতিশীল"দেরকে বহুজাতিক কোম্পানীর বিরুদ্ধে সবসময় শ্লোগান দিতে শুনেছি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পড়েছে কিন্তু বহুজাতিক স্বার্থ টিকে আছে। এখন কমিউনিষ্টও নাই, শ্লোগানও নাই - কিন্তু "প্রগতিশীলতা" ঠিকই টিকে গেছে। এই মধ্যবিত্ত "প্রগতিশীল"দের সাক্ষ্যাৎ প্রতিনিধি হলেন মান্যবর মতিউর রহমান। এই "প্রগতিশীল" মন মতিউর রহমানকে যেমন আপন মনে করেন, মনে কথা খুজে পান, মতিউর রহমানও এদের জীবনের আশা আকাঙ্খা, লাইফ ষ্টাইল সবকিছুর খবর রাখেন ও সুচারুরূপে সমাজে, নিজের কাগজে ফুটিয়ে তোলেন। ফলে এক দুজনে দুজনার - এক স্হায়ী সম্পর্ক রূপলাভ করেছে।
তাহলে ক্লাস এ্যালায়েন্সের সমীকরণটা কী দাড়ালো,
বহুজাতিক স্বার্থ-লতিফুর-প্রথমআলো-"প্রগতিশীলতায় কাতর" মধ্যবিত্ত

একালে এদের তৎপরতা, সুবিধাদির এরিয়া, কাজের ক্ষেত্র - অনেক বড় হয়ে গেছে। এখন তাদের সরকার বদলের মত দরকারি এ্যসাইনমেন্ট করতে হয়, মধ্যবিত্তের চিন্তাভাবনা জীবন দর্শনের উপর প্রভাব ফেলার মত প্রজেক্ট চালাতে হয়, এনজিওর সাথে ক্ষমতার সমন্বয় করতে হয়, কোন বিদেশি কোম্পানীর বাংলাদেশে কোন স্বার্থে কাজে আসলে এর লোকাল এজেন্ট ঠিক করে দিতে হয়, মিডিয়া সাপোর্ট দিতে হয় - কাজের এড়িয়া অনেক বেড়ে গেছে।

এই অবস্হায় শাহিন দিল রিয়াজ সাক্ষাৎকারে এমন খোলামেলা ন্যাংটা শ্রেণীস্বার্থ কথা নিয়ে হাজির হয়ে গেছেন - এটা তো এ্যবসোলিউটলি আনফিট। "ছুটিরদিনে" আপনার সাক্ষাৎকার নিতে আসছিল ওর -"প্রগতিশীলতায় কাতর" মধ্যবিত্ত পাঠককে ছুটির দিনে একটু এন্টারটেইনমেন্ট দিতে। আপনি ছবি নির্মাতা বেশ একটা ক্রিয়েটিভ জগতের সেলিব্রেটি ভাব থাকবে সেখানে, পাঠকও রোমান্টিকতায় আপ্লুত হয়ে যাবে আপনার কথা শুনে, এইসব। সেসব কোথায় থাকল আপনি আনে ফেললেন, অমানুষ নরকের কীটের আলাপ, আবার শেষেমেষে একবারে, World Bank আর IMF European Commission-এর Environmental Commissioner Stavros Dimas, IMO (International Maritime Organization)- সবাইকে দুষতে থাকলেন - আপনি খুবই বেরসিক লোক। প্রথম আলোর প্রগতিশীলতায় কাতর" মধ্যবিত্ত পাঠকের ছুটির দিনটাই মাটি করে দেবার প্লান ছিল আপনার।
তো আপনার কথা কেটে ফেলে দিবে ছাড়া কী করবে? আর কোন উপায় রাখছিলেন আপনি?

অনেকেই তবু আশা করে যায়, যাবে - কমিউনিষ্ট যেহেতু, মতিউর রহমান নিশ্চয় আপনার কথাগুলো ছাপতে পারবেন। ধন্য আশা কুহকিনী।


শিক্ষা: এর পর কোন সাক্ষাৎকার দিতে গেলে আগে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে নিবেন, আপনার এই নেংটা শ্রেণী আলা কথাবার্তা ছাপতে ওদের কোন কষ্ট আছে কিনা, অথবা নিজেই বুঝে নিয়ে বুদ্ধিমান হবেন, ঠিক কাজটা করবেন।


৬. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৫৬
িসপাহী বলেছেন: কালের কন্ঠই পড়া হয়।
৭. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৮
ওসমানজি২ বলেছেন: অনার্য তাপস বলেছেন: ধন্যবাদ লাল দরজা। খণ্ডিত সাক্ষাৎক্নাট পড়ে মনে হয়েছিল আরো আছে। এবার পাওয়া গেল। ধন্যবাদ আপনাকে।
৮. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩২
বিডি আইডল বলেছেন: কর্পোরেট এই পত্রিকার ব্যাপারে পি.মুন্সীর সাথে একমত
৯. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৫৩
খারেজি বলেছেন:
এবং দেখেন জাহাজ ভাঙার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রেক্ষপটটাই হাওয়া করে দিল প্রথম আলো!
১২. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৩
কামার বলেছেন:
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের (council) লাইভ সম্প্রচার দেখতে হলে এখানে ক্লিক করুন...
http://chhatrashibircouncil.com/2009/
১৩. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১২
মুসতাইন জহির বলেছেন: শাহিন দিল-রিয়াজ কে যতটুকু চিনি-জানি, তাতে উনি পি. আলো জাতের প্রগতিশীলতাকে নিকুচিই করেন। ফলে তাগো উপর ভরসা কইরা ছাইড়া দেন নাই। বরং উনি সুযোগটা নিছেন, ছাপলে তো ছাপলোই না ছাপলে খোলাবাজারে ন্যাংটা করার জায়গাটাও খোলা রাখলেন।

উনার প্রকল্প মোক্ষম।
১৪. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৩
লাল দরজা বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ।
১৫. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২৭
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: শাহীন দিল রিয়াজের "জীবন জলেবেলে" চলচ্চিত্র উৎসবে দেখেছিলাম।মনে রাখার মতো এক কাজ।

@খারেজি, জাহাজভাংগা শিল্পকে সোকলড আইনের ফ্রেমওয়ার্কে এনে এটার অমানবিক চেহারাকে মানবিক করার দ্বায়িত্ব মতি-মাহফুজ গং আগেই নিয়েছে।সেইখানে এইটা প্রকাশ করলে ঐ মধ্যবিত্তদের সামনেও তো ন্যাংটো হতে হবে(দালালী চোখে পড়বে)।

@আরাশি, প্রকাশ করলে হয়তোবা প্রথমআলো গ্রুপের সরাসরি ক্ষতি হৈত না।কিন্তু তারা যে মতবাদে পাবলিককে দীক্ষা তালিম দেওয়ার দ্বায়িত্ব নিয়েছেন, সেইটা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বাইদ্যাওয়ে, লালভাই, উনার নির্মানচিত্র কি কোনভাবে দেখা এবং সেই সাথে দেখানোর ব্যবস্থা করা যায়।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৩

লেখক বলেছেন: ওনার ছবি গুলো, 'জীবন জলেবেলে', 'শিল্প শহর স্বপ্নলোক', 'লোহাখোর' সব গুলোইত বাংলাদেশে দেখানো হয়েছে। 'কোরান সান্তান' টা নতুন ঐ টা এখনো আসেনি। দেখাতে চাইলে ত দেখানো যাবেই।

১৬. ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০১
খারেজি বলেছেন: শিমুল,

জীবন জলেবেলে দেখছিলাম, সেইটা নিয়া একটা কমেন্টে সামান্য সমালোচনা ছিল Click This Link

লোহাখোরের একটা রিভিউ করছিলাম সামুতে, লোহাখোর দেখলাম নামে, খুইজাই পাইতেসি না!
১৭. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৮
মানবী বলেছেন: শাপলার পুকুর ছেড়ে ম্যাপেলের বাগানে ফিরেছেন কিনা বুঝতে পারছিনা! তবে যেখানেই আছেন, ভালো আছেন আশা করি :-)


হিরোশিমা কেমন আছে? :-*
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩১

লেখক বলেছেন: মানবী, কত দিন পরে! ব্যাস্ত বুঝি খুব? এখন আর তেমন আপনাকে দেখি না প্রায়ই ভাবি! আশা করছি চমৎকার আছেন। খোজ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ। :)

মার্চের মাঝামাঝি ম্যাপলের বাগানে ফিরব। আমি ভালো আছি, টুকটাক কাজ নিয়ে ব্যাস্ততা যাচ্ছে মন্দ নয়।

হিরোশিমা'র কথা আর কি বলব! পুড়ছি।

শুভেচ্ছা।

১৮. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৯
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: "আমরা যে এইহানে অহনো বহুত মানুষ বাইচা আছি এইডা যাতে আপনারা টের পান এর লাইগা মাইজে-মইদ্দে আমরা দুই-এক জন মইরা যাই। আপানারা সাম্বাদিক-ভাইরাতো আমরা না মরলে আমাগো খবর লননা। আমরা কেমনে মরলাম এইডাই খালি আপনেরা জানবার চান, কিন্তু আমরা যে কেমনে বাইচা আছি এইডার খবর কি আপনেরা কোনদিন নিছেন?"


******

অনেক কিছু বলে দিল যে এখন সবাই কেমন!

 

মোট সময় লেগেছে ২.৬১৭৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
"ও আমার উড়াল পঙ্খিরে,
যা যা রে উড়াল দিয়া যা..."

পাগলা কিছিমের মানুষ
কোন ইষ্টিশন নাই,
গাইল জানি কিন্তু গাইল পাড়ি না।
দিলের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ