সিনেমা বানাতে পয়সা লাগে। অজকের বাংলাদেশের মানুষকে সিনেমা হল পর্য্যন্ত টেনে নিতে অনেক অনেক পয়সা খরচ করেও হিমসিম খাচ্ছেন সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষেরা। তাই সিনেমায় পয়সা ঢেলে সেই পয়সা ফেরত নিতে তেল, সাবান, মুড়ি যা যা পারছেন বেচা শুরু করেছেন। সিনেমা পারলে টেলিভিশনে নয়ত দুই এক হলে চালিয়ে বিজ্ঞাপন টিজ্ঞাপন ধান্দাপানি যা যা করা যায় তাই করে শর্টকাট যেভাবেই পয়সা উঠে গেলে প্রজেক্ট শেষ, বাক্সো বন্দি সিনেমা। আবার নতুন ধানাইপানাই। বাংলাদেশের বাকী হলে ছবি চলল কি চলল না দেশের মানুষ হলে যেয়ে ছবি দেখল কি দেখল না বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো দিনে দিনে হারিয়ে গেল কি গেল না তাতে কারো কিছু যাবে আসবে না। ঢাকার দুই হলে চালিয়ে দিয়ে টিভিতে দেখিয়ে ডিভিডি ছেড়ে দিলেই ত হল ব্যাস আর কি!
বাংলাদেশের সিনামা ভয়ঙ্কর ভাবে টেলিভিশন অলাদের কাছে ধরা খেয়ে গেছে। এফডিসি পর্য্যন্ত পৌছুবার আগে টিভি অলারা খপ করে ধরে ফেলছে সিনেমা। আমার ছোটবেলায় ইত্তেফাক এর সাত নম্বর পাতা জুড়ে থাকত বাংলাদেশের সিনেমার
বিজ্ঞাপন, সেই বিজ্ঞাপন দেখে দেখে আমি দেশের সিনেমাহলের নাম মুখস্ত করতাম। ঢাকার হল, নারায়নগঞ্জের হল, চট্টগ্রম, খুলনা সহ দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত পর্য্যন্ত। গত ১০ বছরে সেইসব সিনেমা হলের অর্ধেকের অনেক বেশী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ১২০০ সিনেমা হলের ৭৫০ ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সিনেমা বাঁচার জন্য প্রাণপন আকুতি করে প্রায় মরে মরে বেঁচে রয়েছে। এক সময় যে যেভাবে পেরেছে আলু/ পটল ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে অশ্লিল ছবি বানানো হয়েছিল। আজকাল সাবান মুড়ি অলাদের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে শ্লিল ছবির পৃষ্ঠপোশকতা করানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের বাক্সো টিভি অলারা তাদের বিদ্যা বুদ্ধি অভিজ্ঞতা নিয়ে নেমেছে সিনেমা উদ্ধারের। যাদের দৌড় টিভি স্টেশন টু সবেধন বসুন্ধরা/ বলাকা দেন ব্যাক টু টিভি স্টেশন সেখান থেকে ডিভিডি'র দোকান। শুরু হয় তখন সিনেমাকে পিস পিস টুকরা টুকরা করে মুড়ি, তেল, সাবান, টুথপেস্ট, টায়ার, ট্যাঙ্কি অলাদের কাছে বেচা।
সিনেমা আর প্রেক্ষাগৃহে থাকবে না। মানুষ আর টিকেট কেটে সিনেমা দেখতে হলে যাবে না। সিনেমা ব্যাবসায়ীরা সারাবাংলাদেশের মানুষ কে ঘুরে ঘুরে আর ছবি দেখিয়ে ছবির পয়সা তুলবেন না। মানুষ স্বপ্ন অর ঘোর নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে না। মানুষ সিনেমা দেখবে হেটে হেটে, খেতে খেতে, পজ দিয়ে, ফাস্ট ফরোয়াড করে। সারা দেশে সিনেমা চলবে শুধু দুই/তিন থিয়েটারে। আর ঢাকা শহর ছেড়ে বাকী দেশের মানুষ সিনেমা দেখতে হলে টেলিভিশন দেখতে হবে। ব্যাস বাংলাদেশের সিনেমার খেলা এভাবেই খতম।
যে ভাবে লেখাটা শুরু হয়ে ছিল, ঘেটু পুত্র কমলা ছবির পোস্টারে বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন উপস্থাপনের রুচি ও উদ্দেশ্য নিয়ে। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মনপুরার পাবলিসিটিতেও কেয়া সাবানের বিজ্ঞাপন দেখেছি তবে প্রাণ ঝালমুড়ি অলাদের মত এমন ছগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত সিনেমার ব্যানারের মাঝখান দিয়ে গলা বের করে রাখে নাই, এক কোনা মুড়ে কেয়া লেখা থাকত। আর সেই সিনেমা চলেছে বাংলাদেশের হলে হলে চলেছে। সিনেমা মানুষ গিয়ে দেখেছে সিনেমা হলে।
মোদ্দা কথা সিনেমার জায়গা প্রেক্ষাগৃহ আর সিনেমার প্রধান প্রাণ হল দর্শক ঝাল মুড়ি নয়। দর্শকের জন্য সিনেমা বানালে, দর্শকই বাঁচাতে পারে সিনেমাকে, সিনেমার গৃহকে। আর পারে আমাদের সরকার। সিনেমা নির্মাণ ও সিনেমা প্রদর্শনের সকল প্রকার শুল্ক মুল্ক যা কিছু আছে সব কিছু থেকে সিনেমাকে আপাতত রেহায় দিয়ে। এবং টেলিভিশন অলাদের কু পরামর্শ না নিয়ে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রপার সিনেমার শিক্ষক প্রশিক্ষ নিয়ে অন্তত একটি পূর্নাঙ্গ ফিল্ম ইনিষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে।
পোস্টারটা দারাশিকোর ফেইসবুক থেকে নিয়েছি
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ ভোর ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



