এবার বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বইটি। মাত্র ২২ পৃষ্টার এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র ইতিহাস।এবারের একুশে বইমেলায় বইটির লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়েছিল। ইতোমধ্যে বইটি ইংরেজী ভাষাতেও অনুবাদ করে প্রকাশিত হয়েছে।
শনিবার, মার্চ ২১, ২০০৯ এর "প্রথম আলো" পত্রিকার 'ছুটির দিনে' পাতায় এই বই নিয়ে একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ এখানে somewhereinblog এর সম্মানিত ব্লগার ও ভিজিটরদের জন্য তুলে ধরলাম......
"কেমন করে লেখা হলো
আমাদের মাতৃভুমির জন্য যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল তার ইতিহাস গভীর আত্মত্যাগের ইতিহাস। অবিশ্বাস্য সাহস ও বীরত্বের ইতিহাস। যখন কেউ এই আত্মত্যাগ আর বীরত্বের কথা জানবে তার বুকে জন্ন নেবে দেশের জন্য গভীর ভালোবাসা আর মমতা। মাত্র এক ফর্মার পুস্তিকায় আমাদের গৌরবময় সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সে অভিজ্ঞতাই তিনি লিখেছেন এবারের মূল রচনায়…
কিছু দিন আগে আমরা এক ধরনের বেশ কিছু মানুষ একসঙ্গে বসেছিলাম। কী করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে−তখন আমি বললাম, ‘আমার কী ইচ্ছে করে জানেন?’ যাঁরা উপস্িথত ছিলেন তাঁরা ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন আমার ইচ্ছেটা কী। আমি বললাম, ‘আমার ইচ্ছে খুব ছোট করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটা লেখা, যেন যে কেউ সেটা কোনো রকম মানসিক প্রস্তুতি ছাড়াই একনিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে পারে।’ ছোট বলতে আমি আসলেই খুব ছোট বুঝিয়েছিলাম, খুব বেশি হলে এক ফর্মা। তবে ওই ইতিহাসটার একটা খুব বড় বৈশিষ্ট্য থাকবে, সেটা হচ্ছে প্রতিটা লাইনের রেফারেন্স থাকবে। যে কথাটি বলা হবে সেটি যে সত্যি সেটা প্রমাণ করার জন্য কথাটি কোন বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে তোলা হয়েছে, সেটাও লেখা থাকবে। যার ইচ্ছে করবে সে-ই সে রেফারেন্সটা ঘেঁটে দেখতে পারবে−তথ্যটা যে সত্যি সেটা সে নিজেই নিজের কাছে প্রমাণ করে ফেলতে পারবে।
সেদিন সেখানে যাঁরা ছিলেন তাঁরা সবাই মাথা নেড়ে বললেন, ‘আইডিয়াটা খারাপ না।’ আমি ইতস্তত করে বললাম, ‘আমার ইচ্ছেটা আরেকটু বড়−আমার ইচ্ছা লিফলেটের মতো করে লেখা এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছাপা হবে আট কোটি, যেন এই দেশের লেখাপড়া জানা সব মানুষ এই বইটা পড়তে পারে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এত আত্মত্যাগ, বীরত্ব আর অর্জন রয়েছে যে কেউ যদি সেটা জানে তাহলে দেশের জন্য তার ভালোবাসা আর মমতা না হয়েই পারে না।’
আমার ধারণা ছিল, আমার কথা শেষ হওয়ামাত্র সবাই হি হি করে হেসে উঠবেন। কিন্তু কেউ হাসলেন না বরং একজন গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘এটা এমন কিছু অবাস্তব পরিকল্পনা নয়। আমার মনে হয়, আমরা এ প্রকল্পটা হাতে নিতে পারি।’ আমি অবাক হয়ে দেখলাম সবাই তাঁর কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা নাড়তে থাকেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই এটার খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেন। কবে লেখা হবে, কেমন করে লেখা হবে, কীভাবে লেখা হবে সেটা নিয়ে কথাবার্তা হতে থাকে। আমাদের মধ্যে একজন কমবয়সী মেয়েও ছিল। হঠাৎ করে সে বলল, ‘আমার একটা প্রস্তাব আছে।’
সবাই জানতে চাইল, ‘কী প্রস্তাব?’ মেয়েটি বলল, ‘আমার মনে হয় জাফর ইকবাল স্যার যদি এটা লেখেন তাহলে সেটা কমবয়সী ছেলেমেয়েরাও আগ্রহ নিয়ে পড়ে ফেলবে।’
আমি কিছু বলার আগেই সবাই মাথা নেড়ে সেই কমবয়সী মেয়েটির প্রস্তাবটা মেনে নিলেন−আর তাই এই বইটি লেখার দায়িত্ব এসে পড়ল আমার ঘাড়ে। আমি মোটেও এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।
আমি আমার জীবনে অনেক ধরনের লেখা লিখেছি কিন্তু কখনোই ইতিহাস লিখিনি। আমি জানি, আমার আসলে ইতিহাস লেখার ক্ষমতা নেই; ইতিহাস লেখার সময় পুরোপুরি নির্মোহ হয়ে যেতে হয়, আবেগকে ঝেটিয়ে দুর করে দিতে হয়। আমি সেটা পারি না, অত্যন্ত সাধারণ কিছু লিখতে গেলেও তার মধ্যে আবেগ চলে আসে−অথচ মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা বিষয় নিয়ে লিখব, তার মধ্যে কোনো আবেগ থাকবে না, সেটা কেমন করে হয়? তখন আমাকে কয়েকজন ভরসা দিলেন। বললেন, লেখার মধ্যে একটু-আধটু আবেগ চলে এলে কোনো ক্ষতি নেই, সত্যি কথা বলার সময় আবেগ আসতেই পারে।
আমি তখন একদিন আমার নোট বইয়ে একটা তালিকা তৈরি করতে বসলাম−মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখতে হলে তার মধ্যে কী কী বিষয় আসতে পারে−প্রথম দফায় সেখানে এল ৩৭টি বিষয়। আমি সেই তালিকাটা যাঁকেই দেখাই তিনিই ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুমি এক ফর্মার বইয়ে এত কিছু লিখবে?’ আমি উত্তর না দিয়ে মাথা চুলকাই, কারণ মুক্তিযুদ্ধ তো বিশাল একটা ব্যাপার। এটা তো হঠাৎ করে হয়নি−কেউ একজন একটা সুইচ টিপে দিল আর সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, এটা তো মোটেও সে রকম ব্যাপার নয়। এর পেছনে অনেক পুরোনো ইতিহাস আছে, অনেক অবিচার-শোষণ আর আন্দোলনের ইতিহাস আছে। সেগুলো কিছু না বলে হুট করে তো আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলা যায় না−শুধু মার্চ মাসেই যা যা ঘটেছে সেগুলো লিখলেই তো মহাভারত হয়ে যাবে।
যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো তখনো তো সেটা কত বহুমুখী ইতিহাস। প্রথম দিকের বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ, বাংলাদেশ সরকার হওয়ার পর পরিকল্পনা করে যুদ্ধ। একদিকে নিয়মিত বাহিনী, অন্যদিকে গেরিলা বাহিনী। একদিকে দেশের ভেতরে আটকে থাকা মানুষের কষ্ট, অন্যদিকে শরণার্থীদের কষ্ট। একদিকে রাজাকার আলবদরের নৃশংসতা, অন্যদিকে আমেরিকা-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের ষড়যন্ত্র। যুদ্ধ শেষে বিজয়ের পর কি হঠাৎ করে থেমে যেতে পারি? পঁচাত্তরে যে অন্ধকার যুগের সুচনা হলো সেটা না বলে কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শেষ করা যায়? আর শেষ করব কখন? এক ফর্মার মধ্যে আমি কেমন করে এত কিছু লিখব?
আমি নিজেকে কখনোই সাহিত্যিক হিসেবে ভাবি না−কারণ বাচ্চাদের জন্য অ্যাডভেঞ্চার-কল্পকাহিনী লিখে তাদের মধ্যে একটা পরিচিতি হয়েছে−তারা প্রতিবছরই আমার কাছে নতুন এক-দুইটা লেখা আশা করে। আমার যখন কাগজ-কলম নিয়ে তাদের জন্য অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী লেখার কথা, তখন আমি সেটা থামিয়ে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে বসলাম।
লিখতে গিয়ে আমি আবিষ্ককার করলাম, কাজটি অসম্ভব কঠিন। আমি যা জানি সেটা যদি লিখে ফেলতাম তাহলে কাজটি এত কঠিন হতো না−কিন্তু কথা দিয়েছি প্রতিটা লাইনের রেফারেন্স দেব। কত-শত বই পড়া হয়েছে মাথার মধ্যে তার হালকা স্নৃতিটা রয়েছে, কিন্তু সেটা এখন কোথায় খুঁজে পাব? আমি থাকি সিলেটে−লিখছিলাম ছুটির মধ্যে ঢাকায়, বইপত্র বেশির ভাগ রয়ে গেছে সিলেটে। কপাল ভালো, ঠিক তখন ঢাকা বইমেলা চলছিল, সেখান থেকে অনেক বই জোগাড় করে ফেলা গেল। একটা লাইন লিখতে গিয়ে আমার ১০টা বই ঘাঁটতে হয়। যে রেফারেন্স দেব সেটা তো বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে, শুধু ছাপা বই হলেই তো হবে না।
আমি তাই একটা কাজ করতে শুরু করলাম, রেফারেন্সগুলো দেওয়ার চেষ্টা করলাম পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তা বা পাকিস্তানের ঐতিহাসিকদের লেখা বই থেকে। মুক্তিযুদ্ধের কোনো বিষয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক যদি কিছু বলে, সেটা তো পুরোনো বা নতুন রাজাকারের কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, সেটা নিয়ে কত রকম বিতর্ক−পাকিস্তানি লেখক সিদ্দিক সালিকের বইটি মনে হয় এ বিতর্কটাকে একেবারে চিরদিনের জন্য সমাপ্ত করে দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কত কাহিনী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে−এই ছোট ইতিহাসটাতে আমি তুলে দিয়েছি আরও ছোট একটা ঘটনা−সেটাও পাকিস্তানি লেখকের স্নৃতিচারণা থেকে।
বইটি লিখতে গিয়ে আমাকে অসংখ্য তথ্য খোঁজাখুঁজি করতে হয়েছে, দীর্ঘ সময় আমি কম্পিউটারের সামনে বসে ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, তখন আমি সবিস্নয়ে আবিষ্ককার করেছি আমাদের নতুন প্রজন্ন গভীর মমতায় মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য তথ্য আলোকচিত্র এবং ভিডিও পাকাপাকিভাবে পৃথিবীর তথ্যভান্ডারে সঞ্চার করে রেখেছেন। জগন্নাথ হলের গণহত্যার সেই ঐতিহাসিক ভিডিওটিও আমি খুঁজে পেয়েছি নতুন প্রজন্েনর তৈরি করা ওয়েবসাইটের লিংকে।
শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ড্রাফট শেষ হওয়ার পর আমরা আবিষ্ককার করলাম সেটাকে কোনোভাবেই এক ফর্মার মধ্যে আঁটানো সম্ভব নয়। বইটিতে মুক্তিযুদ্ধের কিছু ঐতিহাসিক ছবি সংযোজনের ইচ্ছে ছিল, বইয়ের আকার দেখে সেই পরিকল্পনা মুলতবি করা হলো। আমার ইচ্ছে ছিল নিউজপ্রিন্টে এক ফর্মা ছাপিয়ে ফেলা, যাঁরা উদ্যোক্তা তাঁরা রাজি হলেন না, ধবধবে সাদা কাগজ এবং চাররঙা লেমিনেটেড প্রচ্ছদ ছাড়া তাঁরা ছাপবেন না। শুধু তা-ই নয়, প্রচ্ছদে ব্যবহার করতে চান শিল্পী শাহাবুদ্দিনের পেইন্টিং। প্যারিসে তাঁর কাছে টেলিফোন করা হলো−তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে তাঁর পেইন্টিংয়ের কপির ব্যবস্থা করে দিলেন। শিল্পীরা সেটা ব্যবহার করে কভার করলেন, অন্যরা প্রুফ দেখলেন। আমি পান্ডুলিপি অনেকের কাছে পাঠালাম, কেউ সাহিত্যিক, কেউ ঐতিহাসিক, কেউ মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের আলোচনা শুনে অনেক কিছু পরিবর্তন করা হলো, পরিমার্জন করা হলো।
যখন এটাকে তার চুড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে, আমি তখন বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছি। বইটা কম্পোজ করে আমাকে ই-মেইল করে পাঠানো হলো। যেখানে উঠেছি সেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দুর্বল−ইন্টারনেট পাওয়া যায় না। গাড়ি করে খুঁজে খুঁজে মোবাইল ফোনের টাওয়ার বের করে তার নিচে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পান্ডুলিপি ডাউনলোড করে পুরোটা দেখে আবার ফেরত পাঠাচ্ছি। আমাদের কপাল ভালো, মাত্র কিছুদিন আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে।
আমাদের খুব ইচ্ছে ছিল বিজয় দিবসের আগে বের করা, সেটা সম্ভব হলো না। এটা বের হলো ডিসেম্বরের ২৪ তারিখে। শহীদ মিনারে সেক্টর কমান্ডার এ কে এম সফিউল্লাহ এর মোড়ক উন্েনাচন করলেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটি বাণিজ্যিক কোনো বই নয়। এটি যে লিখেছে, যে ছেপেছে, যে প্রকাশ করেছে বা যে এটি বিতরণ করছে, তারা কেউ এর থেকে একটি পয়সাও উপার্জন করার চেষ্টা করেনি−সবাই এটার পেছনে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছে। এই বইয়ের কোথাও কোনো মূল্য লেখা নেই, ছাপতে মোটামুটি ১০ টাকার মতো খরচ হয়েছে, কাজেই কেউ যদি এক কপি সংগ্রহ করে ১০ টাকা ধরিয়ে দেয়, তাহলে সেটা দিয়ে আরেক কপি ছাপানো সম্ভব হয়। কায়দাটি খারাপ নয়−কারণ এভাবে প্রায় দুই লাখ বই ছেপে বিতরণ করা হয়ে গেছে। আমার পরিকল্পনা ছিল আট কোটি ছাপানো−সেটা কত দিনে করা হবে ঠিক অনুমান করা যাচ্ছে না বলে আপাতত এক কোটিকে মাথায় রেখে অগ্রসর হওয়া শুরু করা হয়েছে।
বইটি ছাপানোর পর আমরা যে রকম প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম তার থেকে অনেক বেশি উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাস কখনোই ২২ পৃষ্ঠায় লেখা সম্ভব নয়। ২২ পৃষ্ঠার একটা পুস্তিকার নাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেওয়া এক ধরনের ধৃষ্টতা, কিন্তু পাঠকেরা আমাদের এই ধৃষ্টতাকে ক্ষমা করেছেন। তাঁরা সবাই এর পেছনের উদ্দেশ্যটি বুঝতে পেরেছেন। পূর্ণাঙ্গ একটা বই পড়তে সময় নেয়, তার জন্য এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতির দরকার হয়। কিন্তু এই বইটি পড়তে কোনো মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই, যে কেউ আধা ঘণ্টার মধ্যে পড়ে ফেলতে পারবেন। পড়ার পর যদি একটু অতৃপ্তি থেকে যায় তাহলে আরও ভালো, বইয়ের পেছনে ৫৬টা রেফারেন্স দেওয়া আছে−একটা একটা করে পড়া শুরু করে দেওয়া যায়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাছে অনুরোধ এসেছে এর ইংরেজি অনুবাদের জন্য। সেটাও করা হয়ে গেছে, প্রকাশিত হয়েছে। ও-লেভেল, এ-লেভেলে অসাধারণ ফলাফল করা ছেলেমেয়েদের পুরস্কার দেওয়ার অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার পত্রিকার পক্ষ থেকে সবাইকে এক কপি History of Liberation War দেওয়া হয়েছে−ঠিক আমরা যে রকম চেয়েছিলাম।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইটিতে লেখক হিসেবে আমার নাম লেখা আছে, কিন্তু আমি সবিনয় বলতে চাই, এটা মোটেও আমি একা লিখিনি। দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসে, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি প্রবল বিশ্বাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবিশ্বাস্য মমতা রয়েছে এ রকম বেশ কিছু মানুষ মিলে আমরা লিখেছি, তাঁদের সবার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা এবং কৃতজ্ঞতা।
আমরা কি এ মুহুর্তে হাত গুটিয়ে বসে আছি? মোটেও তা নয়−শুধু কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী কিংবা পূর্ণ বয়স্ক মানুষেরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়বে, ছোট ছোট বাচ্চারা পড়বে না, সেটা তো হতে পারে না। ছোট বাচ্চারা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে পারবে, সেভাবে কি আমাদের লেখা উচিত না? চাররঙা ঝলমলে ছবি দিয়ে সে রকম একটা বই কি বের করা উচিত না?
আবার আমার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার সেটাও লিখে ফেলা হয়েছে−এখন শুধু ছাপানো বাকি। কোথা থেকে সেটা ছাপানোর খরচ জোগাড় হবে সেটা এখনো কেউ জানে না−সেটা নিয়ে কাউকে খুব দুশ্চিন্তিতও মনে হচ্ছে না।
দেশের জন্য মমতা আর আন্তরিকতা নিয়ে শুরু করলে কীভাবে কীভাবে জানি সবকিছু কোনো না কোনোভাবে হয়ে যায়। এবারও হবে।"
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বইটি ডাউনলোড করতে....
এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


