somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিনামপাস : অ্যাজটেক কৃষি প্রযুক্তি

১৯ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেক্সিকো উপত্যকায় বিস্ময়কর অ্যাজটেক রাজধানী টেনোকটিটলান। আগ্নেয় পাহাড়ঘেরা সমভূমির মাঝে এর অবস্থান। ১৪শ’ শতাব্দীতে অ্যাজটেকরা প্রথম যখন এখানে আসে, জায়গাটিতে তারা পাঁচ পাঁচটি হ্রদ দেখতে পায়। টেক্সকোকো হ্রদের জলাভূমিটিকে স্থায়ী আবাস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেছে নেয় তারা, সেসঙ্গে হ্রদের মাঝে ছোট্ট একটি দ্বীপে নিজেদের জন্য শহর গড়ে তোলে। এরকম অবাস্তব আত্মীয়-পরিজন বন্ধুহীন সমস্যাসঙ্কুল একটি জায়গায় শহর গড়ে তোলার একটিই কারণ। দেবতার নির্দেশ। দেবতা হুইটজিলো পকটলি তাদের বলেছেন, যে স্থানে একটি ঈগলকে ক্যাটটাসের শাখায় বসে সাপ খেতে দেখবে সেখানে যেন তাদের নগর নির্মাণ করে।
দ্বীপে জায়গার স্বল্পতার কারণে অ্যাজটেকরা হ্রদের অগভীর অংশ ভরাট করে তা বাড়াতে থাকে। তীর থেকে মাটি আর হ্রদের তলদেশ থেকে কাদা সংগ্রহ করে আয়তাকার কৃষি জমি বা কিনামপাস গড়ে তোলা হতো। কিনামপাসগুলো দৈর্ঘ্যে ২০০ মিটারের মতো হলেও প্রস্থে কখনোই ১০ মিটারের অধিক হতো না। যে সব কিনামপের বা কৃষক খালসদৃশ জলভাগের দুপাশে জেগে থাকা জমিগুলো চাষ করতো তারাই আবার তাদের তলা সমতল ক্যানোর সাহায্যে সেখান থেকে ফসল সংগ্রহ করতো।
কিনামপাসগুলো ছিল অভূতপূর্ব উর্বর প্রকৃতির। এক বছরেই সেখান থেকে সাতটি ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হতো। এতে কোনো সেচের প্রয়োজন পড়তো না। কারণ পার্শ্বস্থ খাল থেকে কিনামপাসের মাটিতে অনবরত পানি প্রবেশ করতে পারতো।
অন্যদিকে এর উর্বরতার রহস্য ছিল একটেকসের অত্যাধুনিক কম্পস্পিং পদ্ধতির মাঝে নিহিত। যার মাঝে হ্রদের তলানি ব্যবহার করা হতো। কিনামপের অনবরত তাদের ক্যানোর সাহায্যে লেকের তলদেশ থেকে এই তলানি সংগ্রহ করতো। একটি থামের মাথায় কাপড়ের থলি আটকে ট্রল করে পুরু পলির স্তর সংগ্রহ করা হতো। তারপর একে কৃষি জমির ওপর ছড়িয়ে দেয়া হতো। সঙ্গে মেশানো হতো মানব বর্জ্য। খালের পানিতে সরাসরি বর্জ্য ফেলা হতো বলে সেটাই আবার কালক্রমে তলানির অংশে পরিণত হতো, এর কিছু অংশকে সরাসরি মাটির ওপর ছড়িয়ে দিয়ে তলানি দিয়ে ঢেকে দেয়া হতো। কর্টেস ও তার দখলদার বাহিনী ১৫১৯ সালে এখানে আসার পর থেকে আধুনিক ইউরোপীয় নির্মাণশৈলীর কারণে শত বছর ধরে হাজার হাজার হেক্টর কিনামপাস বিলীন হয়ে গেছে। মেক্সিকোসিটির দক্ষিণপ্রান্তে জোকিমিলকোর একটি অংশে হ্রদের খানিকটা অংশ এখনো টিকে আছে। তাই এখনো কিনামপাস কৃষি পদ্ধতি টিকে আছে ত্রিশ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে।
১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে এরকম একটি সংস্থার পক্ষ থেকে একদল বিজ্ঞানি জোকিমিলকো পরিদর্শনে যায়। সেখানে তারা দেখতে পায় আধুনিক কৃষকরা এখনো তাদের বর্জ্য খালে ফেলছে। তা সত্ত্বেও সেখানকার পানি দুর্গন্ধহীন। নেই মানব বর্জ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ-জীবাণুর প্রকোপ। সংগ্রহকৃত তলানির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে এর বিশেষ একটি অনুজীব ২২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। গরম পানির ঝরনার মাঝে পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে এর সাদৃশ্য আছে। অস্বাভাবিক এই ব্যাকটেরিয়াটিই অ্যাজটেকদের বর্জ্য পরিশোধনে সাফল্য এনে দিয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এর সাহায্যে দ্রুত কম্পোস্ট উৎপাদন সম্ভব। এটি বর্জ্যের নাইট্রোজেন বন্ধনে ভূমিকা রাখে, ক্ষতিকর রোগ-জীবাণু নিষ্ক্রিয় করে। জৈব ভাঙন প্রক্রিয়া দ্রুততর করে।
গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়াটিকে কালচার করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক কৃষিতে এর ফলপ্রসূ ব্যবহার সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তার তাপপ্রেমী এ বন্ধুসুলভ ব্যাকটেরিয়া কেন টেক্সকোকো হ্রদের তলদেশে তার আবাস গড়ে তুললো, বিজ্ঞানীদের কাছে তা এক বিস্ময়কর ঘটনা।

(দৈনিক যায়যায় দিনে ১৮ জুলাই, ২০০৯ এ প্রকাশিত।)

২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×