বুমেরাং ! অবাক করা এক হাতিয়ার। আদিম পৃথিবীর মানুষ বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী শিকারিরা শিকারের কাজে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করতো।শিকারকে সজোরে আঘাত করে আবার শিকারির হাতে ফিরে আসতে পারে এমন যন্ত্রের কথা এই সেদিন কেবল আধুনিক বিশ্ব ভাবতে শুরু করেছে।যার ফলাফল অত্যাধুনিক মিসাইল প্রযুক্তি।
আদিম মানুষ তার অতি সাধারণ জ্ঞান দিয়ে তৈরি করেছে অসাধারণ এই অস্র। বিজ্ঞান আধুনিক পর্বে পা দেবার অনেক আগেই আদিম জনপদে বাস করা সেই লোক গুলো নিজেদের মতো করে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে শিখেছিলও, বুমেরাং তার একটি মোক্ষম প্রমাণ।
আজকে বিশ্বের অনেক জায়গাতেই বুমেরাং এক জনপ্রিয় খেলা।
কি দিয়ে বানানো হয়
হাড়-গোর, গাছের ডাল, শক্ত পাতলা কাঠের ফালি মোট কথা হাতের কাছে সুবিধা জনক যা কিছু পেয়েছে তাই দিয়ে ঘষে মেজে বানানো হয়েছে বুমেরাং। আর এর সব কিছুই আশপাশের প্রকৃতি থেকে কুড়িয়ে নিয়েছে আদিম শিকারিরা।
এখন খেলাধুলা বা খোলা মাঠে আনন্দে সময় পার করবার জন্য যে সব বুমেরাং তৈরি হচ্ছে তার বেশীর ভাগই প্লাই উড, শক্ত সিজন করা পাতলা কাঠ আর নানান ধরনের কার্বন ফাইবার অথবা প্লাস্টিক দিয়ে। যার কোনটির ওজনই ১০০ গ্রামের বেশী নয়।
কেমন করে বানাতে হবে
অস্ট্রেলিয়ার আদিম মানুষেরা তাদের আগেকার পুরুষদের কাছ থেকে বুমেরাং বানাবার আর ছোড়ার খুঁটিনাটি সব বিষয় শিখে রাখতো। কারণ বুনো পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অন্য কোন বিকল্প তাদের সামনে খুব বেশী ছিলোনা। বুমেরাং এর ওপর মুনশিয়ানা কোন এক জন শিকারিকে তার পরিবার পরিজন আর প্রতিবেশীদের কাছে, শিকারি অন্য সঙ্গীদের চোখে সম্মানিত করে তুলতও।
এখনকার বাচ্চা ছেলে পেলেরা শক্ত কাগজ বা প্লাস্টিকের সিট দিয়ে সহজেই বুমেরাং বানাতে পারে। চারকোনা সিটের উপর পেন্সিল দিয়ে দাগ কেটে বুমেরাং আকারে কেটে নিলেই হলও।যার বাহু গুলো হবে ৯০ থেকে ১৬০ ডিগ্রী পর্যন্ত প্রসারিত। তবে ফিরে আসে এমন বুমেরাং বানাতে হলে আরও সূক্ষ্ম হিসাব কিতাব খাটিয়ে, ব্যবহার করতে হবে ভালো মানের সিট। আর ভি আকৃতিতে কেটে নেবার পর এর ভেতরের দিকের কিনারা উপরের দিকে সামান্য বাকিয়ে নিতে হবে।
ফিরে আসেনা এমন বুমেরাং বানাতে দরকার হবে একটু ভারি সিট। বাহুর কোনের পরিমাণও বাড়াতে হবে এতে।
তবে গতানুগতিক আকারে বুমেরাং বানাতে হবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। ইচ্ছে অনুসারে এর পাখার সংখ্যাও বাড়ানো যেতে পারে। খেলার জন্য ছোট বুমেরাংই ভালো। এগুলো দ্রুত ঘুরে বলে বাঁকা পথে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে।
বাতাসে ভর করে শেষে যাচ্ছে অনেক দূর ...
ছুড়ে দেবার পর বুমেরাং আপনা থেকে খানিকটা গতি পায় এর গঠন শৈলীর কারণে।ভেতরের দিকের কিনারায় বাতাস আটকে সামনের ব্লেডটিকে সজোরে ধাক্কা দিতে থাকে অনবরত। আর এভাবে বাতাসের ওপর ভর করে বুমেরাং শিকার শেষে ফিরে আসে বা পৌঁছে যায় বহু দূরে। আদি কালে দূর দূরান্তের গোত্র গুলোর কাছে জরুরি খবরাখবর সরবরাহের জন্য বিশেষ এক ধরনের বুমেরাং ব্যবহার হতো বলে শোনা যায়।
ছুড়তে হবে কেমন করে
ডানহাতি বুমেরাং গুলো ঘড়ির কাটার উল্টো দিকে ঘুরতে ঘুরতে ঘড়ির কাটার বিপরীত পথে ফিরে আসে। বাঁহাতি গুলো ঠিক এর উল্টো।
বেশীরভাগ বুমেরাঙের ওজন ৭০ থেকে ১১০ গ্রামের মধ্যে হওয়াই ভালো। এগুলো প্রায় ২০ থেকে ৪০ মিটারেরও বেশী দূর যেতে পারে। সাধারণত গাছগাছালি নেই এমন খোলা প্রান্তরে ছোড়ার জন্য বেশ উপযোগী এরা। তবে এই খোলা জায়গার আয়তন বুমেরাং সীমার দ্বিগুণ হওয়াই ভাল। ডান কিবা বাম দু’হাত দিয়েই বুমেরাং চালানো সম্ভব। তবে যে হাতেই ছোড়া হোক না কেন এর জন্য নিজস্ব দক্ষতার দরকার রয়েছে। বাতাসের গতির উপর নজর রেখে, বাতাসের দিকে ঘুরে দাড়িয়ে ডান হাতটাকে ধীরে বা’দিকে এনে তার পর ডানদিকে ছুড়ে দিলেই হলও। ঘড়ির কাটা বরাবর ঘুরতে ঘুরতে ১৩ থেকে ১৭ ডিগ্রী ডান বরাবর বাতাসের গতি অনুসারে ছুটে যাবে বুমেরাং। কিন্তু ফ্লাইং ডিস্কের মতো করে ছোড়া হলে সোজা উপর দিকে গিয়ে মাটিতে পড়ে ভেঙ্গেও যেতে পারে।
নক্সা বন্দি বুমেরাং
আদিবাসীরা বুমেরাং এর গায়ে নানান ধরনের নক্সা আঁকতও। আগেকার দিনের বুমেরাং গুলো এখনো পুরাতন কালের আদিবাসী সেই ভাষা, সংস্কৃতি আর চিরকালীন ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। দূরদূরান্তে খবরা-খবর পাঠাবার আশায়, এই বুমেরাং এর তলে গোপন সংকেত লিপি লিখে অন্তিমের পথে ছুড়ে দিতো সেই আদিম সৈনিকেরা।
কবে প্রথম তৈরি হলও
আদিম এই অস্র ঠিক কবে প্রথম তৈরি হয় সেব্যাপারে কিছু জানা না গেলেও ইতিহাসের প্রমাণাদি থেকে জানাযায় প্রাচীন মিশর, ক্যালিফোর্নিয়া ও এরিজোনার নেটিভ আমেরিকান এবং উত্তর ভারতের শিকারিরা ছোট পাখি আর খরগোশ শিকারে বুমেরাং ব্যবহার করতো। এমনও কিছু বুমেরাঙের কথা জানা গেছে যেগুলো আদৌ ছোড়া হতো না, হাতাহাতি যুদ্ধে আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানরা হাতিয়ার হিসেবে এগুলির ব্যবহার করতো। আদিবাসী সঙ্গীতে বাদ্যের তালে এদের ব্যবহারের কথা শোনাযায়। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও। তখন থেকেই খেলাধুলাতেও সমানভাবে এটি কাজে লাগছে।
অস্ট্রেলিয়ার সবচাইতে পুরাতন বুমেরাংটির বয়স দশহাজার বছরের চাইতে বেশী। কিন্তু সবথেকে পুরাতন শিকারি লাঠির সন্ধান মেলে ইউরোপে। প্লেনদের কার্পাথিয়ান পাহারের গুহায় ম্যামথের দাঁত দিয়ে তৈরি এই বুমেরাং পাওয়া যায়। পরীক্ষা থেকে ধারনা করা হচ্ছে এটি তিন হাজার বছরেরও পুরাতন। বিখ্যাত ফারাও মিশর রাজ তুতেনখমেনের সংগ্রহে বিভিন্ন ধরনের একগাদা বুমেরাং পাওয়া গেছে। তিনিও আজ থেকে তিন হাজার বছর আগে দেহ ত্যাগ করে ছিলেন।
নামটা এলো কোথা থেকে
এব্যাপারেও পষ্ট করে কিছু জানাযায়নি। কিকরে শব্দটি ইংরেজির হাত ধরে আমাদের ভাষায় সেঁধিয়ে গেছে সে সম্বন্ধে রয়েছে গবেষকদের ভিন্ন ভিন্ন তত্ত্ব। ডেভিড কলিন্স ১৭৯৮ এ নিউ সাউথ ওয়েলস এর আদিবাসী ভাষা বিষয়ক লেখায় মুগুর-লাঠির ওপর এক নাম “ ও-মার-রাং” বলে উল্লেখ করেন।
১৮২২ এ শব্দটিকে ঢারাং আদিবাসীর টুরুওয়াল উপ গোত্রের লোকদের শব্দ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। যার মানে “ যে লাঠি ছোড়ার পর আবার ফিরে আসে।” আজকাল পাঠাবার পর ফের ফেরত আসে এমন সব কিছুই জেনো আমাদের কথায় বুমেরাং নাম পায়।
আজকে কি হয় বুমেরাঙে
আজকাল খেলা ধুলাতেই কেবল বুমেরাং কাজে লাগে। ধরার কৌশল, পথের আকার, কতটা সময় আকাশে থাকতে পারে এবং ধরতে পারা ও ফিরে আসার ধরন-ধারণ অনুসারে বিভিন্ন রকমের প্রতিযোগিতার প্রচলন রয়েছে বিশ্বজুড়ে।
জাপানি মহাকাশচারী টাকাও ডোই ২০০৮এ মহাকাশ ভ্রমণের সময় পরীক্ষা করে দেখতে চান পৃথিবীর মতই মহাশূন্যের ওজনহীন পরিবেশেও বুমেরাং একই রকম কাজ করে কিনা। এর আগে ১৯৯২তে জার্মান নভোচারী উলফ মিরবোল্ড এই একই ধরনের পরীক্ষা করেন মহাকাশ যানের ভেতর। অন্য এক জার্মান নভোচারী জেন-ফ্রাঙ্কয়েস ক্লেরভয় মির মহাকাশ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি করেন ১৯৯৭ সালে।
মহাকাশে বুমেরাং নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণায় এখনো মেতে আছেন বিজ্ঞানীরা, শুধু এই আশায় – যে বুমেরাং এর আচরণ বিশ্লেষণের মধ্যদিয়ে আগামী দিনের আন্ত-মহাকাশ যাত্রাকে আরও সহজ ও গতিময় করার কোন উপায় হয়তো বের করতে পারবেন তারা।
শিকার কিংবা যোগাযোগে
হাজার হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনতাকে বেঁচে থাকার মত খাবার জোগাড়ের জন্য শিকারে বের হতে হতো। শিকারের এই সাংঘাতিক ধরনের পরিশ্রম লাঘবের জন্য গুটি কয়েক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায় আদিবাসী জনেরা। এই সব ডিভাইস তাদের নিশ্চয়তা দিতে শুরু করে খাবার থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যাবে তার চেয়ে বেশী কখনই শিকার ধরতে গিয়ে খরচ হবেনা।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ভিক্টোরিয়াতে ফিরে আসা বুমেরাং শিকারের পাশাপাশি যোগাযোগের কাজেও লাগানো হয়।
দীর্ঘপথের বুমেরাং
এই বুমেরাং গুলো এমন করে বানানো যা আর আগের জায়গায় ফিরে আসতে পারেনা। প্রতিযোগিতার সময় খেলোয়াড়কে ঘিরে ৪০ মিটার জুড়ে চারপাশে একটি কল্পিত তলের কথা ভাবা হয়। দীর্ঘপথের বুমেরাঙের পথ চলা এই সীমার বাহির থেকে পরিমাপ করা শুরু হয়। অন্য সময় কুড়িয়ে আনার ঝামেলার কারণে এত দূরে না যাবার প্রর্থনাই করেন খেলোয়াড়েরা।
অনেক সময় এই দীর্ঘপথের বুমেরাংকে তার ছুড়ে দেবার স্থানে ফিরেও আসতে দেখাযায়। বাতাসের সঙ্গে ঘষা বা নির্মাণ ত্রুটির কারণে এমন হতে পারে।
আজকাল দীর্ঘপথের বেশীরভাগ বুমেরাংই প্রশ্নবোধক চিহ্নের মত দেখতে হয়। এগুলি গ্লাস ফাইবার এপোক্সি কম্পজিট দিয়ে তৈরি।
কেমন করে গতি বাড়ে ?
ফিরে আসা বুমেরাঙে দু’এর বেশী ডানা থাকে। যা কোনা বরাবর যুক্ত। ডানা আকৃতির কারণে এদের একটি অপরটির চাইতে দ্রুত এগিয়ে যায়, একটি অপরটির উপর টানের সৃষ্টি করে, এক ধরনের গতি জড়তার জন্মদেয়। এই কারণে আপনা থেকেই গতি বাড়তে থাকে বুমেরাঙের।
কেমন করে শিকার ধরে
হাতিয়ারটির আকার আকৃতি এবং উপবৃত্ত পথ ধরে ফিরে আসার কারণে বুমেরাং শিকারের কাজ আরও সহজ করে তুলেছিলও একথা কমবেশি সবাই আজ বিশ্বাস করে। বাতাস কেটে যাবার সময় বুমেরাং অজব এক শব্দ করে। দক্ষ শিকারিরা এই শব্দ কাজে লাগিয়ে গাছের ডালে বিশ্রাম নেয়া পাখিদের আগে থেকে পাতা জালের দিকে নিয়ে যায় খুব কৌশলে।
ছোট ছোট পাখি শিকারের পাশাপাশি বুমেরাং দিয়ে ক্যাঙ্গারুর মতো বড় কোন প্রাণীকে পর্যন্ত ঘায়েল করা যায়। এই কাজে হাঁটু বরারব সোজা বুমেরাং ছুড়ে দেওয়া হয়। আর এমুর ক্ষেত্রে ছোড়া হয় ঘাড় লক্ষ্য করে, যাতে মাথা জাগিয়ে আর সহজে দৌড় লাগাতে না পারে।
কেমন করে, কেনইবা ফিরে আসে
গাইরোস্কপিক প্রিসিসনের কারণে বুমেরাং তার আগের জায়গাতে ফিরে আসে, ঠিক যেখান থেকে তাকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিলো। এই একই কারণে ভুলভাবে ছোড়া কোন বুমেরাং সোজা উড়ে গিয়ে দূরে কোথাও হারিয়েও যেতে পারে।
একই সঙ্গে বিজ্ঞান আর যাদু
বুমেরাং আসলে যাদু আর বিজ্ঞানের এক অনন্য মিশ্রণ। এটি ছুড়ে দেবার দক্ষতা পেতে হলে দরকার শিল্পী হয়ে ওঠার মত নিয়মিত চর্চা। তাহলেই সম্ভব হবে দক্ষ শিকারির মত লক্ষ্যভেদ করা, আর উড়ন্ত খেপা বুমেরাং আকাশ হতে হাতের মুঠোয় লুফে নেওয়া।
প্রতিযোগিতা আর রেকর্ড
প্রতি দু’বছর পর পর বুমেরাং বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকা আর জার্মান দল বরাবরই এই প্রতিযোগিতার কাপ ঘরে তুলছে। তবে একক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় ২০০০, ২০০২ এবং ২০০৪ এ শিরোপা জিতেন সুইস খেলোয়াড় ম্যনুয়্যাল সূ্ইটজ। ২০০৬এ জার্মানির ফ্রিডোলিন ফ্রস্ট।
আধুনিক বুমেরাং টুর্নামেন্টে বেশ কিছু ইভেন্ট লক্ষ্য করা যায়, যার প্রতিটিতেই হাতিয়ারটিকে নুন্যতম ২০ মিটার দূরত্ব পারিদিতে হয়।
ইভেন্ট গুলো হলও:
• আসুই রাউন্ড: এই রাউন্ডের খেলার নিয়ম হলও পঞ্চাশ মিটার দূরত্ব পারিদিয়ে আবার খেলোয়াড়ের হাতে ফিরে আসতে হবে বুমেরাংটিকে।
• একুরেসি: ছুড়ে দেবার পর কেন্দ্রের কতটা কাছাকাছি ফিরে আসে সেটাই যাচাই করা হয় এই রাউন্ডে। পাঁচ পাঁচটি সুযোগ দেয়া হলেও ছুড়ে দেবার পর ধরার নিয়ম নেই এই খেলাতে।
• এনডুরেন্স:পাঁচ মিনিটে যতবার হাতে লুফে নেয়া যায় তার উপরই নির্ভর করছে এর স্কোর।
• ফাস্ট ক্যাচ: ছুড়তে আর ধরতে কতটা সময় লাগে এমন পাঁচটি নিক্ষেপের উপর নির্ভর করে এই খেলার স্কোর।
• ট্রিক ক্যাচ/ ডাবলিং: কৌশল করে ধরার ধরন দেখে এই খেলার স্কোর দেওয়া হয়।
• কনসিকিউটিভ ক্যাচ: মাটিতে পড়ে যাবার আগে কতবার লুফে নেওয়া হলও সেটি হিসেব করে তবেই স্কোর ঠিক করা হয় এই খেলায়।
• ম্যাক্সিমাম টাইম এলফ্ট ১০০: শতমিটারের বৃত্তাকার মাঠে কতটা সময় ধরে বাতাসে ভেসে বেড়ায় সেটি আমলে নিয়েই এতে স্কোর দেওয়া হয়।
• লং ডিসটেন্স: ছুড়ে দেবার চল্লিশ মিটার দূরের বেজ লাইন পার হবার পর কতটা সময় ধরে ভেসে বেড়ায় তার উপর ভিত্তি করে এই খেলার ফলাফল ঠিককরা হয়।
• জাগলিং: দু দু’টি বুমেরাং নিয়ে খেলা শুরু হবার পর এদের কোন একটিকে আগেভাগে ঠিককরে রাখা সময় পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে হয়।
দূরত্ব পারি দেবার গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড
১৫ মার্চ ২০০৫এ অস্ট্রেলিয়ার মুরারি রিক্রিয়েশন গ্রউন্ডে ডেভিড স্চুমির ছোড়া বুমেরাং ১,৪০১.৫ ফুট বা ৪২৭.২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বিশ্ব রেকর্ড করে। এর মাধ্যমে ২০০৩এ করা এরিন হেমিং এর আগেকার ১,৩৩৩ ফুট বা ৪০৬.৩ মিটার দূরত্ব পারি দেবার রেকর্ডকে অতিক্রম করা হয়।
চেনা যাবে আরও যেসব নামে
আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানরা কেইলি নামের আরও একটি লাঠি হাতিয়ার ব্যবহার করে। বাঁকা পথে না গিয়ে কেইলি সোজাসুজি শিকারকে আঘাত করে কুপোকাত করে। এটি বুমেরাঙের চাইতে অনেক বড় হয়, আর অনেক বেশী দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। হুকের মত আকার এবং অতিকায় আকৃতির কারণে এর সাহায্য বড় কোন প্রাণী বা প্রতিপক্ষ সৈন্যদের বধ করা যায়।
বুমেরাং ইফেক্ট !
আসলে ঘটনাটি ঘটে ই-মেইল বিনিময়ের সময়। আমাদের পাঠানো প্রতি পাঁচটি ই-মেইলের মধ্য তিনটিই আবার আগের ঠিকানাতেই প্রেরক বরাবর ফেরত আসে। ই-মেইলের ফিরে আসার এই হার মোট ৬৫ভাগ। এতে করে বেশীরভাগ সময়ই অস্পষ্ট থেকে যায় আবার মেইলখানা পাঠাতে হবে কিনা, এই বলে যে “ আমি ঠিক নিশ্চয় নই এর মধ্যদিয়ে আপনি আসলে কি বুঝাতে চাইছেন।” বুমেরাং যেমন ফিরে আসে, আমাদের প্রতিদিনের কাজে পাঠানো ই-মেইল বার্তাও একি রকমে ফেরত আসার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে বুমেরাং ইফেক্ট হিসেবে নাম করন করা হয়েছে। ফেরত আসার এমন অনেক ঘটনাই আমাদের কাছে বুমেরাং ইফেক্ট হিসেবে ধরাদিতে পারে।
স্পেস বুমেরাং
স্পেস সাঁটল এনডেভার মাহাশুন্যে রওনা হবার সময় অভিযাত্রী ডোই ২০০৬এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়সুহিরো টোগাইর কাছ থেকে উপহার পাওয়া দু’টি বুমেরাং সঙ্গে নিয়ে যান। ডোই অবাক হয়ে দেখেন শূন্য অভিকর্ষে নিচের দিকে টান হীন অবস্থায় বুমেরাং কেমন করে ভেসে বেড়াচ্ছে। এতে করে তার ধারনা হয় শূন্য অভিকর্ষে ছুড়ে দেওয়া বুমেরাং আর হয়তো ফিরে আসবেনা। তবে এর সঠিক জবাবের জন্য আমাদের আরও কিছুদিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। সেই পর্যন্ত বুমেরাং ভক্তেরা আশায় বুক বেধে থাকবেন অন্তত এই ভেবে-“ ফিরে আসে বুমেরাং , ফিরে ফিরে আসে………”
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


