এই কাঁচা বয়েসেই টেম্পো কন্ডাকটরের কাজ নিয়েছে ইব্রাহিম। বয়স দশ কী এগার। পাকা হাতে টেম্পোর দরজায় দাড়িয়ে বয়স্ক লোকেদের সঙ্গে রীতি মত তর্ক করে ভাড়া আদায় করতে হয়। সবার ব্যবহার সমান নয়, তাই এই বয়সে অনেক পোড় খেয়ে দুনিয়াদারি বহু আগেই শিখতে হয়েছে তাকে। তবে বাবা অন্য মহিলাকে বিয়ে করে ওদের ছেড়ে চলে গেলেও এখনো পারিবারিক বন্ধনের কারণে পুরোপুরি বিগরে যায়নি ও। সমবয়সীরা যেখানে কাজ শেষে রাতে নেশার জগতে ঢুমারে সে তখন প্রতিদিনকার আয়ের দেড়’শ টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতে বাড়ির পানে ছুটে। বড় ভাই আর তার এই সামান্য আয় দিয়েই দু’ভাই আর মা এই তিন জনের সংসার চলে। বাবা থেকেও নেই। দেশের নামকরা ফার্নিচার কোম্পানিতে চাকুরী করে যে আয় করেন তা দিয়ে সাজিয়েছেন নতুন সংসার। নিষ্পাপ এই সন্তানের দুর্দিনে পাশে থাকার কোন তাগিদ পাষণ্ড এই বাবা অনুভব করেনা। কিন্তু এই নিয়ে ইব্রাহিমের মনে কোন ক্ষেদ নেই। প্রতিদিন সে এমন হাজার হাজার শিশুদের রেললাইনের দু’পাশে দিন যাপন করতে দেখে। যাদের বাবা মায়ের আদৌ কোন পরিচয় তারা জানেনা। চুরি, ছিনতাই আর এটা সেটা চেয়ে চিন্তে যাদের দিন কাটে। অনেক সময় কিছুই জোটেনা সেই সব সবহারানো পথ শিশুদের ভাগ্যে। প্রচণ্ড ক্ষুধা সহ্য করে তখন তারা দুর্বিষহ রাত্রি পার করে। আরেকটি নতুন সূর্য দেখার আশায়। কিন্তু চির আকাঙ্ক্ষার সেই রক্তিম সূর্য তাদের কাউকেই সুন্দর একটি জীবনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনা। হতাশার প্রতিটি সন্ধ্যায় তাই তারা গভীর নেশায় বুদ হয় অতি জাগতিক কোন স্বপ্নে। কিন্তু সেই স্বপ্নও কী এত সহজেই তাদের কাছে ধরা দেয় ? সে আরেক গল্প। এমনি সব বাস্তব জীবনের গল্প ধরা পরেছে সেইভ দ্যা পিপলের ক্যমেরায়’। তার কিছু তোলা থাকলো আগামীর কোন এক দিনের জন্য। সেই সব গল্প দিয়ে সবাইকে আহত করার আগেই প্রশ্ন রাখতে চাই, সমাজ কবে এই সব নিপীড়িত শিশুদের দায়িত্ব নিতে শিখবে ? অথবা এই সব দুর্বিষহ জীবনের সঙ্গে পুরো জাতিও কী সেই একই ভাগ্য বরণ করতে চলেছে ?
(সেইভ দ্যা পিপলের স্কুলের জায়গা দেখার কাজ শেষ করে উত্তরার দক্ষিন খান থেকে ফেরার পথে টেম্পতে ইব্রহিমের সঙ্গে আমাদের সেইভ দ্যা পিপল টিমের দেখা হয়)
ছবিতে : বা থেকে ফয়সাল, ইব্রহিম ও লুৎফুল।
এইখানে গিয়ে রেজিষ্টেশন করে আপনিও পারেন পথশিশুদের সহায়তায় সেইভ দ্যা পিপলের সঙ্গী হতে।
আর সেইভ দ্যা পিপল সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে আসুন এই সাইটে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১১ রাত ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



