somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তান জিন্দাবাদ , পাকিস্তান জিন্দাবাদ । এই লেখাটি পড়লে জানি কেউ চোখে পানি ধরে রাখতে পারবে না । X(

১৭ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৫-ই ডিসেম্বর, ২০০৮। সূর্য অস্ত যায় প্রায়; ভেতর থেকে ছেলেমেয়েদের কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে, ‘‘পাকিস্তান...পাকিস্তান...এইবার ছক্কা...ওহ্ মাই ডিয়ার আফ্রিডি...!’’ বারান্দার গ্রি্লটা শক্ত করে ধরেন হামিদা বেগম, দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম; বুকের ওপর খামচানো ক্ষতটা একবার দেখে নেন তিনি। পশ্চিমাকাশে রক্ত ঝরছে; রক্তে রক্তে লাল হয়ে গেছে শিলা দিঘির পানি, সামনের শাল বাগান। রক্ত ঝরছে হামিদা বেগমের অসুস্থ জরায়ু থেকেও।

সন্তানেরা বড় হয়েছে। আর কত বড় হবার স্বপ্ন দেখেছিল ওদের বাবা জানেন না হামিদা বেগম। বয়সের ভারে হয়ত অনেক কিছুই ভুলে গেছেন তিনি আবার অনেক কিছুই তীব্রভাবে গেঁথে আছে স্মৃতির ধ্বংসপ্রায় দেয়ালে। ৩৭ বছর অনেক সময়, অনেক কিছুই বদলানোর জন্য যথেষ্ট- কোন সন্দেহ নেই তাতে। কিন্তু হামিদা বেগমের ক্ষত বিগত হয়নি এখনো, তবে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত শুকাতে ঠিক কতটা সময় প্রয়োজন জানেন না হামিদা বেগম। বিবেকের বিগলিত আত্মজিজ্ঞাসা আর সময়ের সুস্থতার সন্ধিক্ষণে অনেক হিসাবই তিনি মেলাতে পারেন না আদৌ। তবে পাকিস্তান যে শেষ পর্যন্ত জিতেই যাবে সন্তানদের বাড়াবাড়ি রকমের উল্লাসে এই হিসাবটা পাকাপক্ক করে ফেলেন তিনি।

রাত ১১:৩০ মি.। ‘‘শোয়েব আক্তার, মাই সুপার হিরো, আর দুইটা উইকেট প্লিজ! ...ওহ্ পাকিস্তান আমার জান্...তোমাকে জিততেই হবে! ‘‘হায়রে বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান, হায়রে রুহুল আমিন...! কোথায় গেলো তোমাদের শ্রেষ্ঠতা!’’ হামিদা বেগম ভাবতে থাকেন- ‘‘যেদিন ওদের বাবা যুদ্ধে গেলেন, আমি এবং তাঁর বারো বছরের কলিজার টুকরা যমুনা ও সদ্য আগত মানিক জোড়া- সফিক আর রফিককে রেখে, আমার আতঙ্কিত চেহারা দেখে বলেছিলেন, ‘ওদের জন্য মানচিত্র আনতে হবে না?’ আমি ঠেকাতে পারিনি তাঁকে। ঠেকাতে পারিনি ওদের কেউও; যে দিন ওরা আমাকে এবং আমার বারো বছরের শিশুকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেল ওদের ভোজালয়ে, কেটে ছিঁড়ে আমাদের রক্তে জন্মের পিপাসা মেটালো পালাক্রমে। আহা, আমার ছোট সোনামনি কী কষ্টটাই না সইলো সেদিন! মরনের তীব্র্ স্বাদে মিটে গেল জীবনের সমস্ত পিপাসা। ওদের বাবা যেদিন বুকের রক্তে মানচিত্র এঁকে দিয়ে বললেন, ‘এই যে আমার সফিক-রফিকের বাংলাদেশ।’ আমি ঠেকাতে পারিনি তাঁকেও। পিতার মৃত্যু দিয়ে দিয়ে রচিত হল সফিক-রফিকের এই স্বাধীনতা? ‘সফিক আর রফিক’- কত সাধ করে সে রেখেছিল নাম দুটি !’’

হামিদা বেগম অন্ধকারে মুখোমুখি অন্ধকারের। ‘‘আজ ওরা বড় হয়েছে, আধুনিক শিক্ষাই শিক্ষিত,’’ ভাবেন হামিদা বেগম, ‘‘আমার মত করে ওরা ভাববে কেনো! আর ওদের বাবা?’’ টানা নিঃশ্বাস ছাড়েন তিনি, ‘‘কী বিস্তর ব্যবধান! যে কি-না পাকিস্তানকে কোনদিনও মেনে নিতে পারেনি। আজ তাঁর সন্তানেরা পাকিস্তান পাকিস্তান করে পাগলপ্রায়। যে পতাকা সরাতে তাদের বাবা প্রাণ দিলেন সেই পতাকা তারা এখন গভীর মমতায় লালন করছে তাদের বুকে। ওরা তো আমারও সন্তান! একদিন পাকিস্তানী হায়েনারা একবারও ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলিনি বলে আমার দেহের প্রতিটা কোষে খোদাই করে দিয়েছিল অপমানের চি‎হ্ন; আজ আমারই সন্তানেরা ‘পাকিস্তান...পাকিস্তান জিতবেই...পাকিস্তান...পাকিস্তান...!’ শোরগলে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলেছে। ভাবতে অবাক লাগে, এটা একটা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী। প্রথম বিশ্বকাপে যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে দিল, আমার ছোটছেলে খুব কষ্ট পেয়েছিল তার আত্মার পাকিস্তান অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারলো না বলে; আর বড় ছেলে নিজেকে শান্তনা দিয়েছিল এই ভেবে, তার পাকিস্তান ইচ্ছে করেই বাংলাদেশের কাছে হেরেছে! হায়রে বাংলাদেশ- জিতেও জিততে পারলো না! ওগো, তুমি দেখে যাও তোমার সফিক আর রফিকের স্বাধীনতা! ৩০ লক্ষ শহীদ এ-কাদের জন্য জীবন দিল? কেন আমার ফুলের মত মেয়াটা অকালে ঝলসে গেল? এ কোন স্বপ্নের বীজ বুনেছিলাম আমার ধর্ষীত দেহে? ওগো, আমি চাই না এমন স্বাধীনতা। আমাকে ঐ নয়টি মাস ফিরিয়ে দাও, আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দাও, আমি তোমাকে চাই...!’’

খুব কষ্ট করে শ্বাস নেন হামিদা বেগম। ক্রিকেট খেলা তিনি বোঝেন না, তবে না বুঝলেও এটুকু বোঝেন জীবনে যত ভালো সময়ই আসুক না কেন ঐ নয়টি মাস কিছুতেই ছাড়বেনা তাঁকে, সে চাইলেও পারবেনা ছাড়তে। হামিদা বেগম জানেন, রক্ত কখনো যুক্তির কথা মানে না, উৎফুল্ল মনে সে স্বাধীনতা চায়। তিনি এও মানেন, রক্ত কখনো বিকৃত হয় না। ‘‘কিন্তু’’ ভাবেন তিনি, ‘‘আমার সন্তানেরা ওদের বাবার সন্তান- যেমনি গতরে তেমনি চেহারায়, অথচ কোথায় যেন একটা স্পষ্ট ব্যবধান থেকে গেছে। ওরা জারজ সন্তান নয় তো!’’ নিজের অজান্তেই তাঁর সন্তানদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে। ভয়ে আৎকে ওঠে তাঁর মন।

রাত ১২টা, ১৬ই ডিসেম্বর। ফায়ারিং স্কোয়ার্ড থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসছে। ‘‘ওদের বাবার স্বপ্নের আজ ৩৯ বছর পূর্তি হলো। ভেতরে আমার সন্তানেরা, হাততালি আর আনন্দে ফেটে পড়ছে, পাকিস্তান বোধহয় এতক্ষণে বিশ্বকাপ জিতে নিলো।’’ ‘‘পাকিস্তান...পাকিস্তান...ওহ্ মাই পাকিস্তান...!’’

...হামিদা বেগম বুকের ক্ষতটা ঢাকবার চেষ্টা করেন। /:)/:)

এই লেখাটা অনেক দিন আগেই পড়েছিলাম এবং ভালো লেগেছিল তাই প্রিয়তে রেখেছিলাম । কিন্তু আজক নিউজ পেপার পড়ে দেখলাম আগামী কালকের পাকিস্তান এবং ইন্ডিয়ার ম্যাচের রেকর্ড সংখাক টিকেট বিক্রি হয়েছে । কেউ কেউ নাকি ২০০ টাকার খেলার টিকেট ১০০০ টাকা দিয়েও কিনছে । প্রিয় দল ইন্ডিয়া পাকিস্তানের খেলা বলেই কথা । হাজার হাজার মানুষ নাকি টিকেট না পেয়ে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছে আর বকছে ক্রিকেট বোর্ডকে । হায়রে বাঙালী :D তাই মনে পড়ে গেলো এই লেখাটির কথা । লিখেছেন মোজাফফর হোসেন ১২ ডিসেম্বর ২০১০, রাত ০২:১৬ সকাল হলেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের ম্যাচ ছিল । ভরত পাকিস্তানের ম্যাচের টিকেট নিয়ে বাঙালীর হাহাকার দেখে কপি মারতে বাধ্য হলা। এই লেখাটি পড়ার পর থেকে পাকিস্তানের সাপোর্ট কখনই করি নাই । আর ফেলানির মৃত্যুর পর থেকে ইন্ডিয়ার সাপোর্টও কোন দিন করি নাই । তাদের উপর আমার যেমন ঘৃণা জন্ম নিছে তেমন ঘৃণা সবাই করুক সেই জন্যই এই পোষ্ট দেওয়া । কপি পোষ্টের জন্য দুঃখিত
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬০তম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধায় স্মরণ বিদ্রোহী শহীদদের

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ৩০ শে জুন, ২০১৫ সকাল ১১:২৫


আজ ৩০ জুন ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬০তম বার্ষিকী। আজ থেকে প্রায় ১৬০ বছর আগে আজকের দিনে আদবাসী সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে সাঁওতালসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পথে প্রবাসে (My Pegasus)

লিখেছেন উর্বি, ৩০ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:১০

তারে বুঝাতে পারি নাই তাকে আমি কতটা ভালোবাসি


তারে বুঝাতে পারি নাই তাকে ভালবেসে হারিয়ে ফেলার ভয়ে আমি ভীত। অনেক বেশি ভীত।
কারন জীবনে যা কিছু চেয়েছি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নূহ (আঃ) সময়ের মহা প্লাবণটি সারা দুনিয়াতেই সংগঠিত হয়েছে নাকি একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংগঠিত হয়েছে ????

লিখেছেন রাঘব বোয়াল, ৩০ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৬



পৃথিবীর প্রাচীনতম একেশ্বরবাদী ধর্ম ইহুদী ধর্ম।ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ হলো মুসার শরীয়ত বা তোরাহ(তৌরাত/পেন্টাটেক/ওল্ডটেস্টামেন্ট আদিপুস্তক/পুরাতন নিয়ম)।মোট পাঁচটি গ্রন্থের সমাহার এই তোরাহ।এর প্রথমটি হলো জেনেসিস বা সৃস্টিতত্ব।এই জেনেসিসেই নোয়াহ‘র [নূহ (আ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু-রম্যঃ পেটুকের পেট

লিখেছেন আবদুর রব শরীফ, ৩০ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:৪৬

ইফতারিতে পেয়াজু, বেগুনী, ছোলা, জিলাপি, হালিম, শরবত, চা খাওয়ার পর আবার চারটা আম খেল,
.
সারাদিন রোজা ছিল ভেবে পানির বোতল সাথে বাদাম চিবোতে চিবোতে ঘুরতে বের হলো,
.
গরুর মাংস দিয়ে রাতে আরো... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলে গেলেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা মোহাম্মদ রাশেদ রানা পাপ্পু

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ৩০ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ২:৩৬


দর্শকপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা মো. রাশেদ রানা পাপ্পু ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সোমবার ভোরে সেহরি খাওয়ার পরপরই তিনি রাজধানীর লালবাগে নিজ বাসবভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কারণে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠে যাননি প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন আহমেদ ফিরোজ., ৩০ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:০৬


জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানকে টাইগারদের হোয়াইট ওয়াশ উদযাপন করতে মাঠে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এবং পুরস্কার বিতরণীর পর ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ফটোসেশনও করেছেন।

কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন