somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এর গল্প

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিষয়টা গল্প বললে কেমন যেন হয়ে যায়। তবু বলি। এটি একটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এর গল্প। আমরা তিনজন আমি, আবু হুজাইফা ভাই ও আশরাফ গত নভেম্বরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ডিপার্টমেন্টে একটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট করবো। অনেকের জন্য (যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট পেয়ে থাকে) এটা কোন সিদ্ধান্তই না। কিন্তু আমাদের জন্য এটা বিরাট একটা কিছু। কারন আমাদের বড়ভাইয়েরা গত বছর ডিপার্টমেন্টে একটা প্রোগ্রামিং কনটেস্টের আয়োজন করতে পেরেছিলো এবং সেটা ছিলো আমাদের বিভাগের প্রথম কনটেস্ট। যাই হোক মূল কথায় আসি। সিদ্ধান্ততো নিলাম, কিন্তু কাজ! স্যারদের সাথে যোগাযোগ করে দেখলাম ডিপার্টমেন্ট কোন প্রকার আর্থিক সহযোগীতা করতে পারবে না। সুতরাং আমাদেরই ও দিকটা দেখতে হবে। তারপর আছে প্রবলেম তৈরী করা, জাজমেন্ট করা। এখন আমাদের সামনে মূল যে সমস্যাটা দাঁড়ালো তা হচ্ছে আমাদের মধ্যে প্রোগ্রামিং এ আগ্রহী নেই বললেই চলে। আমি প্রথম কনটেস্ট এ প্রথম হয়েছিলাম বলে প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত সাপোর্ট দেবার ভার আমিই নিলাম। সেই নভেম্বরেই আমরা আমাদের জুনিওর দুই ব্যাচকে বলে রাখলাম যাতে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। আমরা মূলত টার্গেট করেছিলাম আমাদের জুনিওর দুই ব্যাচকে। কারন আমাদের ব্যাচে প্রোগ্রামিং ইন্টারেস্টেড কম আর বড় ভাইদের পরিক্ষা চলছে।

আমরা স্যারদের সাথে কথা বললাম। কিন্তু স্যাররা যে শিডিউল ধরিয়ে দিলো তাতে নিজেদেরই মাথা ঘুরে যাবার যোগার। আমরা চাচ্ছিলাম যাতে আমাদের অনুষ্ঠানটা খুব অনাড়ম্বরভাবে হয়। কারণ মাত্র দুইটা ব্যাচ। কিন্তু স্যার বলল যে অনুষ্ঠান হতে হবে দুইদিনের। একদিন কনটেস্ট আরেকদিন আলোচনা। বড়ভাইদের সাথে কথা বললাম। যার সাথেই বলি সেই বলে মশা মারতে কামান দাগানো হচ্ছে। কি আর করা। দিলাম ডুব।

এভাবে ডিসেম্বরের ৮ তারিখ এসে গেল। আমরা ওদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু করতেও পারছিনা কারন ডেট ঠিক না করে তো আর রেজিস্ট্রেশন আহবান করা যায়না। একদিন স্যারের সাথে দেখা। স্যার বলল কি ব্যাপার, আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি কেন? আমি অত্যন্ত সবিনয়ে বললাম যে তাদের দেয়া প্রস্তাব কারোরই মনমত হচ্ছে না। মশা মারতে কামান দাগানোর কথাও বললাম। স্যার একটু নরম হলো। বলল যেভাবে ভালো লাগে সেভাবে করতে। আমরা বললাম একটা দিন ঠিক করে দিন। স্যার অনেক ভেবেচিন্তে বললেন ২০ তারিখ করতে। আমরা রুমে এসে দেখি ব্যাপার খারাপ। ৯ তারিখে ফাইনাল প্রস্তাব স্যারকে দেখাতে হবে। স্যার হ্যাঁ বললে তখন আমরা পোস্টারিং করতে পারব। তাতে ১০ তারিখ শুক্রবার। ১১ তারিখ শনিবার যাবে পোস্টারিং করতে। আমরা সময় পাচ্ছি ১২,১৩,১৫,১৯ মোট চারদিন(মাঝখানের দিনগুলি ছুটি)। এই চারদিনে ক্যাম্পেইন করতে হবে, ছেলেমেয়েদের রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। প্রথমবার বলে আমরাই গ্রুপিং করে দেব। গ্রুপিং করতে হবে। ক্রেস্ট বানাতে হবে......... আর সবচেয়ে যে মূল ব্যাপার, প্রবলেম তৈরী করতে হবে। ল্যাবকে নেটওয়ার্কিং করতে হবে(আমাদের সফটওয়্যার ল্যাব নেটওয়ার্ক করা নেই!!!!!)। যাই হোক, ১৭ তারিখে আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের কাছে গেলাম। আগে জিজ্ঞেস করলাম আমাদের এই উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানেন কিনা। ও হরি! আমাদের সেই স্যার তাকে কিছুই বলেননি। তিনি শুধুমাত্র একবার বলেছিলেন আমরা কন্টেস্ট করতে চাই। বিভাগের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য থাকবে কিনা। তিনি তখন না করে দিয়েছিলেন। তো কি আর করা। তাকে পুরোটা আবার গোড়া থেকে বললাম। ততদিনে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে নিয়েছি। এখন স্যার বললেন যে ২০ তারিখ করা সম্ভব না। কারন তিনি ২০ তারিখে অন্য একটা ভার্সিটিতে একটা মিটিং করবেন। যাক তিনি বললেন ২১ তারিখ করতে। আমি শুধু আল্লাহ আল্লাহ করছি যাতে তিনি বেশি পিছিয়ে না দেন। কারন এটা একবার পিছালে করা টাফ হয়ে পড়বে। তো ২১ তারিখের প্রস্তাবে আমি খুশিই হলাম মন্দের ভালো বলে।

প্রবলেম তৈরী করতে গিয়ে পড়লাম মহা ঝামেলায়। ১ম বর্ষ ২য় বর্ষের পোলাপান। ডিপার্টমেন্ট এ কোনদিন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এ কোন প্রবলেম সল্ভ করতে হয়নি যা এসিএম স্ট্যান্ডার্ড। তাই দুটি তৈরি করলাম একেবেরে সহজ আর তিনটি তুলনামূলক ভাবে একটু কঠিন। যারা এসিএম প্রবলেম সলভ করেছে তাদের কাছে কোন ব্যাপারই না।

এখন সমস্যায় পড়লাম ল্যাব ঠিক করতে গিয়ে। জানলাম আমরা যেই ল্যাব এ করব বলে ভাবছি তাতে বড় ভাইদের ল্যাব পরিক্ষা চলছে। গেলাম অন্য ল্যাব এ। আমাদের গ্রূপ ১৩ টি। কিন্তু ঐ ল্যাবে আমরা টানা তিনঘন্টা কাজ করে ৩ টির বেশি কম্পিউটার ঠিক করতে না পেরে(কোনটা এক্স পি নেয়না, ভাইরাসে ভর্তি... নানান সমস্যা)। গিয়ে ধরলাম চেয়ারম্যান স্যারকে। কারন তিনি ছাড়া বড়ভাইদের পরিক্ষার স্থান পরিবর্তন করতে পারবে না কেউ। তিনি তা করলেন। কিন্তু শর্ত হচ্ছে অন্য ল্যাব এ কমপক্ষে ৭ টি কম্পিউটার সম্পূর্ণ ঠিক করে দিতে হবে যাতে পরিক্ষা নিতে সমস্যা না হয়। তারিখ ২০। কনটেস্ট ২১ তারিখ। দুইটার সময় ঐ ল্যাবের ৪ টি কম্পিউটার ঠিক করেছি তখন হঠাৎ লোডশেডিং। মনে পড়লো ঐ দিন নোটিশ দেয়া ছিল ৮ টা - ৫ টা বিদ্যুৎ থাকবে না। ডিপার্টমেন্টে ২ টা পর্যন্ত ছিল জেনারেটর। মাথা খারাপ অবস্থা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ টার পরে কোন বিভাগে খুব দরকার না পরলে ছাত্র-ছাত্রী ঢুকে না। স্যারকে গিয়ে আবার ধরলাম। স্যার থাকেন কাছেই। তিনি বললেন ৫ টার সময় আসতে। তিনি তার রুমে থাকবেন আর আমরা আমাদের কাজ করব।

যাক ৫ টা থেকে ৮.৩০ টা পর্যন্ত কাজ করে। ঐ ল্যাবে ৭ টি আর সফটওয়্যার ল্যাবে ১৪ টি পিসি রেডি করলাম। তবে কোন নেটওয়ার্ক নয়।

সকাল ৯টায় আমরা কন্টেস্ট শুরু করব। আমি আবার একটু আরলি রাইজার হিসেবে সকাল ১০ টায় ঘুম থেকে উঠি। কারন আমার ক্লাস শুরু ১০.৪০ এ। তো ঐদিন অনেক কষ্টে জেগে থেকে আশরাফকে ৮.৩০ এ ডিপার্টমেন্টে পাঠালাম। ৮.৪৫ এ আমি ডিপার্টমেন্টে যাবার জন্য পা বাড়াতে ও ফোনে বলল স্যার নাকি আমাদের ল্যাবে বড়ভাইদের পরিক্ষা নেয়া শুরু করেছেন। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যদি আজ না করতে পারি তবে ভবিষ্যতে আর করবো না। কলম, প্যাড সব কিনে ফেলেছি, সবাইকে দিয়ে দিবো। আর প্রাইজটা লটারি করে দিয়ে দিবো।

গেলাম চেয়ারম্যান স্যারের রুমে। বললাম, স্যার বলল যে, যে স্যার বড় ভাইদের পরিক্ষা নিচ্ছেন তিনি কিছুই জানেন না কন্টেস্ট এর ব্যাপারে। তিনি ব্যাবস্থা করে দিচ্ছেন। হালে পানি পেলাম।

তারপর ৯.৩০ এ আমরা বিভাগের প্রায় সব স্যারদের নিয়ে উদ্ভোদন করলাম কন্টেস্ট। স্যাররা অনেক নীতি কথা বললেন। বললেন প্রতি মাসে করার জন্য। যাক আমরা প্রাণভরে শুনলাম। আজকের টা যে হচ্ছে তা নিয়েই আমি খুশি। কন্টেস্ট চলল তিন ঘন্টা ধরে। প্রবলেম ছিলো ৫ টি। তবে কোন দলই ২ টির বেশি করতে পারেনি।

এখন একটা পয়েন্ট না বললেই নয়। তা হচ্ছে আমাদের জাজমেন্ট। আগেই বলেছি নেটওয়ার্ক করা হয়নি বলে পিসি স্কয়ার সেটাপ করতে পারিনি। এখন কি করবো? তেরটা গ্রুপের মধ্যে ১২ টা উপস্থিত। প্রত্যেকটা গ্রুপ একটা করে প্রবলেম সলভ করত আর চিৎকার করত যে গিগাবাইট গ্রুপ ২ নং প্রবলেম সাবমিট, হুজাইফা ভাই সময় লিখে নিতেন আর আমি গিয়ে প্রোগ্রাম টা দেখে আসতাম। সঠিক হলে ইয়েস না হলে নো রেজাল্ট। ৮ টা গ্রুপই ২ টা করে সলভ করেছিল। তাই আমাদের সময়ের ব্যাপার দেখে আমাদের ঠিক করতে হয়েছিলো কে কোন পজিশন।

পুরস্কার বিতরনীতে আমিও একটা পুরস্কার পেয়েছিলাম গত বছরের কনটেস্টে প্রথম হবার জন্য। গত বছরের টাও এরকম ম্যানুয়াল জাজমেন্ট ছিলো। তবে এবার আমরা জাজমেন্ট সাথে সাথেই দিয়ে দেয়ায় এত দীর্ঘসূত্রীতা করতে হয়নি।

যাক, আমি ধন্যবাদ দিই আমাদের চেয়ারম্যান স্যার কে কারন আমাদের এটা করতে তাকে অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো। যা অন্য সময়কার চেয়ারম্যান স্যাররা নিতেন না।

কেউ প্রবলেম গুলো দেখতে চাইলে দেখতে পারেন আইসিই বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লগ
ছবি দেখতে চাইলে ঢুকে পড়ুন আইসিই বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট ২০১০ ছবি গ্যালারি
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:৪৯
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×