somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাজার সমাচার________________(১) মিরপুর-১ এ একদিন

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীনব থেকে

মাজার!!!!!!!!!!!!!!!!!!
বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের একটি অতিসমাদৃত পূর্ণস্থান এই মাজার। যেখানে গেলে মানুষে সর্বসমস্যার সমাধান হইয়া যায় মর্মেয় প্রচারিত হইয়া থাকে। তো আজকে আমার মাজার ভ্রমন ও তার পরের একটি দাওয়াত নিয়ে লিখব।

জীবনে প্রথম চাকুরী করি একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন ফার্মে। ফকিরের পুলে অফিস ছিল। ঐখান থেকেই পরিচয় বিশিষ্ট চিটার বনাম সাংবাদিক তথা নারী আসক্ত নওগাঁর একটি বিশিষ্ট চলচিত্র তথা পত্রিকার উপর মহলের সাথে চেনাজানা মানিক সাহেবের সাথে। জানি না উনি এখন কোথায় আছে সেই ২০০৩ই প্রথম এবং ২০০৩ই শেষ দেখা। পত্রিকার কাজ করতে গিয়ে উনার সাথে প্রথম পরিচয় এবং পরিচয় থেকেই ঘনিষ্টতা।

১। অফিস থেকে বের হয়ে রুমে ঢুকে জামা কাপড় ছাড়ব বলে পাইচারী করছি ফকিরের পুলের বাসায়। কলিং বেলের বাজনায় দরজা খুলেই- দেখি ঘারে ক্যামেরা নিয়ে দাড়িয়ে- সোজা চল আজ মাজারে যাব, কাল আমার আব্বার মৃত্যু বার্ষিকি। বললাম ভাই খাওয়া দাওয়া করি নাই দুইডা ভাত খাইয়া লই আর আমি তো এই সব মাজারে ফাজারে যায় না, উনার পিড়াপিড়ি- বলল চল মগবাজার মড় থেকে দুই জন একসাথে খাব।

যা হোক ঘোরাঘুরির শখও আমার প্রচুর। এলাকার মাজার ছাড়া ঢাকা শহরের মাজার সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নাই। নিচে এসে দিখি তার টেক্সি দাঁড়িয়ে। সে নিজেই ড্রাইভ করছে। মগবাজার থেকে দুই জন খেয়ে সোজা চলে এলাম মিরপুর-১ মাজারে। রাত সাড়ে নয়টার উপড়ে। মাজারের মেই ফটকের পাশ থেকে আগরবাতি, গোলাপজল, মোমবাতি ইত্যাদি ক্রয় করে প্রবেশ করলাম মাজারে। জুতা খুলে ভিতরে মাজারে প্রবেশ করে কবরে শিজদা করে পেছন মুখি হয়ে বেড় হলেন, আমি ভিতরে না যাওয়াতে কিছুটা রাগান্বিতও হলেন। বলল চল ঘুরে দেখায়। চত্তর আমাকের ঘুরি দেখালেন- দেখলাম গোল হয়ে নারীপুরুষ মিলে কাওলী না কি গান গাচ্ছে। শেষে নিয়ে গিয়ে বসলেন একটি দলের কাছে।

দলে বিশাল ভুড়িওয়ালা একটি লোক তার পাশে দুই ১৬/২০বয়সী নারী হাত টিপে দিচ্ছিলেন। আর ২ জন ৩৫/৪০ বছর বয়সী মহিলা (চুলে জট ধারা) পাশে বসে। সোজা গিয়ে ভুড়িওয়ালা লোকের কাছে বসলেন। কথা শুরু হল আমাকে নিয়ে। আমি বিশ্বাস করি না এই নিয়ে। পাশের মেয়েটি বলল সবই বিশ্বাস। বিশ্বাস না থাকলে কিছু হয় না। বিশ্বাসেই মিলাই বস্তু। তাদের কৃত্তিকলাপ দেখে খুব খারাপ লাগল, সব শেষে যখন ফিরব তখন দেখি রাত ১টার উপরে। বলল চল আমার সাতে হোটেলে থাকবি। দুজনে রাত কাটালাম সেগুনবাগিচা- হোটেল নিউ চিটাগাং এ।

২। একদিন মাজার ভক্ত এক বিশেষ জনের দাওয়াতে গেলাম উনারিই সাথে ট্যাপড়া (পাটুরিয়া থেকে ৬ কিমি আগে) একবাড়ীতে। সেখানে উপস্থিত হবেন বিশিষ্ট মাজার ভক্ত একগুরু। তার জন্য চলছে নানা আয়োজন। ড্রয়ইরুমে মেষেতে পাতা হয়েছে তার জন্য বিশেষ গোলাকার বিছানা। হাতে কাজ করা, প্রথমেই সাবধান করলেন বাড়ীর কর্তী বয়স (২০/২৫) গুরুজির বিছনা পা দেয়া যাবে না। বাড়ীর ভেতরে পেলাম দেখতে পেলাম আরে ৩জন মহিলাকে। সবচাইতে আকর্ষণীয় হল যিনি গুরুজিকে সেবা করবেন তিনি। সাদা কাপড় পড়নে, কোন পেটিকোন ব্লাউজ নাই। তার বর্ণনা না হয় নাই করলাম।

বসতে দিল সোফায় অতি সাবধানে বসলাম গুরুজির বিছানা এড়িয়ে। রাত ৯/১০ঘটিকার দিকে আসলেন গুরুজি। হুলুস্থুল কারবার ঘটে গেল। গুরুজি কে ক্ষেতে দিলেন প্রথমেই দুধ। সেবিকা তার পায়ে মাথা ঠুকে সেজদা করলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে আর্শিবাদ করলেন। গল্প আড্ডা রং তামাশা চলল রাত ২টা পর্যন্ত প্রায়। আমি কোথায় থাকব সেই নিয়ে শুরু হল কথা, একজন বলল গুরুজির কাছে ঘুমাতে। বাড়ীর কর্তী জ্বিহবায় কামড় দিয়ে বললেন- কি বলে যদি গায়ে পা লাগে। অগ্যত গুরুজি বললেন উনি মেঝেতেই উনার আসনে ঘুমবেন। আমি বললাম তা হলে আমি ঘুমায়; বলল তুই ঘুমা। আমি চোখ বন্ধ করলাম, কান খোলা রেখে- কি বলে গুরুজি শোনার জন্য। এখন সেবিকা মেয়েটিকে কাছে ডাকলেন- আর মেয়েটি এসে গুরুজির পাশে গায়ের সাথে গা লাগিয়ে শরীর টিপে দিতে লাগলেন। নিজের বগলের তলা দিয়ে দেখলাম সেই দৃশ্য। বেশী খন দেখার সময় পেলাম না, ঘুমিয়ে পড়লাম, কারণ আমি কখনই রাত জাগতে পারিনা সর্বোচ্চ রাত ১১টা, এর এখানে তো প্রায় ২/৩০। সকাল বেলা আরেক নুতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম। সেবিকা ও গুরুজি পূর্ণস্নন করে ছে ভোরেই। সেকিা নুতুন বেশে শরীর টিপে দিচ্ছে।

বাড়ীর কত্তাও গোসল কেরেছে সেই ভোরেই হয়তো। কত্তীও মহিলা আগত আরো ৩জন মহিলার পড়নে শুধু ব্লাউজ আর পেটিকোট, সন্নাসীর মত চুল সামনে বুকের দিয়ে রেখেছে। কত্তী কড়া চোখে তাকালেন এখনও ঘুমাস (একদিনের পরিচয়েই মনে হচ্ছে কত দিনের)। তাড়া তাড়ি গোসল করল। গোসল সেড়ে আসতেই খেতে দিলেন। খাওয়া শেষে উনিও গুরুজির গা ঘেসে বসে- গা টিপতে টিপতে আদুরে সুরে বললেন- গুরুজি আমার এই ভাইটি এই সব সয্য করতে পারে না, ওর একটা ছোবক দেন। গুরুজি বললেন উনার মিরপুরের বাসায় নিয়ে যেতে। আজ উনার মুড ভাল নেই উনি ধ্যান করবেন। গুরুজি ও সেবিকা ধ্যান করলেন উনাদের পাশের রুমে, যেখানে কারো প্রবেশ নিষেধ। গুরুজির প্রবেশের জন্য বিছিয়ে দেয়া হল সাদা ধুতি। তার উপর দিয়ে ত্রিশুল হাতে গুরুজি প্রবেশ করলেন পেছনে পেছনে সেবিকাও।

বিশেষ তাড়া আছে বলে বিআরটিসি বাসে উঠে চলে এলাম বাসায়। তারপর আর যাওয়া হয় নাই কোন দিন।

বিশেষ তাড়া আছে বলে বিআরটিসি বাসে উঠে চলে এলাম বাসায়। তারপর আর যাওয়া হয় নাই কোন দিন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৮
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×