আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সহজিয়া দর্শন - ১

০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৫৪

শেয়ারঃ
0 0 0

[ছুটির দিন, কাজকাম নাই; একটু দর্শন কপচাই; উচ্চমার্গের কিছু খুঁজিলে, এখানে ঢুইকা লাভ নাই]

ইউনিভার্সিটি লাইফে বিভিন্ন দেশের(বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড) বন্ধুরা মিলে একটা ক্রিকেট ক্লাব করেছিলাম; ছুটির দিনে সবাই একসাথে খেলতাম, গালগল্প করতাম।

অস্ট্রেলিয়ান একবন্ধু ছিল, নাম টিম। ভাল বোলার-ব্যাটসম্যান। আমি নামতাম শেষের দিকে, হাতে স্ট্রোক ছিল, দুচারটা চার-ছয় মেরে অনসাইডে ক্যাচ দিয়ে ফিরতাম।

তো একবার আমাদের দলের ছয় উইকেট পড়ে গেল ধুপধাপ করে; নামলাম ব্যাট করতে। ক্রিজে তখন টিম। আমাদের অনেক রান করতে হবে তখনও, আমার পরে বাকী যারা আছে তারা প্রতিম্যাচেই ব্যাট কিভাবে ধরতে হয় এব্যাপারটাতে ধাতস্থ হতে হতেই আউট হয়ে যায় - এমন টাইপের।
কাজেই, আমার ঠুসঠাস আউট হওয়া চলবেনা!!

টিম এসে আমাকে বলল, 'বল-বাই-বল খেল। মোট কত রান নিবা সেটা ভাবার দরকার নেই, যাস্ট ভাব যে পরের বলটা টিকে থাকব, লুজ বল হলে রান নিব। পরের বল গেলে, এর পরের বল নিয়েও একই চিন্তা কর। '

একদম সেইভাবে খেললাম, সব মনোযোগ শুধু পরের বলটার প্রতি। আমার সাধারণত ১০-১২ বলের বেশী খেলা হতোনা, সেদিন ৩৫ বল খেললাম। লাইফের একমাত্র ফিফটিও সেদিন আসল।

খেলাশেষে হয় খেলার পর্যালোচনা; আমি রীতিমতো টিমের মন্ত্রে মুগ্ধ। ব্যাপারটা নিয়ে এটাসেটা বলছি। হঠাৎ টিম ামাকে বলল, 'ম্যান, লাইফ ইটসেলফ ইজ লাইক দ্যাট। শুধু আগামীকালের দিকে ফোকাস কর, আগামী বছর কি হবে টা নিয়ে এখনই এত ভাবার কিছু নেই। আগামীকালগুলো ভাল হলে, আগামীবছরটা এমনেই ভাল হবে।'

আমার মুগ্ধতা বেড়েই চলল। বললাম,'কোথায় শিখেছ এত চমৎকার দর্শন?'
সে বলল, 'আমার স্কুলে এক চমৎকার শিক্ষক ছিলেন।'

ওদের স্কুলিং সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানলাম। মনে হলো খুব জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলো শিখে।
আমাদের মতো 'ভবিষ্যতে হ্যান হয়ে ফাটাইয়া ফেলব, ত্যান করে উড়াইয়া ফেলব' - এসব শিখেনা। খুব কাছের বিষয়গুলোতে ফোকাস থাকে, বাচ্চারা ক্লাসে যা শেখে নিজের জীবনে তা দেখতে পায় সরাসরি।

জাপানে বাচ্চারা প্রত্যেক ক্লাসে অন্তত একবার নিজের বাবার উপরে একটা, মায়ের উপরে একটা লেখা লেখে।
আমাদের দেশে রচনার বিচারে হয়ত লেখাগুলো খুবই সাধারণ মানের, ১০ এ ৩ ও পাবেনা।

কিন্তু তাতে কি?

হরলাল রায়ের বই থেকে 'মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য' কোটেশানসহ মুখস্থ করার চেয়ে নিজের-আরও-অনেক-ঘনিষ্ট বাবা-মা সম্পর্কে নিজে থেকে দু-চারলাইন লিখলেই বরং নিজের বাবা-মার প্রতি সন্মানটা অনেক বাড়ে।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:০১
আরশাদ রহমান বলেছেন: আমাদের ইস্কুল গুলোতে বই এর বাইরে কিছু লিখে কি হয় আমার অভিজ্ঞতা আছে......খুব ভালো না.....:)
৩. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৩
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: হা হা হা :)
আরশাদ ভাই, শেয়ার কইরেন।
আসলেই প্যাথেটিক।
৫. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৪
পথচারী বলেছেন: আমি আজীবন বইয়ের বাইরে লিখে এসেছি.....লিখতে হবে তো চারপাশ থেকেই
৬. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৯
মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন: হাত দিলে তো দেশের সব কিছুতেই ঘাপলা পাওয়া যাবে, তো এখন করণের আছে টা কি???

পইড়া কিছু ভাল উপদেশ পাইলাম, আপনাকে ধন্যবাদ।
৭. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:১৯
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ@এরশাদ ভাই
একটা চায়নীজ প্রবাদ আছে (প্রবাদ না ঠিক, জিয়াও জে মিন জনগনের উদ্দেশ্য বলেছিলেন) যেটার অর্থ অনেকট এরকম
পড়শীর সাথে তুলনা করোনা, বরং গতকালের চেয়ে আজ কিছুটা হলেও ভাল আছ কিনা সেটা তুলনা করো।
৮. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৬
মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন: হ বুঝলাম....

কতটা ভাল হলে ভাল বলা যায়, এটা পরশীল সাথে তুলনা না করলে বুঝব কেমনে??
আমি তো রিপাবলিকান। এই সব মাও বাদী বামপন্থী আমার অসহ্য এলারজি আছে।
৯. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: হা হা হা ... এটা মাওবাদী জটিল দর্শন না ... সহজ জিনিস।

গতকালের চেয়ে আজকে ভাল থাকলেই কি ভাল বলার জন্য যথেষ্ট না?

পড়শীর অবস্থা যদি আপনার চেয়ে অনেক খারাপ হয় তখন কি আপনি আপনার নিজের অবস্থার উন্নতি করা ছেড়ে দেবেন?
১০. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩৯
মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন: তখন পড়শীরে ভিটা ছাড়া করব...মাসল পাওয়ার দেখাইতে হবে..এইটাই নিয়ম..
১১. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:৪৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: হা হা হা ... ভাল কইছেন ... পুরা এরশাদ
১২. ০৬ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০২
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: এটা আমার সবচেয়ে নিকট অতীতের উপলব্ধি। ওই ভদ্রলোক জানলো কেমনে?
১৩. ০৬ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: তাই নাকি@ সন্ধ্যাবাতি ...
মজার তো!! ... ঐ লোকওতো অস্ট্রেলিয়ান
১৪. ০৬ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮
আলভী বলেছেন: সহজ করে বলা সহজিয়া দর্শন ভাল লাগল।
১৬. ০৬ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৭
প্রজাপতি বলেছেন: জাভেদ ওমর গোল্লার কথা মনে পড়লো কেন? :-(
১৭. ০৬ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৯
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: হা হা হা @ প্রজাপতি ...
স্লো এন্ড স্টিডি, উইনস ...

আমি কিন্তু গোল্লারে টিমে রাখার পক্ষে ...
১৮. ০৭ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪১
অচেনা বাঙালী বলেছেন: আমিও গোল্লারে টিমে রাখার পক্ষে।

আজকে এই পোস্ট টাই ভাল লাগলো পড়তে। ধন্যবাদ।
১৯. ০৮ ই মে, ২০০৭ সকাল ৮:২৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: এত বড় কমপ্লিমেন্ট!!
অসংখ্য ধন্যবাদ@অচেনা বাঙালী
২০. ১০ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:১৯
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: অচেনা বাঙালী, জাভেদ ওমর আজকে ভাল খেলছে
২১. ১০ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪৬
অচেনা বাঙালী বলেছেন: সেজন্যই আমিও ওকে দলে রাখতে চাই। একজন থাকতে হবে একসাইড ধরে রাখার জন্য। রান কিছুটা কম হলেও হাতে উইকেট থাকলে শ্লগ ওভারে পিটিয়ে রান বাড়ানো যায়।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭১১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ