স্বর্গে সেদিন সেইন্ট পিটারের মন ভাল না।
গত কয়েকদিন যাবৎ বিচার-বাছাই করে করে লোকজনকে হয় স্বর্গে ঢুকতে দিয়েছেন, না হয় নরকের সেইন্ট ক্লিনটনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তো পিটার ঠিক করলেন আজ খুব সহজ বিচার করবেন; সবার মৃত্যুর ঘটনা শুনবেন, তারপর যদি মনে হয় 'আহা বেচার!' তাহলে স্বর্গ আর কিছু মনে না হলে ক্লিনটনের কাছে।
১.
১ম লোক এল। নাম জন থান্ডারবোল্ট।
কিভাবে মৃত্যুবরন করিয়াছ, বাছা জন?, পিটার জিজ্ঞেস করলেন।
জন বর্ণনা শুরু করল,জানেন ফাদার, আমার মনে হয় আমার মতো এত কষ্ট পেয়ে আর কেউ মারা যায়নি।
কি রকম?
জন বলল, আমার প্রতিবেশিনী মিস উডস সেদিন সকালে আমার অফিসে ফোন করে বলল, 'জন তোমার ওয়াইফ একটু আগে তার বয়ফ্রেন্ডটাকে নিয়ে বাসায় ঢুকল। জলদি আসো, হাতেনাতে ধরতে পারবে' শুনে আমি টেলিফোন রেখেই ঝড়ের গতিতে অফিস থেকে বাসায় চলে এলাম। আমার ফ্ল্যাটটা ২৫ তলায়, পুরোটা সিড়ি ভেঙে দৌড়ে উঠেছিলাম! আমার হার্টবিট তখন ১৫০!! কিন্তু, ঘরে ঢুকে দেখি সব ঠিকঠাক। কেউ এসেছে বোঝার উপায় নাই। আমার স্ত্রী লিসা আমাকে বারবার বোঝাতে চাইল যে কিছুই হয়নি। তাও আমি সারাঘর তন্নতন্ন করে খুঁজলাম। যখন কিছুই পেলাম না, তখন গেলাম বারান্দায়। নাহ সেখানেও কিছু নেই। আবার ঘরে ঢুকব, ঠিক তখনই দেখলাম বারান্দার এককোণায় রেলিংয়ের উপর একটা হাত। গিয়ে দেখি, হারামজাদা রেলিং ধরে বাইরের দিকে ঝুলে আছে। আমি ঘরে ঢুকে একবার অগ্নিদৃষ্টিতে লিসার দিকে তাকালাম, সে যেন কিছুই বুঝলনা!! আমি বাসার সবচেয়ে ভারী হাতুড়িটা এনে হারামজাদার হাতের উপর দমাদম বাড়ি দিতে লাগলাম। ব্যাটার কই মাছের প্রাণ!! কোন ভাবেই ছাড়েনা, আমিও ছাড়িনা। গোটা বিশেক বাড়ির পর ব্যাটা আর পারলনা, রেলিং ছেড়ে ২৫ তলা থেকে নীচে পড়ে গেল। নীচে তাকিয়ে দেখি একটা ঝোপের উপর পড়ে হাত-পা নেড়ে কাতরাচ্ছে, মানে মরেনি। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ফাদার? কেমন কই মাছের প্রাণ! আমিও ছাড়বার পাত্র নই, হে হে। বাসার বিশাল ভারী ফ্রিজটা তুলে এনে ২৫ তলা থেকে ফেলে দিলাম ব্যাটার উপর। তারপর তার আর বাঁচার কথা না।
কিন্তু যা হবার হয়ে গেল। এত বেশী এক্সাইটমেন্টের কারণে আমি নিজেই হার্টফেল করে বসলাম, তারপর তো এইপারে।
জন কথা শেষ করে হাঁপাতে লাগল।
ফাদার দেখলেন, জন মানুষ মারলেও সেটা ছিল ইনোসেন্ট ক্রাইম। তিনি বললেন, ঠিক তোমার মৃত্যুটা খুব করুণ। যাও তুমি স্বর্গে প্রবেশ কর।
২.
২য় জন এল, নাম টেরী স্পোর্টসওয়াটার।
ফাদার উদারকন্ঠে বললেন, বাছা টেরী বলে যাও তোমার মৃত্যুকাহিনী।
টেরি বলা শুরু করল, আমার এত করুণ মৃত্যু হয়েছে যে আমি ঈশ্বরকে একবার জিজ্ঞেস করতে চাই কেন এই অবিচার আমার প্রতি!
আগে কাহিনীটা তো শুনি!, একটু বিরক্ত ফাদার।
টেরী বলে চলল, আমি স্পোর্টস পছন্দ করি। সেদিন অফিস ছুটি নিয়েছিলাম। আমার ২৬ তলা ফ্ল্যাটের বারান্দায় এরোবিকস করছিলাম মনের আনন্দে। এরোবিকসের সময় আমি মাঝে মাঝে বারান্দার রেলিংয়ে উঠে ব্যালান্স রক্ষার প্রাকটিস করতাম, সেদিনও করছিলাম। হঠাৎ পা পিছলে আমি পড়ে গেলাম, নীচে তাকিয়ে দেখি ২৬ তলা নিচে গ্রাউন্ড। আমার তড়িত রিফ্লেক্স কাজ কাজ করল, কারণ আমি ভাল স্পোর্টসম্যান। খপ করে এক হাতে আমার নিচের তলার ফ্ল্যাটের রেলিং ধরে ফেললাম। ঝুলে থাকতে থাকতে নিজের শরীরকে মানিয়ে নিচ্ছিলাম, ঠিক সে সময়েই ২৫ তলার বাসার বদ্ধউন্মাদটা আমাকে দেখে রক্তচক্ষু করে ফেলল। তারপর ঘর থে ইয়া গদা সাইজের এক হাতুড়ি এনে দমাদম বাড়ি দিতে লাগল, আমি কিছু বলারও অবকাশ পাচ্ছিলামনা। উন্মাদটা শুধু বলছিল, 'পাপের শাস্তি ভোগ কর!' আমি বুঝতে পারছিলামনা আমার পাপটা কি! যাইহোক হাতুড়ির আঘাত সইতে না পেরে আমি রেলিং ছেড়ে নিচে পড়া শুরু করলাম। নিচের ঝোপকে টার্গেট করে যথাসম্ভব নিজের শরীরকে ঘুরিয়ে সেখানে ফেললাম, এবং বেঁচে গেলাম। কিন্তু তখনই হতচ্ছাড়া ম্যানিয়াকটা একটা বিশাল সাইজের ফ্রিজ আমার উপর ফেলল। তারপর তো এখানে।
ফাদার ভেবে দেখলেন, টেরী পুরো নির্দোষ। তিনি বললেন, যাও তুমি সবচেয়ে ভাল স্বর্গটাতে গিয়ে ওঠ।
পরপর দুজনকে স্বর্গে পাঠাতে পেরে ফাদার খুব খুশী।
৩.
৩য় জন এল, নাম ডন ক্লিনটন।
বল বাছা ডন, কিভাবে মারা গেলে।
ডন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগল, সে এক করুণ কাহিনী ফাদার। কল্পনা করুন, আপনি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় একটা ফ্রিজের মধ্যে লুকিয়ে আছেন ....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

