somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাইপাশ - ৩

২৬ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বর্গে সেদিন সেইন্ট পিটারের মন ভাল না।
গত কয়েকদিন যাবৎ বিচার-বাছাই করে করে লোকজনকে হয় স্বর্গে ঢুকতে দিয়েছেন, না হয় নরকের সেইন্ট ক্লিনটনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তো পিটার ঠিক করলেন আজ খুব সহজ বিচার করবেন; সবার মৃত্যুর ঘটনা শুনবেন, তারপর যদি মনে হয় 'আহা বেচার!' তাহলে স্বর্গ আর কিছু মনে না হলে ক্লিনটনের কাছে।

১.
১ম লোক এল। নাম জন থান্ডারবোল্ট।
কিভাবে মৃত্যুবরন করিয়াছ, বাছা জন?, পিটার জিজ্ঞেস করলেন।

জন বর্ণনা শুরু করল,জানেন ফাদার, আমার মনে হয় আমার মতো এত কষ্ট পেয়ে আর কেউ মারা যায়নি।

কি রকম?

জন বলল, আমার প্রতিবেশিনী মিস উডস সেদিন সকালে আমার অফিসে ফোন করে বলল, 'জন তোমার ওয়াইফ একটু আগে তার বয়ফ্রেন্ডটাকে নিয়ে বাসায় ঢুকল। জলদি আসো, হাতেনাতে ধরতে পারবে' শুনে আমি টেলিফোন রেখেই ঝড়ের গতিতে অফিস থেকে বাসায় চলে এলাম। আমার ফ্ল্যাটটা ২৫ তলায়, পুরোটা সিড়ি ভেঙে দৌড়ে উঠেছিলাম! আমার হার্টবিট তখন ১৫০!! কিন্তু, ঘরে ঢুকে দেখি সব ঠিকঠাক। কেউ এসেছে বোঝার উপায় নাই। আমার স্ত্রী লিসা আমাকে বারবার বোঝাতে চাইল যে কিছুই হয়নি। তাও আমি সারাঘর তন্নতন্ন করে খুঁজলাম। যখন কিছুই পেলাম না, তখন গেলাম বারান্দায়। নাহ সেখানেও কিছু নেই। আবার ঘরে ঢুকব, ঠিক তখনই দেখলাম বারান্দার এককোণায় রেলিংয়ের উপর একটা হাত। গিয়ে দেখি, হারামজাদা রেলিং ধরে বাইরের দিকে ঝুলে আছে। আমি ঘরে ঢুকে একবার অগ্নিদৃষ্টিতে লিসার দিকে তাকালাম, সে যেন কিছুই বুঝলনা!! আমি বাসার সবচেয়ে ভারী হাতুড়িটা এনে হারামজাদার হাতের উপর দমাদম বাড়ি দিতে লাগলাম। ব্যাটার কই মাছের প্রাণ!! কোন ভাবেই ছাড়েনা, আমিও ছাড়িনা। গোটা বিশেক বাড়ির পর ব্যাটা আর পারলনা, রেলিং ছেড়ে ২৫ তলা থেকে নীচে পড়ে গেল। নীচে তাকিয়ে দেখি একটা ঝোপের উপর পড়ে হাত-পা নেড়ে কাতরাচ্ছে, মানে মরেনি। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ফাদার? কেমন কই মাছের প্রাণ! আমিও ছাড়বার পাত্র নই, হে হে। বাসার বিশাল ভারী ফ্রিজটা তুলে এনে ২৫ তলা থেকে ফেলে দিলাম ব্যাটার উপর। তারপর তার আর বাঁচার কথা না।
কিন্তু যা হবার হয়ে গেল। এত বেশী এক্সাইটমেন্টের কারণে আমি নিজেই হার্টফেল করে বসলাম, তারপর তো এইপারে।
জন কথা শেষ করে হাঁপাতে লাগল।

ফাদার দেখলেন, জন মানুষ মারলেও সেটা ছিল ইনোসেন্ট ক্রাইম। তিনি বললেন, ঠিক তোমার মৃত্যুটা খুব করুণ। যাও তুমি স্বর্গে প্রবেশ কর।

২.
২য় জন এল, নাম টেরী স্পোর্টসওয়াটার।
ফাদার উদারকন্ঠে বললেন, বাছা টেরী বলে যাও তোমার মৃত্যুকাহিনী।
টেরি বলা শুরু করল, আমার এত করুণ মৃত্যু হয়েছে যে আমি ঈশ্বরকে একবার জিজ্ঞেস করতে চাই কেন এই অবিচার আমার প্রতি!
আগে কাহিনীটা তো শুনি!, একটু বিরক্ত ফাদার।
টেরী বলে চলল, আমি স্পোর্টস পছন্দ করি। সেদিন অফিস ছুটি নিয়েছিলাম। আমার ২৬ তলা ফ্ল্যাটের বারান্দায় এরোবিকস করছিলাম মনের আনন্দে। এরোবিকসের সময় আমি মাঝে মাঝে বারান্দার রেলিংয়ে উঠে ব্যালান্স রক্ষার প্রাকটিস করতাম, সেদিনও করছিলাম। হঠাৎ পা পিছলে আমি পড়ে গেলাম, নীচে তাকিয়ে দেখি ২৬ তলা নিচে গ্রাউন্ড। আমার তড়িত রিফ্লেক্স কাজ কাজ করল, কারণ আমি ভাল স্পোর্টসম্যান। খপ করে এক হাতে আমার নিচের তলার ফ্ল্যাটের রেলিং ধরে ফেললাম। ঝুলে থাকতে থাকতে নিজের শরীরকে মানিয়ে নিচ্ছিলাম, ঠিক সে সময়েই ২৫ তলার বাসার বদ্ধউন্মাদটা আমাকে দেখে রক্তচক্ষু করে ফেলল। তারপর ঘর থে ইয়া গদা সাইজের এক হাতুড়ি এনে দমাদম বাড়ি দিতে লাগল, আমি কিছু বলারও অবকাশ পাচ্ছিলামনা। উন্মাদটা শুধু বলছিল, 'পাপের শাস্তি ভোগ কর!' আমি বুঝতে পারছিলামনা আমার পাপটা কি! যাইহোক হাতুড়ির আঘাত সইতে না পেরে আমি রেলিং ছেড়ে নিচে পড়া শুরু করলাম। নিচের ঝোপকে টার্গেট করে যথাসম্ভব নিজের শরীরকে ঘুরিয়ে সেখানে ফেললাম, এবং বেঁচে গেলাম। কিন্তু তখনই হতচ্ছাড়া ম্যানিয়াকটা একটা বিশাল সাইজের ফ্রিজ আমার উপর ফেলল। তারপর তো এখানে।

ফাদার ভেবে দেখলেন, টেরী পুরো নির্দোষ। তিনি বললেন, যাও তুমি সবচেয়ে ভাল স্বর্গটাতে গিয়ে ওঠ।

পরপর দুজনকে স্বর্গে পাঠাতে পেরে ফাদার খুব খুশী।

৩.
৩য় জন এল, নাম ডন ক্লিনটন।
বল বাছা ডন, কিভাবে মারা গেলে।
ডন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগল, সে এক করুণ কাহিনী ফাদার। কল্পনা করুন, আপনি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় একটা ফ্রিজের মধ্যে লুকিয়ে আছেন ....
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×