আমি বিড়বিড় করে বললাম, 'বুঝানের লাইগাই তো তাকাইয়া আছি।'
যাই হোক, মেয়েটা তাকায়নি, টের পায়নি হয়ত; অথবা সিক্সথ সেন্স অন্য কোনখানে কাজ করছিল।
**************************************
যাই হোক, বইমেলায় বা সেরকম আড্ডায় গেলে তরুন-তরুনীদের মাঝে প্রচুর চোখাচোখি হয়; শুধু তাইনা, আজকাল বুড়ো-বুড়িরাও নাকি চোখাচোখি করে থাকেন। কেউ আপনার দিকে তাকালে, আপনি অনেক মানুষের ভীড়েও সহজে খেয়াল করেন, তাইনা?
ব্যাপারটা আরও ভাল ব্যাখ্যা করা যায় ডিস্কোর উদাহরন দিলে; আলো-আঁধারীতে নাচছে অসংখ্য নারী পুরুষ, এর মাঝে ঠিকই বুঝে যায় কেউ দৃষ্টি বিনিময় করল কিনা, ড্রিংকস হাতে নিয়ে হাজির হয়ে যায়, নাচের অফার চলে।
প্রশ্ন হলো, এত মানুষের ভীড়ে অমন ছোট চোখ আমরা কিভাবে খেয়াল করে ফেলি? আমাদের মানুষের ভিজু্য়াল সিস্টেম কি এতই উন্নত? এরকম ভীড়ে, বিশাল ক্যানভাসে (চোখ মেলে তাকালে সামনে যতটুকু দেখা যায় সবটুকুই তো একটা ক্যানভাস) ছোট্ট দুটো চোখ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, সেটা আপনার চোখ এড়ায়না!
উপরের ছবিটি দেখুন।
প্রথমে খেয়াল করুন, (এ) আর (বি) এর চোখজোড়াদুটোর কোনজোড়া আপনার দিকে তাকিয়ে আছে?
তারপর আবার খেয়াল করুন, (সি) আর (ডি) এর বেলায় কে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে?
এখন নিশ্চয়ই আপনি ধরে ফেলেছেন, উপরের চোখদুটো নিচের মুখেরই অংশ, এবং যখন পুরো মুখটা দেখা যাচ্ছে তখন আপনার পক্ষে বোঝা অনেক সহজ যে কে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।
ভাল করে খেয়াল করুন, তাহলে দেখবেন উপরের চোখজোড়াদুটো আসলে একই রকম।
তারমানে, শুধু চোখ দেখে বোঝা যায়না যে কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে নাকি নেই!!
আচ্ছা, আপনার কি এখন মনে হচ্ছে যে (এ) এর চোখজোড়া আপনার দিকে তাকিয়ে নেই, কিন্তু (বি) এর চোখজোড়া তাকিয়ে আছে?
আবার, আপনি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন যে উপরের (এ) আর (বি) এর চোখজোড়াদুটোতে সুক্ষ্ণ পার্থক্য আছে; তাহলে আপনাকে বলি, আসলে সামান্য পার্থক্য আছে। তবে, (এ) এর চোখজোড়া হলো (ডি)এর মুখ থেকে নেয়া, (বি) এর চোখজোড়া হলো (সি) এর মুখ থেকে নেয়া।
কাজেই শুধু চোখ দেখে বোঝা যায়না কে কোনদিকে তাকিয়ে আছে, বরং মুখের, আরও পরিষ্কার করে বললে চোয়ালের ওরিয়েন্টেশন থেকেই বলা যায় সবচেয়ে ভালভাবে বলা যায় কে কোনদিকে তাকিয়ে আছে।
মনোবিদ্যার গবেষক স্টিফেনল্যাংটন এবিষয়টি নিয়ে গবেষনা করছেন, বেশ মজার। তাঁর প্রাথমিক গবেষণায় তিনি এক্সপেরিমেন্ট করে দেখিয়েছেন যে (যেখানে তিনি প্রচুর মানুষের মুখের ছবি আর শুধু চোখের ছবি দেখিয়ে সার্ভে করেছেন মানুষ ঠিকমতো তাকানোর দিক বুঝতে পারে কিনা),
১. চোখ না, বরং মানুষের সম্পুর্ণ মুখের ছবি দেখলে বোঝা যায় যে সে কোনদিকে তাকিয়ে আছে।
২. এমনকি মুখের ছবি না, কালো কাগজের উপর শুধু সাদা রং দিয়ে মুখের আকৃতি (সিলহেট) এঁকে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখিয়েছেন যে মুখের আকৃতি চোখের চেয়ে অনেক শক্তিশালী 'তাকানোর দিক' নির্ণয়ে।
যেমন, জন্মের ৬ মাস পর শিশুরা কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে কিনা সেটা শুধু বুঝে মুখের ওরিয়েন্টেশন থেকে, চোখের গতি থেকে কেউ তাকিয়ে আছে কিনা তা তারা ধরতে পারে প্রায় এক বছর বয়েসে।
এখন প্রশ্ন হলো কি কাজে লাগবে এই রিসার্চ?
অনেক কাজেই লাগবে, তবে চোখাচোখির সায়েন্স যেহেতু, দুষ্টু কাজের কথাই চিন্তা করি।
১. রিক্সায় প্রেয়সীর পাশে বসেও অন্য মেয়েদের দিকে তাকানো ছেলেদের স্বভাবজাত অভ্যাস, দে কান্ট হেল্প ইট। শুধু খেয়াল রাখবেন, প্রেয়সী/বউ যেপাশে বসে আছে সেদিকে মুখ ঘুরিয়ে যত ইচ্ছা মেয়ে দেখুন, টের পাবেনা, অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে ফুল দেখলেও এ্যালার্ট হয়ে যাবে

২. ক্লাসে মন বসছেনা, স্যারের দিকে শুধু মুখ ঘুরিয়ে রাখুন, ডানে-বামে-নীচে যেখানে সুবিধে হয় গল্পের বই রেখে দেদারসে পড়ে যান।
৩. (এটা আমি সবসময়েই করি, আমরা সবাই করি) কার্ডখেলায় ... এর বেশী কিছু বলার দরকার নেই

তো আপনাকে যে ব্যাপারটায় এক্সপার্ট হতে হবে, তা হলো 'টেরিয়ে তাকানো' ...
ডানে বামে চোখের গোলকটাকে প্রতিদিন ২০বার করে ঘুরান ... এতে নাকি চোখেরও উপকার হয় ...তাহলে আর দেরী কেন ... লেটস স্টার্ট!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



