আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সায়েন্সব্লগ ১: চোখাচোখির বিজ্ঞান

১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় প্রথম যেদিন সুন্দরী এক মেয়েকে দেখে ভ্যাবলা চোখে ক্যাবলাকান্তের মতো চেয়ে ছিলাম, তখন একবন্ধু গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলল, 'অমনে তাকাইসনা হাঁদারাম! মেয়েদের সিক্সথ সেন্স খুব স্ট্রং; বুইঝা ফালাইব।'
আমি বিড়বিড় করে বললাম, 'বুঝানের লাইগাই তো তাকাইয়া আছি।'
যাই হোক, মেয়েটা তাকায়নি, টের পায়নি হয়ত; অথবা সিক্সথ সেন্স অন্য কোনখানে কাজ করছিল।

**************************************
যাই হোক, বইমেলায় বা সেরকম আড্ডায় গেলে তরুন-তরুনীদের মাঝে প্রচুর চোখাচোখি হয়; শুধু তাইনা, আজকাল বুড়ো-বুড়িরাও নাকি চোখাচোখি করে থাকেন। কেউ আপনার দিকে তাকালে, আপনি অনেক মানুষের ভীড়েও সহজে খেয়াল করেন, তাইনা?
ব্যাপারটা আরও ভাল ব্যাখ্যা করা যায় ডিস্কোর উদাহরন দিলে; আলো-আঁধারীতে নাচছে অসংখ্য নারী পুরুষ, এর মাঝে ঠিকই বুঝে যায় কেউ দৃষ্টি বিনিময় করল কিনা, ড্রিংকস হাতে নিয়ে হাজির হয়ে যায়, নাচের অফার চলে।

প্রশ্ন হলো, এত মানুষের ভীড়ে অমন ছোট চোখ আমরা কিভাবে খেয়াল করে ফেলি? আমাদের মানুষের ভিজু্য়াল সিস্টেম কি এতই উন্নত? এরকম ভীড়ে, বিশাল ক্যানভাসে (চোখ মেলে তাকালে সামনে যতটুকু দেখা যায় সবটুকুই তো একটা ক্যানভাস) ছোট্ট দুটো চোখ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, সেটা আপনার চোখ এড়ায়না!

উপরের ছবিটি দেখুন।
প্রথমে খেয়াল করুন, (এ) আর (বি) এর চোখজোড়াদুটোর কোনজোড়া আপনার দিকে তাকিয়ে আছে?
তারপর আবার খেয়াল করুন, (সি) আর (ডি) এর বেলায় কে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে?
এখন নিশ্চয়ই আপনি ধরে ফেলেছেন, উপরের চোখদুটো নিচের মুখেরই অংশ, এবং যখন পুরো মুখটা দেখা যাচ্ছে তখন আপনার পক্ষে বোঝা অনেক সহজ যে কে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।
ভাল করে খেয়াল করুন, তাহলে দেখবেন উপরের চোখজোড়াদুটো আসলে একই রকম।
তারমানে, শুধু চোখ দেখে বোঝা যায়না যে কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে নাকি নেই!!

আচ্ছা, আপনার কি এখন মনে হচ্ছে যে (এ) এর চোখজোড়া আপনার দিকে তাকিয়ে নেই, কিন্তু (বি) এর চোখজোড়া তাকিয়ে আছে?
আবার, আপনি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন যে উপরের (এ) আর (বি) এর চোখজোড়াদুটোতে সুক্ষ্ণ পার্থক্য আছে; তাহলে আপনাকে বলি, আসলে সামান্য পার্থক্য আছে। তবে, (এ) এর চোখজোড়া হলো (ডি)এর মুখ থেকে নেয়া, (বি) এর চোখজোড়া হলো (সি) এর মুখ থেকে নেয়া।

কাজেই শুধু চোখ দেখে বোঝা যায়না কে কোনদিকে তাকিয়ে আছে, বরং মুখের, আরও পরিষ্কার করে বললে চোয়ালের ওরিয়েন্টেশন থেকেই বলা যায় সবচেয়ে ভালভাবে বলা যায় কে কোনদিকে তাকিয়ে আছে।

মনোবিদ্যার গবেষক স্টিফেনল্যাংটন এবিষয়টি নিয়ে গবেষনা করছেন, বেশ মজার। তাঁর প্রাথমিক গবেষণায় তিনি এক্সপেরিমেন্ট করে দেখিয়েছেন যে (যেখানে তিনি প্রচুর মানুষের মুখের ছবি আর শুধু চোখের ছবি দেখিয়ে সার্ভে করেছেন মানুষ ঠিকমতো তাকানোর দিক বুঝতে পারে কিনা),

১. চোখ না, বরং মানুষের সম্পুর্ণ মুখের ছবি দেখলে বোঝা যায় যে সে কোনদিকে তাকিয়ে আছে।
২. এমনকি মুখের ছবি না, কালো কাগজের উপর শুধু সাদা রং দিয়ে মুখের আকৃতি (সিলহেট) এঁকে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখিয়েছেন যে মুখের আকৃতি চোখের চেয়ে অনেক শক্তিশালী 'তাকানোর দিক' নির্ণয়ে।

যেমন, জন্মের ৬ মাস পর শিশুরা কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে কিনা সেটা শুধু বুঝে মুখের ওরিয়েন্টেশন থেকে, চোখের গতি থেকে কেউ তাকিয়ে আছে কিনা তা তারা ধরতে পারে প্রায় এক বছর বয়েসে।

এখন প্রশ্ন হলো কি কাজে লাগবে এই রিসার্চ?

অনেক কাজেই লাগবে, তবে চোখাচোখির সায়েন্স যেহেতু, দুষ্টু কাজের কথাই চিন্তা করি।

১. রিক্সায় প্রেয়সীর পাশে বসেও অন্য মেয়েদের দিকে তাকানো ছেলেদের স্বভাবজাত অভ্যাস, দে কান্ট হেল্প ইট। শুধু খেয়াল রাখবেন, প্রেয়সী/বউ যেপাশে বসে আছে সেদিকে মুখ ঘুরিয়ে যত ইচ্ছা মেয়ে দেখুন, টের পাবেনা, অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে ফুল দেখলেও এ্যালার্ট হয়ে যাবে

২. ক্লাসে মন বসছেনা, স্যারের দিকে শুধু মুখ ঘুরিয়ে রাখুন, ডানে-বামে-নীচে যেখানে সুবিধে হয় গল্পের বই রেখে দেদারসে পড়ে যান।

৩. (এটা আমি সবসময়েই করি, আমরা সবাই করি) কার্ডখেলায় ... এর বেশী কিছু বলার দরকার নেই

তো আপনাকে যে ব্যাপারটায় এক্সপার্ট হতে হবে, তা হলো 'টেরিয়ে তাকানো' ...

ডানে বামে চোখের গোলকটাকে প্রতিদিন ২০বার করে ঘুরান ... এতে নাকি চোখেরও উপকার হয় ...তাহলে আর দেরী কেন ... লেটস স্টার্ট!!

 

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ২৯৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:০৬
comment by: মানুষ বলেছেন: আছিলাম বোকা, হইলাম বুদ্ধিমান!!!!
২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:০৭
comment by: ঘাতক বলেছেন: চমত্কার। ৫
৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১০
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: মানুষ আর ঘাতক, দুজনকেই ধন্যবাদ

মানুষ, এখন কি একটা না দুইটা এ্যালাউড?
৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১০
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: খাসা একখান লেখা। চোখ জুড়ালো মনও ভরলো। ৫ দিলাম।
৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১৩
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আরে বস্! ধন্য হলাম ...অসংখ্য ধন্যবাদ @কালপুরুষ
৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:২৩
comment by: অন্যরকম বলেছেন: কঠিননননননননননন হইছে বস।
৩ নং সিস্টেমটা প্রায়ই করে থাকি।
২ নং টা একসময় প্রচুর করেছি।
হে হে হে ...... ১ নং টা কমু না।

৫৫৫৫৫৫....
৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:২৭
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ওরে খাইছে!! ... ১ নংটা ইম্পর্ট্যান্ট ... না বলিলে অসুবিধা নাই, কর্মেই ফল
@ অন্যরকম
৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:২৮
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: ৫
৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩১
comment by: অন্যরকম বলেছেন: :( :( :(
প্প্ব প্প্বুপ্প্ব্যপ্প্বু প্প্বনপ্প্বজ্জপ্প্ব্যপ্প্ম প্প্বগু প্প্ব্রপ্প্বজ্জপ্প্ব েপ্প্ব্যপ্প্বজ্জপ্প্বপ্প্মেম :(
১০. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩২
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ, বিবেক সত্যি ...
অন্যরকম, মন খারাপ কেন?
১১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৭
comment by: অন্যরকম বলেছেন: এখনও ১ নং টা করার চান্স পাই নাই। :(
১২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৪
comment by: দূরন্ত বলেছেন: চমৎকার। ৫ দিয়ে রাখলাম।
১৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৫
comment by: মানুষ বলেছেন: "একটা না দুইটা এলাউড" বুঝলাম না@ জ্বীনের বাদশা।
১৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:২১
comment by: নেই মানুষ বলেছেন: জটিল। ৫
১৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:২১
comment by: সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: রহঃবৎবংঃরহম !! নযধষড় ষধমষড়.
(নধহমষধ শধল শড়ৎরঃবপযব হধ)

১৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:২৪
comment by: সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: কি যে যন্ত্রনা হইলো। যা টাইপ করি, পোস্ট করি এলিয়েন ভাষা হয়া যায়গা!

কইতে চাইছিলাম লেখাটা ইন্টারেস্টিং। চালায়েন।
১৭. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:১৭
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: অন্যরকম, হয়ে যাবে, নো চিন্তা

মানুষ, "একটা না দুইটা এলাউড?" ... বোকা থেকে বুদ্ধিমান হইতে হইলে এখন বাচ্চা কয়টা পর্যন্ত এ্যালাউড, এই আর কি? :)

সাদিক, ধন্যবাদ ... চালাতে তো চাইই :)

দুরন্ত, নেই মানুষ, শুকরান :)

১৮. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:৩১
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: বুঝি নি, আপনি কারও দিকে তাকিয়ে থাকলেও কি তার মুখের ডিরেকশন দেখে বুঝবেন কোন দিকে তাকিয়ে আছে? কিন্তু সেটা কি হয়? যার সাথে কথা বলছেন, সে যদি আপনার চোখে ফিক্সেইট না করে পিছনে কিছু দেখতে থাকে, সেটা বুঝি ধরতে পারেন না?
১৯. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৭:০০
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ, সন্ধ্যাবাতি।
তবে, এটা খুব কাছাকাছি থেকে কম্যুনিকেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না ... একটু দূরে থেকে যদি গেইজ ডিরেকশন বুঝতে চায় কেউ, তখন প্রথমে ভিজ্যুয়াল সিস্টেম চেক করে ফেইস ওরিয়েন্টেশন ... সেটা থেকে ধারনা করে নেয় "আমার দিকে তাকিয়ে আছে অথবা নেই" ... তাকিয়ে থাকলে তারপর হয়ত চোখ চেক করে ... যাকে চেক করা হচ্ছে সে যদি তাকিয়ে থাকে, তাহলে তখন চোখাচোখি হয় ...
নাকের ওরিয়েন্টেশনও মাঝে মাঝে ইনিশিয়াল জাজমেন্টের জন্য ব্যবহার হয় বলে অনেক বিজ্ঞানীর মত ... তবে নাকের চেয়ে ফেইস বেশী স্ট্রং, এটা ল্যাংটনের দাবী
২০. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৪২
comment by: রনপি বলেছেন: এটা আসলেই ভাল হয়েছে, এরকম লেখা আরো বেশী করে লিখ।
২১. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:১০
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ ... আরেকটা ছাড়তেছি :)
২২. ২১ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:১০
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আচ্ছা, সেটা টের পেয়েছি। বাসে না তাকিয়েই মনে হয় কেউ এদিকে তাকিয়ে আছে। তীব্র অস্বস্তির মধ্যে থেকে তারপরে তাকালে হয়তো দেখা যায় সে আমার জানালা দিয়ে বাইরের কিছু দেখছে। কিন্তু মুখের অরিয়েন্টেশন এদিকে বলে মনে হয় এদিকে ফিরে আছে।

 



 


প্রতীক্ষাই অগ্নিশিখা, প্রতীক্ষাতেই পুড়ি/ প্রতীক্ষাই যুগল ডানা, প্রতীক্ষাতেই উড়ি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮৯৪৬৫