আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

ডিসেম্বর ৬ : ভুলিনাই, ভুলবনা

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫১

শেয়ারঃ
0 0 0

আজ ৬ই ডিসেম্বর ছিল, স্বৈরাচারের হাত থেকে আমাদের মুক্তির দিন।

মাঝে মাঝে একটা প্রশ্ন আমাকে ভীত করে তোলে। এই যে বিদেশে আছি, চাকরি বাকরি করছি, অথবা দেশে থাকলেও হয়ত ভাল কোন চাকরী করতাম; তখন হঠাৎ যদি একটা যুদ্ধ লাগত? ঠিক ৭১ এ যেমন দেশ আক্রান্ত হয়েছিল পাক হানাদের দ্বারা, সেরকম কিছু? তাহলে কি এই নিরাপদ/নিশ্চয়তামূলক জীবন ছেড়ে দেশের জন্য লড়ার রিস্কটা নিতাম? এখনই যদি যুদ্ধ লাগে, তাহলে কি দেশে গিয়ে অস্ত্র ধরব, না নিয়মিত অফিস করে রাতে ইন্টারনেটে এখানে সেখানে গনসংযোগ করেই দেশের প্রতি দ্বায়িত্ব শেষ করব? খুব কঠিন প্রশ্ন। ভয় হয়, সাধারন চিন্তায় ভাবলে মনে হয় যে, দেশে ফিরে যাবনা। হয়ত দেশকে ভালবেসে দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা তখন করব, কিন্তু সবটাই এখনকার নিশ্চয়তাটুকুকে অটুট রেখে। আমি জানিনা এরকম প্রশ্নের জবাবে আপনি পাঠক কি ভাবছেন।

তবে এটা বুঝি যে, সমস্যাটা দেখা না দিলে বলা যায়না কি করব; মানে যুদ্ধ লেগে গেলে তখনই শুধু বলা যাবে কি করব। যুদ্ধ করার জন্য যে ছুটে যাবনা সেটা আমি পুরো নিশ্চিত নই। মনের যে অংশটুকু যুদ্ধে যাবার জন্য সায় দেয়, সেখানে বাস করে এক অদ্ভুত স্মৃতি। হুমায়ুন আহমেদ তার 'জোছনা ও জননীর গল্প' বইয়ে লিখেছিলেন ৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের খবর যখন তিনি পেলেন, তখন ঢাকার খোলা রাস্তায় তিনি আর তাঁর বন্ধু (সম্ভবতঃ আনিস সাবেত) প্রাণখুলে দৌড়েছিলেন, আর কতক্ষণ পরপরই হেসে উঠেছিলেন। তাঁর বর্ণনাটা যতবার পড়েছি ততবারই মনে হয়েছে 'ইস্, আমি যদি তখন থাকতাম।' পড়তে পড়তে অদ্ভুত অনুভুতি হতো, আনন্দে হাসতে থাকি। আমরা এই প্রজন্ম সেই ১৬ই ডিসেম্বর পাইনি, আমাদের দুর্ভাগ্য। তবে এরকম ছোটখাটো একটা স্বাদ আমরা পেয়েছিলাম। সেটা ছিল ৯০ এর ৬ই ডিসেম্বর। সেসময় আমাদের ভয় হতো এই এরশাদকে হয়ত কোনদিনই সরানো যাবেনা গদি থেকে, কিন্তু ৬ই ডিসেম্বর সেই ভয় দূর করে দিয়েছিলো। সাথে সাথে এক আত্নবিশ্বাস দিয়েছিলো আমাদের যে, সামরিক স্বৈরাচার এদেশে আর জাঁকিয়ে বসতে পারবেনা।

আজ, আমাদের সেই ভয় আবার কবরের ঘুম ভেঙে মোটাতাজা তাগড়া হয়ে ফিরে আসছে, আমাদের সেই আত্নবিশ্বাসকে একদল লুটেরা, যাদের হাতে আমরা বিজয়কে ছেড়ে দিয়েছিলাম, তারা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

আমরা যাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম, তারা সেই একই স্বৈরাচারকে নিয়ে কাড়াকাড়ি করেছে, আমরা মুখ লুকাই কোথায়? ... শুধু তাইনা, যেকারনে এই কাড়াকাড়ি, সেই একই কারনে দেশের সাথে সবচেয়ে বড় হারামীপনা করা রাজাকার/আলবদর/আলশামসদেরও আঁচলের তলায় ঢুকিয়েছে ... তারপর আবারও সামরিক শাসনের কাছে দেশকে ছেড়ে দিয়ে নিজেরা এখন নতুন ধান্দায় ব্যস্ত ...

আর সেই সামরিক শাসকেরা আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মৌন মিছিল, হ্যাঁ জনাব, মৌনমিছিলের মতো "মহাঅপরাধের" দায়ে জেল-জরিমানা করেছেন ...

আমরা এখন কোথায় যাব?

৯০ এর গনআন্দোলনে এই সামান্য আমার কোন অংশগ্রহনই নেই বলতে গেলে। আমি তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র। কারফিউ চলত, আমরা কলোনীর গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পুলিশের গাড়ী দেখা গেলে দূর থেকে ইট-পাটকেল ছুড়তাম; গাড়ী কাছাকাছি এলে ভোঁ দৌড়। এই সামান্য অংশগ্রহনেই আমি এক অদ্ভুত অভিমান বোধ করি, হতাশ লাগে।

তখন ভাবি,
যারা আত্নদান করেছেন, নিরলসভাবে নিঃস্বার্থভাবে স্বৈরাচারের বিরোধিতা করে দিনরাত আন্দোলনে ছিলেন, সরাসরি যুদ্ধে ছিলেন, তারা কি ভয়াবহ অভিমানে আছেন?

নুরহোসেনের বাবা-মা বা ডাঃ মিলনের স্ত্রী-সন্তানেরা আজ কিভাবে মুখ লুকিয়ে কাঁদেন।

তারপর ভাবি,
৭১ এর রাজাকরের গাড়ীতে যখন দেশের পতাকা উড়ে/ একাত্তরের সবচেয়ে বড় ক্রিমিনালদের একটাকে যখন "দেশের প্রতি বিশেষ অবদানের" জন্য বনানীতে জমিদেয়া হয় -- তখন সেই মুক্তিযু্দ্ধের সময়ের মানুষেরা কিভাবে অভিমানে ডুকরে উঠে! মুক্তিযোদ্ধাদের পবিত্র আত্নায় কি কঠিন কষ্ট অনুভূত হয়!!! ভাবতে পারিনা, গায়ে কাঁটা দেয়।

শেষপর্যন্ত কি, একদল নীরব অভিমানীতে ভরে যাবে এদেশ?
আরেকবার জেগে উঠবেনা?

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৬
মাহবুব সুমন বলেছেন: ২য় প্যারার কথা ভাবছি।
২. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০০
নীতিশ বৈরাগী বলেছেন: আমিও তখন ক্লাস নাইনে। ফাইনাল পরীক্ষা পিছাইয়া গেছিল আন্দোলনের কারণে।
শ্লোগানগুলা মনে আছে :

হৈ হৈ রৈ রৈ
এরশাদ শালা গেলি কৈ
পলাইচ্ছেরে পলাইচ্ছে
এরশাদ শালা পলাইচ্ছে
ধর শালারে
মার শালারে
৩. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০১
জামাল ভাস্কর বলেছেন: *৪ ডিসেম্বরেইতো আমরা জাইনা গেছিলাম এরশাদ চাচা আর থাকতে পারবো না...
৪. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৩
এস্কিমো বলেছেন: আফসোস করার কোন কারন নেই। স্বৈরাচার বিদায় নিলেও ওর ছায়া এখনও রয়ে গেছে - সেই ছায়া প্রলম্বিত হয়ে হয়তো দেশকে ঢেকে ফেলবে। যার কিছু নমুনা দেখছে। সুতরাং তৈরী থাকুন - হয়তো আরেকটা ৬ ডিসেম্বর তৈরী হলেও হতে পারে।
৫. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: সুমন, ভাবনাটা জানাইয়েন ...
নীতিশ, আমরা সবচেয়ে মজা পাইছিলাম,
"এরশাদ বলো, রওশন বলো, কিছুই রবে নারে, সবশালারা ভাইসা যাইব বঙ্গোপসাগরে"
৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ভাস্করদা, শেয়ার করেন আপনার অভিজ্ঞতা ... আমগোরতো তখনও পত্রিকার খবর, এখনও পত্রিকার খবরই ভরসা
৭. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: এস্কিমো, সেই ভয়টা রয়েই গেলো ... আবার ৬ই ডিসেম্বর হবে ... তারপর? ... আবারও অভিমান করতে হবে??
৮. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:১০
মাহবুব সুমন বলেছেন: চক্রাকারে চলবে সব।
গনতন্ত্র এখন রাগবি বল। হাতেও খেলা হয়, পায়েও খেলা হয়।
সময়েই বলে দেবে আমি সাহসী না কাপুরুষ না এড়িয়ে থাকা বীর(?) পুরুষ।
৯. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:১৬
অচেনা বাঙালি বলেছেন: একটা কথা মাঝে মাঝে মাথায় আসে, ৯০ এর গনতন্ত্র এর অন্যতম একটা ইমপ্যাক্ট কি
"৭১ এর রাজাকরের গাড়ীতে দেশের পতাকা" না?
১০. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৫
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: আমাদের জাতীয় বাল দৈনিক, প্রথম আলোর পিছনের পৃষ্ঠায় যতটা ছোট করে পারা যায়, এই খবরটা ছাপছে।
এইটা দেখেই বোঝা যায় দেশে গণতন্ত্রের অবস্থা কেমুন সংকুচিত। ভালো লেখা, আর কি খবর কন, আসেন কেমুন?
১১. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৩
নীতিশ বৈরাগী বলেছেন: ভাস্কর ভাই,
৪ ডিসেম্বর ঐ সময়ে আমরা বিবিসি শুনতেছিলাম। রাত দশটায় বিবিসিতেই হঠাত শুনলাম চাচা যাইবোগা। তারপর বিটিভি ছাইড়া দেখি ঘটনা ঘইটা গ্যাছে। ৫ তারিখ রাস্তায় মানুষের ঢল নামছিল। ৬ তারিখে হইল আনুষ্টানিক পদত্যাগ।
১২. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৩
আনন্দময় বলেছেন: অেনক অভিমানি আমার আশেপাশে আছে তাদের দেখি আর কষ্ট পাই।আমরা কি পারব শেষ হাসিটি হাসতে?জেবতিক ভাইয়ের মতো বলি অনেক কিছুই তো হল তবুও কি কিছু হোল।
১৩. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ৯০ আমি দেখিনি ,বুঝবার মত বয়সও ছিল না।

আপনার লেখা অনেক ভাবনার সুযোগ করে দেয় , যার উত্তর খুজতে গিয়ে নিজের অবস্থানও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়ে (দ্বিতীয় প্যারা,শেষ প্যারা)
১৪. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:২২
রাশেদ বলেছেন: আশায় আছি আরেক গণজাগরনের।
১৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৩
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: মাহবুব সুমন, ভাল বলেছেন ... এড়িয়ে যাওয়া বীর(?)পুরুষ ...

অচেনা বাঙালী, আমি মনে করিনা এটা শুধু ৯০ গনতন্ত্রের ইফেক্ট ... রাজাকাররা সবসময়েই সুযোগের অপেক্ষায় মুখিয়ে ছিল ... শাহআজিজের গাড়ীতেও যেমন পতাকা উড়েছে, ইনকিলাব মান্নানের/ রাজিয়া ফয়েজ/আনোয়ার জাহিদদের গাড়ীতেও উড়েছে ... ৯০ এর আগেই ...
ইনফ্যাক্ট ৭১ এও তাই ...
একদল বাংলাদেশী লোক (জামাতীরা) দেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে, মূল কারণটা কি? জামাতের আদর্শ? আমার তা মনে হয়না ... জামাত হইল এমন একটা দল যারা সবসময়েই চায় ক্ষমতায় যাইতে বা এর কাছাকাছি থাকতে ... ৭১ এও তাই চাইছিল ... ইয়াহিয়ার পাছা চেটে যদি পূর্ব বাংলার কয়েকটা মন্ত্রী পদ বাগানো যায় ...
১৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: শরৎ, আছি ভালই ...

কালকে হন্যে হয়ে খুঁজছি, কোন পত্রিকাতেও লীড তো দূরের কথা গুরুত্বপাওয়া খবর হিসাবেও আসেনাই ... কোন কুতুব কলামও লেখেনাই ... গত বৎসরও একই ঘটনা ... গতবৎসর অবশ্য এই সময়ে দুই মহান কুতুব খালেদা-হাসিনা এরশাদকে নিয়া টানটানিতেই ব্যাস্ত ছিলেন ... হাহ্ ...

১৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আনন্দময়, আসলেই কি হলো? ...তারচেয়েও ভয়াবহ প্রশ্নটা হলো, কি হবে?

মেহরাব, ধন্যবাদ ...

রাশেদ, পাগলা বাবু, আশাই ভরসা ...
১৯. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:১৭
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: তোমার মাঝে স্বপ্নের শুর
তোমার মাঝে শেষ
ভালো লাগা ভালোবাসার তুমি
আমার বাংলাদেশ
২০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:৫৬
ফারহান দাউদ বলেছেন: খালি কারফিউয়ের কথা মনে আছে,আর কিছু না তেমন,অবশ্য জিনাতরে নিয়া এর আগে পত্রিকায় ম্যালা কিসু লিখতো,সংগত কারণেই ঐগুলা আরেকটু বেশি মনে আছে আপনি তো বস্ উধাও হয়ে গেলেন,অনেকদিন পরে দেখলাম।
২১. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ঝড়ো ভাই, খবর কি আপনার?
ফারহান, ভাইরে সময় যে কিভাবে যায়! ... আপনাদের কি গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেছে? ... শুভেচ্ছা রইল

 

মোট সময় লেগেছে ১.৮০৮০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ