১.
আমি সাধারণত প্রথম আলো পড়ি, আর কোন পত্রিকাকে জাতের মনে হয়না। তো গ্রুপমেইলে আজ এক বন্ধুর শ্লেষমিশ্রিত এক ইমেইল পাবার পর দৈনিক মানবজমিনে ঢুঁ মারলাম একটা সংবাদ পড়ার জন্য।
সংবাদটি হলো:
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে গরু-ব্যবসায়ী আর সাধারন মানুষ মিলে পাঁচজন মারা গেছে; সেটা গতকাল সকালে, অর্থাৎ শনিবার সকালে। পাঁচজনের নামও এসেছে, আবু হাসান নফর, আবদুল মজিদ, আফাজউদ্দিন, ফারুক হোসেন আর পজিরউদ্দিন।
নাম আর সময় নির্দিষ্ট করে এসেছে, "বিশেষ সূত্র"/"বিশ্বস্ত সূত্র" টাইপের আধাখেঁচড়া শব্দগুলোও নেই -- আমি ধরে নিয়েছি যে খবরটি সত্য।
আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগল, সামান্য খটকা। রাজনৈতিক, ধর্মনিরপেক্ষতা এসবের ভিত্তিতে পত্রিকাগুলোকে আমি তিনদলে ভাগ করি
১. প্রথম আলো, যুগান্তর, সংবাদ, ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ, জনকন্ঠ, সমকাল
২. ইত্তেফাক, মানবজমিন, আমাদের সময়
৩. আমার দেশ, ইনকিলাব, সংগ্রাম, যায়যায়দিন, নয়াদিগন্ত
আমি সবগুলো পত্রিকাতে খবরটি খুঁজে দেখলাম। কারণ, এর আগেই আজকের প্রথম আলো পরে ফেললেও এরকম কোন খবর আমার চোখে পরেনি।
সমস্যা হলো, উপরের খবরটা ১ নং গ্রুপের দুএকটা ছাড়া কোন পত্রিকাতেই অনলাইন এডিশনে (সংবাদ আর আজকের কাগজ আমার কম্পু থেকে ডেখা যায়না) পাওয়া গেল না। পেলাম ২ নং আর ৩ নংয়ের পত্রিকাগুলোতে।
এবং আমি নিশ্চিত, এই খুনীটা যদি ভারত না হয়ে পাকিস্তান হতো, তাহলে ৩ নং গ্রুপের কোন পত্রিকাই খবরটি কাভার করতনা।
২.
একটা দেশের সরকার যখন নিজেদের দেশের মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে তখন সেটা সেই দেশের মানুষের জন্য চরম লজ্জার হয়।
আর যখন খুনীটা হয় অন্য দেশ, যেমন এক্ষেত্রে ভারত, তখন সেটা শুধু চরম লজ্জারই থাকেনা, সেটা সেই দেশের মানুষের মেরুদন্ডের এবং অস্তিত্বের প্রশ্নও বহন করে। সেটা হয় আরো জঘন্য, আরো নিন্দনীয়।
আমি এটুকু নিশ্চিত বলতে পারি, এই ঘটনাটা যদি "কাগজে কলমে আপাতঃ জাতীয়তাবাদকে নিরুৎসাহিত করা" জাপানেও ঘটত, তা সে দঃ কোরিয়ান বাহিনীই হোক, উঃ কোরিয়ান বাহিনীই হোক আর চীনা বাহিনীই হোক --- তাহলে আজ জাপানীদের টিভিজুড়ে বারবার এখবরটাই প্রচারিত হতে থাকত। মানুষ দাবী করত সরকারের লোকেরা এ নিয়ে কি ভাবছে -- এসব। ছোটদেশ হলেও তাই হবার কথা। আপনি একবার ভাবুন, কিউবাতে আমেরিকান সৈন্যরা পাঁচজন কিউবানকে মেরেছে , এখবর সেদেশে কিরকম সাড়া ফেলত!!
আমি জানি ভারত অনেক শক্তিশালী, তাদের বিরুদ্ধে অত সহজে কিছু করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা কেন এরকম অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাবনা? কেন এটা আমাদের গা সওয়া হয়ে যাবে? কেন? ওদের নামগুলা ক্ষ্যাত ক্ষ্যাত বলে? পরিজ উদ্দিন, আফাজ, নফর, আবদুল মজিদ -- এগুলো কোন নাম হলো? এগুলো মরলেই কি বাঁচলেই কি?
আমরা কোথায় যাচ্ছি?
আমাদের মেইনস্ট্রীম প্রগতিশীল পত্রিকারা কি ভারতের বদনাম করে খবর ছাপাতে ভয় পায়?
আমাদের মেইনস্ট্রীম বুদ্ধিজীবি, যাদেরকে আমরা আলোর দিশারী ভাবি, তারা কি এটা নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে বিব্রতবোধ করেন?
আমাদের সেনাপ্রধান যিনি আজ ভারত সফরে যাবেন, তিনি লজ্জায় একথা মুখে আনতে ভয় পাবেন?
সমস্যাটা কোথায়?
আমাদের এত এত দায়িত্বশীল ব্লগারদের ব্যাপারটা নিয়ে কোন কষ্ট হয়না কেন?
দুকলম কেউ লিখতে পারেননা?
আমাদের কি মেরুদন্ড হারিয়ে গেছে?
নফর, মজিদ, ফারুক, আফাজ আর পরিজ -- আপনাদের কাছে আমি এই "সভ্যসুশীল" সমাজের একজন হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি। এরবেশী কিছু আমার করার নেই, কারণ, আমার নিজেকে এখন ভন্ড মনে হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



