somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবেশবান্ধব ধারনা ফুডমাইল, আমাদের জন্য হতে পারে গার্মেন্টস মাইল

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
শিল্পোন্নয়ন, কর্পোরেটদের একচেটিয়া বাজারদখল আর উন্নততর জীবনযাত্রার চাহিদাবৃদ্ধির সাথে সাথে ইদানিং একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দিকে নজর এসেছে মানুষের। কনসেপ্টটিকে বলা হচ্ছে "ফুড মাইল"। ব্যাপারটা খুব সহজে ব্যাখ্যা করা যায় ম্যাকডোনাল্ডসের উদাহরন দিয়ে।

ম্যাকডোনাল্ডস হচ্ছে সম্ভব্ত বিশ্বের বিশালতম ফাস্টফুড চেইন, কর্পোরেট। পরিবেশিত খাবারের ব্যাপারে তাদের কিছু নীতি আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সব খাবারের মান একরকম হতে হবে। কর্পো তাই "খাবারের মান" বলতে এখন শুধু "স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ না" এবিষয়টি নিশ্চিত করা খাবারকেই বোঝাবে না, অথবা শুধু "খাদ্যগুন(ভিটামিন/মিনারেলের পরিমাণ) নিশ্চিত করে" এমনটাও বোঝাবেনা। এখন এসবের সাথে সাথে খাবারের স্বাদও একরকম হতে হবে, যদি নাম এক হয়। অর্থাৎ, ম্যানিলায় বসে আপনি যে চিকেন বার্গারটি চিবুচ্ছেন, সেটা লস এ্যাঞ্জেলসে বসে আপনার বন্ধুর চিবোতে থাকা চিকেন বার্গারের সাথে একদম মিলতে হবে। ম্যাকডোনাল্ডস তাই নিজেদের বার্গারের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে মুর্গী চাষ করে, সম্ভবতঃ মুর্গীর প্রসেসিংও হয় একই ম্যানুয়াল অনুসরন করে; তারপর সেই মুর্গী নানান জায়গায় বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে টোকিওতে বসে আপনি আর টোকিওর মুর্গী খাননা, হয়ত কেনটাকি বা ইন্ডিয়ানার কোন ফার্মে বড় হওয়া মুর্গীর রান চিবোতে থাকেন।

এটা শুধু ম্যাকডোনাল্ডসকে নিয়ে দেয়া উদাহরন। এখন শিল্পোন্নত জাপানের উদাহরন টানা যাক। যে পরিমাণ চিকেনফ্রাই এরা খাচ্ছে বা যে পরিমাণ বিয়ার গিলছে, সে পরিমাণ মুরগীচাষ বা গমচাষ করার মতো লোকও এদের নেই, জমিও নেই। ফলাফল, জাহাজ ভরে অন্যদেশ থেকে আনো। আজ গম চীন থেকে নিচ্ছে, কাল যদি দেখা যায় ভিয়েতনাম আরো সস্তায় দিচ্ছে গম, তাহলে যদি যাতায়াত খরচে পোষায় তাহলে ভিয়েতনাম থেকে নিবে। এরপর বাংলাদেশ আরো সস্তায় দিতে পারলে বাংলাদেশ থেকে আনবে।

এখন আসা যাক আরেকটি খানদানী উদাহরনে। কোবে বীফ সম্ভবতঃ বিশ্বের সবচেয়ে দামী গরুর মাংস, শুনেছি এই গরুকে পেলেটেলে বড় করার সময় গান শোনানো হয় রীতিমত। তাতে নাকি মাংসের স্বাদ বাড়ে। দুনিয়া শুধু কোবে বীফে থেমে নেই। এরকম আরো হাজার রকমের স্পেশাল খাবার ( ব্র্যান্ডেড কাঁচামাল ) আছে এখন। এখানকার এটা খেতে সুস্বাদু তো, সেখানকার ওটা খেতে সুস্বাদু। জাপানী খানদানী কুইজিনে দেশী স্যামনে হয়না, নরওয়ের থেকে একটা তৈলাক্ত স্যামন আসে, ওটা এদের খাওয়া চাইই চাই।

ম্যাকডোনাল্ডসের ক্ষেত্রে একবার চিন্তা করুন কি পরিমাণ চিকেন প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সারা পৃথিবীতে যায়। অথবা জাপানে আমদানী করা চাল, দাম পোষালে যতদূর থেকেই হোক আনা হবে। অথবা কোবে থেকে লন্ডনে বীফ উড়িয়ে এনে বা নরওয়ে থেকে টোকিওতে স্যামন ভাসিয়ে এনে খাবার বিলাসিতা। কি পরিমাণ যাতায়াত হয়, ভেবে দেখেছেন। যাতায়াত যত বেশী, তেলের খরচ তত বেশী।

এখান থেকেই ফুডমাইল কনসেপ্টের আবির্ভাব। একটা খাবার প্রতিপাউন্ড এক মাইল দূর থেকে আসলে সেটাকে এক ফুডমাইল বলা হয় বা প্রতি কেজি এক কি.মি দূরে গেলে এক ফুড-কি.মি. বলা হবে। যেমন, ধরুন আপনি একশগ্রাম ওজনের বীফ স্টেক খেলেন লস এঞ্জেলসে বসে যেটা টেক্সাস থেকে এসেছে, তাহলে টেক্সাস আর এল.এ'র দূরত্ব যদি পাঁচশ কি.মি (কথার কথা) হয়, তাহলে খাবারটির ফুডমাইল হলো (৫০০x০.১)=৫০ ফুডকি.মি। জাপানের কিছু রেস্টুরেন্ট খাবারের আইটেমের ফুডমাইল হিসেব করে মেন্যুতে সেটা উল্লেখ করার উদ্যোগ নিয়েছে, আর মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে কম ফুডমাইলের খাবার খেতে, যাতে বিক্রেতারা সচেতন হয়। যত কম ফুডমাইলের খাবার বিক্রী বাড়বে, তত যাতায়াতের তেলের ব্যবহার কমবে। উল্লেখ্য, জাপানের মাথাপিছু ফুডমাইল পৃথিবীতে সর্বোচ্চ, এদের সময় এসেছে আবার কৃষিকাজে মন দেবার।

ফুডমাইল সম্পর্কিত প্ল্যানটা ঠিকভাবে কাজ করলে প্রচুর তেল বেঁচে যাবে পৃথিবীর সন্দেহ নেই। কোন স্থানে বন্টনব্যাবস্থা যত পরিকল্পিত বা অপটিমাইজড, সেখানে ফুডমাইল তত কম হবে। অর্থাৎ একটা দেশের যে কোন অঞ্চলেই যতদূর সম্ভব সবরকমের জিনিস উৎপাদন সম্ভব হলে সেখানে পরিবহনের লোড সর্বনিন্ম হবে।

২.
যেহেতু কাছ থেকে গার্মেন্টস ব্যাবসা দেখিনি তাই আমার অজ্ঞতার কারণেও এই প্রশ্ন করতে পারি। সেটা হলো ঢাকা শহরে এত এত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী কেন? আমার ধারনা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলো থেকে তৈরী হওয়া কাপর শেষমেষ চট্টগ্রাম বন্দরেই যায়, আবার কাটা কাপড় আসেও সেখান থেকে। পুরো শিল্পকেন্দ্রটাই গড়ে ওঠার কথা ছিল চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে। তা না হয়ে ঢাকায় এত কারখানা গড়ে ওঠার কারণটা আমার কাছে স্পষ্ট না।

এখন থেকে যারা গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবসায় নামবেন তাদের জন্য গার্মেন্টস মাইল কনসেপ্ট চালু করলে কেমন হয়? কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে এটা নিশ্চয়ই একটা ভাল সূচক, কে জানে হয়ত শিল্পোদ্যক্তারা এর ব্যবহার অনেক আগে থেকেই করছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:২৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×