আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সেবার দাপটে সর্বেসর্বা

০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০১

শেয়ারঃ
0 5 0

১.
জাপানের একটি শহর থেকে একদল তরুণ-তরুণী গিয়েছিল বাংলাদেশে বেড়াতে; এখানকারই একটি ক্লাবের সদস্য ওরা, ঐ ক্লাবের সদস্যরা কিছু চাঁদা দিয়ে থাকেন ময়মনসিংহের একটি এনজিওকে। ক্লাবের নীতিনির্ধারকরা ভাবলেন যে তরুণ সদস্যদেরকে, মানে যারা এখনও ছাত্র-ছাত্রী, তাদেরকে অকুস্থলে পাঠিয়ে সমাজ/পৃথিবী সম্পর্কে কিছু শেখানো যেতে পারে। সে উদ্দেশ্যেই ওদের দশবারোজনের একটা দল গিয়েছিল বাংলাদেশের ময়মনসিংহের এক অবহেলিত গ্রামে, ওখানেই হতদরিদ্র মানুষগুলোর বাসায় হোমস্টে করেছে। যে এনজিওটিকে তাদের ক্লাব চাঁদা দেয় সেখানে গিয়ে কাজকর্ম কিভাবে চালানো হয় এসবও দেখেছে। আমার সাথে কিছুটা খাতির ছিল ঐ দলের দুচারজনের, সেই সুবাদেই দায়িত্ব পড়েছিল এই দলটিকে কিছু ব্যবহারিক বাংলা শেখাতে হবে।

দলে একজন অভিজ্ঞ সদস্য ছিলেন, নাম মারি তোইয়ামা, আমরা বলি মারি-সান (জাপানীরা নামের শেষে "সান" শব্দটা যোগ করে, আমরা যেমন বলি "জাকির ভাই" বা "শায়লা আপা" বা "জনাব আসিফ" --অনেকটা সেরকম)। অনেকদিনপর গত উইকএন্ডে মারিসানের সাথে কথা হয়, দেশের এনজিওদের প্রসঙ্গ আসে। তিনি গত ত্রিশ বছরেরও বেশী ধরে সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত, বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো এত ভালো এনজিও ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে ওঠার পরেও দারিদ্র্য দূর হয়না কেন। সে প্রসঙ্গে আমরা সবাই জানি, এখানে নতুন করে আলোচনা করেও লাভ নেই।

তবে মারিসানের কথায় এনজিওব্যবসার অন্য একটা দিক সম্পর্কে টের পেলাম, টের পেলেও সেটা যে এই প্রথম টের পেলাম তা না, সেটা আমাদের মজ্জাগতই, আমরা সেটাকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়ে ফেলেছি। তবে সেদিন সেই ব্যাপারটাই নতুনভাবে টের পেলাম। সেটা হলো এনজিওসেবার নামে প্রভুত্ব অর্জন এবং প্রভুত্ব প্রদর্শনের যে স্পর্ধা, সেটা আমাদের সেবক-সেবিকাদের মাঝে কিভাবে ছড়িয়ে গেছে।

ময়মনসিংহেরই এক এনজিওকর্মী, যাঁর দ্বায়িত্বে যে গ্রামে জাপানীরা হোমস্টে করেছিল সে গ্রামটি ছিল। ধরা যাক এই কর্মীর নাম মালতী। মারিসান বললেন যে অফিসে যখন মালতীর সাথে দেখা হলো, তিনি ভীষন অমায়িক, হেসে হেসে বিনয়ের সাথে কথা বললেন, তাকে বেশ কর্মতৎপরও মনে হলো। কিন্তু যখনই তাঁরা গ্রামে গেলেন, তখনই দেখা গেল মালতী নিমিষেই বদলে গেলেন, তিনি আচরণ করা শুরু করলেন পালনকর্তার মতো। যেন তাঁর দয়াতেই গ্রামটা টিকে আছে। চারদিকে সবার সাথে তার আচরণ আর হম্বিতম্বি দেখে মারিসানই পারলে ভড়কে যান। তিনচারদিন ধরেই ব্যাপারটা লক্ষ্য করলেন তাঁরা, কিন্তু কি বলবেন। "যস্মিন যদাচার" ভেবে চেপে গেলেন। পঞ্চমদিনে একটা ঘটনা ঘটল, গ্রামেরই এক পরিবার নিয়ে, যেটা মারিসান আর ভুলতে পারলেননা। পরিবারের মহিলাটি সন্তানসম্ভবা ছিলেন, হঠাৎ করেই ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়লেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র নামে কিছু একটা ছিল সে অজপাড়াগাঁয়ে, তবে সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মী এসে অবস্থা দেখেই বলে দিল যে অন্ততঃ উপজেলা হাসপাতালে নিতে হবে। এখন বাড়ীর কর্তা হরিদাস এত টাকা পাবে কই? আনা নেয়ার খরচ আছে, হাসপাতালের খরচ আছে। হরিদাস মালতীর দিকে চায়, মালতীরও কিছু করার নেই। বেশ ভালো পরিমাণ টাকা দরকার, অন্ততঃ দু'তিন হাজার!

মালতী মারিসানের সাথে কথা বললেন বিষয়টা নিয়ে। মারিসান বললেন জাপানী দলের বাকী সবার সাথে, সবাই মিলে দু'তিনশ টাকা করে তুলে দিল মালতীর হাতে। মালতী গিয়ে দাঁড়ালেন সেই বাসার সামনে। হরিদাসকে ডাকলেন, সে বেরিয়ে আসল, টাকা নিতে, কৃতজ্ঞ হতে। টাকাটা যে জাপানীরা তুলে দিয়েছে এটা মালতী লোকটাকে বলেনি, সেকথা আবার মারিসানদের কানে তুলে দিল দোভাষী মহিলাটি। তবে তারচেয়েও যে ব্যাপারে মারিসান বেশী আহত হলেন সেটা হলো মালতীর আচরণে। বিশেষ করে যখন সে হরিদাসকে টাকাটা দিচ্ছিল।

পাঠক, একবার টাকা নেয়ার দৃশ্যটা কল্পনা করুন।

হরিদাস হাঁটুগেঁড়ে মালতীর সামনে বসল, দুহাত সামনে তুলে প্রণামের ভঙ্গিতে টাকাটা ভিক্ষা চাইল। তারপর টাকা হাতে নিয়ে মহাদেবী মালতীর পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ল। খানিক পরে উঠে গিয়ে স্ত্রীকে তাড়াতাড়ি ডাক্তারখানায় নিয়ে যাবার জোগাড়যন্ত্র শুরু করল।

২.
মারিসান বাঙালী নন, আবারও যস্মিন যদাচারের মতোই ব্যাপার ঘটল, মানে "যে দেশে যেরকম ভাবে"। তিনি জাপানে ফিরে এসে রিপোর্ট করলেন ক্লাবে, সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, মিস মালতীর নিশ্চয়ই শিক্ষার অভাব। তাকে জাপানে এনে শেখাতে হবে লিডারশীপ কাকে বলে, লীডারশীপ মানে ঈশ্বর বনে যাওয়া না, লিডারশীপ মানে বাকী সবার দায়িত্ব নেয়া -- এটা মিস মালতীকে পদে পদে শেখাতে হবে। ভগবানের লীলা বোঝা ভার, এরকম বাজে আচরণের কারণে মানুষের হয় শাস্তি, আর মালতীর গেল কপাল খুলে। তাকে একবছর জাপানে এনে ট্রেনিং দেয়া হলো, যে টাকাটা গরীবের জন্য ব্যবহার হতে পারত সে টাকাটা ক্লাব ব্যবহার করলো মালতীর শিক্ষার জন্য। তারা ভেবেছিল প্রশিক্ষিত হয়ে মালতী যখন দেশে ফিরে যাবে, তখন সে এর চেয়ে বেশী আউটপুট দেবে।

জাপানে এনে একবছর তাকে লীডারশীপ নিয়ে বেশ কিছু ওয়ার্কশপ করানো হলো। নানান জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো। স্কুল পরিদর্শনে নিয়ে গিয়ে দেখানো হলো হেডমাস্টারের ঘরে যখন কেউ অতিথি হয়, তখন হেডমাস্টার নিজে চা ঢেলে অতিথিকে আপ্যায়ন করছেন। ক্লাবের প্রধানকে দেখা গেল একই গাড়ীতে অন্যদের সাথে গাদাগাদি করে কোনভাবে বসেছেন, অথবা মন্দিরে নিয়ে দেখানো হলো পুরোহিত নিজ হাতে পরিস্কার করছেন উঠোন। এমনকি তাকে শহরের মেয়রের সাথে দেখা করানোরও ব্যবস্থা করে ফেললেন এক সদস্য, মেয়র নিজ হাতে তাকে চা ঢেলে আপ্যায়ন করেন। আর সবার বিনয়ী ব্যবহার তো বলাই বাহুল্য।

আরো দেখানো হলো কিভাবে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ক্লাবের সদস্যরা মিলে হোমলেসদের সাহায্য করে, যখন কাপড় বিলাতে যায়, তখন হোমলেস লোকটার গায়ে কাপড়টা ঠিকমতো লাগল কিনা সেটা চেক করে, আনন্দে জড়িয়ে ধরে। আবার কোনকোন শীতের রাতে হয়ত হোমলেসদের মাঝে কমলা বিলানো হয় (কমলা ঠান্ডা রোধ করে), হোমলেস লোকটার পাশে বসে সেই কমলার এক-দুই কোয়া আবার যে বিলাচ্ছে সেই খাচ্ছে আর তার গল্প শুনছে। সবই দেখানো হলো, মালতীকে সবার সেবাই দেয়া হলো। তাকে শেখানোর চেষ্টা করা হলো যে "দেখ, তোমার চেয়ে কত উঁচু পদমর্যাদার লোক কিভাবে আচরণ করে, তাই তোমার কি করা উচিত।"

মারিসানের এসব কথা শুনে আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগল? আমি মৃদু হেসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার কি মনে হয় সে কিছু শিখেছে।"

মারিসানও মৃদু হাসলেন, বললেন, " কয়েক বছর আগে আবারও গিয়েছি ময়মনসিংহে, মালতীকে দেখেছি, কিছুই বদলায়নি।"

আমি বললাম, "গিয়ে দেখুন এখন সে বলছে, 'জানিস!! জাপানী মেয়রও আমাকে সম্মান করে!!!'"

মারিসান অসহায় হাসি হাসেন। সবশেষে যেটা বলেন সেটা হলো, এই মিস মালতীও একসময় হরিদাসের অবস্থাতেই ছিল, আজ কেন সে সব ভুলে যায়?

মালতীরা কি জানেনা, তারা প্রত্যেকে একেকজন মাদার তেরেসা হতে পারত?

 

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
কিরিটি রায় বলেছেন: মারিসানের এসব কথা শুনে আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগল? আমি মৃদু হেসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার কি মনে হয় সে কিছু শিখেছে।"

মারিসানও মৃদু হাসলেন, বললেন, " কয়েক বছর আগে আবারও গিয়েছি ময়মনসিংহে, মালতীকে দেখেছি, কিছুই বদলায়নি।"

আমি বললাম, "গিয়ে দেখুন এখন সে বলছে, 'জানিস!! জাপানী মেয়রও আমাকে সম্মান করে!!!'"

মারিসান অসহায় হাসি হাসেন। সবশেষে যেটা বলেন সেটা হলো, এই মিস মালতীও একসময় হরিদাসের অবস্থাতেই ছিল, আজ কেন সে সব ভুলে যায়?

শুধু মালতিরা ণয়. ভুলে যায়.. আবেদ খান... ড. ইউনুস..... গংরাও..

এটা এ ই জাতির বা জনগণের দূভার্গ্য..
২. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: হায় ! মিস মালতী
হায় আমার বাংলাদেশ !!
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: হায় হায় করা ছাড়া কি করি কন

৩. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
ফ্রুলিংক্স বলেছেন: "মালতীরা কি জানেনা, তারা প্রত্যেকে একেকজন মাদার তেরেসার হতে পারত?"
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনি কোট করায় ভুলটা ধরা পড়ল :)

৪. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:১২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ফজলে হাসান আবেদ..... গংরাও ... এরা পড়ে প্রথমোক্ত সমস্যার মধ্যে ... কেন ত্রিশ বছরেও কিছু হয়না ...

ইউনুসেরটা এনজিও না, ব্যাংক ... যা একটু গরীবকে দাঁড় করিয়েছে সেটা ঐ ইউনুসের আইডিয়া আর কাজই ... আর কোন কুতুব কিছুই করতে পারেনাই ... যাই হোক এটা আবার ভিন্ন প্রসঙ্গ ...

৫. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭
শেখ জলিল বলেছেন: এনজিওসেবার নামে প্রভুত্ব অর্জন এবং প্রভুত্ব প্রদর্শনের যে স্পর্ধা, সেটা আমাদের সেবক-সেবিকাদের মাঝে কিভাবে ছড়িয়ে গেছে সেই সমস্যা।
...সহমত।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, জলিল ভাই

৬. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:২৮
কিরিটি রায় বলেছেন: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ফজলে হাসান আবেদ..... গংরাও ... এরা পড়ে প্রথমোক্ত সমস্যার মধ্যে ... কেন ত্রিশ বছরেও কিছু হয়না ...

ইউনুসেরটা এনজিও না, ব্যাংক ... যা একটু গরীবকে দাঁড় করিয়েছে সেটা ঐ ইউনুসের আইডিয়া আর কাজই ... আর কোন কুতুব কিছুই করতে পারেনাই ... যাই হোক এটা আবার ভিন্ন প্রসঙ্গ ...


বিষয়টা কি মালিক পক্ষ সমর্থন??? না তাবেদারী!!!!! কিংবা সুবিধাবাদ।!!!

কথায় আছে মরা কেন চলে.. জেতায় (জীবিত) যে ঠেলে...

মালতিরা এমন ব্যবহার করে কেন? তাতে মালতির যেমন দায় মালিক গংরাও কি সমান দায়ী নয়? আমি ব্যক্তিগত ভাবে ব্রাকে শর্টটাইম ভলান্টারি ওয়ার্কে যা দেখেছি তাতে যা বুঝছি তা শুভ নয়। আপনি বলবেন অল্প সময়ে এত বড় প্রতিষ্ঠান কে এসেস করা যায় না।
আমি বলি ভাতের হাড়ির সব ভাত কোন রমনী টিপে দেখে না ...এক দুইটা ভাত টিপেই বলে দিতে পারে খবর...

তাই ড. ইউনুস এনজিও নয় ব্যংক বলে কি পান্ডিত্য বুঝাতে চাইলেন????
সবাই জানে এটা ব্যাংক। এবং সবাই এও জানে তিনি এনজিও ব্যাক্তিত্ব।
সে যাই হোক...আবার এই মহত ব্যাংকও কিন্তু কাবুলিওয়ালার রুপেও প্রতিষ্ঠিত।

সে জন্য দরকার আপনার প্রবন্ধেই উল্লেখ করা সেই মানসিকতা...
যা শিখাতে জাপানীরা মারতিকে জাপান নিয়েছিল।

আর আমাদের দূভার্গ্য আমরা সত্য না শিখে....মালতির মতো ভুলটাই শিখী..বললাম, "গিয়ে দেখুন এখন সে বলছে, 'জানিস!! জাপানী মেয়রও আমাকে সম্মান করে!!!'"
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: কিরিটি রায়, আপনার পয়েন্টটা আগে ঠিকমতো বুঝিনি ... হ্যাঁ, পুরোপুরি একমত যে মালতীদের এভাবে তৈরী হয়ে ওঠার ব্যাপারে মালিকপক্ষের ভুমিকা আছে ... আসলে এনজিওবিষয়ক সব সমস্যাতেই মালিকপক্ষের ভূমিকা আছে, দায় আছে ...
সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই



০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪০

লেখক বলেছেন: মালিকপক্ষকে তো আমরা সবসময়েই দায়ী করি ... এনজিও নিয়ে ব্যাবসা করা হচ্ছে হরদম ... সেটা সবাই জানি ...

আমি এখানে ফোকাস করছি, যেটা তা হলো, এর বাইরেও অন্যঅংশগুলোতেও সমস্যা আছে ...

৭. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন: জ্বিনের বাদশা ভাই, এই সমস্যাটা মনে হয় আপ টু বটম আমদের পুরা সোসাইটির মধ্যেই আছে, এমনকি এই ব্লগেও, যেখানে সবাই কিন্তু কমবেশি শিক্ষিত। পরাধীন আর ক্ষমতাহীন থাকতে থাকতে মনে হয় আমাদের রক্তে একটা কমপ্লেক্স ঢুকে গেছে, সামান্য একটু সুযোগ পেলে আমাদের মধ্যে বিনয় বা মহানুভবতা না, নিজেকে জাহির করার প্রবনতা আগে আসে, সেটা সতভাবেই হোক বা অন্যায়ভাবেই হোক।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২

লেখক বলেছেন: "নিজেকে জাহির করার প্রবনতা " -- জায়গামতো ধরেছেন...

৮. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪১
কিরিটি রায় বলেছেন: লেখক বলেছেন: কিরিটি রায়, আপনার পয়েন্টটা আগে ঠিকমতো বুঝিনি ... হ্যাঁ, পুরোপুরি একমত যে মালতীদের এভাবে তৈরী হয়ে ওঠার ব্যাপারে মালিকপক্ষের ভুমিকা আছে ... আসলে এনজিওবিষয়ক সব সমস্যাতেই মালিকপক্ষের ভূমিকা আছে, দায় আছে ...
সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই

ধন্যবাদ আপনাকে।
৯. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯
তীরন্দাজ বলেছেন: অতি বাস্তব একটি উদাহরণ টেনেছেন বাদশা। এধরণের ব্যাবহাবের বিরাট অংশ হচ্ছে আমাদের নিজেদের ভেতরের দৈন্যতা ও শুন্যতা। কিছুটা উপমহাদেশীয় চরিত্র ও বাকীটা বৃটিশ উপনিবেশের প্রভাব।

আমরা নিজেরা নিজেদেরকে ছোট ভাবি বলে, একটু ছোট, দুর্বল কাউকে দেখলেই ঝাপিয়ে পড়ি তার উপর। এরকম পৃথিবীতে অন্য কোথাও থাকলেও, খুব কমই খুজে পাওয়া যাবে।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তীরুদা ... এটা কি শিক্ষার দোষ? অবাক লাগে ... আসলেই শুধু উপমহাদেশেই মনে হয় এরকম

বিশেষ করে আমি যখন নিজের মুখোমুখি হই তখন লজ্জা লাগে ... আমি কি একজন রিক্সাওয়ালার সাথে ফুটপাথে বসে আড্ডা দিতে পারব? ... ভাবলে মনে হয়, আমি কত ভব্য রে!! ... নিজেকেই প্রশ্ন করি, আমি কি ওদেরকে মানুষ ভাবি? ... লজ্জা লজ্জা

১০. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫১
হোসেইন বলেছেন: পড়লাম , কিছু বলার নেই ।
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, হোসেইন

১১. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
তানভীর মোর্শেদ বলেছেন: মালতী কখন মাদার তেরেসা হয় না.. হবে ইউনুচ... তার সামনে ক্ষমতা, দাপটের এতো নজির থকেত কেন সে মাদার তেরসার মতন হবে বলেন !!!!
০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: ভাল বলেছেন ... মালতির পক্ষে ভাবার মতো বিষয় পাওয়া গেল ...

০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৫. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০১
পাগলা ভাই বলেছেন: এক বস্তা ঘৃনা ছাড়া আর কিছুই দেওয়ার নেই
১৭. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৪২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ @ অচেনা, রাশেদ, জিল্লুর আর পাগলা ভাইকে
১৮. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ১:২২
kiron বলেছেন: আসলে মালতী কখনও মাদার তেরেসা হতে চায়না।
এই সংগঠন গুলো তো দারিদ্র দূর করতে চায়না।
বরং মালতী তৈরী করা তাদের জন্য ভাল। মালতীরা প্রভু হতে পছন্দ করে।
যার হাত ধরে আসলে এই সংগঠনগুলো।
মালতী কি হরিদাসের মতই এই স্কলারশীপ নিচ্ছেনা?
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:০২

লেখক বলেছেন: "এই সংগঠন গুলো তো দারিদ্র দূর করতে চায়না।" -- এটা একটা পয়েন্ট ... দারিদ্র্য দূর হলে সংগঠনগুলোর প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে

১৯. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৫৮
লাজুকবোকা বলেছেন: আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ব্লগে আর কখনো লিখবো না। যারা একবারের জন্য হলেও আমার ব্লগে এসেছেন তাদের জানানোর জন্য আর আমার প্রিয় কিছু ব্লগারকে জানানোর জন্য এই কমেন্টটা করছি। মাত্র ৫দিন আগে এই ব্লগে লেখা শুরু করে আজ কষ্ট নিয়ে চলে যেতে হচ্ছে। এই কয়দিনে যদি কারও মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকি তবে পারলে ক্ষমা করবেন।

কারও যদি কখনো জানতে ইচ্ছা করে কেন চলে যাচ্ছি তাহলে এই লিংকে একটু ক্লিক করে দেখে নিবেন।

সবাই ভাল থাকুন।। 'লাজুকবোকা'
২০. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:০১
মিরাজ বলেছেন: ভালো লাগলো লেখাটি ।

তবে এটি মনে রাখতে হবে এটি এনজিও সেবার একটি রূপ, এর বিপরীতটির উদাহরণও কিন্তু দুর্লভ নয় ।
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:০৪

লেখক বলেছেন: তা ঠিক ... অন্যরূপও আছে ... তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে যখন এনজিওগুলোর মাঠকর্মী ভার্সাস সাহায্যগ্রহীতা প্রসঙ্গ আসে, এই প্রভুত্ব প্রদর্শনের প্রচলনটা দেখা যায় ... সেই "রিলিফ ওয়ার্কের" যুগ থেকে শুরু

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:০৫

লেখক বলেছেন: দীর্ঘশ্বাস

২২. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০
ফারহান দাউদ বলেছেন: "পরাধীন আর ক্ষমতাহীন থাকতে থাকতে মনে হয় আমাদের রক্তে একটা কমপ্লেক্স ঢুকে গেছে, সামান্য একটু সুযোগ পেলে আমাদের মধ্যে বিনয় বা মহানুভবতা না, নিজেকে জাহির করার প্রবনতা আগে আসে, সেটা সতভাবেই হোক বা অন্যায়ভাবেই হোক।"
এটাই আসল কথা,হয়তো আমাদের সময় হয়নি বা শিক্ষাটা ঠিকমত হয়নি,কে জানে!
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: "শিক্ষা"টা নিয়া আসলেই চিন্তিত ... শিক্ষা নামক চেইনটায় যদি ঝামেলা থাকে, তাইলে সব প্রোডাক্ট বাতিল :(

২৩. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৪
অলস ছেলে বলেছেন: আমার পছন্দের প্রসঙ্গে পোষ্ট বলে মন্তব্য করার জন্য লগ ইন করতে হলো।
আর বেশ কয়েকদিন পর পর সামহোয়ারে আসা হয় বলে মন্তব্যটাও হয়তো দেরী হয়ে গেল করতে।
কিন্তু কথা আপনার সত্যি। আমরা বাঙ্গালীরা সবাই মালতী'র মতই মননে এবং মানে।
অনেককে দেখেছি বাঙ্গালীদের ছোটমন এবং নিকৃষ্ট মানসিকতাকে তুলোধুনো করার পর নিজেও তেমনই। আমি নিজেও নিজ সম্পর্কে কখনো সন্দিহান, কখনো লজ্জিত।
এই জাতিতে আগামী এক হাজার বছরেও অলৌকিক কিছু না হলে খুব মহৎ কোন মানুষ বেড়ে ওঠার পরিবেশ হবে না।
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: আমিও নিজেকে নিয়েই বেশী লজ্জিত ... সেটাই হয়ত ব্লগে ঝেড়ে যাই ... একটু আরাম পাই, এই যা :) ...

২৪. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:১৩
মাহবুব সুমন বলেছেন: প্রবাসে থাকা এক ছেলে। পড়াশুনা শেষ করে দেশে যাবার পর সোজা বিশাল পদে, প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা, ক্যাডার পোস্ট। এক গ্লাস পানি তুলে খেতে রুচি/সম্মান/অহমে বাঁধে। অথচ এই ছেলেটিও একসময় সব কাজ নিজে নিজে করেছে, মাছের দোকানে মাছ কেটেছে, হেসে হেসে সবার সাথে সম্মান করে কথা বলেছে। দেশ ভেদে তার আচরনে কতই না ফারাক ! সত্য ঘটনা।

সমস্যাটা অনেকটুকুই ব্যক্তিগত তবে এটা আমাদের এমনই মজ্জাগত হয়ে গিয়েছে যে সেটা আর ব্যক্তিগত বলা যায় না এখন। ঔপনেবেশিক সামন্ত-দাস সুলভ মন মাসনসিকতা, প্রকৃত শিক্ষায় অভাবে সভ্য হতে না পারা, দুর্বলতর আরেকজনের উপর প্রভুসুলব আচরন করার প্রবৃত্তি ইত্যাদি অনেক কিছুই কাজ করে বলে মনে হয়।
বুঝাইতে পারলাম বাদশা চাচ্চু ;) ??
০৫ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৫২

লেখক বলেছেন: বুঝলামরে ভাতিজা

২৫. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:১৯
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: বস মনটা খারাপ হয়ে গেল । মনে হচ্ছে মালতীদের মত অপরাধীটা আমি নিজে , এতদিন খোলসে লুকিয়ে ছিলাম , আজ ধরা খেয়ে গেলাম।
০৫ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৫৩

লেখক বলেছেন: এই মনে হওয়াটাই অনেক ... এটাই একধাপ এগিয়ে যাওয়া ... কাজেই আপনাকে দিয়ে এমন হবার সম্ভাবনা আর নেই

২৬. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৫৩
সাহোশি৬ বলেছেন: ইংরেজরা কি আমাদের এমনিই দুইশ' বছর শাষন করতে পেরেছিল? আমরা মাতিদের মতো বলেই শাষিত হয়েছি। বিদেশী প্রভূদের(!!!!) দেয়া কৃপায় আমরা মালতিরা ভুলে যাই যে আমরা আসলে প্রত্যেকেই হরিদাস পাল।
২৭. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৭:৩৫
ফেরারী পাখি বলেছেন: এটি একটি আমার জন্মের আগের পোষ্ট মানে আমি ব্লগে আসার আগেই এই পোষ্টটি দিয়েছেন লেখক এবং এটিকে আমি মিস করে গিয়েছিলাম।।

সত্যিই এ লেখার কোন তুলনা হয়না, একেবারে লা জবাব।
২৮. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০৯
সুবিদ্ বলেছেন: এমন মিথ্যা অহং যেন পরিহার করি সর্বদা.......
২৯. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:২০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: সাহোশি, ফেরারী পাখি, সুবিদ্, আপনাদের তিনজনকেই অনেক ধন্যবাদ
৩০. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩২
জনৈক আরাফাত বলেছেন: মালতীরা জানেনা, চেষ্টাও হয়তো করেনা।
৩১. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৪
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: কি বলব বুঝতে পারছি না!
৩২. ০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১৮
রেজোওয়ানা বলেছেন: এখন আবার আমরা গোপালের মাৎসন্যায় যুগে বাস করছি। বড় মাছ গুলো ছোট মাছে গুলোকে অবলিলায় খেয়ে ফেলছে।
৩৩. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৭
হামদান বলেছেন: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: বস মনটা খারাপ হয়ে গেল । মনে হচ্ছে মালতীদের মত অপরাধীটা আমি নিজে , এতদিন খোলসে লুকিয়ে ছিলাম , আজ ধরা খেয়ে গেলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৫৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ