somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ নির্বাচন: আসলে কি হচ্ছে?

২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.

নির্বাচন নিয়ে আবারও ডেডলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। মাসদুয়েক আগে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ প্রায় অধিকাংশ রাজনৈতিক কালপ্রিটেরা যখন সুড়সুড় করে মুক্তি পেতে শুরু করলো তখন একটা কৌতুক মনে পড়েছিলো, ব্লগেও দিয়েছিলাম। তিন ভদ্রলোকের নির্জনদ্বীপে গিয়ে পড়ার কৌতুক। সেখানে এক জ্বিন এসে তিনজনকঐ একটি করে বরপ্রার্থনা করতে বলে। প্রথম দুজন নিজনিজ আপনজনের কাছে ফিরে গেলেও, তৃতীয়জনের দুনিয়ায় কেউ না থাকায় সে আবার ঐ দুজনকে নির্জন দ্বীপে ফেরত আনানোর বরপ্রার্থনা করে। মানে, ফিজিক্সে পড়া সেই চিরাচরিত ফ্রেজ, "মোট বলের লব্ধি শূণ্য" টাইপের ব্যাপার। আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে এই ফেনোমেনাটা খুব চরমভাবে জেঁকে বসেছে, আমাদের দেশটা হলো রড, আর রাজনীতিবিদদের হাতে একেকটা হাতুড়ি। এরা একবার রডে বাড়ি দেন, শব্দ হয় "যেই", আরেকবার বাড়ি দেন, শব্দ হয় "সেই"। সন্ধিসমাসের প্রয়োগে সেটা প্রবাদ হয়ে যায়, "যেই, সেই" -- এ থেকে যেন মুক্তি নেই!

যারা আওয়ামীলীগ বা বিএনপির যে কোন একটা দল জিতলে পূলক অনুভব করেন তাদের জন্য হয়ত একদম এক না, তবে যারা এব্যাপারে প্রায় পুরোই নির্লিপ্ত, তাদের জন্য একদম ১/১১ এর পূর্বের পরিস্থিতিই আবার তৈরী হয়ে গেলো। শুধু পাত্র পরিবর্তন হয়েছে। এখন কি হবে? এমন অবস্থায় ভোট হলে একদল জিতবে, অন্যদল রাজপথ কাঁপাবে। আজ হরতাল, কাল ধর্মঘট, পরশু মানববন্ধন। দেশবাসীর কোন লাভটা হবে??

এই লেখার উদ্দেশ্য অবশ্য এই অসহায় প্রলাপ না, যদিও দেশের রাজনীতি নিয়ে লিখতে গেলে বা ভাবতে গেলে সবকিছু ঘুরেফিরে কেন জানি উপরোক্ত প্রলাপেই এসে ঠেকে যায়! লেখাটা শুরু করার সময় উদ্দেশ্য ছিলো সাম্প্রতিক যে ঘটনাগুলো ঘটলো দেশে, সেগুলোর ফ্যাক্ট-বাই-ফ্যাক্ট বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা যে ঘটনার জল কোনদিকে গড়াচ্ছে!

এখানে ইউটোপিক সিনারিও হলো, চারদলীয় জোট আর চৌদ্দ দলীয় জোট -- দুপক্ষই নির্বাচনে অংশ নেবে---> মানুষ দলে দলে ভোট দিতে যাবে নিজনিজ কেন্দ্রে ---> বিদেশী পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরে "ইমপ্রেসিভ! ইমপ্রেসিভ!" বলতে বলতে মাথা নাড়বেন ---> আর পরদিন হাসিনা বা খালেদার দন্তবিকশিত হাসি থাকবে দেশের সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতার অর্ধেক জুড়ে। এটা খুব কঠিন কোন সিনারিও না, কারণ আমি এতে পরাজিত দলের জয়ী দলকে অভিনন্দন জানানোর দৃশ্যটা কেটে দিয়েছি (অতটা অপটিমিস্ট এখনও হতে পারিনি)। কিন্তু এই সিনারিওটা তৈরী হওয়াও এখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। এর পেছনে কারণ কি? সেটাই ঘেঁটে দেখতে চাচ্ছি।

২.

মূল সমস্যাটা হলো চারদলীয় জোটকে নিয়ে, এরা ১৮ই ডিসেম্বর ভোট হলে ভোটে যেতে চাচ্ছেনা। আবার, চৌদ্দ দলীয় জোট চাচ্ছে ভোট ১৮ই ডিসেম্বরই হোক। কোনভাবেই পেছানো যাবেনা! ফলে তৃতীয় পক্ষ, অর্থাৎ, সরকার বাহাদুর এখন চাইলেও ভোট পেছাতে পারছেনা, কারণ দুইপক্ষের সমঝোতা হচ্ছেনা।

এখন তিন পক্ষের কি করণীয়, কেন করতে পারছেনা -- এসব ভাবার চেষ্টা করি।

সরকারে ভূমিকা নিয়ে ভাবলে যেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হলো, ভোট পেছানোর ব্যাপারে সরকারের আইনি প্রতিবন্ধকতায় পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই, কারণ গত তিনমাসের স্মৃতি নেড়েচেড়ে দেখলেই বোঝা যাবে সরকার কিভাবে বিচারবিভাগকে হাতের তালুতে নিয়ে খেলেছে। চাইলেই যে কোন আইন পাশ করিয়েই করা সম্ভব। তাহলে সরকার নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছেনা কেন? আর একটাই কারণ হাতে থাকে -- সেটা হলো আওয়ামী লীগ (মহাজোট) সেটা মানবেনা। এখন কথা হলো মহাজোট এটা মানবেনা কেন? তাদের কি অসুবিধা?


৩.

এখন তাহলে নজর দিই মহাজোটের বা আওয়ামী লীগের ভূমিকার দিকে। এদের ব্যাপারে কি কি স্পেকুলেশন বাজারে চালু আছে, আগে সেটার দিকে নজর দিই।
একটা স্পেকুলেশন হলো, আওয়ামী লীগ খুব কনফিডেন্ট যে এবারের নির্বাচনে তারাই জিতবে। কাজেই তারা চাচ্ছে যে আগে আগে ভোট হোক, ক্ষমতা হাতে আসুক। এখানে যে প্রশ্নগুলো তারপরও থেকে যায়, তা হলো,
আওয়ামী লীগ যদি এতই কনফিডেন্ট থাকে, তাহলে ভোট নেয়া আর পনের দিন পেছাতে এত আপত্তি কোথায়? পনেরো দিনে তো বিএনপি আর এমন কোন যাদুবল আনতে পারবেনা যে একশ আশি ডিগ্রী ঘুরে গিয়ে ফলাফল তাদের ঘরে চলে যাবে! তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পেছানো নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকারই বা কি -- এই খটকাটা চলে আসে। প্রতিপক্ষ যখন দূর্বল, তখন ওয়াকওভারে না জিতে খেলে জিতাটাই তো পলিসি হওয়া উচিত।

প্রাসঙ্গিকভাবে আরো যে প্রশ্নগুলো আসে, তা হলো -- আওয়ামী লীগ এই কনফিডেন্স পেলো কোথা থেকে? কবে থেকে তারা এত কনফিডেন্ট? আমরা যদি একটু অতীতে চোখ বুলাই তাহলে দেখব যে খালেদা জিয়া- তারেক এদের মুক্তির পর বরং বিএনপিওয়ালাদের চোখেমুখে একটা বিজয়ী বিজয়ী ভাব ছিলো, আওয়ামী নেতৃত্ব শেখ হাসিনার জামিন নিয়ে চিন্তিত ছিলো। তাদের বক্তব্য ছিলো এরকম যে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যদি থাকে তাহলে তারা নির্বাচনে যাবেন। তার পরপরি শেখ হাসিনা আসলেন, আওয়ামী লীগে আনন্দের জোয়ার বইলো, তিনি এক এক করে মামলা থেকে "অব্যহতি" পেতে থাকলেন। আওয়ামী লীগে কনফিডেন্ট দেখ দিতে লাগল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে যে কথাটা আওয়ামী লীগের ব্যাপারে চালু হলো, তা হলো, শেখ হাসিনার সাথে সরকারের আপোষ হয়েছে। অনেকের মতে এই আপোষ এরকম যে হাসিনার সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এই সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডের বৈধতা দেবেন, যেটা তিনি নিজেও ঘোষনা করেছেন। কিন্তু, ক্ষমতায় গিয়ে আগের সরকারের কর্মকান্ডের বৈধতা যে দল ক্ষমতায় যেত সেই দিত -- কারণ না হলে আইনগতভাবে তাদের ক্ষমতায় আসাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কাজেই এব্যাপারে সরকারের খুব একটা চিন্তিত হবার কথা না।

আপোষ নিয়ে আরেকটা যে "বিপজ্জনক" থিওরী চালু আছে, সেটা হলো, আপোষটা এরকম যে হাসিনার ঘাড়ে চেপে সামরিক সরকারই দেশ শাসন করবে। অর্থাৎ, সরকার দুই পক্ষের সাথেই নেগোসিয়েশন করেছে, শেষে মহাজোটের সাথে ভালো শর্তে আপোষ হয়েছে।
এব্যাপারটা নিয়ে আমি কিছুটা কনভিন্সড ছিলাম, কারণ সামরিক সরকারের দ্বারা এটা অসম্ভব না, হাসিনা/খালেদারা ক্ষমতা নিয়ে যেভাবে কুকুরের মতো কামড়াকামড়ি করেন তাতে তাদের জন্যও এরকম একটা অফার লুফে নেয়া অসম্ভব না। কিন্তু ইদানিং ব্যাপারটার সত্যতা নিয়ে আবার খটকা দেখা দিয়েছে।

এখন এই তত্ত্বের পক্ষ-বিপক্ষ'র কারণগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি:

প্রথমতঃ, তত্ত্বের পক্ষে বেশ কনভিন্সিং যে কারণটা দেখা যাচ্ছে সেটা হলো আওয়ামী লীগের সদ্যঘোষিত নমিনেশন। এই নমিনেশন প্রায় জুয়াড়ী লেভেলের। অনেক রিস্কি! একই নমিনেশন ২০০৭ এর শুরুতে যদি এরশাদকে নির্বাচন করতে দেয়া হতো তাহলে শেখ হাসিনা কোনভাবেই অনুমোদন করতেননা! এখন তিনি এতটা সাহস পাচ্ছেন কোথায়? এটা আমাকে চিন্তিত করেছে।
নির্বাচনে অস্ত্র আর টাকাওয়ালাদের নমিনেশন দেওয়া বাংলাদেশের ইলেকশন ডায়নামিক্সের একটা অপরিহার্য অংশ। নির্বাচনে নীতিবোধ বজায় রাখতে চাইলে কেউ এটা করবেনা, ঠিক আছে। কিন্তু ক্ষমতায় যেতে মরিয়া কেউ, যেটা দিয়ে আবশ্যিকভাবে হাসিনা/খালেদা'র দুজনকেই বিশেষায়িত করা যায়, তারা অবশ্যই এটা করবেন।
তবে উপরের তত্ত্বের বিপরীতে যে যুক্তিটা দেয়া যায়, সেটা হলো এখনকার সরকারের আমলে অস্ত্রবাজেরা সুবিধা করতে পারবেনা, জরুরী অবস্থায় নির্বাচন হবে বলে এবারের নির্বাচনে টাকার খেলা কম হবে -- সেজন্যই শেখ হাসিনা এই বাজিটা নিয়েছেন।

দ্বিতীয়তঃ, আপোষ তত্ত্বের পক্ষে সবচেয়ে বড় যে কারণটা দাঁড়ায়, সেটা হলো কয়েকদিন আগে ঘোষিত নির্বাচন কমিশনের একটি নীতিমালা, আমি জানিনা এটা এখনও বলবৎ আছে কিনা, তবে সরকারের মাথায় সামান্য ঘিলু থাকলেও এটা এখনই উঠিয়ে নেবে এই আশীর্বাদ করি। এই আইনটা হলো,
ভোটের ফলাফল সরকার ঘোষনা করার আগ পর্যন্ত কোনভাবেই প্রকাশ করা যাবেনা
এই আইন যদি আসলেই কার্যকর হয়, তাহলে ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক ভোটের লেভেলে চলে যাবে, আশা করি সরকার মহোদয়ের বোধোদয় হবে।

এখন আসি আপোষ তত্ত্বের বিপরীতে যে যুক্তিটা দাঁড় করানো যায় সেটাতে:
কথা হলো, সরকারের সাথে আপোষ যদি হয়েই যায়, তাহলে তো আওয়ামী লীগের আর কোন ভয়ই নেই যে তারা ক্ষমতায় যাচ্ছেনা! সেক্ষেত্রে পনেরো দিন অপেক্ষা করে যদি বিএনপিকে ভোটে অংশগ্রহন করানো যায়, তাহলে সেই বিজয়টা বেশী পাকাপোক্ত হবে। এরকম ভোটে একবার জিতলেই দলে জনপ্রিয়তার হাওয়া লাগে, ৯৬ এর আওয়ামী লীগের সেটা ভোলার কথা না, তারা কেন শুধু হেলায়-ফেলায় এই সুযোগ নষ্ট করবে?
কাজেই সরকারের সাথে গোপন সমঝোতা থাকলে আওয়ামী লীগের তো এটা বলাই বেটার ছিলো, যখনই ভোট হোক আমরা আছি।

তাহলে সেটা না করে আওয়ামী লীগ কেন ভোট পেছাতে দিতে রাজী না?

এই প্রশ্নটাই আওয়ামী লীগ আর সরকারের মাঝে আপোষের তত্ত্বকে ম্লান করে দেয়।

তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, মহান, লেজেহোমোর সুমহান উক্তি! ভুলি কেমনে? কাজেই উপরের যুক্তিকে আরেকদল চালাতে চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাজানো বাহানা বলে । তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ আসলে এখন ঢং করছে, যাতে মানুষ কনফিউজড হয়ে যায়। আসলে ভোট পেছালেও এরা ঠিকই নির্বাচনে অংশ নেবে।

এসব থেকে এই উপসংহারে আসা যায় যে, যদি ভোট ১৮ ই ডিসেম্বরে হয় তাহলে সরকারের সাথে আওয়ামী লীগের আপোষ নেই, কিন্তু যদি ভোট দুসপ্তাহ পরে হয় আর সেটার ঘোষনার পর আওয়ামী লীগ এমনি এমনি রাজী হয়ে যায়, তাহলে আওয়ামী লীগের এখনকার "ভোট পেছানো চলবেনা" আচরনটাকে সন্দেহ করা যায়! এটা হতে পারে মানুষকে ভড়কে দেবার জন্য, যাতে সরকারের সাথে তাদের আপোষ নেই এটা প্রতীয়মাণ হয়, এটা হতে পারে সময়ক্ষেপণ করে বিএনপির প্রস্তুতি নেয়াকে বাঁধা দিতে।


৪.

এবার আসি বিএনপি'র দিকে। এরা কি চাচ্ছে বোঝার চেষ্টা করি। প্রথমতঃ, এটা নিশ্চিত যে বিএনপি'র সাথে সরকারের কোন গোপন আপোষ হয়নি, হওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলেও দরাদরিতে দুপক্ষ একবিন্দুতে আসতে পারেনি। কাজেই তারা এখন বিদ্রোহী।

প্রথম প্রশ্ন, বিএনপি কবে থেকে বিদ্রোহী? কবে থেকে তারা নির্বাচন পেছাতে বলছে? এটা তারা করছে তফশীল ঘোষনার পর থেকেই। তাদের মূল দাবী ছিল যে তাদের জেলবন্দী নেতাগুলোকে ছেড়ে দিতে হবে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান খুবই ধোঁয়াটে। বর্তমানে তারা যা করছে সেটাকে ব্যাখ্যা করতে গেলে উপরের আওয়ামী লীগের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছে তার চেয়েও কঠিন অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

প্রথম কথা হলো, তারা ভোট পেছাতে বলছে কেন? এমনকি কতদিন পেছাতে হবে সেটাও দাবী করছেনা, শুধু বলছে ১৮ই ডিসেম্বর ভোট হলে মেনে নেবেনা, অংশতো নেবেইনা। ধরা যাক, ভোট দু'সপ্তা পেছানো হলো -- তাতে কোন যাদুবলে খালেদা জিয়া জিতবেন? দুসপ্তায় তিনি কিভাবে হারানো জনমত ফিরে পাবেন? তিনি যদি হেরে যাচ্ছেন ভেবে ভোট দুসপ্তাহ পেছাতে বলেন, তাহলে সেটা পিছিয়েও তার হারজিতের বদল হবে বলে মনে হয়না।

কাজেই একটা উপসংহার টানা যায় যে, এখন সরকার আর আওয়ামী লীগ যা করছে, তা হলো বিএনপিকে একটা ঝামেলা পাকানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন কথা হলো, সরকার আর আওয়ামী লীগ যদি আজ রাতারাতি একটা সমঝোতায় পৌঁছায় যে ভোট আরো পনেরোদিন পেছাবে, তখন বিএনপি কি করবে? এই জায়গাটাই আমার কাছে সবচেয়ে ধোঁয়াটে।

তখনও যদি বিএনপি অংশ না নেয় তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে খালেদা জিয়া শুধু ঝামেলাই পাকাতে চাচ্ছেন, তিনি কোনভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে হারতে চাচ্ছেননা।

আর বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে কি কি স্পেকুলেশন করা যায় ভাবা যাক। একটা হতে পারে যে তাদের আসলেই প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন। এটা হলে আমি বিএনপি'র বর্তমান অবস্থানে দোষ দেখিনা।

আরেকটা যেটা হতে পারে, সেটা হলো বিএনপি কি উল্টো আরেকটা আপোষের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যেটার জন্য তাদের আরো সময় লাগবে? ১ লা জানুয়ারী মইন ইউ আহমেদ পদত্যাগ করবেন, বিএনপি কি তার পদত্যাগের পর নির্বাচন করতে চাইছে। কিন্তু সেটার নিশ্চয়তা কি? সেটা হলে তো এখনও সরকারকে দুভাগ করে ফেলা যায়!


৫.

উপরের ৩. আর ৪. অংশে বাজারে প্রচলিত খুব ওয়াইল্ড স্পেকুলেশনগুলো আলোচনা করলাম। যেটা দেখা গেলো, সেটা হলো, আসলে এসব স্পেকুলেশনের কোনটাই ধোপে টিকছেনা। সুন্দর সুন্দর কন্সপিরেসী থিওরী তৈরী হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে যাচ্ছে।

কাজেই এই শেষ অংশে আমি ধরে নিচ্ছি, সরকারের সাথে আপোষের ভিত্তিতে কেউ ভোটে অংশ নিচ্ছেনা, বা আপোষের প্রচেষ্টায় কালক্ষেপন করছেনা।

মূল কারণটা কি তাহলে এই -- 'বিএনপির পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই, এবং তারা সেজন্য আরেকটু সময় চাচ্ছে; কিন্তু আওয়ামী লীগ চাচ্ছে বিএনপি যাতে সেরকম সময় না পায়, কারণ সেটা তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ায়।'

এটা সবচেয়ে সরল সমীকরণ, তবে এখানেও যেই খটকা থাকে সেটা আগেও উল্লেখ করেছি, আবারও করি -- পনেরো দিনের প্রস্তুতি কি নির্বাচনের ফলাফলকে খুববেশী হেরফের করবে? (আমি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নই, যদি আসলেই হেরফের হয়, তাহলে সম্ভবতঃ এটাই মূল কারণ)।

যদি পনেরদিনে তেমন হেরফের হবার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে কেন এই অচলাবস্থা?

আবারও পোস্টের শুরুতে ফিরে যাই। দুই ভদ্রমহিলার অহমের ফাইট? যেটার জন্য ২০০৬ এর শেষদিকে আমাদের প্রাণান্ত হতে হয়েছে, এবং দুবছর পর আবারও হতে হবে। যদি তাই হয়, তাহলে কি সরকার মাইনাস টু থেকে ফিরে এসে খুব একটা লাভবান হতে পেরেছে? জনগন কি পেরেছে?

প্রশ্ন, খালি প্রশ্নই থেকে যায়!!!

আমি খুব আশাবাদী মানুষ, কিন্তু দেশের বর্তমান অবস্থা দেখলে কোন আশাই অনুভব করতে পারিনা।
২৩টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×