somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণতন্ত্র মুক্তি পাক, উড়ে যাক, নিপাতই যাক

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নভেম্বর ২৭, ১৯৯০। শহীদ মিলন যেদিন মারা গেলেন।

দুপুরে ভাত খেয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে নিচে নেমেছিলাম, তখনই শুনেছিলাম, ডাক্তার মিলন মারা গেছেন। সাথে এও শুনেছিলাম, "এবার আর এরশাদের ছাড় নাই!"। আমি জানিনা আমরা সেদিন মহামান্য এরশাদের ওপর এত খেপেছিলাম কেন? যদি কোন ভুল হয়ে থাকে, ক্ষমা চাই, মান্যবর!

একটা মজার ঘটনা বলি, ২০০৬ এ এরশাদকে নিয়ে দুদিকেই টানাটানি হচ্ছিল, তাই এসব "নূর হোসেন দিবস", "মিলনের মৃত্যুবার্ষিকী", "৬ই ডিসেম্বর"কে কেউ পাত্তা দেয়নি। ২০০৭ এ সামরিক সরকার, দুদলকেই প্যাঁদাচ্ছিলো, পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনা দরকার, মহাসমারোহে পালিত হলো দিবসগুলো। এবৎসর নিশ্চয়ই বিএনপি খুব জাঁকজমকের সাথে ৬ই ডিসেম্বর পালন করবে! অবশ্য বলা যায়না, এরশাদ কাক্কুর ডিগবাজীকান্ড ভূবনবিখ্যাত।

ডাক্তার মিলন সম্পর্কে কিছুটা শুনেছিলাম আমার নানীর কাছে। সেজন্যই হয়ত আলাদা একটা আগ্রহ জেগেছিলো। এখন আর সেই আগ্রহ নেই, হাহুতাশ আছে। প্রথম যেবছর ব্লগ লেখা শুরু করেছিলাম, সেবার জোশ ছিলো, ৬ই ডিসেম্বরে লিখেছিলাম লেখাটা, আজ প্রথম আলোতে মিলনের মায়ের লেখা আর সচলায়তনে ব্লগার ষষ্ঠপান্ডবের লেখা পড়ে মনে হলো, আবারও শেয়ার করি। খানিকটা পরিবর্তন করেছি যদিও। একটা কবিতাই বানিয়ে ফেললাম, নাম দিলাম, "গণতন্ত্র উড়ে যাক"

**************************************************************
গণতন্ত্র উড়ে যাক

প্রোলগ:
কবর থেকে নূর হোসেন ফোন করেছিলো,
অট্ঠাসি হাসতে হাসতে বললো,
তার লাশের গায়ের সেই সাদাকালির লেখাগুলো কালো হয়ে গেছে,
শুধু তাইনা, লেখাগুলো নাকি বদলেও গেছে!
"ক্যামনে কি" জিজ্ঞেস করলাম,
বললো, "বেশী কথা কওন যাইবোনা"

১.
২৭শে নভেম্বর ১৯৯০ ভীড় করলো স্মৃতিতে ...
এমনি এমনি, কোন কারণ নেই, দিব্যি কাটছি -- এমনি এমনি
আমরা তো সে সময়ে নাদান মানুষ ছিলাম...
স্কুলে পড়তাম মাত্র ...
ইউনিভার্সিটির বাঘা নেতাও ছিলামনা ...
রাজনৈতিক দলের ডাকসাইটে কেউওনা ...
কি আর করার ছিল আমাদের?

কলোনীর গেটের কোণে দাঁড়াতাম ...
পুলিশের গাড়ী দেখলে দুএকটা ইট ছুঁড়তাম হয়ত,
অথবা অন্যদের ইট ছোঁড়া দেখতাম ...
পুলিশের গাড়ী কাছাকাছি আসলে দিতাম ভোঁ দৌড় ...
আমরা চিৎকার করতাম, স্লোগান দিতাম ... আমরা স্বপ্ন দেখতাম ... হায়রে স্বপ্ন ... এরবেশী কিছু করার সাধ্য আমাদের ছিলনা ...

তাও!!
আমাদের কাছে সেটাই ছিল এক যুদ্ধের মতো....
কারণ, আমাদের প্রজন্ম তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি!
আমাদের কাছে সেটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রোটোটাইপ ...

২.
যেদিন আমরা জিতলাম,
স্বৈরাচারের পতন হলো,
গণতন্ত্র মুক্তি পেল (!!) ...
আমরা মাথায় লাল সবুজ বেঁধে কাঁধে কাঁধ রেখে দাঁড়ালাম ...
আমরা তারস্বরে চিৎকার করলাম, বললাম, "শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেবনা" ...
আমরা মনে করলাম নূর হোসেনকে ...
সালাম জানালাম ড. মিলনকে ...
আমরা নাচলাম ...
গাইলাম ...
গদ্য করলাম...
পদ্যও করলাম
আরও কত হাবিজাবি ...
আমাদের অনেক মজা হয়েছিলো নিশ্চয়ই!

৩.
আচ্ছা!
মিলনের কথা কি আমাদের মনে আছে?
নূর হোসেনের চামড়ায় আঁকা সাদা আঁকিবুকিগুলো কি আমরা মনে করতে পারি?
এখন নিজেকে প্রশ্ন করি?

আমাদের কি মনে আছে মিলনের সেই বাচ্চা মেয়েটির নাম ?...
যে প্রতিদিন বাবা যখন অফিসে যাবার জন্য বের হতো তখন বলত, 'বাবা কবে আসবে?' ...
তার মা শুধরে দিতেন, বলতেন, 'কবে না মা, বলো কখন আসবে?' ...
মেয়েটা হয়ত বলত, হয়ত বলতনা ...
কি হবে এসব বিশ্লেষণ করে? ...
কি হবে? কি হয়? কিছু কি হয়?

আচ্ছা, আমাদের কি মিলনের সেই বাচ্চাটার মা'টার কথাই মনে আছে?
যে নিজের স্বামীর দেশপ্রেম নিয়ে গর্ব করত ...
আমেরিকা যাবার, সেটল করার এত সুযোগ থাকতেও তার স্বামী কি এক অজানা কারণে দেশটাকে আঁকড়ে ধরে ছিল!! ...
আচ্ছা, ড. মিলনের মায়ের নামই কি মনে আছে? ...
যে নারী একাই গড়ে তুলেছিলেন এক সৈনিককে গণতন্ত্র এনে দেতে?

দরকার কি? ...
বালের গণতন্ত্রেরই বা দরকার কি? ...
ক্ষমতা হলেই তো হয় ... নামের আগে প্রধানমন্ত্রী জুটলেই তো হয় ...
রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার ... যত্তোসব ফালতু বাত!
চিল্লাও মাত!!
আমরাও "তাঁরা" যাতে তাই পান, গলায় ঝোলান
সেজন্য তাথৈতাথৈ নাচি ...
আমাদের নাচতে খুব ভাল লাগে ...
আমাদের নাচের তালে তালে স্মৃতির অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো মুছে যায় ...

আচ্ছা!
সেই ছোট্ট শামা আজ কত বড় হয়েছে?
সে কি তার বাবার জন্য গর্ব করে হাঁটে, নিঃশ্বাস নেয়? ...
নাকি, সারাক্ষণ ভয়ে থাকে পাছে কেউ তার গর্ব দেখে ফেলে!!
হেসে ফেলে ...

মিলনের কবিতা কি এখনও দুচোখে অশ্রু আর গৌরব নিয়ে বারান্দায় বসে চা খায়? ...
নাকি তাকে বদ্ধ ঘরে চা খেতে হয় যাতে তার গৌরবটুকু লোকের চোখে ধরা পড়ে না যায়!

মিলনের মা সেলিনা হোসেনকে কি রিক্সায় চড়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে মিলনের কথা ভাবার সময় চোখের পানি লুকোতে হয়?

আহা!!
নূর হোসেন! দরিদ্র নূর হোসেন!!! ...
তোমার কাছে ক্ষমা চাইবার যোগ্যতাও আমার নেই ...
তোমার বাবার, মায়ের নামও আমার মনে নেই ...

৪.
আচ্ছা মনে করে দেখি নূর হোসেনের গায়ে কি লেখা ছিল ...!!!
"গণতন্ত্র নিপাত যাক"... উড়ে যাক... যাহ!
যা গণতন্ত্র, উড়ে যা পাখি হয়ে ... আর আসিসনি ফিরে ...

আমরা কিচেনের কফিনে নিপাতিত স্বৈরাচারের দেখভাল করব।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
১৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×