১. নাগরিক মনোযোগ কোথায় থাকা উচিত
পিলখানার হত্যাকান্ড আর বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হতে পারে যে একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিচের দুটো বিষয় নিয়েই মূলতঃ চিন্তিত হওয়া উচিত,
ক. নিহত সেনাসদস্যদের প্রতিটি মৃত্যুর যথাযথ বিচার সম্পাদিত হওয়া, এবং তাঁদের পরিবারদের স্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হওয়া, আর
খ. কথিত বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে কাজ করা যে অশুভ শক্তি, চাই সে বিডিআরের ভেতরের কিছুই হোক, বাহিরের কোন শক্তিই হোক, সেটাকে খুঁজে বের করা,
এবং এটাও সত্য যে ২৬ শে ফেব্রুয়ারী রাতে বিডিআর জওয়ানদের অস্ত্র সমর্পণের পরপরই আমাদের নাগরিক মনোযোগ উপরের দুটো বিষয়ের দিকেই চলে গেছে পুরোপুরি, আমাদের মিডিয়ার মনোযোগও তাই।
অথচ ক্ষতিগ্রস্থতা আর ক্ষমতার মধ্যে যে সমীকরণটি সাধারণত বিরাজ করে, এক্ষেত্রে সেটি উল্টে যাবার কারণে শুধু "বিডিআর জওয়ানদের ফাঁসী চাই" বলে স্লোগান নিয়ে আমাদের মাঠে বা পত্রিকায় অথবা ব্লগে না চেঁচালেও চলবে বলেই আমি মনে করি। ক্ষতিগ্রস্থতা আর ক্ষমতার মাঝের আপাত সমীকরণটি ক্ষমতাহীনকে ক্ষমতাশালীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু পিলখানার হত্যাকান্ড আর বিদ্রোহটি পুরোমাত্রায় উল্টো সমীকরণে চলেছে। কারণ, দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী সেনাবাহিনীর এলিট অফিসাররা এখানে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ, আর প্রায় ক্ষমতাহীন কিছু বিডিআর যুবক এখানে অপরাধী।
সেজন্যই নিষ্ঠুর শোনালেও যেটা সত্য তা হলো, নাগরিক মনোযোগ উপরের দুটো বিষয়ের কোনটির দিকেই যাওয়ার প্রয়োজন নেই; যেহেতু এই দুটি বিষয়ে মূলতঃ নাগরিক ও মিডিয়া মনোযোগের অবদান জিরো ইনপুটেরই সমান হবে, তাই সেই মনোযোগ থেকে বাড়তি কিছু পজিটিভ আউটপুটের আসার সম্ভাবনা নেই। কারণ, এখানে যে জিনিসটা আমরা নাগরিকেরা বারবার ভুলে যাচ্ছি, তা হলো, এই ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে বাস্তবঅর্থে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী অংশ মানে সেনাবাহিনীর, এবং আরেক ক্ষমতাশালী অংশ সরকারেরও শেষবিচারে ক্ষতিই হয়েছে। কাজেই আমরা দাবী করি আর না করি, মনোযোগ দেই বা না দেই, দোষী বিডিআর যুবকদের বিচার হবেই, ভাগ্যাহত সেনা অফিসারদের পরিবারবর্গ ক্ষতিপূরণ পাবেনই এবং একই সাথে যদি কোন ষড়যন্ত্রের হাত থাকে সেটাও সরকার আর সেনাবাহিনী মিলে বের করবেই।
যে অপূরণীয় ক্ষতি সেনাবাহিনীর হয়েছে, তাতে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কোনপ্রকার ছাড় দেবে বলে আমার কোনভাবেই মনে হয়না।
২. আমাদের মনোযোগ কোনদিকে যাচ্ছে?
নাগরিক হিসেবে আমি বরং ঘুরেফিরে সেই ক্ষমতাধরদের উপর মানে সেনাবাহিনীর কর্মকান্ডের উপরই সতর্ক চোখ রাখতে চাই, কিন্তু আমাদের সামষ্টিক নাগরিক মনোযোগ কি সেদিকে যাচ্ছে?
যেটা খেয়াল করা দরকার, ঘটনার অপরাধী অংশের হাতে এখন আর কোন ক্ষমতা নেই, বরং নিজেদের অপরাধের মূল নিউক্লিয়াসের সাথে তারা কাঁধে জুড়ে নিয়েছে কয়েক হাজার নিরপরাধ যুবকের ভবিষ্যৎ। মূল বিদ্রোহে হাজার হাজার বিডিআর সদস্য কোনভাবেই জড়িত থাকার কথা না, তাই এই "হাজার হাজার নিরপরাধ যুবক"র কথা আমাকে বলতেই হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতা(১), পেশাগত পরিচয়বশতঃ একতা(২), শ্রেনীগত ক্ষোভ(৩) আর তারচেয়েও বেশী 'স্রোতের অনুকূলেই সাঁতরাতে পছন্দ করাটা মানুষের সাধারণ আচরণ' হবার কারনেই(৪) যে এই "হাজার হাজার নিরপরাধ যুবক" সেদিন ঘটনার মূল হোতা বিদ্রোহীদের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলো সেটা নতুন করে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই বলেই মনে করি।
ভেবে দেখুন, ঘটনাক্রমে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে কিন্তু এই বিডিআর যুবকেরাই। এদের সম্পর্কে কোন খবরই আর নাগরিককে দেয়া হচ্ছেনা, এদের কোন পরিসংখ্যান কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা, এদের মধ্যে কেউ কেউ যদি মৃত হয়ে থাকে তাদের কোন খবর তো আসছেইনা, এমনকি এদের পরিবারবর্গের কোন খবর বা পরিবারবর্গের প্রতি সরকারের কোন প্রতিশ্রুতি কিছুই শোনা যাচ্ছেনা। আর দেশের নাগরিকদের একজন হিসেবে আমি হতাশার সাথে অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি যে আমাদের খুব কম সংখ্যক নাগরিকই এখন এই প্রসংগটা নিয়ে আলোচনায় উৎসাহ বোধ করছি। আমরা সচেতন নাগরিকেরা এখন মূলতঃ নিজেদের মতো দেখতে মানুষদের কান্না দেখে, নিজেদের মতো ভাষায় কথা বলা মানুষদের আহাজারি দেখে ফুঁসে উঠছি, বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছি বিডিআর যুবকদের কিভাবে কি করা উচিত, কতটুকু শাস্তি দেয়া উচিত, কতজনকে শাস্তি দেয়া উচিত ইত্যাদি নিয়ে।
মনোযোগ দেয়ার সময়, সদিচ্ছা এসব যদি আমাদের থেকেই থাকে সেটা কাজ করা উচিত শাস্তি দিতে গিয়ে ক্ষমতাশালী অংশ যেন বাড়াবাড়ি না করে সেটার প্রতি। যুগেযুগে নাগরিক মনোযোগ সেদিকেই কাজ করেছে, নাগরিকের মূল ক্ষমতা সে জায়গাটাতেই, সামষ্টিকভাবে নাগরিক হয়ে উঠে ক্ষমতাশালীদের প্রহরীর মতো -- অথচ আমরা মনিটর করতে চাচ্ছি ক্ষমতাহীনদেরকে!!
৩. বিডিআর যুবকদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ
বলা যেতে পারে যে এমন কি ঘটেছে যে আমি উপরের "হাজার হাজার নিরপরাধ যুবক"দের নিয়ে এত চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ২৬ তারিখ সন্ধ্যায় পিলখানায় বিডিআররা অস্ত্রসমর্পণ শুরু করার পর থেকে বেশ কিছু ঘটনাই এই উদ্বেগের কারণ। সেগুলোকে যতটুকু সম্ভব বড় দাগে পয়েন্ট আউট করার চেষ্টা করছি।
ক.
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বিডিআর জওয়ানদের সংখ্যা নিয়ে। ২৫ আর ২৬ তারিখ দু'দিন পিলখানায় আটক সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা ছিলো মোটামুটি দেড়শো থেকে দুশো, তাঁদের সংখ্যার হিসেব ধীরে ধীরে মিলতে শুরু করেছে -- জীবিত অথবা মৃত অবস্থায়। এটা ক্ষমতাশালীতার সমীকরণকে সিদ্ধ করে, ঠিকাছে।
কিন্তু বিডিআর সদস্যের মোট সংখ্যা কত সেটা নিয়ে কোন সুনিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্লগে একজনের মন্তব্যে দেখলাম পিলখানায় এখন ছ'হাজারের মতো বিডিআর জওয়ান স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হেফাজতে আছে (যদিও আগে আরেক জায়গায় শোনা গেছে সংখ্যাটা মাত্র দুশো), আর আমার জানামতে শ'দুয়ের মতো জওয়ান পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এতে কি সবার হিসেব মেলে? কারণ প্রথমে শোনা গিয়েছিলো প্রায় পনেরো হাজার বিডিআর জওয়ান জড়ো হয়েছিলো "বিডিআর সপ্তাহ" উপলক্ষ্যে।
একজন নাগরিক হিসেবে মিডিয়ার কাছে আমার দাবী অবিলম্বে আপনারা এই সংখ্যার দিকে মনোযোগ দিন, পরিস্থিতি এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনে, নিহত সেনাসদস্যদের হিসেব তাঁরা অবশ্যই মেলাবেন, সেটা নিয়ে বেশী মাথা না ঘামালেও চলবে। বরং বিডিআরদের সংখ্যার হিসেব মেলাতে তাদের বা সরকারের ওপর চাপ দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে মিডিয়ার, কারণ এখানে একটি লুকোচুরির আভাস আমরা পাচ্ছি ইতিহাসগত অভিজ্ঞতার বয়ানে, আর সেকাজটির আশা করি বলেই আমরা মিডিয়ার লম্বা সময় ধরে প্রচার করা বিজ্ঞাপন দেখেও মুখবুঁজে টিভির সামনে পড়ে থাকি।
খ.
২৫ তারিখ সন্ধ্যায় বা ২৬ তারিখ সারাদিন সরকার যখন বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো, তখন সবচেয়ে বেশী যে সমস্যাটার কথা এসেছে মিডিয়ায়, সেটি হলো , এই বিদ্রোহীদের কোন নেতৃত্ব নেই। এরা কেউ কারো কথা শুনছেনা, তাই সরকারের সাথে কোন ঐকমত্যে আসা যাচ্ছেনা।
অথচ ২৬ তারিখ রাতে পরিস্থিতি সরকার আর সেনাবাহিনীর হাতে চলে আসার পর থেকে জানা শুরু হলো যে একটা বড়সড় ধরনের ষড়যন্ত্র এই বিদ্রোহের পেছনে আছে, অর্থাৎ এর আগ পর্যন্ত বিদ্রোহের কারণ হিসেবে মূলত শ্রেনীবৈষম্য, অর্থাৎ "বিডিআর যুবকদের অপ্রাপ্তি আর নির্যাতিত হবার" যে বিষয়টি বলবৎ ছিলো, হঠাৎ সেটাকে দখল করে নিলো রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোন অজ্ঞাত কারণ। কোনটা সঠিক সেটা বলা আমাদের নাগরিকের পক্ষে কঠিন, তবে কারণের এই প্রতিস্থাপনে কার লাভ হলো সেটা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নাগরিক আগ্রহ বা জনগনের সহানুভূতিকে বিডিআরের বিরুদ্ধে নিয়ে যাবার জন্য এই প্রতিস্থাপন মহৌষধের মতো কাজ করেছে।
এখানে আরো লক্ষ্যণীয় যে যুগপৎভাবে "ইসলামী জঙ্গি" আর "ভারতীয় র" এদের দুটোকেই ষড়যন্ত্রের পেছনের শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে দুটো তত্ত্ব বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটার কি মাজেজা জানিনা, তবে "ইসলামী জঙ্গি"র জুজু যেমন মহাজোট সমর্থক জনগণকে বিডিআরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলবে, তদ্রূপ "ভারতীয় জুজু"ও চারদলীয় জোট সমর্থকদের বিডিআরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলবে। আর এই দুই জোট সমর্থক জনগনকে যোগ করলেই তো দেশের প্রায় পুরো নাগরিকের সংখ্যার সমান সেটা হয়ে যায়।
কাজেই ষড়যন্ত্র থাকুক বা না থাকুক, সেই তত্ত্বের এরকম প্রচারণা যে শেষমেষ বিডিআর নিধনে সেনাবাহিনীর প্রতি জনরোষকে জেগে উঠতে বাঁধা দেবে সেটা বোঝা যাচ্ছে।
৪. মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মিডিয়ার ভূমিকাও ২৬ তারিখ রাত থেকে সন্দেহজনকভাবে উল্টোদিকে ঘুরে গেছে। যে মিডিয়া আগেরদিন বিডিআরকে প্রায় হিরো বানিয়ে ফেলেছিলো, সে মিডিয়া হঠাৎ করে কোন অঙ্গুলির হেলনে পুরোপুরি অন্যদিকে মনোযোগ দেয়া শুরু করেছে --সেটাও ব্যাখ্যার অবকাশ রাখেনা।
২৮ তারিখে এনটিভির খবরে বলা হচ্ছে ৪৪ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। বাকীরা কি তবে বিডিআর সদস্য নন? মৃত বিডিআর সদস্যদের সনাক্ত করার কোন লক্ষণ না দেখাটাও আরেকটা হতাশার ব্যাপার, এবং একই সাথে দুশ্চিন্তাকে ঘনীভূতই করে।
কারণ প্রথম দুদিন কিন্তু "পিলখানার ভেতরে লাশ আর লাশ" শব্দগুলো আমরা শুনেছি, সেই সংখ্যা নির্দেশ করেছিলো যে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের সাথে সাথে প্রচুর সংখ্যক বিডিআর সদস্য যারা সম্ভবতঃ বিদ্রোহে যোগ দেয়নি, যারা সম্ভবতঃ নিজ নিজ পরিচিত কর্মকর্তাদের বাঁচানোরও চেষ্টা করেছিলেন, তাদেরও হত্যা করা হয়েছে। অথচ, আমি অবাক হয়ে দেখি, তাদের লাশগুলোর খবর মিডিয়ায় আসছেনা। তাদের লাশগুলো সনাক্ত করার দায় কেউ নিচ্ছেনা! কেন? তারা এইট পাশ বলে? তাদের বেতন দু'তিন হাজার টাকা বলে? তাদের মায়েরা, বউয়েরা কি কাঁদেনা? তাঁদের ছেলেমেয়েরা কি "বাপজান", "আব্বা" বলে কাঁদছেনা? কাঁদতে মানা?
অথবা যে কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যের কোন হদিস আমরা পাচ্ছিনা, অথবা হদিসের তোয়াক্কাও করছিনা হয়তো, তাদের পরিবারেরা কি উৎকন্ঠিত নয়? তাদের কোন খোঁজ কেউ নিচ্ছেনা কেন? তাঁদের না হয় সুদূর গ্রাম থেকে বাসে চড়ে পিলখানার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সামর্থ্য নেই, তাই বলে কি তাঁরা দুশ্চিন্তা করেননা? তাঁদের মন থাকতে নেই?
সবচেয়ে কষ্টকর ব্যাপার হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ নিজমুখে ঘোষনা দিয়েছেন, নিহত সেনাকর্মকর্তাদের সন্তানদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে, অথচ নিহত বিডিআর সদস্যদের সন্তানগুলোর কথা তাঁর একবার মনেও পড়লোনা! "ফকিন্নীর পোলাপানদের আবার কিয়ের পড়াশোনা!!!" -- এটাই কি ভাবতে হবে?
বিডিআর জওয়ানদের ব্যাপারে গত দুদিন ধরে সরকারের, মিডিয়ার এবং আমাদের সাধারণ নাগরিকের এই অপরিসীম অবহেলা শেষমেষ কি নির্দেশ করে? শ্রেণীবৈষম্য যেমন আছে তেমনই চলুক?
৫. ফোকাস আবার ঠিক করা জরূরী
ফোকাস সরে গেছে, ফোকাস বারবার সরে যায় আমাদের। রাজনীতি বলা হোক, আর সেনানীতি বলা হোক, কিছু একটা দিয়ে আমাদের জনগনের ফোকাস বারবার ঘোলা করে ফেলা হয়। সামনে পেছনে বোঝা যায়না, প্রায়োরিটির ঠিক থাকেনা।
ঘটনার একদম মূল ফোকাস ছিলো,
ক. বিগত দুবছরের অসম্ভব দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধিতে কিছু অসৎ সেনাসদস্যের অসামান্য অবদান
খ. সরকারী সংস্থাগুলোতে অসম্ভব রকমের শ্রেণীবৈষম্য
"ক" এর প্রসঙ্গে নিহত সেনাসদস্যদের আর তাঁদের পরিবারের প্রতি সবধরনের সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বলছি, বাঙালীর সহানুভূতি যেন গত দুই বছরের বিশাল অপরাধগুলোকে পার পেয়ে যেতে না দেয়। জনগন ও মিডিয়ার উচিত আবারও ফোকাস রিভাইজ করা।
"খ" এর প্রসঙ্গে বলি, অস্ত্র সমর্পনের পর দুদিনের ঘটনায় সরকার, মিডিয়া আর নাগরিকদের মাঝে "অচ্ছ্যুৎ বিডিআর সদস্য"দের নিরাপত্তা আর তাদের পরিবারদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে যে অনীহা দেখা গেল, তাতে মনে হচ্ছে, শ্রেণীবৈষম্য দূর করতে গিয়েই যদি বিডিআর জওয়ানরা বিদ্রোহটা ঘটিয়ে থাকে, তবে সেটা করে তারা খাল কেটে কুমীর এনেছে। শ্রেনীবৈষম্যের পথ নতুন করে তৈরী হয়েছে বা হতে যাচ্ছে এদেশে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

