আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

নাগরিক অবস্থান থেকে আমি বিডিআর জওয়ানদের নিরাপত্তা নিয়েই মূলতঃ চিন্তিত

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৫

শেয়ারঃ
0 3 0

১. নাগরিক মনোযোগ কোথায় থাকা উচিত

পিলখানার হত্যাকান্ড আর বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হতে পারে যে একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিচের দুটো বিষয় নিয়েই মূলতঃ চিন্তিত হওয়া উচিত,

ক. নিহত সেনাসদস্যদের প্রতিটি মৃত্যুর যথাযথ বিচার সম্পাদিত হওয়া, এবং তাঁদের পরিবারদের স্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হওয়া, আর

খ. কথিত বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে কাজ করা যে অশুভ শক্তি, চাই সে বিডিআরের ভেতরের কিছুই হোক, বাহিরের কোন শক্তিই হোক, সেটাকে খুঁজে বের করা,

এবং এটাও সত্য যে ২৬ শে ফেব্রুয়ারী রাতে বিডিআর জওয়ানদের অস্ত্র সমর্পণের পরপরই আমাদের নাগরিক মনোযোগ উপরের দুটো বিষয়ের দিকেই চলে গেছে পুরোপুরি, আমাদের মিডিয়ার মনোযোগও তাই।

অথচ ক্ষতিগ্রস্থতা আর ক্ষমতার মধ্যে যে সমীকরণটি সাধারণত বিরাজ করে, এক্ষেত্রে সেটি উল্টে যাবার কারণে শুধু "বিডিআর জওয়ানদের ফাঁসী চাই" বলে স্লোগান নিয়ে আমাদের মাঠে বা পত্রিকায় অথবা ব্লগে না চেঁচালেও চলবে বলেই আমি মনে করি। ক্ষতিগ্রস্থতা আর ক্ষমতার মাঝের আপাত সমীকরণটি ক্ষমতাহীনকে ক্ষমতাশালীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু পিলখানার হত্যাকান্ড আর বিদ্রোহটি পুরোমাত্রায় উল্টো সমীকরণে চলেছে। কারণ, দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী সেনাবাহিনীর এলিট অফিসাররা এখানে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ, আর প্রায় ক্ষমতাহীন কিছু বিডিআর যুবক এখানে অপরাধী।

সেজন্যই নিষ্ঠুর শোনালেও যেটা সত্য তা হলো, নাগরিক মনোযোগ উপরের দুটো বিষয়ের কোনটির দিকেই যাওয়ার প্রয়োজন নেই; যেহেতু এই দুটি বিষয়ে মূলতঃ নাগরিক ও মিডিয়া মনোযোগের অবদান জিরো ইনপুটেরই সমান হবে, তাই সেই মনোযোগ থেকে বাড়তি কিছু পজিটিভ আউটপুটের আসার সম্ভাবনা নেই। কারণ, এখানে যে জিনিসটা আমরা নাগরিকেরা বারবার ভুলে যাচ্ছি, তা হলো, এই ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে বাস্তবঅর্থে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী অংশ মানে সেনাবাহিনীর, এবং আরেক ক্ষমতাশালী অংশ সরকারেরও শেষবিচারে ক্ষতিই হয়েছে। কাজেই আমরা দাবী করি আর না করি, মনোযোগ দেই বা না দেই, দোষী বিডিআর যুবকদের বিচার হবেই, ভাগ্যাহত সেনা অফিসারদের পরিবারবর্গ ক্ষতিপূরণ পাবেনই এবং একই সাথে যদি কোন ষড়যন্ত্রের হাত থাকে সেটাও সরকার আর সেনাবাহিনী মিলে বের করবেই।
যে অপূরণীয় ক্ষতি সেনাবাহিনীর হয়েছে, তাতে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কোনপ্রকার ছাড় দেবে বলে আমার কোনভাবেই মনে হয়না।


২. আমাদের মনোযোগ কোনদিকে যাচ্ছে?

নাগরিক হিসেবে আমি বরং ঘুরেফিরে সেই ক্ষমতাধরদের উপর মানে সেনাবাহিনীর কর্মকান্ডের উপরই সতর্ক চোখ রাখতে চাই, কিন্তু আমাদের সামষ্টিক নাগরিক মনোযোগ কি সেদিকে যাচ্ছে?

যেটা খেয়াল করা দরকার, ঘটনার অপরাধী অংশের হাতে এখন আর কোন ক্ষমতা নেই, বরং নিজেদের অপরাধের মূল নিউক্লিয়াসের সাথে তারা কাঁধে জুড়ে নিয়েছে কয়েক হাজার নিরপরাধ যুবকের ভবিষ্যৎ। মূল বিদ্রোহে হাজার হাজার বিডিআর সদস্য কোনভাবেই জড়িত থাকার কথা না, তাই এই "হাজার হাজার নিরপরাধ যুবক"র কথা আমাকে বলতেই হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতা(১), পেশাগত পরিচয়বশতঃ একতা(২), শ্রেনীগত ক্ষোভ(৩) আর তারচেয়েও বেশী 'স্রোতের অনুকূলেই সাঁতরাতে পছন্দ করাটা মানুষের সাধারণ আচরণ' হবার কারনেই(৪) যে এই "হাজার হাজার নিরপরাধ যুবক" সেদিন ঘটনার মূল হোতা বিদ্রোহীদের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলো সেটা নতুন করে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই বলেই মনে করি।

ভেবে দেখুন, ঘটনাক্রমে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে কিন্তু এই বিডিআর যুবকেরাই। এদের সম্পর্কে কোন খবরই আর নাগরিককে দেয়া হচ্ছেনা, এদের কোন পরিসংখ্যান কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা, এদের মধ্যে কেউ কেউ যদি মৃত হয়ে থাকে তাদের কোন খবর তো আসছেইনা, এমনকি এদের পরিবারবর্গের কোন খবর বা পরিবারবর্গের প্রতি সরকারের কোন প্রতিশ্রুতি কিছুই শোনা যাচ্ছেনা। আর দেশের নাগরিকদের একজন হিসেবে আমি হতাশার সাথে অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি যে আমাদের খুব কম সংখ্যক নাগরিকই এখন এই প্রসংগটা নিয়ে আলোচনায় উৎসাহ বোধ করছি। আমরা সচেতন নাগরিকেরা এখন মূলতঃ নিজেদের মতো দেখতে মানুষদের কান্না দেখে, নিজেদের মতো ভাষায় কথা বলা মানুষদের আহাজারি দেখে ফুঁসে উঠছি, বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছি বিডিআর যুবকদের কিভাবে কি করা উচিত, কতটুকু শাস্তি দেয়া উচিত, কতজনকে শাস্তি দেয়া উচিত ইত্যাদি নিয়ে।

মনোযোগ দেয়ার সময়, সদিচ্ছা এসব যদি আমাদের থেকেই থাকে সেটা কাজ করা উচিত শাস্তি দিতে গিয়ে ক্ষমতাশালী অংশ যেন বাড়াবাড়ি না করে সেটার প্রতি। যুগেযুগে নাগরিক মনোযোগ সেদিকেই কাজ করেছে, নাগরিকের মূল ক্ষমতা সে জায়গাটাতেই, সামষ্টিকভাবে নাগরিক হয়ে উঠে ক্ষমতাশালীদের প্রহরীর মতো -- অথচ আমরা মনিটর করতে চাচ্ছি ক্ষমতাহীনদেরকে!!


৩. বিডিআর যুবকদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ

বলা যেতে পারে যে এমন কি ঘটেছে যে আমি উপরের "হাজার হাজার নিরপরাধ যুবক"দের নিয়ে এত চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ২৬ তারিখ সন্ধ্যায় পিলখানায় বিডিআররা অস্ত্রসমর্পণ শুরু করার পর থেকে বেশ কিছু ঘটনাই এই উদ্বেগের কারণ। সেগুলোকে যতটুকু সম্ভব বড় দাগে পয়েন্ট আউট করার চেষ্টা করছি।

ক.
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বিডিআর জওয়ানদের সংখ্যা নিয়ে। ২৫ আর ২৬ তারিখ দু'দিন পিলখানায় আটক সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা ছিলো মোটামুটি দেড়শো থেকে দুশো, তাঁদের সংখ্যার হিসেব ধীরে ধীরে মিলতে শুরু করেছে -- জীবিত অথবা মৃত অবস্থায়। এটা ক্ষমতাশালীতার সমীকরণকে সিদ্ধ করে, ঠিকাছে।
কিন্তু বিডিআর সদস্যের মোট সংখ্যা কত সেটা নিয়ে কোন সুনিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্লগে একজনের মন্তব্যে দেখলাম পিলখানায় এখন ছ'হাজারের মতো বিডিআর জওয়ান স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হেফাজতে আছে (যদিও আগে আরেক জায়গায় শোনা গেছে সংখ্যাটা মাত্র দুশো), আর আমার জানামতে শ'দুয়ের মতো জওয়ান পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এতে কি সবার হিসেব মেলে? কারণ প্রথমে শোনা গিয়েছিলো প্রায় পনেরো হাজার বিডিআর জওয়ান জড়ো হয়েছিলো "বিডিআর সপ্তাহ" উপলক্ষ্যে।

একজন নাগরিক হিসেবে মিডিয়ার কাছে আমার দাবী অবিলম্বে আপনারা এই সংখ্যার দিকে মনোযোগ দিন, পরিস্থিতি এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনে, নিহত সেনাসদস্যদের হিসেব তাঁরা অবশ্যই মেলাবেন, সেটা নিয়ে বেশী মাথা না ঘামালেও চলবে। বরং বিডিআরদের সংখ্যার হিসেব মেলাতে তাদের বা সরকারের ওপর চাপ দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে মিডিয়ার, কারণ এখানে একটি লুকোচুরির আভাস আমরা পাচ্ছি ইতিহাসগত অভিজ্ঞতার বয়ানে, আর সেকাজটির আশা করি বলেই আমরা মিডিয়ার লম্বা সময় ধরে প্রচার করা বিজ্ঞাপন দেখেও মুখবুঁজে টিভির সামনে পড়ে থাকি।

খ.
২৫ তারিখ সন্ধ্যায় বা ২৬ তারিখ সারাদিন সরকার যখন বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো, তখন সবচেয়ে বেশী যে সমস্যাটার কথা এসেছে মিডিয়ায়, সেটি হলো , এই বিদ্রোহীদের কোন নেতৃত্ব নেই। এরা কেউ কারো কথা শুনছেনা, তাই সরকারের সাথে কোন ঐকমত্যে আসা যাচ্ছেনা।

অথচ ২৬ তারিখ রাতে পরিস্থিতি সরকার আর সেনাবাহিনীর হাতে চলে আসার পর থেকে জানা শুরু হলো যে একটা বড়সড় ধরনের ষড়যন্ত্র এই বিদ্রোহের পেছনে আছে, অর্থাৎ এর আগ পর্যন্ত বিদ্রোহের কারণ হিসেবে মূলত শ্রেনীবৈষম্য, অর্থাৎ "বিডিআর যুবকদের অপ্রাপ্তি আর নির্যাতিত হবার" যে বিষয়টি বলবৎ ছিলো, হঠাৎ সেটাকে দখল করে নিলো রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোন অজ্ঞাত কারণ। কোনটা সঠিক সেটা বলা আমাদের নাগরিকের পক্ষে কঠিন, তবে কারণের এই প্রতিস্থাপনে কার লাভ হলো সেটা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নাগরিক আগ্রহ বা জনগনের সহানুভূতিকে বিডিআরের বিরুদ্ধে নিয়ে যাবার জন্য এই প্রতিস্থাপন মহৌষধের মতো কাজ করেছে।

এখানে আরো লক্ষ্যণীয় যে যুগপৎভাবে "ইসলামী জঙ্গি" আর "ভারতীয় র" এদের দুটোকেই ষড়যন্ত্রের পেছনের শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে দুটো তত্ত্ব বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটার কি মাজেজা জানিনা, তবে "ইসলামী জঙ্গি"র জুজু যেমন মহাজোট সমর্থক জনগণকে বিডিআরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলবে, তদ্রূপ "ভারতীয় জুজু"ও চারদলীয় জোট সমর্থকদের বিডিআরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলবে। আর এই দুই জোট সমর্থক জনগনকে যোগ করলেই তো দেশের প্রায় পুরো নাগরিকের সংখ্যার সমান সেটা হয়ে যায়।

কাজেই ষড়যন্ত্র থাকুক বা না থাকুক, সেই তত্ত্বের এরকম প্রচারণা যে শেষমেষ বিডিআর নিধনে সেনাবাহিনীর প্রতি জনরোষকে জেগে উঠতে বাঁধা দেবে সেটা বোঝা যাচ্ছে।


৪. মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মিডিয়ার ভূমিকাও ২৬ তারিখ রাত থেকে সন্দেহজনকভাবে উল্টোদিকে ঘুরে গেছে। যে মিডিয়া আগেরদিন বিডিআরকে প্রায় হিরো বানিয়ে ফেলেছিলো, সে মিডিয়া হঠাৎ করে কোন অঙ্গুলির হেলনে পুরোপুরি অন্যদিকে মনোযোগ দেয়া শুরু করেছে --সেটাও ব্যাখ্যার অবকাশ রাখেনা।

২৮ তারিখে এনটিভির খবরে বলা হচ্ছে ৪৪ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। বাকীরা কি তবে বিডিআর সদস্য নন? মৃত বিডিআর সদস্যদের সনাক্ত করার কোন লক্ষণ না দেখাটাও আরেকটা হতাশার ব্যাপার, এবং একই সাথে দুশ্চিন্তাকে ঘনীভূতই করে।

কারণ প্রথম দুদিন কিন্তু "পিলখানার ভেতরে লাশ আর লাশ" শব্দগুলো আমরা শুনেছি, সেই সংখ্যা নির্দেশ করেছিলো যে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের সাথে সাথে প্রচুর সংখ্যক বিডিআর সদস্য যারা সম্ভবতঃ বিদ্রোহে যোগ দেয়নি, যারা সম্ভবতঃ নিজ নিজ পরিচিত কর্মকর্তাদের বাঁচানোরও চেষ্টা করেছিলেন, তাদেরও হত্যা করা হয়েছে। অথচ, আমি অবাক হয়ে দেখি, তাদের লাশগুলোর খবর মিডিয়ায় আসছেনা। তাদের লাশগুলো সনাক্ত করার দায় কেউ নিচ্ছেনা! কেন? তারা এইট পাশ বলে? তাদের বেতন দু'তিন হাজার টাকা বলে? তাদের মায়েরা, বউয়েরা কি কাঁদেনা? তাঁদের ছেলেমেয়েরা কি "বাপজান", "আব্বা" বলে কাঁদছেনা? কাঁদতে মানা?

অথবা যে কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যের কোন হদিস আমরা পাচ্ছিনা, অথবা হদিসের তোয়াক্কাও করছিনা হয়তো, তাদের পরিবারেরা কি উৎকন্ঠিত নয়? তাদের কোন খোঁজ কেউ নিচ্ছেনা কেন? তাঁদের না হয় সুদূর গ্রাম থেকে বাসে চড়ে পিলখানার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সামর্থ্য নেই, তাই বলে কি তাঁরা দুশ্চিন্তা করেননা? তাঁদের মন থাকতে নেই?

সবচেয়ে কষ্টকর ব্যাপার হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ নিজমুখে ঘোষনা দিয়েছেন, নিহত সেনাকর্মকর্তাদের সন্তানদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে, অথচ নিহত বিডিআর সদস্যদের সন্তানগুলোর কথা তাঁর একবার মনেও পড়লোনা! "ফকিন্নীর পোলাপানদের আবার কিয়ের পড়াশোনা!!!" -- এটাই কি ভাবতে হবে?

বিডিআর জওয়ানদের ব্যাপারে গত দুদিন ধরে সরকারের, মিডিয়ার এবং আমাদের সাধারণ নাগরিকের এই অপরিসীম অবহেলা শেষমেষ কি নির্দেশ করে? শ্রেণীবৈষম্য যেমন আছে তেমনই চলুক?


৫. ফোকাস আবার ঠিক করা জরূরী

ফোকাস সরে গেছে, ফোকাস বারবার সরে যায় আমাদের। রাজনীতি বলা হোক, আর সেনানীতি বলা হোক, কিছু একটা দিয়ে আমাদের জনগনের ফোকাস বারবার ঘোলা করে ফেলা হয়। সামনে পেছনে বোঝা যায়না, প্রায়োরিটির ঠিক থাকেনা।

ঘটনার একদম মূল ফোকাস ছিলো,
ক. বিগত দুবছরের অসম্ভব দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধিতে কিছু অসৎ সেনাসদস্যের অসামান্য অবদান
খ. সরকারী সংস্থাগুলোতে অসম্ভব রকমের শ্রেণীবৈষম্য

"ক" এর প্রসঙ্গে নিহত সেনাসদস্যদের আর তাঁদের পরিবারের প্রতি সবধরনের সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বলছি, বাঙালীর সহানুভূতি যেন গত দুই বছরের বিশাল অপরাধগুলোকে পার পেয়ে যেতে না দেয়। জনগন ও মিডিয়ার উচিত আবারও ফোকাস রিভাইজ করা।

"খ" এর প্রসঙ্গে বলি, অস্ত্র সমর্পনের পর দুদিনের ঘটনায় সরকার, মিডিয়া আর নাগরিকদের মাঝে "অচ্ছ্যুৎ বিডিআর সদস্য"দের নিরাপত্তা আর তাদের পরিবারদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে যে অনীহা দেখা গেল, তাতে মনে হচ্ছে, শ্রেণীবৈষম্য দূর করতে গিয়েই যদি বিডিআর জওয়ানরা বিদ্রোহটা ঘটিয়ে থাকে, তবে সেটা করে তারা খাল কেটে কুমীর এনেছে। শ্রেনীবৈষম্যের পথ নতুন করে তৈরী হয়েছে বা হতে যাচ্ছে এদেশে।

 

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
ফালতু মিয়া বলেছেন: + দিলাম। একদিকে বলা হচ্ছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট করার জন্য অন্যদিকে বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশী করে এদের ধরাও হচ্ছে। কে অপরাধী কে নিরাপরাধী এটা বিচার করার সময় এদের হাতে আছে কি? মনে হয় না।

এলিট ফোর্সদের নিয়েই এখন মিডিয়া ব্যস্ত। ভাগ্যহত বিডিআর সদস্যরা কে কোথায় পালালো তার হিসাব থাকা জরুরী। সবাই তো আর অংশ নেয় নি। তারা কত জন মৃত্যু বরণ করেছে এর হিসাব থাকা জরুরী।

বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ সংশয় রয়েছে।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... একমাত্র মিডিয়া আর নাগরিক কন্ঠ -- এই দুটো অস্ত্র ছাড়া সেনাসমস্যায় ন্যায়বিচার আসবেনা

৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: সংশয়ের পয়েন্ট অনেক ... বিশেষ করে যেভাবে নতুন নতুন তথ্য এসে পুরোনোগুলোকে গিলে ফেলছে, আর সেনাবাহিনীকে সব কিছু হালালভাবে করার লাইসেন্স দিয়ে দিচ্ছে ... আমি শংকিত
৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪২
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: অনেক বড় পোষ্ট।পুরোটা ভালো করে পড়িনি।

তবে আপনি জরুরী বিষয় টেনে এনেছেন।

বাইরের ইন্ধন আছে, বিডিআর নৃশংসতা চালিয়েছে সত্য।তাদের বিচারে নির্মম শাস্তিও চাই।তবে তাদের ভিতরে যে বৈষম্যজনিত ক্ষোভ ছিলো, বন্চিত হওয়ার বেদনা ছিলো সেটা তো ভুল না।

আবার কিছু আর্মি অফিসার অসৎ কর্মকান্ড কিংবা দুর্ব্যবহার ঘটনার ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে দ্বায়ী এটাও তো সত্যি।তবে কোন কিছুই দিয়েই এই গণহত্যার বেদনা কমেনা।

তবে বিডিআর-এর দাবীগুলো নিয়ে সরকার ভাববে, আশা রাখি।যেন অন্যকোথাও
অধস্তনরা এমন ভাতৃঘাতী না হয়ে উঠে। আমাদের আবার না কাঁদতে হয়।

শোকের সাথে এখান থেকে আমরা যাতে কিছু শিক্ষা নিই, এটাই প্রত্যাশা।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... লেখা আরো বড় হয়েছিলো ... কেটে ছেঁটে এপর্যায়ে এনেছি :) ... মনের মধ্যে অনেক কথা, অনেক ক্ষোভ জমা ... গুছিয়েও লিখতে পারিনি

শিমুল ভাই, আমার কথা হলো দেড়শো জনের মৃত্যুর প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, শুধুই সহানুভূতির দিকে ফোকাস নিয়ে আমরা যদি চোখের আড়ালে হাজার হাজার বিডিআর জওয়ান হত্যাকে সুযোগ দিয়ে ফেলি --- নিজেদের ক্ষমা করতে পারবো? ...

মিডিয়াকে কি সেনাবাহিনী কাবু করে ফেলেছে কিনা চিন্তিত

৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৬
শুভ৭৭ বলেছেন: "প্রচুর সংখ্যক বিডিআর সদস্য যারা সম্ভবতঃ বিদ্রোহে যোগ দেয়নি, তাদেরও হত্যা করা হয়েছে। তাদের লাশগুলোর খবর মিডিয়ায় আসছেনা। তাদের লাশগুলো সনাক্ত করার দায় কেউ নিচ্ছেনা। কেন? তারা এইট পাশ বলে? তাদের বেতন দু'তিন হাজার টাকা বলে? তাদের মায়েরা, বউয়েরা কি কাঁদেনা? তাঁদের ছেলেমেয়েরা কি "বাপজান", "আব্বা" বলে কাঁদছেনা?"
:P
৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৭
শুভ৭৭ বলেছেন: :P এর জায়গায় :( হবে
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... প্রথমে টাশকি খাইছিলাম

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

স্টিকি করা হয়তো সমাহোয়ারের জন্য কঠিন ... কারণ সবপক্ষকে তুষ্ট করে সুশীল টাইপের লেখা এইটা না ... প্রথম পাতায় ঝুলতে দেখলে আর্মির কোপানলে পড়ে কিনা কে জানে

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৯. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:১৬
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: পুরো পোস্টে সাথে দারুনভাবে সহমত।

আবেগের কারনে আমরা ভুলে যাচ্ছি যে আনসার বিদ্রোহ আর ছাত্র বিদ্রোহ আগেও ঘটেছে, কেন বারবার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই সংস্থাগুলো বিদ্রোহ করছে, সেটা বের করা দরকার।

আর শেষ ২ বছর নয়,স্বাধীনতার পর থেকেই সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ ভুলে যাওয়া উচিত নয়, দুই রাষ্ট্রপতি হত্যা,ক্ষমতা দখল, দুর্নীতি আর নির্যাতন।

শুধু সেনাবাহিনীর দোষ না, সিস্টেম বা ঔপনিবেশিক মনোভাবও দায়ী, পরিবর্তন না করলে সংঘর্ষ আরও বাড়বেই।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সৌরভ ... যে অল্প কয়েকজনকে নিরন্তর ফোকাস হারাতে দেখিনি আপনি তাদের একজন ...

সেনাভিনী বারবার পিছলে গেছে এই সত্যের মাছটা কোন শাক দিয়ে ঢাকা যাবেনা

১০. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২১
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা বলেছেন: পিলখানা হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্রের অবসান হোক।
এর নেপখ্যে কারা জড়িত? সুষ্ঠু তদন্ত হোক।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৬

লেখক বলেছেন: আপনার ফোকাস আর আমার ফোকাস সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায় ... আপনি যে দাবীগুলো তুলছেন সেগুলো আপনি চান বা না চান পূরণ হবেই ...

তবে পিলখানা হত্যাকান্ড কি ২৫ আ৪ ২৬ টারিখেই যবনিকা টেনেছে? এই প্রশ্নটা নিয়ে ভাবুন

১১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩১
কালপুরুষ বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। সহমত পোষণ করছি। দোষী ব্যক্তিদের অবশ্যই শাস্তি দাবী করছি তবে যারা কোনভাবেই জড়িত নয় ঢালাওভাবে দোষীদের কারণে নিরপরাধীদের উপর কোন রকম খড়্গ নেমে আসুক সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এই নারকীয় হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই আর দোষীদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। জাতির সম্মূখে তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হোক। জড়িত ব্যক্তিদের তদন্ত করে খুঁজে বের করা হোক।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কালপুরুষদা ... আপনার শেষ দাবীটা অবশ্যই পূরণ হবে আশা করা যায়, কারণ এখানে ক্ষতিটা সেনাবাহিনীর

তাই আসুন আমরা আপনার এই দাবীটার প্রতি জোর গলায় কথা বলি,
"যারা কোনভাবেই জড়িত নয় ঢালাওভাবে দোষীদের কারণে নিরপরাধীদের উপর কোন রকম খড়্গ নেমে আসুক সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়"

১২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩৫
শাহির বলেছেন: একমত। অনেক ভাল একটা পোস্‌ট পড়লাম..
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪২
মিরাজ বলেছেন: বর্তমান প্রেক্ষিতটাকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তুলে ধরতে পেরেছেন । আমাদের মনে রাখতে হবে, সাধারণ বিডিআর জোয়ানরা যদি প্রতিশোধের জন্য গুপ্তহত্যার শিকার হন তাহলে তাদের কথা আমরা কখনোই জানবোনা । মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে আর তাদের পরিবার পরিজনরা গ্রামের ধানক্ষেত, পাটক্ষেত আর নদীর তীরে বসে প্রিয়জনের জন্য বিলাপ করবেন । তাদেরতো আর ইন্টারনেট নেই যে ব্লগে বা ইন্টারনেট ফোরামে পাতার পর পাতা লিখে সত্যকে তুলে ধরবেন, বিচার চাইবেন? আর তাদের প্রতিকার চাওয়ার মত সাহস বা শক্তি কোনটাই অবশিষ্ট থাকবেনা ।

তাই আমাদের এবং সরকারের প্রধান ফোকাস হওয়া উচিত যাতে বিডিআর সদস্যরা বিচারের নামে অবিচারের শিকার না হন। প্রতিটি মৃত্যুই একটি পরিবারে জন্য সমান বিভীষিকা তা সেই পরিবার সমাজের যে শ্রেণীরই অংশ হোক না কেন।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: "মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে আর তাদের পরিবার পরিজনরা গ্রামের ধানক্ষেত, পাটক্ষেত আর নদীর তীরে বসে প্রিয়জনের জন্য বিলাপ করবেন । তাদেরতো আর ইন্টারনেট নেই যে ব্লগে বা ইন্টারনেট ফোরামে পাতার পর পাতা লিখে সত্যকে তুলে ধরবেন, বিচার চাইবেন? আর তাদের প্রতিকার চাওয়ার মত সাহস বা শক্তি কোনটাই অবশিষ্ট থাকবেনা ।"

ধন্যবাদ মিরাজ ভাই ... এইটাই সবচেয়ে বড় ভয় এখন ... বাকীটাতো নিয়ন্ত্রনে

অলরেডী বিডিআরের যে জওয়ানরা মারা গেছেন, টাঁদের পরিবারদের হয়তো লুকিয়ে কাঁদতে হচ্ছে ... আমাদের মিডিয়া এমনই ব্রেইনলেস অথবা আর্মি দ্বারা এতটাই থ্রেটপ্রাপ্ত যে, পুরো সেনাবাহিনী আর বিডিআরকে দুইটা পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করছে

শেষমেষ ক্ষমতাহীনরাই নির্যাতিত হবে হয়তো

১৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫০
তেপান্তের মাঠ পেরিয়ে বলেছেন: পুরো পোস্টে সাথে দারুনভাবে সহমত।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... আসুন জোর গলায় ফোকাসটাকে তুলে ধরি

১৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৯
অমলকান্তি বলেছেন: "শ্রেণীবৈষম্য যেমন আছে তেমনই চলুক।"
এইটাই শেষ কথা।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:২০

লেখক বলেছেন: তেমন চললেই ভালো?
এর একটা অন্য পিঠ আছে ... দক্ষিণ আমেীকার ইতিহাস আমাদের কাজে আসতে পারে

১৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৭
অচেনা অতিথি বলেছেন:

=>ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: ব্যবসায়ী নেতারা
=>প্রয়োজনে নতুন আইন করে বিচার হবে : সৈয়দ আশরাফ –
=>ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায় বিডিআর সদস্যরা অস্ত্র সমর্পণ করেছে
=>ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিএসএফ এর গুলিবর্ষণ
=>বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুঃ সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ
=>বিডিআর বিদ্রোহে সহিংসতায় জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দা
=>New laws, if needed, to try BDR rebels, says LGRD minister
=>BDR jawans asked to report within 24 hours
=>ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
=>একদিকে হত্যাযজ্ঞ অন্যদিকে লুটতরাজ
=>বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠকে সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে শোক




http://www.bdnewseveryday.com/
০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:২৩

লেখক বলেছেন: এই পোস্টে যে দুশ্চিন্তাটায় ফোকাস আনতে চাইছি, মানে বিডিআর জওয়ানদের নির্বিচার প্রতিহিংসার শিকার হবার ভয়, তা নানান জায়গায় মানুষের আলোচনায় উঠে আসছে বারবার ...

কিন্তু দেখুন, আপনার উদ্ধৃত মিডিয়া হেডলাইনগুলোতে এর ছিটেফোঁটাও নেই

১৭. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪৪
নির্মম বলেছেন: টাইটেল পরে এসেছিলাম কিছু কঠিন কথা বলতে । পোষ্ট পরার পর বলা গেল না। কারন আপনি ঠিক।
নিজেকে বোকা মনে হচ্ছে । আপনাকে ধন্যবাদ পোষ্টটির জন্য।

তবে হ্যা যারা সরাসরি জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। সবার না। লুটপাট , ধষণ এর শাস্তি হওয়া উচিত।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:২৭

লেখক বলেছেন: "তবে হ্যা যারা সরাসরি জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। সবার না। লুটপাট , ধষণ এর শাস্তি হওয়া উচিত।"

শাস্তি হবেই ... সেটা যাতে বাড়াবাড়ি না হয়, প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা কষ্টকর হলে এ্যাভারেজ প্রক্রিয়ায় যাতে নির্বিচারে হত্যা না হয় ... সেনবাহিনীর বিরাটসংখ্যক অফিসারের মৃত্যুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও যেটা না বলে পারছিনা, সেটা হলে, এযাবৎ নির্বিচারে হত্যা করার মূল রেকর্ডটা সেনাবাহিনীরই

১৮. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ ভোর ৬:৫৪
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: সেনাবাহিনী এখন আর সেই সত্য ঢাকার চেষ্টাও করে না। তারা বরং এর মাধ্যমে তাদের শক্তি আর দাম্ভিকতা প্রকাশ করতে চায়।

আপনি আমি যাই করি কোন কিছুই হবে না। সেনারা কঠিন প্রতিশোধ নেবে, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলে নিরীহরাই বলি হবে বেশী।

বারবার যে কথাটি বলে ক্লান্ত হচ্ছি - কেন একের পর এক সেনাদের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ হতে থাকে? কেন ব্রিটিশ বা পাক সেনাবাহিনীর সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর গঠনগত কোন পার্থক্য নেই? নতুন বোতলে পুরানো মদ।

এইসব মূলব ব্যাপারগুলো বাদ দিয়ে যতই এগুবেন, গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

বাংগালী সামনে যা পায়, তাই নিয়েই মেতে থাকে, একবারও চিন্তা করছে না ভবিষ্যতের কথা।

বিডিআরের অধিকাংশই আছে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে, এমনিতেই তারা ধনী আর মধ্যবিত্তের উপর ক্ষেপে থাকে কারন তারা বঞ্চিত করে দরিদ্রদের। এখন যদি আরেকটি বিশাল অংকের নিরীহ জনগোষ্ঠীর মৃত্যু হয়, শুরু হবে আরেকটি বিদ্রোহের।

এগুলো হয়ত সব আশংকা, কিন্তু উড়িয়ে দিতে পারছি না।

এখন অনেক ব্যাপারে ছাড় দিলে হয়ত মনে হবে যে এলিট সমাজ পরাজিত হচ্ছে,কিন্তু আসলে এটি জয়ই হবে ভবিষ্যতের জন্য।

তাই প্রকাশিত হোক সবকিছু।

আর যে বিচার আমরা দাবী করছি, সেই একই বিচার যেন সেনাবাহিনীরও হয়, বেশী দূরে না - আনসার আর ছাত্র নির্যাতনের ঘটনার করলেই হবে। হাজারো ছাত্রের জীবন যখন নষ্ট করেছিল এই সেনারা, তখন আমাদের এই মানুষগুলোই চুপ করে বসেছিল। শুধু ছাত্র হওয়ার অপরাধে যখন পা ভেংগে ফেলা হয়েছিল, তখন আমাদের বিবেকগুলোও ভোঁতা হয়ে গিয়েছিল।

দেশ থেকে হাজারো মাইল দূরে বসে রাতের পর রাতের নির্ঘুম চিন্তায় এইসব ব্যাপার শুধু ঘুরে ফিরে আসছে, পারছি না কিছু করতে। মাঝে মাঝেই মনে হচ্ছে বেশি চিন্তা করে ফেলছি। কিন্তু যখনই মনে হচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামের পরিবারগুলোর কথা, সেই সাথে নিহত সেনা সদস্যের পরিবারের কথা, গুলিয়ে যাচ্ছে আবারও।

বারবার মনে হচ্ছে - টাইটানিক ডুবছে আমার দেশে, আর আমি অসহায় হয়ে দেখছি।

আমার সব আশংকা যেন যে কোন কিছুর বিনিময়ে মিথ্যা হয়।

উল্টাপাল্টা মনে হয় বকলাম কিছুক্ষণ। আশা করছি মনে করবেন না কিছু।
০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:২৯

লেখক বলেছেন: "এইসব মূলব ব্যাপারগুলো বাদ দিয়ে যতই এগুবেন, গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।"

সেইটাই @সৌরভ

আমাদের রাষ্ট্রের প্রথাগত আচরণ "বানানা রিপাবলিক"র মতোই ... বানানা রিপাবলিকে গৃহযুদ্ধ হবার চান্স অনেক বেশী


"বারবার মনে হচ্ছে - টাইটানিক ডুবছে আমার দেশে, আর আমি অসহায় হয়ে দেখছি।"

অনুভূতিটা খুব চমৎকারভাবে তুলে ধরলেন

১৯. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:১১
কাবিল কৈতর বলেছেন: মৃত মানবদেহ দেখে আমি অভ্যস্ত ন্ই। আমার মনে হয় হত্যাকান্ডটাই এখন মূলভাবনার বিষয়। সেনাবাহিনী যথেষ্ঠ সংযমের পরিচয় দিয়েছে। সেটার জন্য প্রাপ্য ধন্যবাদটাও আমাদের দিতে কার্পণ্য। আর এখন ফোকাস এই ঘৃণ্য হত্যাকান্ডের উপর থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। ৪০০০ বিডিআর পালিয়েষে, এতে আমার কোন সন্দেহ নেই। ৪০০০ লোককে যে মারা হয়নি এটা তো স্বীকার করবেন?

বিচার কিরকম হবে সেটা সরকারকে ঠিক করতে হবে। বিশেষ ট্রাইবুনাল হোক বা যাই হোক, আমরা স্বচ্ছতা চাই। দেশের প্রতিটি সেক্টরেই দুর্নীতি আছে। আমরা তার কি করেছি সেটা কি আমাদের ভাবা উচিত নয়? কে দুর্নীতি করে না এই অভাগা দেশে? ১৬৮ জনের সবাই কি দুর্নীতিবাজ ছিলেন? তাদের পরিবারের সব সদস্যরাও কি দুর্নীতি করেছিলেন?
০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:১৭

লেখক বলেছেন: আপনার শেষ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েই পোস্ট শুরু করেছি ... এই ১৬৮ জনের মধ্যে সবাই দূর্ণীতিবাজ না, বা কেউ দূর্ণীতিবাজ হলেও তাকে মেরে ফেলার কোন অধিকার কারও নাই ... সেটা অবশ্যই জঘন্য আর নৃশংস ... সেই বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে সেটা হবেনা এই ভয় আমার নেই ... সেই বিচার হবেই ... তাই আমি সেটা নিয়ে চিন্তিতঃ নই

আমি চিন্তিতঃ সেই বিচারটা কতটা ন্যায়সঙ্গত হয়, আর কতটা প্রতিহিংসামূলক হয় -- সেটা নিয়ে ... কারণ সংগঠন হিসেবে প্রতিহিংসার প্রয়োগের ব্যাপারে আমাদের সেনাবাহিনীর সুনাম আছে, সেটা আপনিও মানেন নিশ্চয়ই


এখন আসি বিডিআর জওয়ানদের প্রসঙ্গে:

বিডিআর জওয়ান কতজন ছিলো? ৪ হাজার? ৮ হাজার? ১৫ হাজার?
আমরা সেটা কোনদিন জানতে পারবো?

আপনি যত সহজে বললেন তারা সবাই পালিয়েছে, আমি তত সহজে সেটাকে মেনে নিতে পারছিনা ... আপনি বুঝতে পারছেন কিনা জানিনা, মিডিয়া এখন কারো বগলের তলায় আটকে পড়েছে


আচ্ছা, তারা কখন পালিয়েছে?

২৫ আর ২৬ তারিখ প্রায় সারাদিন পিলখানা কর্ডন করে রেখেছিলো আ র্মি ... সেসময় হাজার হাজার বিডিআর জওয়ান পিলখানা থেকে পালালে তো কর্ডনরত সেনাদের সেটা দেখার কথা

২৬ তারিখ রাতে বিডিআরের অস্ত্র সমর্পণের পর থেকে এই হাজার হাজার বিডিআর পালাইছে বলতে চান? ... খবরে কিন্তু বলা হয়েছিলো সেসময়ে পলায়নরত দেড়শো'র মতো বিডিআর ধরা পড়ছে র‌্যাবের হাতে ... বাকী কয়েক হাজারের টিকিটিও ছুঁতে পারলোনা র‌্যাব -- এটা বলতে চান?

তাইলে এই হাজার হাজার (কত হাজার আমরা জানিনা, কোনদিন জানবওনা) বিডিআর জওয়ানরা এখন কোথায়?

এই প্রশ্নটা আমাদের পোড়ায়না??? আশ্চর্য!!!!!


কয়েকটা প্রশ্নের জবাব দিনতো:

তারা কি সবাই অপরাধী?
তাদের জন্য কোন তথ্যকেন্দ্র এই দেশে বসানো হয়েছে বা হবে?
তাদের কোন হিসেব কি আমরা শেষ পর্যন্ত পাবো?

২০. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:১৩
বাফড়া বলেছেন: থ্যংকিউ জ্বিনের বাদশা.. দরকারি কথাটা বলার জন্য.. মিডিয়া তাদের অভ্যাস অনুযায়ীই হাওয়ার দিকে োপাল তুলেছে.. বিপদাপন্ন বিডিআর বাহিনীর দিকে তাদের খেয়াল নেই!!! আমরা সাধারন মানুষরাও মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী মত বদল করছি!!!

আপনি যেটা বলেছেন সেইটাই আবার বলতে চাই.। আর্মি অফিসারদের ফ্যামিলি ঠিকই ভাতা পাবে.। কুচকাওয়াজ, তোপধ্বনি কিছুরই ঘাটতি হবেনা.। ফাকে কিছু অসহায় বিডিআর জওয়ান মারা গেলেও সেটা আমজনতার চোখে পড়বেনা!!!



আর্মি তে সবসময় দেখে গেলাম ক্যু হয়ে গেল!! দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটল!! অথচ সামান্য রুটিরুজি আর ভদ্র ভাবে থাকার অধিকার নিয়ে লড়ে যাওয়া বিডিআর জওয়ানরা আজকে জংনের অজান্তে, অদৃশ্যে মারা যাবে!! ভিলেন হয়ে তারা আজ এতটাই নপুংসকের পরিচিতি পেয়েছে যে আমজনতা তাদের ব্যাপারে আজ জানতেই আগ্রহী নয় যে তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে!!!
০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বাফড়া, আমার বিশ্বাস ছিলো আপনিও এই কথাগুলো ভাবছেন ... ধন্যবাদ, অসংখ্য ধন্যবাদ ...

"মিডিয়া তাদের অভ্যাস অনুযায়ীই হাওয়ার দিকে পাল তুলেছে"

মিডিয়াকে নিয়ে আমি আসলঐ হতাশ!!!

২১. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫
নাজিম উদদীন বলেছেন: "নিহত সেনাকর্মকর্তাদের সন্তানদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে, অথচ নিহত বিডিআর সদস্যদের সন্তানগুলোর কথা তাঁর একবার মনেও পড়লোনা! "

এটাই বাস্তব।

পোস্টের সাথে একমত।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: অবকা ব্যাপার কি জানেন? মানুষ খুব নির্বিকারভাবে স্বীকার করছে যে নির্বিচারে অসংখ্য বিডিআর সেনাদের মারা হবে (ইনৈসক্রিমিন্যান্ট কিলিং) ... এমনকি অনেক কুতুব এই ভবিতব্য নির্বিচার হত্যাকে চেইন অভ কমান্ড ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলেও ভাবছেন!!!

মানুষ মেরে কিভাবে চেইন অভ কমান্ড ঠিক করার চিন্তা এরা করছে সেটাই আমার বুঝে আসেনা।

২২. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩৬
সামুরাই বলেছেন: শুধুই হুমাইলাম!!
বালাডি সিভিলিয়ানদের কতা কেউ হুনতো না ভাইডি!!
চাচায় ৯ বছর পশ্চাৎদেশ দিয়া লাঠি ঢুকাইয়াও এখন আবার রাষটপতি হউনের খুয়াব দেখে
আর বই মেলায় ১২তম সংকরনও বাইর হয় হের ভাতিজার বইয়ের হেহ হেহ কারণ সর্বাধিক বিকরিত বইও নাকি এইডা, ক্যামনে কি

আমরা আগেও আঙগুল চুশতাম, এখনও চুশি, ভবিষ্যতেও চুষব ইনশাল্লাহ!!

চলেন নিউজ পড়ি এনালাইসিস বাদ দিয়া (Click This Link):

পিলখানায় সেনা সদস্যের গুলিতে বিডিআর সুবেদার আহত

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৮ (বিডিনিউজ ২৪ ডটকম)- বিডিআর সদরদপ্তরে শনিবার সন্ধ্যায় সেনা সদস্যের গুলিতে সুবেদার আব্দুল মালেক (৫৬) নামে একজন বিডিআর সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত বিডিআর সদস্য মালেককে হাসপাতালে লালবাগ পুলিশের জিম্মায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের উপ-পরিদর্শক মোফাজ্জেল জানান, শনিবার মাগরিবের নামাজের সময় সেনা কর্মকর্তা মেজর কামরুল ইসলাম সুবেদার আব্দুল মালেককে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে যান। মালেকের বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে।

তাকে সন্ধ্যায় অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে বলেও জানান উপ-পরিদর্শক মোফাজ্জেল।

আব্দুল মালেক ৩৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নে কর্মরত রয়েছেন।

মেজর কামরুল ইসলাম হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি তার লোকজন নিয়ে পিলখানার ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তল্লাশি দলটি বিডিআর হাসপাতালের পাশের চামেলি ভবনে একটি ফ্ল্যাটের দরজা লাথি দিয়ে খুললে আব্দুল মালেককে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা অবস্থায় দেখা যায়। মেজর কামরুল বলেন, সেনাসদস্যদের দেখতে পেয়েই মালেক কক্ষে থাকা একটি এসএমজি তুলে নিতে গেলে 'আত্মরক্ষার্থে' সেনাসদস্যরা তার পায়ে গুলি চালান।

আব্দুল মালেকের ডান হাঁটুর নিচে গুলি লেগেছে।

তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে।

মেজর কামরুল লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আজাদকে আব্দুল মালেকের দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়ে যান।

সন্ধ্যায় উপ-পরিদর্শক আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, তখনো এ বিষয়ে কোনও মামলা হয়নি। তিনি শুধু চিকিৎসাধীন বিডিআর সুবেদারের ওপর নজর রাখছেন। এছাড়া শাহবাগ থানার পুলিশও রয়েছে।
২৩. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৪৬
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: পোস্টের সাথে পুরা একমত!
সময়োচিত পোস্ট দেয়ার জন্য থ্যান্কস ভাইয়া!
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:০২

লেখক বলেছেন: দোয়া করি খালি আশংকাগুলো যাতে সত্য না হয় ...

২৪. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৫১
আতিকুল হক বলেছেন: আমার বাবা একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। আমার বক্তব্য যদি বায়াসড মনে করেন করতে পারেন। কিন্তু এগুলো ফ্যাক্ট।

সামরিক বাহিনীকে ঘিরে বড় বড় দূর্নীতি হয়, এটা সত্যি। এর কারন সামরিক বাহিনী সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রস্হ তা নয়। সত্যিকার কারন হচ্ছে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দূর্নীতি করা সবচেয়ে সহজ হয়। সামরিক বাহিনীর একজন মেজর বা কর্ণেল পদবীর কর্মকর্তার সাধারনত দূর্নীতির সুযোগই থাকে না। বিদ্যুতের খুটি নিয়ে দূর্নীতির মুল দায় কিন্তু বিদ্যুৎ সচিবের নয়, বা সিমেন্স কেলেঙ্কারির মুল হোতা টেলিটকের চেয়ারম্যানও নন। কারা তা আপনারা ভালো করেই জানেন। শুধু সামরিক বাহিনী কেন্দ্রীক দূর্নীতির দায় সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের। আপনাদের আর কিছু বলার নাই। এই সব দূর্নীতির খবর আপনারা যে কারনে জানেন না, সেই একই কারনে কোন সৎ কর্মকর্তার পক্ষেও সব বুঝেও কিছু করার থাকে না। তাই তাদের গালি খাওয়াই উচিত, সব জেনেও কেন চাকরীতে ঢুকলো।

আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটাতে আমি সবচেয়ে কষ্ট পাই তা হলো, বিডিআর বা আর্মি দুটোই আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। কিছু লোকের জন্য আমরা যেন প্রতিষ্ঠানগুলোর অবমাননা না করি। পিলখানায় যা ঘটেছে, তা বিডিআরের দোষ নয়, এটা কিছু ষড়যন্ত্রকারী খুনীর কাজ। সামরিক বাহিনী কেন্দ্রিক দূর্নীতর জন্য স্বচ্ছতার দাবি করা উচিত, কিন্তু ঢালাওভাবে সামরিক বাহিনীকে দূর্নীতিগ্রস্হ বলা উচিত নয়। এতে দেশেরই ক্ষতি হয়।

এ ধরনের অপরাধের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে, নিরপরাধ কেউ যেন সাজা না পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। আর্মির শোকে উম্মত্ত হওয়ার যৌক্তিক কারন আছে। এখন শোকে অধীর হওয়া স্বজনহারা মানুষ প্রতিশোধে আইন ভাঙ্গতে চাইতে পারে। এটাকে আপনিই বলুন কিভাবে হ্যান্ডেল করবেন। আমার জ্ঞান বলে আমি পরম মমতা নিয়ে তার পাশে দাড়াবো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পাশে থেকে কাজ করবো। এটাই তাকে আইন ভাঙ্গা থেকে বিরত রাখার উপায়। দেশবাসী এবং সরকারের তাই করা উচিত। ন্যায় বিচারেই সবার অধিকার নিশ্চিত হয়।

আমি এই নিয়ে মন্তব্য করা বাদ দিয়েছে। কারন, আমি ব্লগীয় সুশীলদের দেখতে দেখতে ক্লান্ত। ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে বিবেচনা সম্পন্ন মানুষ মনে হয়, তাই আপনার পোষ্টে মন্তব্য করলাম।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আতিকুল ভাই
আপনি মুদ্রার অন্যপাশটি তুলে ধরেছেন ...

সেনাবাহিনী/রাইফেলসের এযাবৎকালের দূর্নীতি নিয়ে আলোচনার চেয়েও যে দূর্নীতিটার প্রতি মানুষের মনোযোগ জন্মেছে এবার সেটি হলো গত দুবছরের দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ... এখন পর্যন্ত এই অপকর্মটির দায় চেপেছিলো মূলতঃ কিছউ ব্যবসায়ীর উপর, অথচ বিডিআর জওয়ানদের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে এর পেছনে সেনাসদস্যদের (আমি বলছিনা সবাই, হয়তো হোমরা চোমরা দূর্নীতিবাজরাই শুধু) হাতও ছিলো।

এখনকার সিচুয়েশনে প্রায় দেড়শতাধিক সেনা কর্মকর্তার নৃশংস মৃত্যুতে আমরা আসলেই মুহ্যমান ... তার চয়েও বেশী সম্ভবতঃ বিস্মিত ... বিভ্রান্ত ... কিভাবে এটা সম্ভব!!!

কিন্তু গত দুবছর ধরে আপামর জনগনের দ্রব্যমূল্যের ফলে নাভিশ্বাস বের হয়ে যাবার যে অবস্থা হয়েছিলো, তার পেছনের কারণগুলোর সূর্য্যের আলো দেখার যে সম্ভাবনাটা দেখা দিয়েছিলো, উপরোক্ত ঘটনার আড়ালে সেটার মুখ থুবড়ে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে। সেই ফোকাসটা যাতে না হারায়, কারণ দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির জন্য প্রায় সমস্ত জনগনকে ভুগতে হয়েছে মাসের পর মাস, সেটা যদি কারো স্বার্থসিদ্ধির জন্য হয়ে থাকে, তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।


আর্মির শোকে উন্মত্ত হওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নাই, হয়তো আমি সান্ত্বনা জানিয়ে পোস্ট দেইনাই, তাই বলে ব্যথিত যে নই তা না। তবে শুধু সেটাই মূল ফোকাসে থাকলে আমি ভয় পাই বিডিআর জওয়ানদের ইনডিসক্রিমিন্যান্ট ট্রায়ালের শিকার হওয়া নিয়ে। কারণ, প্রতিশোধপরায়ণ কখনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারেরা হয়না, যতই এলিট হোক, যার গেছে তিনি জানেন যে কুড়েঘরবাসী বিডিআর জওয়ানের মাকেও একই কষ্টে কাঁদতে হবে যখন তার ছেলেটি বিচারের নামে এ্যাভারেজ কিলিংয়ের আওতায় খুন হবে, যেটার সম্ভাবনা নিয়েই আমার শংকা! তিনি কখনও এটা চাইবেননা।

২৫. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৩৬
এস্কিমো বলেছেন: পোস্ট পড়ে অনেক কথা মনে আসলো। বলে কি হবে।

বাংলাদেশের দূর্ভাগ্য - একটা প্রতিষ্ঠান যা কিনা দেশের নিরাপত্তা দেবে - এরা বারবার নিজেরাই বিপদগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে নিজেদের কোন্দলে।

সাধারন সৈনিকদের হাতে অফিসার খুনের ঘটনা আগেও ঘটেছে - তাকে আমরা মহান দিবস হিসাবে পালনও করেছি। তার থেকে শিক্ষা নেই নি। আনসার বিদ্রোহ হয়েছে - যা দমন করা হয়েছে হিংসাত্বক উপায়ে। তার থেকেও শিক্ষা নেইনি।

এবারও কি শিক্ষা নেব।

যাদের পরিবারের সদস্য গেছে এরা বুঝে তার ক্ষতি। সে বিডিআর বা আর্মি বা সাধারন নাগরিকই হোক - ক্ষতি সবারই সমান। আর যে ক্ষতি না হয় তাই আশা করি।

আরো আশা করি - আমরা আমাদের ভুলগুলি খুজে বের করবো। আর সামনে যে কোন শোক দিবস পালন না করতে হয় সেই কামনা।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩৬

লেখক বলেছেন: "সাধারন সৈনিকদের হাতে অফিসার খুনের ঘটনা আগেও ঘটেছে - তাকে আমরা মহান দিবস হিসাবে পালনও করেছি।"

এই সত্যটা চাপা পড়ে গেছে এস্কিমোদা ... এটা নিয়ে নানান পক্ষ ফায়দা লুটেছে ... যে বারোজন কর্মকর্তা ৮ ই নভেম্বর খুন হয়েছিলেন, আর ক্যান্টনমেন্ট থেকে যেভাবে কর্মকর্তাদের বোরখা পরে পালাতে হয়েছিলো -- সেই ইতিহাসটা আমাদের শুনতেই দেয়া হয়নি।

২৬. ০১ লা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৬
সামুরাই বলেছেন: একমত @ আতিকুল হক

আপনি কি আমাদের সামরিক বাহীনির পদবীগুলা আমাকে একটু জানাবেন এবং প্রতিটা ধাপে প্রমোশন পেতে আনুমানিক কত সময় লাগে। আমি একটা পোস্ট লিখবার জন্য ইনফো গুলো চাচ্ছিলাম

ধন্যবাদ

০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩৮

লেখক বলেছেন: এটাকে আমাকে বললেন না আতিকুল হককে?

আমি পরিষ্কার করে বলতে পারবোনা

২৮. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:৩৭
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: শুধু একটা কথা - ঘটনার দিন বা তার আগের দিন রাত পর্যন্ত আসলেই কত বিডিআর ছিল পিলখানায়? এ নিয়ে কি কোন তথ্য আছে - কোন সংবাদ মাধ্যম বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত কোন তথ্য।

আসলেই সংখ্যাটা কত ছিল? জানাতে পারলে উপকৃত হব।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৫৫

লেখক বলেছেন: প্রথমদিকে বলা হচ্ছিলো ভেতরে ১৫ হাজার বিডিআর সদস্য আছে

সম্ভবতঃ বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য আসা সংখ্যা এটি ছিলো

এখন জানা যাচ্ছে যে দরবারে যোগ দিয়েছইলো ৩ হাজার বিডিআর

আসলেই কি আগেরদিন ১৫ হাজার ছিলো, নাকি, প্রথমদিন শেষে অধিকাংশই ফিরে গেছে, নাকি দরবারে ৩ হাজার যোগ দিলেও দরবারের বাইরে পিলখানা কম্পাউন্ডেই বাকী ১২ হাজার ছিলো -- এসব তো জানা যাচ্ছেনা!

তবে ৩ হাজারের কম ছিলোনা।

এখন অপারেশন "রেবেল হান্ট" এ বোঝা যাবে কি হয় ... এইসব নাম শুনলেই আত্মায় কামড় দেয়

০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:০০

লেখক বলেছেন: ভালো নেই

৩০. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:০৬
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: আশা করি প্রথম আলোতে দেখেছেন রেবেল্ট হান্টের সাথে সেনা সদস্যদের অন্যান্য "যৌক্তিক দাবী" - কোথাও কিছু বলা যাবে না মানেই দুর্নীতি আড়ালের ভাল একটি সুযোগ।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩১

লেখক বলেছেন: দেখলাম তো! ... উনারা যে কেন দেশের ক্ষমতাটা খালি চাইতে বাকী রাখলেন সেটাই তো বুঝলামনা

৩১. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:১৩
বাফড়া বলেছেন: কি দরকার ব্যারাকে কয়জন বিডিআর সেনাসদস্য ছিল জানার??? বাসায় বাবা শখ করে হুমায়ুন আহমেদ স্টাইলে ভুদিন পর মাগুর মাছ খেতে চাইছেন; বাজার থেকে কত দামে সেটা কিনব সেটাই বিবেচনা করেন... কেন নিজের কেনা মাগুর মাছ খেয়ে বিডিআরের মোষ তাড়াচ্ছেন???
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:২৯

লেখক বলেছেন: হ, আসেন ভুনা ভুনা ঝোলে মাখা মাগুর মাছ খাই ... সাথে খানিকটা জলপাই আচার

৩২. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৩৮
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: আমার জবাবের জন্য ধন্যবাদ, সংখ্যা সংক্রান্ত কোন খবরের লিংক কি আছে। পুরানো খবর হলেও হবে।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩২

লেখক বলেছেন: লিংক খুঁজতে হবে ... সময় করে খুঁজে পেলেই জানাবো

৩৩. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৪৯
রাগ ইমন বলেছেন: একেবারে মনের কথা গুলো গুছিয়ে বলে দিলেন । মনজুরুল হক এই ফোকাসটা ধরে রাখতে গিয়ে অপমানিত হলেন ব্লগে আর আমি খেলাম গালি ।

যাই হোক , ব্যক্তিগত অনুভূতি এইখানে মূল্যহীন । দরকার দেশের স্বার্থেই ফোকাসটা ধরে রাখা ।

এই পোস্টটাকে অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই স্টিকি করা দরকার ।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: অপমান আর গালিই তো দিয়ে আসলো জলপাই এন্ড কোংরা সবসময় ... কিন্তু ঠিকই মনজুরুল ভাই, রাগ ইমন, সৌরভ, বাফড়া এরকম হাজার হাজার ভয়েস জন্মাবেই ... যত দাবড়াবে তত জন্মাবে ...
চালিয়ে যান ... আপনাকে লাল সালাম

৩৪. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪
জাতিশ্বর বলেছেন: এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
এই পোস্ট স্টিকি করার দাবি জানাচ্ছি।
৩৫. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৮
জাতিশ্বর বলেছেন: শালার "ম্লেচ্ছ ছোটলোক"বিডিআর রা ম্যানারও জানে না। স্যারদের আপনি বলতে হয় তাও ভুলে যায়।

ডাকবাংলোর দারোয়ান স্যারকে আপনি বলতে না পারলেও জুতো কে বলেছিল।

"বাবু চইলে গেল ! জুতো জুড়া পইড়ে রলেন!!"
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: সেইটাই ... "মহান পাদুকা মহাশয়"ও বলা যেতে পারে

৩৬. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০১
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: স্টিকি হোক। আমি মেইল দিচ্ছি। আপনারাও দিন।
৩৭. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০৩
বাফড়া বলেছেন: কেমনে মেইল করতে হয় @ মো ম সৌরভ? এড্রেস কি?
৩৮. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩০
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: এই পোষ্ট কেমনে নজরে পড়ল না .. :( ..

সবই মাইন্ড গেম .. এই সব বইলা আর কি হবে ..

এরা তো এলিট না ..

++++++
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: সেইটাই ... যেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন, অমনি তাঁরা গেম শুরু করলেন ... এমনটাই দেখে এসেছি

৩৯. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
ফেরারী পাখি বলেছেন: সত্যি আপনাকে একান্তভাবে সাধুবাদ জানাই। আপনার মত এমন পেশাদারী ভঙ্গিতে গুছিয়ে না লিখতে পারলেও, এই ফোকাস পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে একটা লেখা দেব ভাবছিলাম। লিখেওছি খানিকটা কিন্তু নেটের ঝামেলায় পারিনি।

এই বিডিআর সদস্য দের নির্বিচারে হত্যা করলে বা শাস্তি দিলে, বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর একটা বিশাল চাপ পড়বে, এতে কোন সন্দেহ নেই, অন্য সব (আপেক্ষিক) কথা যদি বাদও দেই।

আমার এই সংক্ষিপ্ত কথায় কেউ ভুল বুঝতে পারেন। তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ----- আপনার লেখার সাথে পূর্ণ সহমত পোষণ করছি।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... এদের উপর অত্যাচার করা হলে তা দেশের ইতিহাসে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করবে ... অর্থনীতিতে তো প্রভাব পড়বেই

৪০. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
মুক্ত বয়ান বলেছেন: লেখক বলেছেন: মিডিয়াকে কি সেনাবাহিনী কাবু করে ফেলেছে কিনা চিন্তিত
শুভ৭৭ বলেছেন: "প্রচুর সংখ্যক বিডিআর সদস্য যারা সম্ভবতঃ বিদ্রোহে যোগ দেয়নি, তাদেরও হত্যা করা হয়েছে। তাদের লাশগুলোর খবর মিডিয়ায় আসছেনা। তাদের লাশগুলো সনাক্ত করার দায় কেউ নিচ্ছেনা। কেন? তারা এইট পাশ বলে? তাদের বেতন দু'তিন হাজার টাকা বলে? তাদের মায়েরা, বউয়েরা কি কাঁদেনা? তাঁদের ছেলেমেয়েরা কি "বাপজান", "আব্বা" বলে কাঁদছেনা?"
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: মিডিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬ তারোখ সন্ধ্যায় ... এখন তাকে গলা টিপে মারার প্রচেষ্টা চলছে ... শুনেছেন বোধহয়, সেনাবাহিনীর সমালোচনা সংসদেও করা যাবেনা!

৪১. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৫৬
নিবিড় বলেছেন: লিখাটার জন্য লগ ইন করলাম
পুরো লিখাটার সাথে সহমত, এই পোস্ট টি জনগনের কাছে ছাপিয়ে বিলি করা হউক
০২ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নিবিড়

৪২. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২৮
প্রলাপ বলেছেন: যৌক্তিক পোস্ট, স্টীকি করা হোউক।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৪৩. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: কাল সন্ধ্যা থেকে প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত আড্ডা দিলাম আমাদের আড্ডাস্থলে। এটা রাইফেলস স্কয়ারের ঠিক উল্টাদিকের লেকের পার।

বিডিআর গেটের অপজিটে হ্ওয়াতে শত শত বিডিআর জোয়ান অনিশ্চিত ভাবে ঘোরাফেরা করতেছে এখানে। রাইফেলস স্কয়ারের সামনে হাজারো বিডিআর জ্ওয়ানের নাম নিবন্ধনের লাইন। যারা ঘটনার সময় / পরে পিলখানা থেকে পালিয়েছে... তারা জানেনা তাদের ভাগ্যে কি লেখা আছে।

যেখানে মাস শেষে তাদের বেতন-ভাতা গ্রহণ করে পরিবারের কাছে পৌছানোর কথা সেখানে তারা সারাদিন অভূক্ত হয়ে বিমর্ষ মুখে ঘুরতেছে। কেমন আছে এইসব বিডিআর পরিবারগুলো?

সামাজিক অবস্থান ভেদে সে হয়তো এলিট শ্রেনীর নয়... তাই তার জন্য কোন ক্যামেরা থাকেনা... তারা ফোকাস হয় না ঠিক মত। ৭৫ হাজার (প্রায়) পরিবারের দিন কেমন চলতেছে ... এটার জন্য কোন ক্যামেরা খুজে পাওয়া যাবেনা হয়তো।

গরীবের জন্য আসলে কেউ নাই :(

যেকোন অপরাধীর সুষ্ঠ বিচার ও আমিও চাই... চাই দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি। সেটা যেন প্রহসন না হয়। অননুমোদিত হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না এই বাংলাদেশে।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: প্রত্যুদা, কাল বলা হলো যারা খুন, অগ্নিসংযোগ আর লুটপাটে জড়িত ছিলো (ধর্ষন হয়তো ইচ্ছে করেই উল্লিখিত হয়নি, ধরে নিলাম মূল বিবেচনায় সেটাও থাকবে), সেইসব বিডিআর জওয়ানদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে ... বলা হয়েছইলো নাশকতামূলক কাজে গুটিকয়েক লোকেরই থাকার কথা ... ১/২ শ হবে ধারনা করেছিলাম

আজ দেখলাম ১০০০ জনের নামে মামলা!!!

৪৪. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৬
সোহানী বলেছেন: দারুন লিখাটা, এভাবে তো ভাবিনি।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৪৫. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৯
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: মনের কথা।

বিডিআর সদস্যদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে গেছে। সেই সংখ্যাটা দুইশ নাকি দুই হাজার হয় সেই নিয়ে চিন্তিত আছি। তাদের জীবনের দাম এখন রান্নাঘরের তেলাপোকার মতই হয়ে গেছে আমাদের বাক্ষ্রনবাহিনীর কাছে।
শ্রেনীবৈষম্য অনেক আগে থেকেই এ দেশে ছিল। এখন থেকে তা সুস্পষ্ট হয়ে গেল। এর প্রভাবে আরও কত কি যে হয় তা নিয়েও চিন্তিত আছি।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৩৫

লেখক বলেছেন: বিডিআরদের জন্য কান্না করার জন্য কেউ নেই ... আমরা খালি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে পারি এই আশায় যে কোন প্রতিহিংসামূলক গণহত্যা যাতে না ঘটে
অলরেডী দেশের সেনাবাহিনী একটি গণহত্যাঐ শিকার হয়েছে ... এসব কেসে ফোকাস করে মূল হোতাগুলোকে ধরেই শাস্তি দিতে হবে

০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন: হুমমম ...

৪৭. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:১২
মানুষ বলেছেন: ভাল লিখছেন বস। সুবিচারটা যেন পায় এইসব হতভাগার দল।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪২

লেখক বলেছেন: সুবিচার করতে হবে ... সুবিচারটা করা অনেক কঠিন ... সেই কষ্টটার দায় সরকারের

৪৮. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩২
আসিফ রহমান বলেছেন:
দ্বিতীয় একটা মাইনাস আমি দিসি।

আপনার কথামত, আর্মির একজন ইনডিভিজ্যুয়াল সাধারণ নাগরিক নন। তার জন্যে আপনি চিন্তিত হন না।

আর্মি সমষ্টিগতভাবে আপনার চক্ষুশূল হইতে পারে নানান কারণে,। সেইটা আপনার ব্যাপার, কিছু কই না। একজন সেনা বা তার পরিবার আপনার কাছে সেই সমষ্টিরই একটা অংশ হিসেবে গণ্য হইতেসে, একইভাবে চক্ষুশূল হিসেবে পরিগণিত হইতেসে - এইটা মাইনা নেওন যায় না।


যে আক্রমণ বা শাস্তি হয় নাই বা হইতে পারতো তার সঙ্গে একটা ম্যাসাকার এক পাল্লায় রাখা যায় না। যা হয় নাই বা যা হইতে পারতো বা ভবিষ্যতে যা আশংকা করা হইতেসে, তার জন্যে কান্নার কোন কারণ আমি দেখি না।
০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪৮

লেখক বলেছেন: ইনডিভিজ্যুয়াল আর্মির পরিবারের জন্য আমার সহানুভূতি আছে ... আমরা যারা এখানে বিডিআরদের গণহারে হত্যা করার বিপক্ষে, তারাও ভিডিও দেখে অডিও দেখে ঠিকই কেঁদেছেন বলে আমি মনে করি ... কথা হলো আমরা নিজেদের মতো দেখতে সেনাসদস্যের দূর্দিনে যেরকম কেঁদেছি, সেরকম একইভাবে দরিদ্র অবহেলিত বিডিআরদের জন্য আবার কাঁদতে চাইনা

সেনাবাহিনীর সদস্যদের ইনডিভিজুয়াল লেভেলে ক্ষতি হলেও ইতিহাসের দিকে তাকালে যে ভয়টা আমরা পাই, সেটা হলো এই ইনডিভিজুয়াল ক্ষতিগুলোর বিচার হবে সংগঠন হিসেবে ... সেনাবাহিনী ভার্সাস বিডিআর জওয়ান ... সেটা ভয়ের

আমরা মানুষেরা কিন্তু যা ঘটতে পারে আশংকা করি সেটা নিয়েই চিন্তিত হই ... কাজেই আপনি যে বলছেন, " যা হয় নাই বা যা হইতে পারতো বা ভবিষ্যতে যা আশংকা করা হইতেসে, তার জন্যে কান্নার কোন কারণ আমি দেখি না।" -- এটা মারাত্মক ভুল।

৪৯. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:০১
দূরন্ত বলেছেন: যুক্তিশীল আলোচনা করেছেন।
৫০. ০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৪১
শিমন বলেছেন: ভাইয়া, পয়েন্ট গুলোর সাথে সবাই সহমত।
আমিও।
ভালো বিশ্লেষন করেছেন।
৫১. ০৩ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
ব্যার্থতার কাব্য বলেছেন: এই পোস্টটি স্টিকী করা হোক।
৫২. ০৫ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯
বাঙ্গাল বলেছেন: তয় এই দশকের সবচেয়ে বেশিবার পরিবেশিত গুজব "৬৩ জন আরমি অফিসারের লাশ পাওয়া গেছে...৭২ জন নিখোজ"আসলে ৬। স র কা র , আরমি, নিঊজপেপার...সবাই মিছা কইলো, ৪ দিন ধইরা?
Click This Link
০৫ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

লেখক বলেছেন: এইটা অবশ্য আমি আর্মির ষড়যন্ত্র মনে করিনা ... সব অফিসারদের রিপোর্টিংয়ের তথ্য ইন্টিগ্রেট করতে সময় লাগে ... এরমধ্যে ভুল হতেই পারে

বরং ভুল যে স্বীকার করেছে সেটাকে সাধুবাদ জানাই

অবশ্য বটমলাইনটা অন্য জায়গায়:
১৬৮ জনের জায়গায় ৬২ জন হত্যা হয়েছে বলে অপরাধীদের অপরাদঃ লঘু হয়ে যায়না ... অপরাধের যে নৃশংস প্রকৃতি দেখলাম, তাতে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হ্ওয়া উচিত, তা যতজনই খুন হোক না কেন

আমাদের মূল মাথাব্যাথা হলো, নিরপরাধ বিডিআর (যারা সরাসরি হত্যা, ধর্ষন, লুটপাট) করেনি, তাদের যেন মৃত্যুদন্ড না হয়

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৩৪৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ