somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্পোরেট ইকো ক্যাম্পেইনের রকমসকম

১০ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিন্দুকের অভাব নাই, বিশেষ করে যখন নিন্দার বিষয়বস্তুটা হয়ে যায় বিশ্বজোড়া বড় বড় কর্পোরেটরা। রাজনীতি ও রাজনীতিবিদঘেঁষা কিছু দুষ্টচক্রের কর্পোরেটের (মূলতঃ তেলব্যবসায় জড়িতরা) কারণে ইনটেলি এ্যারেনাতে জগতের তাবৎ কর্পোরেটওয়ালাদের গালিগালাজ করার একটা জনপ্রিয় রেওয়াজ দেখা যায় ইদানিং। না, তার সবটাই অর্থহীন বা অযথা তা বলছিনা, আবার তার অনেকটাই যে ব্যাখ্যাহীন ক্লিশে আয়োজন না, তাও বলছিনা। যাই হোক, আমার মূল্যায়নে "প্রফিট" ছাড়া কিছু বুঝতে না পাওয়া কর্পোরেটরা কিন্তু তারপরেও কাজ করে যাচ্ছে, সবরকমের খাতেই কোন না কোনভাবে অবদান রাখার একটা প্রচেষ্টা আমি এদের মধ্যে দেখতে পাই। একেবারে রক্টচোষা জোঁকের মতো নির্লজ্জ আমার এদেরকে কখনই মনে হয়নি, অন্ততঃ কর্পোরেট কালচারের ঘোর বিরোধীও এটা মানবেন যে আজকের দুনিয়ায় অন্ততঃ ব্যক্তিপর্যায়ের চাকরীজীবিদের মধ্যে নীতি বা সততা যাই বলুন তার সবচেয়ে চমৎকার বাস্তবায়ন কিন্তু ঘটিয়েছে কর্পোরেটরাই।

পোস্টের মূল উদ্দেশ্য এটা ছিলোনা, তাও লিখেই যখন ফেললাম, থাকুক মিলেমিশে। মূল প্রসঙ্গটা কর্পোরেটদের পরিবেশ সচেতনতার কতগুলো ইন্টারেস্টিং উদাহরণ নিয়ে। এমনিতেই বড় বড় সবকোম্পানীরাই নানানভাবে চেষ্টা করছে এনার্জি সেভিংয়ে অবদান রাখার, "থ্রি আর" (রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকল) এরা সবাই বেশ সিরিয়াসলীই মানে। যেমন যে কামরাগুলো ব্যবহার হচ্ছেনা, সেগুলোর বাতি অবশ্যই বন্ধ রাখা, ফটোকপি কাগজের দুপৃষ্ঠেই করা, এরকম অনেক কিছু। বিশেষ করে যখন দেখি কর্মচারীদেরকে আহবান জানানো হয় ঘরে পড়ে থাকা অব্যবহৃত সিডি/ডিভিডি ভলান্টারিলি জমা দিতে যাতে করে ওগুলো থেকে নানান ধরনের ইলেকট্রনিক্সে যন্ত্রপাতির বডির পুনরুৎপাদনে কাজে লাগানো যায় -- তখন কিছুটা হলেও শান্তি পাই। এমনিভাবে সব কোম্পানীই দৈনন্দিন জীবনের নানান ক্ষেত্রে নানানভাবে ইকো বা পরিবেশ সচেতনতাকে বাস্তবায়ন করছে। তেমনি কয়েকটি ইউনিক ইকো আইডিয়া এখানে তুলে ধরবো।


প্যানাসনিকের ইকো প্রোডাক্টস:

হেন ইলেকট্রনিক্স নাই যেটা প্যানাসনিক বানায়না। হোম এন্টারটেইনমেন্টের বিশালাকায় টিভি থেকে শুরু করে কিচেন প্রোডাক্টস ওভেন, ফ্রিজ, টয়লেটের ওয়াশলেট, বাথরুমের ওয়াটারপ্রুফ স্পিকার -- মানে যেখানে যা যা ব্যবহার করা যায় সবরকমের ইলেকট্রনিক্সই এরা বানায়। এর ফলে এনার্জি সেভিংয়ের স্কোপওয়ালা যন্ত্রপাতি বানানোর সুযোগও প্যানাসনিকের অনেক বেশী। যেমন বৈদ্যুতিক বাল্ব থেকে শুরু করে এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন -- সবকিছুর ব্যাপারেই সাধারণ প্রোডাক্টের পাশাপাশি খুব উঁচুমানের বিদ্যুৎসাশ্রয়ী প্রোডাক্ট এদের আছে, এবং অবশ্যই এগুলোর দাম একটু চড়া।

তো, এই চড়াদামের প্রোডাক্ট বিক্রীর জন্যই প্যানাসনিকের ইকো ক্যাম্পেইন। এটা হলো প্রত্যেক প্রোডাক্টের জন্য একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছের উল্লেখ থাকে, যেমন ধরুন, এসি কিনলে পাঁচটা গাছ। ফ্রিজ কিনলে তিনটি গাছ, এরকম প্রত্যেক প্রোডাক্ট বিক্রীর জন্য একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ প্যানাসনিক রোপন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়।

বলা যায় যে, গাছ যদি রোপনই করবে তবে এমনি এমনি করলেই তো হয়, এত ভংচংয়ের দরকার কি। তাদের উত্তরটা অনেকটা সামহোয়ারের সেই এসএমএস ক্যাম্পেইনের মতো -- ইকোফ্রেন্ডলি কাজের সাথে সাথে জনসচেতনতা বাড়ানো। যুক্তি একেবারে অমূলকনা, পঞ্চাশ হাজারের সাধারণ এসির বদলে দশ হাজার টাকা বেশী দিয়ে ইকো ফ্রেন্ডলি এসি কিনলে মনের মধ্যে সচেতনতা আপনা আপনিই তৈরী হয়ে যাবে।


মোবাইল অপারেটর কে.ডি.ডি.আই'র ক্যাম্পেইন:

কে.ডি.ডি.আই-এ.ইউ জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর কোম্পানী। জমজমাট ব্যবসা করছে, এই রিসেশনের মধ্যেও এরা লাভ করেছে গত বছরের প্রতি কোয়ার্টারে। দিন ভালো গেলে মনও ফুরফুরে থাকে, নানান জনদরদী কাজে উৎসাহটা এমনিতেই বেশী থাকে। এই কোম্পানীর ইকো ক্যাম্পেইন তাই প্যানাসনিকের মতো অতটা ব্যবসায়িক না। একটু রয়েসয়ে ক্যাম্পেইন করছে এরা।

জাপানে প্রত্যেক অপারেটরের নির্দিষ্ট ফোনসেট থাকে, ক্রেতারা সার্ভিস নিলে একই সাথে ফোনসেটও কেনে। কারণ, সেক্ষেত্রে সেটের দাম প্রায় দিতেই হয়না, মাসে মাসে কাটা যায় টাইপের। তো, কেডিডিআইর ফোনসেটে মোবাইল ফোনের নানান ফাংশনের সাথে বাড়তি যোগ হয়েছে আরেকটি ফিচার, যেটা হলো, এই ফোনসেটকে শরীরে সেট করে ফিচারটি অন করে দৌড়ালে বা হাঁটলে সেটা আপনি কতটা পথ হাঁটলেন বা দৌড়ালেন, তা পরিমাপ করবে। প্রতি এক কিলোমিটার হাঁটার জন্য কোম্পানীর "গ্রীন রোড প্রেজক্টে" যোগ হবে এক ইয়েন বা ৭০ পয়সা। এই ক্যাম্পেইনটাকে অতটা নির্লজ্জ বলা যায়না, আপনার একটা কেডিডিআইয়ের ফোন থাকতে হবে সেটা ঠিক, তবে বাকী যে কাজটা করতে হবে সেটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপনা, গুণীজনেরা বলেন, হাঁটাই সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। জনগণের স্বাস্থ্যও ভালো থাকলো, ফ্রেশবাতাসের জন্য পরিবেশে সবুজের পরিমাণও বাড়লো -- মন্দ কি!

আমি হিসেব করে দেখলাম, অফিসের দিন প্রতিদিন বাসা থেকে স্টেশন, ট্রেন বদল, স্টেশন থেকে অফিস -- দিনে দুবার এই আসা যাওয়াতেই আমার প্রায় চল্লিশ মিনিট হাঁটা হয়, যেহেতু জোরে হাঁটি বলা যায় অন্ততঃ চার কিলোমিটার হাঁটি। আর বন্ধের দিন তো বাজার করা, ঘোরাঘুরিতে আরো বেশী। ধরলাম সপ্তায় ৩০ কিলো মিটার হাঁটা হয়। ৫২ সপ্তায় সেটা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫৬০ কিলোমিটার। কেডিডিআইর গ্রাহক আছে অন্ততঃ ৩ কোটি। এরা সবাই সিরিয়াসলি এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিলে বছর শেষে "গ্রীন রোড প্রেজক্টে"র জন্য তাদের গুনতে হবে ৫ হাজার কোটি ইয়েন, বা সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা!! দেখি আগামী বছর তারা কি বলে!


ইকো স্মোকার : ইলেকট্রনিক সিগারেট



এটা কোন বড় কর্পোরেটের ক্যাম্পেইননা, কোন অতিরিক্ত বুদ্ধিমান মানবমস্তিষ্ক প্রসূত আইডিয়া -- ইলেকট্রনিক সিগারেট। ছবিতে দেখছেন ইলেকট্রনিক সিগারেট দেখতে কেমন দেখায়, নাম "ইকো স্মোকার"।
যারা নিকোটিন এ্যাডিক্ট তাদের জন্য ইকো স্মোকার কাজ করবেননা, তবে বিদ্বানরা বলেন কোনভাবে একুশদিন নিকোটিন ছাড়া কাটাতে পারলে নিকোটিনের প্রতি শারীরিক যে আসক্তি সেটা চলে যায়, বাকী থাকে মানসিকটা। সেই মানসিক অংশ নিয়েই কাজ ইকো স্মোকারের।

এতে সিগারেটের আগায় আগুন জ্বলবে (আসলে ইলেকট্রিক বাল্ব), আর আপনার মুখেও ধোঁয়া ঢুকবে; সেটা তৈরী করা হবে একরকম সুপার ক্রিটিকাল মিস্টিফিকেশন টেকনোলজীর মাধ্যমে কার্ট্রিজের ভেতর থাকা তরলকে ধোঁয়ায় পরিণত করে। নিকোটিন আর টারের ধোঁয়া পরিবেশেও ছড়াবেনা আপনার ফুসফুসেও ঢুকবেনা। অলরেডী জাপানে ২০ হাজার বিক্রী হয়েছে এই ইকো স্মোকার। দাম ১০০ থেকে ১৫০ ডলারের মধ্যে।



সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:২২
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×