আমার প্রিয় পোস্ট
- গত ৫ বছরে চালের দাম দ্বিগুণ - মারদাঙ্গা
- প্রখ্যাত ব্লগার দিনমজুর ও সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট ফিরোজ গ্রেফতার! সোশ্যাল মিডিয়া মুভমেন্ট আপরাইজিং! - কৌশিক
- ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো (কপি-পেস্ট পোস্ট) - বল্টু মিয়া
- জয় হোক বাংলা ভাষার, জয় হোক বাংলা ব্লগের: আলী মাহমেদ - নোটিশবোর্ড
- ভয়ঙ্কর এক সংখ্যার জন্ম, নিষ্ঠুর এক খুনের গল্প (শেষ পর্ব) - ম্যাভেরিক
- লগোদের বির্বতনবাদ - জেরী
- বাপেক্স/পেট্রোবাংলাকে নিয়ে যতসব মিথ ও তার জবাবে .... - দিনমজুর
- গ্যাস উৎপাদন কে করবে? - দিনমজুর
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগলো ধুম - দিনমজুর
- হিরোশিমা দিবস ঃ আধুনিক সভ্যতার এক কলংকজনক অধ্যায়। - ভিন্ন চিন্তা
- সেলিব্রিটি সিনড্রোম - ফারহান দাউদ
- জায়নিস্টদের অবিসংবাদিত নেতা এবং ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ঠ্রপতি ডঃ চ্যাইম ওয়াজম্যানের সাথে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে কথোপকথন। - নরাধম
- বাজেটে পিপিপি :পাবলিক-মানি টু প্রাইভেট পকেট?- ১ম কিস্তি - দিনমজুর
- ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ডিএমসির ছাত্রী নাহিদা মৃত্যুর প্রহর গুনছে - অণৃণ্য
- পুরান আর রূপকথা নিয়ে আরও কিছু কথা... - খারেজি
- বাংলাদেশের মানুষের মন - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- সচলায়তন ব্লগের কয়েকটি ইবুকের সরাসরি ডাউনলোড লিংক - সাদাচোখ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোধে আন্তর্জাতিক চাপ - রেজওয়ান
- ৮০০তম পোষ্টঃ কিছু আবোল-তাবোল কথা - এস্কিমো
- ব্লগ এবং পত্রিকায় পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনাগুলোর সঙ্কলন - আতিকুল হক
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই-১: একটা কমিশন গঠনের কাহিনী - শওকত হোসেন মাসুম
- আর কত মেরে থামবে শিকার, গণচিঠি দিন দেশে দেশে (আপডেটেড) - কাকশালিখচড়াইগাঙচিল
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- চাইনিজ ভেজিটেবল কিভাবে রান্না করবেন। - জরিণা
- কাচ্চি বিরিয়ানী রেসেপি - মাহবুব সুমন
- জনস্বার্থের পোস্ট: ব্লগে আপনার নিজের সেরা লেখা কোনটি? (সবার অংশগ্রহন বাধ্যতামূলক)
- জ্বিনের বাদশা
- একাত্তরের গণহত্যা ও নারী নির্যাতনঃ কিছু সাক্ষীর বয়ান - রাশেদ
- অভিশপ্ত এই খুনীদেরও চিনতে হবে ঘৃণাভরে... - অমি রহমান পিয়াল
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো.... - অমি রহমান পিয়াল
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- একটি সত্যিকার [অ]রম্য গল্প: নাটকের বিবর্তন , প্যাকেজ বিপ্লব , এবং একজন বিপ্লব-প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি - মেহরাব শাহরিয়ার
- ফিলিস্তিন সংকটের কারন - এ মাস্ট ওয়াচ ভিডিও - আবূসামীহা
- এক রাত্রির গল্প - রক্তিম
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৎৎ হবে না কেনো, হবে ... - হাসান মোরশেদ
মে দিবস পালনের দরকার আছে কি?
০১ লা মে, ২০০৯ দুপুর ২:৪৪
১.
জাপানে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় যে শহরে ছিলাম, সেখানে মুসলিমদের জন্য নামাজের কমন স্থান হিসেবে দু'রূমের দুটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়া হয়েছিলো, যাকে আমরা বলতাম, ইসলামিক সেন্টার। তবে, ইসলামিক সেন্টারে শুধু নামাজ পড়তেই লোকে যেতোনা, হালাল খাবারের কেনাকাটার জন্যও সেখানে যেতো। তখনও জাপানের প্রায় সব হালাল খাবারের দোকান টোকিওতেই কেন্দ্রীভূত ছিলো, আর আমাদের শহর সেনদাই থেকে টোকিও ছিলো মোটামুটি তিন-চারশ' কিলোমিটার দূরে। তাই মুসলিম ছাত্ররা মিলে ঠিক করল যে ইসলামিক সেন্টারকেই একটি সামান্য লাভজনক হালাল ফুডের দোকানে পরিণত করবে, লাভের অংশটা সেন্টারের ভাড়া-বিলের জন্য ব্যবহার করা যাবে। টোকিও থেকে নিয়মিত হালাল খাবারের অর্ডার দেয়া, বেচাকেনার হিসেব নিকেশ, আর সেন্টারের মেইনটিনেন্স -- এসব কাজের জন্য একজন বাঙালী ছাত্র ছিলেন সেন্টারের তত্ত্বাবধানকারী। যেহেতু ছাত্র তাই সকাল থেকে রাত অবধি ল্যাবে মাথা গুঁজে রিসার্চ করতে হতো তাঁকেও, কাজেই একই সাথে সেন্টারের তত্ত্বাবধানও তিনি কিভাবে করতেন সেটা একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় ছিলো, বিশেষ করে সেন্টারের হালাল খাবার কেনাবেচার সিস্টেমটা ছিলো খুবই মজার।
সেন্টার সাধারনত তালাবন্ধই থাকতো। যখন কেউ খাবার কিনতে যেত, মেইলবক্সের নাম্বার-কোডেড তালা খুলে সে এ্যাপার্টমেন্টের চাবি নিতো মেইলবক্স থেকে। তারপর নিজের প্রয়োজনমতো খাবার ফ্রিজার আর কিচেনের তাক থেকে নিয়ে, কি কি কিনেছে তার হিসেবটা একটা সংরক্ষিত খাতায় লিখতো। দাম শোধ করার সিস্টেমটাও ছিলো খুব সাধারণ, একটা টিনের ক্যাশবাক্সে টাকা রাখতো সবাই; নোট-কয়েন একসাথেই ছিলো, ক্রেতাকে নিজেকেই ক্যাশিয়ারের কাজ করতে হতো। তত্ত্বাবধায়কের কাজ ছিলো কয়েকদিন পরপর খাতা দেখে কেনাবেচার হিসেব, আর ক্যাশবাক্সে যোগ হওয়া টাকার হিসেব মিলানো, এবং নতুন খাবারের অর্ডার দেয়া।
একেবারে নতুন এই সিস্টেম দেখে মনে প্রথমেই যে প্রশ্নটা জেগেছিলো, তা হলো, কেউ কি কখনও জালিয়াতি করেনি? বেশী খাবার নিয়ে কম লেখা, বা খাতায় কিছু না লিখে খাবার নিয়ে কেটে পড়া, অথবা ক্যাশবাক্স থেকে পয়সা হাতিয়ে নেয়া -- কত কিছুই তো করতে পারে! আশ্চর্য হয়েছিলাম যেটা শুনে তা হলো, তখন পর্যন্ত এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। টায়টায় হিসাব মিলে এসেছে সবসময়, যেটা শুনে আমি আসলেই অভিভূত হয়েছিলাম। একসময় বাংলাদেশী তত্ত্বাবধায়ক বড় ভাই পড়াশোনা শেষ করে দেশে চলে গেলেন, আরেকজন বাংলাদেশী বড়ভাই ইসলামিক সেন্টারের দায়িত্ব নিলেন। তাঁর দায়িত্বও একসময় শেষ হলো, এবং এবারে এর দায়িত্বে আসলেন একজন পাকিস্তানি। এই মহাত্মনের ঘটনা বর্ণনার জন্যই এত বড় ভূমিকা।
মোটেও কৌতুক করছইনা, এই পাকি বুজুর্গের লম্বা লম্বা দাড়ি দেখে সুকেশী মেয়েদেরও ঈর্ষান্বিত হবার কথা; গোড়ালীর দু'ইঞ্চি উপরে প্যান্ট ভাঁজ করা থাকে সবসময়। নামাজের সময় কাতার ঠিক করা নিয়ে দুশ্চিন্তার সীমা থাকেনা তাঁর, যে কোন আলোচনায় তাঁর গভীর ধর্মীয় জ্ঞান লোকজনকে পারলে ভক্তিতে শুইয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলে। অর্থাৎ, মোদ্দাকথা হলো, ঈমানদার মুসলিম মাত্রই উনাকে দেখে ঈর্ষা আর অনুপ্রেরণায় ফেটে পড়ার কথা, ভাবার কথা, 'আমাকে ঠিক এরকম একজন মুসলিম হতে হবে!'।
কিন্তু এহেন বুজুর্গেরই সেন্টারের তত্ত্বাবধানে আসার পর একটা বিরাট সমস্যা হলো, আর সেটা আমরা মানে আমজনতা জানতে পারলাম তিনি দায়িত্ব নেবার মাস দশেক পর, যখন ইসলামিক সেন্টারের বাৎসরিক মিটিং হয়। এই মিটিংয়ে সেন্টারের সারা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেব তুলে ধরা হয়, আর নতুন বছরের বাজেট পেশ করা হয়। এটা করা হতো কারণ, মোটামুটি মুসলিম সবছাত্রই মাসে এক হাজার ইয়েন করে চাঁদা দিতো সেন্টার পরিচালনার জন্য, একটু বেশী দামে হলেও টোকিওতে অর্ডার না দিয়ে সেন্টার থেকেই হালাল ফুড কিনতো -- কাজেই তাদের এই ত্যাগের অর্থগুলো কোথায় ব্যয় হচ্ছে সেটা সবাইকে জানানোর রেওয়াজ ছিলো আমাদের, আমি বলবো আমাদের সেই ইসলামিক সেন্টারের সব নিয়মকানুনই খুব স্বচ্ছ আর জবাবদিহিতামূলকই ছিলো।
অথচ এসব আইনকানুনকে প্রথম বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন জনাব পাকি বুজুর্গ। মিটিঙয়ে আমরা জানতে পারলাম যে হালাল ফুডের লেনদেনের হিসেবে ছয় লাখ ইয়েনএর (এখনকার রেটে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা) হিসেব মিলছেনা। পাকিকে জিজ্ঞেস করা হলো ঘটনা কি, অথচ সে ভীষণ উদ্ধতভাবে এ নিয়ে কোন আলোচনা করতেই রাজী হলোনা! আমরা বাঙালীরা বললাম, "তোমার কাছে অন্ততঃ আমাদের একটা ব্যাখ্যা পাওনা আছে। তোমার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সেন্টারের ফান্ড থেকে এত টাকা গায়েব হয়ে গেলো, তার একটা কৈফিয়ত দেয়া তো তোমার দায়িত্ব!" সে উল্টো আমাদের বাংালীদের উপর ক্ষেপে গেলো, তারপর, ক্যাম্পাস এতো কাছে হওয়া সত্ত্বেও আমরা বাঙালীরা কেন নিয়মিত ফজরের নামাজ তো দূরের কথা, এশার নামাজও পড়তে সেন্টারে যাইনা সেই প্রশ্ন তুলে, সেখান থেকে সেন্টারের প্রতি আমাদের বাঙালীদের কোন দরদ নেই টাইপের উপসংহার টেনে, "এখন মাছের মায়ের পুত্রশোক দেখাতে এসেছে!" -- এসব বালছাল বলে পার পেয়ে যেতে চাইলো। একটা লোক সেন্টারের ছয় লাখ ইয়েনের হিসেব দিতে পারছেনা, সেটা নিয়ে কোন ব্যাখ্যা দিতেও সে রাজী না -- আমাদের আর বোঝার বাকী থাকেনা যে এখানে কি ঘটেছে। রাগে, কষ্টে, আমরা বাঙালীরা মিটিং ওয়াকআউট করলাম। তবে অন্যান্য দেশী মুসলিম ব্রাদারানদেরকেও দেখা গেলো "ফেৎনা" এড়ানোর উসিলায় তাঁরা বিষয়টা নিয়ে আলোচনায় বিশেষ আগ্রহী হলেননা। তাঁরা চুপচাপ সব মেনে নিলেন। উল্লেখ্য, তসরূপকৃত অর্থে সেন্টারের ১০ মাসের ভাড়া হয়ে যেত।
যাই হোক, ওয়াকআউট করে বের হলাম ঠিকই, কিন্তু বাইরে আসার পরই সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনাটি ঘটলো। আমরা যখন পাকি বুজুর্গের বদমায়েশী নিয়ে ক্ষিপ্ত, তখনই আমাদের এক বাঙালী ভ্রাতা এতে কোন দোষ দেখলেননা! আমরা বলছিলাম, এত যে ইবাদত বন্দেগী করে লোকটি, অথচ চুরির পয়সা, হারাম পয়সা খেলো, তার ইবাদত কবুল হবে কিনা! তখনই আমাদের সেই বাঙালী ভ্রাতার উত্তর আমাকে স্তব্ধ করে দিলো। তিনি বললেন, "যেহেতু লোকটা খুব ধার্মিক, পাঁচ-ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, প্রচুর ইবাদত করে, কাজেই তাকে আমি দোষ দিইনা। বরং আমরা নিজেদের দিকে তাকাই, আসুন প্রশ্ন করি, কয়বেলা ভোরে শীতের মধ্যে ঘুমথেকে জেগে ফজর নামাজ পড়েছি? এই পাকিস্তানি তো নিয়মিত সকালে ফজরের জামাতেও আসেন।" বিস্ময় লুকোতে না পেরে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কথাগুলো আসলেই বুঝে বলছেন কিনা, তিনি দৃঢ়ভাবে আবারও নিজের মতের পক্ষেই বললেন।
স্তব্ধ হয়ে গেলাম!
একই সাথে একটা নতুন সত্য আমার কাছে প্রকাশ পেল। বুঝলাম, আকৃতিসর্বস্ব ইবাদতেই সব নিহিত বলে মনে করে এমন বুজুর্গ কম নেই! দেশে প্রায়ই যেটা শোনা যায় সেই ঘুষখোর টুপিদাড়িওয়ালাদের ব্যাপারটাও এতে পরিস্কার হয়ে গেলো। এর আগে আমি ভাবতাম, এইসব টুপিদাড়িওয়ালা ঘুষখোরেরা ভন্ড, বাইরেই বের হয় টুপি দাড়ি পরে, ঘরে নামাজ পড়াতো দূরের কথা পশ্চিমদিকে আছাড়ও খায়না! কারণ, আমি ভাবতাম, আল্লাহর ভয়ে যে লোক দিনে পাঁচবার অলসতাকে জয় করে এত কষ্ট করে নামাজ পড়ে, সে কোনভাবেই অন্যায় পথে পয়সা রোজগারের দিকে যেতে পারেনা -- সেটা কন্ট্রাডিকটরী হয়ে যায়। অথচ সেদিন বুঝলাম, অনেকেই হয়তো এমন করেই ভাবে যে, দুনিয়াবী অন্যায়গুলো ব্যাপারনা, ইবাদত করলেই হলো।
বুঝলাম, ধর্মের আকৃতিসর্বস্ব ব্যাপারগুলো নিয়ে বেশী মেতে থাকার একটা কুফল হতে পারে এমন যে, মানুষ আকৃতিসর্বস্ব ব্যাপারগুলো পালন করেই ভাবতে পারে যে সে তো ধর্মের সবকিছু পালন করছে। তখন আকৃতিহীন অথচ আরো গুরুত্বপূর্ণ এমন দায়িত্বগুলো তার কাছে গৌণ হয়ে দেখা দিতে পারে। মুসলিম দেশগুলোতে ধর্মপালনের হার বেশী, আবার দূর্নীতির হারও একইভাবে বেশী -- এটাকে হয়তো ধর্মপালনের নামে আকৃতিসর্বস্বতাকে আঁকড়ে ধরার এই যে প্রবণতা, তার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়।
আকৃতিসর্বস্ব ইবাদতের বা উপাসনার আড়ালে চরম অন্যায় কাজটিকেও জাস্টিফাইড মনে করা শুরু করে মানুষ।
২.
আজ মে দিবস, শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস।
এই দিবসকে সম্মান করে আজ আমাদের দেশে সরকারী ছুটি। শুধু তাই না, আজ শ্রমিকদের নিয়ে সারাদেশব্যাপী অনেক অনুষ্ঠান হবে, টিভি-রেডিওতে টক শো, শিল্পীদের স্টেজ কাঁপানো পারফরম্যান্স, শ্রমিকদের সাথে নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল -- সব হবে। আমেরিকানদের মতো ইতিহাস না ভুলে আমরা বাঙালীরা যথাযথভাবে শ্রমিক দিবস পালন করছি ও করবো।
অন্যদিকে, জাপানে দেখা যাচ্ছে, কেউ জানেওনা মে দিবসের কথা, ছুটি তো দূরের কথা! শ্রমিক অধিকার নিয়ে সেরকম মাঠঘাট কাঁপাতেও এদের দেখিনা। উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই অবস্থা হবার কথা।
অথচ মুদ্রার অন্যপিঠে তাকালে দেখা যায়,
আমাদের দেশে শ্রমিকেরা কি পরিমাণ বঞ্চিত সেটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সমাহোয়ারেই এই নিয়ে অনেক পোস্ট এসেছে আজ।
আর জাপানে আমি নিজ চোখে দেখেছি শ্রমিকের অধিকার নিয়ে সবাই কতটা সতর্ক, আইনকানুন কত কঠোরভাবে পালন করা হয় এই ব্যাপারে।
এসব দেখে ভাবি, আকৃতিসর্বস্ব এইসব মেদিবস, ছুটি, সেমিনার পালনের আড়ালেই কি শ্রমিকের বঞ্চনাকে আমরা বছরের পর বছর জাস্টিফাই করে আসছিনা?
এসব করেই কি আমরা আত্মতৃপ্তি পাবার চেষ্টা করছিনা এই ভেবে যে, আহা আমরা কত শ্রমিকের-অধিকার-সচেতন!
আসলে, কী দরকার আছে এসব দিবসে-টিবসের? এর চেয়ে বাসার কাজের বুয়াকে টিভি দেখার সময় সোফায় বসার অধিকার দেয়াটা বেশী জরূরী না?
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ভন্ড নাকি বিভ্রান্ত, সেইটা নিয়াও ধন্দে পড়ি মাঝেমাঝে
অরণ্য আনাম বলেছেন:
বিশ্লেষণী লেখা। ভাল লাগলো ভাইটি
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইটি
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
শেখ সাদীর পোষাকটাই আছে, তলের মানুষটা নাই।
লেখক বলেছেন: এমনভাবেও মনে হয় বলা যায়, পোষাকের সামনের অংশ দেইখাই পইরালাইছে, পিছনে কি অবস্থা খেয়াল নাই ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
এক কথায় অসাধারন হয়েছে। একদম ঠিক।
লেখক বলেছেন: সাধারণত ম্যানেজারিয়াল পদে যাবার আগ পর্যন্ত সবাইই শ্রমিকের দলেই পড়ে ... তবে আমগো দেশে মনে হয় বনেদী ভাবের কারণে ডেস্কওয়ার্কারদের ট্রেড ইউনিয়নে ঢুকার নিয়ম নাই ... চামে, এদের স্বার্থ দেখার কোন জায়গা নাই ... ![]()
জব কন্ট্রাক্ট যদি এমন হয় যে একটা ফিজিবল রেঞ্জের কাজ বেঁধে দেবে কোম্পানী, আর সেটা কর্মচারী যে সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারে সেটা তার ব্যাপার -- যেমন প্ল্যানিং, রিসার্চার বা প্রোডাক্ট ডেভেলপারদের জব, তাহলে ওভারটাইম/৮ ঘন্টার প্রশ্ন আসেনা ... এর বাইরে এরকম করাটা অরাজকতা!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে ...
লেখক বলেছেন: ওয়েলকাম ![]()
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
বহু মানুষকে শুধু ধর্মের থিয়োলজীক্যাল দিকের চেয়ে রিচুয়াল দিকটাকেই বেশী মানে। একদিকে চুরি ,ঘুষ,সুদ খায় আর টেক্স ফাঁকি দেয় সমানে অন্যদিকে নামাজের সময় মসজিদের প্রথম কাতারে আর হালাল মাংস ছাড়া খায় না।
লেখক বলেছেন: ঠিক বলছেন ... ধর্মের থিওলজিকাল অর্থটা জরূরী ... বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের লোকেরা বলে নামাজ পড়তে পড়তে অভ্যাস হয়ে যাবে ... কথা হলো, অভ্যাস হয়ে যাওয়া নামাজে কি লাভ হয়? ...
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
সামু যদি এটাকে স্টিকি করতো।খুব ভাল হতো। গতানুগতিক দিবসীয় পোষ্ট না দিয়ে একটু ভিন্ন দ্বারার পোষ্ট। যা আসলেই চরম সত্য।
লেখক বলেছেন: এইটা একটু স্ক্রুড-আপ প্রস্তাব ... বিদ্রোহী ... স্টিকি না হওয়াই ভালো ![]()
মেঘলা মানুষ বলেছেন:
ভাল লিখছেন বাদশা
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেঘলা মানুষ ... আপনার নিকটা ব্যতিক্রমী
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
১. ধর্মহীন কর্ম, কর্মহীন ধর্ম দুটিই পরিত্যাজ্য! ২. সারাদিন বিশ্রামহীন কাজ করার পরও ধুম করে বস যখন বলে আজ কাজ শেষ করে যেতেই হবে, তখন কেমন যে লাগে কী বলবো!
ভালো লিখেছেন, অবশ্যই। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও ...
সাইফুর বলেছেন:
স্টিকি করার জন্য ফিডব্যাকে মেইল দিলাম
লেখক বলেছেন: এইটা একটু বিদ্রুহী বিদ্রুহী হইয়া গেছে ![]()
এর চেয়ে মনজুরুল হকের পোস্টটা স্টিকি হিসাবে মানায়
এস.আর.এফ খাঁন বলেছেন:
আসলে, কী দরকার আছে এসব দিবসে-টিবসের? এর চেয়ে বাসার কাজের বুয়াকে টিভি দেখার সময় সোফায় বসার অধিকার দেয়াটা বেশী জরূরী না?
লেখক বলেছেন: হুমমমমম
হাসান মাহবুব বলেছেন:
দারুন লেখা। প্রথম কাহানিটা পৈরা পাকিস্তানিটার চে আমাগো বোকাুদা দেশি ভাইয়ের উপ্রে মেজাজটা খারাপ হৈসে বেশি।
লেখক বলেছেন: দেশী ভাইয়ের ব্যাপারটাই আমি বুঝছি ... পাকির ঈমান দেইখা সে এতই ফ্যাসিনেটেড হয়ে পড়ছিলো যে যখন প্রশ্ন আসলো তার ইবাদত কবুল হবে কিনা, সে ভাবতে পারলোনা যে কবুল হবেনা ... তবে, ইবাদত কবুল হওয়া না হওয়াটা মূল প্রশ্ন না, মূল প্রশ্নটা এখানে বাহ্যিক চাকচিক্য কিভাবে মানউষের চোখ ধাঁধায়ে ফেলে সেটা আপাতঃ সাধাসিধা ধর্মকর্মের মধ্যেও দেখা যায় ... আজকে হয়তো কোম্পানীর মালিক যখন স্টেজে শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলে কাঁদবে, নিজেদের ওয়েলফেয়ার স্কিমের ফিরিস্তি দেবে, শ্রমিকদেরও চোখ ধাঁধিয়ে যাবে
মাহবুব সুমন বলেছেন:
ধর্ম থেকে শুরু করে মানবিকতা ; প্রত্যেকটা ভালো জিনিস শুধু পালন করলেই হয় না সেটা মনের মাঝে ধারন করতে হয়। ১ নাম্বারের পাকির ক্ষেত্রে যা দেখা গেলো। আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বলেছেন, হালার পো সেটা পড়ছে; আল্লাহ বলছেন অসৎ কর্ম করিও না, উনি সেটা মানছেন না, অথবা চুরি করাটাকেই হালাল মনে করে চুরি করেছন। বাংলাদেশে মে দিবস বা শ্রমিক অধিকার শুধু কাগজে কলমে বা সেমিনারে। বাস্তবে নাই। পুরোটাই ভন্ডামী।
লেখক বলেছেন: উনি হয়তো ভাবছেন উনি যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করেন তার কাছে এরকম তহবিল তসরূপ কিছুনা ![]()
আমি আসলেই বুঝিনা, এই লোক এত কষ্ট করে শীতের সকালে রেগুলার নামাজ পড়তে আসে!!!
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
একেবারে ফাটাইয়া ফালাইছেন .... আমি অনেক পাকি দেখছি , ওরা মনে করে ওগো মতো ইমানদার বান্দা দুনিয়াতে নাই .... ইচ্ছা করে পাড়াইয়া মাইরা ফালাই .....মুসলিম হিসাবে আমার দায়িত্ব দুইটা, ১) আল্লার ইবাদত করা ... মানে বান্দার প্রতি আল্লাহ হক ...... ২) মানুষের প্রতি দায়িত্ব, মানে বান্দার প্রতি বান্দার হক .....
আল্লারহ হক যদি কেউ আদায় না করে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে মাফ করে দিতে পারেন .... কিন্তু বান্দার হক যদি কেউ না আদায় করে বা মেরে খায় তাহলে আল্লাহ মাফ করবেন না, যদি না ভুক্তভুগী নিজে ক্ষমা না করে .... তাহলে বুঝতেই পারছেন কোনটা বেশি ক্ষতিকর ও ভয়ংকর ....
লেখক বলেছেন: আপনি একদম প্রিসাইজ শব্দটা ব্যবহার করলেন ... আল্লাহর হকে বিভোর হয়ে বান্দার হকের ধার না ধারাটাই মনে হয় সমস্যা ... আকৃতিসর্বস্বতা ... এইজন্য আমার মাঝে মাঝে মনে হয় কি, ভালো আল্লাহওয়ালা লোকের দাড়িটুপি রাখা উচিত না ... তাইলে সে নিজেরে বিচার করতে পারবে ভালো ![]()
লেখক বলেছেন: আসলেই!!!!
এমন বুজুর্গ কামেল মানুষ!
জুতায়া ওর আর ওর দেশীয় চেলার মুখের মানচিত্রটা বদলায়া দিয়া আইতেন।
এই ঘটনার পর হালাল মাংসের ব্যবস্থা ক্যামনে হইতো সেইটা জানাইলেন না!?
লেখক বলেছেন: কইলাম না, অন্য বেরদারানেরাও "ফিৎনা" "ফিৎনা" কইয়া চাইপা যাইতেছিলো ...
লেখক বলেছেন: কিছু পাকি দেখছি আসলেই রূড আর ভন্ড!!!
লেডি স্টারলাইট বলেছেন:
ওপরের দুটো কমেন্টের সাথে একমত।
লেডি স্টারলাইট বলেছেন:
মাইনাস দিলো কি পাকিরা?
লেখক বলেছেন: হইতে পারে ... ![]()
তবে তারা কারণটা কইলে একটু তর্ক করতে ফারতাম ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, দেবো ... বাসায় গিয়েই
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আপনার লেখায় একটা অভিমান আছে।যদি আমি বিশ্বাস করি মে দিবস পালন এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা তারপরেও সে আনুষ্ঠাকতার প্রয়োজন আছে।এই মরার দেশে শ্রমিক অধিকার কোনকালেই আদায় হয়নি কিন্তু শ্রমিক অধিকার বলে যে একটা জিনিস আছে, সেটা শ্রমিকরা না জানলেও বা না মানলেও মধ্যবিত্ত লোকেরা তো মানেনা।
মে দিবস নামে একটা দিন আছে, যেদিনে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু শ্রমিককে জীবন দিতে হয়েছিলো অন্তত এইটুকু তো জানে।
এই দেশের মধ্যবিত্তদের জন্য এই মে দিবস, শ্রমিকদের কোন কামেই আসে না সেটা।
জাপান কিংবা আমেরিকার কথা আলাদা।ওদের ক্যাপিটালিজম একটা ভিত্তির উপরে দাড়ানো, ফলে ট্রেডইউনিয়ন, শ্রমিক অধিকার সংগঠন গুলো বেইল পায়,
আমরা তো এখনো বেসিক ক্যাপিটালিজমেই যেতে পারেনি।
আমি ভুল না হলে পরশু প্রথমদিনের প্রথম আলোতে পড়বেন, মে দিবসে গার্মেন্টস শ্রমিকরা কোন ছুটিও পায়নি।
লেখক বলেছেন: সেখানেই আমার ভয় ... শ্রমিকদের সম্মান দেখিয়ে একদিন কাজ না করার মধ্যেই, কিছু বড় বড় কথা শোনা আর আয়োজন করার মাধ্যমেই যদি বছরের পর বছর আমরা "ফরজ" পালন করে ফেলেছি ভাবি -- তাইলে কিন্তু এই আয়োজন বরং ক্ষতিকর হইয়া যায়
কাপাসিয়া বলেছেন:
খুব ভাল লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
জেমী বলেছেন:
জটিল বিশ্লেষণ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন:
উন্নত বিশ্বের বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের হাল হকিকত নিয়ে লেখক বেশি অবগত নন মনে হচ্ছে।ফ্রান্স, স্পেন, গ্রীস , আইরল্যান্ড সহ সারা ইউরোপ শ্রমিক আন্দোরনেরর মুখে টাল মাটাল। এ সব দেশের বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের জঙ্গিরূপ আমাদের দেশের থেকে অনেক সঙ্ঘবদ্ধ।আমেরিকা শ্রমিক আন্দোলনের সাম্প্রতিক অনত্যম উদাহারণ জেনারেল মোটরের শ্রমিকদের লাঘাতর কারখানা দখল। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংস্কৃতি এতো প্রকট যে সেক্টর গুরো সঙ্ঘবদ্ধ হতে পারা সহজ নয় যেমন টি ফ্রান্স ও স্পেনে শ্রমিকদের সাথে ছাত্র শিক্ষকরা য়োগ দিয়েছে।আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা কর্পোরেট মিডিয়ার নিউজে ওপর বেশি নিভৃরশীল হয়ে গিয়েছি্ আর আমরা ব্লগ লেখকরা ভুলে যাই আমরা 'সাদা আস্থিনের শ্রমিক মাত্র। আমাদের সমশ্রেনীর বন্ধুরা দেখলাম গ্রমীন ফোন থেকে ছাটাই হয়ে অবস্থান ধর্মঘট করছে। এরিকসন একটু চালাক আর কি, ছাটাই টা করেছে পাঁচ-দশ জন করে বছর ধরে।
মে দিবস অমর হোক।
লেখক বলেছেন: অবগত হয়েই বলছি ... উন্নত দেশে এখন যে আন্দোলনগুলো চলছে সেটার প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ আলাদা ... সেটাকে আমাদের দেশে যে লেভেলের শ্রমিক-ঠকানি চলে তার সাথে গুলে ফেলা কি ঠিক হবে?
এখনকার উন্নত বিশ্বে শ্রমিকদের যে দাবী-দাওয়া তা কি তাদের বেতন দেয়া হচ্ছেনা বলে? বেশী খাটানো হচ্ছেনা বলে? এখন সমস্যা হচ্ছে কোম্পানীগুলোর মাসের পর মাস লস হচ্ছে, চাইলেই তো আর সবাইকে বেটন দিয়ে চাকুরীতে বহাল রাখতে পারেনা!!
আমার কোম্পানীতে গত এক কোয়ার্টারে লস হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা!! আমরাও কোম্পানীর ট্রেড ইউনিয়নে আছি, কিন্তু সিচুয়েশন যেরকম, মেনে না নিয়ে কি করার আছে?
যাই বলুন, বর্তমান পরিস্থিতিটা ভিন্ন ... অধিকাংশ কোম্পানীরই বেহাল দশা ... এটা এমন কোন ব্যাপার না যে মালিক আয়েশ করে পায়ের উপর পা তুলে ফুর্তি করছে আর শ্রমিকরা না খেয়ে না দেয়ে খেটে মরছে ...
আমাদের দেশে শ্রমিকদের প্ড়তি যে অনাচার চলে টার সাথে এখনকার পরিস্থিতিকে মিলাইয়েননা ... কেমন জানি কৈফিয়তের মতো শোনায়
আমাদের দেশে আসলেই একটা শ্রেনীবিপ্লব হওয়া উচিত
লেখক বলেছেন: হা হা হা হা ...
হমপগ্র বলেছেন:
আমরা লিবিয়ায় ছিলাম বেশ ক'বছর। সেখানে যত রকম অনিয়ম করত পাকি রা, আর দোষ চাপিয়ে দিত ইন্ডিয়ান আর বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ঘাড়ে। যা হোক, আপনার লেখাটা চমৎকার লেগেছে। অসম্ভব সুন্দর বিশ্লেষণ, এবং আপনি যে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন তা অনেক স্বতস্ফূর্তভাবে ফুটে উঠেছে।
যুক্তিটা ভাল দেখিয়েছেন!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ারের জন্য
আরিফুর রহমান বলেছেন:
গুড!! ১. ইসলামিক রিপাবলিকের বেশিরভাগ নাগরিককেই দেখেছি গনহারে আকামে যোগ দিতে। ধর্ম-ভিত্তিক নৈতিকতা যেখানে নিদারূন ভাবে অকার্যকর।
শুধুমাত্র আল্লাহ বলেছে বলে কেউ যদি আকাম করা বন্ধ রাখতো, তাহলে তো হয়েছিলোই... যদিও কিছু মার্কেটিং এজেন্ট ঠিক এই কথা বলেই ধর্মের যথার্থতা প্রতিপন্ন করতে চায়!
২. যে দেশে শোষক পদে পদে শ্রমিকের রক্ত-পান করে, সে দেশে মে দিবসের 'মাতম' বেশিই হবে। যেমন করে আমরা পালন করি একুশে ফেব্রুয়ারী আর 'ইঙ্রাজিঠে ঠক্' করি, তেমনি ভন্ডামীতে গা ভাসিয়ে বুড়ো আঙুল দেখাই 'আট-ঘন্টা' কর্মদিবসকে।
লেখক বলেছেন: "শুধুমাত্র আল্লাহ বলেছে বলে কেউ যদি আকাম করা বন্ধ রাখতো, তাহলে তো হয়েছিলোই"
সেইখানেই আমার প্রশ্ন ... শুধুমাত্র আল্লাহ বলেছে বলেই এই লোকই শীতের মধ্যে (সেনদাইয়ে বেশ শীত পড়ে) প্রতিদিন ভোর চারটার সময় বাসা থেকে সেন্টারে আসতো নামাজ পড়তে ... অথচ আর্থিক বয়াপারে আল্লাহর ভয় কাজ করলোনা কেন? ... সে কি ভেবেছিলো যেহেতু ইবাদত করে সে এত ত্যাগ স্বীকার করছে, সামান্য আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আল্লাহ তাকে কিছু বলবেনা? ... এটা একটা বড় প্রশ্ন!!! ... অন্ততঃ এটা আমি মানতে রাজী না যে শুধুই লোক দেখানোর জন্য প্রতিদিন সকালে সে জামাতে নামাজ পড়তে আসতো ... একটা বড় ডিলেমার সমাধান হয় শুধু এটা ভেবে যে আল্লাহর ইবাদতকে এরা বান্দার অধিকারের চেয়ে অনেক অনেক বড় মনে করে, অথচ বান্দার অধিকার রক্ষা না করলে আল্লাহর ইবাদত শুধুই আকৃতিসর্বস্ব একটা ব্যাপার
ধীবর বলেছেন:
যারা বলে চুরির প্রসঙ্গ টানলে, ফিৎনা হয়, ওরা চোরেরই দোসর। শুধু লম্বা জোব্বা পড়ে দাড়ি টুপির বাহার দেখালেই সেটা মুসলমানিত্বের চরম পরাকাষ্ঠা দেখানো হয়, তারা হয় অজ্ঞ নতুবা জ্ঞান পাপি। অধিকাংশ পাকিদের হালই এমন। পোষাক আশাকে আর কথা বার্তায় মনে হবে কত আল্লাহভক্ত। আসলে ঘোমটার নীচে খ্যামটা নাচ। আর বাংলাদেশিদের ওরা মনে করে নীচু জাতের মুসলমান, তাই আমাদের হেয় চোখে দেখে থাকে ওরা। লেখক কি একটেল কাস্টমান সার্ভিসের অডিওটা শুনেছেন। ওই কাস্টমারের মতই বলা উচিত ছিল, "রাখ তোর ফজরের নামাজের ফিরিস্তি ! আগে আমাগো পয়সার হিসাব দে।" ওই ব্যাটাকে চোর পিটানি দেয়া উচিত ছিল। তাইলে বাপ বাপ করে পয়সার হিসাব বেড়ুতো। সাথে চোরের সমর্থঙ্কারি বাংলাদেশি ওই বাংলাদেশিকেও, যে দাড়ি টুপির রুপের বিভ্রান্ত হয়েছিল। প্লাস।
লেখক বলেছেন: আমি প্রায়ই দেখেছি মুসলিম ব্রাদারদের মধ্যে "ফিৎনা" এভয়েড করতে অন্য ভাইয়ের অপরাধ চেপে যাওয়া ... বিশেষ করে ইজিপশিয়ানদের মধ্যে ... আবার আরেকটা ব্যাপারও ঠিক, এরা খুব সহজ সরল ... দাড়িওয়ালা মুসলিম ভাই, এত পরহেজগার!!! ... ব্যস্ এইটাই তাদের বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য যথেষ্ট
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য
লুকার বলেছেন:
ধর্মকর্ম আর অপকর্ম একসাথেই চালায়, এমন লোকের সংখ্যাই বেশী। তারা এর অজুহাত হিসেবে অদ্ভুত অদ্ভুত যুক্তি তৈরী করে নেয় নিজেদের মনকে প্রবোধ দেয়ার জন্য। সেসব নিয়ে আরেকদিন বলা যাবে।
লেখক বলেছেন: "ধর্মকর্ম আর অপকর্ম একসাথেই চালায়" -- এমন লোকের সংখ্যা বেশী এমন কোন স্টয়াটিস্টিকস অবশ্য আমার কাছে নেই ... আপনার কাছে থাকলে সেটা আলোচনায় আনতে পারেন ...
আমার লেখাটি ঠিক এরকম কোন স্থূল বক্তব্য নিয়েও না ... এখানে সিরিয়াসলি ধর্মকর্ম করা আর একই সাথে অপকর্ম করার একটি উদাহরণ আর তার সাপেক্ষে অন্যের যৌক্তিকতার সন্ধান বিশ্লেষণ করে সেই মনোভাবের কারণ উদঘাটনের একটা চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র!
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
একমত আপনার সঙ্গে। আসলেই তো, কী দরকার আছে এসব দিবস-টিবসের? এর চেয়ে বাসার কাজের বুয়াকে টিভি দেখার সময় সোফায় বসার অধিকার দেয়াটা বেশী জরূরী না?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফিউশন ফাইভ ... আসলেই বাস্তবে সামান্য প্রয়োগও "শুধু তাত্ত্বিকতা"র চেয়ে জরূরী
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
আমরা আসলে এই একদিন ই সতর্ক এই একদিনই গলা ফাটাবো শ্রমিকের পক্ষে
এই একদিনই আম্রা হবো শ্রমিক বান্ধব
এর পর যেই লাউ সেই কদু...
লেখক বলেছেন: হ বস্ ... তারপর কদু রাইন্ধা খাই, আর লাউ দিয়া ডুগডুগি ![]()
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
আহারে ... আবার ডুগডুগির কথা মনে করাইয়া দিলেন দোষ তো লাউয়ের... ডুগডুগির না
দেখেন্না গানের মাঝেই কবি কৈয়া দিছে..
সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী...
লেখক বলেছেন: হা হা হা ...
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন:
কমেন্ট বড় হয়া যাইতে পারে তাই আগে ভাগেই সরি... ইসলাম বিষয়ে আমার তেমন ধারনা নাই... মানে কি না এই লাইনে আমিযদি কিছু কই তাইলে সেইটা যাচাই কইরা নেয়ার দায়িত্ব যে পড়তাছে তার উপরে.. (বিদ্র- আমি আবারো কইতাছি কেউ যদি কমেন খান পইড়া থাকেন তাইলে এই বিষয়ে আমার কওয়া কথা গুলা আগে যাচাই কইরা নিয়েন নির্ভরযোগ্য কারো কাছ থিকা!!!
লেখক বলেছেন: কোন ইয়েন? কিভাবে ইয়েন? কেন ইয়েন? ![]()
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন:
এইবার আসেন কমেন্টের অফটপিক ২য় অংশে- আমার আব্বা নিয়মিত নামাজ পড়েন.। বছর খানেক আগে উনি হজ কইরাও আসছেন... উনি ট্যাক্স দেয়ার সময় মিনিমাম ট্যক্স দেন... ব্যাবসায় লাভ কম দেখায়া উনি ট্যাক্স অ্যভয়েড করেন... উনারে জিগাইছিলাম যে তাইলে নামাজ পইড়া ফায়দা কি? (বাই দ্য ওয়ে উনি কিন্তু টিভি এমনকি ভিসিআর এর লাইসেন্সও প্রপারলি মেন্টেন করেন... আইনের ব্যাপারে প্রচন্ড শ্রদ্বাশীল!!!) উনি বললেন যে দেখ আমি ট্যক্স দিতেরাজি আছি যদি আমারে ট্যাক্স পেয়ার হিসাবে যথাযথ সুবিধা দেয়া হয়!!! আমার দোকানের টেম্পারেচার সেনসিটিভ ড্রাগ গুলা কারেন্টের অভাবে ফ্রিঝ বন্ধ হয়া নষ্ট হয়া যায়!!! হাউ কাম সরকার আমার কাছ থিকা ট্যাক্স আশা করে!!!! উনার একটাই কথা- আমারে আমার প্রাপ্য সুবিধা দেও... আমিও ট্যাক্স দিমু... ভ্যালু ফর মানি আরকিআমার এত চমতকার বাপের এই কাজে আমি খুবই কষ্ট পাইছিলাম!!! পরে উনারে দেখানোর লিগা আমি জব শুরু করার পর ট্যাক্স পে করা শুরু করছিলাম... একবছরে আমি উনার থিকা ৪০০ টাকা বেশী ট্যাক্স পে করছি..যদিও উনার ইনকাম আমার প্রায় সাত থেকে দশগুণ ছিল...।
নামাজী টাকাখোরের কথা পইড়া আমার বাপের কথা মনে পইড়া গেল... উনিও নামাজ পড়েন মাগার ট্যক্স ইভেডার
লেখক বলেছেন: আপনার বাবার এই কেসটা একটু জটিল ...
জেনারেল সেন্সে ব্যবসায়ীদের দেয়া ট্যাক্সটা দেশের জনগণের "হক", সেটা আদায় করা জরূরী ... কিন্তু প্রশ্ন হইলো এখানে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আচরণ ... রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের থেকে ট্যাক্স নিয়া সেইটা দিয়া রাষ্ট্রের দূর্নীতিবাজ ছড়িধারীদের পকেট ভরায় ব্যস্ত থাকে, তখন সেইটারে জনগণের "হক" বলা যায় কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরটা বিতর্কের দাবী রাখে ... আবার অন্যদিক থেকে দেখলেও, রাষ্ট্র নাগরিকরে কোন সুবিধা দেবেনা, উল্টো মৌলিক চাহিদাগুলোর ব্যাপারে ঝামেলায় ফেলবে (যেমনটা বললেন, কারেন্টের অভাবে ড্রাগ নষ্ট হয়ে যায়),খালি ট্যাক্স নেয়ার সময় হিসাব বুইঝা নেবে আর না দিলে ছড়ি ঘোরাবে -- এই আচরণরেও "হক" বলা যায় কিনা, বিতর্কের দাবী রাখে ... আপনার বাবার পয়েন্ট একেবারে অমূলক না ...
আসলে যেকোন রাষ্ট্রে সবার আগে আইনের শাসনটা নিশ্চিত হওয়া জরূরী
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন:
বাই দ্য ওয়ে ৩বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কোন ধামাকা পোস্টের প্ল্যান আছে নাকি? লেখক বলেছেন: বুঝতেছিনা ... অফিস চলার দিনগুলাতেও লেখা কঠিন,
আর এখন একটানা ছুটি চলতেছে, দেখি ঘোরাঘুরি করতে করতেই সময় শেষ !!! ... চারদিনের ছুটিতে একটুও বসতে পারিনাই ব্লগে!!! ![]()
ফেরারী পাখি বলেছেন:
হুমমমমমমমমমমমম। আমিও একটানা ছুটির দিনেও বসতে পারছিলাম না। তবুও চামে চিকনে চেষ্টা লইয়া ব্লগে ঢুইকা প্রিয় ব্লগারদের ব্লগ হাতাইতাছি।আম্নের লেখাটা যথার্থই হইছে। আম্নে অবশ্য তাই করেন। সময়ের লেখা সময়েই দেন।
আপনার এই স্বচ্ছ চিন্তার আমি অবশ্য খুবই পাঙ্খা। ভাবতাছি, জাপানে আর কিছুদিন থাকার সুযোগ পাইলে--- একবার আপ্নেরে নিজের চোক্ষে দেখবার চাই।
লেখক বলেছেন: আপনি জাপানে নাকি? তাহলে আসেন একদিন আড্ডা মারি
আমাকে মেইল দিতে পারেন এখানে,
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
এবং একইসাথে দুঃখিত ... আমি কমেন্ট মুছিনা ... ভালো খারাপ নির্বিশেষে
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















২.সেটাই