আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

ব্যক্তিগত কথা: শুদ্ধতা

২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:২৯

শেয়ারঃ
0 11 0

১.

বাবাকে কখনও জিজ্ঞেস করা হয়নি, কেন টাকাটা তিনি নিজেই আমার হাতে দিয়েছিলেন। সত্যি বলতে কি সে প্রসঙ্গটা আমরা আর কখনও তুলিওনি। সে রাতে আমরা দু'জন দু'জনকে সচেতনভাবে এড়িয়েছিলাম ঠিকই, তবে পরদিন থেকে এমন ভাব করেছি যেন কিছুই হয়নি। এটা মনে আছে, সেদিন বাবার মাথা নীচু হয়ে ছিলো, এবং যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি আমার হাতে টাকাটা গুঁজে দিয়েই তিনি ভেতরের রূমে চলে গিয়েছিলেন। একটুও মাথাটা উঁচু করেননি, অথচ তিনি মাথা উঁচু করে বুক টানটান করে হাঁটতে ভালোবাসেন; এবং, এটাও ঠিক যে তিনিও জানেন, আমার মাথাটাও একইভাবে নীচুই হয়ে ছিলো। তিনি হয়তো দেখেননি, কিন্তু হয়তো বুঝেছেন অথবা ধারনা করে নিয়েছেন, অথবা হয়তো এখনও জানেননা -- সে রাতের বাকীটা সময় আমি বারান্দায় বসে বোবা আর্তনাদ আর আক্রোশে ফেটে পড়ছিলাম। আমার ইচ্ছে হচ্ছিলো সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিই, বারান্দার গ্রীল, ঘরের দরজা, ভেন্টিলেটরের কাঁচ, বাগানের গাছ, খাণনচার মুরগী -- সব!! বারবার মনে হচ্ছিলো এখনও দৌড়ালে হয়ত লোকটার রিক্সাকে ধরা যাবে, তারপর রিক্সা থেকে হারামজাদাকে টেনে নামিয়ে এলোপাথাড়ি কিছু চড়-থাপ্পড়ও দেয়া যাবে। বাবাকে বলা হয়নি, সে রাতের পর বেশ কিছুদিন ধরে আমি এ স্বপ্নটা বারবার দেখতাম, দেখতাম আর অদ্ভুত আনন্দে ফেটে পড়তাম সাময়িকভাবে। তার পরপরই স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত -- আবার এসে ঘিরে ধরতো বিষাদ, অনুশোচনা, হতাশা, বিরক্তি, ক্রোধ, ঘৃণা -- আর যা যা আছে।

সেসময় আমার বারবার মনে হতো, "কি হয় এসব না হলে? কি হবে এত টাকা দিয়ে? এখন কি খুব খারাপ আছি? এরচেয়ে ভালো থেকে কি করবো? হাতি মারবো, না ঘোড়া মারবো? সামান্য একটা লোককে কিছু করতে পারলামনা! আবার হাতি-ঘোড়া!"


২.
সংসারে সেই অর্থে অভাব না থাকলেও, যখনই যা মনে চাইতো, বাবা-মা'র কাছে তাই আবদার করার মতো অবস্থা আমাদের ছিলোনা। হয়তো কোনদিন এমন যায়নি যে না খেয়ে থাকতে হয়েছে, বা ছেঁড়া শার্ট তালি দিয়ে পরতে হয়েছে। তবে বাংলাবাজার থেকে বাবা যখন পাইকারী দরে পাঁচ ভাইবোনের জন্য সারাবছরের বাংলা, ইংরেজী আর অংক খাতা কিনে আনতেন, তখন স্কুলের নাম খোদাই করা খাতা না ব্যবহার করার কারণে ক্লাস টিচারের বকা খেয়ে চুপ করেই থেকেছিলাম, বাসায় ফিরে এসে মাকে বলতে পারিনি যে "নতুন খাতা কিনে দ্যান"। এটা এমন কোন কারনে ছিলোনা যে আবদার করলে মা রেগে উঠতেন বা অভাবের দোহাই দিতেন, কিন্তু এখন ভাবলে টের পাই, সেই ছয়-সাত বছর বয়েসেই চারপাশ দেখে "সংযম করে চলতে হবে" ব্যাপারটা ঠিকই বুঝে ফেলেছিলাম। পিকনিকের টাকা মা দেবে কিনা অথবা কাকে কাকে এবছর দেবে সেটা নিয়ে বোনদের টেনশন, "গত বছর তো তুই গিয়েছিলি, এবার আমি যাই" বলে ওদের নেগোসিয়েশন -- এর সবই আমার চোখের সামনেই ঘটেছিলো। সব মিলিয়ে আমরা জানতাম, একেকটা পয়সার মূল্য অনেক। বাসায় টিভি ছিলোনা, যেদিন ছায়াছন্দ বা বাংলা ছায়াছবির দিন ছিলো, আমরা ভাইবোনেরা আস্তে করে দরজার ছিটকিনি খুলে নিঃশব্দে চলে যেতাম পড়শীর বাসায়, ফেরার পরও কড়া নাড়তাম খুব সাবধানে। আমরা নিচু গলায় আক্ষেপ করতাম বাসায় টিভি নেই বলে, আবার একই সাথে ভাইবোনদের নিজেদের মাঝে আমরা ফিসফিস করে "আব্বা তো ঘুষ খায়না" বলে অনেক গর্বও করতাম। এখনও করি, যদিও বাবা রিটায়ারমেন্টে চলে গেছেন আজ আট-ন' বছর।

মাসের পঁচিশ ছাব্বিশ তারিখ সকালে আমি প্রস্তুত থাকতাম, কারণ একটু পরেই দামামা বাজবে। শুরু হবে বাবা-মা'র মাসিক ঝগড়া। আপারা সবাই স্কুলে চলে যেত, বাবা-মা'র সেই মাসিক ঝগড়ার সাক্ষী থাকতাম আমি আর মামা। প্রতিমাসেই ঝগড়া, ঝগড়া করতে করতেই বাবা মা'র হাতে পরম যত্নে বানানো রুটি আর ভাজি দিয়ে নাশতা করে, চা খেয়ে, মুখ মুছে তবেই অফিসে যেতেন। কিন্তু ঝগড়াটা হতোই। ঝগড়ার বিষয়ও ছিলো প্রতিমাসে একই -- বাবা আশ্চর্য হতেন "এতটাকা কিভাবে মাস শেষ হবার আগেই খরচ হয়ে যায়!" আর মার বক্তব্যটা ছিলো "এত কম টাকায় কিভাবে আট-দশজনের সংসার চলে সেটা যাতে উনি আরেকটু ঠান্ডা মাথায় ভাবেন!" যখন বড় হলাম, ক্লাস নাইন টেনে পড়তাম, তখন প্রতিমাসেই এই ঝগড়া দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিতাম যে ব্যবসা করবো, আমাকে অনেক আয় রোজগার করতে হবে, অনেক টাকা হতে হবে আমার; আর সেইসাথে মনে মনে রবিঠাকুরকে গালিগালাজ করতাম; "শালা, কত সহজেই বইলা ফালাও হরিপদ কেরানী আর আকবর বাদশার মধ্যে কোন ভেদ নাই! পাবলিকের খাজনার টাকায় পায়ের উপর পা তুইলা ঐসব কবিতা আমিও লেখতে পারতাম!! হাহ্"।

কিন্তু এতসবের পরও পাবার বোধটাই বেশী ছিলো। সবচেয়ে বড় যে পাওনাটা ছিলো সেটা সেই গর্ববোধ -- বাবা-মাকে নিয়ে নিখাদ গর্ববোধ। সে গর্ববোধটা আরো বড় হয়ে গেল, যেদিন নিজের চোখে দেখলাম ড্রইংরূম থেকে একটা লোককে বাবা গালিগালাজ করতে করতে তাড়িয়ে দিচ্ছেন, অথচ আমার এই বাবাকে আমি কোনদিন সন্তানদের ছাড়া আর কারো প্রতি উঁচু গলায় কথা বলতেও শুনিনি। লোকটাকে সোজা দরজা দিয়ে বের করে দিয়ে বাবা গজগজ করতে করতে বলছিলেন, "কত্ত বড় সাহস! কত্ত বড় সাহস!" বারবার! পরে জেনেছিলাম, পাঁচলাখ টাকা ছিলো লোকটার হাতের খসখসে প্যাকেটটায়, সেই এরশাদ আমলের শেষ দিকে। সেই ঘটনার পর কখনও কখনও বাসে ওঠার জন্য স্প্রিন্ট করতে করতে যে "ইস্, এক বিকেলেই গাড়ী হয়ে যেত আমাদের!" -- এমনটা মনে হয়নি, তাও কিন্তু না। তারপরও অদ্ভুত কারণে আমরা ভাইবোনেরা বাবার সেই গোয়ার্তুমিতেই খুশী ছিলাম, মাস শেষের বাবা-মা'র ঝগড়া দেখে রবিঠাকুরের উপর সাময়িক বিরক্তি আসলেও মনে হতো এমন ঝগড়া যেন শেষ না হয়ে যায় কোন কালে, কোন ভুলে। গর্ববোঢের প্রাক্কালে প্রশ্ন জাগতো, আকবর বাদশা'র সাথে হরিপদ কেরানীর ভেদটা কোথায়?

যেদিন বুয়েটে ভর্তি হয়ে বাসায় আসলাম, বাবার শংকিত চেহারা আমি আশা করিনি। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে -- এনিয়ে তাঁর খুশী হবার কথাই ছিলো, অথচ তিনি তা ছিলেননা! বিশেষ করে ছেলে যদি বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ঢোকে সেই নিয়ে তাঁর ভয় খুব বেশীই ছিলো! সেসময় ইঞ্জিনিয়ার, বিশেষ করে সিভিল মানেই ঘুষখোর এমন একটা ইমেজ দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো সবখানে। বাবার বাঁধা দেয়ার উপায় ছিলোনা, অতটা হস্তক্ষেপ তো আর করা যায়না! তবে প্রাণপণ হয়ে পড়েছিলেন ছেলে যাতে বোঝে যে তাকে উল্টোস্রোতে চলতে হবে। মনে আছে, সেজন্যই, কতরকম উপদেশ, কোরানের আয়াত, হাদীসের উদ্ধৃতি, তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা -- সবকিছু সেসময়ই প্রথম মন খুলে শেয়ার করলেন। বিয়ের পরপরই নাকি মাকে বেছে নিতে বলেছিলেন কিরকম জীবন মা চান; বলেছিলেন দুটো পছন্দের কথা -- একটা বেছে নিতে হবে। মা তৎক্ষণাৎই "টাকাপয়সার কষ্ট থাকলেও সৎভাবে বেঁচে থাকা"র পক্ষেই বলেছিলেন। এসব বাবা কেন বলতেন সে কারণও আমি জানতাম; বড় হয়ে চাকরীতে ঢুকে ঘুষ খেলে শুধু তিনি না, মাও সমান কষ্ট পাবেন -- আমার বুঝতে কষ্ট হয়নি। সেসময় বাবার নানান কথায় এটাও বুঝেছিলাম, বাবা চাকরীতে ঘুষ খেলে স্কুলের বন্ধুদের কাউকে দেখে আমার কখনও হিংসা করার কথা ছিলোনা। বাবার ত্যাগের কথা শুনে ঘুষ খাবোনা বলে কতটুকু পণ করেছিলাম মনে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি যে এখন পর্যন্ত এর চেয়ে বেশী গর্ববোধ এই জীবনে আর কোনদিন কিছুতে হয়নাই।

নিজের ঘুষ না খাওয়া নিয়ে বাবার কতটুকু গর্ব ছিলো আমি জানিনা। তবে তাঁর ছেলে হয়েই আমি যদি এতটা গর্ববোধ করি, তখন এটা বুঝতে কষ্ট হয়না যে, মাসে মাসে লাখ লাখ টাকার হাতছানি উপেক্ষা করে কর্মজীবনের হার্ডল রেস পার হতে থাকা তাঁর নিজের গর্বটা আরো অনেক বেশীই ছিলো, আপোসহীনতা ছিল জীবনীশক্তি।


৩.

আমাদের পিতা-পুত্রের সেই গর্বের শক্ত দেয়ালে একটা গর্ত করে দিয়ে গিয়েছিলো সেই লোকটা, যাকে আমি প্রায়ই স্বপ্নের ঘোরে প্রায় খুনই করে ফেলতাম। তারপর, স্বপ্নের শেষে তার পকেটের একশো টাকার নোটটা নিয়ে, টাকার গায়ের নাম্বার মিলিয়ে আমি হনহন করে বাসায় ফিরে আসতাম; চিৎকার করে বলতে চাইতাম, "আব্বা, দেখেন, আমার ঘুষ দেয়া লাগেনাই, এক পয়সাও ঘুষ দেয়া লাগে নাই।"

৯৬ এর জানুয়ারীর দশ তারিখ, যেদিন জাপান সরকারের মোনবুশো স্কলারশীপের রেজাল্ট এসেছিলো, মুখ থেকে আনন্দের হাসি সরাতে পারিনি এক মুহূর্তের জন্য -- সেটা বাবা-মা দুজনেই দেখেছিলেন নিশ্চয়ই। দেশে ইঞ্জিনিয়ারের চাকুরী নিতে হবেনা, এই ভেবে ছেলের "সুযোগের অভাবে হলেও ঘুষখোর না হবার সম্ভাবনা"র বৃদ্ধি দেখে তাঁরা খানিকটা স্বস্তিও পেয়েছিলেন নির্ঘাৎ। আর, আমার নিজের চারপাশে তখন প্রতিটি দিনই ঈদের আনন্দ, চোখজুড়ে অনেকরকম স্বপ্ন। মনের দুঃখ লুকোনো যায়, আনন্দ বা স্বপ্ন -- এগুলো কি লুকোনো যায়?

সেই আনন্দ, সেই স্বপ্ন প্রতিদিন বাবা-মা'র চোখে ধরা পড়ে, ছেলে দূরে চলে যাবে ভেবে যে কান্নাটা উথলে আসে সেটা চেপে রেখে হাসি হাসি মুখ করে তাঁরা তাকান ছেলের দিকে। জাপানের থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক; সব খরচের পর বছরে অন্ততঃ একবার সেমিস্টার শেষের ছুটিতে দেশে এসে ঘুরে যেতে পারবে কিনা, বসে বসে দিনরাত শুধু সে হিসেব কষেন বাবা-মা। হিসেব মিলবে কিভাবে? জাপানের থাকা-খাওয়ার খরচ তো আর আমার বাবা-মায়ের জানা ছিলোনা। শেষে তাই হাল ছেড়ে দেন, চোখের পানি সংবরণ করতে করতে কাঁপাকাঁপা গলায় বলেন, "একবার দেশে আসার মতো বিমানভাড়া তোমাকে আমি দিতে পারবো ইনশাল্লাহ, তুমি এসব নিয়ে ভেবোনা"; তারপর হয়ত টোকিও-ঢাকার বিমানভাড়া কত সেটা জেনে খানিকটা গম্ভীর হয়ে পড়েন, শূন্যের দিকে তাকান; বাবার সে চোখের দিকে তাকানোর সাহস আমার হতোনা। মনে মনে ভাবতাম, একটু খারাপ চলে হলেও পয়সা জমিয়ে ঠিকই চলে আসবো বছরে একবার। এভাবেই চলছিলো আমার জাপান আসার আগের কয়েকটা দিন, জানুয়ারী থেকে এপ্রিল, সিনেমার মতো, সুখে ভরা, আবেগে ভরা, ভালোবাসায় ভরা, গর্বে ভরা -- যেন দ্যা আলটিমেইট ইউটোপিয়া।

আমার সেই আলটিমেইট ইউটোপিয়ার দিনগুলোতেই কাদা মাখাতে এসেছিলো লোকটা। আমি জানি, বাবা সে রাতে ভেবেছেন আমি তাঁকে নিয়ে যে গর্ব করতাম সেখানে ফাটল ধরেছে; অথচ যেটা সত্য তা হলো, আমি বাবাকে কোনদিন বলতে পারিনি, "সারাজীবন, সারাটা জীবন কষ্ট করে করে নিজেকে নিয়ে যে অসামান্য গর্বের মিনার আপনার গড়ে উঠেছিলো, সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সেই মিনারে এত সহজে আঘাত হানতে দিলেন? এত বেশী ভালবাসা কি উচিত?"

শূয়োরের বাচ্চা পুলিশ অফিসার, পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে তোমরা মানুষের বাসায় গিয়ে বসা দাও, ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে যায়, বিস্কুটে কামড় দিতে দিতে চা খাও আর নির্বিকার ভাবে বসে বসে টিভি দেখো; ভাবো "না দিয়া যাইবো কই!"। শালার সবই করো আর এটা টের পাওনা যে, "পাসপোর্ট না হলে ছেলেটার সব আনন্দ শেষ হয়ে যাবে"-- এই ভেবে একশো টাকার নোট হাতে মাথা নীচু করে একজন আজন্ম যোদ্ধা যখন নতমস্তকে নিজের ছেলেকে বলে, "যাও, লোকটাকে দিয়ে এসো", তখন সেই একশো টাকার নোটটা কত অসভ্য রকমের ভারী হতে পারে!


৪.
সেদিন বাবা আমার কাছে আর আমি বাবার কাছে অদ্ভুত এক অপরাধবোধে ভুগেছিলাম -- এটা নিশ্চিত। আমরা এ নিয়ে আর কথা বলিনি।

মাঝে মাঝে ভাবি, বাবা নিজে এসে আমার হাতে টাকাটা না দিয়ে অন্যকোনভাবেও তো লোকটাকে দিতে পারতেন।

আবার, মাঝে মাঝে মনে হয়, বাবা ঠিকই করেছেন, এটার দরকার ছিলো।



**************************************************************
*পুরোনো লেখা, সচলায়তনে আনোয়ার সাদত শিমুল সম্পাদিত কাঠগড়ার গল্প ই-বুকে প্রকাশিত।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:৩৭
সহেলী বলেছেন: একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম । পড়ে মনে হল অনেক কিছু বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে আছে অনেকের মধ্যে যা আমাদের জানা হয় না ।

শ্রদ্ধা জানাই তোমার বাবা মা কে ।
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

২. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:৫৩
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো।
অনেক সুন্দর লেখা।

এ লেখায় আমাদের অনেকেরই জীবন যাপনের ছাপ আছে।
পরিবারের ছোট বলে স্বচ্ছলতা দেখেছি..........
যদিও বড় ভাইবোনেদের অনেক ত্যাগের গল্প আছে..........

আমাদের বাবা মায়েরা এক একটা প্রতিষ্ঠান।
যাদের কথা ভাবলে মাথা নুয়ে আসে।

শুভেচ্ছা।

২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩০

লেখক বলেছেন: "পরিবারের ছোট বলে স্বচ্ছলতা দেখেছি"

বাহ আপনিতো বেশ লাকি

৪. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯
বৃত্তবন্দী বলেছেন: বাবার জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা...
৫. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:০০
নাজনীন১ বলেছেন: না চাইলেও বাধ্য হয়েও আমাদের দুর্নীতির সাথে আপোস করা লাগে অনেক সময় -- সমাজ ব্যবস্থাটা এমন হয়ে গেছে।

সংযম করে চলা -- মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রকট বাস্তবতা।

বাবা-মাদের প্রতি শ্রদ্ধা।

৭. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:০৯
mehedi বলেছেন: আমি আমার পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনে ঘুষ দেই নাই
সত্যি কথা
নিজে নিজে করছি
তারপর ভেরিফিকেশনে আসছিলো
তিনদিন আসছে পরপর
অথচ টাকা নেয় নাই
ভীষণ অবাক হইছিলাম সেইদিন
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনি অনেক ভাগ্যবান ... আপনি কবে করেছেন জানিনা, পরিস্থিতি বদলেছে কিনা তাও জানিনা ... সেই ৯৬ এর দিকে এটা কমনসেন্স ছিলো যে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে পুলিশকে চা-নাস্তা খেতে দিতে হবে

২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: চা-নাস্তা খেতে না ঠিক, খাবার টাকা দিতে হবে :(

৮. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
কুয়াশা ভোর বলেছেন: অসাধারন !!!!!!!!!!!!!!!!!!

কিছু সৎ মানুষ আছে বলে আজো মনে হয় সুস্হভাবে বেঁচে থাকি !
৯. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
জীবিত বলেছেন: বৃত্তবন্দী বলেছেন: বাবার জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা...
১০. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:২৮
আই আনাম বলেছেন: অসাধারণ! সত্যিই অসাধারণ। এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম এবং মুগ্ধ হলাম। আসলে ভাই, খাঁটি সোনা যেমন ভেজাল ছাড়া গহনা হয় না তেমনি পুরোপুরি খাঁটি থাকাও এ সমাজে দায় হয়ে গিয়েছে। তারপরও আপনি যখন উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে মানুষের জন্য ভালো কিছু করবেন তখন আপনার বাবা'মার সাথে সাথে আপনার মনের এই কলঙ্কটিও নিশ্চয়ই ভুলে যাবেন। শুভ কামনা রইল।
১১. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
এস রহমান বলেছেন: কিছু সৎ মানুষ আছে বলে আজো মনে হয় সুস্হভাবে বেঁচে থাকি
১৪. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:২৯
ইসানুর বলেছেন: কিছু বলতে পারলাম না :(

অসাধারন অসাধারন অসাধারন অসাধারন
১৬. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
কালাভূত বলেছেন: আপনার বাবাকে স্যালুট।
আপনার প্রশ্নটাকেও।
কিন্তু কথা হচ্ছে আজকের এই বোধটাকে আপনি কতদিন ধারণ করে থাকতে পারবেন? (প্রার্থনা করি যেনো আজীবন পারেন) প্রতিদিনের পথচলায় যখন দেখবেন "উপায় নাই গোলাম হোসেন" কতটা দৃঢ়ভাবে আকড়ে থাকতে পারবেন ভেবে ভয় করে।
আশপাশের বাচ্চাদের দেখে দেখে আপনার শিশু সন্তান যখন আব্দার ধরবে "বাবা দীপের বাবা তো তোমার চে অনেক ছোট চাকরী করে । তাহলে ও ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, আমরা পড়বোনা?" মাসশেষে সরকারী বেতনের টাকা কটাই যার সম্বল, সেই বাবা তখন কী জবাব দিবে?
আমাদের ছোটবেলায় আমরা যেভাবে বুঝেছি, যেভাবে সবর করেছি, আমাদের বাচ্চারা কী এখনো সেই বোধ ধারণ করে আছে? মনে হয়না। তবু চেষ্টা চলে অবিরাম, নানা অসত্য স্তোক আর কাল্পনিক ভবিষ্যতের দিবাস্বপ্ন দেখাতে দেখাতে কী কখনো বিরক্ত আসবেনা নিজের ওপর? ঘেন্না ধরবেনা নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্টিফিকেট টার ওপর, যেটা কেবল একবুক না পাবার বেদনা, আত্মজার প্রয়োজন মেটাতে না পারার কষ্ট ছাড়া আর কিছু দিতে পারেনি।
স্যরি। ইদানিং বয়স যতো বাড়ছে, চারপাশ দেখে মনে হচ্ছে বুঝিবা বাবার মতো করে আমিও একই ভুল না করলেই বুঝিবা ভালো হতো। শুধু শুধু দেশের সম্পদ বাচিয়ে দিতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দেয়াটা কোন কাজের কথা নয়, যেখানে লুটেরারাই উত্তরোত্তর উন্নতি করে চলে।
আপনার জন্য অনেক শুভকামনা।
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪

লেখক বলেছেন: "কিন্তু কথা হচ্ছে আজকের এই বোধটাকে আপনি কতদিন ধারণ করে থাকতে পারবেন?"

খুব কঠিন একটা প্রশ্ন ... যতদিন এড়িয়ে থাকা যায়

১৭. ২১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:০৫
রােশদ সুলতান তপু বলেছেন: আমিও আপনার বাবার মতো এমনই এক বাবার সন্তান- যার ফলে আর যাই হোক সংসারে স্বচ্ছলতা দেখিনি- তবে তার বদলে অন্তরের গর্ববোধটা পেয়েছি। তবে কালাভুতের সাথে একমত- 'আজকের এই বোধটাকে আপনি কতদিন ধারণ করে থাকতে পারবেন?' আমিও প্রার্থনা করি যেন সারাজীবন পারেন। কিন্তু আমার মতে এক্ষেত্রে জীবনসাথীর একটা বড় ভূমিকা থাকে। যার ভূমিকাই কখনো জীবনে নোঙরের কাজ করে আবার যার ভূমিকাতেই জীবন কচুরিপানা হয়ে যায়।
আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। আপনি ভাল থাকবেন।
১৮. ২১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২
জেরী বলেছেন: লেখাটা পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল,ভাইয়া। এমন অসাধারন ,মায়াময় স্মৃতি সবার জীবনেই আছে। কিন্তু এত দরদ দিয়ে সবাই লিখতে পারে না:(

বাবার জন্য শ্রদ্ধা...
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৩

লেখক বলেছেন: একটা রাগ অনেকদইন পুষে রেখেছিলাম সেইসময় ... তখন লিখে রেখেছিলাম ... অনেকদিন পর শিমুলের আহবানে লেখা জমা দিতে গিয়ে সেটার কথা মনে পড়েছিলো ... এডিট করছি খানিকটা

তবে এখন লিখলে হয়তো এতটা আবেগ থাকতোনা ... অনেক ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে গেছি :(

১৯. ২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:০৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: .....................................................................
২০. ২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ যারা যারা মন্তব্য করেছেন সবাইকে
২১. ২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০
আকাশ অম্বর বলেছেন:

......বাবা ঠিকই করেছেন, এটার দরকার ছিলো।

নীরব শ্রদ্ধা তাঁকে।
২১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

২২. ২১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪
শান্তির দেবদূত বলেছেন: "আমার বাবা সৎ" এটা যে কত বড় গর্বের ব্যাপার সেটা ভাষায়
প্রকাশের নয় .... আপনি অনেক অনেক ভাগ্যবান .....

আরও অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করছে, বললাম না ....আপনার বাবাকে শতসহস্র সালাম জানিয়ে গেলাম ...... সেই সাথে আপনাকেও .....
২১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: দেবদূত দা, ভালো থাকবেন ... ধন্যবাদ

২১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: থ্যংকিউ হ্যারি ;)

২৪. ২১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৮
মাহবুব সুমন বলেছেন: আজকাল সৎ হলে কেউ সম্মানও করে না, কার কতো টাকা দিয়ে মানুষ যাচাই করে :( । অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করে কিন্টু বলতে পারছি না।

সৎ মানুষরা অচল আনির মতো হয়ে গেছে :(
২১ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: "আজকাল সৎ হলে কেউ সম্মানও করে না, কার কতো টাকা দিয়ে মানুষ যাচাই করে ....সৎ মানুষরা অচল আনির মতো হয়ে গেছে "

হ, সেই আশির দশক থিকাই দেইখা আর শুইনা আসতেছি ...

২৫. ২১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৮
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: ভালো লাগছে লেখাটা ।

ব্যক্তিগত শুদ্ধতা দিয়ে হয়ত একদিন দেশের পরিবর্তন আসবে।

২১ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন: আর শুদ্ধতা!!
এখন মাঝে মাঝে নিজেরেই ক্লাউন মনে হয় :(

তবে আপনার শুভকামনাকে ধন্যবাদ জানাই ... একই কামনা আপনাকেও করি

২৬. ২১ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:৫০
রাশেদ বলেছেন: কি কমু! পইড়া গেলাম, টাকিলা কাক্কু।
২১ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:২৫

লেখক বলেছেন: রাশিলা!!! তুমারে যে একেবারেই দেখিনা!! ;)

২৩ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২৩ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২৮. ২২ শে মে, ২০০৯ সকাল ৭:৩৭
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন: আপনার বাবা অনেক লাকি... নিজের ছেলের কাছে আজীবন হিরো হয়ে থাকার আনন্দ টা যে কত বড় তা বাবারাই জানে... আমি নিশ্চিত আপনার বাবাও আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন... বাবা-ছেলে দুজনকেই শুভেচ্ছা...

আমার বাবা ও আমার হিরো ছিল এককালে... আমার কাছে উনি এত বড় এক ফিগার ছিলেন যে আমার সবকিছুতেই খেয়াল রাখতাম যেন আব্বার মত হতে পারি ... পরে কোন এক টপিকে মতভেদের কারণে উনি আর আমার হিরো থাকলেন না...

পরে দেখেছি উনার কথাই ঠিক ছিল... কিন্তু আমার লস টা সেই জায়গায় ই থেকে গেছে... আই স্টিল লাইক হিম... বাট হী ইঝ নট মাই হিরো এনিমোর :(...

আপনারা বাবা-ছেলে ভালো থাকুন :)
২২ শে মে, ২০০৯ সকাল ৭:৫২

লেখক বলেছেন: বাবা-ছেলের মধ্যে ক্ল্যাশ (মনস্তাত্বিক) একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার... জাপানে বহুল প্রচলিত একটা কথা, ২০ এর পর বাবা-ছেলের এই ক্ল্যাশ একটা অবধারিত ঘটনা ... পরে নাকি একসময় ৪০ এর দিকে এসে সেটা উল্টোদিকে কনভার্জ করে ... ছেলে পুরো বাবার মতো হয়ে যায় ;) ... সংঘর্ষ যত বেশী, পরে সাদৃশ্যও তত বেশী হয়

আমার দূর্ভাগ্য এই অভিজ্ঞতা আমার হয়নি ... একটা কারণ, আমি দেশ ছেড়েছি অনেক কম বয়েসে ... ১৯ বছর ... ক্ল্যাশের সময় তখনও আসেনি ... এরপর বছরে একবার একমাস/আধমাসের জন্য দেশে যাই ঠিকই, কিন্তু তখন আসলে পুরো সময়টা উপভোগেই ফোকাস বেশী থাকে

লিখতে লিখতে মনে হলো সন্টানের মধ্যে বাবার সাথে সাদৃশ্য যত কম গড়ে উঠবে, বাবার হিরো হয়ে থাকার সম্ভাবনা তত বেশী হবে ... নাকি ভুল কইলাম? ;)

২৩ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩০. ০৩ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:২৪
ফারহান দাউদ বলেছেন: সিভিল এন্ঞ্জিনিয়ারদের এমনে কইরা একটা বাঁশ দিলেন? :( মনে দুঃখ পাইলাম। তবে কথা সত্যি, আমার এক ক্লাসমেট বেচারার ৫ বছরের প্রেম ট্রাজেডিতে রূপ নিতে গেসিলো যখন মেয়ের বাবা ছেলে সিভিল এন্ঞ্জিনিয়ার বইলা বিয়া দিতে ঘোরতর আপত্তি তুইলা বসলেন, ভদ্রলোক সৎ অফিসার ছিলেন। পোলা পরে কানাডায় ফান্ডিং পাইলো, তবে বিয়া হইলো:|
সিস্টেমের সাথে মারামারি করে কতদিন টিকা যায় সেটা একটা প্রশ্ন, যখন আপনার এসএসসি'র সার্টিফিকেট তুলতেও টাকা চায়। দিমু না বলা সোজা, তবে সেইটা কার্যে পরিণত করতে যাওয়াতে আমারে ৪ দিন ঘুরতে হইসিলো। আমার এক খালুরে দেখসিলাম, ৩০০ টাকা ঘুষ দিবেন না বইলা ঘুরাঘুরি আর দৌড়াদৌড়ি করে ৩০০০ টাকা খরচ করসিলেন, তাঁর সেই ঘাড়ত্যাড়ামির গল্প এখনো আমাদের পরিবারে আদর্শ হিসাবে করা হয়। কতদিন টিকবো জানি না, কিন্তু চেষ্টা করে দেখতে চাই কতদিন আমার সাথে যুদ্ধ করতে পারে।

গল্প নিয়া কথা বললাম না কেন? কারণ সেইটা নিয়া বলার যোগ্যতা আমার নাই, শোকেসে যোগ কইরা নিলাম।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩২

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে দেখি অনেক মিল আমার ... এইচএসসি'র মার্কশীটের জন্য ঢাকা কলেজে অযথা বিশ টাকা করে নিতো ... সেটা না দেয়ার জন্য একমাস দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছিলো ... এসএসসি মানে, আইডিয়াল স্কুলেও এসব শুরু করেছিলো নাকি? হায়রে!!

৩১. ০৩ রা জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৫০
লীনা দিলরূবা বলেছেন: এত দরদ দিয়ে লেখাটা লিখেছেন কি বলবো? লা জওয়াব।

আপনার বাবাকে শ্রদ্ধা জানাই।
আমাদের দেশের এইসব সমস্যা আসলেই অমোচনীয় কালির মত লেপ্টে আছে, হতাশা ছাড়া আর কিছু দেখিনা।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... কালিমোচনের তরীকা বের করা জরূরী

৩২. ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৪৪
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: এতো সুন্দর লেখা এতোদিন পরে চোখে পড়লো। সত্যি খুব ভালো লাগছে। আপনার বাবাকে শ্রদ্ধা।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন

৩৩. ১৩ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯
নীরজন বলেছেন: কোথায় কোথায় যেন নিজেদের সংগে মিলে গেল..............আজীবন শুধু কম্প্রোমাইজ করলাম...............তবু ভালো লাগে..........

ভালো থাকুন।।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: তাই? ভালো লাগলো জেনে

৩৪. ১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৫৫
ফেরারী পাখি বলেছেন: এরকম ঘটনা অনেক আছে আমার জীবনে এবং কি আশ্চর্য একই রকম।

সত্যি এরকম বাবার জন্য শুধু এবং একমাত্র গর্বই হয়।

আপনার বাবার জন্য শ্রদ্ধা রইল।
৩৫. ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৪
ফেরারী পাখি বলেছেন: আমার মনে আছে, আমরা তখন পঞ্চগড়ে। এক লোক বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে আর কিছুতেই যাচ্ছে না। পাশের ঘরে বাবা তার সাথে কি যেন জোরে জোরে বলছেন--- কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। তারপর আমাদের দুবোন কে ডেকে নিয়ে গিয়ে, আমাদের মাথায় হাত দিয়ে বল্লেন, ভাই এই যে আমি আমার বাচ্চাদের মাথা ছুঁয়ে বলছি--- আমি ঘুষ খাইনা। আপনি টাকাটা দয়া করে নিয়ে যান। আমাকে আর বিরক্ত করবেন না।

আমার বাবা তখন ভূমি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব। তো তার বাড়ির টেলিফোনের লাইন কাটা হল। সালটা ৯৬-৯৭ হবে। লাইনম্যানকে ২/৩ শ টাকা না দিলে সে টেলিফোন সারাবে না।
আমার বাবার এক কথা , ঘুষ দিয়ে কাজ? কাভি নেহি। তো টেলিফোন ছাড়া আমাদের অনেকদিন চলতে হল।
আমার বাবার ১৮ বছর কোন প্রমোশন হয় নি। আর ওনাকে বদলী করা হত সবচেয়ে খারাপ জায়গাগুলোতে।
ন্ট্যান্ড রিলিজ ছিল--তার জন্য ডাল-ভাত।বসদের ঘুষ না দিলে বা ঘুষ খাওয়ার ব্যবস্থা না করে দিলেই----
তো তার এক কথা, কোথায় আর আমাকে পাঠাবে, বাংলােদেশের বাইরে তো নয়?
খুশীমনে আমাদের নিয়ে তিনি দূর্গম এলাকায় রওনা দিতেন।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: আপনার বাবাকে সশ্রদ্ধ সালাম ... এরকম ফাইট তি সবাই করতে পারেননা

৩৬. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫২
নাহিন বলেছেন: অসাধারণ একটা লেখা।
পড়েই মনটা অন্য রকম হয়ে গেল।

আমার বাবা-মা ছাড়াও আরও চারজন মানুষকে খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমার দাদা-দাদী এবং নানা-নানী। আমি জানি আমার বাবা-মা কোথা হতে এই বোধটা পেয়েছেন, আমি জানি তারা আমাদের কি করে শিখিয়েছেন।
চাকরি করার সময় কখনো ঘুষ না খাওয়া বাবাকে এখন ব্যবসার প্রয়োজনে প্রায়ই আপোষ করতে হয়- জানি। এও জানি আপোষ করতে তার কেমন লাগে।
আমি জানি না সারা জীবন আমি এই বোধটা কিভাবে ধরে রাখবো, কিন্তু রাখতে হবে তা জানি।
আর এও জানি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই বোধটা পৌঁছে দেয়ার দায়টাও আমারই।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার অনুভূতিটুকু পড়ে

৩৭. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫২
ফয়সল নোই বলেছেন: লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

ভাল থাকবেন।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফয়সল ভাই

৩৮. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৪
মুকুল বলেছেন: এই সোনার মানুষগুলো এখন শুধুই স্বপ্ন। সালাম উনাকে।


এই ধরনের কাজে টাকা দিতে আমার লজ্জা লাগে। কিন্তু ওই শুয়োরের বাচ্চাগুলার নিতে লজ্জা লাগে না! এইটা এখন সভ্যতা!
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২

লেখক বলেছেন: সেইটাই ... নির্লিপ্তভাবে টাকা নেয়

৩৯. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: কাঠগড়ার গল্প বইটির কোন লিংক দিতে পারবেন ভাইয়া?
৪০. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: সচলায়তনের হোমপেজে পাবেন
http://www.sachalayatan.com/

সবচেয়ে ডানপাশের কলামের লগইন অংশের নীচেই দেখবেন সচলায়তন প্রকাশনা অংশ
৪৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৮
ফারজান ওয়াদুদ বলেছেন: বুকটা কেমন ভরে গেলো অজানা ভালোলাগায়।

এমন সব অদ্ভুদ ভালো্মানুষদের গল্প শুনে সাহস পাই সত্যি পথে চলার।

অনেক অনেক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আপনাদের পুরো পরিবারের জন্যে।
৪৪. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: গুহামানব, পরমানন্দ, ফারজান ওয়াদুদ

ধন্যবাদ
৪৫. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৭
সুবিদ্ বলেছেন: এতদিন পরে চোখে পড়লো বলে নিজের উপর বিরক্তই লাগছে........ব্লগে আমার পড়া সেরা লেখার তালিকা করলে নিশ্চিত এটা উপরের দিকেই থাকবে......

ভালো থাকুন, প্রিয়তে নিলাম
২৩ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:১৯

লেখক বলেছেন: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ

৪৬. ১৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৪২
আহমেদ রাকিব বলেছেন: অনেক পুরোনো লেখাটা, ঝাপসা চোখে পড়ে গেলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩০৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ