somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আ ফিউ ডার্ক জোকস

২৮ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[মেইলে পাওয়া কয়েকটা ডার্ক জোকস বা নিষ্ঠুর কৌতুক। খানিকটা মশলা আমি নিজেও জুড়ে দিয়েছি।

একটু টুইস্টসমৃদ্ধ, নেগেটিভ, নিষ্ঠুরতাকে সহজভাবে নেয়া ডার্ক জোকস সবার ভালো লাগেনা; এমনকি দুয়েকটা পড়ে আপনার কাছে রীতিমতো অরুচিকরও মনে হতে পারে। তাও পুরো সেটটাই শেয়ার করছি।

সচলায়তনে পূর্বপ্রকাশিত]
_____________________________________________

১।
এক হাসপাতালে হঠাৎ করেই ভুতুড়ে কান্ডকারখানা ঘটা শুরু করলো। দেখা গেলো, প্রতি রোববার সকাল ১১টায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের ১ নং ওয়ার্ডের বেড নম্বর ৩ এর রোগীটি মারা যাচ্ছেন! রোগীর রোগের মাত্রা অথবা শারীরিক অবস্থা যত কম বা বেশী ঝুঁকিপূর্ণ হোকনা কেন, সেসবের সাথে কোন সম্পর্ক ছাড়াই প্রতি রোববারে একদম একই ঘটনা ঘটতে লাগলো।
স্বভাবতঃই, একই বেডের রোগীদের একদম নিয়ম করে একই সময়ে মৃত্যুবরণের এই রহস্যময় ঘটনা সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। মাসখানেক আগে এই বেডে আত্মহত্যার চেষ্টা নেয়া এক রোগীকে রাখা হয়েছিলো; মৃত্যুর শেষ মুহূর্তগুলোতে সে অদ্ভুত বিশ্রীভাবে হাসতো -- এসব ঘটনা মনে করে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সরা সবাই খুবই চিন্তিত আর ভীত হয়ে পড়লেন। অনেকে চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে ভূতুড়ে অথবা সুপার-ন্যাচারাল কারণের কথাটথাও বলতে শুরু করলেন। তবে হাজারো ভেবেও যখন বিষয়টার কোন কিনারা করা গেলোনা, কর্তৃপক্ষ তখন নানান বিদেশী বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হলেন।

পরের রোববারে বিশেষজ্ঞরা সবাই মিলে এক হলো যে বের করেই ছাড়বে, আসলে ঘটনা ঘটছেটা কি?
আধ্যাত্মিক কিছু?
কেউ শত্রুতা করে এই হাসপাতালের সুনামের বারোটা বাজাচ্ছে?
নাকি কোন পুরাতন রোগী প্রতিশোধ নিচ্ছে?
যেটাই হোক, ঘটনার বিহিত হওয়া দরকার।

বড় বড় হাসপাতালের ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ইন্টারপোল, এফবিআই, সিএনএন-আল-জাজিরার সাংবাদিক, হুজুর, তান্ত্রিক, এক্সরসিস্টের দল --- কেউই বাদ গেলেননা। নানান জল্পনা কল্পনা! সারা ওয়ার্ড জুড়ে ক্যামেরা, ভয়েস রেকর্ডার সেট করা হলো; সকাল থেকেই সবাই মিলে ওয়ার্ডের সারেভইল্যান্স ভিডিওর উপর চোখ রেখে অপেক্ষায় আছে, কি হয় দেখার জন্য।

উত্তেজনায় যখন টানটান সবাই, ঠিক তখনই একেবারে কাঁটায় কাঁটায় বেলা এগারোটার সময় দেখা গেলো যে হাসপাতালের রোববার সকালের পার্টটাইম ক্লিনার মন্টু মিয়া এসে ১ নং ওয়ার্ডটিতে ঢুকছে। তারপরই দেখা গেলো, নির্বিকার মুখে ৩ নং বেডের পাশের প্লাগটা খুলে নিজের হাতের ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটাকে সেখানে সংযোগ করে সে তার কাজ, মানে ক্লিনিং শুরু করে দিয়েছে!!

এটা নিশ্চয়ই আর ভেঙে বলতে হবেনা যে, মন্টু মিয়া যে প্লাগটি খুলেছিলো সেটাই ছিলো ৩ নং বেডের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের প্লাগ।


২।
আলাস্কার সমুদ্র দূষিত করার অপরাধে সেখানকার বায়োলজিকাল সিস্টেমের রিহ্যাবিলিটেশনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয় এক্সন ভ্যালডেজ অয়েল কোম্পানীকে। ব্যাপারটা বেশ খরুচে, যেমন ধরুন, একেকটা সীল মাছের রিহ্যাবিলিটেশনের জন্য প্রায় ৮০ হাজার ডলার ব্যয় হয়!
নিরূপায় এক্সন তাদের প্রোগ্রামের স্টার্টার হিসেবে দুটি সীল মাছকে দেড় লক্ষাধিক ডলারের বেশী ব্যয়ে সূস্থ্য করে তোলে।

সেদিন ছিলো এদেরকে আবার সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়ার অনুষ্ঠানের দিন। উপস্থিত দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে সীলদ্বয়কে সাগরের বুকে ফিরিয়ে দেয়া হলো। যেন মানবতার আরেকটি বড় ধরনের জয় হলো!

লোকজনের হাততালিটা যে সেদিন অন্য সময়ের চেয়ে লম্বা সময় ধরে চলেছিলো এটা স্বীকার করে নিচ্ছি, কিন্তু তারপরও হতাশাটা থেকেই যায়। কারণ, সেই হাততালি চলতে থাকা অবস্থাতেই বাইনোকুলার চোখে একটু দূরে তাকিয়ে অনেকেই দেখতে পেলো যে বিশাল এক শিকারী তিমি এসে সীল মাছ দুটোকেই ছিঁড়ে-কুঁড়ে খেয়ে শেষ করে ফেলেছে!


৩।
আশির দশকের শুরুর দিকের কথা। এক সুন্দর সকালে এক ভদ্রমহিলা জগিং শেষে বাসায় ফিরে দেখেন যে সামার ভ্যাকেশনে বেড়াতে আসা তাঁর মোটাসোটা একমাত্র পুত্রটি কিচেনের বৈদ্যুতিক কেটলীটির সামনে ভয়ানকভাবে কাঁপছে; বাস্তবে সে এতটাই কাঁপছিলো যে সেটাকে নাচ বললেও ভুল হবেনা। ছেলের শরীরের পেছনে লম্বা বৈদ্যুতিক তারের মতো জড়ানো, পেছন থেকে সামনে যেন বৈদ্যুতিক কেটলীটির দিকেই চলে গেছে তারটি।

"এক মুহূর্তও নষ্ট করা যাবেনা" ভেবেই ভদ্রমহিলা দৌড়ে গিয়ে কিচেনের পেছনে রাখা বিশাল এক কাঠের তক্তা নিয়ে এসে সন্তানের শরীরে জোরে জোরে বেশ কয়েকটা বাড়ি দিয়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক থেকে বাঁচালেন; যদিও বেচারার ডানহাতটা ভেঙে গিয়েছিলো।

তবে মায়ের এহেন প্রত্যুতপন্নমতিত্বতায় (আমাদের প্রত্যুদার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই ;)) সন্তানটি মোটেও খুশী হতে পারেনি। কারণ, সে কোনভাবেই কোন বৈদ্যুতিক শক-টক খায়নি, ওয়াকম্যান কানে সেঁটে গান শোনা আর উদ্দাম নাচের সাথে সাথে চা বানাচ্ছিলো মাত্র!


৪।
দুজন এ্যানিম্যাল রাইটিস্ট ভদ্রলোক এক শুকরখামারের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছিলেন, বিশেষ করে "শুকরদের স্লটারহাউজে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা"র প্রতিবাদে। হঠাৎ তাদের সামনেই খামারের বেড়ার অংশটি ভেঙে বেরিয়ে এলো গোটা কয়েক শুকর। পালাবে নিশ্চয়!! দুই ভদ্রলোককে কিছুটা আনন্দিত দেখালো, "অন্ততঃ গোটা কয়েক শুকর তো বাঁচলো!" এই ভেবে।

ঘটনা এখানে থেমে গেলেই হতো, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই দুই ভদ্রলোককে অবাক এবং তাঁদের আনন্দিত মুখমন্ডলদ্বয়কে শুকনো করে দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে শুকর তীব্রবেগে বেরিয়ে আসতে লাগলো ভাঙা বেড়া দিয়ে। দুই বেচারা বেড়ার এতটাই কাছে ছিলেন যে খামারের প্রায় দুতিন হাজার শুকরের পদপিষ্ট হয়ে মারা যাবার হাত থেকে বাঁচার কোন চেষ্টাই তাঁরা করতে পারেননি।


৫।
খায়ে রাহনাজেত নামের এক নির্বুদ্ধ টেরোরিস্ট একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির নামে একটি চিঠিবোমা পাঠিয়েছিলো। সব ঠিকঠাক মতো চললে যেদিন সকালে খবরের কাগজে ঐ 'ধনাঢ্য ব্যক্তির বোমার আঘাতে মৃত্যু'র খবর তার পাবার কথা, সেদিন সকালে দেখা গেলো যে টেররিস্ট বেকুবটা নিজেই ডাকে আসা চিঠিবোমা খুলে পড়তে গিয়ে নিহত হয়েছে।

ঘটনা হলো, মিঃ টেররিস্ট শুধু চিঠির ডাকমাশুলই কম দেয়নি, নিজের পাঠানো অমন ভয়ানক চিঠিটির চেহারাও তার আর মনে ছিলোনা।


৬। (আরেকটা অতি পুরাতন কৌতুক মনে পড়লো, যারা আগে পড়েননি তাদের জন্য)
কলমের কালি ঝরে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে, সেই কালিই আমাদের হাতের গতিপথের কারণে লেখা বা বর্ণে পরিণত হয়। কিন্তু মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ কাজ করেনা, তাই সেখানে কিভাবে লেখা যাবে এই নিয়ে নাসা বিরাট সমস্যায় পড়েছিলো। তখন নাসার রমরমা দিন, একের পর এক দুনিয়া কাঁপানো উদ্ভাবনের ঘোষনা দিচ্ছে তারা প্রায়ই। কাজেই মহাকাশে গেলেও লেখা যাবে এমন কলম উদ্ভাবনের প্রজেক্টের জন্য সরকার নির্দ্বিধায় বিলোয়ন বিলিয়ন ডলারের ফান্ড অনুমোদন করে দিলেন। নাসার শত শত বিজ্ঞানী পাঁচ-ছয় বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বানিয়ে ফেললেন অসাধারণ এক কলম, মহাবিশের হেন স্থান নেই যেখানে এই কলম দিয়ে লেখা যাবেনা!
এদিকে পাঁচ ছয় বছর আগেই আমেরিকার সেসময়ের প্রতিদ্বন্দী রাশিয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে মহাকাশে গেলে পেন্সিল দিয়ে লিখলেই হয়।
২৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×