আমার প্রিয় পোস্ট
- গত ৫ বছরে চালের দাম দ্বিগুণ - মারদাঙ্গা
- প্রখ্যাত ব্লগার দিনমজুর ও সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট ফিরোজ গ্রেফতার! সোশ্যাল মিডিয়া মুভমেন্ট আপরাইজিং! - কৌশিক
- ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো (কপি-পেস্ট পোস্ট) - বল্টু মিয়া
- জয় হোক বাংলা ভাষার, জয় হোক বাংলা ব্লগের: আলী মাহমেদ - নোটিশবোর্ড
- ভয়ঙ্কর এক সংখ্যার জন্ম, নিষ্ঠুর এক খুনের গল্প (শেষ পর্ব) - ম্যাভেরিক
- লগোদের বির্বতনবাদ - জেরী
- বাপেক্স/পেট্রোবাংলাকে নিয়ে যতসব মিথ ও তার জবাবে .... - দিনমজুর
- গ্যাস উৎপাদন কে করবে? - দিনমজুর
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগলো ধুম - দিনমজুর
- হিরোশিমা দিবস ঃ আধুনিক সভ্যতার এক কলংকজনক অধ্যায়। - ভিন্ন চিন্তা
- সেলিব্রিটি সিনড্রোম - ফারহান দাউদ
- জায়নিস্টদের অবিসংবাদিত নেতা এবং ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ঠ্রপতি ডঃ চ্যাইম ওয়াজম্যানের সাথে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে কথোপকথন। - নরাধম
- বাজেটে পিপিপি :পাবলিক-মানি টু প্রাইভেট পকেট?- ১ম কিস্তি - দিনমজুর
- ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ডিএমসির ছাত্রী নাহিদা মৃত্যুর প্রহর গুনছে - অণৃণ্য
- পুরান আর রূপকথা নিয়ে আরও কিছু কথা... - খারেজি
- বাংলাদেশের মানুষের মন - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- সচলায়তন ব্লগের কয়েকটি ইবুকের সরাসরি ডাউনলোড লিংক - সাদাচোখ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোধে আন্তর্জাতিক চাপ - রেজওয়ান
- ৮০০তম পোষ্টঃ কিছু আবোল-তাবোল কথা - এস্কিমো
- ব্লগ এবং পত্রিকায় পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনাগুলোর সঙ্কলন - আতিকুল হক
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই-১: একটা কমিশন গঠনের কাহিনী - শওকত হোসেন মাসুম
- আর কত মেরে থামবে শিকার, গণচিঠি দিন দেশে দেশে (আপডেটেড) - কাকশালিখচড়াইগাঙচিল
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- চাইনিজ ভেজিটেবল কিভাবে রান্না করবেন। - জরিণা
- কাচ্চি বিরিয়ানী রেসেপি - মাহবুব সুমন
- জনস্বার্থের পোস্ট: ব্লগে আপনার নিজের সেরা লেখা কোনটি? (সবার অংশগ্রহন বাধ্যতামূলক)
- জ্বিনের বাদশা
- একাত্তরের গণহত্যা ও নারী নির্যাতনঃ কিছু সাক্ষীর বয়ান - রাশেদ
- অভিশপ্ত এই খুনীদেরও চিনতে হবে ঘৃণাভরে... - অমি রহমান পিয়াল
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো.... - অমি রহমান পিয়াল
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- একটি সত্যিকার [অ]রম্য গল্প: নাটকের বিবর্তন , প্যাকেজ বিপ্লব , এবং একজন বিপ্লব-প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি - মেহরাব শাহরিয়ার
- ফিলিস্তিন সংকটের কারন - এ মাস্ট ওয়াচ ভিডিও - আবূসামীহা
- এক রাত্রির গল্প - রক্তিম
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৎৎ হবে না কেনো, হবে ... - হাসান মোরশেদ
প্রধানমন্ত্রী কি রেড হেরিং খেললেন নাকি? আমরা হাইকোর্ট চিনিনা!!
৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৭
১.
কালো টাকা সাদা করার ব্যাপারে আমার মনে হচ্ছে, প্রথমে "তিন বছর"কে ফোকাস করে প্রস্তাবটাকে যাচ্ছেতাই রকমের খারাপভাবে উপস্থাপন করে, তারপর এখন তিন বছরকে এক বছরে নিয়ে এসে সাধু সেজে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলছে। অথচ আসল লূপহোল হলো, এই প্রস্তাবের "প্রশ্ন করা যাবেনা!" অংশটি! মনে হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী আর তাঁর বাহিনী রেড হেরিং খেললেন আমজনতার সাথে।
রেড হেরিং ইফেক্টের কথা এর আগেও লিখেছিলাম কোথায় যেন একবার, সামহোয়ারে ব্যাপক প্রচলিত "রিভার্স খেলা"র মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার অস্ত্র এটা। সোভিয়েত যুগের রাশিয়ায় চিত্রনির্মাতারা রেড হেরিং হিসেবে যে টেকনিকটা ব্যবহার করতেন তা হলো ফিল্মের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ অর্থহীন কিছু সিকোয়েন্স ঢুকিয়ে দিতেন। যেমন ধরুন জমজমাট রোমান্টিক ছবির মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঢুকিয়ে দিলেন একটা ইঁদুরের কলে আটকা পড়ার দৃশ্য বা এক মোটাসোটা লোকের বরফে পিছলে পড়ার দৃশ্য। এর উপকারিতা ছিলো, সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা এরকম আপাত বিমূর্ত দৃশ্যগুলো দেখে বিভ্রান্ত হবার সাথে সাথে সন্দেহ করে বসতেন যে নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন বদ মেসেজ আছে! ফলে সেই অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্যগুলোকে তাঁরা কাটছাট করেই ভাবতেন যে "গুড জব" করে ফেলেছেন। ওদিকে হয়ত মূল সিনেমায় মেসেজটি ঢুকিয়ে পরিচালক তাঁর উদ্দেশ্য সফল করার আয়োজন করে রেখেছেন।
আজ সকালের "কালো টাকা সাদা" সংক্রান্ত খবরটা পড়ে সেরকম একটা অনুভূতিই হলো। খবরের কাগজগুলো বেশ ফলাও করে ছেপেছে যে কালো টাকা সাদা করার তিন বছরের সময়সীমার যে অসভ্য প্রস্তাবটি এবারের বাজেটে আনা হয়েছিলো, সেটি নাকি কমিয়ে এক বছরে নামানো হয়েছে; এবং পত্রিকার টোন ধরতে ভুল করলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী, তবে মনে হলো তাঁরা বলতে চাইছেন যে এতে প্রস্তাবটি সভ্য হয়ে উঠেছে। বাহ্! পারফেক্ট রেড হেরিং!! কিভাবে সেটা বুঝতে হলে আগে একটা বেসিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে হবে।
কথা হলো "কালো টাকা" কি? ঘুষের মাধ্যমে আয় করা টাকা? কালোবাজারী বা চোরাচালানের মাধ্যমে কামানো টাকা? লুটপাট করা টাকা? বা অন্য যেকোন অসৎ উপায়ে আয় করা টাকা? না, এদের কোনটিই কালো টাকা না। আপনার সৎপথে করা আয়ের যে টাকাটার উপর আপনি যথাযথ ট্যাক্স দেননি, সেটিই কালো টাকা। ধরুন, একজন স্কুল বা কলেজের গণিতের শিক্ষকের কথা। প্রাইভেট পড়িয়ে বছরে কামাই করেন ২০ লাখ টাকা, কিন্তু ইনকাম ট্যাক্স অফিসে হিসেব দেখান যে তাঁর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ টাকা। সেই চারলাখের উপর হিসেব করে ৩০/৪০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিলেন। তখন যে ১৬ লাখ টাকার আয়ের হিসেবটা তিনি লুকোলেন, সেটাই কালোটাকা। এই "কালো রঙের" ১৬ লাখ টাকার ট্যাক্স না দিলে সেজন্য তাঁর ভয়ানক শাস্তি হতে পারে, তবে সেজন্য তাঁর আয় করা ঐ ১৬ লাখ টাকা কিন্তু অসৎ আয় হয়ে যাবেনা। তো, সরকারের এই প্রস্তাবে আপাততঃ যেটা বোঝা যায় যে মাননীয় শিক্ষক সাহেব আগামী এক বছরের মধ্যে ঐ ১৬ লাখ টাকার ট্যাক্স হিসেব করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ইনকাম ট্যাক্স শোধ করলে তাঁকে আর ট্যাক্স প্রদান না করার অপরাধে জেলে পোরা হবেনা।
প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে আর অসুবিধা কি? এটা তো আর তেমন কোন বড় সমস্যা না, কারণ এতে তো অন্ততঃ অসাধু আয়ের লোকজনের কোন লাভ হচ্ছেনা। কিছু কিপ্টে কিসিমের উচ্চ আয়ের লোকের কাফফারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে মাত্র!
এখানেই সমস্যা!! এবারের মুহিত সাহেবের "কালো টাকা সাদা করণের" প্রস্তাবের মূল শুভংকরের ফাঁকিটা এখানেই। মূল সমস্যাটি "কালো টাকা"কে নিয়ে মোটেও নয়, এটি হলো এর পরের ক্লজটি নিয়ে, যেখানে তারা বলছেন যে কালো টাকার উৎস সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করা যাবেনা। প্রস্তাবের এই অংশটাই যাবতীয় চোর-ডাকাত-বদমায়েশদের পথ পরিস্কারের চাবিকাঠি। এখন আপনি স্কুলের টিচারের মতোই চেহারা করে বিনা ঝামেলায় চোরাচালান করা ৫০ লাখ টাকাকে "প্রশ্ন করা যাবেনা" ট্যাগ করিয়ে নিতে পারবেন।
মন্ত্রীমহোদয় "কালোটাকা" নামক ভয়ংকর শোনালেও বস্তুতঃ নীরিহ একটি ফ্রেজ আর "তিন বছর" নামের একটা রেড হেরিং সৃষ্টি করে তলে তলে অসৎ পথে কামানো লোকদের সব ব্যাংকব্যালান্সকে "প্রশ্ন করা যাবেনা" স্ট্যাটাসটি প্রদান করার আয়োজন করে ফেললেন বলে মনে হলো।
কাল প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন উনি "মাছ ধরার জন্য আধার" পেতেছেন। খুব জানতে ইচ্ছে করে উনি কি "কিপ্টে কিসিমের উচ্চ আয়ের" কিছু পুঁটি মাছ ধরতে আগ্রহী, নাকি রাঘব বোয়াল? রাঘব বোয়ালদের জন্য তো তাঁর ব্যাটেলিয়ান উল্টো পুকুর পরিস্কারের আয়োজনে নেমেছে, তাও চারপাশে রেড হেরিং ধোঁয়া তৈরী করে।
আরো প্রশ্ন জাগে, খালেদা জিয়ার পুত্রধনদ্বয় যদি আগের পাঁচ বছরের তাঁদের "সত্যযুগে" কামানো কোটি কোটি টাকার ওপর এখন ১০% ট্যাক্স দিয়ে ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটগুলো কিনে ফেলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কাউকে প্রশ্ন করতে দেবেননা? বাহ্, কি দরদ!
মৎস্যবিহারে ক্রীড়ারত আমাদের প্রধানমন্ত্রী/অর্থমন্ত্রী ও তাঁদের ব্যাটেলিয়ানের কাছে আমরা জনগণ কি এই আশা করতে পারিনা যে তাঁরা
অতি শীঘ্রই
১. "কোন প্রশ্ন করা হবেনা বা যাবেনা" অংশটি স্থগিত করবেন
২. আগামী বছর থেকে কালো টাকা সাদা করার আর কোন আইন করা হবেনা -- এই মুচলেকাটুকু জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন।
তা না হলে এ শুধু ভন্ডামীর আরেক নামই হবে, প্রধানমন্ত্রী মনে রাখবেন, একদিন আপনি নিজেও মাছে (রূপকথার মৎস্যকণ্যা নয়) পরিণত হতে পারেন!
২.
প্রকৃতপক্ষে কালোটাকা সাদা করার আইন করে লাভ হয় কিভাবে সেটাই আমার মাথায় ঢুকছেনা। ধরুন দু ধরনের লোক কালোটাকা সাদা করবে।
প্রথমতঃ, যারা সৎ আয় করেছেন কিন্তু সেটা ইনকাম ট্যাক্স রিপোর্টে প্রকাশ করেননি। এটা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে করা হয়, এতটাই ব্যাপক যে প্রতি বছর সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে যাঁদের নাম আমরা শুনি তাঁদের নাম সারা বছরে আর কখনও শোনা যায়না, কারণ তাঁরা সম্ভবতঃ মধ্যম মানের ব্যবসায়ী। এখন কথা হলো, কালো টাকা সাদা করে এদের লাভ কি? কি কারণে একজন টিউশনি জমানো শিক্ষক ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ছেলেমেয়েসহ থাইল্যান্ড ট্রিপ বাদ দিয়ে অযথা সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দেবেন তা আমার মাথায় আসেনা। মূল কথা হলো, তাঁর টাকা কালো থাকুক বা সাদা থাকুক -- তাতে তাঁর লাভক্ষতির কোন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তো দেখা যাচ্ছেনা!
দ্বিতীয়তঃ, যারা অসৎ আয় করছেন তারাই বা কেন জমা দেবেন? তাঁর টাকারও বা সাদা হবার দরকার কি? অথবা তাঁর টাকার "প্রশ্ন করা যাবেনা" এমন স্ট্যাটাস পাবার দরকার কি? তাতে কি তিনি শাস্তির হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছেন? মানে, তা নাহলে কি তিনি শাস্তি পাচ্ছেন এ দেশে?
মূল কথা সেটাই।
ট্যাক্স দেয়নি বলে শাস্তি হয়েছে এমন ঘটনা এদেশে ঘটে?
নাকি ট্যাক্স যাতে না দিতে হয় সেজন্য ইনকাম ট্যাক্স অফিসারের বাসায় বাসায় লোকজনের আনাগোনার ঘটনা ঘটে?
ঘুষ খেয়েছে বলে এদেশে কোনদিন শাস্তি হয়?
নাকি ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য মানুষ ঘুষ দেয়?
সব মিলিয়ে কালোটাকা সাদা করার এই ব্যাপারটিতে আমি কোন অর্থই খুঁজে পাচ্ছিনা। ট্যাক্স না দেয়ার শাস্তি বা অসৎ আয়ের শাস্তির যে আইন, তার কোন প্রয়োগের উদাহরণ যে দেশে নাই, সে দেশে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব অবুঝ বাচ্চাও গ্রহন করবে বলে মনে হয়না। আগে এই আইনের শাসনের যথাযথ প্রতিষ্ঠা না করে কালোটাকা সাদা করার টোপ দেয়া একটা বুজরুকি অথবা ভন্ড আইডিয়া।
সাম্প্রতিক "কালো টাকা সাদা করার" আইন ১৯৯৯ সালে কিবরিয়া সাহেব চালু করেছিলেন, কি বুঝে কে জানে? তার তিন বছর তো গেলোই, এরপর সাইফুর সাহেবও এই আইন চালু রাখলেন তাঁর পাঁচ বছর। এই সাত আট বছরে আসলে কত টাকা সাদা হয়েছে সেই পরিসংখ্যান কি আমাদের আছে? আমি এখনও বুঝছিনা কেন তাঁরা এই আইনটিকে এত ভালোবাসেন? নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে, কেউ বুঝে থাকলে জানাবেন দয়া করে।
তবে এবার হয়তো "প্রশ্ন করা যাবেনা" আশ্বাসটি পেয়ে অনেকে এগিয়ে আসবেন, ব্যাংকে টাকা না লুকিয়ে রেখে নতুন চোরাচালানীর পুঁজিতে ব্যবহার করবেন। কিন্তু সেটা কোনভাবেই "কালো টাকা সাদা করা নয়", এটা পাবলিক বোঝে। তাই এটা যে আমজনতার কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য কোন ব্যাপার হবেনা, সেটা আমাদের এই বড়শীবাহিনী যত দ্রুত বুঝবেন ততই মঙ্গল।
*আরেকটা কথা মনে হলো, পুরোপুরিই আমার অনূর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত। তা হলো, হঠাৎ এ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য ব্যবহৃত টাকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবেনা টাইপের আইন করার মানে কি? গত কয়েকবছর ধরেই হাউজিং ইন্দাস্ট্রীতে বাবল চলছে, অবান্তর রকমের দাম বেড়ে চলেছে এ্যাপার্টমেন্ট আর জমির। এই বাবল ফাটবেই। তবে কি ফাটার লক্ষণ দেখা দিয়েছে? বাবল যাতে না ফাটে সেজন্যই কি বাড়তি গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে এই আয়োজন?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
কালপুরুষ বলেছেন:
ভাল লিখেছেন। তবে তাদের চোখে পট্টি বাঁধা- কালো ছাড়া সাদা কিছু দেখতে পাননা।
লেখক বলেছেন: আমার তো মনে হয় তাঁদের চোখেৎহিকই খোলা, তাঁরা ভাবেন যে আমাদের চোখ বাঁধা!! ![]()
লেখক বলেছেন: কিন্তু এই খেলা খেলে কার কি লাভ হইছিলো!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
আতিক একটেল বলেছেন:
কয়েকদিন আগে আল জাজিরাতে বাংলাদেশের দুনীর্তি নিয়ে একটা রিপোর্ট দেখালো, যেখানে আমাদের মুহিত সাহেব খুব বিগলিতভাবে চিরায়ত হাসি দিয়ে বললেন আমাদের দেশে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ইনফর্মাল ইকোনমি আছে। বুঝতেই পারছেন তাহলে..।
লেখক বলেছেন: তা উনার কি ধারণা এই ইনফর্মাল মানি ব্যাংকে অলস পড়ে আছে যে চাইলেই লোকে এসে ১০% ট্যাক্স দিয়ে ওটাকে চালু করবে!!!
৪০০০ কোটি ডলার মানে মাথাপিছু ২৬৬ ডলার, আমাদের মাথাপিছু আয়ই ৪০০ ডলার, তার মানে কি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশই ইনফরমাল!!!
মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান বলেছেন:
চারদলীয়জোট আমলে এবং নির্বাচনী প্রচারনাকালে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত তীক্ষ্ম ভাষায় সাইফুর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেছিলেন কালো/সাদা ইস্যুতে। এখন কি ভুলে গেলেন সব?
লেখক বলেছেন: উনি তো অনেক কিছুই ভুলে যাচ্ছেন ... যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটাও চলছে শামুকের গতিতে 
ত্রিভুজ বলেছেন:
আমি একটা জিনিষ খুব দৃঢ়চিত্তে বলতে পারি যে আগামী ১০ বছরের ভেতরে ঢাকা শহর পরিত্যক্ত হবে। তারপরও ঢাকায় কিভাবে এত এ্যাপার্টমেন্ট বিজনেস চলে সেটা নিয়েই প্রশ্ন জাগে মনে। আর বর্তমানে ঢাকার এ্যাপার্টমেন্টবাসীরা যে কত কঠিন অবস্থায় আছে চিন্তা করতে পারবেন না। এখনি মাটির নিচের পানি সংকট লেগে যায়। নদীগুলোর অবস্থাতো সেই কবে থেকেই খারাপ। স্যুয়ারেজ সিস্টেম কলাপস করবে কিছুদিনের ভেতরেই... তখন ঢাকার অবস্থা কি হবে? ভূমিকম্পের কথা না-ইবা বললাম.....
সবকিছু মিলিয়ে ঢাকার এ্যাপার্টমেন্ট বিজনেসে এমনিতেই ধ্বস নামার কথা... কালো টাকা নীল টাকা কোন টাকাই এটাকে ঠেকাতে পারবে বলে মনে হয় না।
আর কালো টাকার সাদা করার পেছনে আছে আমাদের বর্তমান সাংসদরা। নির্বাচনের পর "সুজন" এর একটা রিপোর্টে এই সংসদকে কোটিপতিদের ক্লাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিলো। সেই কোটিপতিদের সুবিধামত আরো অনেক কিছুই দেশে চালু হবে..... অপেক্ষা করেন.. দেখেন কি হয়!
লেখক বলেছেন: সাংসদদের বাড়তি ১০% ট্যাক্স দিয়া সাদা করার দরকার কি? তারা তো এমনেই ধরাছোঁয়ার বাইরে ...
ফেরারী পাখি বলেছেন:
যথারীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট। সরাসরি প্রিয়তে নিলাম।বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৩৫ বছর পার হয়ে গেল---- এসব রাজনীতিবিদদের তো কিছু করতেও পারি না, বলতেও পারিনা।
আপনারা যারা লিখেন বা বলতে পারেন--তাদের লেখা প্রিয়তে নিয়ে নিজের বোধটাকে জাগিয়ে রাখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফেরারী পাখি ... আমার মনে হচ্ছে, প্রথমে "তিন বছর"কে ফোকাস করে প্রস্তাবটাকে যাচ্ছেতাই রকমের খারাপ বানিয়ে, তারপর তিন বছরকে এক বছরে নিয়ে এসে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা দেখলাম। অথচ আসল লূফোল হলো, "প্রশ্ন করা যাবেনা!" অংশটি!
ত্রিভুজ বলেছেন:
লেখক বলেছেন: সাংসদদের বাড়তি ১০% ট্যাক্স দিয়া সাদা করার দরকার কি? তারা তো এমনেই ধরাছোঁয়ার বাইরে ..সাংসদরা না ঠিক.. সাংসদদের পেছনে যারা আছেন.. বা যারা তাদের পাওয়ার হাউস। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন কোটিপতিদের জন্য...
লেখক বলেছেন: হুমমম... একটা হতে পারে ব্যবসায়ীদের চাপে ব্যবস্থাটা চালু রাখা ... কেউ বাইচান্স ফেঁসে গেলে যাতে পার পায়
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
হাউজিং ওয়ালারা কতো খাওয়াইসে কে জানে! এখন আর নিম্নমধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্তদের ফ্যাট প্লটের স্বপ্ন না দেখলেও চলবে! কালো টাকার উৎস সম্পর্কে সবসময়ই প্রশ্ন করা যাবে, করতে হবে। যেহেতু টাকাটা কালো, শিক্ষকরেও জবাব দিতে হবে, ভন্ডরেও জবাবা দিতে হবে। আর কালো টাকা কারা সাদা করতাছে না, সেটার বিরুদ্ধে একটা কার্যকর অভিযান চালানো হোক। এক বছর অভিযান চালাইলে পরের বছর হিড়িক পইড়া যাবে সাদা করার।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয়না কালো টাকা সাদা করে কেউ ইনকাম ট্যাক্সের লালখাতায় নাম লেখাবে ... ঠ্যাঙানি ছাড়া কে নড়বে? ... এটার উদ্দেশ্যটা আমার কাছে পরিস্কার না ... এবারেরটা তাও কিছুটা মেইক সেন্স করে ... পাবলিক দুই নাম্বার টাকায় ফ্ল্যাট কিনে আর হিসাব দিবেনা ... তবে হাউজিংওয়ালারা ভালো পয়সা ঢালছে বলে মনে হয়
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: বিজিএমইএ দেখলাম নাখোশ হইছে!!! ![]()
আবার দেখলাম প্রধানমন্ত্রী কইতেছেন, কালো টাকা সাদা করার আইনে নাকি কালো টাকার মালিকরা গোস্বা হইছেন, কারণ, তাঁরা নাকি আগের আমলেই কালো টাকা সাদা কইরা ফেলছেন!!!! (গতকালের আমাদের সময়)
তাইলে ম্যাডাম, এই আইনের আর দরকার কি? ![]()
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
ঐজন্যই...আসলে হুদা সুযোগ না দিয়া এই বছর কমসে কম এক বছরের জন্য হইলেও কর উঠাক, কে কর দেয় না বাইর করুক। মোট কথা, করখেলাপিরে দৌড়ের উপ্রে রাখুক। দেখবেন, নেক্সট ইয়ারে ২ মাসের জন্য সাদা করার সুযোগ দিলেও কর অফিসের সামনে সৌদি এয়ারলাইন্সের সমান লাইন লাইগা যাবে।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় এইটা উল্টা প্রসেসে করলে ভালো হইতো ... আগে একবছর করখেলাপী খোঁজা, দৌড়ের উপর রাখার সাঁড়াশী অভিযান চালাইয়া ভয় পাওয়ানো দরকার ... তারপর সাদা করার সুযোগ দিলে সবাই সাদা করতো ... যেমন তত্বাবধায়কের আমলের প্রথম বছরে তারা যদি সাদা করার সুযোগ দিতো তাইলে দেখতেন সুড়সুড় কইরা সব সাদা করতে আসছে
কিন্তু রাজনৈতিক সরকার এই সুযোগ দিয়া আসতেছে এড় আগে ৮ বছর ধরে ... এতদিন ঠিক কেন দিছে জানিনা ... এবার তো মুহিত সাহেব লাজশরমের মাথা খেয়ে ঘোষনাই দিয়া দিলেন যে "কোন প্রশ্ন করা যাইবোনা?" -- এইটাই কিন্তু এই আইনের সবচেয়ে বর্বর অংশ ... কেন কোন প্রশ্ন করা যাইবোনা?
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
জটিল লিখছেন, বস্ অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়েছে, কত কিছু যে জানতাম না !!
আমি তো মনে করতাম শুধু মাত্র ঘুষ, চুরি, ছিনতাই, কালোবাজারি শুধু মাত্র এইগুলাই কালো টাকা
এই আওয়ামী সরকারের উপর অনেক আশা ছিলো ...... প্রথম দুই সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদের নাম দেখে এই আশা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিলো .... এখন একেকটা দিন যাচ্ছে আর উপলব্ধি করছি সবই ফানুস বই কিছুই না
লেখক বলেছেন: ঘুষ, চুরি, ছিনতাই, কালোবাজারির টাকা কিন্তু শুধুই কালো টাকা না (ট্যাক্স খেলাপীর জন্য), ওগুলারে আরো জঘন্য স্ট্যাটাস দেয়া জরূরী (অসৎ উৎসের জন্য) ... তবে সরকারের "কোন প্রশ্ন করা যাবেনা" মন্ত্রই এদের শুধু কালোটাকার ক্যামোফ্লাজ নিতে সাহায্য করতেছে
অলস ছেলে বলেছেন:
প্রিয়তে।
বরঞ্চ কর খেলাপিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান দরকার। ব্যাংক একাউন্ট হোল্ডারদের সঠিক টিআইএন নাম্বার জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। আর নাগরিকদের যে জাতীয় ডাটাবেইস করা হয়েছে, সেটাকে আরো পূর্ণাঙ্গ ও তথ্যপূর্ণ করে সবখানে যেন ব্যবহার করা যায়, এটা নিশ্চিত করা দরকার । তাহলেই সবাইকে ট্র্যাক করা সম্ভব।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















