আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সম্পর্কের গভীরতা

২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২২

শেয়ারঃ
0 1 0

একরামুল হক শামীমের জন্মদিন বিষয়ক লেখাটি পড়ে নিজস্ব পুরোনো কিছু চিন্তা মাথায় খেলে গেলো। সেগুলোরই একটা এলোমেলো কম্পাইলেশন এই লেখাটি।


নিজের কিছু স্মৃতি:
শামীম তার লেখায় যে বিষয়টির অবতারণা করেছেন সেটি আমাদের সমাজে নতুন না বলেই মনে করি, অর্থাৎ, পরিবারের আপনজন বা কাছের মানুষদের সাথে গ্রিটিংস বা অভিবাদন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি। যেমন, জন্মদিনের দিন সন্তান ফোন করলো, কিন্তু বাবা-মা মুখ ফুটে "হ্যাপি বার্থ ডে" বা "শুভ জন্মদিন" বললেন না। আমার নিজের বেলায়ও একইরকম হয়। বিদেশে আসার পর প্রথম কয়েকবছর নিজের প্রতিটি জন্মদিনেই বাসায় ফোন করতাম, ওপাশে সাধারণত মা-ই ধরতেন, গলার স্বরে আলাদা আবেগটুকু টের পেয়েই বোঝা যেত যে ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন এদিন, কিন্তু মুখ ফুটে বলতেননা, "হ্যাপী বার্থ ডে" বা "শুভ জন্মদিন, বাবা" ধরনের কিছু। বড়জোর হয়ত কথার ফাঁকে একবার হঠাৎ করেই প্রসঙ্গ তুলে বলতেন, "কি রে, বয়স কত হলো?" সেটাও যে প্রতিবারই করতেন তা না। তবে সত্যি বলতে কি, মা যে এই আনুষ্ঠানিকতাটুকু করতেননা, এতেই আমি বেশী খুশী হতাম; কারণ, 'মার মুখে "শুভ জন্মদিন বাবা" শুনে আবার সেটার উত্তরে "ধন্যবাদ, আম্মা" বলা' -- এটাকে কেমন যেন ন্যাকা একটা ব্যাপার মনে হতো, বড় লজ্জা বা অস্বস্তি অথবা এর কাছাকাছি এক ধরনের অনুভূতির ব্যাপার ছিলো সেটা। আমি জানিনা পাঠকদের মাঝেও অনেকের এমনটা হয় কিনা। এখনতো গুণে গুণে নিজের জন্মদিনে দেশে ফোন করাটাকেই ন্যাকামি মনে হয়! "ত্রিশ পেরিয়েছে সেই কবে, বুড়ো হাবড়ার আবার জন্মদিন!" -- এরকম কোন অনুভূতি? হতে পারে।

ব্যাপারটা আমাদের পরিবারে ব্যাপক; যেমন উপরে যে বলেছি জন্মদিনে ফোন করলে মা মাঝেমাঝে বয়েস কত হলো জিজ্ঞেস করতেন, বাবা সেটাও করতেননা। বাসায় ফোন করলে মা'র সাথে সবসময়ই কথা হয়, বাবার সাথে প্রতিদিন না; তবে জন্মদিনে ফোন করলে বাবার সাথে কথা হতো। তিনি নিশ্চয়ই সেদিন মা কথা বলার সময় ফোনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন, হয়তো জন্মদিনের দিন যে তিনি আবশ্যিকভাবে কথা বলতেন এতেই তাঁর শুভকামনাটি আমার কাছে পৌঁছে যেত। এর বেশী প্রকাশটাই বরং অস্বস্তির -- এরকমই মনে হয়। যেমন স্মৃতিকে আরেকটু পেছনে টেনে বলা যায়, আমাদের সব ভাইবোনের বেলাতেই বাসায় কেকে কেটে জন্মদিন পালন বন্ধ হয়ে গেছে প্রত্যেকে দশ পেরুবার আগেই। তারপরও যখন বয়েস তেরো চৌদ্দ, মনে আছে দেখতাম, জন্মদিনের দিন মা ঠিকই আমার পছন্দের কোন একটা খাবার রেঁধেছে; এটুকুই, খুলে বলতেও হতোনা "বাবু, তোর জন্মদিন দেখে এটা রাঁধলাম!" সত্যি কথা! টেবিলের মেন্যু দেখেই বুঝে ফেলতাম, "ওহ! আজ তো আমার জন্মদিন।" কৃতজ্ঞতাবোধের জন্য না, বরং পছন্দের কারণে স্বাভাবিকভাবেই সে খাবার হাপুস হুপুস করে খেতাম, যেমন গরুর মাংসের কাবাব একটি খেয়ে কোনদিন আমার হয়নি, তিন-চারটা তো মিনিমাম। সেই কামলা স্টাইলের খাওয়া দেখেই কৃতজ্ঞতাটুকু বুঝে নিতেন মা নিশ্চয়ই, আলাদা করে "থ্যাংক্যু মাম" ;) বলার দরকার হতোনা। এ এক অদৃশ্য যোগাযোগ, টেলিপ্যাথি না হোক, কাছাকাছি, কিছু বলা লাগছেনা, সবাই বুঝে নিচ্ছে "হি/শী ইজ দেয়ার ফর মি"।

এরকম ব্যাপার আমাদের সবার জীবনেই কমবেশী আছে। কলেজে পড়া মাদার ইন ম্যানভিলের সেই অংশটুকুর সাথে এর খুব মিল। যেখানে লেখিকা ছোট্ট-বালক জেরীর উপকার করায় (কি উপকার ছিলো কিছুতেই মনে করতে পারছিনা, ত্রিশের পর মেমোরীর এই ত্রাহিত্রাহি অবস্থা দেখে আমি খানিক চিন্তিত), জেরী লেখিকার দিকে শুধু তাকিয়েছিলো। কৃতজ্ঞতাভরা সে দৃষ্টি লেখিকার কাছে মুখ ফুটে বলা "থ্যাংকসের" চেয়ে অনেক বেশী গভীর মনে হয়েছিলো।

এসব মিলিয়েই ভাবনাটা প্রায়ই হামলা দেয়, ভাষায় যখন প্রকাশ করা হয় তখন কি অনুভূতি বেশী গভীর থাকে, নাকি যখন প্রকাশ করা যায়না, তখন?


সম্পর্কের গভীরতা আর আবেগের প্রকাশ:
উপরে যে বলেছি অনুভূতির গভীরতা, এখানে "অনুভূতি" শব্দটা হয়তো ঠিক অর্থ বহন করছেনা, বা বলা যায় যে এই অনুভূতিটা হলো কিছুটা গ্রে অর্থের। উদাহরণ দিই জন্মদিন নিয়েই। যেমন বন্ধুকে যখন আপনি "হ্যাপি বার্থডে" বলছেন তখন হয়তো সে অর্থে আপনার মধ্যে বড় কোন অনুভূতি কাজ করছেনা, প্রিয় বন্ধুর জন্য একধরনের শুভকামনাই শুধু কাজ করছে। এসব কিছুকে অনুভূতি হিসেবে ধরেই এই আলোচনা।

প্রশ্নটা হলো, কখন সম্পর্কটাকে আমরা গভীরতর ভাববো। যখন অনুভূতির প্রকাশ ঘটছে সহজে তখন, নাকি, যখন প্রকাশ করা কঠিন হচ্ছে তখন। যেমন মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকে মায়ের সাথে খুব ফ্রী বা সাবলীল থাকে, প্রায় বান্ধবীর মতো; মাকে মেয়ে নিজের সব কথা বলে, নিজের প্রেম বিষয়ক ব্যাপারগুলো স হজেই শেয়ার করে। আবার অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে মা-মেয়ের মাঝে এই শেয়ারিংয়ে একটা দূরত্ব আছে। এখান থেকে কি আমরা বলতে পারি যে যে মা-মেয়ের জুটিটি সহজেই শেয়ার করতে পারে পরস্পরকে, তাদের মাঝে সম্পর্কটি গভীরতর, অর্থাৎ তাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসাটা বেশী? উল্টোভাবে বললে, মায়ের সাথে সব কথা শেয়ার করতে পারেনা, সংকোচ আছে, কিন্তু মাকে পৃথিবীর অন্য যে করো চেয়ে বেশী ভালোবাসে এমনটি হওয়া কি অসম্ভব?

যেমন উপরের উদাহরণটিকে কেন্দ্র করেই আরেকটি সিনারিও কল্পনা করি, এরকম ঘটনা হরহামেশাই ঘটে আমাদের আশপাশে। ধরুন, মেয়ে চাইছে বন্ধুদের সাথে একত্রে নেপাল ঘুরতে যাবে, কিন্তু বাবাকে কিছুতেই রাজী করানো যাচ্ছেনা, এখন মেয়ের মন খুব খারাপ। মা বিষয়টি লক্ষ্য করলেন, এবং বাবাকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজী করালেন। মেয়ে এখন মহাখুশী। এক্ষেত্রে যে মেয়েটি মা'র সাথে সাবলীলভাবে সব শেয়ার করে যে হয়তো বাবার রাজী হবার খবর জানার পর দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরবে, বেশী আহ্লাদী হলে "থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ, সুইট মাম্মি" বলে কেঁদে ফেলবে, আরো আহ্লাদী হলে পাপ্পি দেবে -- অর্থাৎ তার আনন্দ আর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটবে সবরকমে। অন্যদিকে যার ভাবপ্রকাশে কিছুটা সংকোচ আছে সেও খুশী হবে, মার প্রতি কৃতজ্ঞ হবে, হয়তো তার ইচ্ছে হবে মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে একটুক্ষণ বসে থাকতে। হয়তো সে এসব কিছুই করবেনা, চুপচাপ গিয়ে মায়ের খাটের পাশে বসে ঘন্টাখানেক মা'র সাথে এটা ওটা গল্প করবে, হয়তো একটু হাতটা ছুঁয়ে দেবে অথবা দেবেনা। আবার এককাঠি বাড়া অনেকে হয়তো উল্টো কৃতজ্ঞতা ঢাকার জন্য এমনভাব করবে যেন বাবাকে রাজী করানোর ব্যাপারটায় সে বিন্দুমাত্র আলোড়িত হয়নি, নেপাল ঘুরতে না গেলেও তার তেমন ক্ষতি হতোনা (এরকম চরিত্র সাধারণত আমরা নাটক-সিনেমায় দেখি, বাস্তবেও হয়তো আছে)।

এখন উপরের উদাহরণে কোন মেয়েটির সাথে মায়ের সম্পর্ক বেশী গভীর বা বেশী ভালোবাসার? এই জায়গায় এসে একটা ধাক্কা খাই।

পুরো ব্যাপারটাই হয়তো যার সাথে সেমন আচরণ করে এসেছি তারই একটা কন্টিনিউয়েশন। যে বাবার কাছ থেকে হাজারবার উপকৃত হবার পরও কখনও "ধন্যবাদ" বলা হয়নি, তাঁকে হঠাৎ করে একদিন "ধন্যবাদ" বলা কঠিন। ধন্যবাদের মতো সুন্দর, মসৃণ, চমৎকার একটি কথাও তখন অস্বস্তিকর হয়ে দেখা দেয়, মনে হয়, এই সম্পর্ক এমনই গভীর যে এখানে "ধন্যবাদ" বড় ন্যাকা হয়ে যায়। বন্ধুদের বেলায়ও তাই। খুব কাছের বন্ধুকে যত সহজে "ঐ হারামজাদা আমার এসখ টাকা ফেরৎ দেসনা কেনো?" বলা যায়, গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ জানাতে "ধন্যবাদ" বলাটা ততই কঠিন হয়ে পড়ে। হয়ত "ধন্যবাদ" বললে সাথে সাথে সে হো হো হো হো করে ফেটে পড়বে, বলবে, "শালা পুরা জাপানী হয়া গেছস!"


ভাষার সাংস্কৃতিক বিবর্তন:
উপরে আলোচিত আবেগ প্রকাশ/অপ্রকাশের ব্যাপারটি যে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে ঘটে তা না, বরং এর একটি সাংস্কৃতিক চেহারাও আছে। যেমন, আমি এখানে এসে প্রথম বছরটি যখন জাপানী ভাষা শিখেছিলাম, তখন আমাদের ডর্মে প্রায় চল্লিশটি দেশের ছেলেমেয়ে থাকতো। এদের মধ্যে আলোচনার একটা প্রধান বিষয়ই ছিলো পরস্পরের ভাষার অভিবাদন আর গালমন্দগুলো জানা। তখন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি আমাদের বাংলা ভাষায় অভিবাদনের কত অভাব! তাও পুস্তকে যতটা আছে, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অভিবাদন বাংলা ভাষায় বা আরো নিঁখুতভাবে বললে বাঙালীর মুখে যে তেমন জায়গা করে নিতে পারেনি সেটা বুঝেছিলাম। এটা হয়তো সরাসরি আমাদের সাংস্কৃতিক আচারের সাথে জড়িত, আমরা অনুভূতিকে সরাসরি প্রকাশ করিনা। কারো বাসায় বেড়াতে গিয়ে খাবার টেবিলে প্রত্যেক পদে কামড় বসিয়েই "উহু, আহা" করে খাবারটি যে কত মজা হয়েছে তার প্রকাশ আমরা করিনা। অধুনা বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় এর চল হলেও, আমি এখনও কল্পনা করতে পারিনা যে খালাদের বা ফুপুদের কারো বাসায় গিয়ে খেতে খেতে বলছি, "রান্না দারুণ হয়েছে!" নিশ্ছিত উনারা ভাববেন যে "ছোকরা দুপাতা জাপানীজ পড়ে ফরমাল ফুলবাবু হয়েচেন!!"

এটা নিয়ে পশ্চিম আর পূবের বিতর্কও চলছে অনেকদিন। পশ্চিমা সিনেমা, নাটক নভেল তো বটেই, বাস্তবজীবনে বন্ধুবান্ধবদেরও দেখি যখন তখন স্ত্রী বা প্রেমিকাকে "লাভ ইউ হানি" বা এরকম কাছাকাছি কোন বাক্যে মনের ভাব জানাচ্ছে। পূবের লোকেরা এটা দেখে অনেক হাসে, বলে, এটা কি রকম কথা! প্রতিদিন বলে বলে নিশ্চয়তা দিতে হবে নাকি? পূবের লোকেরা হয়তো জীবনে একবার/দূবারই বলে এমন "লজ্জা-শরমের"(ব হুব্রীহির কাদেরের ভাষা ধার করলাম) কথা, অনেকে হয়তো কখনই বলেনা। জামালউদ্দিন হোসেন আর রওশন আরা বেগমের এরকম একটা নাটকও একবার বিটিভি দেখিয়েছে, যেখানে ভদ্রলোক কোনদিন স্ত্রীকে "সুন্দর লাগছে" বলার মতো অস্বস্তিতে পড়তে চাননি।


শেষকথা:
যাই হোক, তথ্যপ্রযুক্তির লাগামহীন ঘোড়ার তালে পৃথিবীতে যে জিনিসটা খুব দ্রুত ঘুচে যাচ্ছে তা হলো সাংস্কৃতিক ব্যবধান। আমি কল্পনাই করতে পারিনা যে মামার বাসায় ফোন করে বলবো, "হ্যাপি বার্থ ডে, মামা"; কনফার্ম ওপাশ থেকে চীৎকার শোনা যাবে, "হারামজাদা, ফাজলামী করস!" অথচ আমার ভাগ্নী-ভাগ্নেরা কি সাবলীলভাবে এসব অভিবাদন আয়ত্ব করে নিচ্ছে, জন্মদিনে ফোন করে সমস্বরে "শুভ জন্মদিন" জানায়, কথায় কথায় "থ্যাংক ইউ" বলে।
এমনকি নিজের বেলায়ও দেখতে পাই, বাসার লোকের সাথে যে ভদ্রতা বা সৌজন্যতাটুকু কোনদিন করবোনা, বন্ধুদের সাথে সেরকম সৌজন্যতা হরহামেশা করছি। কারো বাসায় দাওয়াত খেতে গেলে দু'চার ডিগ্রী বাড়িয়েই খাবারের প্রসংশা করি, অভিবাদনের ব্যবহার এই পরিমন্ডলে অনেক সাবলীল। এখানেও হয়তো সম্পর্কের গভীরতার প্রশ্নটা চলে আসে, যাই হোক সেদিকে আর না গিয়ে যেটা বলতে চাচ্ছি তা হলো, আমরা পূবের লোকেরা কি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছি?

আলোচনার বিষয় হতে পারে,
বদলানো কি উচিত? এরকম কড়ায় গন্ডায় প্রকাশবাদী হয়ে যাওয়া উচিত আমাদের? না ভাববাদী যে অনুভূতির প্রকাশ, যা অদৃশ্য এবং অনেকের কাছে ভাবনার অতীত সেটাকে আঁকড়ে রাখা উচিত?

 

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৭
ভাঙ্গন বলেছেন: আমি কল্পনাই করতে পারিনা যে মামার বাসায় ফোন করে বলবো, "হ্যাপি বার্থ ডে, মামা"; কনফার্ম ওপাশ থেকে চীৎকার শোনা যাবে, "হারামজাদা, ফাজলামী করস!"
......................
আমার কথা এটাই!
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ...

কিন্তু এখন কি দিন বদলাচ্ছেনা খানিকটা? কি মনে করেন?

২. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪
বাগসবানি বলেছেন: আমার বাপমারে যদি জিগাই আমাদের ভাইবোনদের জন্মদিন কবে নির্ঘাত ফ্যাল ফ্যাল কইরা চাইয়া থাকবেন :D :D
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮

লেখক বলেছেন: হা হা হা ... আমার নানী তাঁর সন্তানদের জন্মের সাল বলে এভাবে, "যেই বৎসর আষাঢ় মাসে খুব ঝড় হইছিলো, ঐ যে আমাদের আমগাছটা ভেঙে পড়ছিলো সেই বছর হইছে তোর মামা"
;)

৩. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৬
ভাঙ্গন বলেছেন: পরিবর্তনতো হচ্ছেই।
আমার চাচাকে ডাকি আমি 'চাচা'
আমার ভাতিজি ৬বছর।সে আমাকে ডাকে 'চাচু'।
এখানে পরিবর্তন দৃশ্যমান!
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪০

লেখক বলেছেন: হুমমম ... তবে এই সম্বোধনের বেলায় একটা সাইক্লিক ব্যাপার ঘটতে পারে ... যেমন অনেক আগে প্রচলিত ছিলো বাবা/মা ... এরপর আব্বা/আম্মা ... এরপর আব্বু/আম্মু/ড্যাডি/মাম্মি ... এখন আবার বাবা/মা'র চল হচ্ছে শুনছি

৪. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৬
বাগসবানি বলেছেন: বন্ধুরা যখন থ্যাংক ইউ তখন খালি পিডাইতে ইচ্ছা করে :P
৫. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭
বাগসবানি বলেছেন: বন্ধুরা যখন থ্যাংক ইউ কয় তখন খালি পিডাইতে ইচ্ছা করে :P
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১

লেখক বলেছেন: বন্ধুরা যখন বেশী বেশী থ্যাংকস বলে তখন দূরত্ব বাড়ছে এই ভয়টাও অনেকের হয় ... আপনার পিডাইতে ইচ্ছা করাটা এখনও অনেক ভালো পর্যায় ;)

৬. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১
সাইফুর বলেছেন: আগে প্লাস দিয়ে যাই
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪২

লেখক বলেছেন: ধইন্যাপাতা, ধইন্যাপাতা ... ;)

৭. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯
আহমেদ রাকিব বলেছেন: খুবই ভালো লাগলো পোষ্টটা পড়ে। এই বিষয়ে একেবারেই মনের কথা গুলা বলে গেলেন। আমাদের বাসায় ছেলে বেলা থেকে কখনোই কারো জন্মদিন কেক কেটে করা হয় নাই। তবে পছন্দের খাবার রান্না হত ঠিকই। :) ইদানিং দেখি ছোট ভাই বোন এস,এম,এস পাঠায় জন্মদিনে। আব্বা আম্মা অবশ্য মুখ ফুটে কিছু বলে না। আমিও ছোট ভাই বোনকে হ্যাপি বার্থডে বলেছি মনে পরছে না। আগে বন্ধুদের বলতাম। এদানিং তাদেরও বলতে পারি না। বড়জোড় এস,এম,এস। ভাগ্যিস এস,এম,এস বলে একটা জিনিষ ছিল। :) অনেক ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: এটা ঠিক ... মোবাইল ফোন/ ফেসবুক এসবের প্রচলন অনেক সহজ করে দিয়েছে ভদ্রতা প্রকাশকে ... মুখে অনেক কিছুই বলতে বাঁধে

৮. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৩
অপ্‌সরা বলেছেন: আমরা পূবের লোকেরা কি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছি?


বদলাচ্ছি।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:০০

লেখক বলেছেন: আপনার চোখে দেখা বদলগুলো নিয়ে বলুন ... এই বদলের ঔচিত্য নিয়েও একটা আলোচনা হতে পারে ... মতামত দিন

৯. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৭
জেরী বলেছেন: আমি ভাবতাম আমরা ৩ ভাই-বোন বুঝি সেকেলে টাইপের......এত বড় হয়েছি আমাদের জন্মদিন কখনো সেভাবে পালন করিনি:(
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:০২

লেখক বলেছেন: নাহ, অনেক আছে "সেকেলে" মানুষ ;) ... আমাদের দেশে এখনও হয়তো এই "সেকেলে"রাই বেশী ...
তবে বন্ধুবান্ধব পর্যায়ে ইদানিং জড়তাটা কাটছে ... এখানে একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হলো আমাদের বিনোদনের অভাব আর ইয়াং জেনারেশনের কাছে মানি ফ্লোর বৃদ্ধি ... বন্ধুর জন্মদিন একটা জমজমাট আড্ডার আয়োজনের জন্য ভালো একটা উপলক্ষ বা অজুহাত ;)

১০. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:০৬
আহমেদ রাকিব বলেছেন: জেরী বলেছেন: আমি ভাবতাম আমরা ৩ ভাই-বোন বুঝি সেকেলে টাইপের......এত বড় হয়েছি আমাদের জন্মদিন কখনো সেভাবে পালন করিনি
--------------------------------------------------------------
হা হা হা হা, জেলীবু, আমি আমার জন্মদিন প্রথম জানতে পেরেছিলাম ক্লাস নাইনে রেজিস্ট্রেশনের সময়।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: বলেন কি!!!

১১. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:১১
জেরী বলেছেন: আমি যখন হোষ্টেলে ছিলাম এস,এস,সি পর্যন্ত সেখানে সবার জন্মদিন পালন করা হত....কিন্তু বাসায় এসে কলেজে উঠার পর আমাদের জন্মদিন গুলো শুধু ৩ বেস্ট-ফ্রেন্ডের মধ্যে সীমিত ছিলো....বাসায় ভালো রান্না-বান্না হত .........এইটুকুই!!!!!!!
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: তাও তো অনেক!!

১২. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:১৮
আহমেদ রাকিব বলেছেন: আমিও ইউনিতে থাকতে বেশ কয়েকবার কেক কাটছি। :) আমাদের সব বন্ধুদের জন্মদিনেই তখন কেক কাটা হত। আহ কত্তদিন হইল কেক খাইনা। আফসুস।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন: আইচ্ছা আপনার এরপরের জন্মদিনে আমরা কেককুক কাটুম ;)

১৩. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:২৪
সাজেদ বলেছেন: অঅনেক দিন পর এখানে একটা সুন্দর লেখা পড়লাম।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: লজ্জা দিয়েননা ভাই ... যাই হোক, ধন্যবাদ

১৪. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
সার্কিট বলেছেন: ভালো লাগলো। ধীরে ধীরে দিন বদলের কিন্তু ঠিকই গন্ধ পাচ্ছি। সে দিন আমার নার্সারীতে পড়ুয়া ছেলে বাবা দিবসে স্কুল থেকে দেয়া কার্ড নিয়ে এসে আমাকে উইশ করল। আমিতো থ। নিজে বাবা হওয়ার পরও এখনও বাবার সামনে কথা বলতেই ভয় লাগে, উইশতো দুরের কথা।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৩৫

লেখক বলেছেন: হুমমম ... এযুগের বাচ্চারা অনেক স্মার্ট ...

১৫. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮
মহলদার বলেছেন: সত্যিই আমরা মনে হয় বদলে যাচ্ছি। এখন বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় থ্যাঙ্কইউ, সরি ইত্যাদি শব্দ গুলো। বাইরে আমাদের ও অহরহ থ্যাঙ্কইউ, কনগ্রাচুলেশন, কিংবা সরি শব্দ গুলোর ব্যবহার কেমন যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তবে সত্যি হল, বাবা কিংবা মাকে ফোন করে প্রথমেই কেমন আছ জিজ্ঞেস করতেও যেন জড়তা কাজ করে।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৩৬

লেখক বলেছেন: কমিউনিকেশনের প্রবলেম ব্যস্ত জীবনের একটা বড় সমস্যা ... সেজন্যই হয়তো বাইরের দেশগুলোতে এভাবে সরাসরি প্রকাশের মাধ্যমে সম্পর্কের গণিতায়ন হচ্ছে ... ভাববাদ হয়তো ব্যস্ত জীবনে বেমানান ... কে জানে?

১৬. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৩
আহমেদ রাকিব বলেছেন: সাজেদ বলেছেন: অঅনেক দিন পর এখানে একটা সুন্দর লেখা পড়লাম।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২
লেখক বলেছেন: লজ্জা দিয়েননা ভাই ... যাই হোক, ধন্যবাদ
-----------------------------------------------------------------------
জ্বীন জীর লেখাগুলা একটা এক্তা কইরা পড়তে থাকেন সাজেদ ভাই। দেখবেন একদিনেই অনেক ভাল লেখা পরা হয়ে গেছে। ;)
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ব্রাদার ... শরমিন্দা হইলাম ;)

১৭. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: পোষ্টটা পড়ে খুবই ভাল লাগল।
আসলে অব্যক্ত অনুভূতির প্রভাব অনেক অনেক বেশী।
জন্মদিন নিয়ে আমার তেমন কোন আদিখ্যেতা নেই। তবে, কেউ এসএমএস করলে ভালই লাগে। নিজেকে কিছুটা ইম্পোর্টেন্ট বলে মনে হয়! এর বাইরে এ দিনটা বন্ধুদের সাথে, পরিবারের সাথে আলাদা করে সময় কাটানোর একটা উপলক্ষ্য এনে দেয়- এর বেশী কিছু নয়।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, বন্ধু-বান্ধবরা এসএমএস/মেসেজ করে শুভেচ্ছা জানালে আসলেই ভালো লাগে ... কিন্তু মা'র কাছ থেকে এরকম একটা মেসেজ পেলে কি করবো তা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে পারি ;)

১৮. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯
শ্রাবনের ফুল বলেছেন: এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম...আমরা বদলে যাচ্ছি...যা কখনো উচিত নয় বলে আমি মনে করি...আমাদের ভালবাসা আত্নিক তা প্রকাশের জন্য আমাদের আচরণই যথেষ্ঠ..কেন যে আমরা বদলে যাচ্ছি...
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: সম্ভবতঃ ব্যস্ততা, কমিউনিকেশনের অভাবজনিত আশংকা -- এসবের কারণে ...
ধরুণ, সন্তানকে থেষ্ট সময় দেয়া ক্যাচ্ছেনা, আত্মিক সম্পর্ক গড়বে কিভাবে? ... শুধু রক্ত বা জেনেটিক মিলে তো সেটা গড়ে ওঠেনা

১৯. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:২৬
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: বলে ফেলা, প্রকাশ করে ফেলা, বিয়িং এক্সপোজড; এইসব দিয়া সম্পর্কের গভীরতা আন্দাজ করা যায়না। আপনার অনুভুতি এই জায়গাটা একদম ঠিকঠাক ধরছে। বইলা বোঝানো তখন জরুর হয় যখন- আমি যা আমার মরমে ধরি, আপনি তা টের পান না।
আমার মনে হয়- আমরা এই অঞ্চলের মানুষেরা মরমের কথা টের পাই, এখনো। উইশ করা এখনো দুর্ভাগ্যজনকভাবে জরুরি হয় নাই। আমরা এখনো জানতে চাওয়ার চেয়ে, 'অজানি'তে নিজের মতো করো বুঝ-বিশ্বাস ধারন করতে পারি। এই যা খোশ খবর!
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: বাহ, সুন্দর একটা শব্দ ব্যবহার করলেন, "মরম" ... লিখতে গিয়ে এরকম একটা শব্দই খুঁজছিলাম ... একজন মরমে কথা ধরবো, আরেকজন মরমেই জেনে যাবে সেটা ... আমাদের এই ক্ষমতাটুকু নষ্ট হয়ে না যাক, ঠিক বলছেন

২০. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৪৭
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: মেট্রিক-ইন্টার পাশ করার পরে আগেকার দিনে বাবা-মাকে সালাম করার চল ছিল... এখনো যা বাংলা সিনেমাতে দেখা যায়।

এখনকার আমি বাবা-মাকে জড়ায় ধরছি।

আমার পরের প্রজন্ম হয়তো আমারে কোলে তুইলা নিয়ে নাচবে।

সম্পর্কের গভীরতা পালটাচ্ছে না, প্রকাশটাই পাল্টাচ্ছে।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... গভীরতা কি বাড়ছেওনা বা কমছেওনা? হয়তো সেটাই ...
প্রসঙ্গক্রমে, এই যে প্রকাশভঙ্গিটা পাল্টাচ্ছে, সেটাকে কিভাবে নিচ্ছেন?

২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: "কোলে তুইলা নিয়ে নাচবে"

এইটা ভালো বলছেন ;)

২১. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১০
ফারহান দাউদ বলেছেন: ফর্মালিটিজ জিনিসটা কখনোই মাথায় আসে নাই, ভালোও লাগে না, কিন্তু তাতে আন্তরিকতার কোন অভাব কখনো পড়েছে বলে মনে পড়ে না। এই উইশ, কার্ড, হইচই, দেখানো, নতুন প্রজন্ম হয়তো এভাবেই নেবে, আমার বন্ধুমহলে জিনিসটার বিশেষ চল নেই।
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২০

লেখক বলেছেন: হুমম, যখন কমিউনিকেশনটা সরাসরি হচ্ছে, তখন আন্তরিকতার অভাব নাও থাকতে পারে ... তবে উল্টো প্রবলেমটার কথা বলছি ... ধরুন যারা সরাসরি কমিউনিকেট করছে তাদের চোখে যারা করছেনা তাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হতে পারে

আর আরজু যেটা বললেন যে, মরমের কথা মরমেই বোঝা -- এই ভাববাদী প্র্যাকটিস থেকে কি দূরে সরে যাচ্ছি আমরা? এটা কি বিজ্ঞানের বেগ দিয়ে আবেগ কেড়ে নেয়ার মতোই আরেকটা ডাইলেমা?

২২. ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৪
একরামুল হক শামীম বলেছেন: লেখাটা ভালো লাগলো খুব।
মনে হচ্ছে আমি লিখলে হয়তো এমনই একটা লেখা হতো। মানে অনুভুতিগুলো প্রায় এক :)
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৬

লেখক বলেছেন: আপনাকে একটা স্পেশাল ধন্যবাদ ... আপনার লেখাটা পড়েই এই কথাগুলো মনে জমা হওয়া শুরু করলো আবার ...

২৩. ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:২৯
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: পরিবর্তনটা আমার ভালোই লাগে। প্রতিদিন বাবা-মা-ভাই-বোন-প্রিয়জন-সন্তানকে ভালোবাসি বললে ভালোবাসা পাতলা হয়ে যাবার কোনো কারণ নাই। তবে অন্যের মুখে ভালোবাসি শুনে খুশি হবার কারণ থাকবেই। যে সম্বোধন কিংবা আচরণে মধ্যেকার দূরত্ব বাড়ছে না, সে কেতাটা বরণ করতে আপত্তি নেই।

সবচাইতে বড় কথা, শ্রদ্ধার চাইতে ভালবাসাটা একটু বেশি ভাল লাগে।
২১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... ঠিক ক্লিশে শব্দটা এখানে ব্যবহার করা যায় কিনা, তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে সেরকম একটা আকার ধারন করতে পারে মনোভাবের প্রকাশ ... যেমন জাপানীরা অন্যের মুখে "ধন্যবাদ" বা "স্যরি" শুনতে এতই অভ্যস্ত যে, এগুলো ব্যবহারিকভাবে প্রায় কোন অর্থই আর বহন করেনা

আপনাকে প্রশ্ন, এই যে ভাবপ্রকাশের রীতির পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে এতে যদি ভালোবাসা বা আবেগের পরিমাণের হেরফের না হয় (আমিও তাই মনে করি সেজন্যই প্রশ্নটা জাগলো), তাহলে এই পরিবর্তন ঘটাটার সিগনিফিকেন্সটা কোথায়?

২১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:২৬

লেখক বলেছেন: মানে বলতে চাচ্ছি এই পরিবর্তনটা শুধুই পাশ্চাত্যের অনুকরণের যে রীতি পূর্বে দেখা যাচ্ছে তারই একটি ধারা? না অন্য কোন সিগনিফিকেন্স আছে?

২৪. ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:০০
লাইল্যাক বলেছেন: পাশ্চাত্যের রীতিগুলো পজেটিভ ভাবে যদি আমাদের সমাজে ঢোকে তবে খারাপ কী? যেমন পশ্চিমের দেশগুলিতে বাস থেকে নামার সময়
ড্রাইভারকে ভদ্রতাসূচক ধন্যবাদ দিয়ে আমরা নামি। আমাদের দেশে তো এটা ভাবা যায় না। এখানে কোন আবেগের বিনিময় না হলেও থ্যাঙ্ক ইউ বলে অভিবাদনের ব্যাপারটুকু ভালো লাগে।
২১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩০

লেখক বলেছেন: হুমমম ... এধরনের কার্টেসী ভালো, আমিও মনে করি ... তবে এটা নিয়ে যে কাউন্টার যুক্তিটি শুনি তা হলো, বাস ড্রাইভারকে সবাই নিয়ত ধন্যবাদ জানাচ্ছে যখন, তখন ধীরে ধীরে কি ব্যাপারটা শুধুই সৌজন্য হয়ে যাচ্ছেন? ... ধীরে ধীরে কি ব্যাপারটা এমন হয়ে যাচ্ছেনা যে, যিনি ধন্যবাদ দিচ্ছেন তিনিও কৃতজ্ঞতাবোধপূর্বক না, বরং অভ্যাস থেকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন ... আবার বাসড্রাইভারেরও ধন্যবাদ শুনে আর খুশীর অনুভূতি হবেনা, কারণ সে জানেই প্যাসেঞ্জার নামার সময় ধন্যবাদ দেবেই ... যেমন নিজের বেলায় দেখেছি, ঢিমেতালে চলা বাসের ড্রাইভারের উপর ভীষন বিরক্ত হয়েছি, তারপরও নামার সময় অটোমেটিকালি মুখ থেকে "ধন্যবাদ" বের হয়ে গেছে ...

প্রসঙ্গক্রমে বলি, জাপানী ভাষায় একটা মজার এক্সপ্রেশন আছে, যেটার বাংলা করলে দাঁড়ায় "আপনাকে সত্যি সত্যিই ধন্যবাদ" ... ;) ... শুধু ধন্যবাদ আর কোন অর্থ বহন করেনা বলেই এই "সত্য সত্য"র আগমন

আপনাকে ধণ্যবাদ চমৎকার মন্তব্যের জন্য (সত্যি সত্যিই )

২৫. ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:০১
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: অতি ব্যবহারে যে সম্বোধনের গুরুত্ব পাতলা হয়ে যেতে পারে কথা সত্য...তবে কিছু পরিমাণে ব্যবহার বাড়ানো যেতেই পারে। বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না অবস্থান এর পরিবর্তন দরকার। মা-বাবাকে আমরা কেন বলতে পারি না যে কতো ভালোবাসি?
২১ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬

লেখক বলেছেন: আবার তো কনফিউজড করে দিলেন

"বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না অবস্থান এর পরিবর্তন দরকার।" -- কেন? এতে কি সম্পর্কের গভীরতা বা আবেগের ঘনত্ব কমে আসে?

২৬. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪২
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: বস... জন্মদিন আম্রার আমলে কেউ (আমাদের পরিবারগুলোতে) পালন কর্তোনা :) ... সো আম্রা ইউজডটু না... যেমন ... আমার জন্মদিনে আমি সেল অফ কৈরা রাখি :( .. শরম লাগে :)

ক্যামন আছেন? অনেক দিন পর ...

নাহীদার জন্য খারাপ লাগছে :(
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৯

লেখক বলেছেন: মনটা খারাপ ছিলো বস ...

জন্মদিনের ব্যাপারে ঠিক বলছেন, ইউজড টু না হওয়াটাই হয়তো মূল কারণ

২৭. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০৬
ফেরারী পাখি বলেছেন: আপনার আমার বয়স বোধহয় কাছাকাছিই হবে। তাই ভাবনাগুলো ঘটনাগুলো সবই একরকম----------এত মিল, মনে হয এই কথাটা আমার কথা আপনি লিখলেন কেমন করে?

কথা হচ্ছিল সম্পর্ক নিয়ে------------------------------অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করছে কিন্তু সময় নেই। সময় আরেকবার ঢু দিয়ে নিজের মতামত ব্যাক্ত করে যাব।

ততদিন ভালো থাকবেন। :D
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৫

লেখক বলেছেন: সম্ভবতঃ তাই হবে ... কাছাকাছি বয়েস, একই জেনারেশন ... আপনি কি টোকিওতে আছে?

২৮. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৬
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। তবে আরেকটি জিনিস, বাবা মায়ের কাছে দুআ চাইতে গেলে একই রকম বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাদের কথা সন্তানদের জন্য দুআর কথা বলা লাগেনা, ওটা সব সময় থাকে (আমরাও জানি আমাদের বাবা মার দুআ তে সন্তানদের সবচেয়ে বড় অংশ থাকে)। অথচ মুরুব্বিদের কাছে দুআ চাওয়াটা নূন্যতম শিষ্টাচারের একটি অংশ।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬

লেখক বলেছেন: সরাসরি মুখে দোয়া চাইতে গেলে বাবা-মারা মাঝেমাঝে বিব্রত হন ...এজন্যই মনে হয় আমাদের কদমবুসির কালচার চালু হয়েছে ... এখন কি উঠে যাচ্ছে?

২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৪০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদিত করলাম ;)

৩০. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:১৩
আনোয়ারুল আলম বলেছেন: আমার এক কলিগ(আমেরিকান কিন্তু জার্মানীতে টার সাথে পরিচয়) আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, বাংলাভাষায় কিভাবে কাউকে ধন্যবাদ(Thank you) বলতে/দিতে হয়?

আমি উত্তরে বলেছিলাম, Thank you এর আক্ষরিক অনুবাদ ধন্যবাদ দিয়ে কাজটা সারা যায়। বিদেশীরা যেমন কারণে অকারণে Thank you বলে সেরকম ক্ষেত্রে ধন্যবাদ শব্দটা ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু সত্যি সত্যি কারও কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করলে আসলে একধরণের কৃত্রিমতা প্রকাশ পায়। সত্যিকারের ধন্যবাদ জানাতে হলে তা আচরণের মাধ্যমে এবং মুখের ভাবে সেটাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে এবং এইসময় নীরব থাকাটায় ভাল।

আমার এই ব্যাখ্যা শুনে ব্যাটা খুব মজা পেয়েছিল। পরবর্তীতে কোনও কারণে আমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে, চেষ্টা করত তার ভ্রু, চোখ, ঠোঁট ব্যবহার করে চেহারায় কৃতজ্ঞতার ভাব আনার। আর বার বার জিজ্ঞেস করতো, ঠিকমত সে আমাকে ধন্যবাদ দিতে পারছে কিনা!!!

:):):)
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৪৪

লেখক বলেছেন: চমৎকার একটা উদাহরণ দিলেন ... "ধন্যবাদ"এর অর্থ নিয়ে আপনার ব্যাখ্যাটাও বেশ পছন্দ হলো ... আরো মজা লাগলো আপনার কলিগের সে অনুযায়ী ভাবপ্রকাশের প্রচেষ্টায় ;)

৩১. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫
মুক্ত বয়ান বলেছেন: আমরা আসলে যেটা প্রতিদিন দেখে আসছি, তার মর্মার্থ বুঝি না। তাই, সেটা নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা নেই। ভেবে দেখেন, যে মা-বাবা-ভাই-বোনকে ছোট থেকে দেখে আসছি, তাদের জন্মদিনে আমাদের কোন উইশ নেই, প্ল্যান নাই, কিন্তু, আমাদের নব্য প্রেমিকার জন্য ১ সপ্তাহ আগে থেকেই প্ল্যান-কেনাকাটা।
এটা আমাদের মনোবৃত্তি। পাশ্চাত্যপ্রীতির কথা বলে লাভ নাই।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০১

লেখক বলেছেন: কারো জন্মদিনে উইশ/প্ল্যান না করা মানে কি নিজের জীবনে তার মর্মার্থ না বোঝা?

৩২. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২০
নরাধম বলেছেন:
"ধন্যবাদের মতো সুন্দর, মসৃণ, চমৎকার একটি কথাও তখন অস্বস্তিকর হয়ে দেখা দেয়, মনে হয়, এই সম্পর্ক এমনই গভীর যে এখানে "ধন্যবাদ" বড় ন্যাকা হয়ে যায়।"



এক্স্যাটলি। লেখাটা মিস করেছিলাম ভাইজান। খুবই ভাল হয়েছে।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: আপনারও তাহলে একই রকম অভিমত দেখছি

নারুদা, খবর কি?
অনেকদিন পর ব্লগে দেখা ...

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১৭৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ