আমার প্রিয় পোস্ট

যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

রোজার কথা

২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:২০

শেয়ারঃ
0 0 0

আবারও রোজা শুরু হয়ে গেলো,গতবছর ভেবেছিলাম রোজা নিয়ে স্মৃতিগুলোকে বেঁধে রাখবো ব্লগে, পারিনি। দু'পর্ব লিখতেই থেমে গিয়েছিলো সব, এবার দেখি কতটুকু টানা যায়। ত্রিশ পেরুনোর পর স্মৃতির ভান্ডারেও মরচের টের পাচ্ছি যখন তখন, তার ওপর রোজার উপোস, জানিনা মরচে পড়া ভান্ডার থেকে কতটুকু উঠিয়ে আনা যাবে, তাও যা মাথায় আসে তাইতো লিখতে হবে। তবে আপাততঃ গত বছরের দুপর্ব দিয়ে দুটো দিন পার করি।

আমাদের সেসময়ে ছোটবয়েসে রোজা রাখলে পেপারে "অমুক সোনামণি মাত্র অত বছর বয়সে রোজা রেখেছে" টাইপের খবর আসার সুযোগ ছিলোনা, তারপরও বাচ্চাদের রোজা রাখতে চাওয়ার হিড়িক সেযুগে কিছু কম ছিলোনা। সবারই মনে হয় ছোটবেলায় বাবা-মা বা বাসার অন্যদের দেখাদেখি "রোজা রাখতে চাই, রাখতে চাই দিতে হবে" টাইপের আন্দোলন করার অভিজ্ঞতা আছে। সবার গল্পই মোটামুটি একই রকম, তাও আমরা সবাই অন্যদের কাছে সেই গল্প করি। অন্যেরটা শুনি বা না শুনি, নিজেরটা বলে ছাড়ি। কারণ, ছোটবেলার খুব এ্যাডভেঞ্চারাস কিছু অভিজ্ঞতার একটি হলো মনে হয় সেই প্রথম রোজা রাখা; খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে, গ্লাসের ভেতর টলটল করা স্বচ্ছ পানি দেখা যাচ্ছে, রান্নাঘর থেকে ঘ্রাণ বের হয়ে আসছে, বড়মামার আনা জিলিপি বা দই স্বচ্ছ পলিথিন প্যাকেটের ভেতর থেকে ডাক দিচ্ছে, সন্ধ্যার আগে আগে বাবার আনা বরফ ছোঁয়া যাচ্ছেনা-- এতসব বাঁধা অতিক্রম করে শেষমেষ সন্ধ্যের সাইরেণ বাজার পর বিজয়ীর হাসি হেসে খাবার মুখে দেয়া -- এটা বেশ বড় রকমের এ্যাডভেঞ্চারই!

আমি প্রথম রোজা রেখেছিলাম পাঁচ বছর বয়েসে। এমনিতে খুব দূর্বল ছিলাম, ছোটখাটো আর কাঠির মতো শুকনো (আমার বর্তমান চেহারা দেখে যে কারো পক্ষে এটা মেনে নেয়া অবশ্য বেশ কঠিন হতে পারে)। তারওপর জন্মানোর পর অলরেডী বেশ কয়েকটা ফাঁড়া কাটিয়ে মানে বেশ কবার অজ্ঞান-ট্যান হয়ে "ও রোজা রাখবে কি!" এর তকমাটা খুব ভালোভাবেই গায়ে লাগিয়ে ফেলেছিলাম। তারপরও রোজা কিভাবে রাখতে পারলাম সেটা ভাবলে আজো অজান্তেই মুচকি হেসে ফেলি।

১৯৮২ সালের কথা, সেদিন সন্ধ্যায় মেজোমামার বিদেশ যাবার কথা। এখন আর সেই কালচার আছে কিনা জানিনা, সেই আশির শুরুতে কারো বিদেশ যাওয়া ছিলো বিরাট ব্যাপার, বিশেষ করে আমাদের নোয়াখালীর লোকদের জন্য। বিদেশে যেতে পারাটা যতোনা বড় ব্যাপার, তার চেয়ে এলাহী ব্যাপার হয়ে যেতো তাকে বিদায় জানানোর আয়োজনটা। বিদেশগামী লোকটার সাথে জীবনে দেখাও হয়নি এমন লোকদেরও দেখা যেতো বিদায় দিতে এসে জড়ো হয়েছে, কান্নাকাটি করছে (এটা অবশ্য একটু বেশী বলে ফেললাম মনে হয়)। তো, মামাকে বিদায় জানানোর জন্যও যথারীতি ঢাকা শহরে আমাদের যত আত্মীয়স্বজন আছে সবাই এসে আমাদের বাসায় হামলে পড়লো। সারা বাসা জুড়ে একটা উৎসব উৎসব ভাব। রাত দশটায় ফ্লাইট বলে সন্ধ্যার পরপরই আমরা সবাই মিলে বের হয়ে গেলাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে।

এয়ারপোর্টে গিয়ে কি কি ঘটলো ভালো মনে নেই, তবে এটুকু মনে আছে যে কোন এক ঘাপলার কারণে মামাদের ফ্লাইটটা কয়েকদিন পিছিয়ে গেলো। পেছালো তো পেছালোই, সেটা জানা গেলো অনেক পরে, রাত দশটা এগারোটার দিকে। মানে আবার বিশালবাহিনী নিয়ে বাসায় প্রত্যাবর্তন! বাসায় মনে হয় সেদিন বিশ-পঁচিশজন মানুষ ছিলেন, সারা বাসাজুড়ে হট্টগোল! আমাকে আর পায় কে? এমন দিনে ঘুমটুম সব বাদ দিয়ে আমি একবার এদের দলে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্পসল্প শুনি, আবার ওদের দলে যাই। রোজা শেষ হবার আগেই যেন ঈদ চলে আসল। শুধু আমি না, আমাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে মনে হয় শুধু পিচ্চিটা ছাড়া আর সবাই জেগে ছিলাম। এভাবে ফুর্তির মধ্যেই কোনফাঁকে রাত তিনটা বেজে গেলো টেরও পেলামনা।

তিনটার দিকে বড়আপা হঠাৎ রেডিওটা ছাড়ল। সম্ভবতঃ মুরুব্বীরা কেউ বলেছিলেন ছাড়তে। রেডিও ছাড়ার সাথেসাথেই যে সুরটা কানে আসল, তাতে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ হয়ে গেলাম! অসম্ভব সুন্দর সুরের একটা গান, সম্ভবতঃ হামদ, গানটা আমি পরেও অনেক শুনেছি, এবং আমার ধারনা যে লোকটি গেয়েছেন তাঁর মনপ্রাণ সঁপে দিয়ে গাওয়ার কারণেই গানটা এমন শুনিয়েছে। গানের কলির কিছুই মনে নেই, শুধু মনে আছে প্রথম দুলাইনে সুর করে "আল্লাহু, আল্লাহু, আল্লাহু, আল্লাহ" বলে গায়। মুগ্ধ হয়ে গান তো শুনলামই, গান শেষ হলে বড় আপাকে "আবার ছাড়ো, ঐ গানটা" বলে বেশ জালালামও। সেদিনই রেডিওতে আরেকটা গান শুনেছিলাম, এটা অত ভালো লাগেনি, কিন্তু কেন জানি এখনও মনে আছে। গানটা ছিলো এরকম, "আল্লাহু, আল্লাহু, তুমি জাল্লে জালালু, শেষ করাতো যায়না কেন তোমার গুণগান"। এ গানটার "জাল্লেজালালু"র মানে কি এটা নিয়ে অনেকদিন মনে খচখচ করত, অবশ্য এখনও জানতে পারিনি।

সে রাতের মুগ্ধতা সেখানেই শেষ না। কিছুক্ষণ পর শুনি বাহির থেকে আওয়াজ আসছে, গমগমে ভরাট গলায় একদল ছেলে গাইছে, "তোমরা ওঠো মমিন সকলে, ঘুমিয়ে থেকোনারে, সেহেরীর সম চলে যায়, এই রাত খোদাকে ডাকার"। পাঠক বলুনতো দেখি এটা কোন গানের সুর নকল করে গাওয়া হয়েছে? হিন্টস, সাবিনা ইয়াসমিনের হিট একটা গান। তো, রেডিওর গানের চেয়ে আরো কয়েকগুন বেশী মুগ্ধ হলাম আমি রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ভেসে আসা এই গান শুনে। সেই মুগ্ধতা অনেকদিন কাটেনি, অনেক বড় হয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমি শুধু ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে বের হয়ে আসা সেই গান শোনার জন্যই সময়মতো জেগে যেতাম, অনেকদিন এমনও হয়েছে, গান শুনে আবার ঘুমিয়ে পড়েছি। হয়ত নিজের চোখে দেখা একটা হত্যাকান্ড না হলে সে মুগ্ধতা আরো অনেকদিন ধরে রাখার সুযোগ হতো, তবে সে গল্প আজ করবনা। আজ আবার ফিরি সেই প্রথম গান শোনার রাতে।

ভোররাতে সম্ভবতঃ একটু টেনশনে ছিলাম, সেহরী খেতে দেয় কিনা সেটা নিয়ে। কিন্তু আমার সব ভয় দূর হয়ে গেল যখন মা নিজেই আমাকে জাপতে ধরে বেশ কয়েক ন্যালা ভাত খাইয়ে দিলো, আবার খানিক পরে বাবাও দেখলাম মিষ্টিআমের মোরব্বার সাথে দুধমাখা ভাত সাধছে। পেটপুরে খেয়ে দেয়ে লাফাতে লাগলাম, "কালকে রোজা রাখবো, কালকে রোজা রাখবো।" কেউ পাত্তা দেয়নি অথবা অন্য যেকোন কারণেই হোক, খুব একটা বাঁধা আসেনি সেসময়। এমনও হতে পারে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানে মা তখন ভেবেছে যে "সকালে উঠে খিদে পেলেই তো রোজার কথা ভুলে যাবে।"

কিন্তু মায়ের যাবতীয় অনুমানকে মিথ্যা করে দিয়ে পরদিন সকালে আমাকে আর বাগে পাওয়া গেলনা। এখনও মনে আছে, সামনের রুমে অনেক লোকজন ছিলো, সেই সুযোগে সেরুমের খাটের নীচে অনেকক্ষণ লুকিয়ে ছিলাম, যাতে মা খুঁজে না পায়। এরমধ্যে সম্ভবতঃ মেঝোখালা খেজুর নিয়ে আসলেন, সেই খেজুর দেখে এমন লোভ লাগলো যে কয়েকদফা নিজের সাথে (মানে নফসের সাথে ;)) রীতিমতো যুদ্ধ করতে হলো! আজো যে আমি খেজুর এত পছন্দ করি তার পেছনে সম্ভবতঃ সেই দিনের সেই না পাবার কষ্টটা কাজ করে।

দুপুরে গোসল টোসল করে হৈ হৈ রৈ রৈ করে নামাজ পড়ে আসলাম। সেই ফিরে আসার পর টের পেলাম খিদে কাকে বলে! বেশ কয়েকবার মনে হচ্ছিলো মাকে গিয়ে চুপিচুপি খাবার দিতে বলি, আবার আত্মসম্মানবোধেও লাগল। কারণ, আপারাও সবাই তখন পিচ্চি পিচ্চি আর আমি যেহেতু সেদিনই জীবনে প্রথম রোজা রাখছি তাই সবার আগ্রহের একটা কেন্দ্রতেও পরিণত হয়ে গেছি। এমন অবস্থায় তো হাল ছেড়ে দেয়া যায়না। দুপুরে মার দেখানো অনেক রকম খাবারদাবারের লোভ এড়িয়ে কোনভাবে পার করে দিলাম।

বিকেলে বাবা অফিস থেকে এলে বেশ খানিকক্ষণ আহ্লাদও করলাম, আমার দাবী অনুযায়ী সেদিন বেশী করে বরফ আনা হলো, স্পেশাল জিলিপী আনা হলো। বিকেলের ইফতারীর আয়োজন দেখতে দেখতে এতই ব্যস্ত হয়ে গেলাম যে রোজার কষ্টের কথাও ভুলে গেলাম মনে হয়। তবে বেশ কাহিল হয়ে পড়েছিলাম, কারণ এটা মনে আছে সন্ধ্যার কিছু আগে সেই যে খাটের উপর গিয়ে গেঁড়ে বসলাম, আর নামিনি। মনে তখন ভীষন রোমাঞ্চ, আর খানিক পরেই তো খেতে পারবো; তবে তখন খেতে পারার চেয়েও বড় আনন্দ হলো আর খানিক পরেই তো আমার রোজা রাখা হয়ে যাবে! কি সাংঘাতিক কথা!!

দেখতে দেখতে সময় ঘনিয়ে এলো, আর পাঁচ দশ মিনিট আছে। একগ্লাস লেবুর শরবত, একটা প্লেটে শসা, ছোলাভাজা, পিয়াজু আর মুড়ি (এটা আমাদের বাসার চিরন্তন ইফতার) নিয়ে বাবার সামনাসামনি খাটে বসে আছি আমি। ঠিক তখনই অঘটনটা ঘটলো! কি অঘটন সেটা আমার আর মনে নেই, কারণ অঘটনটাই হলো ইফতারের কয়েকমিনিট আগে আমার যথারীতি জ্ঞান হারিয়ে ফেলার ঘটনা! যথারীতি বলছি কারণ ছোটবেলায় এই কাজটার জন্য আমি বিখ্যাত ছিলাম, অন্ততঃ দশবার জ্ঞান হারিয়েছি, একবার হারিয়েছি মোড়ার ওপর লাউ তুলতে গিয়ে লাউসহ ধপাস করে পড়ে।

তারপরের কথা আর আমার মনে ননেই, শুধু মনে আছে পাঁচ দশ মিনিট পর যখন জাগলাম, তখন খালি জিজ্ঞেস করছিলাম সাইরেন দিয়ে ফেলেছে কিনা। যখন জানলাম সাইরেন দিয়ে ফেলেছে, মনটা এতো খারাপ হলো! তবে তারচেয়েও আরো চমকে গেলাম যখন জানলাম আমার মুখে পানি দিয়ে রোজা ভাঙানো হয়েছে। রোজাটা কি পুরো করতে পারলাম? জিজ্ঞেস করতেই বাবা-মা সমস্বরে (সম্ভবতঃ) বললেন, "অবশ্যই, অবশ্যই"।

তারপর অনেকদিন মাকে জালিয়েছি শুধু এটা জানার জন্য যে আসলেই সেদিন রোজাটা পুরো রাখতে পেরেছিলাম কিনা। ছোটবেলায় মা সবসময় ঐ প্রশ্নের জবাবে বলত, "কতবার বলবো? রেখেছিস তো!!"

তবে এখন জিজ্ঞেস করলে কিছু বলেনা, খালি মুখ টিপে হাসে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:২৪
রাতমজুর বলেছেন:
বাইরে যাওয়া আর আসা দুটোই এখোনো উৎসব আমাদের কাছে :)
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮

লেখক বলেছেন: এখনও সেরকম উৎসব!!
এখন মনে হয় মানুষ থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়শিয়া বেড়াতে যাচ্ছে হরদম

২. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩০
নকীবুল বারী বলেছেন: ছোটবেলায় রোজা রাখতে চাইতাম। আম্মু রাখতে দিতো না। বলতো হাফ রোজা রাখো, হাফ সোওয়াব হবে। সেহরীর সময় মুরগী বা গরুর গোস্ত বা ভালো আইটেম থাকলে সেইদিন সেহরী খেতাম।

একবার রোজা রেখে, ভুলে পানি খেয়ে ফেলি..........পরে অনেক কান্নাকাটি..........তারপর আমাকে বুঝানো হলো, ভুল করে কিছু খেলে রোজা ভাঙে না।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫০

লেখক বলেছেন: হা হা হা ... আমার সেহরীর মূল আকর্ষণ ছিলো দুধভাত সাথে আম

৩. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩১
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: দুপুরে গোসল টোসল করে হৈ হৈ রৈ রৈ করে নামাজ পড়ে আসলাম। সেই ফিরে আসার পর টের পেলাম খিদে কাকে বলে! বেশ কয়েকবার মনে হচ্ছিলো মাকে গিয়ে চুপিচুপি খাবার দিতে বলি, আবার আত্মসম্মানবোধেও লাগল। কারণ, আপারাও সবাই তখন পিচ্চি পিচ্চি আর আমি যেহেতু সেদিনই জীবনে প্রথম রোজা রাখছি তাই সবার আগ্রহের একটা কেন্দ্রতেও পরিণত হয়ে গেছি। এমন অবস্থায় তো হাল ছেড়ে দেয়া যায়না। দুপুরে মার দেখানো অনেক রকম খাবারদাবারের লোভ এড়িয়ে কোনভাবে পার করে দিলাম।

এমন যে কতবার হয়েছে ... বলার অপেক্ষা রাখে না ... কতবার চেয়েছি আম্মার কাছে গিয়ে চুপি চুপি বলি :)...

স্মৃতী জাগানিয়া পোস্ট
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫১

লেখক বলেছেন: আমাদের সবার কাহিনীই মনে একরকম টুটুল ভাই ... আছেন কেমন?

৪. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩৬
সাইফ ইমাম বলেছেন: মজা পেলাম আপনার রোজা রাখার কাহিনী শুনে। আপনার দেশের বাড়ি কি নোয়াখালী??
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... হ্যাঁ নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর

২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ মানিক ভাই ... এই গান যে ইউটিউবে পাওয়া যাবে ভাবি নাই ... রেডিওটে কি এটার বাংলা ভার্সনটা শোনাতো, তাইনা?

২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৭. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: ভালো লাগলো.....নিজের স্মৃতিগুলোও উকি দিচ্ছে।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... উঁকি দিলে লিখে ফেলেন

৯. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:০৩
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: সেকালে আমরা ইফতারির সময় কিনতাম বরফ । সেহরির সময় কাফেলাদের গান আর সাইরেন শুনে জাগতাম ।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৭

লেখক বলেছেন: আসলেই! ২০ বছরেই এসব কথা "সেকালের" হয়ে গেছে ... খুব দ্রুত পাল্টাচ্ছে সব!

১০. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪
আবু সালেহ বলেছেন:
আপনে তো কথায় কথায় ফিট খাওয়া পাবলিক....
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৮

লেখক বলেছেন: এখন অনেক শক্ত হয়ে গেছি, রোজা বলেন আর ইফতারের ভুরিভোজ বলেন কোনটাতেই কাবু হইনা ;)

১১. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭
আহমেদ রাকিব বলেছেন: ইফতারীর কথাই আজকে বেশি মনে পড়ছে। নানান কারনে বহুদিন বাসায় সবার সাথে ইফতারী করা হয় না। আর ছেলে বেলায়তো বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগীতা হত কে কয়টা রোজা রাখলো। একেবারে অনেক পুরান দিনে নিয়ে গেলেন জ্বীনজী।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগীতর কথা মনে করাইয়া দিলেন ... মাঝে মাঝে চাপা না মাইরাও থাকা যাইতনা ... বিশেষ করে যখন দেখা যাইতো সবাই বলতেছে ১৫টা ২০টা, তখন তো আর বলা যায়না যে ৫টা রাখছি ;)

১২. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭
ফেরারী পাখি বলেছেন: বস আপনে অজ্ঞান পার্টি ছিলেন?

তবে স্মৃতি কথা ভালো হয়েছে। অনেকদিন পর দারুণ একটা সতেজ লেখা পেলাম।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... অজ্ঞান পার্টিতো আমারে পাইলে নাচতো!

১৩. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৮
অলস ছেলে বলেছেন: আহ শৈশব! সুন্দর স্মৃতিচারণ পড়ে ভালো লাগলো।
আর নুরুজ্জামান মানিকের মন্তব্য পড়েই একটাকার বরফ কিনে আনার স্মৃতিতে আপ্লুত হলাম।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... সেই তুষে জড়ানো বরফ!!

১৪. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: আমারে এখনও রোযা রাখতে দিতে চায় না।
আন্দোলন, আন্দোলন।


পুস্ট ভাল্লাগছে।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:১৯

লেখক বলেছেন: দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলুন, আমরা তো আছিই ;)

১৫. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫০
নাজনীন১ বলেছেন: একবার আমি ক্ষিদের কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে ছোট ভাইয়ের স্যারেলাক এক চামচ লুকিয়ে খেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা লজ্জায় কাউকে বলতে পারিনি। অনেক বড় হয়ে তারপর আম্মাকে বলেছিলাম।

সেহ্‌রীর আম-দুধ ভাত আর ইফতারের কলা-চিড়ার শরবত সবসময়ই আকর্ষণীয় ছিল।
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪২

লেখক বলেছেন: হা হা হা ... ইন্টারেস্টিং ব্যাপার!!!
সবচেয়ে লোভ সামলানো কষ;টের ছিলো তরমুজ দেখে ... ভাগ্যিস এই জিনিস না কাটলে খাওয়া যায়না

১৬. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৫০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: দেশে রোজা/ঈদ এসব করিনাই আটবছর হয়ে গেলো। ২০০২ সালের পর থেকে বিদেশে। ঈদের স্মৃতিটা খুব মনে পড়ে যায়! বিদেশে আর কিছুদিন থাকলে বোধহয় এসব স্মৃতিও থাকবে না। অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে।:(
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:০৫

লেখক বলেছেন: হায়! হায়! ... আপনার জন্য তো কষ্ট লাগছে রীতিমতো ... রোজার সময় বন্ধ পাওয়া যায়না, রাইট?

১৭. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৫১
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: কেমন আছেন জিগেস করা হলো না।
আপনার আর্সেনাল তো ফাটাইতেছে।:)
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:০৬

লেখক বলেছেন: আছি ভালোই ... আপনিও নিশ্চয়ই ভালো আছেন

গত সিজনের আর্সেনালের উপর এমন হতাশ হইছি যে এখনও আশাবাদী হইতে পারিনা ;)

১৮. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২২
তাজা কলম বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন। আপনার লেখা পড়তে পড়তে আমিও ফিরে গেলাম রোজাকে ঘিরে আমার শৈশব স্মৃতিতে।

Click This Link
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... পড়তে গেলাম

১৯. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৯
নির্ঝরিনী বলেছেন: চমৎকার স্মৃতিচারন...অনেক কিছুই মনে পরে গেলো...

ছোটবেলার যে স্মৃতিটা আমার চোখে এখনও ভাসে, আমরা তখন কলোনীতে থাকতাম..ইফতারির আগ আগ দিয়ে সবাই মিলে দল বেধে
ডীপটিউবয়েলের পানি আনতে যেতাম...ঠান্ডা পানিতে সবাই মিলে হাত, পা কিছুক্ষন ভেজাতাম..সেইসময় মনে হত ঝুপ করে পানিতে নেমে যাই...ফিরে আসার সময় ঠান্ডা পানি দেখে গলাটা বুঝি আরও শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেতো।
আমার ছোট ভাইটাও একবার ৭/৮ বছর বয়সে রোজা রেখে, ইফতারির ঠিক ২ মিনিট আগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে..ও অবশ্য সেহরি না খেয়েই রোজা রেখেছিলো সেই কারনেও হতে পারে..জ্ঞান ফেরার সাথেসাথেই উঠে বেশ কান্নাকাটি শুরু করে দিলো, আমি রোজা রাখতে পারলাম না বলে...
২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: কেমন আছেন নির্ঝরিনী আপা?

আপনার স্মৃতিচারণও ভালো লাগলো ... ধন্যবাদ

২০. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:০৫
নুশেরা বলেছেন: ওরে দেশির লগে তো আঁর ম্যালা মিল! অ্যাক্কারে চিমটি কাঠ!

আমার মেজমামাও বিরাশি সালেই বিদেশে গেল, আমরা তুমুল হুলুস্থুল করে বিদায় দিসিলাম। আমারও বেহুঁশ হওনের অভ্যাস ছিলো। ... ... খালি এতোকিছুর মিলের পরও আপনের মতো লেখতে পারুমনা কোনদিন, এই আফসোসটা রয়া যাইব...

বাইছা, সেকেন্ড প্যারাটা ভোলার মতো না... কী অসাধারণ লেখছেন! প্রিয় পোস্টে নিলাম, আরও অনেকবার পড়ার খায়েশ রাখি
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৫১

লেখক বলেছেন: কন কি!! এ্যাতো মিল!! নোয়াখালী জিন্দাবাদ ;)

লেখতে পারার কথা কই শরম দ্যান, আপনের মতো মজা করে লিখতে পারলে বর্তে যাইতাম :(

২১. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪
পুরাতন বলেছেন: অনেক ভালো লাগলো :)
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ...

২২. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪
মাহবুব সুমন বলেছেন: :) সংযমের মাসে সংযমী কমেন্ট ;)
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:২৪

লেখক বলেছেন: হেব্বী সংযম দেখি!

২৩. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:১৭
ফারহান দাউদ বলেছেন: ৭ বছরে প্রথম রোজা রাখি, ঐবার মনে হয় ৫টা রাখতে পারসিলাম, বাকি সময় সেহরিতে ডাকেই নাই। এপরের ২ বছর এমন ৫-৭টা চলছে, ক্লাস ৪ থেকে একবার ডেঙ্গু হওয়া ছাড়া আল্লাহর রহমতে রোজা বাদ দেয়া লাগে নাই। এত বড় হয়েও এই সময়টা একটা আনন্দের অভিজ্ঞতা, ধর্মীয় কারণে যতটা না তারচেয়ে অনেক বেশি সবার সাথে হইহল্লা করে ইফতার খাওয়াটা। আগে নানাবাড়িতে লোকজন ছিল বেশি, খালাতো মামাতো ভাইবোন খালা মামা নানী মিলে এলাহী কারবার, এখন নানী মারা গেছেন, ভাইবোনরাও একেক জায়গায়, তারপরেও রোজার শেষদিকে একসাথে হয়ে বেশ মজা হয়।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩১

লেখক বলেছেন: আপনি তো কামেল লোক দেখি! সেই ক্লাস ফোর থেকে সব রোজা!!!

২৪. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২০
বৃত্তবন্দী বলেছেন: খাইছে এখানে দেখি অজ্ঞান পাট্টির মজমা বসে গেলো? আম্মো অজ্ঞান পাট্টি :)
স্মৃতি আসলেই খুব খারাপ। এরকম সিস্টেম থাকতো যে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর মানুষের স্মৃতি রিফ্রেশ হ'বে তাহ'লে খুব ভালো হ'তো। আপনার রোজার স্মৃতির সাথে আমার নিজেরটা প্রায় ৬০% মিলে যায়...
আসলে কাছাকাছি বয়সের সবার স্মৃতিগুলো মনেহয় একই রকম...
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:১৪

লেখক বলেছেন: আরে আসলেই তো অজ্ঞান পাট্টির মেলা দেখি

স্মৃতি ঝেড়ে ফেলার একটা ভালো উপায় হলো লিখে ফেলা ... তখন মস্তিষ্ক সেটাকে আর জমা করে রাখার প্রয়োজন বোধ করেনা ... এজন্য ডায়েরীলেখকদের স্মৃতিশক্তি ভালো হয়না

২৫. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৬
ভাঙ্গন বলেছেন: gfjdkfdkfjdlkfjdlkfjldkfjlkfjldkfjldkfjldkfjlkjfldkjfkfjkf
(bangla likhte problem hochchh,tai....elebele...

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৭৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কি করার কথা কি করছি,
কি লেখার কথা কি লিখছি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ