যানজট নিরসন নিয়েও এমন কিছু ভাবনা মাথায় এসেছে, একেবারে যে ভিত্তিহীন তা অন্ততঃ আমার নিজের মনে হচ্ছেনা, তবে প্রয়োগ কিভাবে করবো সেটা ভাবলে একটু কি বেশ জোরেই হোঁচট খেতে হচ্ছে; সে বিচারে এগুলোকে "পাগলা আইডিয়া" বলাই হয়তো যুক্তিযুক্ত, তাও এখানেই শেয়ার করি। আফটার অল ব্লগই তো এসব এ্যালাউ করে, অন্য কোথাও হলে তো সম্পাদকের সম্পদ কাঁচির তলায় পড়বে জানা কথা। তাছাড়া, আফটার অল, কারো বিব্রত বা আতংকিত চেহারা দেখতে হচ্ছেনা, মন খুলে লিখতে পারছি, সেও বা কম কিসে।
*****************************************************
আলোচনার প্রথম অংশটা সারা ঢাকা শহরজুড়ে মানুষের প্রবাহকে কিভাবে অপটিমাইজ করা যায় তা নিয়ে।
অফিস- আদালতের পূনর্বিন্যাস
যেসব পরিবারে একাধিক সদস্য চাকুরী করেন সেখানে এরকম একটা সমস্যা দেখা দেয়। দেখা যায় যে স্ত্রীর অফিস হলো মতিঝিল বা টিকাটুলী, আর স্বামীর অফিস মীরপুর বা মহাখালী। এই পরিবারটি এখন মীরপুরের কাছাকাছি থাকলে স্ত্রীকে প্রতিদিন লম্বা সময় রাস্তা ব্যবহার করতে হবে, যাত্রাবাড়ী বা বাসাবো থাকলে স্বামীটিকে লম্বা সময় রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। এজন্য এদের অফিসের লোকেশনের অপটিমাইজেশন করতে হবে তথ্যপ্রযুক্তি তথা ডিজিটাল উপায়ে। যাতে করে দুজনই অফিসে যেতে যতটুকু সম্ভব কম সময় রাস্তা ব্যবহার করেন। কিভাবে?
সমাধান:
ন্যাশনাল ডেটাবেসের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারের কোন সদস্যর অফিস কোথায় এই তথ্য বিশ্লেষণ করে যদি পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি অফিসে প্লেসমেন্ট করা যায় তবে তাদের কোম্পানীকে সেভাবে সাজেশন/ এমনকি বাধ্যও করা যেতে পারে। যেমন ধরুন স্ত্রী চাকুরী করছেন একটি ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী ব্রাঞ্চে আর স্বামী আছেন সরকারী অফিসে মহাখালীতে। এখন এরা যদি যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করেন তাহলে দেখা যেতে পারে যে স্বামীটিকে যাত্রাবাড়ীর সবচেয়ে কাছে কোন অফিসে পোস্টিং দেয়া যেতে পারে। এটা শুধু যেসব পরিবারে একাধিক সদস্য চাকুরী করেন তাদের জন্য প্রযোজ্য না, একজন চাকুরের বেলায়ও প্রযোজ্য। যেমন ধরুন বাচ্চাদের স্কুলের কাছে বা নিজেদের বাড়ী হওয়াতে কেউ অফিস থেকে অনেকদূরে থাকে, যেমন অফিস মতিঝিলে আর বাবার বাড়ী মীরপুরে। এমন অবস্থায় একজন নিশ্চয়ই কাছাকাছি থেকে অফিস করার জন্য পুরানা পল্টনে বাড়তি দশ হাজার টাকা খরচ করে বাসা ভাড়া করবেননা! কাজেই এ ব্যক্তিকে যদি মীরপুরের কাছাকাছি বদলী করে দেয়া যায়, তাতে সকাল বিকাল একটি যানের চলাচলটা কমে যেতে পারে।
মাল্টিলেয়ার ওয়ার্কিং আওয়ার
অনেক আগে সেই দুহাজার সালের দিকে একবার ভেবেছিলাম যে সারা বাংলাদেশকে দিন আর রাতে, টাইম-এক্সিস বরাবর দু'ভাগে ভাগ করে ফেলে একভাগ উনাকে আর একভাগ তেনাকে শাসন করতে দিয়ে দিলেই তো আরা আমাদের জাতিটাকে এত ঝামেলা পোহাতে হয়না! এমনকি একজন যদি বলে "কেন আমি শুধু রাত, ও শুধু দিন?", তখন মাসে মাসে অলটারনেট করার ব্যবস্থাও ভাবা যায়। অনেকটা সেরকম সূত্র ধরে আরো পরে ভেবেছিলাম, ঢাকা শহরের কর্মকান্ডকে যদি এরকম রাত আর দিনে দু'ভাগ করে দেয়া যায়, বিশেষ করে যেসব অফিসে পশ্চিমের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বেশী তারা যদি অফিস আওয়ারটা রাতে নিয়ে যায়, তাহলে পুরো শহরে দিনের বেলা যে চাপটা পড়ে তা অর্ধেক হয়ে যাবে। গতবার দেশে গিয়ে বুঝলাম সেটি আর হবার উপায় নেই, এই শহরে এখন রাত এগারোটার সময়েও ফার্মগেটে আনন্দ হলের সামনে যে পরিমাণ মানুষ বাসের অপেক্ষা করে সেটা দেখে শুধু জেমসের ভাষায় এটাই বলা যায়, "দিনরাত এখানে থেমে গিয়েছে", পার্থক্য বোঝার কোন উপায়ই আর
বাকী নেই! এমন অবস্থায় আরেকটু "হাইটেক"
ধরুন ঢাকার মতিঝিলের একটি ব্যাংক। এখানে যদি শ'তিনেক লোক কাজ করেন, তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে যে এদের বসবাসের স্থান মোটামুটি পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে আছে; যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর পর্যন্ত এই বসবাসের স্থানের বিন্যাস ইউনিফর্মও হতে পারে, মানে যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুরকে বিশটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রত্যেক অঞ্চলে ঐ তিনশ জনের মধ্যে ক'জন বাস করে এটা হিসেব করলে দেখা যাবে যে মোটামুটি প্রত্যেক অঞ্চলেই গড় মানে ১৫ জনের মতো করেই বাস করছেন। কথা হচ্ছে অফিস আওয়ার যদি ন'টা থেকে পাঁচটা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে প্রতিটি অঞ্চল থেকে ১৫ জন করে রওয়ানা দিয়েছেন, আবার পাঁচটার সময় মতিঝিল থেকে প্রত্যেক অঞ্চলেই ১৫ জন করে ছুটছেন। এই ছবিটাকে এখটু বড় করে দেখলে আমরা যা পাই তা হলো ঢাকার প্রত্যেক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলেই একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ সকালের অফিস শুরু হবার আগে আর অফিস শেষে ছুটছেন। এটা একটা প্যাঁচ খাওয়া জালের মতো, যা দিয়ে মাছ ধরার আগে প্যাঁচ ছাড়াতে ছাড়াতেই দিন শেষ!
সমাধান:
আমরা এখন যেটা করতে পারি তা হলো প্রত্যেক অফিসের জন্য একটা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বা "ডিজিটাল" ওয়ার্কিং আওয়ার ডিজাইন। মানে কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বাসস্থানভেদে অফিস শুরু হবে আটটা থেকে দশটার মধ্যে। যেমন সহজ উদাহরণে ধরুন, মীরপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মীরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, শাহবাগ, পল্টন আর মতিঝিল এই ছয়টি অঞ্চলে উত্তর-দক্ষিণে ভাগ করলাম। এখন মীরপুর থেকে সকালে সবচেয়ে আগে অফিসে রওয়ানা দেবে মোহাম্মদপুরে যাদের অফিস তারা, এর পনেরো মিনিট পর রওয়ানা দেবে ধানমন্ডিতে যাদের অফিস তারা, এভাবে, সবার শেষে মানে প্রায় ন'টার সময় রওয়ানা দেবে যাদের অফিস মতিঝিলে, তারা। এখানে যে মজাটা হবে, তা দেখুন, মীরপুর থেকে মতিঝিলগামী লোকটি ন'টায় রওয়ানা দিলে পথে মীরপুর থেকে মোহাম্মদপুরগামী, ধানমন্ডিগামী ... পল্টনগামী কাউকেই পাবেনা, একইভাবে মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডিগামী, শাহবাগগামী,...,পল্টনগামী এদেরকেও পথে পাবেনা। অর্থাৎ, তাত্ত্বিকভাবে তার জন্য রাস্তা ফাঁকা থাকবে, বা ন'টার সময় যারা মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে তাদের দ্বারা রাস্তায় যতটুকু ভীড় হওয়া সম্ভব ততটুকুই ভীড় থাকবে। একই কথা অন্যান্য স্থানের অধিবাসীদের বেলায়ও খাটে।
এই সিস্টেমের ফলে একই অফিসের সব যারা সকালে তাড়াতাড়ি মানে আটটায় আসবে অফিসে তারা বিকেলে চারটায়, যারা দূর থেকে দেরীতে মানে দশটায় আসবে তারা সন্ধ্যা ছয়টায় অফিস ছাড়বে। সব কর্মচারীর অফিসে একসাথে থাকতে পারবে দশটা থেকে চারটা পর্যন্ত, পারস্পরিক কমিউনিকেশনের জন্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলোতে সাধারণত দশটা-তিনটা কোর টাইম ডিফাইন করা থাকে, তাই কোন অসুবিধা হবার কথা না।
স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীর বিন্যাস
ঢাকা শহরে যে ব্যাপারটা সবচেয়ে এ্যালার্মিং তা হলো সরকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা খুবই কম। প্রথমেই এটি বাড়াতে হবে, তবে সেটা ডিজিটাল পদ্ধতি না হয়ে ভৌত পদ্ধতি বলে এখানে আলোচনায় আসবেনা। প্রতি বছরের শুরুতে বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করার ব্যাপারে লোকজনের ভয়াবহ প্রতিযোগিতা দেখা যায়। তাছাড়া সরকারী বিদ্যালয়গুলোর মানও হয়তো ভালোনা, তা নাহলে এত বেশী মানুষ বছর বছর নামকরা কিছু স্কুলের পেছনে কেন ছুটবে? এই জায়গায় উন্নতি করলে যানজটের একটা ভালো সুরাহা করা যায়। জাপানে সরকারী বিদ্যালয়ের বেলা এটা লিখিত নিয়ম যে আপনার বাচ্চাটিকে বাসার সবচেয়ে কাছের সরকারী স্কুলটিতে ভর্তি করাতে হবে, এবং তাকে স্কুলে যেতে হবে পায়ে হেঁটে। এটা ঠিক যানজট এড়ানোর জন্য না, এর আরো অন্যান্য দার্শনিক দিক আছে, তবে আজ সেটা নিয়ে আলাপ করছিনা। কথা হলো, আমরা যানজট সমস্যাটাকে কিছুটা হলেও এভাবে সামাল দিতে পারি। এদেশে এখন আইডিয়াল/ভিকারুন্নেসা টাইপের বেসরকারী স্কুলগুলোর দাপট, এসব স্কুলে সারা শহর থেকে বাচ্চারা পড়তে আসে। মীরপুর থেকে যেমন মতিঝিলের আইডিয়ালে বাচ্চারা পড়তে আসে, মতিঝিল থেকে তেমনি হয়তো মীরপুরের হারমেন মেইনারে বাচ্চারা পড়তে যায়। এটা থামাতে হবে, স্কুলগামী বাচ্চাদের গড় ট্রাফিক ফ্লো যাতে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের বেশী না হয় সেরকম নিয়মকানুন বানাতে হবে।
সমাধান:
প্রথমতঃ, ভালো মানের সরকারী স্কুলের নিশ্চয়তা সারা শহরে দিয়ে দিতে পারলে, তখন প্রত্যেক স্কুলে ভর্তির জন্য ছাত্র-ছাত্রীর বাসস্থানের দূরত্বের শর্ত জুড়ে দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আর একটা উপায় হতে পারে যে -- প্রত্যেক বেসরকারী স্কুলের জন্য তার আশপাশের একটা নির্দিষ্ট র্যাডিয়াসের ভেতর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী নিতে হবে -- এমন আইন করা। যেমন আইডিয়াল স্কুলের জন্য যদি এর মোটামুটি এক কিলোমিটার র্যাডিয়াসের এলাকা চিহ্নিত করে সে এলাকা থেকে মোট ছাত্রের ৭০% নিতে হবে এমন আইন করা হয়, তাহলে এই স্কুলের ৭০% ছাত্র-ছাত্রীর হেঁটে স্কুলে আসা নিশ্চিত।
আরেকটা যেটা করা যায়, প্রাইভেট স্কুলগুলোকে সারা শহরে সমবিন্যাসে শাখা তৈরীতে উৎসাহিত করা, সরকারী ইনসেনটিভ দেয়া। যেমন ধরা যাক, কথার কথা, মগবাজারে একটি সরকারী স্কুলের পড়াশোনার খুব বেহাল দশা। মগবাজার এলাকার লোকজনের কেউই সেখানে বাচ্চাকে পড়াতে চাননা, ফলে আশপাশের আরো দশটা জায়গায় যেসব বাচ্চারা আর কোথাও টেকেনা তারা এসে এখানে ভর্তি হয়। এখন এই স্কুলভবনটিকে সরকার যদি আইডিয়াল স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দিয়ে বলে যে তোমরা এখানে নতুন শাখা খোল, তাহলে দেখা যাবে মগবাজার/ইস্কাটনের বাচ্চারা দূরে না গিয়ে এখানেই ভর্তি হচ্ছে।
সারা শহরের স্কুলগুলোর বিন্যাস, মান, ছাত্রছাত্রীর বিন্যাস -- এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহন করা যায়।
দোকানপাটের বিকেন্দ্রীকরণ
জানিনা কিভাবে এই অদ্ভুত সংস্কৃতির উদ্ভব আমাদের দেশে হয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। এখানে কোন এক এলাকা একটি নির্দিষ্ট জিনিস কেনার জন্য বরাদ্দ হয়ে যাচ্ছে, মানে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিক্রেতারা একেকটি এলাকায় জড়ো হয়ে পড়ছেন। কাপড় বললে নবাবপুর, বই বললে নীলক্ষেত, জুতো বললে এ্যালোফেন্ট রোড, ইলেকট্রনিক্স বললে স্টেডিয়াম মার্কেট, এ্যাকুইরিয়ামের জন্য কাঁটাবন, এমনকি ডাক্তার বললেও আপনাকে ছুটতে হবে গ্রীণরোডের দিকে। শুধু তাই কেন, এদেশের কবিরাও কেন্দ্রীভূত শাহবাগের আজিজে, নতুন লেখকদের বই পেতে হলে আপনাকে ওখানেই যেতে হবে! যে বাঙালীর জন্য নরকে প্রহরী লাগবেনা বলে কথিত আছে, কেউ পালাতে চাইলে হিংসায় আরেকজন নাকি আটকে দেবে -- সে বাঞালীর হঠাৎ এহেন একতা খানিকটা বিস্ময়েরও! এই কেন্দ্রীভূত হবার সমস্যা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে মানুষ, যাত্রাবাড়ী বলুন, খিলগাঁও বলুন আর উত্তরা বলুন, রেসনিক হ্যালিডের ফিজিক্স বই কিনতে আপনাকে নীলক্ষেত পর্যন্তই আসতে হচ্ছে। এক কাঁচাবাজার আর পোশাকের বাজার ছাড়া সবার কমবেশী একই অবস্থা! যদি পণ্যের দোকানগুলোর বিন্যাস শহরের সব অঞ্চলে কাছাকাছি রকমের হতো, তাহলে আর বইয়ের জন্য আপনাকে উত্তরা হতে নীলক্ষেত আসতে হতোনা।
সমাধান:
অবশ্যই কর্পোরেটাইজেশন একটা সমাধান, তবে সেটা ঠিক "ডিজিটাল সমাধান" তো আর না, আমি এখানে ডিজিটাল উপায়ে কিছউ করা নিয়ে ভাবতেই আগ্রহী। ভেবে দেখলাম, সরকার এক্ষেত্রে ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম চালু করতে পারে। অর্থাৎ সারা ঢাকা শহরকে মনে করুন বিশটি বানিজ্যিক অঞ্চলে ভাগ করে, প্রত্যেক ভাগে একেকটি উপাদানের দোকানের ডিস্ট্রিবিউশন কেমন সেটা হিসেব করে ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম চালু করা। আবার কোন অঞ্চলে যদি একটি উপাদানের দোকান অতিরিক্ত পরিমাণ থাকে তাহলে সেখানে নতুন দোকানের লাইসেন্স দেয়ার সময় বাড়তি কর ধার্য্য করা। যেমন দেখা গেলো যে রামপুরা এলাকায় ইলেকট্রনিক্সের দোকান নেই, আবার মিষ্টির দোকান অতিরিক্ত বেশী। তাহলে এখানে কেউ নতুন মিষ্টির দোকান চালু করতে গেলে তার ওপর বাড়তি ট্যাক্স ধরা হবে, আবার ইলেকট্রনিক্সের দোকান চালু করতে গেলে তার ট্যাক্সের একটা অংশ ছেড়ে দেয়া হবে। আর এই দোকানের সংখ্যা, ট্যাক্স বাড়াবে নাকি কমাবে -- পুরো কাজটা ডেটাবেস মেইনটেইনের দ্বারা একেবারে খাঁটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা যাবে।
সারকথা হলো ঢাকাশহরের ব্যবস্থাপনাকে এমন একটি ডিরেকশনে ধাবিত করতে হবে যাতে অল্প চলাচলের মাধ্যমেই দৈনন্দিন সব প্রয়োজন মানুষ মেটাতে পারে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যা শহরটিতে সমস্যা সৃষ্টি করছে তা বরং প্রস্তাবিত এই যথাযথ বিন্যাসের কাজটিতে সহায়ক হবে, সে হিসেবে বাড়তি জনসংখ্যার একটা ইউটিলাইজেশনও একে বলা যায়।
**************************************************************
পরের অংশটি ঢাকার প্রাইভেট গাড়ীগুলো নিয়ে কি করা যায় তা নিয়ে।
যানজট বাড়ার কারণ হিসেবে এখনকার হট টপিক হলো প্রাইভেট কারের সংখ্যাবৃদ্ধি, আনিসুল হক সেদিন প্রথম আলোর কলামে লিখলেন যে আর কিছুদিনের মধ্যেই বছর দশেক আগে বোম্বের ছবিতে দেখানো "জ্যামে আটকা পড়া রাস্তায় নায়িকাকে বাঁচাতে রাস্তার গাড়ীগুলোর উপর দিয়ে বানরের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে যাওয়া নায়কের" মতো নাকি ঢাকার লোকেও গাড়ীর ওপর দৌড়াতে পারবে, তা সে নায়িকাকে বাঁচানোর জন্যই হোক অথবা ছাপোষা চাকুরীটা বাঁচানোর জন্যই হোক।
কথা হলো প্রাইভেট কারের সংখ্যা বাড়ছে সন্দেহ নেই, এবং ঢাকায় প্রাইভেট সেক্টরের ব্যবসা-বৃদ্ধির সাথে সাথে বাঙালী মধ্যবিত্তের একাংশের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশী। তদুপরি, একেকটা গাড়ীর আমদানীতে মোটা অংকের ট্যাক্স পাচ্ছে সরকার ; যদিও সেই মোটা অংকটা এখনও মোটাসোটা সরকারী আমলার পশ্চাৎদেশের ডান বা বাঁপাশের একটি অংশকেই মোটাসোটা করে তুলে ধরছে; তবে এই বাস্তবতাকে বেশী পাত্তা দিলে দুনিয়ার কোন উপায়ই এদেশে কোন কিছু করতে পারবেনা বলে সেদিকে আর গেলামনা। কথা হলো, দেশের স্বার্থেই হোক, আমলার স্বার্থেই হোক বা মধ্যবিত্তের জীবনের মানোন্নয়নের স্বার্থেই হোক, ঢাকা শহরে গাড়ীর সংখ্যা বাড়বেই।
যেহেতু গাড়ীর সংখ্যা কমানো কঠিন, তাই উপায় বাকী থাকে আর একটা! সেটা হলো, গাড়ী কিনতে দাও ঠিক আছে, তবে রাস্তায় বের করাটা কঠিন করে দাও। তাতে যার পোষাবে সে গাড়ী কিনবে, যার পোষাবেনা সে কিনবেনা। মানে একটা পুঁজিবাদী স্ট্যান্স থেকে গাড়ী ক্রয়কে কঠিন করে তোলা আর কি! প্রশ্ন হলো, গাড়ীর নিয়ে পাবলিকের রাস্তায় বের হওয়াকে কমিয়ে দেওয়ার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায়? এখানেই কিছু পাগলা চিন্তাভাবনা।
ক. একাধিক গাড়ীর ব্যবহার কমানোর উপায়
আমাদের দেশে পরিচিত প্যাটার্ণ, বিশেষ করে যাদের একাধিক গাড়ী আছে তাদের বেলায়-- সকালে বাড়ীর কর্তাটি তাঁর মার্সিডিজ নিয়ে বেরুবেন, দশ মিনিট পর বাড়ীর আহ্লাদী কন্যাটি নিজস্ব ঢঙের নৃত্যের সাথে সাথে র্যাভ-ফোরে চেপে বেরিয়ে যাবেন ইউনির পথে। এরপর হয়তো বাড়ীর কর্ত্রী সকাল সাড়ে ন'টার দিকে বেরুবেন বিএমডব্লুটি নিয়ে, বসুন্ধরা, আড়ং, সমাজসেবা-জাতীয় আড্ডাখানাসহ আরো নানান জায়াগায় বেহুদা ঘোরাঘুরি করে বেড়াবেন। বেলা এগারোটার দিকে বাড়ীর একমাত্র পুত্রধনটি হয়ত বাবার অফিস থেকে ফেরত আসা গাড়ীটি নিয়ে আড্ডা বা ডেটে বেরুবে, দুপুরে বাবাকে কিছুক্ষণের জন্য বাসায় আনতে বসুন্ধরা শপিং থেকে বিএমডব্লুটি আসবে, তারপর ... ... উদাহরণ আর বাড়ালামনা, বাড়াতে থাকলে শেষ হবেনা -- মোদ্দাকথা এভাবে সারাদিনই চারজন মানুষের জন্য তিনটি গাড়ী ঢাকার রাস্তার জায়গা দখল করে চর্কির মতো ঘুরতে থাকবে। কথা হলো, এদেরকে দিয়ে একটি গাড়ী ব্যবহার করাতে হবে।
সমাধান:
এই বিশেষ শ্রেণীর কথা মাথায় রেখেই এমন আইন করতে হবে যেন কোন পরিবারের মালিকানায় দ্বিতীয় গাড়ীটি থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি গাড়ীর জন্য উচ্চমাত্রার ভ্যাট, রোডট্যাক্স আদায় করা যায়। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীদের জন্যও নিয়ম করা হবে যে ২য় গাড়ী থেকে উচ্চমাত্রায় ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম ধার্য্য করতে হবে। পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে, যেখানে ফ্যামিলি ডেটাবেসের বিপরীতে কেনা গাড়ীর সংখ্যার হিসেব রেখে, সংখ্যাটা একের বেশী হলেই উড়াধুড়া লেভেলের ট্যাক্স বসানো হবে; আবারও বলি, ট্যাক্সগুলো হলো (১)কেনার সময়ের ভ্যাট, (২) বাৎসরিক রোডট্যাক্স, (৩) ২য় গাড়ী থেকে শুরু প্রত্যেক গাড়ীর জন্য আবশ্যিক উচ্চমাত্রার ইনস্যুরেন্স (এতে ইন্স্যুরেন্সওয়ালারাও খুশী হবেন
খ. একটি গাড়ীর অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর উপায়
যাদের একটি গাড়ী আছে তাদের বেলায় ঘটনা আরো জটিল। এদের এই একটি গাড়ীই হয়তো ভোরে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসে, তারপর বাবাকে অফিসে, তারপর ছেলেটিকে প্রাইভেট টিউটরের বাসায়, এরপর মোটামুটি দুপুরের দিকে মাকে শপিংয়ে আর বাচ্চাদের স্কুল থেকে ফেরত আনতে -- গাড়ী যায়, গাড়ী আসে। এই নিরলস যাওয়া আর আসার মধ্য দিয়ে এই গাড়ী যে ঢাকা শহরের কত জায়গা দখল করে নিচ্ছে সেটা হিসেব করতে গেলেও আঁতকে উঠতে হয়। এই পুরো পরিবারকে সকালে একবারে গাড়ীতে ভরে বাচ্চার স্কুলে, বাবার অফিসে, মার শপিং কমপ্লেক্সে নামতে বাধ্য করতে হবে। প্রশ্ন হলো, কিভাবে?
সমাধান:
গাড়ীর মাইলেজের/তেল-গ্যাসের ব্যবহারের উপর পরের বছরের রোডট্যাক্স ধার্য্য হবে। একটা নির্দিষ্ট মাইলেজের বেশী হলে ট্যাক্স অনেক বাড়িয়ে দেয়া হবে। মাইলেজ ট্র্যাক করা এবং তার উপর ভিত্তি করে রোডট্যাক্স বাড়ানো হবে "ডিজিটাল পদ্ধতিতে"। এর জন্য সরকার সব গ্যাসস্টেশনকে বিক্রী হওয়া তেল-গ্যাসের সাপেক্ষে করেসপন্ডিং গাড়ীর নাম্বারের রেকর্ড কম্পিউটারে লগ করে রাখতে বাধ্য করবে -- পুরা ডিজিটাল কারবার। মাইলেজ কম রাখার জন্য তখন পইপই করে পুরা পরিবার একসাথে বের হয়ে পড়বে।
গ. ড্রাইভারের ব্যবহার কমানো
কিছু আনাড়ী ড্রাইভারের এতে চাকুরী চলে যাবে, তবে প্রাইভেটকারজনিত যানজট বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো ড্রাইভারের সহজলভ্যতা। পৃথিবীর আর কোথাও মনে হয়না এত ব্যপকহারে সাধারণ জনগণ ড্রাইভার এ্যাফোর্ড করতে পারে। এই প্রায় ফ্রী ড্রাইভার পাবার কারণেই দেখা যায় একটু পর পর বাড়ীর একেকজন বেচারাকে নিয়ে একদিকে বেরিয়ে পড়ছে, সেখানে পৌঁছে আবার তাকে বাসায় ফেরত পাঠাচ্ছে, পথে আবার ড্রাইভারও একটা দুটা খ্যাপের ব্যবস্থা করে ফেলছে! মানে একটা গাড়ীর দইনে যতটুকু সময় রাস্তায় থাকা উচিত তার তুলনায় অনেক বেশী সময় সে রাস্তায় কাটাচ্ছে! ড্রাইভার নিয়োগ খরচসাপেক্ষ হয়ে গেলে পাবলিক নিজেই নিজের গাড়ী চালাতে শুরু করবে, তখন মেয়েকে বাধ্য হয়েই বাবার সাথে একটু সকাল সকাল বের হতে হবে, মাকেও, ছেলেকেও তাই।
প্রশ্ন হলো কিভাবে ড্রাইভার নিয়োগকে কঠিন করে দেবেন?একটু আগের সমাধান ছিলো পুঁজিবাদী স্ট্যান্স থেকে, তাতে আবার যাতে সমাজবাদীরা নাখোশ না হন, সেজন্য এক্ষেত্রে চিন্তা করছি খানিকটা সমাজতান্ত্রিক স্ট্যান্স থেকে। ধরুন, ড্রাইভারদের জন্য বেতন বাড়িয়ে দেয়ার আইন করা হলো, এমন আইন যে একজন ড্রাইভারকে মিনিমাম বিশ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। আঁৎকে ওঠার কিছু নেই, যেভাবে সকাল সাতটা থেকে রাত ন'টা-দশটা পর্যন্ত বেচারারা নিরলস "ওনলি এ্যাট ইওর সার্ভিস" দিয়ে যান, তাতে এটুকু বেতন খুব একটা বাহুল্য না। কিন্তু কথা হলো এমন কেইসে অনেকেই পয়সা বাঁচানোর জন্য আনাড়ী-ফানাড়ী লোককে ধরে কম বেতনে ড্রাইভার হিসেবে রাখার চেষ্টা করবে। এই অপচেষ্টার হাত থেকে রেহাই দিতে পারে আরেক সমাজতান্ত্রিক "ডিজিটাল সমাধান"।
সমাধান:
যে কোন গাড়ীর ড্রাইভারদের নিয়োগ হতে হবে কয়েকটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত (এমনকি সরকারীও হতে পারে) প্রতিষ্ঠানের অধীনে-- এমন আইন করতে হবে। একজন ড্রাইভার সর্বোচ্চ একটি গাড়ীর ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতে পারবে (একাধিক গাড়ীর মালিকদের এখানে প্রচুর খসে যাবে)। এই ড্রাইভারদের বেতন দেয়া হবে ঐ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে, যাদেরকে গাড়ীর মালিক মাসে মাসে ধরুন বাইশ হাজার টাকা (বিশ হাজার ড্রাইভারের বেতন, দুহাজার প্রতিষ্ঠানের মেইনটিন্যান্স ফি) করে প্রদান করবে। গাড়ীপ্রতি মাসে বাইশ হাজার খরচ করে ড্রাইভার রাখা যাদের পোষাবে তারা ড্রাইভার রাখবে। পুরো কাজটি করা যাবে "ডিজিটাল উপায়ে"। প্রত্যেক ড্রাইভারের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দ্বারা ইস্যু করা আইডি কার্ড তো থাকবেই, কার্ডে তার জন্য বরাদ্দকরা গাড়ীর নম্বরও লিখিত থাকবে। রাস্তায় জ্যাম লেগেই থাকে, তাই যখন তখন আইডি চেক করা শুরু করলে এনিয়ে জালিয়াতইর সাহস গাড়ীর মালিকেরা পাবেনা।
ঘ. ব্যস্ত এলাকায় গাড়ীর ব্যবহার কমানোর উপায়
পৃথিবীর ব্যস্ত শহরগুলোতে গাড়ীর মালিকেরা গাড়ীর বাদ দিয়ে পাবলিক যানবাহনে করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে যাওয়া আসা করেন; কারণ আর কিছুইনা, পয়সা সবাইই বাঁচাতে চায়। কেন গাড়ী ব্যবহার করলে পয়সা খরচ হয়, কারণ সহজ, খুবই উচ্চমাত্রার পার্কিং ফী। টোকিওর সাব-আরবান অঞ্চলে যেখানে ঘন্টায় পার্কিং ফী ২০০ ইয়েন, ব্যস্ত অঞ্চলে সেটা তি থেকে চারগুণও হয়। ঢাকা শহরে গাড়ী ব্যবহারকারীদের অন্যতম মূল আনন্দ হচ্ছে এই পার্কিং ফি দিতে না হওয়াটা। এখন আছে কিনা জানিনা, তবে গত ডিসেম্বরেও দেশে গিয়ে দেখেছি ব্যস্ত এলাকার প্রায় সব রাস্তারই ফুটপাথের কাছ থেকে রাস্তার প্রথম লেনটা গাড়ী দিয়ে অধিকৃত। এমনিতেই রাস্তা কম, তারওপর দুই লেনের রাস্তা হয়ে যাচ্ছে একলেনের।
সমাধান:
অবৈধ পার্কিং যদি থামানো নাই যায়, তাহলে এই লেনগুলোকে পার্কিং (খোলা আকাশের নীচে) ঘোষনা দিয়ে দেয়া হোক। প্রত্যেক ফুটপাথের সাথে যে বিল্ডিংটা থাকবে, তারা পার্কিং ফীর মূল অংশ পাবে, সরকার কিছুটা নেবে। শর্ত একটাই, পার্কিং ফী হতে হবে চড়া মূল্যের। এভাবে বছর পাঁচেক চললে এসব এলাকায় গাড়ী পার্ক করার সংস্কৃতিটাই হয়ত বিলুপ্ত হবে।
সরকথা একটাই, গাড়ী ব্যবহার করতে হলে খরচ করাও, গাড়ীর ব্যবহার এমনিতেই কমবে। কে না চায় পয়সা বাঁচাতে?
*****************************************************
[sb]সবশেষে আরেকটা ফাউ আইডিয়া:
হাঁটা বাড়ানোর হাইটেক ক্যাম্পেইন
দুষ্টুলোকে বলে ঢাকা শহরে হাঁটার উপযোগী রাস্তা নাই! আমি প্রতিবার দেশে গেলে কাফরুলের চিপাগলি থেকে পূবে বাড্ডা পর্যন্ত আর পশ্চিমে ধানমন্ডি পর্যন্ত আরামসে হাঁটি, কোন সমস্যাই হয়না! ঢাকা শহরের ফুটপাথ খুব সরু, এটা সত্য, তবে হাঁটতে চাইলে হাঁটা যায়। সমস্যা হইলো সস্তায় রিক্সা, বাস এসব পাওয়ায় আমরা হাঁটিনা। কথা হলো শুধু স্বাস্থ্যসচেতনতা, দেশের জন্য কষ্ট করা -- এসব শুকনো কথায় চিড়া ভিজবেনা। আপনি আমাকে হাঁটাতে চান ভালো কথা, এর বিনিময়ে কি লাভ আমার হবে সেটাও তো দেখতে চাই! মানে পাবলিক হাঁটবে, বিনিময়ে কি পাবে? এজন্য কর্পোরেটদের উদ্যোগে একটা "ডিজিটাল ব্যবস্থা" নেয়া যায়, নাম দেয়া যায়, "ডিজিটাল ওয়াকিং ইনসেনটিভ", অথবা ডিজ্যসু স্টাইলে নাম দেয়া যায় "হাঁটো আর কথা বলো"
সমাধান:
মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো এখানে কর্পোরেট সোশ্যাল রেপন্সিবিলিটির একটা উদাহরণ রাখতে পারে। ইদানিং স্টেপ মাপার যন্ত্রযুক্ত মোবাইল ফোন দেখা যায়, এসব ফোন কোমরে সেট করে হাঁটলে আপনি কত স্টেপ হাঁটলেন সেটা কাউন্ট হবে। মোবাইল ফোনওয়ালার এমন ইনসেনটিভ দিতে পারে যে প্রতি ১০০০/২০০০ কদম হাঁটার জন্য আপনাকে একমিনিট ফ্রি কথা বলার সময় দেয়া হবে। কে কত কদম হাঁটলেন সেটা ফোন থেকে সরাসরি মোবাইল কোম্পানীর সিস্টেমে ইনপুট হবে, এবং সে অনুযায়ী সেই ফোনমালিকের সিমের ব্যালান্স বাড়বে। অন্যান্য কোম্পানীও মোবাইল ফোনের সাথে কোলাবোরেশনে এই প্রজেক্টে অংশ নিতে পারে। আলটিমেইটলি, পাবলিক বেশী হাঁটলে যানজট কমবে, ব্যবসার গতি বাড়বে, আয়-উন্নতিও বাড়বে। সরকার এক্ষেত্রে প্রদত্ত ইনসেনটিভের উপর ট্যাক্স মাফ করে দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


