somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কি হয় এসব লিখে!!!! আমাদের বাসায় টি.ভি ছিলনা অনেকদিন; সেই নিয়ে আমাদের ভাইবোনদের অনেক রাগ-অভিমান ছিল বাবা-মা'র ওপর। সেবয়সে আমরা কেউই বুঝতামনা, পদবী যতই ভালো দেখাক, বাবার নির্দিষ্ট-টাকার বেতনে আটজনের সংসারের প্রাথমিক চাহিদা আর মেহমানদারীর বহর সামলাতেই হিমশিম খেতে হতো বাবা-মাকে, টিভি কেনার টাকা জমানো তো দূরের কথা, সঞ্চয় করাই সম্ভব ছিলোনা। আমরা ভাইবোনেরা তাই টিভি দেখতে ইচ্ছে হলে প্রতিবেশী যাদের বাসায় টিভি আছে তাদের বাসায় চলে যেতাম, লোকজনের সুবিধা-অসুবিধার বালাই না করে গাঁট হয়ে বসে ছায়াছন্দ, সিনেমা, খেলা -- এসব দেখতাম।

পঁচাশি-ছিয়াশি সালের দিকের কথা, আমি তখনও ছোট, ফোর-ফাইভে পড়ি, ইচ্ছেমতো আশপাশের বাসাগুলোতে টিভি দেখতে যাই। কিন্তু, আপারা তখন বড় হয়েছে, বড় আপা টেনে পড়ে, ওরা তো আর কোথাও টিভি দেখতে যেতে পারেনা। এমনই একদিন হঠাৎ আপাদের একজন বাবাকে উদ্দেশ্য করে মুখ ফস্কে বলে ফেলল,"মনে হয় যেন নির্জন দ্বীপে নির্বাসনে আছি, একটু যে খবর দেখব সেই উপায়ও নেই!!" আপার এই কথাটা বাবার মধ্যে ভীষন প্রতিক্রিয়া তৈরী করে, উনি কষ্ট পাননি, তবে একটু ধাক্কা খান। হয়ত ভাবেন, "আসলেই তো, ছেলেমেয়েগুলোর প্রতি নজর দেয়া হয়নি!"

সেই শুরু হলো বাবা-মা'র নতুন প্রজেক্ট, অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে টিভি কিনবে। পারিবারিক খরচ থেকে এটা-সেটা কমানো হয়েছিলো, আমার মনে আছে, লাক্স সাবানের বদলে কসকো সাবান কেনা শুরু হয়েছিলো, আত্মীয়রা কেউ বেড়াতে এলে আর আগের মতো বড়বড় মোরগ আনা বাদ দিলেন বাবা, সম্ভবতঃ আত্মীয় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যাওয়াও কমিয়ে দিয়েছিলেন তারা। চার-চারটা বছর!! এরকম নানান কৃচ্ছতা করে চার বছর পর অবশেষে নব্বই সালের এক এপ্রিল মাসে ইত্তেফাকে টিভির বিজ্ঞাপন দেখে মা ঘোষনা দিলেন, "এই দাম হলে টিভি কেনা যাবে।"

আমার এখনও মনে আছে, সেদিন মা, ছোটমামা আর আমি গিয়েছিলাম টিভি কিনতে। আমি কোনমতেই মুখের হাসিটা সরাতে পারছিনা, নিচে নেমে যখন রিক্সা ঠিক করছিলাম, বারাবার চেষ্টা করছিলাম মুখের হাসিটা লুকোতে। মনে হচ্ছিলো আশপাশের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, সবাই বুঝে ফেলতে যাচ্ছে কি ঘটতে যাচ্ছে! রিক্সায় উঠতে উঠতে বাসার বারান্দার দিকে তাকিয়ে দেখি আপারা সবাই জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ওদের মুখে অদ্ভুত স্বর্গীয় এক হাসি। যেন টিভিটা আসলেই বাসাটা একটা স্বর্গে পরিণত হবে।

ষোলহাজার নয়শ আশি টাকা, আমার এখনও মনে আছে। টিভি কিনে যখন ফিরছিলাম, স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে ফকিরেরপুল হয়ে, তখন এক রিক্সায় মা আর আমি, সাথে টিভিস্ট্যান্ড; আরেকরিক্সায় মামা, কোলের ওপর বিশ ইঞ্চি ফিলিপসের বিশাল "রঙীন" টিভি। আমার আনন্দ আর ধরেনা, বুঝতে পারছি ছেলেমানুষী হচ্ছে, তাও বারবার মামার রিক্সার দিকে তাকাই, মামার সাথে কথা বলার অজুহাতে টিভিটাকে দেখি। সে এক অদ্ভুত আনন্দ!

তখনই, হঠাৎ দেখি ফকিরেরপুল পানির ট্যাংকের মোড়ে এক মিছিল আসছে, এরশাদের গুষ্ঠী উদ্ধার করা হচ্ছে। মিছিল দেখেই আমার অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেলো। বারবার মনে হতে লাগলো, এখন যদি এরা টিভিটা ভেঙে ফেলে! মামার রিক্সাটাকে যদি উপড়ে ফেলে দেয়। তখন আর কোন অজুহাত না, স্বাভাবিক নিয়মেই সামনের রিক্সা থেকে পারলে সারা শরীর বের করে আমি পিছনে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম মামার রিক্সার দিকে। যেন ওভাবে তাকিয়ে থাকলেই টিভিটা বেঁচে যাবে। কতক্ষণ মনে নেই, তবে রিক্সা যখন মিছিল পেরিয়ে চলে এলো, ধড়ে যেনো প্রাণ ফিরে পেলাম। সেই উৎকন্ঠার কথা সেদিন আর কাউকে বলিনি।

তবে এখনও দূঃস্বপ্ন দেখি, আমদের টিভিটা নিয়ে রিক্সা এগিয়ে চলছে, হঠাৎ মাথায় কাপড় বাঁধা কারা এসে যেন রিক্সাটা উল্টে দিলো। কি সাংঘাতিক!! ঘুমের মধ্যে আমার তখন ইচ্ছে হয় সবকিছু ভেঙে ফেলি, একটা বোবা আক্রোশ অনুভব করি।

আমি ভেবে কূলকিনারা করতে পারিনা, সত্যিই এমনটা হলে কি হতো! একটা পরিবারের একটা বিরাট স্বপ্ন ভেঙে যেতো। একজোড়া বাবা-মা চিরজীবনের জন্য নিজেদের অসহায় মনে করতেন। তাঁরা কি আবার টাকাজমানোর প্রজেক্ট শুরু করার সাহস পেতেন? আমরা ভাইবোনেরা কি আর কোনদিন সেভাবে হাসতে পারতাম?

সামান্য, ছোট্ট একটা টিভি! এটাকে ঘিরেই কি পরিমাণ আবেগ সেদিন মতিঝিল কলোনীর ছোট্ট সেই বাসাটায় ছিলো-- এটা কি কেউ ভাবতে পারে?

আর সেখানে যখন একজন বাবা অনেকদিন ধরে তিলেতিলে গড়ে তোলা ব্যবসার সুফল হিসেবে ছেলেটাকে বলে, "শোন রূপম, কাল আমরা গাড়ী কিনতে যাবো", অথবা মাকে চমকে দেয়ার জন্য বারান্দায় টেনে এনে যখন বাসার সামনে পার্ক করা গাড়ীটা দেখাতে দেখাতে ছেলেটা শোনে মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছেন, "এবার একটা বিয়ে কর বাবা" -- মুহূর্তগুলো সেই মানুষগুলোর কাছে কত দামী সেটা কি বলে বোঝানো যায় না যাবে?


২.

রাস্তায় একটা গাড়ী দেখলে, "শালার বড়লোকের গুষ্টি মারি" বলে সেটাকে পুড়িয়ে দেয়া, ভেঙে ফেলা -- এসব করাই যায়। "একটা গাড়ী ভাঙা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অসহায় প্রতিবাদ" অথবা, "বুর্জোয়া শাসক আর শোষকগোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানো মজলুমের প্রতিশোধ" -- এমন অনেক গালভরা বাণী দিয়ে আমরা রাজনৈতিক মঞ্চ কাঁপাতেই পারি।

কিন্তু একটা টিভি মানেই ষোলহাজার নয়শ আশি টাকায় কেনা একটা প্লাস্টিকের বাক্স না, একটা গাড়ী মানেই কয়েক লাখ টাকায় কেনা একটা পুঁজিবাদী প্রতিক না; এসব একেকটা বস্তু অনেক আবেগ, অনেক ভালোবাসা, অনেক প্রতীক্ষা আর অনেক সংগ্রামের চিহ্ন বহন করে।

একটা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন এই সামান্য সত্যটাকে বুঝতে অপারগ হয়, তখন আমি হতাশ হই, সবচেয়ে হতাশ হই সেদেশের ভবিষ্যত নিয়ে। এই ছাত্রদের কাছে আমরা কি আশা করবো! এরাই তো আবার একদিন নেতাও হবে। তারা যখন তারেক রহমানের মতো একজন অপরাধীর মুক্তির দাবীতে এরকম তান্ডব চালায়, তখন তাদের কাছে কি আশা করা যায়? তাদের নেতার উপর পুলিশী টর্চার চলছে -- এটার জন্য তারা প্রতিবাদ করতে পারে, মিছিল করতে পারে। আমরাও তারেক রহমানের উপর পুলিশের এই বাড়াবাড়ির নিন্দা করি। কিন্তু তারা যা করেছে, এই পাশবিকতাকে কিভাবে সহ্য করা যায়?


৩.
একটা গাড়ী বা একটা টিভি পোড়ানো দেখলেই আমি অসহায় বোধ করি। সহ্য করতে পারিনা। আমার কৈশোরের সেই দূঃসহ স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

সেখানে অসভ্য বর্বর ছাত্রনেতাদের লাগানো আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া একজন জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি অসহায় বোধ করি। কি হবে লিখে?

তাও অভিশাপ দিলাম খুনীদের।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28835971 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28835971 2008-08-28 15:16:52
অতিশয় ছোটগল্প: টান **************************************************************
১.
প্রতিবারই ঢাকা থেকে যেদিন ক্যাডেট কলেজে ফিরে যাই, মনটা ফুরফুরে থাকে। কারণ অবশ্যই আছে, একেকটা ছুটি এতবেশী লম্বা থাকে যে, যদিও বাবা-মা জানতে পারলে রাগ করবে, তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি, ছুটি কাটাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠি। কলোনীর বন্ধুবান্ধবদের এখন আর অত ভালো লাগেনা, কলেজের বন্ধুদের মতো "পশ" না ওরা।

কিন্তু এবার কেমন যেন সকাল থেকেই মনটা ভালো নেই। একটু পরেই ভাইয়ার গাড়ী আসবে, মালিবাগ চৌরাস্তায় সোহাগের টার্মিনালে নিয়ে যাবে। আজ বাবাও আমাদের সাথে বেরুবে, বাবার মাথায় বাড়ী করার ভুত চেপেছে, রিটায়ারমেন্টের পর এলপিআরের সময় লোকের যা হয় আর কি! কোথায় কোথায় যেন যাবে, ইট, সিমেন্ট, রডের খোঁজখবর নিতে। প্রত্যেকবারের মতো আজও মা সকাল থেকে ব্যস্ত, আমার পছন্দের কিছু খাবার বানাচ্ছে, বিশেষ করে গরুর মাংসের কাবাবের ঘ্রাণ পাচ্ছি রান্নাঘর থেকে।

ব্যাগ হাতে বেরুতে বেরুতে হঠাৎ চোখ গিয়ে পড়ে দরজার কড়াটার উপর; আনমনা হয়ে যাই। ছোটবেলায় রোজ দুপুরে বাবার আসার অপেক্ষায় থাকতাম, কড়া নাড়া শুনেই বুঝে ফেলতাম বাবা এসেছে। মা'র কড়া নাড়াটাও বুঝতে পারতাম, আপুদেরটাও, ভাইয়ারটাও। অদ্ভুত! একেকজন এককেভাবে দরজার কড়া নাড়ে। আমারটাও নিশ্চয়ই অন্যেরা বোঝে। আচ্ছা প্রতিবার আমি কলেজে যাবার সময় যে মা সিঁড়ির নীচ পর্যন্ত গিয়ে এগিয়ে দিয়ে আসে, মা'র চোখ ছলছল করে; মাও নিশ্চয়ই আমি কলেজ থেকে ফিরে আসলে কড়া নাড়া থেকেই বুঝে ফেলে, "বাবু এসেছে"। মা নিশ্চয়ই অনেক খুশী হয়। নিজের কড়া নাড়ার শব্দটা রেকর্ড করা গেলে ভালো হতো।

দরজার কড়াটাকে ধরে আমি আনমনে নাড়াতে থাকি, আমার বেরুতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। হঠাৎ মেঝো আপু মিটিমিটি হাসতে হাসতে বলে, "কিরে পাগলা, কড়া নাড়ছিস কেন?"। আমি লজ্জা পাই, নাহ্, এখন বেরুতে হবে।

ভাইয়া বড় হয়ে গেছে, বাবার সামনেই এখন সিগারেট কেনে, ডাইনিংয়ে বসে সিগারেট খায়। ও যখন সিগারেট খায়, বাবা তখন ডাইনিংয়ে আসেনা। কলোনীর গেটের কাছে আজিজ মিয়ার দোকানের সামনে ভাইয়া গাড়ী থামায়, সিগারেট কিনবে। গাড়ীর কাঁচ ভেদ করে চোখ পড়ে আজিজ মিয়ার দোকানের সামনে সাজানো ছোট ছোট বয়ামগুলোর উপর। এই বয়ামগুলোকে ঘিরে কেটেছে আমার শৈশব, পালা করে একেকবার একেকটা বয়ামের জিনিস কিনতাম। নামও ভুলে গেছি, বাবুল বিস্কুট, সুপার বিস্কুট, চিনির গোল্লা, সন্দেশ, বাবল গাম, আরো কত কি! বুকটা কেন জানি হু হু করে উঠে। বুঝতে পারছিনা, কেন এবার এত খারাপ লাগছে। আজিজ মিয়ার ছেলেটা দোকানদারি করছিল, আমাকে দেখে হাত জাগিয়ে বলে, "বাইয়া, আবার যাইতেছেন?"। ভিআইপিদের মতো হাতটাকে একটু উঠিয়ে মুচকি হাসি।

সামনের সীটে বাবার দিকে চোখ পড়ে, একমনে লিখে যাচ্ছেন হিসেবের খাতায়। সরকারী চাকুরে, রিটায়ারমেন্টের পর একটা ছোট থাকার জায়গা করে নেবেন নিজের আর সন্তানদের জন্য -- এটাই তাঁর স্বপ্ন। শুনেছি ভাইয়া শান্তিনগরে বাসাভাড়া করেছে, খুব সুন্দর। আপুরা দুজনই ভীষন উত্তেজিত, খুব চমৎকার বাসা! মাও খুশী। বাবার সেদিকে কোন খেয়াল নেই, তার একটাই চিন্তা, পেনশনের টাকাটাকে বাড়ীর কাজে লাগিয়ে ফেলতে হবে।

গাড়ী কলোনীর গেট ছেড়ে যায়, গেটের উপরে বিশাল ব্যানার, লেখা "আরশাদ ভাই এলকার সবার ....", আর পড়তে পারিনা, গাড়ী সাঁই করে বেরিয়ে যায়। পুরোটা পড়তে না পারার আক্ষেপটাও যেন অনুভব করি। আসলেই বুঝতে পারছিনা এবার এত খারাপ কেন লাগছে। অথচ এবার তো ভালো লাগার কথা, সাকিবের বড় ভাই নাকি আবারও হাভানা চুরুট এনেছে, ফোনে শুনেছি; সাকিব তিনটা মেরে দিয়েছে। ক্যাডেটের বন্ধুরা সবাই মিলে একটা মাস্তির পরিকল্পনা করেছি গত কয়েকদিন ধরে, উপলক্ষ সেই হাভানা চুরুট।

তবুও জানিনা, কেন মনটা উদাস, বিষন্ন; কিচ্ছু ভাল্লাগছেনা। ধুর!

২.
কলেজে ফিরেও ভাল্লাগছেনা। ব্যাচের বাঁদর গ্রুপের মধ্যমনি আমি, ফিরে আসার পর প্রথম ক'দিন জমজমাট কাটে। অথচ আজ হাভানা চুরুট পার্টিতে গেলামনা। রুমে বসে পড়াশোনার চেষ্টা করছি। সাবেতও আছে রুমে, ও পড়ার পাগল।

হঠাৎ সাবেত জিজ্ঞেস করে, "আঙ্কেলের রিটায়ারমেন্ট কবে রে?"

"এই তো, দু'মাস পর" ঠিক যেন অটোমেটিক মেশিনের মতো উত্তর বেরোয়।

আর তখনই, ঠিক তখনই যেন একটা ব্যাপার বুঝে ফেলি, বুকটা হু হু করে ওঠে। বুঝে ফেলতে না চেয়েও যেন বুঝে ফেলি, কেন মনটা এমন বিষন্ন, কোন জিনিসটা পোড়াচ্ছিল আজ সারাদিন।
ভাইয়া বাসা নিয়েছে, এরপরের ছুটিতে যখন ঢাকায় যাবো, তখনতো শান্তিনগরের নতুন বাসাটায় যাবো, আহা, কলোনীর বাসাটাতে আর যাওয়া হবেনা।

হঠাৎ বাসার কড়াটার কথা খুব মনে পড়তে লাগল। ভাইয়া বীরদর্পে বলছিলো, "শান্তিনগরের বাসায় ওরকম জংপড়া কড়া নেই, কলিংবেল আছে।"



ছবির কৃতজ্ঞতা:
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28835213 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28835213 2008-08-26 15:46:18
গেসবল ১৬: আজব কালচার
আজকের গেসবলের বিষয়, সম্ভ্রান্ত জাপানীজ নারীকূল

গেসবলের সংখ্যা : দু'টি

১.

প্রথমটি বেশ সহজ
জাপানীজ ভাষা সম্পর্কে যাদের ধারনা নেই, তাদের বলে রাখি, এই ভাষায় ভদ্রতা প্রকাশের মাত্রা দশের বেশী পদের আছে। যেমন, আমরা যেখানে ইংরেজী 'ইউ'কে 'তুই, তুমি, আপনি' -- এরকম ভদ্রতার তিন মাত্রায় প্রকাশ করি, জাপানীরা সেখানে "কিসামা, তেমেএ, ওমায়ে, কিমি, আনাতা, ওতাকু, সোনাতা, সোচিরাসান, সোচিরাসামা, ওক্যিয়াক-সামা, ... এবং আরো অনেক শব্দ যেগুলো আমরা জানিনা" -- এরকম ভদ্রতার চৌদ্দমাত্রা ব্যবহার করে। রূড, ফরমাল, পোলাইট থেকে শুরু করে আলট্রাপোলাইট ফর্ম পর্যন্ত আছে এভাষায়। এবং, বলাই বাহুল্য যে এরমাঝে সবচেয়ে পোলাইট ফর্ম ব্যবহার হয় রাজপরিবারে। উল্লেখ্য, রাজবধু হবার আগে পাঁচ-ছয়ভাষী ওওয়াদা মাসাকোকে নতুন করে ওস্তাদ রেখে শিখতে হয়েছিলো রাজপরিবারের ভাষা, এটা তেমনই কঠিন এক জিনিস।

বর্তমানে এই রাজপরিবারীয় ভাষাটিও রূপান্তর/বিবর্তনের ধারায় সহজতর হয়ে আসলেও, একশো বছর আগেও এটা এমনই এক ভাষা ছিলো যেটা বোঝা ভীষন কষ্টসাধ্য। সেরকমই একটা উদাহরণ।

সেসময়ে রাজপরিবারের নারীরা প্রায়ই "ফুল তুলে নিয়ে আসি" বলে ঘর থেকে বের হয়ে যেতো, কিন্তু দেখা যেতো যে সে ফিরে এসেছে কোন ফুল ছাড়া।

আপনাকে গেস করতে হবে, "ফুল তুলে নিয়ে আসি" বাক্যটির আসল অর্থ কি ছিলো?


২.
এটা একটু কঠিন এবং বেশ ফানি

সেযুগে শুধু রাজপরিবারের না, বরং সম্ভ্রান্ত পরিবারেও অনেক নিয়ম-কানুন, আদব-কায়দা, রীতি-নীতি ছিলো। তেমনই এক রীতি ছিলো সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের বাইরে বের হবার ব্যাপারে।

চকচকে জমিনে বড় বড় রঙচঙা ফুলবসানো কিমোনো পরে, কাঠের খড়মের টুকটুক শব্দে যখন সম্ভ্রান্ত জাপানী তরুণীরা (বিশেষ করে অবিবাহিতরা) বাইরে হাঁটতেন, তখন অবশ্যম্ভাবী যে বিষয়টা ছিলো সেটা হলো তাঁদের সাথে একজন বয়স্কা মহিলা (আমাদের দেশের আগের যুগের ঝি টাইপের) থাকতেন। এই বয়স্ক মহিলা শুধু তরুণীরা বাইরে বেরুনোর সময়ই তাদের সঙ্গ দিতেন, এবং সেটা একটিমাত্র বিশেষ কারণে। যেজন্য, বয়স্কা মহিলাটিকে যতদূর সম্ভব তরুণীর কাছাকাছি থাকতে হতো, পারলে একেবারে গায়ে গা লাগিয়ে।

আপনাকে গেস করতে হবে, বয়স্ক মহিলা (ঝি) সম্ভ্রান্ত তরুণীকে কি উদ্দেশ্যে সঙ্গ দিতেন?

আবার দেখা হবে, গুড লাক।

ছবিটি ট্র্যাডিশনাল কিয়োতো পারফরমার মাইকোর পুতুলের
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28835061 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28835061 2008-08-26 10:00:49
কুইনছেন দেহি : এই রোজাতে কোন টুপি হিট করবো?
[আজকের কুইজটা বেশ সহজ, আবার অনেক ধাঁধাবিদ একে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কুইজ বলেও মনে করেন]

[শিরোনামের সাথে মূল কুইজের কোন মিল নেই]
*****************************************************************

এক লোক রোজার মাসে এক টুপির দোকানে গেছে টুপি কিনতে। দোকানে দুই ধরনের টুপি আছে। একটা ধরন হলো টুপিতে সূতোর জ করা (বাঁয়ের ছবি), আরেকটি হলো সাধারন টুপি (ডানের ছবি)। কাজ করা টুপির দাম ১০০ টাকা, সাধারণ টুপির দাম ৮০ টাকা।

লোকটা দোকানীকে গিয়ে একশো টাকা দিয়ে বলল, "ভাই একটা টুপি দেনতো!"

দোকানী কিছু না জিজ্ঞেস করেই লোকটাকে একটা টুপি দিয়ে দিলো।

আপনাকে বলতে হবে দোকানী কোন টুপিটা দিয়েছিলো, এবং কেনো?

একটা হিন্টস:
ক্রেতা আগে দেখেই জানে কোন টুপিটার দাম কতো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28834610 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28834610 2008-08-25 07:38:33
পাখির নীড়ে বিদ্যুৎচমক! আ বোল্ট ফ্রম দ্য জ্যামেইকা বেইজিংয়ের আকাশ কাল পরিস্কার ছিলো, সেখানে "বিনামেঘে বজ্রপাত" হয়েছে কিনা জানিনা। তবে, বেইজিংয়ের পাখির নীড়ে (বার্ডস-নেস্ট স্টেডিয়াম) ঠিকই বিদ্যুৎ চমকেছে; বিনামেঘে তো নয়ই, বরং সূদুর জ্যামাইকা থেকে এসেছে এই বিদ্যুতের চমক, চমকের নাম আপনি আমি সবাই জানি -- উসেইন বোল্ট। অসাধারণ!!!

একের পর এক চমক এনেছেন এই ইতিহাসসেরা ক্রীড়াবিদ, ট্র্যাক-এন্ড-ফিল্ডের যাবতীয় উপপাদ্যকে একের পর ভুল প্রমাণইত করে বিদ্যুতের মতোই চমকেছেন অলিম্পকের আকাশে। এতদিন ধারনা করা হতো উচ্চতা যাদের খুব বেশী তারা ভালো দৌড়বিদ হননা, বরং গাট্টাগোট্টা শরীরই ব্যালান্স রক্ষার জন্য সুবিধাজনক। বোল্ট দেখালেন, সেটা সবসময় ঠিক না। আবার ৯.৬ সেকেন্ডের ঘরে মানুষ কখনও ১০০ মিটার দৌড়াতে পারবে কিনা, সেটা নিয়েও বিদগ্ধজন অনেক কথা বলেছেন, বোল্ট ১০০ মিটার দৌড়ে ২০ মিটার বাকি থাকতেই বিজয়ীর মতো দুহাত প্রসারিত করে, ১০ মিটারের এরিয়ায় ঢুকে বুক চাপড়ে যেনো হেলাফেলা করেই দ্রুততম মানবের রেকর্ডটাকে ৯.৬৯ এ নামিয়ে আনলেন; এখন অনেকেই আক্ষেপ করছেন যে শেষ পর্যন্ত স্পীড ধরে রাখলে হয়ত সেটা ৯.৫ এর ঘরেই নেমে যেত!! বিদগ্ধজনেরা এটাও বলছেন যে বোল্টের পাশে আরেকজন বোল্ট থাকলে সে হয়ত ঠিকই ৯.৫ এর ঘরে রেকর্ড রেখে দৌড়টা শেষ করত! লোকের কথার কতটুকু সত্য হতো বা কি হতো জানিনা, তবে এটা এমনই এক দৌড় ছিলো যে এ নিয়ে হাজার রকম গুঞ্জন, বিদগ্ধজনের গালভরা উদ্ধৃতি আরো অনেকদিন ধরেই চলবে।

তবে যত যাই হোক, গতকাল যেটা ঘটলো তার তুলনা কিছুইনা। এবারের অলিম্পকের আগে যে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে, যেমন মাইকেল ফেল্পস আটটি সোনা জিতবে কিনা, উসেইন বোল্ট ৯.৬ এর ঘরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের রেকর্ড নামাতে পারবে কিনা, অথবা কার্ল লুইসের চব্বিশ বছরের লিগ্যাসি ১০০ আর ২০০ মিটারের স্বর্ণ এবার বোল্ট পাবে কিনা -- এগুলোর সবগুলোর উত্তরেই অনেকে বলেছেন "অসম্ভব না"।

কিন্তু, এগুলোকে ছাড়িয়ে শুধু একটা রেকর্ডের ব্যাপারেই সবাই সন্দেহবাদীর মতো মাথা নেড়েছেন, ভেবেছেন সম্ভব হবেনা হয়ত সেটা ভাঙা। নতুন করে বলার দরকার নেই, এটা হলো ৯৬ এ মাইকেল জনসনের সেই "ক্ষিপ্র চিতা"র মতোন ২০০ মিটার দৌড়ের রেকর্ড, যেটাকে এখনও স্প্রিন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর দৌড় বলা হয়, যে দৌড়ে অংশ নিতে পেরেই শুধু ফ্রেডেরিক/বোল্ডনের মতো মহারথীরা গর্বিত বোধ করেছেন। বিজ্ঞজনের ধারনা ছিলো স্প্রিন্টে যথেষ্ট পরিমাণ প্রযুক্তিগত উন্নতি না হলে, যেমনটা এবার হয়েছে সাঁতারের পোশাকে, আর কেউ কখনও সেই রেকর্ড ভাংতে পারবেনা। ১৯.৩২ সেকেন্ডের সেই ২০০ মিটারের দৌড়টা দেখার পর আমি অনেকদিন হিসেব মেলাতে পারিনি কেনো মাইকেল জনসন ১০০ মিটারে দৌড়ায়না, কারণ তার সেই রেকর্ডকে সাধাসিধেভাবে ২ দিয়ে ভাগ করলে গিয়ে দাঁড়ায় ৯.৬৬ সেকেন্ড, মানে ১০০ মিটারের সে সময়ের রেকর্ডের চেয়ে ০.১৫ সেকেন্ড কম!!

সে যাই হোক, বোল্ট যখন ১০০ মিটারের রেকর্ড কে ৯.৬৯ এরে ঘরে নামিয়ে আনলো, তাও অনেকটা হেসে খেলে, তখন অবশ্য এটা বেশ জম্পেশ আলোচনায় পরিণত হলো যে ২০০ মিটারে সে পারবে কিনা! সবাই যেনো একটু নড়েচড়ে বসলেন। তাও, সেখানেও অধিকাংশই মত দিয়েছেন পারবেনা। এমনকি একজন নামকরা দৌড়বিদ (সম্ভবতঃ বোল্ডন) হিসেব কষেও দেখিয়ে দিয়েছেন যে কার্ভ পার হবার পরের ১০০ মিটার জোরে দৌড়াতে পারলেও প্রথম ১০০ মিটারে স্মুথরেসার জনসনকে অতিক্রম করতে পারবেননা বলে আমাদের উসেইন বোল্টের সময় হবে ১৯.৪০ (একেবারে হিসেব মিলিয়ে দিয়েছেন)। মাইকেল জনসন বলেছিলেন ১৯.৫০ এর কাছাকাছি হতে পারে। হিসেব নিকেশ জমে উঠেছিলো, আর আমরা দর্শক/পাঠকরাও এসবের আলোচনা পড়ে পড়ে জমে গিয়েছিলাম, ভাবতে লাগলাম দেখি কি হয়!

২.
অনেকদিন ধরেই মনটা বিক্ষিপ্ত, এত বিক্ষিপ্ত মনে খেলা উপভোগ করা কঠিন, তাও নেটের সুবাদে বোল্টের ২০০ মিটার দৌড়ের উপর নানানজনের থিসিস পড়ে আগ্রহটা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ালো চুড়ান্তে! রাতের খাওয়া শেষে এককাপ চা হাতে কার্পেটে বসে পড়লাম, একটু পরেই নাকি ২০০ মিটার দৌড় শুরু হবে। উগ্র জাতীয়তাবাদী জাপানীদের দেশে টিভি যে এই কোন "জাপানীর-অংশ-না-নেওয়া-ইভেন্ট" এয়ার করছে, সেটা দেখেই খানিকটা তৃপ্ত বোধ করলাম, ভাবলাম, "নাহ, ভাগ্যটা অত খারাপনা আজ! বল্টু পারতেও পারে" আসলে আমি ভয়ে ছিলাম, জাপানী টিভিতে ইভেন্টটা সরাসরি দেখাবে কিনা এই নিয়ে! এনএইচকে দেখায়নি, কারণ তখন জাপান-আমেরিকার ফালতু বেসবল খেলা চলছিলো, অন্য একটা টিভি দেখিয়েছে (টিবিএস)।

দৌড় শুরু হবার আগে ওযু করার সময়ে মাথা মাসেহ করার মতো করেই আমাদের উসেইন বোল্ট নিজের মাথাটাকে ঘিরে কি কি যেন করলো, হয়ত সেটা তার নিজস্ব বানানো কোন রিচুয়াল। তারপর উপরের দিকে ছুঁড়ে দিলো সেই বিখ্যাত তীর-ধনুক। এদিকে চায়ের কাপ হাতে আমি উত্তেজনায় কাঁপছি, মনেপ্রাণে চাইছি বোল্ট রেকর্ডটা ভাঙুক, যেনো রেকর্ডটা ভেঙে গেলেই আমার বিক্ষিপ্ত মনটা শান্ত হবে, যেন রেকর্ডটা ভেঙে গেলেই সবকিছু নতুনপথে চলা শুরু করবে। কি জানি কেনো, সেরকমই মনে হচ্ছিলো, মনে হচ্ছিলো বোল্টের এই দৌড় আমার জন্যেই।

দৌড় শুরুর দশ সেকেন্ডের মধ্যেই বোল্ট যেভাবে অন্যদের ফেলে এগিয়ে গেলো, তাতে আর কারো সন্দেহ থাকার কথা না যে সে স্বর্ণপদক ছাড়া অন্য কিছু পাচ্ছে। কিন্তু সেটা তো আমার-আপনার মাথাব্যাথা না। সেটা জ্যামেইকানদের হতেপারে, ওদের আরেকটা স্বর্ণ বাড়লো, সে হিসেবে। আমি দেখতে লাগলাম টিভি পর্দার ডানদিকে নীচের কোণের টাইমটেলপটা, যেখানে স্টপওয়াচের সময় দেখায়। দেখতে পাচ্ছি, বোল্ট গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, টেলপে দেখাচ্ছে ১৭ সেকেন্ড, ১৭ থেকে ধুপধাপ বেড়ে ১৮, তারপর ১৯ ... বোল্টের সাথে সাথে যেনো আমিও দৌড়ালাম, সেই ১২/১৩ বছর বয়েসের কিশোরের মতো চীৎকার করতে লাগলাম, "সাবাশ! সাবাশ!!! হবে, হবে, হবে!!!" ... রুদ্ধশ্বাসে দেখলাম আমাদেরে বোল্ট মার্ক ক্রস করলো, আর সময়??? সেটা দেখাচ্ছে ১৯.৩১!!! বসে থাকা অবস্থায় লাফ দেয়া যায়না, আমি শুধু চীৎকার করতে লাগলাম "বাঘের বাচ্চা, বাঘের বাচ্চা" আর কার্পেটে গড়া গড়ি। যেনো রেকর্ড টা আমি গড়েছি!

ভাগ্য ভালো চায়ের কাপটা গড়িয়ে পড়েনি, আরো ভাগ্য ভালো যে পরে দেখলাম রেকর্ডটা ১৯.৩০ (বাতাসের গতির কিসব হিসেব-টিসেব আছে হয়ত)।

বিলিয়ন বিলিয়ন লোকে দেখেছে, সবাই নিশ্চয়ই এরকম আনন্দই পেয়েছে। বোল্টের এই কীর্তিটা যেনো এই বার্তা দিয়ে গেলো, সব দুশ্চিন্তার অবসান হবে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, অসম্ভব সাধনইতো মানুষের কাজ। বোল্ট ফ্র দ্য ব্লু আসে খারাপ হিসেবে, কষ্ট দিতে; আর বোল্ট ফ্রম দ্য জ্যামেইকা বুঝি এসেছে ভালো হিসেবে, আনন্দ দিতে। সেটাই যেনো হয়।

জয়তু উসেইন বোল্ট, তোমাকে লাল সালাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28833077 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28833077 2008-08-21 10:16:43
আরহাম সূস্থ্য হয়ে উঠুক, বেঁচে থাকুক সুন্দর এই পৃথিবীতে

রোগ-শোক পৃথিবী জুড়ে হচ্ছেই, চিকিৎসাও হচ্ছে, মানুষ এগিয়ে আসছে, এগিয়ে আসার আহবানও চলছে। প্রায়ই আহবান পাই, ইমেইলে, ব্লগে অথবা ইন্টারনেটের কোনকোন ওয়েবসাইটেও ব্রাউজিং করতে গিয়ে।

সেভাবেই আজ একটু আগে পেলাম ছোট্ট ছেলে আরহাম আশরাফের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আহবান করা ইমেইল। মেইলের সাথে যুক্ত ওয়েবসাইটে ঢুকে বাচ্চাটার মুখটা দেখেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।

এমন নিষ্পাপ চেহারা!!

এ শিশু বাঁচবেই, চারপাশের সবার প্রচেষ্টায়, বাঁচবেই ইনশাল্লাহ --- এটাই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হলো।

সেজন্যই সবাইকে জানালাম। যে যেভাবে পারুন, এগিয়ে আসুন।

ওয়েবসাইটের ঠিকানা (বেশ তথ্যসমৃদ্ধ):
http://arham.webnode.com/

ইউটিউব লিংক:
http://jp.youtube.com/watch?v=x4asnagR_2M]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28830159 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28830159 2008-08-12 17:47:53
প্রসঙ্গ সচলায়তন ব্যান: আমরা প্রতিবাদ করবোনা কেন, অবশ্যই করব!!!
কেন সচলায়তনকে ব্যান করা হয়েছে, কি করলে এই ব্যান উঠিয়ে নেয়া হবে, অথবা কতদিন পর এই ব্যান উঠিয়ে নেয়া হবে -- এসব কিছুই জানা যাচ্ছেনা, অর্থাৎ, যে কর্তৃপক্ষ সচলায়তনকে ব্যান করেছে, তারা কিছু না জানিয়েই বিনা নোটিশে কাজ করেছে। চুপিসারে করেছে। চুপিসারে মানুষ কাজ করে কখন, সেটা পরিণত বয়সী ব্লগপাঠকদের চোখে আঙুল দিয়ে না দেখিয়ে দিলেও চলবে।

সামহোয়ারে আমরা বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্যানারটা দেখতে পাই। আমি মনে করি সাবমহোয়ারের ব্লগাররাও বাঁধ ভাংতেই এখানে আসেন। এককেজনের চোখে বাঁধ একেকরকম, তবে বাঁধ ভাংতে, অর্থাৎ, যে কথাগুলো বাস্তবজীবনে চাইলেও সবসময় সাবলীলভাবে বলে ফেলা যায়না, সেগুলো বলতেই ব্লগে আসা।

সেই বলতে চাওয়ার অধিকারকে যখন ক্ষমতাবলে টুঁটি চেপে ধরে মেরে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয় কোথাও, তখন সেই অধিকার যারা চায়, তাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়ে সেই অধিকারের পক্ষে থাকা, কন্ঠ মেলানো। আমি মনে করিনা, সচলায়তনের এই ব্যান হবার বিষয়টি জেনে কোন সচেতন ব্লগার খুশী হবেন, সবারই ভ্রূ কুঁচকে যাবারই কথা।

আমি সচলায়তনের একজন সদস্য।

তবে এখানে এখন লিখছি সামহোয়ারের একজন সদস্য হিসেবে।

আমি সচলায়তনের এই ব্যান হওয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করলাম, প্রতিবাদ জানালাম কলমের ভাষায়, আর সামহোয়ারের সব বন্ধুদের কাছে আবেদন জানালাম কন্ঠ মেলাতে।

কারণ, এই আঘাত শুধু সচলায়তনের উপর না, এটা বাংলা ব্লগিংয়ের উপর আঘাত।

মুক্তভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারলে ব্লগিংয়ের কোন মানে নেই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28821209 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28821209 2008-07-17 10:30:55
স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ)
এই পোস্টটা মূলতঃ স্মৃতিচারণের, নিজের কথা বলার। বিশাল পোস্টও হয়ে যেতে পারে, আবার খুব কমেও শেষ হয়ে যেতে পারে। নিজেও এখনও বুঝছিনা কীবোর্ড কোনদিকে টেনে নিয়ে যাবে। যেদিকেই নিয়ে যাক, আপাততঃ যেতে থাকি।

সামহোয়ারে প্রথম ঢুকেছি ধীমান ব্লগার সাদিকের ব্লগে, ছেলেটা এখন ইউসিএলএ'তে পড়াশোনায় আর সুফি সাধনায় এমনই ব্যস্ত যে ব্লগে মনে হয় মাসে দু'মাসেও একবার আসেনা। অথচ আগে ইকেয়া থেকে আয়না কিনে আনলেও ব্লগে সেটার জানান দিয়ে যেতো । যাইহোক, সাদিকের ব্লগের খুব গভীর সুফিজম নিয়ে কোন একটা লেখা ফরোয়ার্ডেড পাই এক বন্ধুর কাছ থেকে, খুলে পড়তে গিয়ে দেখি মাথা ঝিমঝিম করছে। বুঝছি, আবার বুঝছিনা; ঠিক কিভাবে বুঝে নিলে নিশ্চিত হবো যে বুঝছি সেটা বুঝছিনা। বুঝলাম, এ নিশ্চয়ই খুব উঁচুমার্গের আড্ডাখানা (সাদিকের লেখা আসলেই খুব গভীর, রীতিমতো গবেষণা করানো যায় ওগুলো দিয়ে), খানিকটা ভয় পেলাম। কিছুদিন আর ওপথ মাড়ালামনা।

এর মাঝে যায়যায়দিনের পাঠকদের লেখা নিয়ে সাজানো বিশেষ সংখ্যায় একটা লেখা ছাপা হলো আমার, এবেনের গল্প, 'স্ট্যান্ডার্ড' নামে। নিজের লেখা এর আগে মাত্র একটা প্রকাশিত হয়েছিলো যায়যায়দিনেরই সমকালে, তারপর অনেকদিন এসবের ধারেকাছেও যাইনি। কিন্তু এবার বাড়তি যেটা যোগ হলো, সেটা হলো যে পাঠকদের অনেকের কাছ থেকে লেখা বিষয়ে ই-মেইল পেলাম, আর সেজন্য আমি তখন খানিকটা হাই, নিজেকে কিছু একটা ভাবা শুরু করছি। এই ইমেইল পাওয়ার অবশ্য অন্য কারণ ছিলো, ইমেইলকারীদের অধিকাংশই এবেনকে কোনভাবে চেনেন। তবে কারণ যাই হোক, আমি মহাউল্লাসে ভার্চুয়াল-বাস্তবের বন্ধুবান্ধবদের জানাতে শুরু করলাম ব্যাপারটা। তখনই একজন আমাকে দিলো সামহোয়ারের আরেকজন ব্লগারের লিংক, বললো, আপনিও এখানে লিখতে পারেন। আমি সেই পেজে গিয়ে দেখি বড় বড় অক্ষরে লেখা "তোড়ায় বান্ধা ঘোড়ার ডিম!" --আবারও সেই উচ্চমার্গের কথা। এটা ছিলো আরেক প্রতিভাবান ব্লগার হিমু'র ব্লগ, এখন সচলায়তনে লিখেন। তাও, এবার সাহস করে দুএকটা লেখা পড়া শুরু করলাম। দেখলাম ঈশ্বর উইকএন্ডের আগে আগে হিমুকে বানিয়ে ভুলে ওভেনে রেখে দিয়েছে পুরো দুইদিন -- সে নিয়ে বেচারার মহাআক্ষেপ। মার্গটা একটু কমলো মনে হলো, মজা পেলাম; তারপর সেখানকার নানান লিংকে গুঁতোগুঁতি করতে করতে চলে এলাম প্রথম পেজে।

প্রথম পেজে এসে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ। দেখি দুদল ব্লগারের মধ্যে ধুন্ধুমার বিতর্ক চলছে, "কেন প্রাপ্তি নামের ছোট্ট একটি মেয়ের ছবি নিয়ে নাস্তিক-আস্তিক রাজনীতি হবে" -- সেটাই বিতর্কের বিষয়। বিতর্ক দেখে সত্যি বলতে কি, আরো মজা পেয়ে গেলাম। মার্গ তো এখন আমার কানের আশেপাশে!! সবসময়ই জ্ঞানী-গুণীজনের কাছে শুনেছি বাঙালীরা এক হলেই নাকি এর বিরুদ্ধে সে, সে'র বিরুদ্ধে এ -- এসব নিয়ে ঝগড়ায় মেতেই থাকে। কার ছেলের হাইট বাবার পাঁচফুট হাইটকেও ছাড়াতে পারবেনা, কার মেয়েকে দেখে এখনই বোঝা যায় মা'র চেয়েও ধুমসী হবে -- এসব নিয়েও নাকি তর্কাতর্কি চলে। আমি অবশ্য এরকম তর্ক কখনও হতে দেখিনি, বেশীরভাগ তর্কই দেখেছি ঐ দুটো বিষয় নিয়ে -- "ইশ্বর আছে কি নেই", অথবা "হাসিনা ভালো না খালেদা ভালো"। এমনকি আবাহনী-মোহামেডান নিয়েও কোন তর্ক হতে দেখিনা। এপ্রসঙ্গে দেখি সবাই একে অন্যের সাথে খুনসুটি করে। যাই হোক জ্ঞানী-গুণিজন যাই বলুক, আমি বাঙালীর এই তর্কাতর্কি ভীষন উপভোগ করি, শুধু উপভোগই করিনা, কিভাবে যেন নিজের অজান্তেই জড়িয়েও যাই। সামহোয়ারেও তাই হলো, আপাততঃ পড়ার কাজে জড়িয়ে গেলাম। এর যুক্তি পড়লে মনে হয়, "হুমম, কথা সত্য।" আবার ওরটা পড়ে মনে হয়, "হুমম, এটাওতো ফেলে দেয়া যায়না।" মনের মাঝে এক অলৌকিক দোলনায় দুলি। দুলতে দুলতে কখন যেন সাইনআপ করে ফেলি টের পাইনা। তখন আমার এক হটমেইল আইডি ছিলো জ্বিনের বাদশা নামে, সেটাকেই এখানেও সেঁটে দিলাম। তৈরী হয়ে গেলো জ্বিনের বাদশা! সেটা সম্ভবতঃ মে মাসের ৩১ তারিখ, ২০০৬। এখনও মনে আছে, আমার ব্লগে প্রথম মন্তব্য করেছেন "আমার লেখা" নামের একজন ব্লগার। তিনি যে কোথায় হারালেন, জানিনা। প্রথম পোস্টে পড়ল ৮ টি মন্তব্য। আমি কি খুশী! তারওপর সেদিনই ব্লগার হযবরল (তুখোড় পদার্থবিদ) একটা পোস্টও দিয়ে দিলো, "একজন আইছে জ্বিনের বাদশা নামে" বা এরকম কিছু শিরোনামে। আমি তো মহাখুশী, যাক অভিষেক খারাপ হয়নি।

সেই শুরু। প্রথম প্রথম খেয়াল করলাম ব্লগে কয়েকটা সার্কল তৈরী হয়ে আছে। নতুন যারা ঢুকছে, তারা নানাভাবে চেষ্টা করছে একেকটা সার্কলে ঢুকতে। আমিও চেষ্টা করলাম। এরমাঝে একজন (সম্ভবতঃ হযবরল) টিপস দিলো যে মন্তব্য পেতে হলে বেশী বেশী অন্যদের ব্লগে মন্তব্য করুন, নিজেকে চেনান। আমি মহাউৎসাহে লোকজনের ব্লগে মন্তব্য করতে শুরু করলাম। বিনিময়ে মন্তব্যও পেতে লাগলাম, দুয়েকটা করে। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, মন্তব্য পাওয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতাম, এমনও দিন গেছে, রাত তিনটার (তখন আমি সেইরকম নিশাচর ছিলাম) সময় পোস্ট দিয়ে সকাল পর্যন্ত সিগারেট টানতে টানতে কাটিয়ে দিয়েছি আর মন্তব্য চেক করেছি। কেউ মন্তব্য করলে সাথে সাথে সেটা রিপ্লাই করতাম যে তা কিন্তু না, এখানেও একটা হিসেব ছিলো। যখন মন্তব্যটা সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঘরে নিচে নামতে নামতে উধাও হয়ে যেতো, তখনই রিপ্লাই করে সেটাকে আবার প্রথম পাতায় (সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঘরে) তুলে আনতাম। আহা সেই দিনগুলো!!

কিন্তু কিছুদিন যেতেই যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম, তা হলো কারো সাথে আমার সেরকম জমছেনা। এরমাঝে আরেকটা ব্যাপার টের পেলাম, প্রত্যেক সার্কেলেই ব্লগারদের মাঝে আবার মেসেঞ্জার বা সেরকম অনলাইনচ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ থাকে। আমার সাথে তো কারুর নেই! মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম, সেজন্যই হয়ত জমছেনা। যাই হোক, হাবিজাবি/খাদ্য-অখাদ্য যাই পারি, ব্লগে ঢোকাতে লাগলাম একের পর এক। এমনই একদিন হঠাৎ হাসান নামের একজন ব্লগার লিখলেন একটা পোস্ট, ব্লগারদের নিকনেমগুলো বাস্তব জীবনে কতটা হাসির হতে পারে। সে পোস্টটা শুরুই করেছিলেন জ্বিনের বাদশা নিকটা দিয়ে, মনে হয় কথাটা ছিলো অনেকটা এরকম "হঠাৎ কোন আড্ডায় যদি বলা হয় 'আজকে জ্বিনের বাদশা কথাটা কিন্তু খারাপ কয়নাই', তাইলে ব্লগের বাইরের লোকের চেহারা কিরকম হবে!" সেই পোস্ট পড়ে আমার চোখ যেন একটু ভিজে গেলো আনন্দে, মনে হলো অস্তিত্বের স্বীকৃতি পেয়েছি। হাসানকে ইদানিং কোথাও দেখিনা, শুনেছি বিয়ে করে সংসারী হয়েছে, সংসার সুখে কাটুক।

তাও ঠিক যেরকম বন্ধুত্ব বা স্বীকৃতি চাইছি সেটা পেয়েছি বলে মনে হচ্ছিলনা। কোথায় যেন একটা দূরত্ব আছে, কোথায় যেন ঠিক মিলে যাচ্ছেনা। ভাবলাম, আমার নিজেরই সমস্যা, ভার্চুয়াল পৃথিবীকে খুব আপন করে নিতে পারছিনা। আবার ভাবলাম, সবাই কিভাবে পারে? ঠিক সেরকম সময়েই একজন হাত বাড়িয়ে দিলেন, এবং সেটা এমন একজনই যার লেখার আমি অলরেডি বিরাট ভক্ত। বিরাট বললে ভুল হবে, বলতে হবে সবচেয়ে বেশী ভক্ত। একটা পোস্টে তাঁকে নামের শেষ "দা" যোগ করে ডাকাতে তিনি হেসে হেসে বললেন, এরপর যদি "দা" টা ফেলে শুধু "শুভ" বলে না ডাকতে পারেন, তাহলে আপনাকে দা দিয়ে একটা কোপ দেয়া হবে <img src=" style="border:0;" />। আমার আসলেই চোখে পানি চলে এলো এদিন, ল্যাবে বসে আমি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছি, চোখের পানি পড়ছে। শুভ ভাই, যাকে আমি একদম অতুলনীয় ব্লগার ভাবি, যার লেখা পড়লে আবেগে গা কাঁপতে থাকে, যিনি একদম চোখে আঙুল দিয়ে বারবার জামাতপন্থী ব্লগারদের দেখিয়ে দিচ্ছিলেন কোন জায়গাটায় তাদের "মহান" নেতারা অপরাধী, সেই শুভ ভাই উদারভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। হয়ত এখনও যে সামহোয়ারে লিখছি, সেই শক্তিটা সেদিন এসেছিলো। মনে হয়েছিলো, না, বন্ধুত্ব হবে।

ব্লগারদের বর্তমান প্রজন্ম যারা শুভ ভাই'র পোস্টগুলো পড়তে পারেননি, তারা ভীষন মিস করেছেন বলে আমি মনে করি। অসম্ভব নরম হৃদয়ের এই অভিমানী লোকটি আপোস করতে পারেননি অনেক কিছুর সাথেই, সরিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। আমাদেরই এখন তাঁকে খুঁজে নিতে হবে বারবার। শুভ ভাই প্রসঙ্গে বলি, তিনি প্রতিষ্ঠিত লেখক আলী মাহমেদ, অদ্ভুত রকমের আবেগ দিয়ে লিখতে পারেন তিনি। হুমায়ুন আহমেদের পর এত আবেগঘন লেখা আমি আর কারো বইয়ে পাইনি। এই প্রজন্মের যেসব পথভ্রান্ত যুবক/যুবতীরা আসলেই বিশ্বাস করে ৭১ এ এদেশে যুদ্ধাপরাধ হয়নি, জামাতী নেতাগুলো নিষ্পাপ, তাদের অন্ততঃ শুভ ভাই'র "ফ্রিডম" বইটা পড়তে বলবো। বইটি পড়ে যদি তাদের চোখে পানি না আসে তাহলে আমার আর কিছুই বলার নেই। গতবার দেশে যাবার পর শুভ ভাই'র সাথে দেখা হয়েছে, এই লেখাটার মাধ্যমে শুধু এটুকু বলতে পারি, আমি যে কতটা কৃতজ্ঞবোধ করেছি সেটা বলে বোঝাতে পারবনা।

সেই শুরু। ধীরে ধীরে ব্লগারদের সাথে পরিচয় বাড়তে থাকে। আমিও সাহস পেতে থাকি। সবাই যেভাবে, "বাহে, খবর কি?" বলে মন্তব্য করে আনিও শুরু করি। ধীরে ধীরে খাতির হয় হযবরল, সাদিক, ধুসর গোধূলী, ঝড়ো হাওয়া, মাহবুব মুর্শেদ, মোরশেদ ভাই,শোহেইল ভাই, শিমুল ভ্রাতঃ, তীরুদা, কৌশিকদা, কালপুরুষ, টিপু, কনফুসিয়াস, চোর, ত্রিভুজ, আস্তমেয়ে, সাব্বির (কোথায় যে গেলো!), দূরের কন্ঠস্বর -- আরো অনেকের সাথেই। ব্লগে দেখি পরিচিতমন্ডলের এক ছোটভাই, যে কিনা অলরেডী ব্লগস্পটে লিখে আমাদের কাছে বিখ্যাত, সেই সৌরভকে। এখানে লিখত "অনুভূতিহীন মানব" হিসেবে। তখনও মাহবুব সুমন ব্লগিং শুরু করেননি। পরে সুমনের সাথে হেভী খাতির হয়, অসম্ভব চমৎকার একজন মানুষ। সুমনের চিন্তার ডাইমেনশনের প্রসার দেখে আমি রীতিমতো মুগ্ধ! যেকোন বিষয়েই সম্ভবতঃ একদম বেসিক জায়গাটাতে খুব সহজেই ফোকাস ফেলতে পারে সুমন। তবে ব্যাটার আহ্লাদ বেশী, ইদানিং আমাকে চাচা ডাকতে চায় । দেশে গিয়ে শুভ ভাইর সাথে দেখা হওয়ার পাশাপাশি দেখা হয় ঝড়ো হাওয়ার সাথে, এক কথায় বলা যায় ভালো মানুষ। চমৎকার হাসির সুদর্শন এই যুবক (মহিলা ব্লগারদের জন্য বিনা পয়সার টিপস <img src=" style="border:0;" />) সংক্ষিপ্ত আকারের লেখা লেখার জন্য বেশ বিখ্যাত। যাকে বলে একেবারে রিয়াল ব্লগিং। ৭১ এর গল্প লেখার আহবানে ঝড়ো হাওয়ার বিশেষ সহযোগিতার সূত্রে বেশ খাতির হয়ে যায়, উনাকে ইদানিং দেখিনা ব্লগে। ব্যস্ত খুব?

ব্লগে অনেককিছু ঘটেছে, সব স্মৃতিতে থাকেনা, সব স্মৃতিচারণ না করলেও হয়। তবে এখনও মনে পড়ে স্বাধীনতার পক্ষে শুভ ভাই আর পিয়াল ভাই যেভাবে একের পর এক প্রমাণসহ পোস্ট করে যাচ্ছিলেন আর সেগুলো দেখে কিভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিলাম। একথা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে ব্লগে আসার ফলে স্বাধীনতার ইতিহাস বিষয়ে সচেতনতা অনেক বেশী বেড়েছে, অনেক কিছু নতুনভাবে জেনেছি, দালালগুলোকে নতুনভাবে চিনেছি। এখন ভাবি, আরো আগেই জানা উচিত ছিলো, আরো বেশী পড়া উচিত ছিলো। আমরা ৮০ এর দশকে এরশাদের আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা প্রজন্মের, অনেক কিছুই জানতে পারিনি, অনেক কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। সেগুলো যে সাইবারমাধ্যমের কল্যাণে এভাবে বেরিয়ে আসতে পারছে, এটা একটা বিরাট পাওয়া।
আরেকটা ব্যাপার ছিলো, প্রাপ্তির চিকিৎসায় ব্লগারদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার প্রেক্ষিতে তৈরী প্রস্তাবনা, "প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন"। ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের কাছে যাতে সবার সহযোগিতা খুব দ্রুত পৌঁছে যেতে পারে, সেজন্য একটি ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া। কৌশিকদা একটা বিশাল সংবিধান লিখে ফেললেন, কয়েকজন মিলে লোগো বানিয়ে ফেললেন, আরো অনেক কিছু করা হলো। কিন্তু কিভাবে যেন উদ্যোগটা স্তিমিত হয়ে গেলো। প্রাপ্তি প্রসঙ্গে বলি, আশা করি, ছোট্ট প্রাপ্তিসোনা খুব শিগগিরই পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠবে। এই প্রাপ্তির কল্যাণে সামহোয়ারে প্রচুর ঝগড়া/কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ হতো একসময়, সামহোয়ার আজকের টিকে থাকার জন্য প্রাপ্তির কাছে কোন না কোনভাবে ঋনী হয়ে থাকবেই।

তবে ব্লগে সবচেয়ে সাড়া ফেলেছিলো সম্ভবতঃ কৌশিকদার "আগুনের পরশমণি" সিরিজটা। একেকজন ব্লগারের সাক্ষাৎকার নেয়া হতো, সবাই নানারকম প্রশ্ন করত, জমতো জিনিসটা। অনেকদিন পর ইদানিং কৌশিকদা সেটা আবারও শুরু করেছেন, আশা করি আবারও জমে উঠবে।

গত বছরের মাঝামাঝি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে হেলাফেলা করে লেখা একজন ব্লগারের একটি পোস্ট ডিলিটকে কেন্দ্র করে ব্লগে চুড়ান্ত রকমের ধুন্ধুমার লেগে গেল। আমার দূর্ভাগ্য, এরকম সব ধুন্ধুমার কান্ডগুলোতেই আমি হয় বিয়ের শপিংয়ে ব্যস্ত, না হয় সাইপানে অবকাশ কাটাচ্ছি (জানুয়ারীর ধর্মঘটের সময়েও অনেক পরে জানলাম)। তো, সেই ঘটনার ফলাফল এমনই হলো যে প্রায় জনাবিশেক বা তারও বেশী রেগুলার ব্লগার সামহোয়ার ছেড়ে চলে গেলন চিরতরে। এরা সবাই খুব ভালো লিখতেন, অনেকের লেখার সাহিত্যমানও খুবই উঁচু। সবচেয়ে বড় কথা এরা সবাই ব্লগটাকে মাতিয়ে রাখতেন প্রচুর মন্তব্যে, আর পারস্পরিক ইন্টারএ্যাকশনে। এই ঘটনা নিশ্চয়ই সামহোয়ারের ইতিহাসে বিরাট একটা শক! ব্লগে এসে পুরো ঘটনা টের পেলাম সম্ভবতঃ পরদিন। আমি নিজে কখনই এভাবে ভাবিনা যে ব্লগ ছাড়তে হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে এটা সেটা দাবী করার ভিত্তিতে। বিশেষ করে সামহোয়ার কর্তৃপক্ষের আচরণ পড়ে আমি যেটা বুঝেছি যে, তারা ব্লগারদের সাথে সেরকম কমিউনিকেশন রাখতেই আগ্রহী নন। সম্ভবতঃ প্রয়োজনীয় হ্যান্ডসের অভাব।

একসেন্সে বলা যায়, ব্লগাররা কি চায় না চায়, সেটা নিয়ে তারা তেমন মাথা ঘামাননা। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও তাই, অতএব তাদের সাপেক্ষে আমি একই স্ট্যান্স নিই। তারা কি করছে সেটা দেখার আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো, সম্ভবতঃ যেদিন ব্যানকরা/আনব্যানকরার বাটন চালু হয়েছিলো সেদিন থেকেই। আমি সবসময়েই একশোভাগ বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, এমনকি মিথ্যা কথা বলার স্বাধীনতার ব্যাপারে। সেই বাটন তৈরীর দিনই মনে হয়েছে সামহোয়ারে ঝামেলা বাড়বেই। সেই বাড়া-কমার মাঝেই পেরিয়েছে সামহোয়ার ২০০৭ সাল। হয়ত এখন ধীরে ধীরে কনভার্জেন্সের দিকে যাচ্ছে। আমি তাই ব্লগ ছাড়িনি। আসলে যেকোন ব্লগেই আসি কেন? কর্তৃপক্ষের টানে? নেভার!! সহব্লগারদের টানে। সহব্লগারদের কমেন্ট পড়ে, লেখা পড়ে মজা পাওয়ার টানে। এই যে সেদিন আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ হলে, জমজমাট খুনসুঁটি হলো ব্লগারদের মাঝে, আবার মাঝে মাঝে জটিল বিষয়গুলো গভীর আলোচনা হয় -- এগুলোর টানে। কাজেই ব্লগটা আমার কাছে স্টেডিয়ামের গেটের বেশী কিছু না, বাকী খেলোয়াড়, রেফারী, দর্শক সবই ব্লগাররা। সামহোয়ারে কত কত মেধাবী লেখকদের সাথে পরিচয়! এই যে গত বছর খাতির হলো --রাশেদ, প্রত্যুদা, এস্কিমো ভাই, রাগ ইমন, মিরাজ ভাই (এই লোক গেলো কই?), নির্বাসিত, জেবতিক দা, শিপন, ফারহান, মেহরাব, রন্টি, মুকুল, ইমন, বিষাক্ত মানুষ (আসলে ভালো), দুরন্ত, বাফড়া, গন্ডার, অচু, জোনাকি, মানবী, সাইফুর, ভাস্কর চৌধুরী, ঝড়ো, মাসু, হ্যারি, রাগিব -- আরো কত কত নাম!! সবার নাম লিখতে গেলে তো শেষই করা যাবেনা! আমার কাছে সামহোয়ার মানে এই মানুষগুলো, সময় পেলেই এখানে আমার আসা হবে,আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কে ঠেকাবে, এক বউ ছাড়া <img src=" style="border:0;" />।

সম্ভবতঃ কোনদিন বলতে পারবোনা আর লিখবোনা এখানে। সেটা হয়না। আমি পুঁজিবাদী মানুষ, ভার্চুয়াল জগৎকে যতটা বাস্তবসম্মতভাবে ব্যবহার করা যায় ততটাই আমি করব। এটুকুই হয়তো এখন বলতে পারি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28801781 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28801781 2008-05-23 15:57:35
প্রথম ব্লগ টূর্ণামেন্ট, মে, ২০০৮: আবাহনী চ্যাম্পিয়ন!!!
সকল আবাহনী সমর্থকদের হাজার হাজার অভিনন্দন!!!!



মোহামেডান সমর্থকদের জন্য বলছি, আবারও সুযোগ আসবে, কাজেই হতাশ হবেননা।






****************************************************************

হঠাৎ করেই মাথায় আসা ব্লগ টুর্নামেন্টে যে এত ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে কল্পনাও করিনি!! অংশনেয়া সকল ব্লগার, অংশ না নিয়ে মুচকি হেসে ব্লগারদের উচ্ছাস দেখতে থাকা বাকী ব্লগার, সকল ব্লগারকুলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই
মেহরাব শাহরিয়ারকে নিয়মিত সমর্থকসংখ্যা আপডেটের মাধ্যমে ব্লগারদের মাঝে উত্তেজনা টিকিয়ে রাখার জন্য।
কৌশিকদা এবং প্রত্যুদাকে নিয়মিত পোস্টের মাধ্যমে ব্লগারদের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহনে উৎসাহিত করার জন্য।
এবং মজার মজার কমেন্ট করে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরী করার জন্য সকল মন্তব্যকারীকে।

সবাইকে শুভেচ্ছা, আবার দেখা হবে ব্লগ টুর্ণামেন্টে।

(বিঃদ্রঃ : যে কেউ যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে এরকম ব্লগ টুর্ণামেন্ট আয়োজন করতে পারবেন, নো কপিরাইট। শুধু খেয়াল রাখবেন, যাতে খুব বেশী ঘন ঘন না হয়ে যায় <img src=" style="border:0;" />)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28801145 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28801145 2008-05-22 07:19:49
ব্লগ টূর্ণামেন্ট, মে, ২০০৮: আবাহনীবনাম মোহামেডান (উৎসর্গ: শফিউল আলম ইমন) -------------------------------------------------------------------------------
সকল আবাহনী সমর্থকদের হাজার হাজার অভিনন্দন!!!!

মোহামেডান সমর্থকদের বলছি, আসে দিন ভালো, যায় দিন খারাপ, কাজেই হতাশ হইয়েননা <img src=" style="border:0;" />


*********************************************************
এই পোস্টে ব্লগারদের অংশগ্রহনে একটা টূর্ণামেন্ট আয়োজন করলাম। টূর্ণামেন্টে অংশগ্রহনকারী দল দুটি, (১) আবাহনী আর (২)মোহামেডান

খেলা হবে কাল, ২১ শে মে, চেলসি আর ম্যান ইউর ফাইনাল খেলার সময়।

************************
ব্লগাররা কিভাবে অংশ নেবেন?

ক) উপরের (১) আবাহনী আর (২)মোহামেডান এর মধ্য থেকে আপনার প্রিয় দল, প্লাস

খ) কালকের চেলসি-ম্যানইউ ম্যাচে কে জিতবে সেই ভবিষ্যদ্বাণী,

(ক) আর (খ) লিখে মন্তব্য করুন।

ব্যস, আর কিছুনা <img src=" style="border:0;" />


*************************
জয় পরাজয় কিভাবে নির্ধারিত হবে?

অংশ নেয়া আবাহনী ও মোহামেডান, প্রত্যেক দলের প্রতি সমর্থকের সঠিক উত্তরের জন্য দলটি পাবে ১ পয়েন্ট। ভুল উত্তরের জন্য (- ১) পয়েন্ট।
তারপর একটি দলের মোট প্রাপ্ত পয়েন্টকে মোট সদস্যসংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হবে। এই ভাগফলই হবে সেই দলের ফাইনাল স্কোর।

যেমন, ধরুন, আবাহনীর মোট সমর্থক ২০ জন। ১২ জন সঠিক উত্তর দিলো আর ৮ জন ভুল দিলো। তাহলে, আবাহনীর স্কোর হবে, (১২-৮)/২০ = ৪/২০ = ০.২।

*******************************
তো বসে কেনো?

নেমে পড়ুন সবাই, লিখে দিন আপনার পছন্দের দল আর কালকের ম্যাচে কে জিতবে সেই ভবিষ্যদ্বাণী।

ডেডলাইন: আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

জমে উঠুক ব্লগ টূর্ণামেন্ট <img src=" style="border:0;" />





-------------------------------------------------------------------------------
**
[শফিউল আলম ইমন চেলসির খেলা দেখে এসে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন। একসময় ফুটবলপাগল (আসলে খেলাপাগল বলাই ভালো) আমি গোগ্রাসে গিললাম পোস্টটা, গিলটে গিলতেই মাথায় আইডিয়াটা আসে। পারফেক্ট টাইমিংয়ের জন্য আজ সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28800217 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28800217 2008-05-20 10:42:37
গেসবল ১৬: সিডি কেন সিডি? " style="border:0;" />

মাপের বিভিন্ন একক, যেমন মিটার, কে.জি, লিটার -- এসব পন্ডিতেরা বহুত কায়দা করে "প্রমাণ অবস্থায় অমুক পদার্থের তমুক অবস্থায় সমুক পরিমাণ" টাইপের সংজ্ঞা দ্বারা যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, সেটা আমরা কমবেশী সবাই জানি। এরকম প্রমাণ বা আদর্শ অবস্থার তাত্বিক সংজ্ঞাগুলো অবশ্যই বোরিং, এইচএসসিতে যারা পদার্থবিজ্ঞান নিয়েছেন, তারা বুঝবেন ভুক্তভোগীর কষ্ট!

তবে, এগুলো ছাড়াও আরো অনেক রকম নির্দিষ্ট করে দেয়া জিনিস আছে, যেমন, ইলেকট্রিক কনসেন্ট/প্লাগের সাইজ, খবরের কাগজের সাইজ, লেখার কাগজের সাইজ ( এ ফোর, বি ফাইভ, ইত্যাদি ইত্যাদি), ব্যাটারী, টিউবলাইটের ব্যাসার্ধ -- এরকম অনেক অনেক কিছু। একবার ভাবার চিন্তা করুন, টিউবলাইটগুলোর সবগুলো যদি একই ব্যাসার্ধের না হতো, তাহলে কি হতো? এগুলো বরং ইন্টারেস্টিং, কেন টিউবলাইটের ব্যাসার্ধ এমন হলো, কেন এ ফোর সাইজ কাগজের দৈর্ঘ্য আর এক সে.মি. বাড়লোনা -- এসব ভাবতে গেলে ঘেমে একাকার হতে পারেন।

সেরকমই একটা প্রশ্ন আজ, বিষয়, কমপ্যাক্ট ডিস্ক (সিডি)। আমরা জানি স্ট্যান্ডার্ড সিডির (মিনিডিস্ক বাদে) ব্যস হলো ১২ সে.মি। পুরো ইতিহাস আমি জানিনা, তবে শুরুর দিকে হয়ত চার পাঁচশো মেগাবাইট ডেটা ধারণ করতে পারত একেকটি সিডি। এখন পারে নয়শো মেগার মতো। আবার সিডিরই বড়ভাই ডিভিডি/ ব্লু-রে -- এরা তো গিগা গিগা ধরতে পারে!

আজকের গেসবল:

প্রশ্ন হলো, প্রথম যখন সিডির ব্যস ১২ সে.মি বলে ঠিক করা হলো, তখন কি কারণে এই আকৃতিটাকে প্রমাণ বা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে নেয়া হলো?

চলুক তাহলে, ক্রিয়েটিভ সব ব্লগারের অসাধারণ সব গেস। হ্যাপি গেসবল।

ছবি: উইকিপিডিয়া




[গেসবল সম্পর্কিত বিশেষ অনুরোধ: গেসবলের প্রশ্নগুলোতে সাধারণত এমনসব বিষয় আনা হয় যেগুলোর উত্তর হতে পারে অনেকরকম; অবশ্যই যেহেতু এগুলোও প্রশ্ন, তাই এদের একটা সঠিক উত্তর আছে; তবে পাঠকের কাছ থেকে সঠিক উত্তর পাবার চেয়েও পাঠকের ক্রিয়েটিভ সব গেস বেশী বেশী পাবার জন্যই এই আয়োজন। তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর না খুঁজে নিজে নিজে ভাবার চেষ্টা করুন, কি হতে পারে উত্তর। অবশ্যই আপনি আগে থেকেই প্রশ্নটির উত্তর জেনে থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে ভালান্টারিলি একটু অপেক্ষা করুন, ক্রিয়েটিভ সব গেসগুলো উপভোগ করুন] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28797301 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28797301 2008-05-13 13:54:45
গেসবল ১৫: এটিএম মেশিন (নট শামসুজ্জামান) <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />
তো, এই এটিএম ব্যবহার করে টাকা তুলতে গিয়ে যে সমস্যাটা হতে পারে সেটা হলো, তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকলে আপনি পাঞ্চ করা কার্ড না নিয়েই চলে আসতে পারেন। যেটা হতে পারে আপনাকে পথে বসিয়ে দেবার এক অনোন্যপায়। এখন এই সমস্যায় যাতে গ্রাহকরা না পড়েন, তাই এটিএম তৈরীকারীরা একটা বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন মেশিনের ডিজাইনে। এতে তারা ব্যবহার করেছেন হিউম্যান সাইকোলজীর খুব বেসিক একটা দিক।

আজকের গেসবল:

গ্রাহকরা যাতে ভুল করে কার্ড ফেলে না যান, সেজন্য এটিএম ডিজাইনার কি বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন সেটা গেস করুন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28795767 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28795767 2008-05-09 10:07:54
গেসবল ১৪: টন নিয়ে ভেবে ভেবে মাথা টনটন "টন" নিয়ে কথা বলব, সেটা ওজনের একক। বৃটিশদের চালিত অন্যান্য একক যেমন, গজ, মাইল, ফুট, পাউন্ড -- এসব ফ্রান্সের নেতৃত্বে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের নামে ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকলেও, "টন"টা নামের আগে "মেট্রিক" ধারণ করে টিকে গেছে। সেটাও আমরা সবাইই জানি। মান একটু এদিক সেদিক হয়েছে ঠিকই (১ মে.টন = ১.১০২টন), তাও বৃটিশ এককের "টন" শব্দটি 'পরবর্তী ফরাসী চক্রান্ত টাইপের কিছু'র আবির্ভাবের আগ পর্যন্ত আমাদের উচ্চারণ করে যেতে হবে। "টন"কে এখনই ঝেড়ে ফেলে দেয়া যাচ্ছেনা।

তো আজকের গেসবল, এই "টন" শব্দকে নিয়েই। আমরা জানি, বিবলিকাল ধর্মগুলোর একটি ইহুদী বিশ্বাস মোতাবেক, স্রষ্টা ৬ দিনে পুরো বিশ্বজগত সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন -- এই ব্যাখ্যা থেকেই প্রাচীন ব্যবিলনে প্রতি ছয়দিন অন্তর অন্তর সপ্তমদিনকে ছুটির দিন ধার্য করা হয়, মানে, মাসের ৭, ১৪, ২১, ২৮ তারিখ ছিল ছুটির দিন। সেই থেকেই ধীরে ধীরে "সাতদিনে এক সপ্তাহের" আমদানী বা আগমন।
আবার ১২ ইঞ্চিতে ১ ফুটেরও আগমন কিভাবে তা আমরা কমবেশী জানি হয়ত, অথবা গেস করতে পারি সহজেই। বিশালদেহী বৃটিশদের পায়ের দৈর্ঘ্যে এক ফুটের কাছাকাছি ছিল -- সেই থেকে "ফুট" শব্দের আগমন।


আজকের গেসবল:
আজ আপনাকে গেস করতে হবে "টন" নিয়ে, খানিকটা মাথা টনটন করতে পারে, তবে অসুবিধে নেই। এককাফ কফি নিয়ে বসে পড়ুন, গেস করুন,

ওজনের একক "টন"- এর আগমন কিভাবে হলো? হিন্টস থেকে বুঝতে পারছেন ওয়াইনের ব্যারেল থেকে এসেছে, প্রশ্নটা হলো, ওয়াইনের ব্যারেলকে কেন টন (আসলে টান) বলা হতো।


*******************************************************************

হিন্টস: পোস্টের মধ্যেই একটা বিশাল হিন্টস আছে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28791041 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28791041 2008-04-25 11:08:18
গেসবল ১৩: চায়ের কাপের কথকথা
ছবিতে যে তিন ধরনের চীনামাটির কাপ দেখতে পাচ্ছেন, এগুলোর যে কোনটা দিয়ে চা/কফি খাওয়া যায়, হয়ত। তারপরও, (১) চা , (২) কফি এবং (৩)গ্রীনটি/ওলং চা খাবার জন্য এই তিন ধরনের পাত্র পৃথক পৃথকভাবে ব্যবহার করা হয়। বলতে পারবেন, কোন কাপটা কোন ধরনের পানীয় পানে ব্যবহৃত হয়?

নাহ, এটা আজকের গেসবল না। এটার উত্তর আমরা কমবেশী সবাই জানি।
বাঁয়ের হাতলওলা গভীর কাপটা হলো কফিকাপ, মাঝের মুখটা বেশ ছড়ানো স্টাইলিশ কাপটা হলো চায়ের কাপ আর ডানের হাতলছাড়া পানির গ্লাসের মতো কাপজোড়া হলো গ্রীণটি/ওলংচা'র জন্য।



আজকের গেসবলটা চায়ের কাপ নিয়ে:

চায়ের কাপের উপরের অংশটা, অর্থাৎ মুখটা, নীচের অংশের তুলনায় অনেক প্রশস্ত থাকে। এটা চায়ের কাপের ট্র্যাডিশন। উৎপত্তিস্থল, অবশ্যই গোঁড়া চা-পায়ীদের দেশ বৃটেন।

আপনাকে গেস করতে হবে,


চায়ের কাপের এই ট্র্যাডিশনটা আসলো কি কারণে?

চলুক তাহলে অসাধারণ সব গেস।


উত্তর:

উত্তর হলো কাপের চা সুন্দর দেখানোর জন্যে।

লালরঙের চায়ে সুর্য্যের আলো যত বেশী সারফেসে পড়বে, কাপের চা তত সুন্দর দেখাবে ...

অনেক সংস্কৃতিতেই খাদ্যের স্বাদের ধারনাটা শুধু জিহবার স্বস্তি না, চোখের স্বস্তিও দাবী করে ...

সূর্য্যের আলো চায়ের সারফেসে পড়লে, চায়ের সারফেস কাপের ভেতরের দেয়ালের সাথে যে বৃত্ত তৈরী করে, সেটাকে গোল একটা উজ্জ্বল রিংয়ের মতো দেখায়-- এটাকে বলাঘতো গোল্ডেন রিং ... জমিদারী চিন্তাভাবনা আর কি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28790433 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28790433 2008-04-23 12:00:05
গেসবল ১২: ডাইনোসর বানানোর ঝক্কি এরপর থেকে ডাইনোসরের রেপ্লিকা তৈরী একটা বিরাট ফ্যাশন হয়ে যায়, নানান আকৃতির রেপ্লিকা তৈরী হতেই থাকে।

এই ডাইনোসরের রেপ্লিকা তৈরী বা অতীত হয়ে যাওয়া একটি প্রাণীর রিকনস্ট্রাকশন নিয়েই আজকের গেসবল। (সম্ভবতঃ গেসবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সহজ)


গেস করুন

একটা ডাইনোসর রিকনস্ট্রাকশন করতে যেসব তথ্যের প্রয়োজন, এপর্যন্ত ডাইনোসর নিয়ে করা গবেষণায় সেসব তথ্যের সবগুলোই যোগান দেয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু একটিমাত্র তথ্য বিজ্ঞানীরা কিছুতেই পাচ্ছেননা, সেই তথ্যটির ব্যাপারে মানুষের অভিজ্ঞতালব্ধ ধারনা ব্যবহার করা হচ্ছে।

আপনাকে গেস করতে হবে, ডাইনোসর বিষয়ে কোন তথ্যটি পাওয়া যাচ্ছেনা?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28790184 http://www.somewhereinblog.net/blog/lubdhokblog/28790184 2008-04-22 16:16:56
ঘোরাঘুরি ব্লগ: উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ/ সমুদ্র যেখানে মা (একাদশ অংশ) *****************************************

১৪.

সকাল ন'টার এ্যাপয়েন্টমেন্ট, ট্যুর কোম্পানীর লোক এসে নিয়ে যাবে আমাদের "সাইপান হিস্ট্রি এ্যান্ড জাঙ্গল ট্যুর"-এ ঘুরে দেখাতে । দাঁতভাঙা নাম সন্দেহ নেই, কাজে কিরকম হয় সেটাই দেখার বিষয়। সাড়ে তিন ঘন্টার ট্যুর, দুজনের জন্য ৭৫ ডলার। বেশী বললে বেশী, রিজনাবল ভাবলে রিজনাবল, কি হবে বেড়াতে এসে অত হিসেব করে -- এরকম একটা মনোভাব নিয়েই বুকিং দিয়ে ফেলেছিলাম। সকালে উঠে জানালার পর্দা সরাতেই দেখি বাইরের অবস্থা আগের দিনের একশ আশি ডিগ্রী উল্টো, মানে রোদ চকচকে আকাশ; দেখে মনে হলো আলবাৎ ঠিক করছি বুকিং দিয়ে। এবারও যথারীতি কটায় কাঁটায় ন'টার সময় হোটেলের লবিতে হাজির আমরা। আমার গিন্নী ব্লগ পড়েননা, পড়লে নিশ্চয়ই খুব খুশী হতো যদি পরের বাক্যটা পড়ত। আমার একটা স্টেরিওটাইপ ধারনা হয়ে গিয়েছিলো যে মেয়েরা সময় অন্ততঃ একটা কাজ করতে পারেনা, বাসা থেকে বের হওয়া। সাজগোজ করতে গিয়ে দেরী করবেই। আমার সেই ধারনা পুরোপুরিই ও ভেঙে দিয়েছে। সত্যি বলতে, এখন মাঝে মাঝে আমার নিজেরই দেরী হয় -- এমন অবস্থা! (আল্লাহ, এই লেখাটা কোনভাবে যাতে বউয়ের চোখে পড়ে)

লবিতে এসে বসতে না বসতেই দেখি হোটেলের সামনে এসে হাজির এক বিশাল ল্যান্ডক্রুজার। ড্রাইভারের সীট থেকে নামল জাপানীজ গাইড। কালার করা চুল, ভীষন স্টাইলিশ সানগ্লাস চোখে, দেখতে বেশ দিলখোলা ধরনের লোক। লবীতে শুধু আমরাই বসে ছিলাম, লোকটা এগিয়ে এসে পরিচয় দিলো। নাম ভুলে গেছি। যথারীতি আমি জাপানীজ জানি শুনে দাঁত বের করে একটা হাসি দেখিয়ে দিলো, কিন্তু গিন্নীর জাপানী ভাষার অবস্থা তখনও দুবছরের বাচ্চাদের 'আব্বু' , 'আম্মু', 'খাই', 'ঘুমাই' এর মাঝে সীমাবদ্ধ। ব্যাপারটা জেনে সে উদার হাসি হেসে নিজের থেকেই বলল, "আমি মূলত ইংরেজীতেই বলব, তবে কোনকিছুর ইংরেজী না মনে পড়লে তখন জাপানীতে বলব, হা হা হা।" আমরাও হাসিতে যোগ দিই। তবে সেটা যতটা না তার হিউমারের কারনে, তার চেয়ে বেশী "এমন ড্যাশিং টাইপের লোকের মুখ থেকে এরকম বোকাবোকা কথা বের হবার" কারণে। বিরাট কনট্রাস্ট! চক্ষু-কর্ণে বিবাদের সৃষ্টি হলে হাসি আসতে পারে, ধারণা ছিলনা। আরেকটা মজার ব্যাপার ছিলো -- শুরুতে গাইড তার মুখের সামনে একটা হেডফোনের মাইকে কথা বলছিল; জাপানীদের হাজারো ফরমালিটিবলে কথা, হেডফোন দিয়ে অবশ্য কান যে ঢেকে ফেলেনি, সেটাই রক্ষে। পরে অবশ্য সে নিজেই ব্যাখ্যা করেছিল ব্যাপারটা -- সাধারণত অন্যান্যদিন অনেক বেশী প্যাসেঞ্জার থাকে, গাড়ীর পেছনের সারিতেও লোক বসে, তখন সবাই যাতে শুনতে পায় সেজন্যই এই ব্যবস্থা। বলতে বলতে নিজেই হেডফোন খুলে রাখে, খানিকটা রিলাক্সড হয়। লোকটাকে বেশ দিলখোলা, আলাপচারী মনে হলো; ভাবলাম, ট্রিপটা চমৎকার হবে।

আগেই বলেছি, আকাশ ভীষন পরিস্কার, তাপমাত্রাও বেশ সহনীয়। আমরা ঠিক করলাম জানালার কাঁচ খোলা রেখে পথের ভিডিও/ছবি তুলব। মিয়াবিবিতে নেমে পড়লাম ডিজিটাল অপটিকাইজেশনে (এই শব্দ এই মাত্র বানালাম, ইংরেজী ভাষার পন্ডিতেরা ক্ষেপবেননা প্লিজ)। কথাপ্রসঙ্গে গাইড বলল, "তোমরা কোন চিন্তা করবেনা, যত ইচ্ছে ছবি আর ভিডিও তোলো। পরবর্তী তিনঘন্টা তোমাদের জন্য আমি বুকড। আর বিশেষ বিশেষ স্থানগুলোতে তোমাদের টু-শটও তুলে দেব।"
টু-শটের প্রসঙ্গটা যখন চলে এলো, তখন বলেই ফেলি নিজের উর্বর মস্তিষ্কের এক অনুর্বর চিন্তার কথা। বিয়ের পরই বিষয়টা বিশেষভাবে টের পেলাম। বউ নিয়ে যেখানেই বেড়াতে যাচ্ছি, সেখানেই শখ হয় দুজন একসাথে ছবি তুলি। কিন্তু, কে তুলে দেবে? আমি নিজে জাপানী হয়ে গেছি কিনা জানিনা, তবে চিনিনা জানিনা এমন একজন লোককে হঠাৎ ডেকে ছবি তুলতে বলায় বেশ বাঁধে। সাইপান গিয়েও সমস্যাটা প্রবলভাবে অনুভব করলাম। সেজন্যই ভাবছি, বিভিন্ন দেশের অন্ততঃ রিজোর্ট বা অন্যান্য এ্যামিউজমেন্ট পার্ক টাইপের স্থানগুলোতে যেখানে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা সেখানে ছবি তুলে দেবার চাকরি কয়েকজনকে দিয়ে দিলে কেমন হয়? এরা নির্দিষ্ট রঙের পোষাক পরে ঘুরতে থাকবে, যে কেউ এসে ছবি তুলে দিতে বললে তুলে দেবে। তবে আমার সব চিন্তাই ঐ ভাবনা পর্যন্তই গিয়ে আটকে থাকে -- টানতে পারিনা। পাঠকেরা কেউ যদি টেনে নিয়ে যান, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেই হবে।

কথাপ্রসঙ্গে গাইড জানালো, আগের তুলনায় সাইপানে ট্যুরিস্টের সংখ্যা নাকি অর্ধেকেরও কম হয়ে গেছে। ৯৫/৯৬ এর দিকে সাইপান বুম হয়েছিলো জাপানে, হাজার হাজার পর্যটক আসত। এখন অনেক কমে গেছে। সবাই ইন্দোনেশিয়া (বালি), মালয়শিয়া (লাংকাওয়ি, পিনাং), মালদ্বীপ, দুবাই -- এসব জায়গায় ছোটে।
আগেই বলেছি, এতদিন আমরা শুধু সাইপানের পশ্চিম ঊপকূলে ঘুরেছি। ভেটেরান কোম্পানীর লোকেরা সেটা ভলোই জানে, ট্যুরিস্টরা সাইপান এসে পশ্চিম অংশটা দেখেই চলে যায়। সেজন্যই তাদের এই ট্যুরটা হলো মূলত পূর্বসাইপান ঘুরে দেখানে, যেখানে প্রচুর ছোট ছোট পাহাড়, ছোটখাট একটা জঙ্গল আর চামোরো বসতি আছে।

"চামোরো" নামটার মধ্যে একটা পলিনেশিয়ান এথনিক আবহ আছে, চামোরো বসতি শুনেই আমি ভেবে বসি নিশ্চয়ই নানারকম গাছের পাতা দিয়ে বানানো এক্সোটিক কিছু হবে। অথচ, পথে গাইড যখন একটা বাড়ির দিকে হাত দেখিয়ে বলল, ঐ যে দেখো চামোরোদের ঘর, আমি হতাশ! এতো আমাদের রায়পুরের একটা গেরস্থ বাড়ী। বড়সড় চারচালা একটা দালানঘর, বাড়ীর সামনেই উঠোন, বারান্দাটাও আমাদের দেশের মতো, মানে পুরো উদোম, শুধু উপরটা একটু ঢালু হয়ে আসা টিনের চালে ঢাকা। পার্থক্যটা শুধু উঠোনের গাড়ী, আর ঘরের পাশে রাখা এসি'র এক্সস্টারে। বাড়ীর আশপাশের গাছগুলোও আমাদের দেশের মতো, বড় বড় কাঁঠালপাতার মতো দেখতে, ঢেউয়া পাতা বলে আমাদের ওখানে। আর আছে অসংখ্যা নারকেল গাছ, কিছু বড় বড় ফুলের গাছ। ফুল আমি ভালো চি