somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম বই

০৫ ই জুন, ২০০৭ ভোর ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা যখন ছোট ছিলাম সেই সময় আব্বা একবার তিন বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়া ছিল পিএইচডি করার জন্য। বাংলাদেশে আমাদের বাসায় তখন আমরা তিনবোন, আম্মা, দুই মামা, দাদী থাকতাম। আমাদের বাসায় কাজ করতো তখন ভানু আপা আর মিন্টুর মা। মিন্টুর মা'র আবার মিন্টু নামে কোন ছেলে ছিল না, একটা মেয়ে ছিল, এতিম খানায় থাকতো। তবে সেইটা অন্য কাহিনী।

আম্মা ওই তিন বছর অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট চালাইছে আমাদের উপর। সেই এক্সপেরিমেন্টরে গিনিপিগ হিসাবে আমরা - শিশু একাডেমি, আঁকার ক্লাস, ছায়ানটে নাচের ক্লাস, গানের ক্লাস ইত্যাদি সব পার হয়ে আসছি। এখন অবশ্য মনে করলে ভাল লাগে। আম্মা কখনো খুব বড়দের মতন চিন্তা করতে পারে না, না পারাতে সুবিধাই ছিল আমাদের। সেইটাও আবার অন্য কাহিনী।

তো এই এক্সপেরিমেন্ট কার্য্যক্রমের এক পর্যায়ে আম্মার মনে হলো আমাদের লেখাপড়ার মান বাড়াইতে হবে। তাই খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেয়া হলো যে বাসায় আমাদের তিনজনকে পড়ানোর জন্য টিচার লাগবে। আমি বোধহয় তখন ক্লাস টুতে পড়ি আমার মেঝ বোন সানিয়া উদয়নে কেজি ওয়ান আর সবচেয়ে ছো্ট ইফা, কেজি ক্লাসে।

অনেকের ইন্টারভিউ নেয়া হলো, টিকলো নিলাম আপা। উনার বান্ধবী ইরা আপাও সাথে আসছিল। ইন্টারভিউয়ের দিন নিলাম আপা শাড়ি পড়ে আসছিল, ইরা আপা জিনস আর পাঞ্জাবী। সেই সময় মেয়েরা খুব জিন্স পড়তো না, আমরা শুরু থেকেই ইরা আপাকে 'মডার্ণ আপা' ডাকা শুরু করলাম। আর এই মডার্ণ গিরির জন্য উনাকে প্রথমেই বাদ দেয়া হলো। যদিও পরে বুঝছিলাম ইরা আপা খুব ভাল মানুষ। তবে সেটাও আরেক কাহিনী।

আমার প্রথম পড়া যে বই দুইটার কথা মনে আছে তার একটা নিলাম আপার দেয়া। বইটার নাম মনে নাই। লেখকের নামও মনে নাই। কিন্তু ভিতরের সব ছবি আর গল্পটা মনে আছে। আমার জন্মদিনে বইটা দিছিলো নিলাম আপা। সানিয়া আর ইফাকেও দুইটা বই দিছিল সাথে। উনি কখনো শুধু একজনকে গিফ্ট দিতো না।

গল্পটা ছিলা একটা বিড়ালকে নিয়ে। তাও আবার সত্যিকারের বিড়াল না। একটা ছবির বিড়াল। কোন একটা ছবির প্রদর্শনীতে বিড়ালটার ছবি ছিল, খুব সুন্দর। সবাই প্রশংসা করছিল বিড়ালটার তখন তার অহংকার হলো । ভাবলো যে আমি এত সুন্দর, আমি কেন এই ফ্রেমের মধ্যে বসে আছি। এর আমার দরকার নাই, আমি বের হয়ে যাই। বিড়াল বের হয়ে গেল, আর তার অহংকারের কারনে তার কাগজ রং সব তাকে ছেড়ে গেল আস্তে আস্তে। ওই ছবিগুলিও মনে আছে আমার। কিভাবে রংগুলি উড়ে যাইতেছে আর বিড়ালটা সাদা কালো হয়ে খুব রাগ করে রংগুলির দিকে তাকাচ্ছে। আমি অনেক্ষন ধরে ছবি দেখতাম। অনেক পরে যখন ওর শরীর থেকে রেখাগুলিও ভাঙতে থাকলো তখন বিড়াল বুঝলো যে ওর রং, রেখা, কাগজ ছাড়া ও কিছুই না। এই বইটা কি কেউ পড়ছেন ছোটবেলায়? নাম বলতে পারবেন, বা লেখকের নাম? আমার বোনের মেয়েকে এইটা দেয়ার খুব ইচ্ছা আমার।

আরেকটা বইয়ের কথা খুব মনে পড়ে। ওইটা আরেকদিন বলবো।
৩৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×