আজকের দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিতঃ
মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া গিয়ে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন চকরিয়ার ৩৬ জন যুবক। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে দালালের খপ্পরে পড়ে। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দেয়া কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর বিভিন্ন গ্রামের এসব যুবক গতকাল মঙ্গলবার গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন। প্রায় ৯ মাস কারাভোগসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন তারা অনেকটাই স্মৃতি শক্তিহীন। তারপরেও স্বজনেরা তাদের আপনজনকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।
জানা গেছে, তাদেরকে চকরিয়া পৌর এলাকার করাইয়াঘোনার আক্তার আহমদের পুত্র মোহাম্মদ আজম স্বল্প টাকায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রতি জনের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে এসব যুবককে মহেশখালীর সোনাদিয়া থেকে ৫ ডিসেম্বর ইঞ্জিন চালিত ৪টি ফিশিং বোটে করে সমুদ্রপথে পাঠিয়ে দেয়ার পর প্রায় ১২ দিন গভীর সাগরে ভাসতে ভাসতে নিকোভা নামের একটি দ্বীপে গিয়ে বোটটি ভিড়ে। একপর্যায়ে সেখানকার নৌ-বাহিনী তাদের আটক করে পাহাড়ের গুহায় নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এই দুর্বিষহ জীবনের বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের সেগুন বাগিচা গ্রামের মৃত ছৈয়দ আহমদের পুত্র সাইফুল ইসলামসহ ফিরে আসা যুবকেরা। প্র্রায় নয় মাস আগে তার মতো শতাধিক যুবক ও মধ্যবয়সী ব্যক্তি সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় থাইল্যান্ডের নৌ ও পুলিশ বাহিনীর হাতে আটক হয়ে অনিশ্চিত ও দুর্বিষহ জীবন-যাপন করেন।
আরেক যুবক নুরুল আমিন জানান, সামান্য কিছু খাবার পেলে তা কয়েকজনে মিলে খেয়ে ক্ষুধা ও একটু পানি খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করতে হয়েছে। খাওয়ার পানি না পেলে তৃষ্ণা মেটাতে বাধ্য হয়ে সাগরের লোনা পানিও খেতে হয়েছে তাদের। পক্ষকাল এভাবেই দুর্বিষহ অবস্থায় কেটেছে তাদের। তারা আরো জানান, থাইল্যান্ডের নৌ-বাহিনী একে একে ছয়টি বোট আটক করে। বোটগুলোতে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫৭৫ জন লোক ছিল। তাদের এক বেলা খাবার দেয়া হলেও তাতে পা দিয়ে বালিও তুলে দিত সেখানকার কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এভাবে চলত নানা রকম নির্যাতন। তবে ভারতের কোস্টগার্ড তাদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ এবং চিকিৎসা করে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করার ফলে তারা প্রাণে ফিরে আসতে পেরেছে বলে জানান।
ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া থেকে
সম্পাদনা: হাসান জাকির

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



