প্রতিবার কোন নতুন ছবি রিলিজ কিংবা শিল্পীদের অ্যালবাম প্রকাশ হলেই সেটা নকল হয়ে যায়। পত্রিকাওয়ালারা খবর ছাপায় অমুক শিল্পীর ক্যাসেট নকল হয়েছে, অমুক ছবির পাইরেসী হয়েছে.....
আসলে মূল ব্যাপারটা কি? যারা সিনেমা তৈরী করে তারা যদি শুধু সিনেমা হলে গিয়ে দেখার সুযোগ সংরক্ষণ না করে ভিসিডি তে সেই ছবি রিলিজ দিতো তাহলে দর্শকের কষ্ট কমে যেত। সিডি বিক্রির টাকাও কোম্পানী পেতো। তেমনি গানের কিংবা নাটকের সিডিগুলো যদি বাজারমূল্যে ক্রেতাদের দেয়া হতো তাহলে নিশ্চই নকলবাজরা নকল করতো না। কিন্তু কোম্পানীগুলো বেশি দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায় বলেই তো সাধারণ ক্রেতারা নকল সিডি কম দামে কিনছে।
নকলবাজি বন্ধ করার আন্দোলন না করে কোম্পানীগুলো প্রতিযোগিতামূলক দামে যদি নিজেরাই সিডি তৈরী করে বাজারজাত করে তাহলে তো পাইরেসীজনিত সমস্যা থাকে না। নকলবাজীও বন্ধ হয়।
অনেকে বলতে পারে, অরিজিনাল সিডি মানে ভাল হয়। ভাল মানের সিডি দিতে কোম্পানীগুলো বেশি দাম ধার্য্য করতে বাধ্য হয়। এখানে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে- বিভিন্ন বই অফসেট এবং নিউজ কাগজ আকারে পাওয়া যায়। যে ভাল বই কিনতে চায় সে অফসেট পেপারের বই কিনবে বেশি দামে আর যে কমদামে কিনতে চায় সে নিউজ কাগজের বই কিনবে। ঠিক একই ভাবে যদি ভাল সিডির বেশি দামের পাশাপাশি কমদামী তুলনামূলক কম মানসম্পন্ন সিডি কোম্পানীগুলো বাজারজাত করে তাহলে তো পাইরেসী শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। কোম্পানীর লোকসান ঠেকানো সম্ভব অতি সহজেই। নকলবাজরা যদি এই কাজ করে সাফল্য পেতে পারে, কোম্পানীগুলো কেন সাফল্য পাবেনা?
মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত হয়েছে। অনেক বেশি আধুনিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করার সুযোগ হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে টিভি, ভিসিডি, কম্পিউটার ইত্যাদি যন্ত্র রয়েছে যা সিনেমা হলে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট করে বিনোদন উপভোগ করার সমস্যা থেকে মানুষকে রক্ষা করেছে।
মানুষ নিজের বাড়ীতে যদি নিজের পছন্দমতো সময়ে বিনোদন উপভোগ করতে পারে তাহলে সিনেমা হলে যাওয়া কিংবা কোম্পানীগুলোর নির্ধারিত বেশি দামে সিডি কেনার মধ্যে যাবে কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



