বিদেশি ছাত্রছাত্রীশূন্য হয়ে পড়ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করছে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার। গত দশ বছরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩৪ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিসংতাই এর জন্য বড় কারণ। এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক র্যাংকিং-এ পিছিয়ে পড়া, ভাষাগত সমস্যা, সেশনজট, প্রচারের অভাব, অনুন্নত ওয়েবসাইট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিদেশ বিষয়ক দফতর না থাকা, বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঠিক উদ্যোগ ও দায়িত্ব পালনে অবেহলা। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০১-০২ সেশন থেকে চলতি ২০০৯-১০ সেশন পর্যন্ত দশ বছরে মোট ৩৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী অনার্স ও পিএইচডিতে ভর্তি হয়েছে। ২০০১-০২ সেশনে ভর্তি হয়েছে ১ জন। ২০০২-০৩ সেশনে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। ২০০৩-০৪ সেশনে ভর্তি হয়েছে ১ জন ভারতীয় নাগরিক। ২০০৪-০৫ সেশনে ভর্তি হয়েছে ৭ জন। এদের মধ্যে ৪ জন নেপালি, ১ জন ব্রিটিশ, ১ জন প্যালেস্টাইনি ও ১ জন জাপানি। ২০০৫-০৬ সেশনে ভর্তি হয়েছে ৭ জন। এদের মধ্যে ৪ জন তুর্কি ও ৩ জন নেপালি। ২০০৬-০৭ সেশনে ভর্তি হয়েছে ৭ জন । এরা সবাই নেপালি। ২০০৭-০৮ সেশনে ভর্তি হয়েছে ৪ জন। এদের মধ্যে অনার্সে ২ জন নেপালি ও পিএইচডিতে ২ জন শ্রীলঙ্কান। ২০০৮-০৯ সেশনে ভর্তি হয়েছে ৫ জন নেপালি এবং সর্বশেষ চলতি শিক্ষাবর্ষ ২০০৯-১০ সেশনে ২ জন নেপালি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এ যাবত্ যারা ভর্তি হয়েছে তারা ম্যানেজমেন্ট, ফার্মেসি, জিন প্রকৌশল, আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইংরেজি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান ও চারুকলা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিদেশি পড়তে আসে এদের সবাই এশিয়ার বিভিন্ন দেশের। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, প্যালেস্টাইন, তুর্কি, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইরান। তবে গত দশ বছরে পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইরানের কোনো শিক্ষার্থী এদেশে পড়তে আসেনি।
যে কারণে আসছে না শিক্ষার্থী : বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ১৯৭০ থেকে ’৭৩ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মালয়েশিয়া থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী পড়তে আসত। এসময় মালয়েশিয়া এমনকি ব্রিটেন থেকেও অনেক শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতো। তবে বিগত কয়েক দশক ধরে মালয়েশিয়াসহ ওইসব দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক ও শিক্ষায় উন্নতি লাভ করেছে। ওইসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে তারা বাংলাদেশে এখন আর পড়তে আসছে না
সুত্র: আমারদেশ।
আপনার মতে বিদেশি শিক্ষার্থী না আসার কারণ কি কি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



