নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ কিছুদিন আগেও স্থানীয় একটি দিঘিতে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজ করত। কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের একজন স্থানীয় নেতা ওই দিঘির পানি মোষের খামারের মালিকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় জনগণ।
জানা গেছে, খামারের কর্মচারীরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৪০০টি মোষ দিঘির পানিতে গোসল করানোর জন্য নামান। এতে মোষের শরীরের ময়লা মেশায় দিঘির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা ছাড়াও আশপাশের গ্রামের কয়েক শ মানুষ প্রতিদিন লাইন ধরে এই দিঘির পানিতে গোসল করত, রান্নাবান্না, কাপড়চোপড় ধোয়াসহ গৃহস্থালির নানা কাজ করত। কিন্তু চারক্লার্ক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আসাদ ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী মিলে ওই দিঘির পানি কিছুদিন আগে সাত হাজার টাকায় বিক্রি করেন এলাকার এক মোষের খামারির কাছে। তাঁরা এর প্রতিবাদ করলে উল্টো তাঁদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
চরক্লার্ক এলাকার মুকছুদ আহম্মদ জানান, চরের অধিকাংশ পুকুর ও ডোবা শুকিয়ে গেছে। তাই তাঁরা এই দিঘির পানি দিয়ে গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারতেন। কেউ কেউ দিঘির এই পানি ফুটিয়ে পান করতেন। কিন্তু মোষ নামানোর কারণে দিঘির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
গৃহবধূ দেলোয়ারা বেগম বলেন, ‘চরের মধ্যে কোনআনে বইর দোয়ার হানিও নাই, এই দিঘিত আমরা গোচল কইরতাম; রান্দার হানি নিতাম। আর অনগা বইষ (মোষ) নামনে হানিগাইন হেঁকেরহারি মত অই গেছে। কেয় ডরে মাতেও না, খোঁজও নেয় না। আমরা বো-ঝিরা হানির লাই কত কষ্ট করিয়ের।’
চরক্লার্ক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ দিঘির পানি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গুচ্ছগ্রামের (কলোনি) বাসিন্দারাই ওই পানি বিক্রি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সানাউল হক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সূত্র: প্রথম আলো-২৩-০৫-২০১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



