গত দেড় বছরে চিনি ছাড়া কোন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। আজ বুধবার ঢাকায় সচিবালয়ে এফবিসিসিআই'র নতুন নির্বাচিত কমিটির নেতাদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারের সঠিক আমদানী নীতির ফলে পণ্য সরবরাহ ঠিক আছে। এতে দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল আছে। তবে, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্লেষক ও বাজার বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে, কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া রেডিও তেহরানকে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ ক্যাব প্রতিদিন বাজার দর মনিটর করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যে তথ্য আছে তাতে দেখা যায় শুধু চিনিই নয়, অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে গত দেড় বছরে। তিনি বলেন, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে রসুনের কেজি ৪০ টাকা ছিল তা এখন ১২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে মসলার বাজারও অনেক চড়া। এ সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিকে এক কেজি এলাচি সাড়ে চারশ' থেকে পাঁচশ' টাকা ছিল, যা এখন ২৪শ' থেকে ২৫শ' টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের দাম বাড়েনি মন্ত্রীর এ ধরণর মন্তব্য কোনভাবেই সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন ক্যাব সাধারন সম্পাদক। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। সরকারকে বার বার অনুরোধ করেও সরকার দেশে বাজার মনিটরিং শুরু করতে পারেনি। সব জায়গায় বাজার মনিটরিং জোরদার ও নিয়মিত করতে পারলেই বাজারে নিত্য প্রয়োজনী পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর খান।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ রেডিও তেহরানকে বলেন, মন্ত্রীরা বাজারে যান না বলেই হয়তো এ ধরণের মন্তব্য করতে পরেন। তবে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন তা তার বোধগম্য নয়। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার জন্য বাজার সিন্ডিকেট, বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক অদক্ষতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেন এ বিশ্লেষক। তবে, পণ্যমূল্য বাড়েনি বলে বক্তব্য দিয়ে আসল সত্যকে পাশ কাটানো ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



