আমার প্রিয় পোস্ট

এবটি ব্যর্থ গোয়েন্দা গল্প....................

০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:২২

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রথমেই করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নেই ব্যর্থ চেষ্টার জন্যে। কারনে সবশেষে মূল কাজটি আপনাদেরকেই করতে হবে......

ভুইফোঁড় আনমনে গজগজ করতে করতে ছুটে চলেছে গ্যাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়ার খোলা বারান্দাযুক্ত একচালা বাড়ীটির পানে। বারান্দায় বসেই গাঢ় রঙের চশমা পড়ে এলাকায় হালকা নজরদারি করেন চৌরাসিয়া। তবে দুর্মূখেরা বলে কিঞ্চিৎ আলুর দোষ থাকায় নিরাপদে টাঙ্কি মারার কাজ করার জন্যেই এ রঙিলা চশমার আমদানী।

ভুইফোঁড় গজগজ করছে কারন চৌরাসিয়া নামক এ শখের গোয়েন্দাকে তার মোটেও পছন্দ নয়। কারন সময় অসময়ে তাদের মেসে গিয়ে আড্ডা মারার চেষ্টা করা ও চামে চিকিরে ফ্রী সিগারেট ফুকানো এ প্রানীটি সবার দুচোখের বিষ। তারপরও তার কাছেই দৌড়াতে হচ্ছে। কারন গতরাতের অযাচিত এক দুর্ঘটনা যাতে ভুইফোঁড়ের সবেধন নীলমনি মাঝারি দামের হাতঘড়িটি খোয়া গেছে।

দাবা খেলা হচ্ছিল ভুইফোঁড় ও পমি রহমানের মাঝে। তারা দুই রুমমেট। আশেপাশে দর্শক ছিল বাকী দুই রুমমেট বারমুডা ও কিঞ্চিৎ। পাশের রুম থেকে এসেছে মোরসেল, বুরবাক ও কার্বন মাঝি। আর চৌরাসিয়া সাহেব তো আছেই-বরাবরের মতো।

রাত 8টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে গেল। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল বাসায় মোমবাতি নেই। কে যেন গেল পাড়ার দোকান থেকে মোমবাতি আনতে। এর মধ্যেই উৎসাহী দর্শকরা হাওয়া। মোম জ্বালিয়ে খেলা আর জমলো না। রাত 11টার দিকে খেয়াল হলো ভুইফোঁড়ের, তার সাঁধের হাতঘড়িটা হাত বদল হয়ে গেছে, মানে তা এখন আর তার হাতে নেই।

শেষ পর্যন্ত মনে পড়ে খেলা চলাকালীন ব্যান্ড ঢিলা হওয়া ঘড়িটা সে খুলে পাশের টেবিলে রেখেছিল বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই। তারপর আর মনে নেই। অর্থাৎ লোডশেডিং এর ডামাডোলেই ঘড়িটির মালিকানা বদল হয়েছে।

আর এই সাত সকালে সে যাচ্ছে চৌরাসিয়ার সাহায্যপ্রার্থী হয়ে যদি শখের গোয়েন্দা তার কেসটা গ্রহন করে! হাজার হলেও ঘটনার সময়ে সে উপস্থিত ছিল। তার চোখে এমন কিছু পড়ে থাকতেও পারে যা থেকে সে উদ্ধার করতে পারবে ঘড়িটিকে।

বরাবরের মতো চৌরাসিয়াকে দেখা গেল কালো চশমা চোখে ঝুলিয়ে পেপার সামনে নিয়ে ইজি চেয়ারে আধশোয়া হয়ে আছে। ভুইফোঁড় গলা খাঁকারি দিতেই সে চমকে ধড়মড় করে উঠে বসল। ভুইফোঁড় মনে মনে বলল "শালা বুড়ো শেয়াল!"। কিন্তু মুখে বিগলিত হাসি ফুটিয়ে সকালের শুভেচ্ছা জানাল।

সাত-সকালে ভুইফোঁড়কে দোরগোঁড়ায় দেখে প্রথমে চমকে গেলেও তা চেপে গিয়ে সেও সাদর সম্ভাসন জানাল । ভুইফোঁড় খুলে বলল তার ভাগ্য বিপর্যয়ের কাহিনী...........................

চৌরাসিয়া কিছু সময় চুপ করে থাকল। কি যেন ভাবল নিজের মনে। তারপর জানাল কেসটা সে নিতে রাজী তবে কাল রাতে ঘটনার সময়ে যারা উপস্থিত ছিল তাদের সবার সাাৎকার নিতে হবে। বিকাল চারটায় সবাইকে সেই মেসে হাজির করার নির্দেশ দিল। আরও জানাল বিকাল ও রাতে যথাক্রমে হালকা ও ভারী খাওয়ার বন্দোবস্তে কোন ঘাটতি যেন না হয়।

বিপুল আয়োজনে সাাৎকার পর্ব শুরুহলো । শেষ হলো রাত 8টায়। গোয়েন্দা সাহেব শুধু ভারী গলায় হুম...হুম... বলে রাতের খাবারটা সদগতি করে বলে গেলেন একদিনের মধ্যেই ফলাফল জানাবেন।

একদিন নয়.......সাতদিন চলে গেল, কিন্তু কোন ফলাফল এলো না। তবে ভুইফোঁড় ঘড়ি চুরির নয় দিনের দিন আজব একটা কবিতা পেল চিঠি লেখার ফুলঅলা রঙীন একটা কাগজে। কবিতার প্রতিটা লাইন নাম্বার দেওয়া। আর সেখানে কোন এক গোবিন্দর কথা বলা হয়েছে ঘড়িচোর হিসেবে। কবিতাটা হুবহু এখানে তুলে দেওয়া হলো-

1) গোবিন্দ বাধালো এ গোল,
2) নিয়ে ঘড়ি পালটালো ভোল।
3) এ বান্দা দেখেছে তা চেয়ে-
4) গোবিন্দ নিল ঘড়ি পেয়ে।
5) সাঁজে রে সাঁজে রে সাঁজে নবসাঁজ,
6) গোবিন্দ খুবই ধড়িবাজ।

ভুইফোঁড় মহা বাটে পড়ে গেল। তবে সে এবার আর শখের গোয়েন্দার কাছে গেল না।নিজেই রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করতে লাগলো....................

হঠাৎ করেই কবিতা থেকে সে পেয়ে গেল আসল চোরের খোজ। সঙ্গী-সাথী নিয়ে একটু টাইট দিতেই চোর সারেন্ডার করে ঘড়ি ফেরৎ দিয়ে দিল। এরপর আর সে চোরকে এলাকায় মাথা উচু করে চলতে দেখা যায় নি।

পাঠক! এবার আপনার কারিশমা দেখারোর সময় হয়েছে। সূত্র গুলো থেকে বের করে ফেলুন কে ছিল আসল ঘড়ি চোর।

আগাম শুভেচ্ছা রইল!

[পাত্র-পাত্রীদের জন্যে যথোপযুক্ত কতৃপক্ষের কাছে ঋণী]

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল  বিভাগে ।

 

  • ১৬ টি মন্তব্য
  • ৩৪৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫
comment by: অতিথি বলেছেন: মাধবী, ভেরি গুড স্টার্ট। ঈমানে কই, ডয়েল মিয়া বাইচা থাকলে এই গল্প পড়লে হেমলক খাইটো।
তা কেমন আছোটাছো? বহুদিন দেখাসাক্ষাৎ নাই।
২. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭
comment by: অতিথি বলেছেন: আজকা টাইম গো।
কালকে পড়ুম।
মাউন্ড কইরেন না।
৩. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আজ আর যাচ্ছে না পড়া
কেননা হাতে পায়ে সময়ের কড়া পরা.....
৪. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ৮:১৩
comment by: শাওন বলেছেন: হাইকচু , এহেম ।
৫. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১০:৩৮
comment by: অতিথি বলেছেন: কবিতা থেকে প্রতি লাইনের লাইন নাম্বার তম অক্ষর নিলেই উত্তর পাওয়া যায়।

1) গোবিন্দ বাঁধাল এ গোল --- গো
2) নিয়ে ঘড়ি পালটাল ভোল --- য়ে
3) এ বান্দা দেখেছে তা চেয়ে --- ন্দা
4) গোবিন্দ নিল ঘড়ি পেয়ে --- নি
5) সাজে রে সাজে রে নবসাজ --- জে
6) গোবিন্দ খুবই ধড়িবাজ --- ই

সুতরাং উত্তর হল - 'গোয়েন্দা নিজেই', অর্থাৎ চৌরাসিয়াই চোর।

মজা পেয়েছি। আপনাকে ধন্যবাদ।
৬. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:০২
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: হায় হায়! আমার আগে মুর্শেদ ভাই মিলাই ফেললো। ধুর খেলুম না।
৭. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:০২
comment by: মাধবী বলেছেন: ধন্যবাদ মুর্শেদ ভাইয়া। সমাধানটা বেশ তড়িৎ হয়ে গেছে..। অনেক পুরানো এক রহস্য পত্রিকায় দেেেখছিলাম বড়গল্প হিসেবে।

ধন্যবাদ সবাইকে পড়ার জন্যে ও মন্তব্য করার জন্যে।
৮. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:১৯
comment by: অতিথি বলেছেন: আরে সে সময় পড়তে পারিনি এখন পড়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি উত্তর আগেই দিয়ে দিয়েছে.......

তাই আমি খেলতে ও পারলাম ....সেজন্য খেলমুনা .....
৯. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:২৩
comment by: মাধবী বলেছেন: সালেহ ভাইয়া, আপনার জন্যে ভুইফোঁড়ের নতুন খেলা আসছে........
১০. ১১ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১০:১১
comment by: অতিথি বলেছেন: কেমন আছো আপু...................,
অনেক দিন পর............ব্লগে
১১. ১১ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১০:৩০
comment by: মাধবী বলেছেন: মেমন ভাইয়া,

আপনার বাংলা প্রাকটিস কেমন চলছে?
১২. ১১ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১১:৪৭
comment by: মাশীদ বলেছেন: বাহ! দারুণ!
১৩. ১১ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১১:৪৮
comment by: অতিথি বলেছেন: এটা কোন ব্যাপার হলো মুর্শেদ সলভ না করলে আমিইতো করতাম!
১৪. ১১ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:১৫
comment by: অতিথি বলেছেন: এ'ব'টি ব্যর্থ গোয়েন্দাগল্প কি শেষ?
১৫. ১১ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:১৯
comment by: মাধবী বলেছেন: চুর ভাইয়া,

পলোট খুজতাছি.....
১৬. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১২:৪২
comment by: অতিথি বলেছেন: ওরে খাইছে... সব জ্ঞানী দেখি এক হইছে :/

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৭১৯