ভালো থেকো ট্রেন বাসে, এক মুঠো ছেঁড়া ঘাসে,
ভালো থেকো এলোমেলো হাওয়া,
ভালো থেকো বিকেলের রোদ্দুর মেখে নিয়ে
একলাই হেঁটে চলে যাওয়া।
ভালো থেকো ফিসফাস, ভালো থেকো খিলখিল,
ভালো থেকো আড়চোখে চাউনি,
ভালো থেকো ঝমঝম, ভেসে যাওয়া রাস্তায়
রিকশার তুলে দেওয়া ছাউনি।
ভালো থেকো কত্থক, রবীন্দ্র সঙ্গীত,
একাডেমি নাটকের শোয়ে,
ভালো থেকো লিপস্টিক, ভালো থেকো আই শ্যাডো,
ভালো থেকো কবিতার ব’য়ে।
ভালো থেকো প্রক্সিতে, ক্লাস কেটে সিনেমায়,
ভালো থেকো অভিমান রাগে,
ভালো থেকো আড্ডায়, ইয়ার্কি ঠাট্টায়,
বাড়ি ফিরো সন্ধ্যের আগে।
ভালো থেকো চূড়িদার, টিশার্ট বা ফেড জিন্স,
ভালো থেকো বালুচরী ঘিরে,
ভালো থেকো স্টেপকাট, ভিটামিন শ্যাম্পুতে,
লকেটের এক কুচি হিরে।
ভালো থেকো ঝালমুড়ি, ফুচকা বা ভেলপুরি,
চুরি করে আচারের শিশি,
ভালো থেকো এসএমএস, বদলানো রিং টোন,
শেষ হোক চার্জ দিবানিশি!
ভালো থেকো জলপটি, ভালো থেকো হাতরুটি,
ভালো থেকো প্যারাসিটামলে,
ভালো থেকো আইপড, গানে গানে রাতভোর,
তারারা মিছিল করে চলে।
ভালো থেকো অশ্রুতে বাবার বুকটা ছুঁতে,
ভালো থেকো মায়েদের চিন্তায়,
ভালো থেকো ক্লান্তিতে, স্বপ্নের ঘুমদেশে,
ভালো থেকো বালিশ ও বিছানায়।
ভালো থেকো ভালোবেসে, সবুজের কাছে এসে,
ভালো থেকো সীমারেখা ছাড়িয়ে,
দিগন্তে ছুটে গিয়ে আকাশের নীলটুকু
মেখে নাও দুই হাত বাড়িয়ে।।
এই লেখাটা সেই মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে রচনা, যাকে মাঝে মাঝেই দেখা যায় ম্লান মুখে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে। যার মাথার উপর বিস্তীর্ণ আকাশটায় রোজ সূর্য ওঠে, রোজ অস্তও যায়। তার আকাশেই সারা রাত ধরে মিছিল করে হেঁটে যায় অরুন্ধতী, চিত্রা রোহিনী, জ্যেষ্ঠা... এমন সব নক্ষত্রেরা। মাস থেকে মাসান্তরে ঋতু পরিবর্তিত হয়ে চলে। বসন্ত আসে, বসন্ত চলে যায়। পাতা ঝরে যায়, নতুন পাতা গজায়। মেয়েটির পথচলা থামে না, তার যে শরীর জুড়ে সাদা দাগে ভর্তি! এই দৃশ্যমান শ্বেতীকে সঙ্গী করে অন্তরালে থেকে যাওয়া দাগহীন নির্মল সবুজ একটা মন নিয়ে মেয়েটি এগিয়ে চলে... একলাই। ভালোবাসা দিবসে প্রার্থনা করি কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে সেও খুঁজে পাক তার প্রকৃত ভালোবাসাকে। গোধূলীর মায়াবী আলো তার চুলে মাখামাখি হয়ে যাক আর সেই সরু চূড়ি পরা নিরুত্তাপ হাত দুটোয় উষ্ণতার স্পর্শ এসে বলুক, ভালোবাসি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



