somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া-৪ (দেখে এলাম মাধবকুন্ড জলপ্রপাত) (ছবি ব্লগ)

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে রওনা দিলাম ১২টার দিকে। কমলগঞ্জ পার হয়ে মাধব কুন্ডের দিকে চলতে থাকলাম। পথে বিভিন্ন বাজারে লোক জনের কাছ থেকে মাধবকুন্ডের পথ ঠিক আছে কিনা জিজ্ঞেস করতে করতে পৌঁনে ২টার দিকে পৌঁছালাম ওখানে। পথে যথারীতি সপ্তর্ষী আর শ্রাবণের জন্য বার কয়েক যাত্রা বিরতি। তবে মাধব কুন্ডের জলপ্রপাতের কাছে যেতে মেইন রাস্তা হতে(বাজারটার নাম মনে নেই) ভিতরের দিক ৬-৭ কিলোমিটার চিকন সড়ক দিয়ে যেতে হয়। একেবারে গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা। চারিদিকে ছোট ছোট পাহাড়, কোনটিতে চা বাগান, কোনটিতে আবার ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় গাছ। যতই কাছে এগোচ্ছি ততই ভাল লাগছে আমার। ওদিকে সপ্তর্ষী ভীষণ অসুস্থ বোধ করায় কান্না শুরু করে দিয়েছে। ওর অবস্থা এমন হল যে গাড়ী পার্কিংয়ের জায়গার কিছু আগেই আমরা গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। চোখে মুখে পানি দেওয়ায় ও আস্তে আস্তে সুস্থ্য বোধ করতে লাগল। আমরা হেঁটে গেটের কাছে পৌঁছালাম। ভেতরে ও বাইরে অনেক ভীড় চোখে পড়ল।


ইকোপার্ক মাধব কুন্ডের আদেশ পরিস্কার পরিচন্নতা বজায় রাখতে হবে:)। কিন্তু তার ছিটে ফোঁটাও চোখে পড়ল না।


আমরা হাঁটতে থাকলাম। পথের পাশে টিলার উপর বুনো ঝোঁপঝাড়।


দূরে দেখা যাচ্ছে পাহাড়।


পাহাড়ের নিচে আছে ছোট ছড়া আর বড় বড় পাথর।


এই হলো মূল জলপ্রপাত। এখন পানির বেগ অনেক কম।


জলপ্রপাতের নিচে বিশাল পাথর।


সামনের দিকে বিশাল স্তরীভূত পাথর, উপরে গাছ পালা।


ওখানে আছে অবজার্ভ টাওয়ার। টাওয়ারের উপর থেকে জলপ্রপাত।


টাওয়ারের উপর থেকে।


টাওয়ারের উপর থেকে শিব মন্দির, পাহাড়।

জলপ্রপাতের কাছে আসার পর এক অন্য রকম ভাল লাগছিল। প্রকৃতির কি নয়নাভিরাম দৃশ্য। বর্ষাকালে নাকি এই সৌন্দর্য বেড়ে যায় আরো। পানির প্রচন্ড তোড় থাকে তখন। এখন এর নিচে পুকুরের মত, এর সাথে সংযুক্ত ছড়াটি দিয়ে চিন চিন করে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। বড় বড় পাথর ছড়ানো ছড়ার মাঝখানে। অনেক মানুষের ভীড় জলপ্রপাতের গোড়ায়। পাথরের উপর দাঁড়িয়ে কিংবা পানিতে নেমে সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত।

একেবারে উপরে যেখান থেকে পানি পড়ে সেখানেও দেখলাম কয়েকজন লোক। ওখানে ওঠা নিষেধ থাকলেও দেখার কেউ নেই যেন। নিচের পুকুরের পানিতে ডুবেও নাকি অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে। চারিদিকে কাগজ, পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট ছড়ানো ছিটানো। প্রতিদিন এখানে কত পর্যটক আসে অথচ এই স্পটটিকে যদি সুন্দর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যেত তাহলে হয়ত এর আকর্ষণ আরো বেড়ে যেত।

আমরা জলপ্রপাত দেখে উঠলাম ওয়াচ টাওয়ারে। টাওয়ার থেকে পাহাড়, ঝর্ণা আর গাছপালা দেখতেও খুব ভাল লাগল। আমরা টাওয়ার থেকে নামলাম। এখন ফিরে যাবার পালা। আমাদের গাড়ি কুলাউড়া এসে থামল। সেখানে দূপুরের খাবার খেলাম। এরপর এখানকার একমাত্র ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে এসে দেখি বিশাল লাইন। এক ঘন্টা দাঁড়ানোর পর আমাদের পর্ব এল। গ্যাস নিয়ে আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। তখন অন্ধকার নেমে গেছে। দু'ধারে পাহাড় আর এর মাঝখানের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটে চলছে। পাহাড়ের আবছা আলোয় সরে সরে যাচ্ছে গাছ গুলো। আমরা গাড়িতে সবাই চুপচাপ, কিছুটা ক্লান্তি, তার মাঝে বেজে উঠল-
বিমূর্ত এই রাত্রি আমার
মৌনতার সুতোয় বোনা
একটি রঙিন চাদর........

(সমাপ্ত)
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া-৩ (ঘুরে দেখলাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান) (ছবি ব্লগ)
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া-২ (ঘুরে দেখলাম চা বাগান) (ছবি ব্লগ)
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া-১ (দেখলাম চা উৎপাদন প্রক্রিয়া)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৮
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×