মোবাইলে তিনি প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে নিচ্ছেন।
(এই ছবিটি কিছুদিন আগে তোলা চলতি পথে। রিলেটেট হওয়ায় শেয়ার করলাম)
তিনি পুরুষদের সাথে একসাথে বসে সমানে টানছিলেন।
সুনামগঞ্জে আসার পর একটা মেলার নাম শুনেছিলাম, শাহ্ আরেফিনের মেলা। ভারতের মেঘালয় সংলগ্ন বাংলাদেশের লাউড়ের গড় নামক স্থানে প্রতি বছর বসে এই মেলা। হিন্দু সম্প্রদায়ের দোলপূর্ণিমার ১৩ দিন পর লাউড়ের গড়ের অদূরে পণতীর্থ ধামে হয় বারুণী স্নান ও মেলা। একই দিনে লাউড়ের গড়ে শুরু হয় শাহ আরেফিনের মেলা, চলে ৩ দিন। এই দুই মেলাকে ঘিরে এখানে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসে লক্ষ লক্ষ মানুষ। মেলা সম্পর্কে শোনার পর ইচ্ছে ছিল যাব। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এই বছর সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমার ইচ্ছে ছিল মুলতঃ দুটো মেলা দেখা ও ছবি তোলা।
শাহ্ আরেফিনের মেলার কথা একটু না বললেই নয়। ঠিক কত বছর আগে শাহ্ আরেফিনের মেলা শুরু হয়েছিল সঠিকভাবে কারো কাছে জানতে পারলাম না। এটুকু জানা গেল এই মেলার বয়স ১০০ বছরেরও বেশী। আগে এই মেলার দিনে বিডিআর বিএসএফের সমঝোতায় ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়া হত। দু’দেশের লোক জমায়েত হত তখন এই মেলায়। বছর চারেক আগে মেলায় গন্ডগোলের পর থেকে এখন আর সীমান্ত খোলা হয় না। তবে শাহ্ আরেফিনের আস্তানায় (ভারতের খাসিয়া পাহাড়ে) নাকি তার বেশ কিছু স্মৃতি চিহ্ন এখনো রয়েছে। ৭টি কূয়া, সুড়ুঙ্গ পথ, পাথরের উপর নামাজ পড়ার পদ চিহ্ন ইত্যাদি।
ওখানে গিয়ে যেটা দেখলাম এক পাশে বসেছে পশরা-সামগ্রীর মেলা। সেখানে ভীড় দেখে ঢোকার ইচ্ছে হলনা। অন্য পাশে পীর ফকিরেরা তাদের দলবল নিয়ে গান করছে আলাদা আলাদা তাবু ফেলে। গরু, খাসি, মুরগী জবাই হচ্ছে, রান্না-বাড়া হচ্ছে, খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে এইসব আর কি। ওখানে এত পরিমান ধূলা আর লোক জনের ভীড় যে ক্যামেরা নিয়ে হাঁটা-চলা করাই মুশকিল। এত হট্টগোলের মাঝে অনেকটা লড়াই করে কিছু ছবি তুললাম। আজ শেয়ার করলাম শাহ্ আরেফিনের মেলায় তোলা কিছু পীর-ফকিরের ছবি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



